আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে আবেদন গ্রহণ শুরু করবে ন্যাশনাল ব্যাংক। ১৫ অক্টোবর থেকে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহকেরা।
এর আগে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন বলেছেন, ‘আমরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সব সেবা চালু করব। আমরা সব ব্রাঞ্চে, এটিএম বুথে পর্যাপ্ত তারল্য রেখে প্রস্তুত থাকব, যাতে কোনো গ্রাহক খালি হাতে না ফিরে যান।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর শিকদার গ্রুপ এই ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এখন ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা।
তবে আগের অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকটি এখনো সংকটে ভুগছে। যেমন, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, টানা লোকসান ও টাকা তুলতে গ্রাহকদের সমস্যা হচ্ছে ব্যাংকটিতে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বারবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও ব্যাংকটি পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি।
২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর লোকসান গুনছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির বিতরণকৃত মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি আছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে।
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্যাংকটি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৭.১০ টাকা। ২০২৫ সালের একই এ সময়ে লোকসান ছিল শেয়ারপ্রতি ৩.৬ টাকা; টাকার অঙ্কে ৯৮৫ কোটি টাকা।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
