কুড়িগ্রাম

Kurigram district

  • কুড়িগ্রামে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৩

    কুড়িগ্রামে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীতে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মনিকা (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশাটির চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ত‌বে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের কাঁঠালবাড়ী বিদ্যা কানন স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি নাইট কোচ পেছন থেকে যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চারজন যাত্রী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু মনিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহ‌তের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    কু‌ড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর শাহে নেওয়াজ জানান, হাসপাতালে তিনজন এসেছিল, এর মধ্যে এক শিশুকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি আমরা। আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    কু‌ড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আব্দুর রহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • উলিপুরে বাচ্চু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যুবক গ্রেফতার

    উলিপুরে বাচ্চু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যুবক গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রায়হান কবীর রাব্বী (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাসুদ রানা।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনা গোপন করার উদ্দেশ্যে বাচ্চু মিয়ার লাশের দুই পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে সেগুলো একটি সবুজ রঙের ট্রাভেলিং ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও এর সাথে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    গ্রেফতার রায়হান কবীর রাব্বী একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে। তিনি নিহত বাচ্চু মিয়ার ভাতিজার ছেলে।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে দিবাগত রাত ২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহত বাচ্চু মিয়ার ছেলে আব্দুল মোতালেব মিয়া উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসব তৎপরতার ধারাবাহিকতায় রাব্বীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে আহসান হাবিবের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি পুকুর থেকে চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত রয়েছেন কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় মিঠু মিয়ার বাড়ির একটি শয়নকক্ষ থেকে বাচ্চু মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার নব্দীগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকার মরহুম সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে। রংপুর থেকে গ্রামের বাড়ি উলিপুরে বেড়াতে এসে তিনি ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেই বাড়ি থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ,আর

  • এজেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

    এজেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নুর মোহাম্মদ (৩৯) নামের এক এজেন্ট ব্যবসায়ীকে মারাত্মক আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওয়ানের খামারের ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহত নুর মোহাম্মদ দক্ষিণ দেওয়ানের খামার গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। তিনি দেওয়ানের খামারের মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নয়ন টেলিকম স্টোর নামের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা করেন। দুর্বৃত্তরা তাকে নিজ বাড়ির সামনে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে তার নিকটে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    নুর মোহাম্মদের বড় ভাই নুরন্নবী বলেন, ‘সোমবার রাতে নুরমোহাম্মদ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে দেরি করছিল। তার বাড়ি ফিরতে দেরি দেখে আমাদের মা বাড়ির গেটের বাইরে বের হন। পরে নুর মোহাম্মদকে আহত অবস্থায় বাড়ির নিকটস্থ রাস্তায় পড়ে থেকে কাতরাতে দেখেন।’

    তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও হাঁটুতে আঘাত করে। তার কাছে থাকা সারাদিনের ব্যবসার টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রাতে হাসপালতালে নেয়ার পথে তাকে থানায় নেয়া হয়েছিল। সেখানে ছবি তুলে রেখেছে এবং আগে চিকিৎসা করাতে বলেছে।’

    মঙ্গলবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নুর মোহাম্মদের জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

    ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমার সাথে সাথে বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরবর্তী বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও কমার সময় রৌমারীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইশপাড়া ও খেদাইমারী ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের পাখিউড়া, ঘুঘুমারী, সুখের বাতি, গেন্দার আলগা, সোনাপুর ও চর ইটালুকান্দা এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ব্রহ্মপুত্রের পূর্বতীরে আঘাত হানায় এসব এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র হয়। পানি কমে গেলেও স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন এবং নদীর পাড়ে টান পড়ায় কোথাও কোথাও হঠাৎ করে মাটি ধসে পড়ছে।

    ছবিতে দেখা যায়, নদীপাড়ের একটি অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কিনারায় দাঁড়িয়ে আতঙ্কে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। কোথাও মাত্র কয়েক ফুট দূরে রয়েছে বসতভিটা ও চলাচলের পথ। সামান্য ভাঙন বাড়লেই এসব জায়গা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, যুগের পর যুগ ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবারকে একাধিকবার বসতভিটা পরিবর্তন করতে হয়েছে। কেউ জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়েছেন অন্যত্র গিয়ে বসতি গড়তে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে চর শৌলমারী ও বন্দবেড় ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

    নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাসিন্দা বলেন, নদী আমাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা কেড়ে নিচ্ছে, সেই আতঙ্কে দিন কাটে।

    তাদের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ, ব্লক ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।

    ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনে শুধু মাটি নয়; হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ঘর, ফসল, স্মৃতি ও জীবিকার অবলম্বন। নদীর কূলে দাঁড়িয়ে প্রতিদিনের এই ভাঙন দেখছেন মানুষ। কিন্তু তাদের প্রশ্ন, এই ভাঙনের শেষ কোথায়? এ,আর

  • কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৪০ মিটার ক্রসবাঁধ বিলীন

    কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৪০ মিটার ক্রসবাঁধ বিলীন

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ তিস্তা নদীর ভাঙনে ৪০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট—এই ছয় গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। হুমকিতে পড়বে বসতভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং অন্তত পাঁচটি বাজার।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার এবং সকাল ৯টায় ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার। ওই স্টেশনে তিস্তার বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকেই বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার কিছু অংশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। পরে রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় বাঁধের নিচের অংশের মাটি ও বালু সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

    স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম মিয়া অভিযোগ করেন, গতকাল আমরা দেখেছি নদীর স্রোত অনেক বেশি ছিল। গত বছরের মতো এবারও ভাঙনের লক্ষণ দেখেছিলাম। আশঙ্কার কথা অনেককে জানিয়েছি। কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বুড়িরহাট এলাকার আরেক বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, শুকনো মৌসুমে এখানে বালু ছিল। একটা জায়গা অল্প দেবে গিয়েছিল। তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালু নেই— কীভাবে ভাঙন সামলাবে?

    এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

  • কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জুয়া খেলার সময় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় উপজেলার ঝগড়ারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রৌমারী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার ৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    তারা হলেন,মোঃ ওহেদুজ্জামান ওরফে অমেল মিয়া (৩০), মোঃ এরশাদুল (২৮), মোঃ পাঞ্জু মিয়া (৩৫), মোঃ মজিয়ার আলী (৩৩), মোঃ মহিউদ্দিন (৫০), মোঃ আনিছুর রহমান (২৭), মোঃ মানিক মিয়া (৪৩), মোঃ মানিক মিয়া ওরফে ফকির (২৮), মোঃ ফরহাদ হোসেন (৪০), খোঃ মঞ্জু মিয়া (৩২), মোঃ হাসেম মিয়া (৫০) ও মোঃ বাবুল মিয়া (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ঝগড়ারচর ও ঝগড়ারচর মাঝিপাড়া এলাকায়।

    এ বিষয়ে রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাসেল কবির বলেন, জুয়া একটি সামাজিক ব্যধি। দীর্ঘদিন ধরে রৌমারী থানা এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনার বিষয়ে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। চলতি মাসে জুয়া খেলার সময় এ নিয়ে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদেরকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

  • দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    চরের বালু মাটিতে সবুজের সমারোহ দিচ্ছে সম্ভাবনার হাতছানি। ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই অভিনব চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষিবিভাগ।

    স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। ২০২৫ সালে ভাঙা অংশ মেরামতসহ বাঁধটি সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকে বাঁধের ঢালে লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢালের কোথাও লাউ, কোথাও বাঁশ; কোথাও কলাগাছ কিংবা অন্যান্য সবজি। এতে বৃষ্টিতে ভাঙনের হাত থেকে বাঁধের ঢাল রক্ষা পাচ্ছে, আবার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও সবজি চাষ করছেন।

    আলতাফ হোসেন জিয়াউল হক জিয়া ও আব্দুল হাকিম রয়েছেন তাদের মধ্যে। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে মাচায় লাউ চাষ করেছেন যৌথভাবে।

    কৃষক আলতাফ হোসেন(৫৫) বলেন, গতবছরই ছোট পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউ চাষ করি। সেই লাউ বাজারে বিক্রি করে লাভ ভালো হয়েছে। এ বছর বড় পরিসরে চাষ করেছি। এক মাস আগে গর্তে গোবর দিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেছি। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে দীর্ঘ মাচা করি। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করছি। মোট খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৩১ হাজার টাকার লাউ বাজারে বিক্রি করেছি। ফলন ভালো হলে দুই লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব।

    কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, চরে এমনিতে তাপপ্রবাহ বেশি। তার ওপর এবার অনাবৃষ্টির দাপট। খরার কারণে সেচ দিতে হচ্ছে বেশি। পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ দেওয়ায় অনাবৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি চারার। গর্তে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। চলছে পরিচর্যা।

    খোঁচা বাড়ি এলাকার কৃষক ফুয়াদ হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়ি থেকে পাইকাররা পিকআপ করে লাউ নিয়ে যায়। প্রায় হাজার খানেক লাউ বিক্রি করেছি। প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।

    হলোখানা গ্রামের আকবর আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের পাশাপাশি কলা, বাঁশ ও করলাসহ নানা সবজি চাষ করেছি। আবাদ ভালো হলে সংসার ভালো চলবে।

    স্থানীয় আব্দুল মালেক হাবিবুর রহমান জয়নাল আবেদিনসহ অনেকেই বলেন, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ আশা জাগিয়েছে চরের কৃষকদের। এর মধ্য দিয়ে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য পেয়েছেন জমির ঠিকানা। বাজারে সবজির দাম বেশি। এখান থেকে কম দামে মানুষ কিনতে পাচ্ছে।

    সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চাষবাস বেশ উপকারী। তাই আমরা চাষে বাধা দেইনি। এর মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

    এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানীং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে।

  • কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    শুক্রবার দুপুরে বাঁধ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পাউবো রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী। এ সময় তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামত কাজ শুরুর উদ্যোগের আশ্বাস দেন।

    এদিকে গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে এসব ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, এর আগে এক সপ্তাহ আগে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন এলাকায় বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। সেগুলো মেরামতের কাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আগের দুই স্থানের মধ্যবর্তী আরও ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়।

    এতে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু না করলে তীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    এর আগে চলতি বছরের ১, ১৬ ও ২০ জুলাই ৩ দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয়। দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধে ফের বড় অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে।

    রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার আসাদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না করলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে ৪টি স্থানের কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রবি মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শত শত কৃষক আবারও সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছেন। এ সময় তারা সারের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন এবং কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারের অপসারণ চান। পরে অবরুদ্ধ কর্মকর্তাকে ইউএনওর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ।

    শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়ন গাবতলা বাজার এলাকায় বিসিআইসির পরিবেশক (ডিলার) মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের সামনে এই অবরোধ হয়।

    এ সময় বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অবরুদ্ধ হন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন।

    জানা গেছে, রবি মৌসুমে এখন এলাকার প্রধান ফসল আমন, বেগুন ও বিভিন্ন সবজির চাষাবাদে সারের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলেরও আবাদ শুরু হয়েছে।

    কিন্তু চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না।

    শুক্রবার সকালে গাবতলা এলাকার কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে সার বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ কৃষক সেখানে জড়ো হন। ব্রেকিংনিউজ

    কিছুক্ষণ পরই কৃষকেরা সার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি ধরেন। একপর্যায়ে বরাদ্দকৃত সার শেষ হয়েছে বলে জানানো হয় এবং পরিবেশক সার বিক্রি বন্ধ করে দেন।

    এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।

    স্থানীয় কচাকাটা থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্য সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।

    কৃষক ওমর ফারুক জানান, এক সপ্তাহ আগেও এই কচাকাটায় সারের জন্য আন্দোলন হয়েছে। সে সময় সার সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন ইউএনও। কিন্তু সমাধান হয়নি। দিন যত যাচ্ছে সার সংকট ততই বাড়ছে।

    গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, ‘সারের জন্য চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। অনেক হয়রানির পরও সার পাওয়া যায় না। তাই সবাই মিলে সড়ক অবরোধ করেছি। ’

    একই গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নাই। অনেক দিন ধরে ঘুরছি। আজ লাইন ধরেছিলাম, পরে শুনি সার শেষ। কৃষি কর্মকর্তারা বলে সারের সংকট নাই, তাহলে আমরা সার পাই না কেন?

    মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স সার ঘরের মালিক নাকি জীবিত নেই। তার প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। আজ দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ করার কথা। একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছে। আমরা অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদামতো সার দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা কিছু সময় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। একসঙ্গে অনেকে সার নিতে গিয়ে না পাওয়ায় এ সমস্যা হয়। সবাইকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন। সার বিতরণে অনিয়ম পেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাংগা ও রামখানা ইউনিয়নে সার না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কৃষকেরা।

  • লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    ব্যয়বহুল ও জটিল এই চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থাপনে দরকার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে বর্তমান চিকিৎসা ব্যয় মেটানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় পাবেন তারা। ফলে অর্থের অভাবে এশামনির বেঁচে থাকাটাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    কুড়িগ্রাম পৌর শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় শিশু নিকেতন স্কুলের দক্ষিণের দেওয়ালের পাশে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আহম্মেদ। বড় মেয়ে এশামনি (১১) পিটিআই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ইফতি আক্তারের বয়স ৫ বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন— সন্তানদের শিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন। কিন্তু চার মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারুফা।

    এশামনির মা মারুফা ইয়াসমিন বলেন, চার মাস আগে পিটিআই স্কুল থেকে শিক্ষকরা আমার বাসায় পিয়ন পাঠিয়ে জানালেন, এশামনি ক্লাসে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে অচেতন মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসকরা ভর্তি না করায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। এর মধ্যেই আমার মেয়ের পা, মুখ, মাথা ও পেটে পানি জমে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। মেয়ে আমার কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালে টানা ১৬ দিন আমাদের থাকতে হয়েছে। সেখানে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে আমার সন্তান লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রোগটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আস্তে আস্তে যখন জানতে পারলাম তখন আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমার প্রথম সন্তান। আমার প্রথম মা ডাক শোনা। এমন ফুটফুটে সুন্দর একটা মেয়ে কিনা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছটফট করছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে এর চিকিৎসা করাবো। ওর বাবা কাঁচামালের ব্যবসার জন্য একটা দোকান বরাদ্দ নিয়েছিল, সেটি ছাড়িয়ে নেওয়া হলো। সেই টাকা দিয়েই চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হলো। এতেই প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হলো। ওর একটা ইনজেকশন নিতে খরচ লাগে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আমরা এত টাকা কোথায় পাবো।

    এশামনির বাবা ইব্রাহিম বলেন, অসুস্থ হলেই তাকে উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন প্রোটিন ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হয়। এই ইনজেকশন নাকি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এখন তার খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর ছাড়া দেশে এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। ভারতের হায়দরাবাদে চিকিৎসা করাতে গেলে তার লিভার কেটে ফেলে তার মায়ের বা আমার লিভার প্রতিস্থাপন করলে সে কিছুটা ভালো থাকবে। এ ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই। আমি গরিব কাঁচামালের দোকানদার। জমিজমা নেই। ভাড়া বাসায় থাকি। এখন নিজেরা খাব কী, মেয়ের চিকিৎসা করাব কীভাবে।

