ক্যাটাগরি ঢাকা

Dhaka district

  • কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    কেরানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো: ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রায়েরবাজারের ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বসিলা ব্রিজ-সংলগ্ন আরশিনগর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে তিনি চুল কাটানোর জন্য আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিক তার ওপর হামলা চালায়। তারা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। চার বছর আগে বিয়ে করলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকরা হলেন- কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয় শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁরা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে আনসার সদস্যরা। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব। ’

    বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মোঃ সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বাবা কারাগারে, মা উধাও—যেভাবে কাটছে তিন শিশুর দিন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবা কারাগারে। মা তিন অবুঝ সন্তান রেখে চলে গেছেন—এমন অবস্থায় ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় তিন শিশুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। ওই শিশুদের রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামপুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুদের উদ্ধার করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন শিশুর মধ্যে বড়টির নাম আলিবা (৮ বছর), দ্বিতীয়টির নাম ইভা (৫ বছর) এবং সবচেয়ে ছোটটির নাম মুনিয়া (৩ মাস)। শিশুদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে তারা জানায়।

    এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে শিশুদের মা নতুন করে মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। বাড়ির মালিকের নাম তোরাব আলী। তবে তিন দিন আগে মা শিশুদের রেখে চলে যাওয়ার পর তারা একা হয়ে পড়ে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তিনি মুক্তিরবাগ এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তায় একটি শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিন শিশুকে নিরাপদে নিয়ে যান এবং কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।

    শিশুদের উদ্ধারের পর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। তিন মাসের শিশুটিকে নিয়ে অনেকেই সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাকে নিজেদের কাছে রাখার আগ্রহ দেখান।

    শিশু তিনটি কয়েক দিন ধরে ক্ষুধার্ত ছিল। ছোট শিশুটির বয়স মাত্র তিন মাস হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা, খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের অনুপস্থিতি এবং বাবার কারাগারে থাকার কারণে শিশুদের তাৎক্ষণিক অভিভাবকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, বড় দুই শিশুকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর তিন মাস বয়সি শিশুটির জন্যও সাময়িক নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

  • বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    বাবা কারাগারে, মা উধাও; আশ্রয়হীন তিন শিশু

    নিউজ:

    বাবা কারাগারে, মা-ও নেই। তিন অবুঝ শিশুকে রেখে চলে গেছেন মা। এরপর থেকে একাই দিন কাটছিল তাদের। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ।

    ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায়। শিশু তিনটির বয়স ৮ বছর, ৫ বছর ও মাত্র ৩ মাস।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে শিশুদের মা তোরাব আলীর বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। তিন দিন আগে তিনি সন্তানদের রেখে চলে যান। তাদের বাবা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মায়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    কালিন্দী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি রাস্তায় এক শিশুকে কোলে নিয়ে অপর দুই শিশুকে কাঁদতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

    স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে শিশুরা ঠিকমতো খাবারও পায়নি। বিশেষ করে মাত্র তিন মাস বয়সী শিশুটিকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, বড় দুই শিশুর জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন মাস বয়সী শিশুটির জন্যও সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি শহীদ হন।

    মীর কাসেম আলী ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তা, দানবীর ও ইসলামপন্থী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রদূত। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবুও ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কাশিমপুর কারাগারে রায় কার্যকর করা হয়।

    তাঁর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সমর্থকগোষ্ঠী দোয়া মাহফিল, কুরআন খতম ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

    এ,আর

  • পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ট্রানজিশন পিয়ার বা সংযোগস্থলের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির একটি বাস উল্টে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে সেতুর সংযোগস্থলের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিটের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে যে, লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটি বাস উল্টে গেছে। ঢাকামুখী নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেস নামে বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।

    তিনি আরো জানান, সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দু’টি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

    আহতরা হলেন— মাগুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০), মো: লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদা উপজেলার নূর ইসলাম (৪৬), রশিদা (৪০), মাগুরা মোহাম্মদপুরের ফাতেমা (৭), মাগুরা শ্রীপুরের সাইফ (২৩) ও ফরিদপুরের মধুখালি এলাকার মো: আরাফাত (১৩)।

    পদ্মা সেতুর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আক্তার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গ্রিন এক্সপ্রেস বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুতে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা আট-নয়জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

  • সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন এলাকা থেকে চাঁদাবাজির সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৯), মঞ্জুরুল হক মঞ্জু (৫২), এফ রহমান রুপক (৪৮)। এসময় মো: পিন্টু (৪৮) নামের অপর একজন পালিয়ে যান।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতাররা সাভারের চাঁপাইন এলাকায় কখনো নিজেদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার আবারো তারা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে এলাকাবাসীরা তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।

    সাভার মডেল থানার (এসআই) মো: আব্বাস উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    কলেরা প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে বাংলাদেশ সরকার। আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় শনিবার, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে দুই ডোজ করে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হবে।

