ক্যাটাগরি জামায়াত

  • শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    বগুড়ায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত ও শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান । পরে তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

    শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে বগুড়ায় অবস্থান করছেন শফিকুর রহমান।

    শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    Malek Foundation

    সফরকালে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

    ছাত্রনেতা শহীদ আব্দুল মালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পাকিস্তানে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে দুই দলের মধ্যে চলা সংঘর্ষে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ও ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার হত্যাকাণ্ডের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছরের ১৫ আগস্টকে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।

  • ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফার আন্দোলন

    ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফার আন্দোলন

    গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান ও প্রতারিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবর রচনা করে সংসদের ভেতরেই সবকিছুর ফয়সালা করতে। আমরা রাজপথে আসতে চাইনি; কিন্তু আপনারাই আমাদের বাধ্য করেছেন এখানে আসতে। তিনি বলেন, জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এটা আমরা আদায় করেই ছাড়ব।

    গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশ ঘিরে লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনস্রোত দেখা যায়।

    এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

    অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি মানতে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী এই লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এসব দাবি না মানলে আরো তিন বিভাগে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি।

    গতকাল রাতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে লালদীঘির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, ছয় দফা ১১ দলের কোনো ব্যক্তিগত দফা নয়, এগুলো দেশের জনগণের দফা। অনির্বাচিত সরকার তাদের জান্নাতে পাঠায়নি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা সে সময় যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন, নেই?

    তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকেরা এখন চুরি-চামারি ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়েছে। যখন তাদের ধরা হয়, তখন তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দেয়। এরা গুপ্ত হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, বিভিন্ন জায়গায় চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। আমাদের এই আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়; এটি জনগণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার রাস্তায় হাঁটে, তাহলে তারা কী দোয়া পড়বেন—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আগের সরকার যে রাস্তায় বিদায় নিয়েছে, বিএনপিও সেই রাস্তায় হাঁটতে চায় কি না, তা দেখতে হবে।

    চট্টগ্রামের মেয়র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মেয়র মেয়াদোত্তীর্ণ। এর নাম কী? এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। তিনি বলেন, বিএনপি ওয়াদা করেছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই দেশ চালাবেন। এখন যাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তারা কি নির্বাচিত?

    শফিকুর রহমান বলেন, আজকের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। পরেরগুলো এরকম হবে না। কতগুলো মানুষ মারা গেছে, গুম হয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা নেই—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বিরোধী দলকে লোভ বা টোপ দিয়ে কেনা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। এই লড়াইয়ে ফ্যাসিবাদ, অপরাধী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং আধিপত্যবাদীরা নিশ্চিতভাবে হেরে যাবে।

    বিগত আন্দোলনের শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত আন্দোলনে বিপুল মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকেই গুম হয়েছেন এবং আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পর নিজেদের শিশু সরকার বলে দাবি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয়নি, বরং প্রাপ্তবয়স্ক বিবেচনা করে তাদের ওয়াদা শুনে ভোট দিয়েছে।

    সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, সরকার একের পর এক উল্টাপাল্টা কাজ করবে আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে—তা হতে দেওয়া হবে না। এখন পর্যন্ত তাদের আঙুল সোজা রয়েছে, তবে প্রয়োজনে তা বাঁকা করতে দ্বিধা করা হবে না।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই দায়ী। তিনি যদি সংসদকে কার্যকর করতেন; তাহলে আমরা সেখানেই থাকতাম। তিনি যদি সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ নিতেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেন; তাহলে আমাদেরকে রাজপথে নামতে হতো না। তিনি সংসদকে অকার্যকর করে রাখায় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।

    তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান আপনিতো কথা বলা বন্ধ রেখেছেন। মাঝেমধ্যে বললেও আপনি ভুল বলে ফেলেন। তাই সালাহউদ্দিন সাহেবকে কথা বলার জন্য রেখেছেন। কিন্তু দেশের জনগণ তার কথা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাকে দেশের জনগণ বয়কট করেছে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যেই সংসদে সালাহউদ্দিন সাহেব একাই সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে পেরেছেন, যিনি একাই সব দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নিশ্চয়ই বিরোধী দলের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। তাই আপনারা সংসদে থাকুন, আমরা জনগণের সঙ্গে রাজপথে থাকি।

