রমেশ সেনের বাড়িতে জামায়াত নেতা দেলোয়ার, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অঞ্জলি

Jamaat leader Delwar visits Ramesh Sen's home; widow Anjali breaks down in tears

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তার রুহিয়ার গ্রামের বাড়িতে শেষবারের মতো দেখতে যান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন।

সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রমেশ চন্দ্র সেনের সহধর্মিণী অঞ্জলি রানী সেনকে সান্ত্বনা দিতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত অঞ্জলি রানী সেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তুমি এসেছ বাবা। আমার আর কেউ নাই। নির্বাচনটা পর্যন্ত (তিনি) থাকলেন না।

এ সময় তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার স্মৃতিচারণ করেন এবং দেলাওয়ার হোসেনকে নিজের সন্তানের মতো সম্বোধন করেন। জামায়াত প্রার্থীও পরম মমতায় তাকে পানি খাইয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজ শোকাহত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোকে আমি নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছি। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

কারা সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে অবস্থানকালে রমেশ চন্দ্র সেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকালের নাস্তা সেরে গোসলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচবারের নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৬ আগস্ট তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে হত্যাসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