ক্যাটাগরি কুড়িগ্রাম

Kurigram district

  • লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    ব্যয়বহুল ও জটিল এই চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থাপনে দরকার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে বর্তমান চিকিৎসা ব্যয় মেটানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় পাবেন তারা। ফলে অর্থের অভাবে এশামনির বেঁচে থাকাটাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    কুড়িগ্রাম পৌর শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় শিশু নিকেতন স্কুলের দক্ষিণের দেওয়ালের পাশে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আহম্মেদ। বড় মেয়ে এশামনি (১১) পিটিআই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ইফতি আক্তারের বয়স ৫ বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন— সন্তানদের শিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন। কিন্তু চার মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারুফা।

    এশামনির মা মারুফা ইয়াসমিন বলেন, চার মাস আগে পিটিআই স্কুল থেকে শিক্ষকরা আমার বাসায় পিয়ন পাঠিয়ে জানালেন, এশামনি ক্লাসে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে অচেতন মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসকরা ভর্তি না করায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। এর মধ্যেই আমার মেয়ের পা, মুখ, মাথা ও পেটে পানি জমে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। মেয়ে আমার কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালে টানা ১৬ দিন আমাদের থাকতে হয়েছে। সেখানে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে আমার সন্তান লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রোগটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আস্তে আস্তে যখন জানতে পারলাম তখন আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমার প্রথম সন্তান। আমার প্রথম মা ডাক শোনা। এমন ফুটফুটে সুন্দর একটা মেয়ে কিনা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছটফট করছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে এর চিকিৎসা করাবো। ওর বাবা কাঁচামালের ব্যবসার জন্য একটা দোকান বরাদ্দ নিয়েছিল, সেটি ছাড়িয়ে নেওয়া হলো। সেই টাকা দিয়েই চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হলো। এতেই প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হলো। ওর একটা ইনজেকশন নিতে খরচ লাগে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আমরা এত টাকা কোথায় পাবো।

    এশামনির বাবা ইব্রাহিম বলেন, অসুস্থ হলেই তাকে উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন প্রোটিন ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হয়। এই ইনজেকশন নাকি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এখন তার খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর ছাড়া দেশে এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। ভারতের হায়দরাবাদে চিকিৎসা করাতে গেলে তার লিভার কেটে ফেলে তার মায়ের বা আমার লিভার প্রতিস্থাপন করলে সে কিছুটা ভালো থাকবে। এ ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই। আমি গরিব কাঁচামালের দোকানদার। জমিজমা নেই। ভাড়া বাসায় থাকি। এখন নিজেরা খাব কী, মেয়ের চিকিৎসা করাব কীভাবে।

    এশামনির দাদি বেবা বেগম বলেন, আমার নাতনি ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ। চার মাস আগে জানা গেল তার কঠিন রোগ হয়েছে। কিছুদিন পরপর আমার নাতনিটার পেট, পা, মুখ ও মাথায় পানি জমে। সারাক্ষণ মাথাব্যথা করে। শ্বাসকষ্ট হয়। পাতলা পায়খানা করে। সারা রাত ঘুমাতে পারে না। ফুটফুটে নাতনিটার দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।

    প্রতিবেশী আনজুম আরা বলেন, মেয়েটি ছোট থেকেই অসুস্থ। সে লেখাপড়ায় অনেক ভালো। অসুস্থ হওয়ার কারণে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হলে সে আবার সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে পারত।

    এশামনির দাদা মোসাবের বলেন, আমার ছেলের পক্ষে নাতনির চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে মেয়েটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    এশামনি বলে, আমি খেতে পারি না, খেলে খারাপ লাগে। হাত-পা ব্যথা করে, বমি লাগে। শরীর ভারী লাগে, বসলে উঠতে পারি না। একটুতেই ক্লান্ত হয়ে যাই। হাঁফিয়ে উঠি।

    এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি জটিল রোগ। তাকে দ্রুততম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া দরকার। একমাত্র লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমেই হয়তো তাকে চিকিৎসা করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

  • জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    আব্দুল খালেক বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জ্ঞান ও সঠিক দক্ষতা থাকলে কোনো তরুণই পিছিয়ে থাকবে না। এলাকার প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

    অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জেলা শাখার সদস্য সচিব স্বপন কুমার সাহার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন মন্ডল, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবু জাফর সোহেল রানা, রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক জিএস ফিরোজ কবির কাজল, সাবেক বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম মঈন, নাজমুল হুদা ও উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রাজু প্রমুখ।

  • কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন– উপজেলার গণাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা। তারা বলছেন, সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এখন তারা মামলার আসামি হয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে রাতে বাড়িতে থাকছেন না।

    গত সোমবার উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় কৃষকরা। এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরদিন তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সেপ্টেম্বরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৮৭ বস্তা সার। এর মধ্যে ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ১৫৭ বস্তা এমওপি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওই সার বিতরণের জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুদামে যান। সেখানে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছিল।

