দামুড়হুদায় ভাঙা বাঁশের সাকোই শিক্ষার পথে বাধা, ২১ বছরেও মেলেনি মুক্তি

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

যাতায়াতের নেই কোনো রাস্তা, পারাপারের একমাত্র ভরসা ভাঙাচোরা বাঁশের সাকো। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বছরের প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধতায় অবরুদ্ধ থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এমন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ঝরে পড়ার ঝুকিও বাড়ছে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। গত এক বছরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ থেকে কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১২০ জনে। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির যাতায়াত ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তৈরি হয়নি কোনো রাস্তা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা বাঁশের সাকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় কোমলমতি শিশুদের। ঝুকিপূর্ণ এই সাকো পারাপারের সময় মাঝেমধ্যেই নিচে পড়ে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই নয়, বিদ্যালয়টির আরেক বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাশের পুকুরের পানি ঢুকে তলিয়ে যায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে বিদ্যালয়টি। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যায়ও। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যেখানে শিক্ষার্থী ছিল ২৫০ জন, সেখানে চলতি বছরে তা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১২০ জনে। যাতায়াতের ঝুকি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ।

অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ২১ বছর ধরে তারা এই দুর্ভোগের শিকার। বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান। তাদের প্রশ্ন, নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে শিশুদের?

দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে দাবি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।’

তবে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এখন আর শুধু আশ্বাস নয়, চান দৃশ্যমান উদ্যোগ।
শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবসান হবে দুই দশকের দুর্ভোগ, প্রাণ ফিরে পাবে কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এ,আর

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