    এশামনির দাদি বেবা বেগম বলেন, আমার নাতনি ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ। চার মাস আগে জানা গেল তার কঠিন রোগ হয়েছে। কিছুদিন পরপর আমার নাতনিটার পেট, পা, মুখ ও মাথায় পানি জমে। সারাক্ষণ মাথাব্যথা করে। শ্বাসকষ্ট হয়। পাতলা পায়খানা করে। সারা রাত ঘুমাতে পারে না। ফুটফুটে নাতনিটার দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।

    প্রতিবেশী আনজুম আরা বলেন, মেয়েটি ছোট থেকেই অসুস্থ। সে লেখাপড়ায় অনেক ভালো। অসুস্থ হওয়ার কারণে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হলে সে আবার সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে পারত।

    এশামনির দাদা মোসাবের বলেন, আমার ছেলের পক্ষে নাতনির চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে মেয়েটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    এশামনি বলে, আমি খেতে পারি না, খেলে খারাপ লাগে। হাত-পা ব্যথা করে, বমি লাগে। শরীর ভারী লাগে, বসলে উঠতে পারি না। একটুতেই ক্লান্ত হয়ে যাই। হাঁফিয়ে উঠি।

    এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি জটিল রোগ। তাকে দ্রুততম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া দরকার। একমাত্র লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমেই হয়তো তাকে চিকিৎসা করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

  • জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    আব্দুল খালেক বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জ্ঞান ও সঠিক দক্ষতা থাকলে কোনো তরুণই পিছিয়ে থাকবে না। এলাকার প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

    অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জেলা শাখার সদস্য সচিব স্বপন কুমার সাহার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন মন্ডল, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবু জাফর সোহেল রানা, রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক জিএস ফিরোজ কবির কাজল, সাবেক বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম মঈন, নাজমুল হুদা ও উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রাজু প্রমুখ।

  • কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন– উপজেলার গণাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা। তারা বলছেন, সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এখন তারা মামলার আসামি হয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে রাতে বাড়িতে থাকছেন না।

    গত সোমবার উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় কৃষকরা। এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরদিন তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সেপ্টেম্বরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৮৭ বস্তা সার। এর মধ্যে ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ১৫৭ বস্তা এমওপি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওই সার বিতরণের জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুদামে যান। সেখানে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছিল।

    এজাহারে কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালাগাল করা হয়। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সময় হামলা চালিয়ে কিলঘুসি মারা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহত কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

    তবে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের দাবি, তারা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার আশায় ডিলারের কাছে গিয়েছিলেন। সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের কেউ কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলা করেননি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহীদ মোড় এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? আমরা তো কাউকে আঘাত করি নাই। সার না পেয়ে রাস্তায় বসে পড়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা দিয়ে দুইজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এখন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আসে। সারাদিন রোদে কাজ করি। অজ্ঞাতনামা আসামি করেও ধরে নিয়ে যেতে পারে। রাতে বাসায় ঘুমানোরও উপায় নেই।’
    আরেক কৃষক বলেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে এক রকম বাড়িছাড়া এখন আমরা। সার চাওয়াটাই কি এখন আমাদের অপরাধ?

    এদিকে সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। গতকাল শনিবার বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, সারের সংকট, বিতরণে অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের সমাধান না করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো নিরপরাধ কৃষক যাতে হয়রানি বা অযথা গ্রেপ্তারের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

  • কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

    ‘একটি করে গাছ লাগাই, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সভাপতি হাসন রানা।

    পরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর ছোবাহান জুয়েল, উপদেষ্টা নুর আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা গত এক দশকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক উন্নয়নে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমাজ, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বিশিষ্ট গুণীজনকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

    সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ও ভাওয়াইয়া ভাস্কর ভূপতি ভূষণ বর্মার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জাহিদ ও জুয়েল। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সমকাল প্রতিনিধি মো. মোন্নাফ আলীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আবু জোবায়েদ ও মুন্নি।

    এ ছাড়া রাজারহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম হাবিবুর রহমানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আশিক ও গালিব। বামনাছড়া গ্রাম রক্ষক সমিতির রানা মিয়ার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মোশাররফ ও সোহাগ। সংগঠনের উপদেষ্টা নুর আমিনকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    এ সময় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের আলতাব উদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী, সংগঠনের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

  • ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুড়িগ্রাম জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদ্বীন। এ সময় জেলা ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক বাইজিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজা, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি মিরাজ হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগরের সাবেক প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা ও কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল হালিম রানা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেম ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, বই ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় সুধীজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকার বাসিন্দা ময়নাল হক (৬৫), মাসুম হোসেন (৪৪) ও নজরুল ইসলাম (৪১) এবং একই ইউনিয়নের খামার পত্রনবীশ এলাকার বাসিন্দা গাজীউর রহমান (৪৭)।