    এজাহারে কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালাগাল করা হয়। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সময় হামলা চালিয়ে কিলঘুসি মারা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহত কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

    তবে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের দাবি, তারা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার আশায় ডিলারের কাছে গিয়েছিলেন। সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের কেউ কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলা করেননি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহীদ মোড় এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? আমরা তো কাউকে আঘাত করি নাই। সার না পেয়ে রাস্তায় বসে পড়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা দিয়ে দুইজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এখন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আসে। সারাদিন রোদে কাজ করি। অজ্ঞাতনামা আসামি করেও ধরে নিয়ে যেতে পারে। রাতে বাসায় ঘুমানোরও উপায় নেই।’
    আরেক কৃষক বলেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে এক রকম বাড়িছাড়া এখন আমরা। সার চাওয়াটাই কি এখন আমাদের অপরাধ?

    এদিকে সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। গতকাল শনিবার বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, সারের সংকট, বিতরণে অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের সমাধান না করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো নিরপরাধ কৃষক যাতে হয়রানি বা অযথা গ্রেপ্তারের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

  • কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

    ‘একটি করে গাছ লাগাই, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সভাপতি হাসন রানা।

    পরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর ছোবাহান জুয়েল, উপদেষ্টা নুর আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা গত এক দশকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক উন্নয়নে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমাজ, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বিশিষ্ট গুণীজনকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

    সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ও ভাওয়াইয়া ভাস্কর ভূপতি ভূষণ বর্মার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জাহিদ ও জুয়েল। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সমকাল প্রতিনিধি মো. মোন্নাফ আলীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আবু জোবায়েদ ও মুন্নি।

    এ ছাড়া রাজারহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম হাবিবুর রহমানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আশিক ও গালিব। বামনাছড়া গ্রাম রক্ষক সমিতির রানা মিয়ার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মোশাররফ ও সোহাগ। সংগঠনের উপদেষ্টা নুর আমিনকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    এ সময় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের আলতাব উদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী, সংগঠনের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

  • ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুড়িগ্রাম জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদ্বীন। এ সময় জেলা ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক বাইজিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজা, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি মিরাজ হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগরের সাবেক প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা ও কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল হালিম রানা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেম ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, বই ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় সুধীজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকার বাসিন্দা ময়নাল হক (৬৫), মাসুম হোসেন (৪৪) ও নজরুল ইসলাম (৪১) এবং একই ইউনিয়নের খামার পত্রনবীশ এলাকার বাসিন্দা গাজীউর রহমান (৪৭)।

    পুলিশ জানায়, বাগভান্ডার বাজারের পেছনের একটি সুপারি বাগানে দীর্ঘদিন যাবত জুয়ার আসর চলছিল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা সেখানে জুয়া খেলতে আসতো। জুয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন চলত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জুয়া খেলার স্থানটি ঘিরে ফেলে। এ সময় চারজনকে জুয়া খেলার সরঞ্জামাসহ গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন জুয়াড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘গ্রেফতার ও পালিয়ে যাওয়া জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জুয়ার আসরগুলোতে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন একসাথে চলতে থাকে। মাদক, চোরাকারবার ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সারের বস্তা বিক্রি করায় দুই সার বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    জানা গেছে, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে ইউরিয়া সারের বস্তা বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুচরা সার বিক্রেতা আসাদুল আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    আসাদুল আলমের দাবি, না বুঝে দুজন ক্রেতার নিকট থেকে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন। দাম বেশি নেয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর ওই দুই ক্রেতাকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

    অপরদিকে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারের স্বত্বাধিকারী নিতাই চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার পরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অপরাধ না করেও জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগে একজন খুচরা বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা ডিলারের নিকট থেকে সার নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, ডিলার তা মনিটরিং না করায় ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একটি চক্র সরকার ও উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে সার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পায়তারা করছে। সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধানের গোলা, গোয়ালঘর ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তায় ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

    উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সারের সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া এবং রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ির মাচা ও ধানের গোলা তল্লাশি করে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।

    অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে অবৈধ সার মজুতের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলেই নগদ আদায় করা হয়েছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কেউ যাতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখছে।

    এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সহজে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

    মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

  • পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামে পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ বন্ধু নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদরের পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

    নিহতরা হলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাকুয়াবাড়ি গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া (২৮) ও রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব মনশ্বর গ্রামের মিজানুর রহমান মজনুর ছেলে সফিউর রহমান শুভ (২৩)।

    নিহতদের স্বজনদের বরাতে ওসি কামাল জানান, কলেজের পরীক্ষা শেষে হিরা ও সফিউরসহ নয় বন্ধু তিন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

    তিনি আরও বলেন, আহতদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে হিরা ও সফিউরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে হিরার মৃত্যু হয় এবং শুভকে ডক্টরস ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।