ঘুষের চুক্তি ১৫ লাখ, কম টাকা আনায় যে কাণ্ড শিক্ষা কর্মকর্তার

Education official took bribe deal, set up raid when school man brought less, complainant says

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

কুড়িগ্রামের রৌমারী কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয় রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগমের সাথে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত টাকা নিয়ে না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাইদুলকে দুদক ও পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন মাইদুল ইসলাম। এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নগরীর কাচারিবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ঘুষের টাকাসহ পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ১৮ দিন কারাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

সংবাদ সম্মেলনে মাইদুল ইসলাম বলেন, তার বাবা আব্দুর সবুর খানের দান করা এক একর জমিতে কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষক ও কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছিলেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে উপপরিচালক রোকসানা বেগমের কথা হয়।

মাইদুলের দাবি, গত ডিসেম্বর মাসে কার্যালয়ের সিঁড়িতে উপপরিচালক রোকসানা বেগমের সাথে তার কথা হয়। এসময় প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ছয় লাখ এবং কর্মচারীদের জন্য তিন লাখ টাকা করে দাবি করেন তিনি। পরে একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর জন্য মোট ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

মাইদুল ইসলামের অভিযোগ, টাকা জোগাড় করে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি নির্দেশনা অনুযায়ী সাত লাখ টাকা একটি উপহারের প্যাকেটে করে নিয়ে এসে তার কার্যালয়ে অবস্থান করেন। তার ব্যাংক হিসাবে ছিল আরও এক লাখ টাকা। পরে দুপুরের দিকে রোকসানা বেগম তাকে অফিসে ডেকে কত টাকা এনেছেন জানতে চাইলে তিনি আট লাখ টাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর রোকসানা বেগম সঙ্গে সঙ্গে তার স্বামী জাহেদুল ইসলামকে ফোন করে জানান, তিনি আট লাখ টাকা নিয়ে এসেছেন। স্বামীর সাথে কথা বলার পরক্ষনই উত্তেজিত হয়ে তিনি অফিসের গাড়িচালক শফিকুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর আশরাফ আলীসহ কয়েকজন কর্মচারীকে ডেকে আনেন এবং তার ব্যাগ থেকে জোর করে টাকা বের করে নেন।

মাইদুল ইসলামের অভিযোগ, এ সময় রোকসানা বেগম তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার স্কুল শেষ করে ফেলব।’ পরে তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করার জন্য নানা ধরনের চাপ দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার দিন রোকসানা বেগম সাংবাদিকদের জানান, মাইদুল ইসলামকে তিনি চেনেন না, তবে এর আগে একদিন তার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন।

তবে মাইদুল ইসলামের দাবি, এর আগে ৫-৬ বার তিনি ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এবং তার সাথে এ বিষয় নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তার অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ, উপ-পরিচালক রোকসানা বেগমের মোবাইল ফোন, অফিস কর্মচারী আশরাফ ও গাড়ি চালক শফিকুলের মোবাইল ফোন চেক করা হলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম কালবেলাকে বলেন, ‘উনি (মাইদুল) এখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য নানা ধরনের অভিযোগ তুলছেন। এ ঘটনায় দুদক বাদী হয়ে মামলা করেছে। এখন মামলা তদন্তাধীন আছে, তদন্তে যা আসবে তাই। এখন আমি আর কী বক্তব্য দেব?’

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