ঢাকা

Dhaka district

  • সাভারে অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালককে হত্যার চেষ্টা, আটক ৩

    সাভারে অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালককে হত্যার চেষ্টা, আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার সাভারে অটোরিকশা ছিনতাই করতে নুরুজ্জামান নামে এক চালককে গলায় রশি প্যাঁচিয়ে হত্যার চেষ্টার সময় তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুরের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

    আটক তিন অভিযুক্ত ফাসিদ, সিয়াম ও ওহিদুল ইসলাম রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে তিন অভিযুক্ত ছিনতাইকারী গাবতলী থেকে তিনি ছিনতাইকারী ভিকটিমের অটোরিকশায় ওঠেন। বেড়িবাঁধ এলাকায় আসার পর তারা চালককে বলিয়ারপুর যেতে বলেন। পরে বলিয়ারপুরের ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় আসলে অভিযুক্তদের একজন হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের গলায় রশি প্যাঁচিয়ে ধরে এবং অন্য দুইজন তার হাত-পায়ে রশি প্যাঁচাতে থাকে। এ সময় ভিকটিম ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করলে টহল পুলিশের সদস্যরা তার চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পায়। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে।

    আটক তিন অভিযুক্ত সাভার মডেল থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের ও আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির আল হাসান জানান, ‘আর দুই মিনিট পর গেলেই অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে হত্যা করে ফেলত। পুলিশের দ্রুত অভিযানে ভুক্তভোগী প্রাণে রক্ষা পান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।’ এ,আর

  • ধামরাইয়ে সাবেক কাউন্সিলর আরিফ গ্রেপ্তার

    ধামরাইয়ে সাবেক কাউন্সিলর আরিফ গ্রেপ্তার

    ঢাকা জেলার ধামরাই পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম।

    আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।

    ডিবি পুলিশ জানায়, আরিফুল ইসলাম আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রোববার তাকে হেমায়েতপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়ে

  • ছদ্মবেশে রিকশার গ্যারেজে ডিবির অভিযান, অস্ত্রসহ আটক ৩

    ছদ্মবেশে রিকশার গ্যারেজে ডিবির অভিযান, অস্ত্রসহ আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাধারণ এক অটোরিকশা চালকের ছদ্মবেশ গ্যারেজে অভিযান চালায় ডিবি ঢাকা জেলা উত্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: শাহাদত হোসেন। এসময় ওই গ্যারেজ থেকে অস্ত্র কেনাবেচার সময় হাতেনাতে তিনজনকে আটক করে এবং উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি।

    রোববার (১৮ই অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন জহুরুল, আলভী ও মামুন। এরা সবাই শুটার সাদ্দামের সহযোগি বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকরা কিছুদিন আগে জামিনে কারামুক্ত হয়। এরপর থেকেই পুনরায় ওই গ্যারেজে অস্ত্র বেচাকেনাসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম শুরু করে। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দামের সহযোগী ও আউকপাড়া এলাকায় সাদ্দামের পক্ষে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এর আগে এই অপরাধীদের ধরতে এসআই শাহাদতের নেতৃত্বে ডিবির পক্ষ থেকে আরো দুই-তিনবার অভিযান চালানো হলেও প্রতিবারই তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    রোববার রাতে এসআই শাহাদতসহ ডিবির একটি টিম পুরোপুরি কৌশল বদলান। অপরাধীদের চোখ ফাঁকি দিতে ডিবির সদস্যরা লুঙ্গি পড়ে সাধারণ অটোরিকশা চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। এই অভিনব ছদ্মবেশেই সুকৌশলে গ্যারেজের ভেতরে প্রবেশ করে চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলা হয়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ওই গ্যারেজে অস্ত্র বেচাকেনার সময় অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয় ডিবি।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ মো: সাইদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটিকে ধরার চেষ্টা চলছিল ও অবশেষে সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ,আর

  • রাজধানীতে জবির বাসে আগুন

    রাজধানীতে জবির বাসে আগুন

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে একটি গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত ‘নোঙর’ বাসসহ দুটি বাস পুড়ে গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে মাতুয়াইল মাদ্রাসা রোডের একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী রুটে চলাচলকারী ‘নোঙর’ বাসটি মেরামতের জন্য গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্য একটি বাসে ঝালাইয়ের কাজ করার সময় আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে জবির বাসে। এতে বাস দুটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। জবির বাসটির ভেতরের আসনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক তারেক বিন আতিক জানান, আগের দিন বাসটি মেরামতের জন্য গ্যারেজে দেওয়া হয়েছিল। আগুন লাগার সময় বাসে কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না।

    তিনি আরও বলেন, গ্যারেজ মালিক বাসটি সম্পূর্ণ মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আপাতত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এগোচ্ছেন না তারা।

  • এই সরকার হাসিনার দেখানো স্বৈরাচারী পথেই হাটছে; জামায়াত আমির

    এই সরকার হাসিনার দেখানো স্বৈরাচারী পথেই হাটছে; জামায়াত আমির

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এ আয়োজন করে।

    শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি রাজনৈতিক দল ছিল। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল না। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি তা চায়নি। বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তার অভিযোগ, ওই দিন থেকেই বিএনপি উগ্র আচরণ শুরু করেছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে, জনগণ ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায়ও মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। বিএনপিই বিরোধী দলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে।

    সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যও বরাদ্দ পাননি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান ও নতুন রাজনীতির সূচনা হবে বলে জনগণ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত ইঞ্জিনিয়ারিং, চুরি-চামাড়ির পরও আমাদের বিরোধী দলে বসিয়েছে জনগণ। এসব আসনের ৮৯ জন এমপি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হয়ে কাজ করবেন ইনশা আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাবো না। জুলাই সনদ আর গণভোটের গণরায় আমরা আদায় করেই ছাড়বো।’

    নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নানা লোভ-লালসা দেখানো হলেও জামায়াত সেসব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দল হিমালয়ের মতো অটল থেকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে। চব্বিশের অভ্যুত্থান তাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। তবে সরকারের পতন চাওয়ার চেয়ে তারা সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন, কারণ সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন সরকারকে সহযোগিতা করবো বলেছিলাম। আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবো। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার তাদের কোনো যোগ্যতা নেই।’

  • মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: শিবির সভাপতি

    মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আলীয়া মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মাদরাসার ছাত্রদের নৈতিকতার জায়গায় দুর্বল করা ও ঈমান-আকিদা নষ্ট করার জন্য কৌশলে ডারউইনের মতবাদ এবং বাংলায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ইসলামবিদ্বেষী কবি-সাহিত্যিকদের লেখা পাঠ্যবইয়ে কৌশলে ঢুকিয়ে দিয়ে একটা ব্রাউনম্যান প্রজন্ম গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র চলছিল।

    রোববার সকালে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে আলিম প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আজ থেকে চার-পাঁচ বছর আগেও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (এ+) প্লাসের পরিমাণ অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের চেয়ে বেশি ছিল। পাসের হারও বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আলীয়া মাদরাসা থেকে শিক্ষার্থীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল আলীয়া মাদরাসা শিক্ষাকাঠামোকে স্কুল-কলেজের শিক্ষাকাঠামোর মতো করে ফেলা। এখন স্কুল-কলেজে যে বই পড়ানো হয়, আলীয়া মাদরাসায়ও হূবুহূ সেই বই পড়ানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘বিগত ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগে তা’মীরুল মিল্লাতসহ মাদরাসার ছাত্রদের ভর্তি হতে দেওয়া হতো না। মাদরাসার ছাত্ররা ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পরেও অর্থনীতি বা ইংরেজি সাহিত্যে পড়তে দেওয়া হতো না। কারণ হলো, মাদরাসা বোর্ড আলীমে বাংলায় ১০০ নম্বর এবং ইংরেজিতে ১০০ নম্বর পড়ানো হয় তাই। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, ‘মাদরাসার বর্তমান শিক্ষার মানকে যদি আরেকটু উন্নত ও আধুনিকায়ন করা যায়, বাংলাদেশের মাদরাসার ছাত্ররা বিশ্ব বিজয় করার জন্য যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। এটা ফেলনা ভাবার সুযোগ নাই। ’