    পুলিশ জানায়, বাগভান্ডার বাজারের পেছনের একটি সুপারি বাগানে দীর্ঘদিন যাবত জুয়ার আসর চলছিল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা সেখানে জুয়া খেলতে আসতো। জুয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন চলত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জুয়া খেলার স্থানটি ঘিরে ফেলে। এ সময় চারজনকে জুয়া খেলার সরঞ্জামাসহ গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন জুয়াড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘গ্রেফতার ও পালিয়ে যাওয়া জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জুয়ার আসরগুলোতে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন একসাথে চলতে থাকে। মাদক, চোরাকারবার ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সারের বস্তা বিক্রি করায় দুই সার বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    জানা গেছে, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে ইউরিয়া সারের বস্তা বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুচরা সার বিক্রেতা আসাদুল আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    আসাদুল আলমের দাবি, না বুঝে দুজন ক্রেতার নিকট থেকে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন। দাম বেশি নেয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর ওই দুই ক্রেতাকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

    অপরদিকে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারের স্বত্বাধিকারী নিতাই চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার পরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অপরাধ না করেও জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগে একজন খুচরা বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা ডিলারের নিকট থেকে সার নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, ডিলার তা মনিটরিং না করায় ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একটি চক্র সরকার ও উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে সার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পায়তারা করছে। সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধানের গোলা, গোয়ালঘর ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তায় ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

    উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সারের সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া এবং রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ির মাচা ও ধানের গোলা তল্লাশি করে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।

    অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে অবৈধ সার মজুতের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলেই নগদ আদায় করা হয়েছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কেউ যাতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখছে।

    এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সহজে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

    মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

  • পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামে পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ বন্ধু নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদরের পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

    নিহতরা হলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাকুয়াবাড়ি গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া (২৮) ও রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব মনশ্বর গ্রামের মিজানুর রহমান মজনুর ছেলে সফিউর রহমান শুভ (২৩)।

    নিহতদের স্বজনদের বরাতে ওসি কামাল জানান, কলেজের পরীক্ষা শেষে হিরা ও সফিউরসহ নয় বন্ধু তিন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

    তিনি আরও বলেন, আহতদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে হিরা ও সফিউরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে হিরার মৃত্যু হয় এবং শুভকে ডক্টরস ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নাশকতার মামলায় ইউনুস আলী (৪২) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার ইউনুস সাদুল্যা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ও তবকপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সেতুর পূর্ব পাশে মোগলবাসাগামী সড়কে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গোড়াই ছোট ড্রেন সেতুর ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ইউনুসসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউনুসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছেন কৃষকরা। রোববার সকালের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

    লুট হওয়া সার উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিছু সার কৃষকরা ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

    জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সারের নীরব সংকট চলছে। শিলখুড়ি ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, তারা বারবার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত সার পাচ্ছিলেন না। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামে সার না দিয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’ বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কৃষকরা বারবার ডিলারের গুদামে গিয়েও সার পাচ্ছিলেন না। ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যান।

    পরে খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে কিছু সার কৃষকরা ফেরত দিয়ে যান।

    এ বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কৃষকদের নিয়ে যাওয়া ১৯০ বস্তা সারের মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় কিছু সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, ‘ওই ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার বিতরণ চলাকালীন কিছু উশৃঙ্খল জনতা ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে।

    ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘আমি এবং সার্কেল এএসপি ঘটনাস্থলে আছি। লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

  • তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার মৌসুম। কোথাও মাঠ থেকে বাদাম তোলা, কোথাও শুকানো, আবার কোথাও বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। মৌসুমের শেষ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নিচু জমির বাদামক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলে লোকসান গুনছেন।

    কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলনের আশা ছিল বেশ ভালো। বিশেষ করে গত বছরের বন্যার পর নদীবাহিত পলি জমে চরাঞ্চলের অনেক জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় বাদাম চাষে আশাবাদী ছিলেন তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের বৈরী আবহাওয়া সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    সরেজমিনে তিস্তার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমির বাদামখেতে ফলন সন্তোষজনক হলেও নিচু এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে গেছে। কোথাও আবার বাদামের দানা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কৃষকদের ফসল তুলে ফেলতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের বড় অংশই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    গোড়াইপিয়ার চরের কৃষক কোব্বাস আলী জানান, ৪০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন তিনি। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ফসল তুলতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত বাদাম তুলতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও উৎপাদন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই খরচের অল্প অংশই উঠবে। ঋণ শোধ ও সংসার চালানো নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায়।

    একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন চাঁদ মিয়া, মঞ্জু মিয়া, কাশেম আলী, রবিয়ালসহ চরাঞ্চলের আরো অনেক কৃষক। তাদের দাবি, তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বাদাম। কিন্তু বন্যা, আকস্মিক বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া প্রায়ই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তারা দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৬৮ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭৫ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু জমিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘উঁচু চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। তবে নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে অন্য কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

  • রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে টানা ১৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন যুবক। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

    বাংলাদেশ সংবাদ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে ভারতের মানকারচর সোনারপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় তিন যুবককে বাংলাদেশি পরিচয়ে নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে রৌমারী উপজেলার হিজলামারী বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের পাশে ঘাসের ওপর প্লাস্টিক বিছিয়ে অবস্থান করছেন। ভারত থেকে নেমে আসা কালো নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় টানা বৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র রোদের মধ্যে তাদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে।