    দেশের মানুষ ভালো নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট। সরকার সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। আমি সরকারকে বলতে চাই; সময় থাকতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন সেই উদ্যোগ নেন। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করুন। নয়তো শেখ হাসিনার দুঃশাসন থামাতে মানুষ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে, আমরা আপনার জন্য পাঁচ বছরও অপেক্ষা করব না।

    সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিএনপি সরকারের পরিবর্তন চান দেশের মানুষ। এই সরকার পরিবর্তন হয়ে চিরদিনের জন্য চলে যাক। সব জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে বাকশালের কোনো পার্থক্য নেই।

    তিনি বলেন, তারা বলেছিল ক্ষমতায় গেলে এক লাখ লোকের চাকরি দেবে। এখন এক লাখ লোকের চাকরি গেছে। মৌলবাদী মানে যারা মূল মন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা তো উগ্রবাদী নই।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামনুল হল বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের মুখ থেকে শুনতে হচ্ছে তারা নাকি নির্বাচন হওয়ার জন্য এসব কথা বলেছিল। এতেই বুঝা যায়, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি এখন আত্মস্বীকৃত মুনাফেক দল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে, সংবিধান সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, জহিরুল ইসলাম এমপি, মহানগর আমির নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুছা বিন ইজহার, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

    এর আগে গতকাল দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা লালদীঘির ময়দানে আসতে থাকেন। বিকাল তিনটার আগেই সমাস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। সমাবেশে নেতাকর্মীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে নানারকম প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমাবেশকে ঘিরে লালদীঘি ও আশেপাশে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় সমাবেশটি শেষ হয়।

    এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ যাত্রা শুরে করে। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। যাত্রাপথে বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এসব পথসভা জনসভায় রূপ নেয়।

    এসব জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতারা বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তারা গত ছয় মাসে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গণহত্যার বিচারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের এসব সমস্যার সমাধানে বিরোধী দল সংসদে ও রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

    এদিকে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহর চট্টগ্রামের লালদীঘিতে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে শুভেচ্ছা জানান জোটভুক্ত দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। কর্মসূচি ঘিরে জোটের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ উৎসুক জনতার মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহরে যুক্ত হন। সমাবেশে বক্তব্য ছাড়াও নানা ধরনের সংগীত পরিবেশন করে বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠী।

    বর্তমান বিরোধী দলের প্রথম সর্ববৃহৎ কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ বাস্তবায়নে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নেয় ১১ দল। লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে পথে পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চটি শেষ হলেও পথে বহরের দুয়েকটি গাড়ি ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বলে জানা গেছে।

    এর আগে গত ৬ আগস্ট বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    ঢাকা-চট্টগ্রাম এই লংমার্চের পর ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    ছয় দফা দাবির মধ্যে আরো রয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

    শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ

    ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সমান্তরালভাবে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চলতে থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, ছয় দফার সঙ্গে সপ্তম দফা হবে—কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে; বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল আছে। অতিষ্ঠ হয়ে, সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, যে বিষয়ে সিফাত প্রতিবাদ করেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে। ভালোয় ভালোয় ওকে ছেড়ে দিন। যদি না ছাড়েন তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডা. মিলন অনেকের গদি একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কর্মসূচির কৌশল ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, গণভোটের রায়সহ ছয় দফা দাবি পূরণ না করলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ। যারা গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা আসলে ছয় দফা থেকে একদফা দাবিতে আন্দোলন দুর্বার গতিতে শুরু হবে।

    এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, চাঁদাবাজ-মস্তানদের ভোট দিলে দেশ ভালো চলবে না, তার দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মিনিট না যেতেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ পালনের মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চাচ্ছি, সরকার যদি সেটি বুঝতে না পারে তবে পরিণতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে কিন্তু সরকার সেটি করেনি। সেই ট্রেন সরকার মিস করে ফেলেছে। ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ট্রেনও সেপ্টেম্বরের পর মিস হয়ে যাবে। তাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, সরকারের অবস্থা এমন হয়েছে তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়েছে। সংসদে টু-থার্ডের ক্ষমতা দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। জনগণ ভোট দিতে পারে আবার ক্ষমতাও কেড়ে নিতে পারে।

    এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার বন্ধু ও শত্রু চিনতে পারে না বলেই তাল হারিয়ে ফেলছে। গত ছয় মাসে সরকারের ১৫০ টাকা লাঞ্চ আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ডের গল্প ছাড়া আর কোনো গল্প নেই, কোনো অর্জন নেই।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। সমাবেশ শেষে সাড়ে ৮টায় লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

    বৃষ্টিমুখর নারায়ণগঞ্জে পথসভা

    লংমার্চ শুরু হওয়ার পর প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায়। সেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সফল হব। আজকের লংমার্চ শেষ নয়, শুরু।

    জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা আবদুল জাব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতারা। এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চ বহরকে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    নিমসারে অনির্ধারিত পথসভা

    নারায়ণগঞ্জের পর অনির্ধারিত পথসভা হয় কুমিল্লার নিমসার এলাকায়। সেখানে ব্যাপক লোকজনের উপস্থিতিতে রাস্তায় নিজ গাড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের জন্য রাস্তায় নেমেছি, আপনাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

    পদুয়ার বাজারে পথসভায় জনতার ঢল

    লংমার্চের অন্যতম বড় পথসভা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড বিশ্ব রোড এলাকায়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পথসভাটি সমাবেশে রূপ নেয়। আধাঘণ্টা স্থায়ী এ পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান ছয় দফার পাশাপাশি আরো বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের উদ্দেশে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ চাঁদাবাজি, খুন রাহাজানিতে ভরে গিয়ে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। পথসভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

    চৌদ্দগ্রামে পথসভা

    চৌদ্দগ্রামে পথসভাতেও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া পথসভায় আরো বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ।

    ফেনীর পথসভা জনসমাবেশে পরিণত

    লংমার্চের গাড়িবহর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফেনী মহিপালে পৌঁছায়। উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে। তিনি বলেন, সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণ করবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব—তা হবে না। আমরা প্রতিবাদ করব। চূড়ান্ত ডাক এলে জনগণকে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টোপথে চলছে।

    জুলাই গণহত্যার বিচার পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ-বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

    মিরসরাইয়ে শেষ পথসভা বিকালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পথসভা। সেখানে অনেক আগেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু নেতাকর্মী জমায়েত হন। এতে জামায়াত আমিরসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। লংমার্চ সফলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি দফায় দফায় বৈঠকসহ নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতে ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ৯টি শাখার নেতারা যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও এসপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জোটটি। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিটি শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

  • সরকার জনগণের সঙ্গে  বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির,

    সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির,

    বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের মতো বিএনপিও ওয়াদা করেছিল জনগণের জনরায় মেনে নেওয়ার। অথচ ক্ষমতায় আসার পর দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের চরম সংকট থাকলেও সরকার দলের মন্ত্রী ও এমপিরা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছেন।

    ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পরিচালিত লংমার্চের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে ফেনীর মহিপালে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, আমাদের কোনো পিসির বাড়ি নেই। যারা সামান্য কালো মেঘ দেখলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়—তারা কারা, তা আপনারা সবাই চেনেন। এখন যারা আমাদের চোখ রাঙায়, বিগত সাড়ে ১৫ বছর কোথায় ছিল তাদের ক্ষমতা? কেবল কালো মেঘ নয়, বজ্রপাত আসলেও ১১ দলীয় জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই থাকবে।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, দ্রুত ৬ দফা দাবি মেনে নিয়ে সোজা পথে আসুন। গণভোটের জনরায় মেনে নিন এবং দ্রুত জুলাই গণহত্যা ও পিলখানায় ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তা হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।

    দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করে বলেন, এখনও সংশোধনের সময় আছে। সময় পার হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। ইনশাআল্লাহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আমাদের লংমার্চ যাবে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই মহাসমাবেশ কি কেবল চিড়া-মুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি দাবি আদায়ের জন্য হবে? ফেনীসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষকে বলব—আপনারা প্রয়োজনে চিড়া-মুড়ি সঙ্গে নিয়েই সে সমাবেশে যোগ দেবেন।

    উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত ডাক যখন আসবে, তখন সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এবং দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরতে হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন; আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

    জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপি নেতা আকতার হোসেন এমপি, নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

  • দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী

    দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে একটি দল দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে।

    শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি সংকটে ভুক্তভোগী সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রথমে জাতীয় সংগীত এবং পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

  • দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, `আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে? এসব সমস্যার সমাধান চান বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

    আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ দেশের সব বিভাগীয় শহরে যাবে। ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে সরকার পতনের আন্দোলন সফল করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।

    কুমিল্লাবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা কুমিল্লা বিভাগ চান। ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একই সময়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবিও উঠেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ হয়নি, সিলেট বিভাগ হয়েছে। তাহলে কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ করুন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন। পাশের জেলা নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ দাবি করছেন, তাঁরাও দাবিদার। তাঁদেরও বিভাগ দিন। তবে কুমিল্লা যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে বিভাগ দাবি করে আসছে, তাই কুমিল্লা বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করুন।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লায়—এ কারণে কি আপা কুমিল্লার প্রতি বিরাগ দেখিয়েছিলেন? কুমিল্লার নাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। কোনো জেলার নামকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি করা হলে তা ওই জেলা ও বিভাগের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করার শামিল। বর্তমান সরকার বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছে। তাহলে দিচ্ছে না কেন? কুমিল্লা বিভাগ দিন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বিমানবন্দর করার বিষয়টি সামনে এসেছে। কুমিল্লায় একটি ইপিজেডও রয়েছে। বিমানবন্দরটি যাচাই-বাছাই করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন। মানুষকে প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রামে যেতে অনেক দূর যেতে হয়। বিভাগ হলে কুমিল্লার মানুষ এখানেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবে।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি চান? সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কি রক্ষা করছে? করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক না রেখে এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে একসঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকতে চান, তাহলে অন্য সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আগে নিজের মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি ঠিক করুন। আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করুন, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।’

    কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পাটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মন্ঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।

  • কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

    শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

    লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

    উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

  • লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ বিরোধী দলের লংমার্চে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার জনআস্থা আরও হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।

    তবে সরকারি দল সে পথে হাঁটবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।

    আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন বিরোধী দল করছে না।

    সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা বজায় রাখা উচিত।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

    যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর কথা। তবে এ ধরনের কর্মসূচির সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তাই সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পথে মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পথসভার আয়োজন করবে স্থানীয় শাখাগুলো এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না। শুধু যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার কথা, তাঁরাই নামবেন।

    পথে পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও আইটি বিভাগ এবং মেডিক্যাল টিমের গাড়ি কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানে ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমার যে ‘ট্রেন’, সেটি স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সরকার তা সংসদেই বলুক।

    দেশে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তবে নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ আগের সরকারের তুলনায় কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা’ এখন যে আস্ফালন করছে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে, তা ছয় মাসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল না।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা তাঁরা করছেন না। ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে।

    তবে ন্যূনতম কোনো বিশৃঙ্খলা বা হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমন ঘটনার ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ শুরু করেছেন। এই ব্যবসা আগে গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতার সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

    পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জনসমস্যা তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা জামায়াতের আমির বৈঠকে তুলে ধরেন। পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের আন্তরিক ভূমিকার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জুলাই চার্টার অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকারি ও বিরোধীদলের মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ভিন্নমত ছাড়াই এই রায় মেনে নেওয়ার জন্য দলগুলোকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার তাগিদ দেন তারা।

    বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস এবং দলীয়করণের নানা চিত্র তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    জামায়াত আমির বৈঠকে বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও খোলামেলাভাবে তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

  • সবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জনের জামায়াতে যোগদান

    সবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জনের জামায়াতে যোগদান

    সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

    দলটির মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে দাওয়াতি সমাবেশে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

    জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।

    এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও ডা. হুমায়ন কবিরও এদিন জামায়াতে যোগ দেন।

    বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন।

    এ ছাড়া গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কোল্লল এবং বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।

    কওমি আলেমদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন (রসুলপুরী) ও মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখ।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান এবং বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার।

    এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

  • স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থীতার সুযোগ চায় জামায়াত

    স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থীতার সুযোগ চায় জামায়াত

    বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের (এমপিও) নির্বাচনে অযোগ্য করার ইসির প্রণীত বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পাওয়ার।

    মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানান তিনি। ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গোলাম পারওয়ার।

    তিনি বলেন, এটা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। এটা বাতিল না হলে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। প্রায় ৩০ হাজার এমপিও শিক্ষক চাকরি করছেন ।

    এছাড়া ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যকে পদায়ন করায় তাকে অপসারণের জন্য সরকারকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।