    তিনি মাদরাসা ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামীতে যে রাজনীতি দেশে আসতেছে, আমার ধারণা, দলীয় এবং পারিবারিক রাজনীতি দেশ থেকে চলে যাবে। ২০ বছর পরে তোমাদের মধ্য থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং সবাই মিলে এখন প্রস্ততি নেওয়ার সময়। মাথা ঠান্ডা রাখার সময়, কাজ বেশি করার সময়। ’

    ছাত্রশিবির টঙ্গী মডেল শাখার সভাপতি মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শাখা সম্পাদক মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভিসি) ড. আবদুর রব, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার শিল্পী মশিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্পী মশিউর রহমান এবং ‘তুরাগ শিল্পী গোষ্ঠী’র ইসলামী সংগীত পরিবেশনা হাজারো শিক্ষার্থী উপভোগ করেন।

  • চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। পরে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কক্ষটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন আচরণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    পরিদর্শনকালে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সময় ১৪ দিন

    সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সময় ১৪ দিন

    রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

    পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কোয়ার্টারের এলাকা, চলাচলের পথ ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চান। কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    এ সময় কোয়ার্টারের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

    তারা আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

  • কালো মাস্ক পরে তাসনিম সিরাজকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

    কালো মাস্ক পরে তাসনিম সিরাজকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে শ্রেণিকক্ষে কালো মাস্ক ও নিকাব পরে এবং লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁরা এ প্রতিবাদ জানান।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। একই শ্রেণিকক্ষে একটি বেঞ্চে ছয়জন ছাত্র বসে থাকায় তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলেও মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব আচরণকে সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। কর্মসূচিতে ‘Red Card to Racist, Classist and Hypocrite’ এবং ‘Red Card to Those Who Support Discrimination, Humiliation and Bullying’ স্লোগান ব্যবহার করা হয়।

    ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, নিকাব পরার কারণে এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলেছিলেন তাসনিম সিরাজ মাহবুব। এ ছাড়া একই বেঞ্চে ছয়জন ছাত্র বসায় তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    নায়েমের দাবি, পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসব অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে না ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একপাক্ষিক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সামিনা লুৎফা, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও ওই শিক্ষকের অন্য সমর্থকেরা তাঁকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে শিক্ষার্থীদেরই মূল অপরাধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সোমবারের কর্মসূচি এসব অবস্থানের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, এ মুহূর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি তখন অফিসে ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিষয়টি সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।

    এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেত্রী সামিনা লুৎফা শ্রেণিকক্ষে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষকদেরও এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এর পরদিন ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা কালো মাস্ক ও নিকাব পরে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েমের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো ব্যক্তিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্প ২০২৬’। নগর উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার উদ্যোগে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদপ্রার্থী ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের জন্য এখন এক বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই, এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে তদারকি করা হোক।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। আমরা চাই, বাস্তবে এসব উদ্যোগের সক্ষমতা কতটুকু বেড়েছে, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হোক। মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

    সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের আশপাশেই রয়েছে। সুতরাং শুধু সরকার একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে। এই কাজ শুরু করতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই।’

    বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত। তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও ভবিষ্যতে এমন উন্নত ও জনবান্ধব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্ব এমনভাবে ঠিক করতে হবে, যারা আগামী দিনে আমাদের জন্য সুন্দর একটি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

    থানা আমির আবু সাঈদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি তারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এদিকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • ডিবি-র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, চক্রের সাথে যুক্ত চাকরিচ্যুত পুলিশ-সেনা সদস্য

    ডিবি-র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, চক্রের সাথে যুক্ত চাকরিচ্যুত পুলিশ-সেনা সদস্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও এর আশপাশের সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ছিনতাই, অপহরণ করে অর্থ আদায়, লুটের মতো বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

    এসব ঘটনায় কয়েকটি চক্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের চাকরিচ্যুত কিংবা বরখাস্তকৃত কতিপয় সদস্য রয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আশফাক রাসেল নয়া দিগন্তকে জানান, কখনো ডিবি, আবার কখনো র‌্যাব পরিচয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সাধারণ মানুষের সাথে এসব প্রতারণা করা হয়। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগেভাগেই বেশকিছু প্রতারক চক্রকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একইসাথে প্রতারকদের এসব অপরাধ যেন কোনোভাবেই সঙ্ঘটিত হতে না পারে, সে লক্ষ্যে ডিবির টিম সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছদ্মবেশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সিলভার রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস, একটি লাল রঙের হিরো এক্সব্লেড মোটরসাইকেল, তিনটি র‍্যাবের কটি, দু’টি ওয়াকিটকি, একটি প্লাস্টিক ও একটি মেটালের খেলনা পিস্তল, দুই জোড়া হ্যান্ডকাফ, র‍্যাবের লোগোযুক্ত তিনটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি ইলেকট্রিক শক মেশিনসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন— শরীয়তপুরের সখিপুর এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪০), চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য নওগাঁর বদলগাছি এলাকার নাদিম মাহমুদ শান্ত ওরফে রায়হান হোসেন (৩০), চাকরিচ্যুত সেনা সার্জেন্ট রাজবাড়ীর পাংশা এলাকার মিজানুর রহমান (৪১), বরগুনা সদরের আব্দুল আলীম (৩২), মাগুরা সদরের সাকিবুর জামান মেহেদী (২৬), ভোলার চরফ্যাশনের মেহেদী হাসান সুজন (৩৫) ও বরগুনা সদরের গাড়িচালক আবু হানিফ (৩২)।

    একইদিন সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মেনহাজুল আলম।

    তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, র‍্যাব পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর স্বর্ণ ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে একদল ডাকাত সিংপাড়ার দিকে যাচ্ছে। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ী-ইছাপুরা সড়কের হরিবাড়ী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসায়।

    একপর্যায়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে সন্দেহভাজন গাড়ি দু’টিকে থামার সঙ্কেত দেয়া হয়। এ সময় মাইক্রোবাসের চালকের পাশের আসনে থাকা এক ব্যক্তি র‍্যাবের কটি পরা অবস্থায় নিজেকে র‍্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দেন এবং ওয়াকিটকি দেখান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা ধাওয়া করে সাতজনকেই আটক করেন।

    পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, শ্রীনগর বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাকে র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট করাই তাদের পরিকল্পনা ছিল।

    জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম আরো বলেন, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    এদিকে গত ২৪ জানুয়ারি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতুর উত্তর থানা এলাকা সংলগ্ন সড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

    একইদিন এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা সংলগ্ন ৪ নম্বর লেনে দ্রুতগতির সন্দেহজনক একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে ভেতরে থাকা ছদ্মবেশী ডাকাত সদস্যদের আটক করা হয়। এ সময় ডাকাতদলের সদস্যদের তল্লাশি চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস, একটি খেলনা পিস্তল, এক জোড়া হ্যান্ডকাপ, চারটি ডিবির কোটি, একটি ওয়ারলেস সেট ও চায়না লেজার লাইটসহ ডাকাতিকালে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

    ডিবি পুলিশের ওই অভিযানে আটক ছয়জনের মধ্যে চাকরিচ্যুত ও সাময়িক বরখাস্তকৃত দু’জন পুলিশ সদস্য ও চাকরিচ্যুত একজন সেনা সদস্য ছিলেন।

    এদিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হাঁসাড়া-ফেরিঘাট সার্ভিস লেনের পাশে বেজগাঁও এলাকায় ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।

    ওই দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীনগর থানার এএসআই ইয়ার মাহমুদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ডিউটিকালে জানতে পারেন, শ্রীনগর থানাধীন বেজগাঁও সাকিনস্থ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ঝোপের আড়ালে কতিপয় ব্যক্তি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতি করার সরঞ্জামাদিসহ অবস্থান করে শলাপরামর্শ করছে। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই স্থান থেকে আট-নয়জন পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।

    এ সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, গাড়িযোগে ঢাকা থেকে মাওয়ায় ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে তারা সার্ভিস লেনের পাশে ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে থেকে ছিনতাই অথবা গাছ ফেলে ডাকাতি করে থাকে। এ অভিযানে অপরাধীদের হেফাজত থেকে চাপাতি, ধারালো ছুরি, টর্চ লাইট, পাটের রশি, কচস্টেপ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

    তবে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বিশৃঙ্খলা ও মাদকের বিস্তার রোধে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটে গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট ও টহল চলমান রয়েছে। এ,আর

  • মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

    মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    দারুসসালাম জোনের ওসি এমদাদুল হক বিপুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে। এরপর দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেয়া হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।স্থানীয় বিএনপির দু’টি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়।

  • ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে চলছে শিশুদের টিকাদান। সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে অস্থায়ীভাবে টেবিল-চেয়ার পেতে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চালু রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সেন্টারের সামনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া শুরু হয়।

    আজ দুপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সামনে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চলতে দেখা যায়। সেন্টারের গেটে ব্যানার টানিয়ে টিকাদানের সামগ্রী নিয়ে বসেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেখানে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নিয়ে মায়েরা আসছেন এবং টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও।
    দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে নিয়ে আসা এক মা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার কাছে হওয়ায় আগেও এখান থেকে টিকা দিয়েছি। ’

    ইসরাত নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমার মেয়ের আগামী মাসে টিকা দেওয়ার তারিখ আছে। আগের টিকাটিও রাড্ডা থেকে দিয়েছি। তাই জানতে এসেছিলাম, আগামী মাসে এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে কি না। তাঁরা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়া হবে। ’

    তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে আসা আরেক মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায় বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে। গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে। ’

    রাড্ডা সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজ সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বেলা সাড়ে ১টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি। সেন্টারের আশপাশের শিশুদের টিকা নিতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। ’

    নাসরিন আখতার আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ’

  • ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর পকেটে থাকা এনআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জাবেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খানকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

    পুলিশ জানায়, জাবেদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মৃত্যু, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

    এসআই এস এম আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাবেদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

    জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।

  • বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    বিএনপি নারীর শিক্ষা-ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল পায়।

    নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি পরিবারকে যেমন এগিয়ে নেওয়া যায়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    তিনি বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

    আরও পড়ুন: এক গুদামে আগুন লেগে পুড়ল আরও ১২ গোডাউন

    শিক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে কোনো জাতিই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।

    রিজভী বলেন, একটা সময় শিক্ষার গুরুত্বকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুন: পাংশায় দেয়াল ধসে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

    এর প্রভাব পড়েছে পুরো জাতির ওপরও।

    রিজভী অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কোনো জাতি শিক্ষার যথাযথ সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য বিনিয়োগ ও প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

    অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সড়কে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের পর এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতর খবর পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে দুইটা ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় দোকানপাট বন্ধ ও রাস্তায় কেউ না থাকায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ।

    এ বিষয়ে শাহজানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায় নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

  • রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের তেজগাঁও থানায় নেয়া হয়েছে । সেখানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, তেজগাঁও মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনক জঙ্গি হিসেবে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়।

  • মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন হৃদয় মিয়া (২৫) নামে এক মুদি দোকান ব্যবসায়ী।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাদেক খান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল নিয়ে কৃষি মার্কেটে মালামাল আনতে যাওয়ার পথে ৪-৫ জনের একটি দল তার পথরোধ করে। এ সময় চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কুপিয়ে তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেল ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

    আহত হৃদয়ের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লব জানান, সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে কৃষি মার্কেটে যাচ্ছিলেন হৃদয়। পথে সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তাকে চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কোপানো হয়। হামলার পর তার মোটরসাইকেল ও সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

    পরে খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

    ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আহত হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সবুজ মিয়া। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

  • নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

    নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

    নদীর নাব্য হারিয়ে এ অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। আবহমান গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীর দিঘীরপাড় পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হলো নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার বিকালে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নদীতীরবর্তী পুরো এলাকা নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ‘হেইয়োরে, হেইয়োরে’ ডাকে মুখর ছিল। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-নির্বিশেষে কয়েক হাজার মানুষ এ বাইচ উপভোগ করতে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে উপচেপড়া দর্শক। ইঞ্জিনচালিত ও পানসি নৌকা নিয়ে নদীতেও মানুষের উপস্থিতি। কোনো কোনো নৌকায় উচ্চৈঃস্বরে বাজছিল গান। দর্শকের টান টান উত্তেজনার মধ্যেই বাইচের নৌকার মাঝিরা হাঁক দিলেন, ‘হেইয়ো রে হেইয়ো’। দর্শকদের হর্ষধ্বনি আর হাততালি বাড়তি উৎসাহ জোগায় নৌকাগুলোকে। নদীর পাড়ে বিভিন্ন খাবারের পসরা নিয়ে বসে গ্রাম্যমেলা। দিঘীরপাড় নওমোজাহিদ ক্লাব আয়োজিত বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি, নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বাইচে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ-মানিকগঞ্জ জেলা থেকে ছোট-বড় ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। বাইচ বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়। পরে ক্লাবের সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ঢাকা-১ আসনের সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর আমরা নৌকাবাইচের আয়োজন করে থাকি।

    সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য নৌকাবাইচ। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবারই বাইচ আয়োজনের চেষ্টা করি। আমরা চাই, মানুষ যেন শিকড় ভুলে না যায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌকাবাইচ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ আল-মামুন, সদস্য সচিব মোহসীন হাসান লিটু, বিএনপি নেতা মো. আমজাদ হোসেন, আবুল কালাম খন্দকার, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

  • পড়াশোনা করে দেশের সম্পদ হতে হবে: ঢাকার ডিসি

    পড়াশোনা করে দেশের সম্পদ হতে হবে: ঢাকার ডিসি

    ‘আমার বাবা আমাকে ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা মেনে নেইনি। লেখাপড়া শেষ করে আজ আমি নিজের যোগ্যতায় দেশের সম্পদ হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তাই তোমাদের (শিক্ষার্থীদের) প্রতি আমার আহ্বান তোমরা মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।’

    গত ২ আগস্ট বিকাল ৫টায় ঢাকার দোহার উপজেলায় ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম এসব কথা বলেন।

    একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন ডিসি।

    দোহার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে দোহার উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল, বিজ্ঞান শিক্ষাকে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি এবং ‘হ্যালো ডিসি অ্যাপ’- এর মাধ্যমে সহায়তার আবেদনকারী ১৪ জন অসচ্ছল ও দুস্থ মহিলার মাঝে সেলাইমেশিন বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উদ্যমী হবে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত।

    অনুষ্ঠানে দোহারের ইউএনও মো. মাঈদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঢাকার ৪শ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসে মিজ ফরিদা খানমই হলেন ১ম নারী জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে ‘ক্লিন স্কুল গ্রিন স্কুল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুই শতাধিক ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারে উপজেলার ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৯টি ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।

    এছাড়াও ‘গ্রিন দোহার’ কার্যক্রমের আওতায় বিলাশপুর ইউনিয়নের কুলছড়িতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করে ‘কৃষ্ণ কানন’-এর শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

    সফর শেষে তিনি দোহারের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মৈনটঘাট পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামীম হোসেন, ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক, ঢাকা জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবুল হাশেম বেপারী, দোহার উপজেলা বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, পৌরসভা বিএনপি সভাপতি এসএম কুদ্দুসসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নবাবগঞ্জে ৩০০ তাল বীজ রোপণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তাল বীজ রোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবসংলগ্ন সড়কের পাশে ৩০০টি তাল বীজ রোপণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো: সোলায়মান হোসেন, প্রশিক্ষক ছত্র কুমার বিশ্বাস, প্রশিক্ষক কাজী তাহেরা খাতুন, ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়ন দলনেতা হুমায়ুন কবির, দলনেত্রী সানজিদা আক্তার এবং পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাবের সদস্যরা।

    এ সময় উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সোলায়মান বলেন, ‘সম্মানিত দিনাজপুরের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মহোদয়ের নির্দেশনায় পারহরিনা আনসার ও ভিডিপি ক্লাব সংলগ্ন সড়কের পাশে তালবীজ রোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দিন দিন তালগাছ বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।‘

  • কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো: ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রায়েরবাজারের ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বসিলা ব্রিজ-সংলগ্ন আরশিনগর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে তিনি চুল কাটানোর জন্য আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিক তার ওপর হামলা চালায়। তারা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। চার বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকরা হলেন- কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয় শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁরা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে আনসার সদস্যরা। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব। ’

    বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মোঃ সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবা কারাগারে। মা তিন অবুঝ সন্তান রেখে চলে গেছেন—এমন অবস্থায় ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় তিন শিশুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। ওই শিশুদের রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামপুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুদের উদ্ধার করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন শিশুর মধ্যে বড়টির নাম আলিবা (৮ বছর), দ্বিতীয়টির নাম ইভা (৫ বছর) এবং সবচেয়ে ছোটটির নাম মুনিয়া (৩ মাস)। শিশুদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে তারা জানায়।

    এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে শিশুদের মা নতুন করে মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। বাড়ির মালিকের নাম তোরাব আলী। তবে তিন দিন আগে মা শিশুদের রেখে চলে যাওয়ার পর তারা একা হয়ে পড়ে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তিনি মুক্তিরবাগ এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তায় একটি শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিন শিশুকে নিরাপদে নিয়ে যান এবং কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।

    শিশুদের উদ্ধারের পর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। তিন মাসের শিশুটিকে নিয়ে অনেকেই সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাকে নিজেদের কাছে রাখার আগ্রহ দেখান।

    শিশু তিনটি কয়েক দিন ধরে ক্ষুধার্ত ছিল। ছোট শিশুটির বয়স মাত্র তিন মাস হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা, খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের অনুপস্থিতি এবং বাবার কারাগারে থাকার কারণে শিশুদের তাৎক্ষণিক অভিভাবকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, বড় দুই শিশুকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর তিন মাস বয়সি শিশুটির জন্যও সাময়িক নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    নিউজ:

    বাবা কারাগারে, মা-ও নেই। তিন অবুঝ শিশুকে রেখে চলে গেছেন মা। এরপর থেকে একাই দিন কাটছিল তাদের। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ।

    ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায়। শিশু তিনটির বয়স ৮ বছর, ৫ বছর ও মাত্র ৩ মাস।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে শিশুদের মা তোরাব আলীর বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। তিন দিন আগে তিনি সন্তানদের রেখে চলে যান। তাদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি রাস্তায় এক শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কাঁদতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

    স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে শিশুরা ঠিকমতো খাবারও পায়নি। বিশেষ করে মাত্র তিন মাস বয়সী শিশুটিকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, বড় দুই শিশুর জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন মাস বয়সী শিশুটির জন্যও সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি শহীদ হন।

    মীর কাসেম আলী ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তা, দানবীর ও ইসলামপন্থী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রদূত। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবুও ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কাশিমপুর কারাগারে রায় কার্যকর করা হয়।

    তাঁর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সমর্থকগোষ্ঠী দোয়া মাহফিল, কুরআন খতম ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

    এ,আর

  • পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ট্রানজিশন পিয়ার বা সংযোগস্থলের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির একটি বাস উল্টে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে সেতুর সংযোগস্থলের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিটের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে যে, লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটি বাস উল্টে গেছে। ঢাকামুখী নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেস নামে বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।

    তিনি আরো জানান, সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দু’টি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

    আহতরা হলেন— মাগুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০), মো: লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদা উপজেলার নূর ইসলাম (৪৬), রশিদা (৪০), মাগুরা মোহাম্মদপুরের ফাতেমা (৭), মাগুরা শ্রীপুরের সাইফ (২৩) ও ফরিদপুরের মধুখালি এলাকার মো: আরাফাত (১৩)।

    পদ্মা সেতুর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আক্তার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গ্রিন এক্সপ্রেস বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুতে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা আট-নয়জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

  • এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    কলেরা প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে বাংলাদেশ সরকার। আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় শনিবার, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে দুই ডোজ করে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হবে।

    প্রথম ডোজ দেওয়া হবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে।

    হঠাৎ করে কেন এই উদ্যোগ?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কলেরার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ামূলকভাবে নয়, বরং রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কয়েক বছর ধরে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কলেরার টিকা দেওয়ার কথা ছিল আন্তর্জাতিক টিকা জোট গ্যাভির। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, টিকার চাহিদা ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা কারণে কর্মসূচিটি নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালে এটি অনুমোদন পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্যাভি এসব টিকা অনুদান হিসেবে দেওয়ায় টিকা কেনার জন্য সরকারের আলাদা অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে না। কোন কোন এলাকায় টিকা দেওয়া হচ্ছে?
    প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানাকে টিকাদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সিগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায়ও কর্মসূচি চলবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মোট ১৪৪টি উপজেলা ও থানায় কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে নির্ধারণ করা হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা?
    টিকাদানের এলাকা অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কলেরার প্রকোপ, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপ্রবণতা, আগের টিকাদানের ইতিহাস এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বা PAMIs বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধের জন্য মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    কারা এই টিকা পাবেন?
    কলেরার টিকা এক বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না। টিকাটি মুখে খেতে হয় এবং কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেউ যদি শুধু একটি ডোজ নেন, তাহলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে না এবং টিকার সুরক্ষা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী নাও হতে পারে।

    কতদিন সুরক্ষা দেবে?
    দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে টিকা নেওয়ার পরও নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ শুধু টিকা দিয়ে কলেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য টিকার মতো কলেরার টিকা গ্রহণের পরও সাময়িক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বমি ভাব বা কখনও কখনও ডায়রিয়া হতে পারে। তবে এটিকে তুলনামূলকভাবে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত টিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০২২ সালের কলেরার প্রাদুর্ভাবের সময় এবং এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই ধরনের টিকা ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    কলেরার রোগীর তুলনায় এত মানুষকে টিকা দেওয়া কেন?
    এ নিয়েও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আইসিডিডিআর,বি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নথিভুক্ত কলেরার রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৪১ জন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরে কমলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবারও আক্রান্তের সংখ্যাবাড়তে দেখা যায়। তবে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না আসা অনেক রোগী হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং ওরস্যালাইনের ব্যবহারের কারণে কলেরার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত সুফল পাওয়া যাবে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, টিকা দেওয়ার পর এর ফলাফল বিশ্লেষণ করেই বোঝা যাবে কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়েছে।শুধু টিকা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও জরুরি

    কলেরা নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকাদানের ওপর নির্ভর করছে না সরকার। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্যানিটেশন উন্নত করা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৈশ্বিক রোডম্যাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশে জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (NCCP) তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২৯ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে এবারের টিকাদান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো—কলেরা হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার বদলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আগেই সুরক্ষা দেওয়া।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব বলছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিচয়ের সূত্র ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে একটি দল নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন– ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাওসার এবং বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা। তাদের মধ্যে জলিলকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য একটি লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নেয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাতেরা গাড়িটির পথরোধ করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএল ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল নিতে যাতায়াত করতেন কাওসার। ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেয়া হয়। পরে এই তথ্য তিনি ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের জানান।

    জেলে পরিচয়, পরে ডাকাতির পরিকল্পনা
    র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় কারাগারে থাকার সময় ১৮টি মামলার আসামি হাকিমের সাথে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে বের হওয়ার পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

    ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ২ আগস্ট হাকিম, কাওসার ও জলিল মোল্লা ডিএল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পুরো এলাকা রেকি করেন। পরে মাঠপর্যায়ে ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য আরো সাতজনকে যুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেন। আর একজন ফিলিং স্টেশনের কাছে অবস্থান করে টাকা বহনকারী গাড়ির গতিবিধি জানাতে থাকেন।

    র‌্যাব জানায়, মুস্তাফিজ নামের ওই ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের জানান, টাকা নিয়ে লাল রঙের কাভার্ড ভ্যানটি ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়েছে। এরপর ক্রাউন প্লাজার সামনে ভ্যানটির পথরোধ করে টাকা লুট করা হয়।

    জলিলের কাছে ছিল ৫৩ লাখ
    র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন চক্রের সদস্যরা। মূল সর্দার জলিল মোল্লার কাছে ছিল ৫৩ লাখ টাকা। ডাকাতির সময় তার হাতে একটি পিস্তল ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    আরেক সহযোগী সাগর বোরাক ১৪ লাখ টাকা পান। ডাকাতির সময় তার কাছেও পিস্তল ছিল। তাকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    মুস্তাফিজ ১৪ লাখ, শওকত হোসেন দিপু ১০ লাখ, সোহেল ১০ লাখ এবং চাপাতি হাতে থাকা আলী ১০ লাখ টাকা পান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। শওকত হোসেন দিপুর সাথে থাকা আরো একজন সহযোগীও ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    র‌্যাব বলছে, হাকিম ও কাওসারের ভাগের টাকা জলিলের কাছেই রাখা হয়েছিল। তবে জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সেই টাকা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    তিন ধাপে গ্রেফতার
    র‌্যাব জানায়, ডাকাতির তদন্তের পাশাপাশি আগের দুটি মামলার নথি যাচাই করে গত ১৬ আগস্ট রাতে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।

    জলিলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারাবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল আরো জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    ঢাকার আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অটোরিকশা চালক মো: সুজন হাওলাদারকে (২৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গ্রেফতাররা হলেন, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শসতল গ্রামের মো: হারুন ঢালির ছেলে মো: মারুফ ঢালি (৩৯)। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালবাগ থানার বাগানবাড়ী সৈয়দনগর এলাকায় নাহিদ ইসলামের গ্যারেজে বসবাস করে আসছিলেন। অপরজন একই গ্রামের মো: আজিজুল ঢালির ছেলে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশ (২২)।

    পিবিআইয়ের দাবি, মারুফ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আর তানভীর নিহতের লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি তার কাছ থেকে কিনেছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নিহত সুজনের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুজন হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মো: আমির হাওলাদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে নিজের অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন সুজন। এরপর সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে স্ত্রীকে ফোন করে কথা বলেন তিনি। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এর দুই দিন পর, ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৮১/১ ও ৮১/২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশের মাথায় থেতলানোর আঘাত এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে নিহতের মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা: আলো বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক মো: জামাল উদ্দীন বিপিএম-কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, মামলাটি তদন্তে নেয়ার পর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তার নিখোঁজ হওয়ার সময়, সর্বশেষ মোবাইল যোগাযোগ, পূর্বপরিচিত ব্যক্তি এবং অটোভ্যানটির গতিবিধি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।

    তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণে তদন্তের সূত্র গিয়ে পৌঁছায় মারুফের কাছে। পরে অটোভ্যানটির গতিবিধি অনুসরণ করে পিবিআইয়ের একটি দল মাদারীপুরে অভিযান চালায়। ১১ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর থানা এলাকার আনসার ক্যাম্পের সামনে একটি অটো গ্যারেজ থেকে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান। মারুফের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সুজনের মোবাইল ফোন।

    পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্ত এবং গ্রেফতার আসামিদের আদালতে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, মারুফ নিজেও একজন ভ্যানচালক এবং নিহত সুজনের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সুজন তার অটোভ্যান নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় মারুফের সাথে দেখা করেন। সেখান থেকে দুজন বেড়িবাঁধ হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

    পরদিন ৯ আগস্ট ভোররাত ৩টার দিকে কাশিমপুরে অটোভ্যানে মালামাল লোড করার পর তারা ঢাকার লালবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে আশুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এসে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গাড়িটি ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নেন।

    তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুজন ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তখন মারুফ তার অটোভ্যান থেকে একটি চাপাতি নিয়ে আসেন। পরে ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমন্ত সুজনের মাথায় একটি ভারী পাথর দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এরপর চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

    হত্যার পর চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেন মারুফ। ঘটনাস্থলে সুজনের লাশ রেখে তার অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। হত্যার পর সুজনের অটোভ্যান নিয়ে মারুফ লালবাগে চলে যান। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে অটোভ্যানটি চালিয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুরে পৌঁছে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশের কাছে অটোভ্যানটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন মারুফ। অটোভ্যানটির অবস্থান শনাক্ত করার পরই তদন্তকারীরা মাদারীপুরে অভিযান চালান। সেখান থেকে অটোভ্যানসহ মারুফ ও তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনাস্থলের আলামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহারের কারণেই দ্রুত এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ পিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়।

    তিনি বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় গত ১২ দিনে পৃথক তিনটি এলাকা থেকে ১৬টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা বোমাগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) লিফলেট পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

    সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।

    একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপবোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা পাওয়া যায়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি একটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    মাদ্রাসার সামনে ড্রামে বোমা

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি বাইকে করে তিন ব্যক্তি লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার মাদ্রাসার সামনে আসেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময় এলাকা কিছুটা অন্ধকার ছিল। তাঁরা মাদ্রাসার পাশের জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

    মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা ও চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে তিন ব্যক্তি এসে মাদ্রাসার সামনে জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে যান। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। ড্রাম ফেলার শব্দ শুনে চোর ভেবে পাশের বাড়ির দেলোয়ার হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে ডেকে তোলেন। ঘর থেকে বের হয়ে আমরা তিনজন লোক ও একটি হ্যালো বাইক দেখতে পাই। আমাদের দেখেই তাঁরা হ্যালো বাইক নিয়ে সাধাপুরের দিকে চলে যান।’

    আজিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘পরে জঙ্গলের মধ্যে ড্রামটি পড়ে থাকতে দেখি। বিষয়টি জানাজানি হলে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে কয়েকজন মিলে ড্রামটি মাদ্রাসা ও মসজিদের মূল ফটকের সামনে নিয়ে রাখি। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো হয়।’

    মাদ্রাসার কিতাবখানার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তাঁরা ড্রামের ঢাকনা খুলে ভেতরে কোরআন, কিছু তার, জামাকাপড়, একটি ডায়েরি, বাকরখানি ও স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বোমা দেখতে পান।

    আব্দুল্লাহ আল রাফির দাবি, ড্রামের ভেতরে একটি রিমোট কন্ট্রোলও ছিল। ওই রিমোট কন্ট্রোল ও বোমাটির গায়ে আর ওয়ান (R1) লেখা ছিল। তাঁর ধারণা, এটি কোনো সংকেত হতে পারে।

    মাঠে সরিয়ে রাখা হয় বোমা: মাদ্রাসার পাশের মানিকগঞ্জ ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাম থেকে বোমাটি বের করে মাদ্রাসার মূল ফটক থেকে কিছুটা দূরে মাঠের একটি খোলা জায়গায় রাখা হয়। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোলটি তখন মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ছিল।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটির ওজন অন্তত ১৫ কেজি হবে বলে মনে হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে এসে রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে বিষয়টি ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটি মাঠে রেখে যাওয়ার পর কীভাবে ও কারা রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী: ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। পুলিশের পাহারায় সেটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। পরে থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বোমা উদ্ধারের পর বিষয়টি ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে জানানো হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।

    একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক : সাভার ও আশুলিয়ায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বসতবাড়ি, মাদ্রাসা ও জনবহুল এলাকার কাছাকাছি এসব বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা ।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, উদ্ধার করা বোমাগুলোর উৎস, এগুলো কারা তৈরি করেছে ও কোথায় ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া জেএমবির লিফলেটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

  • ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ভবিষ্যতে রাজধানীতে নিজস্ব পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো হকার থাকবেন না। এমনকি নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

    আজ বুধবার ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করা যাবে না।

    আবদুস সালাম বলেন, রাস্তার ওপর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের কিছু অংশে তাঁদের বসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থানে হকারদের জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিনরোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরায় কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই কাজ এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়।

    আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকার অনেক ড্রেন পুরোনো ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও বর্ষার কারণে খননকাজে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ড্রেনে পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    ডেঙ্গু প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেসব স্থানে সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবহারকারীকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়টিও ডিএসসিসির ভাবনায় আছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নির্বিচারে এসব রিকশা যেন চলাচল করতে না পারে, সে জন্য অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই চলবে এবং কিছু সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

    ঢাকার সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎসহ নগর সেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নকাজে রাস্তা কাটার পর সঠিক সময়ে তা মেরামত না হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে।

  • দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, অন্যদিকে অসত্য তথ্য ও গুজব মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার গুণগত মান, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এআইয়ের যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভিসি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম প্রণয়নেও তিনি কাজ করছেন।

    পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এ সময় পিআইবির সমন্বয়ক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানিয়েছেন।

    চাকরির নিয়োগপত্র প্রাপ্তরা হলেন শহীদ মো: সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো: শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো: আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো: মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো: জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী এবং গুরুতর আহত মো: আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো: জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা: আরজু আক্তার।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরো ভালো করা।’

    রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

    জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

    অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন।

    শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দেশের গণমাধ্যমগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়, এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সাদা কে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে। আমার যদি কোন ভুল থাকে সেটাও বলতে হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার এসব ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও এখনও তারা স্বাধীনভাবে সেগুলো প্রচার করতে পারছেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কতটা সফল হয়েছে, সেই রায় জনগণই দেবে। এ বিষয়ে আমরা বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

    বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। অথচ ভুতুড়ে বিলের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    রাজনৈতিক সহিংসতা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। রাজনীতি হচ্ছে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা। এখানে কোনো মাস্তান বা সন্ত্রাসী মানসিকতার মানুষের স্থান নেই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের আমাদের দলে যুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে। তাদের রাজনীতি করার সময় এখনও আসেনি। তারা অসংখ্য মায়ের কোল খালি করেছে। বিনিময়ে তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশও করেনি। পক্ষান্তরে তারা এখনও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। সরকারের নিজ দায়িত্বে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ নেতা কর্মীরা যাদের নামে মামলা ও সাজা প্রাপ্ত হয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

  • ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টাকসু)। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    মানববন্ধনে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত, সন্ত্রাস ও লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    টাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার বালিকা শাখার ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, হল দখল, ফ্রি খাওয়া, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্ম রুখে দিতে হবে। অধ্যাপক ওবায়দুল হকের ওপর হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে টাকসুর ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গন হলো দেশ গড়ার ও মানুষ তৈরির কারখানা। কোনো সন্ত্রাসী, মাস্তানি বা চাঁদাবাজির স্থান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে না। সম্মানিত শিক্ষকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আদর্শিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলছে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেই পরিবেশকে কলঙ্কিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস ড. মোয়াজ্জেম হোসেন আজহারী, ফকিহ ইব্রাহিম খলিল, আমিনুল হক, প্রভাষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক। এছাড়াও টাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বক্তারা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

  • ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ট্রাকচাপায় মো: বজলুর রশীদ নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুডাংগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: বজলুর রশীদের বাড়ি ধামরাই উপজেলার কাঁঠালিয়া এলাকায়। তিনি পেশায় একজন পল্লী পশু চিকিৎসক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মধুডাংগা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ইটবোঝাই ট্রাকের সাথে বজলুর রশীদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকটি মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বজলুর রশীদ মারা যান। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের হেলপারও আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়, বরং ছাত্র সন্ত্রাসী ও টোকাই। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাই সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম না ধরা হলে এবং বিএনপির টোকাই বাহিনীর লাগাম না টানা হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাস শান্ত রাখার কথা বলা হচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছ, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবার হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতা দুর্বলতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার বলা হলেও এবং ডিএমপি পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাস কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে শেল্টার দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চলবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা রক্তের জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের বিপুলসংখ্যক জনশক্তিও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহীদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তারা বলেন, ‘শহীদ সুজন মাহমুদ ও শহীদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’

    এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।

  • সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারের নবীনগরের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাভার ডিবি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল ইসলাম।

    গ্রেফতাররা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে মো: মাসুম (২২) ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথুলি এলাকার মো: জামাল শেখের ছেলে মো: সোয়েব শেখ (২০)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল বলেন, ‘ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপ-পরিদর্শক মো: নাফিউল ইসলাম পিপিএমসহ ডিবির একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। এ সময় দুই মাদককারবারিকে ৪২ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। ’

    ডিবি পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং জব্দ করা গাড়িটির মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে পাইকারিভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন বলেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মাসুমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইসাথে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার মধ্যাকার খেলা দেখার সময় সঙ্ঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি প্রদান করা হলো।

    অফিস আদেশ অনুযায়ী, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: আসাদুজ্জামানকে জাবির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার (অথবা ক্ষেত্রমতে যা প্রযোজ্য) করা হলো। সাময়িক বহিষ্কারকালীন হলে ও ক্যাম্পাসে তিনি অবস্থান করতে পারবেন না।

    এছাড়া দর্শন বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।

    এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো: শামছুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান। কমিটিতে সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

    উল্লেখ্য, ২২ জুন রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে নাঈম আহমদ সানি নামে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

  • পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    ঐতিহাসিক পলাশী দিবসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আধিপত্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত রুখে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রায় ২৭০ বছর আগের পলাশীর ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি আজও আমাদের দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পলাশী কেবল ভাগীরথী নদীর তীরেই সীমাবদ্ধ নয়; বর্তমান বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও বুড়িগঙ্গার তীরেও একই ধরনের চক্রান্ত সচল রয়েছে। নব্য সাম্রাজ্যবাদ বা আধিপত্যবাদের রূপ এখন বদলেছে—এখন তারা সরাসরি ভূখণ্ড দখল করে না, বরং দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংস্কৃতিকে পর্দার আড়াল থেকে নিজেদের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আজকের স্বাধীন বাংলাদেশেও মীর জাফর ও ঘসেটি বেগমদের মতো চরিত্রের অভাব নেই, যারা বিদেশী প্রভুর সেবাদাসত্ব করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দিল্লির আধিপত্যের চরণে সমর্পণ করতে ব্যস্ত।’

    বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিলের উক্তি টেনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা’। দেশের মানচিত্র ও পতাকা আলাদা হলেও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আজ অরক্ষিত ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো দেশের ভেতরের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের আদর্শিক দীনতা। ক্ষমতার লোভে এবং নব্য আধিপত্যবাদীদের খুশি করতে দেশের প্রথম সারির দলের জনপ্রতিনিধিরাও সংসদে দাঁড়িয়ে ১৯৪৭ সালের ভূখণ্ডগত সীমানা ও ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে দেয়ার বা অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৭-এর পৃথক জাতিসত্তার সীমানা সৃষ্টি না হলে ১৯৭১-এর সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করা সম্ভব হতো না। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান বাংলাদেশে এই অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এবং গোলামীর মানসিকতা রুখে দিতে প্রতিটি নাগরিকের মাঝে প্রকৃত স্বাধীনতা ও স্বকীয় মূল্যবোধের চেতনা জাগ্রত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’

    বিশেষ অতিথির আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘১৭৫৭ সালের পরে প্রায় ১৫০ বছর পরে এসে মুসলমানরা একটি রাজনৈতিক সংগঠন পেয়েছে। যে সংগঠনের উপর দাঁড়িয়ে তাদের দাবি রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। রাষ্ট্র, রাষ্ট্র পরিচালনা, শাসন এগুলো সামাজিক বিষয় না। এটা রাজনৈতিক বিষয়। সে রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়ে আবার মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। এবং যেই মুসলিম লীগের হাত ধরে আমরা দেখি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দীর্ঘ প্রায় ১৫০০ বছরে মুসলমানরা সবচাইতে ভালনারেবল টাইম পার করেছে গত ১০০ বছর। সবচাইতে কষ্টকর, বেদনাদায়ক সময় পার করেছে। উসমানী খেলাফতের পতনের পর এবং এই কঠিন সময়ের মধ্যে মুসলমানদের যদি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য থেকে থাকে, সেটি হচ্ছে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্র। সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য, মুসলমানদের জন্য, যেখানে ভারতবর্ষে হিন্দু মেজরিটি, সেখানে মুসলিম লিডারশিপ তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেগোসিয়েশনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছে। এটি মুসলমানদের জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল পুরো ১০০ বছরের মধ্যে।’

    ‘আর সেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সীমানাটা আজকে দুটি রাষ্ট্র, একটি বাংলাদেশ আরেকটি পাকিস্তান। আমি বিশ্বাস করি, এই দুই দেশের মানুষ যদি তাদের হারানো ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং মুসলমানদের যে গ্লোরিয়াস পিরিয়ড, যে গোল্ডেন এইজ মুসলমানদের ছিল, সেগুলোকে যদি আবার ধারণ করে, তাহলে আবারো পৃথিবীর বুকে মুসলমানরা শ্রেষ্ঠত্ব অধিকার করবে এবং তাদের অবস্থান তারা নিশ্চিত করতে পারবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সুভ্যেনিরটা দেখতেছিলাম, যে সুভ্যেনিরে দেখেছি ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে কন্টিনিউ এই পলাশী দিবসের প্রোগ্রামটি করে যাচ্ছে। এই পলাশী দিবস আমাদেরকে বার্তা দেয়, আমরা আমাদের সম্পদ, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সেই গৌরব আমরা হারিয়েছি। আমাদেরকে আবার সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে পরে এই সকল আলোচনা সভা সফল হবে এবং আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রশিবির এমন একটি জেনারেশন তৈরি করবে, যারা তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখবে এবং দেশের উন্নতি এবং সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।’

    অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। এটা এমনভাবেই তার জায়গা দখল করে নেয় এবং বারবার ঘসেটি বেগম ও রায় দুর্লভদের আবির্ভাব হয়, যারা এই দেশে খেয়ে, এই দেশে বড় হয়ে, এ দেশের জনগণের অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্য করে আবার এই জনগণের উপরই তাদের বিরোধী সন্ধি চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে শত শত বছরের জন্য বারবার পরাধীন করে রেখেছে।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৮-৪৯ সালের ঠিক এই দিনে (২৩ জুন) একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছিল—আওয়ামী লীগ। এর জন্ম কোনো আকস্মিক ঘটনা না, এর জন্মটাই হয়েছে এই বাংলাদেশকে পরাধীন করে রাখার জন্য এবং যার নজরানা তারা দিয়েছে যখন এদেশের জনগণ পূর্ববর্তী সময়ের মতো তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা যাদের আধিপত্যকে এই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা করেছিল, সে আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়েই আবার তারা আশ্রয় গ্রহণ করেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের নেচার ও ফিচার যদি হাজার বছরের ইতিহাস আপনারা দেখেন, আপনারা দেখবেন এই অঞ্চলে মৌর্যরা যখন শাসন করত, এরপরে এই অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে গুপ্তদের শাসন এসেছিল, পালদের শাসন এসেছিল, সেনদের শাসন এসেছিল। মুসলিম সালতানাত এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীন সুলতানি আমল ছিল প্রায় ৬০০ বছর ধরে। মুসলমানরা যখন এখানে শাসন করেছিল—হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তাদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাথে এই অঞ্চলে বসবাস করেছিল। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কারণে এই অঞ্চলে মুসলমানরা শত শত বছর শাসন করার পরেও হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের দাঙ্গা হতো না।’

    শিবির সভাপতি বলেন, ‘এ অঞ্চলে প্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন তাদের বাণিজ্য প্রসার করার জন্য এসেছিল, ১৬৩৪ সালে এখানে এসে প্রথম কুঠি স্থাপন করল কাসিম বাজারে। এরপর থেকেই শুরু। কাসিম বাজারে তারা যে কয়জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল, তার সকল কর্মচারী তারা হিন্দু নিয়োগ দিয়েছিল। যার ফলে এখানে একটি হিন্দু আঁতাত তারা গড়ে তুলেছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদেরকে মুসলমানদের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসে তলে তলে একটি বিভাজনের রাজনীতি এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৭৫৭ সালে এই অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে যে কয়েকজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরাধীন করা হয়েছিল, তারা নবাবের একেবারেই কাছের ছিলেন। কেউ ছিলেন নবাবের সেনাপতি, কেউ ছিলেন তার অর্থমন্ত্রী, কেউ ছিলেন তার চাচি, কেউ ছিলেন তার পার্শ্ববর্তী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী। এই মানুষগুলোই—মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায় দুর্লভ—পরবর্তী সময়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং বিপদের মুখে তাকে ফেলে দিয়ে ইংরেজদের পক্ষ অবলম্বন করেছিল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষেরা বারবার পরাধীন হয়েছে, জীবন দিয়েছে। এরপরে বাংলার মানুষেরা স্বাধীনতা চেয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষে বিদ্রোহ করে বারবার, যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সে বিদ্রোহ করে বসে এবং শাসকগোষ্ঠী পালাতে বাধ্য হয়। মাঝে মাঝে তারা তাদের আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ইতিহাস বলে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, এর পরবর্তী আমাদের জুলাই বিপ্লব শত শত হাজার হাজার প্রাণের বিনিময়ে মানুষেরা এই বিপ্লব এনে দেয়।’

    ‘আর শাসক গোষ্ঠীর যারা বিদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলিশান জীবনযাপন করে, বিপ্লব-বিদ্রোহের পরেই তারা এসে আবার ক্ষমতা দখল করে। তারা চায় না এই রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার হোক, তারা চায় না খুন প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হোক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে। ১০০ দিনের শাসনে ৬০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো বিচার হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে অফিস খুলছে, মিছিল-মিটিং করছে।’

    ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘পলাশীর এই আলোচনাগুলো ইসলামী ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাগুলোকে জাতির সামনে, যুবকদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ ও দক্ষ দেশপ্রেমিক নাগরিক আমরা তৈরি করতে চাই। আমরা এদেশে এমন কোনো মানুষ তৈরি করব না যারা এদেশে জন্ম নিয়ে এদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেয়। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ জানাই—ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। নতুন বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনাদের কাছে আমরা আহ্বান জানাই।’

    তিনি সকল খুন ও হত্যাযজ্ঞের বিচার অনতিবিলম্বে এ বাংলার মাটিতে কার্যকর করার অনুরোধ জানান।

    অনুষ্ঠানে এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী, এমপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. সায়ীদ ওয়াকিল। আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদিব মুসা প্রমুখ।

  • শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে সালমান রনি মৃধা (২৪) শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ৯ দিন পেরিয়ে গেলো কিন্তু এখনো তার সন্ধান মেলেনি। উভয় পরিবারের মধ্যে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে সালমান রনি মৃধা নামের এক যুবক গত নয় দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে নানা সন্দেহের দানা বাঁধছে। নি‌খোঁজের ঘটনায় স্ত্রী, বাবা-মাসহ পরিবারটিতে এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

    নিখোঁজ সালমান রনি মৃধা শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ জুন) শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের রাজারচর মৌলভীকান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান সালমান রনি মৃধা। সেখানে দুই দিন অবস্থান করার পর গত বুধবার (১০ জুন) তিনি নিজ বাড়ি দ্বিতীয়খন্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি এবং আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

    ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নিখোঁজের বাবা আলমগীর হোসেন মৃধা।

    তবে নিখোঁজের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সালমান রনির কোনো খোঁজ না মেলায় বুকফাঁটা আকুতি জানাচ্ছে তার পরিবার। ছেলের অক্ষত প্রত্যাবর্তন চেয়ে প্রশাসনের সুদৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    (01609-939332) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হইলো। সন্ধানদাতাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নিখোঁজ যুবককের প‌রিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জি‌ডি) ক‌রে‌ছেন। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

    শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

    শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত আমির হোসেন সরদার (৪৫) উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের হলইপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ইদিলপুর ইউনিয়নের হলইপট্টি ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের ছোট ছেলে সোহেল সরদারের কিছু টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে চতুর্থ ভাই জুয়েল সরদারের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর বড় ভাই আমির হোসেন সরদার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি জুয়েল সরদারকে শাসন করতে কয়েকটি চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েল সরদার পেছন থেকে একটি কাঠ দিয়ে আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করেন।

    গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের বোন রাশিদা বেগম বলেন, ভাইদের ঝগড়া থামাতে গিয়েই আমার বড় ভাইয়ের প্রাণ গেল। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। বড় ভাই হিসেবে শাসন করতে গিয়েই আজ তার প্রাণ গেল।

    নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছোট ভাই সোহেল আর মেজ ভাই জুয়েলের মধ্যে টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমার স্বামী তখন রাস্তার পাশে বসে মোবাইল দেখছিলেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে কাঠ দিয়ে আমার স্বামীর মাথায় আঘাত করে। তখন আমার স্বামী শেষবারের মতো একটা কথাই বলেছিল, ‘আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নে’।

    গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জুয়েল সরদার পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    এ,আর,

  • বাড্ডায় খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বাড্ডায় খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন সাতারকুল ইয়াসিন নগর এলাকার একটি খালের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় (২৫) এক যুবকের পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল আলম জানান, ইয়াসিন নগর খালের কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, নিহতের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। লাশে আংশিক পচন ধরেছে, তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের পরনে ছিল কালো জিন্স প্যান্ট ও হাফ হাতা চেক শার্ট।

  • রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ১০

    রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ১০

    নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারো দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার চরাঞ্চলের নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত অনিক দড়িগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটযোগে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে তারা নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে এ সংঘর্ষ। এসময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০)। এছাড়া আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

    খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। নিহত মামুনও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সংঘর্ষের জের ধরেই আলাল গ্রুপের লোকজনের এলাকায় ফেরাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে।

    রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

    রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

  • নবীনগরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, আটক ৪

    নবীনগরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, আটক ৪

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষার্থীর নাম আল জিদান সরকার (১২)। সে ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বল সরকারের ছেলে। ঘটনার পর আল জিদান সরকারের মা আয়েশা বেগম নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    জানা যায়, গায়ে ধাক্কা লাগার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আল জিদান সরকারের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়।

    শিশু জিদান সরকারের ওপর হামলাকারীরা একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: সাব্বির হোসেন (১৩), আরাফাত হোসেন (১৩), রামিম (১৩) ও জিহাদ (১৩)। তাদের সকলের বাড়ি ইব্রাহিমপুর গ্রামে।

    ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই চার শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করা হয়। পরে তাদের প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং পরে নবীনগর থানায় সোপর্দ করা হয়।

    আহত শিক্ষার্থীর মা আয়েশা বেগম বলেন, স্কুলের ভেতরে আমার ছেলের ওপর এভাবে হামলা হবে, তা কখনো কল্পনা করিনি। সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।

    ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে সাথেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ চারজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করেছে। আহত ছেলের মা আয়েশা বেগম লিখিত অভিযোগ করেছেন।

  • আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

    আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

    আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সাথে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

    এর আগে, গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।

    গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তাদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এই নবজাতকদের নামও রাখা হয়নি। ফলে তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।

    ঘটনা তদন্তে দ্রুত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।

    ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

  • রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি : ট্রাইব্যুনালে রায় ২৮ জুন

    রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি : ট্রাইব্যুনালে রায় ২৮ জুন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

    এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সাথে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।

    মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো: রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো: মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

    গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

    গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

  • স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে রিয়াজুল

    স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে রিয়াজুল

    স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে রিয়াজুল হাসানকে (৫০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে ১০ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসাইন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন রমনা এলাকার আরাফাত মার্কেটে ব্যবসা করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দিদারুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিদারুল ইসলাম বাবু ‘সালিসের কথা’ বলে বিল্লাল হোসেনকে আরাফাত মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া আসামিরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগীরা লোহার রড, ক্রিকেট স্টাম্প ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, হামলার একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু বিল্লাল হোসেনের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ৯ জুন বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

    কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো: হারুন অর রশিদ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’

    এসময় তারা শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে গুলি

    রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে গুলি

    রাজধানীর হাতিরঝিল থানার রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ (৫০)কে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

    একমাস আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান পলাশ। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পূলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হাতিরঝিল রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

    ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পলাশকে।

    পরে উচ্চ আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। আজ পলাশের বাসায় মিলাদ ছিল। রামপুরা থানাধীন রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথায় দুটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ পলাশকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। কারা, কেন পুলাশের ওপর হামলা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজধানীর সূত্রাপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে (৫৫)। এ ছাড়া, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন।

    বি. এ

  • সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে গ্যাস চুরির দায়ে এক চুনা কারখানার মালিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে সোনারগাঁও পৌরসভার ইছাপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি চুনা কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটির মালিক মেসার্স প্রান্ত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: আবু বক্কর (২৬) কে আটক করা হয়।

    তদন্তে জানা যায়, তিনি অনুমোদনহীন সংযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলেন, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির শামিল। এ অপরাধে তাকে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর ১২(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরি ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় ওই এলাকার কয়েকটি অবৈধ গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

  • মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত অর্ধশত গ্রাহক আহত হয়েছেন

    সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ হামলা চালানো হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বেপরোয়াভাবে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।

    পুলিশের লাঠিচার্জের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন। আহত অনেক গ্রাহক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারো প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে পুনরায় অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

    এদিকে ঘটনার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করলে মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।

    তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসি (পেট্রোল) মতিঝিলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের একাংশ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    গ্রাহকদের দাবি, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দিলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

  • ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। পিুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারি গ্রাহকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ভাবে মানববন্ধন করে । এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ পুনরায় ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সকালে থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।

  • আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাউরুটি তৈরির একটি ফ্যাক্টরির (বেকারি) সন্ধান পাওয়া গেছে।

    শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালটি পরিদর্শনে গেলে এ বিষয়টি সামনে আসে।

    পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের ভেতরে পাউরুটি উৎপাদনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

    এ সময় ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেশের কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা হয়, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

  • সাভারে ট্যানারিতে তিন দিনে সাড়ে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ

    সাভারে ট্যানারিতে তিন দিনে সাড়ে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে তিন দিনে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন ট্যানারি মালিকরা। এছাড়া ট্যানারির বাইরের আড়তদাররা আরও প্রায় এক লাখ কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করেছেন।

    শনিবার দুপুরে বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহরাজুল মাঈয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শনিবার সকাল পর্যন্ত তিনদিনে মোট সাড়ে পাঁচ লাখ কাঁচা চামড়া ট্যানারিগুলোতে প্রবেশ করেছে।

    মেহরাজুল জানান, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭১২টি ট্রাক চামড়া নিয়ে ট্যানারিগুলোতে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ১১ হাজার ৫৪০টি গরু ও মহিষের এবং ১৬ হাজার ১৩৬টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া।

    সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হরিণধরায় বিসিক শিল্পনগরীর ট্যানারিগুলোতে আজ শনিবার সকালেও ট্রাকে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা চামড়াবোঝাই যানবাহনগুলো এই চামড়া শিল্পনগরীতে আসতে শুরু করে। পরে এসব কাঁচা চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করেন ট্যানারি মালিকরা, যা শনিবারও অব্যাহত ছিল। সংগ্রহ করা চামড়াগুলো লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

    বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মিতালী ট্যানারির সেলেক্টার মানিক জানান, তাদের ট্যানারিতে প্রায় ২০ হাজার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই চামড়াগুলোই এখন পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে নষ্ট না হয়ে যায়।

    ট্যানারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাদের সংগ্রহ করা কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সরাসরি সাভারের এই শিল্পনগরীতে নিয়ে আসেন। এসব কাঁচা চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য ট্যানারিগুলোতে দ্রুত লবণ দিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

  • দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সবাইকে দেশ গঠনের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুস্থদের মধ্যে কাপড় ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করি সমাজের সবাইকে বিভিন্নভাবে একে অপরের সাহায্য সহযোগিতা করব। একজন নাগরিক হিসেবে যদি সবাই সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা করি, তাহলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে।’

    দুস্থদের মধ্যে কাপড় ও খাবার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি আরও বলেন, ‘আসুন আমরা আজকে সেই কাজটি করি। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করি যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশ গঠনে কাজ করছে তাদেরকে সহযোগিতা করব। তাদের সাহায্য করব একজন নাগরিক হিসেবে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আর কথা বলব না। কারণ আমরা আজকের এই অনুষ্ঠানটির কারণে মানুষের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে আরেকদিন সভা সমাবেশ করব। সেদিন আমরা বসে ভালো করে সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করব।’

  • আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আজ শনিবার দেওয়া হচ্ছে না।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ প্রথম আলোকে জানান, প্রতিবেদন দেওয়ার আগে ছয় নবজাতকের মায়েদের সঙ্গে কথা বলা হবে। কথা বলার পর প্রতিবেদনটি আগামী ৩ জুন দেওয়া হবে।

    গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান প্রথম আলোকে জানান, শনিবার (আজ) তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    তবে আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, যে ছয় নবজাতক মারা গেছে, তাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলার পর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুদের মায়েরা বিভিন্ন এলাকায় আছেন। তাঁদের কাছ থেকে কথা শোনা হবে। তারপর এসব বিষয় তদন্তের মধ্যে থাকবে।’

    তদন্তে এখন পর্যন্ত কী পাওয়া গেল, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ছয়টি বাচ্চা একবারে মারা গেছে। বুঝতে পারছেন তদন্তে কী আসবে। বাচ্চাগুলো তো আর হাইপার সিনড্রোমে (গুরুতর কোনো লক্ষ্মণযুক্ত উপসর্গ) মারা যায়নি। আমরা সমস্ত আলামত, সমস্ত ব্যাখ্যা পেয়েছি। কিন্তু সামারিটি (মূল বিষয়) বলব না। মায়েদের স্টেটমেন্টটা নিয়ে দেখি। যদি কিছু যুক্ত হয়, তবে সবকিছু এক করে পরে কথা বলব। ৩ জুন দেওয়া হবে প্রতিবেদন।’

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

    কী কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল। গতকাল আশিক প্রথম আলোকে বলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে কাউকে এখনো আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।