    ভুক্তভোগীরা জানান, তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধার সংকটে রয়েছেন। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তারা কোথাও যেতে বা স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারছেন না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা করে এ সঙ্কটের সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে দিনের পর দিন মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়।

    এ বিষয়ে বিজিবি কিংবা বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে তিন যুবকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং তাদের মানবিক সঙ্কটের অবসান ঘটাবে।

  • বাগেরহাটে ধর্ষণের শিকার ছয় বছরের শিশু, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে ধর্ষণের শিকার ছয় বছরের শিশু, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে ছয় বছর বয়সী এক প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পরিমল ভক্ত (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। একই সঙ্গে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার পরিমল উপজেলার ঝালোডাংগা গ্রামের মৃত গিরিশ চন্দ্র ভক্তের ছেলে।

    মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার (৭ জুন) দুপুরে ওই শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী হওয়ায় প্রতিবেশী এক সহপাঠীকে প্রাইভেট পড়ার জন্য ডাকতে যায়। সে সময় পরিমল ভক্ত তাকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি- অপারেশন) দায়িত্বে থাকা রোকেয়া খানম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে আনোয়ার হোসেন (৪৪) নামে এক কৃষক ও দু’টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জেলার ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক আনোয়ার হোসেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের মরহুম হোসেন আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ফাঁকা মাঠে বাঁধা গরু আনতে যান আনোয়ার হোসেন। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে তার কোমর থেকে বুক পর্যন্ত ঝলসে যায়।

    বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বজ্রপাতের সময় তারা কয়েকজন মাত্র দুই শ’ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বজ্রপাতের বিকট শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    এদিকে একই সময়ে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক স্থানে দু’টি গরু মারা যায়। উপজেলার কেদার ইউনিয়নের পশ্চিম বিষ্ণুপুর গ্রামের আনছার আলীর একটি ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কমেদপুর বেগুনীপাড়া গ্রামের সন্তোষ কাপালীর একটি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে বলে জানা গেছে।

    কচাকাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস কৃষক আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    এ আর,

  • খাল খনন পানি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে : আসাদুল হাবিব দুলু

    খাল খনন পানি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে : আসাদুল হাবিব দুলু

    ডেস্ক নিউজ : আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন করা হবে, যা দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে, বলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।রোববার কুড়িগ্রামের হলোখানা ইউনিয়নের আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার দাসের হাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ পর্যন্ত খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।

    এ কর্মসূচি একটি বিপ্লব বয়ে এনেছিলো। ফলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চাল রপ্তানি করেছিলো। শহীদ জিয়ার স্বপ্নপূরণে ‘খাল খনন’ কর্মসূচি বিএনপি আবার শুরু করেছে।

    মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচির প্রভাব বহুমাত্রিক। প্রথমত, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা হলে কৃষকের খরচ কমবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে।

    দ্বিতীয়ত, খালগুলো সারা বছর পানি ধরে রাখলে মাছচাষ ও হাঁস পালনসহ বহুমাত্রিক গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। তৃতীয়ত, খাল পুনঃখনন বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রাশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ জেলা প্রশসনের কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃ্ন্দ এবং বিপুল সংখ্যক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

    খাল খনন কর্মসূচিটি ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) বরাদ্দ দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

  • তিস্তার চরে শিলাবৃষ্টিতে মরিচ-পেঁয়াজসহ ফসলের ক্ষতি

    তিস্তার চরে শিলাবৃষ্টিতে মরিচ-পেঁয়াজসহ ফসলের ক্ষতি

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলের ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় দুই কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফলে তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হতাশা কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ, পেঁয়াজ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

    উপজেলাটির ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ ক্ষেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক কৃষক ভালো দাম পেয়েছিলেন।

    তবে অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় একযোগে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে তোলায় হঠাৎ দরপতন ঘটে।রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাদের পরিশ্রম দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

    কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লহ আল মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • কুড়িগ্রামের এসপিকে প্রত্যাহারের দাবি বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের

    কুড়িগ্রামের এসপিকে প্রত্যাহারের দাবি বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের

    কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় অটোরিকশা আটকে দম্পতিকে হয়রানির অভিযোগে হওয়া মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এক ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।

    মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে সংগঠনের জেলা শাখার দপ্তর সেলের সম্পাদক লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট’ আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এসপির ফ্যাসিস্ট আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’

    জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাজিবপুর উপজেলা ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। মেহেদী ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে-জামাতাসহ কয়েকজনকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। পরে ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    রাজিবপুরের বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক রবিউল ইসলাম রবিন বলেন, ঈদের রাতে অটোরিকশায় কয়েকজন যুবক ও দুজন মেয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টিতে সন্দেহ হওয়ায় অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন ছাত্র প্রতিনিধি। শুধু মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এমনটা করেছিল। সেখানে বিবাহিত দম্পতি থাকার বিষয়টি জানা ছিল না।

    এ বিষয় নিয়ে জানতে এসপি মাহফুজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