    প্রথম ডোজ দেওয়া হবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে।

    হঠাৎ করে কেন এই উদ্যোগ?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কলেরার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ামূলকভাবে নয়, বরং রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কয়েক বছর ধরে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কলেরার টিকা দেওয়ার কথা ছিল আন্তর্জাতিক টিকা জোট গ্যাভির। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, টিকার চাহিদা ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা কারণে কর্মসূচিটি নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালে এটি অনুমোদন পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্যাভি এসব টিকা অনুদান হিসেবে দেওয়ায় টিকা কেনার জন্য সরকারের আলাদা অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে না। কোন কোন এলাকায় টিকা দেওয়া হচ্ছে?
    প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানাকে টিকাদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সিগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায়ও কর্মসূচি চলবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মোট ১৪৪টি উপজেলা ও থানায় কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে নির্ধারণ করা হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা?
    টিকাদানের এলাকা অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কলেরার প্রকোপ, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপ্রবণতা, আগের টিকাদানের ইতিহাস এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বা PAMIs বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধের জন্য মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    কারা এই টিকা পাবেন?
    কলেরার টিকা এক বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না। টিকাটি মুখে খেতে হয় এবং কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেউ যদি শুধু একটি ডোজ নেন, তাহলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে না এবং টিকার সুরক্ষা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী নাও হতে পারে।

    কতদিন সুরক্ষা দেবে?
    দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে টিকা নেওয়ার পরও নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ শুধু টিকা দিয়ে কলেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য টিকার মতো কলেরার টিকা গ্রহণের পরও সাময়িক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বমি ভাব বা কখনও কখনও ডায়রিয়া হতে পারে। তবে এটিকে তুলনামূলকভাবে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত টিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০২২ সালের কলেরার প্রাদুর্ভাবের সময় এবং এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই ধরনের টিকা ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    কলেরার রোগীর তুলনায় এত মানুষকে টিকা দেওয়া কেন?
    এ নিয়েও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আইসিডিডিআর,বি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নথিভুক্ত কলেরার রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৪১ জন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরে কমলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবারও আক্রান্তের সংখ্যাবাড়তে দেখা যায়। তবে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না আসা অনেক রোগী হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং ওরস্যালাইনের ব্যবহারের কারণে কলেরার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত সুফল পাওয়া যাবে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, টিকা দেওয়ার পর এর ফলাফল বিশ্লেষণ করেই বোঝা যাবে কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়েছে।শুধু টিকা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও জরুরি

    কলেরা নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকাদানের ওপর নির্ভর করছে না সরকার। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্যানিটেশন উন্নত করা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৈশ্বিক রোডম্যাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশে জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (NCCP) তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২৯ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে এবারের টিকাদান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো—কলেরা হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার বদলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আগেই সুরক্ষা দেওয়া।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব বলছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিচয়ের সূত্র ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে একটি দল নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন– ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাওসার এবং বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা। তাদের মধ্যে জলিলকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য একটি লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নেয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাতেরা গাড়িটির পথরোধ করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএল ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল নিতে যাতায়াত করতেন কাওসার। ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেয়া হয়। পরে এই তথ্য তিনি ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের জানান।

    জেলে পরিচয়, পরে ডাকাতির পরিকল্পনা
    র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় কারাগারে থাকার সময় ১৮টি মামলার আসামি হাকিমের সাথে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে বের হওয়ার পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

    ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ২ আগস্ট হাকিম, কাওসার ও জলিল মোল্লা ডিএল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পুরো এলাকা রেকি করেন। পরে মাঠপর্যায়ে ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য আরো সাতজনকে যুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেন। আর একজন ফিলিং স্টেশনের কাছে অবস্থান করে টাকা বহনকারী গাড়ির গতিবিধি জানাতে থাকেন।

    র‌্যাব জানায়, মুস্তাফিজ নামের ওই ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের জানান, টাকা নিয়ে লাল রঙের কাভার্ড ভ্যানটি ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়েছে। এরপর ক্রাউন প্লাজার সামনে ভ্যানটির পথরোধ করে টাকা লুট করা হয়।

    জলিলের কাছে ছিল ৫৩ লাখ
    র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন চক্রের সদস্যরা। মূল সর্দার জলিল মোল্লার কাছে ছিল ৫৩ লাখ টাকা। ডাকাতির সময় তার হাতে একটি পিস্তল ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    আরেক সহযোগী সাগর বোরাক ১৪ লাখ টাকা পান। ডাকাতির সময় তার কাছেও পিস্তল ছিল। তাকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    মুস্তাফিজ ১৪ লাখ, শওকত হোসেন দিপু ১০ লাখ, সোহেল ১০ লাখ এবং চাপাতি হাতে থাকা আলী ১০ লাখ টাকা পান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। শওকত হোসেন দিপুর সাথে থাকা আরো একজন সহযোগীও ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    র‌্যাব বলছে, হাকিম ও কাওসারের ভাগের টাকা জলিলের কাছেই রাখা হয়েছিল। তবে জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সেই টাকা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    তিন ধাপে গ্রেফতার
    র‌্যাব জানায়, ডাকাতির তদন্তের পাশাপাশি আগের দুটি মামলার নথি যাচাই করে গত ১৬ আগস্ট রাতে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।

    জলিলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারাবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল আরো জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।