  • ভূরুঙ্গামারীতে জুয়েলারি দোকানে হামলা, ১২ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    ভূরুঙ্গামারীতে জুয়েলারি দোকানে হামলা, ১২ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি জুয়েলারি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকান থেকে প্রায় ১২ ভরি সোনার গয়না ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন মালিক। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ভূরুঙ্গামারী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী দ্য নিউ চিত্ররেখা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গোপাল চন্দ্র প্রসাদ জানান, সুবল, তাপস, পরিমল, তরণীকান্ত, সন্তোষ, সমর, লক্ষণ, সুকুমারসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তি অতর্কিতভাবে তাঁর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ১২ ভরি সোনার বিভিন্ন গয়না নিয়ে যায় তারা। যার মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। হামলার সময় তাঁর বড় ভাই কৃষ্ণ চন্দ্র প্রসাদকেও মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলার প্রমাণ নষ্ট করতে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    ভূরুঙ্গামারী জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি ও হিন্দু কল্যাণ ফ্রন্টের থানা আহ্বায়ক মধু মোহন প্রসাদ বলেন, একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই জুয়েলারি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার সব জুয়েলারি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। এই হামলার বিচার দাবি করছে জুয়েলার্স সমিতি।

    দোকানের কর্মচারী আল-আমীন বলেন, এক থেকে দেড় শ মানুষ এসে দোকানে হামলা চালায় এবং দোকানমালিকের বড় ভাইকে মারধর করে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন সন্তোষ কুমার রায়। তিনি বলেন, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা করা হয়নি; বরং দোকানের মালিকেরাই ভাঙচুর করেছেন।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারীর বালাবাড়ি হাটে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’। এ মেলাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    সরেজমিন শনিবার( ২৮ মার্চ) দুপুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে নববধূ ও গৃহবধূদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রঙিন শাড়ি, গয়না ও গ্রামীণ সাজে সজ্জিত নারীদের উপস্থিতিতে মেলায় তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল পরিবেশ।

    মেলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পসরা—হাতের তৈরি গহনা, মাটির তৈজসপত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রীসহ নানা রকম গ্রামীণ পণ্য। এছাড়া শিশুদের জন্য খেলনা, নাগরদোলা এবং বাহারি খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

    উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে ঘিরে বালাবাড়ি হাটে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে আসছে। প্রায় ৪০০ বছরের এই প্রাচীন আয়োজনের অংশ হিসেবে স্নানের পরবর্তী দুই দিন এলাকায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জামাই মেলা’ এবং পরদিন ‘বউ মেলা’, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতিফলন।

    আয়োজকরা জানান, বালাবাড়ি হাটের এ মেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। মূলত নারীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা এই মেলায় তারা নিজেদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম হচ্ছে।

    মেলায় আসা সালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, এই মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে আমরা নিজেদের তৈরি জিনিস বিক্রি করতে পারছি, আবার আনন্দও উপভোগ করছি।

    রংপুর থেকে আসা দোকানী রাবেয়া বেগম বলেন, প্রতিবারে অষ্টমীর আগের দিন আসি। অষ্টমীর দিনে ভালোই বিক্রি হয়েছে। এবারে বউ মেলায় তেমন কোন বিক্রি করতে পারিনি। এখানে এবারে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আশা করি, পরের বার যেন সরকারের ব্যবস্থাপনায় মেলাটি হয়।

    মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামীতে এই মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে এবং এটি হয়ে উঠবে অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

  • কুড়িগ্রামে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টি, ভিডিও ভাইরাল

    কুড়িগ্রামে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টি, ভিডিও ভাইরাল

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে যাওয়ায় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার ( ১৫ মার্চ) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটেছে। ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সাথে প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

    অপরদিকে ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আসামিরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম, মেয়ে আফ্রিদা আজিজ সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং বসতঘরে থাকা আসবাব ভেঙে টাকা চুরি করে।

    এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেন। এরপর থানা-পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার মামলা গ্রহণ করা হয়।

    বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।

    বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মোবাইল ফোনে তার বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে।

    পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছে।

    এ বিষয়ে উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিরা নারী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি আজ রোববার সকাল ১০টায় ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে আজিমুল ইসলাম (২৪) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৪ এপ্রিল) তিনি মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    মৃত আজিমুল ইসলাম শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামের অটোচালক ফজলুল হকের ছেলে। আজিমুল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে এসে বাবা ফজলুল হকের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চান। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার বাবা টাকা দিতে পারেননি। এতে অভিমান করে আজিমুল নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

    মায়ের তৎপরতায় রশি কেটে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    আজিমুল ইসলামের মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়।

    শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এভাবে চলে যাওয়া আমরা কেউই মেনে নিতে পারছি না। আর্থিক সংকটের কারণে তার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।

    এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান নাঈম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

  • বিয়ের আশ্বাসে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিক গ্রেপ্তার

    বিয়ের আশ্বাসে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিক গ্রেপ্তার

    বিয়ের আশ্বাসে প্রেমিকাকে (২২) ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    পুলিশ জানায়, নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের ওই নারীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ধারিয়ার পাড় গ্রামের জাহিদ হাসানের মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের আশ্বাস দেন জাহিদ। পথিমধ্যে আয়নালের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদীর তীরে একটি ভুট্রা খেতে নিয়ে গিয়ে জাহিদ ও তার বন্ধু বাবু এবং অজ্ঞাত আরেক বন্ধু পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। পরে গভীর রাতে ওই নারী এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে কচাকাটা থানায় মামলা করা হলে রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি প্রেমিক জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, বিষয়টি জেলা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • রাজারহাটে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

    রাজারহাটে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রদলের নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রাজারহাট বাজারের তিস্তা রোড রেলগেট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এনসিপির জাতীয় যুবশক্তি রাজারহাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক চৌধুরী রিংকু র‍্যাবেনকে নিয়ে সাইলেন্ট আশরাফুল নামের ফেসবুকে পেজে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এ নিয়ে প্রথমে এনসিপি ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

    আহত ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং টহল জোরদার করেন।

    এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঘুষের চুক্তি ১৫ লাখ, কম টাকা আনায় যে কাণ্ড শিক্ষা কর্মকর্তার

    ঘুষের চুক্তি ১৫ লাখ, কম টাকা আনায় যে কাণ্ড শিক্ষা কর্মকর্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারী কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয় রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগমের সাথে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত টাকা নিয়ে না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাইদুলকে দুদক ও পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।

    সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন মাইদুল ইসলাম। এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নগরীর কাচারিবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ঘুষের টাকাসহ পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ১৮ দিন কারাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

    সংবাদ সম্মেলনে মাইদুল ইসলাম বলেন, তার বাবা আব্দুর সবুর খানের দান করা এক একর জমিতে কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষক ও কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছিলেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে উপপরিচালক রোকসানা বেগমের কথা হয়।

    মাইদুলের দাবি, গত ডিসেম্বর মাসে কার্যালয়ের সিঁড়িতে উপপরিচালক রোকসানা বেগমের সাথে তার কথা হয়। এসময় প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ছয় লাখ এবং কর্মচারীদের জন্য তিন লাখ টাকা করে দাবি করেন তিনি। পরে একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর জন্য মোট ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

    মাইদুল ইসলামের অভিযোগ, টাকা জোগাড় করে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি নির্দেশনা অনুযায়ী সাত লাখ টাকা একটি উপহারের প্যাকেটে করে নিয়ে এসে তার কার্যালয়ে অবস্থান করেন। তার ব্যাংক হিসাবে ছিল আরও এক লাখ টাকা। পরে দুপুরের দিকে রোকসানা বেগম তাকে অফিসে ডেকে কত টাকা এনেছেন জানতে চাইলে তিনি আট লাখ টাকার কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর রোকসানা বেগম সঙ্গে সঙ্গে তার স্বামী জাহেদুল ইসলামকে ফোন করে জানান, তিনি আট লাখ টাকা নিয়ে এসেছেন। স্বামীর সাথে কথা বলার পরক্ষনই উত্তেজিত হয়ে তিনি অফিসের গাড়িচালক শফিকুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর আশরাফ আলীসহ কয়েকজন কর্মচারীকে ডেকে আনেন এবং তার ব্যাগ থেকে জোর করে টাকা বের করে নেন।

    মাইদুল ইসলামের অভিযোগ, এ সময় রোকসানা বেগম তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার স্কুল শেষ করে ফেলব।’ পরে তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করার জন্য নানা ধরনের চাপ দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

    ঘটনার দিন রোকসানা বেগম সাংবাদিকদের জানান, মাইদুল ইসলামকে তিনি চেনেন না, তবে এর আগে একদিন তার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন।

    তবে মাইদুল ইসলামের দাবি, এর আগে ৫-৬ বার তিনি ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এবং তার সাথে এ বিষয় নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তার অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ, উপ-পরিচালক রোকসানা বেগমের মোবাইল ফোন, অফিস কর্মচারী আশরাফ ও গাড়ি চালক শফিকুলের মোবাইল ফোন চেক করা হলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম কালবেলাকে বলেন, ‘উনি (মাইদুল) এখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য নানা ধরনের অভিযোগ তুলছেন। এ ঘটনায় দুদক বাদী হয়ে মামলা করেছে। এখন মামলা তদন্তাধীন আছে, তদন্তে যা আসবে তাই। এখন আমি আর কী বক্তব্য দেব?’

  • ডেকে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

    ডেকে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানাধীন এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মো. জাহিদ হাসানকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আসামি জাহিদ হাসান ভিকটিম তরুণীকে (২৩) মোবাইল ফোনে ডেকে নাগেশ্বরীর আনন্দ বাজার এলাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে নাগেশ্বরী থানাধীন চর লুছনি গ্রামে নিয়ে যায়। পরদিন ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার কথা বলে ভিকটিমকে দুধকুমার নদীর ধারে আয়নালের ঘাট সংলগ্ন চরাঞ্চলের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে জাহিদ হাসানসহ বাবু মিয়া ওরফে আকাশ (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন মিলে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরে ভিকটিম বাড়ি ফেরার পথে নাগেশ্বরীর জুব্বার মোড় এলাকায় স্থানীয় ব্যক্তি আব্দুল সালাম মিয়া তাকে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরদিন মঙ্গলবার ২৪ মার্চ সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার পরিবার।

    এ ঘটনায় কচাকাটা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।