অর্থ ও বিনিয়োগ

  • জামানতবিহীন ৫০০ কোটির তহবিল: তরুণ উদ্যোক্তা হতে আবেদন ১৮ হাজারেরও বেশি

    জামানতবিহীন ৫০০ কোটির তহবিল: তরুণ উদ্যোক্তা হতে আবেদন ১৮ হাজারেরও বেশি

    তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে জামানতবিহীন অর্থায়ন পেতে দেশের আট জেলার সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি তরুণ আবেদন করেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া এসব আবেদনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমা পড়েছে নেত্রকোনা জেলা থেকে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আট জেলায় আবেদন গ্রহণ করা হয়।

    জেলাভিত্তিক হিসাবে নেত্রকোনায় ৫ হাজার ৩৫১টি আবেদন জমা পড়েছে।

    এ ছাড়া রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে এক হাজার ৫৫২টি, ভোলায় এক হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে এক হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে এক হাজার ২৬১টি আবেদন জমা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সাড়া পাওয়ায় এবার দেশের অন্যান্য জেলার তরুণদের কাছ থেকেও আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য ৮ জেলার বাইরে অন্যান্য জেলার আগ্রহী তরুণেরা এক থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নিজ নিজ উপজেলার যে কোনো ব্যাংক শাখায় আবেদন করতে পারবেন।

    ৫ হাজার ৩০ জন পাবেন অর্থায়ন
    এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০৩ উপজেলার ৫ হাজার ৩০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ জন্য গঠিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সহযোগী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২৫০ কোটি টাকা করে দেবে।

    একেকজন উদ্যোক্তাকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। এর একটি অংশ অনুদান হিসেবে এবং অবশিষ্ট অর্থ ৪ থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।

    কারা পাবেন সুবিধা
    আবেদনের শেষ দিনে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে।

    আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।

    কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে এ অর্থায়ন দেওয়া হবে। পাশাপাশি ই-কমার্স, ফিনটেক, অ্যাডটেক, অ্যাগ্রিটেক ও হেলথটেকের মতো প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ এবং অন্যান্য বৈধ আয়মুখী উদ্যোগও এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।

  • বেক্সিমকো ও শাইনপুকুর সিরামিকসকে বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের

    বেক্সিমকো ও শাইনপুকুর সিরামিকসকে বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের

    বেক্সিমকো গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট–১-কে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণখেলাপি হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির ঋণসুবিধা নবায়ন, ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও চলতি মূলধন পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা তৈরি হয়েছিল। এ বাধা দূর করতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটির ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক শাইনপুকুর সিরামিকস ঋণখেলাপি হলেও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে অনুমোদিত চলতি মূলধন ঋণসীমা নবায়নের ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এ সুবিধার আওতায় বিদ্যমান ১০৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণসীমা নবায়নের কথা বলা হয়েছে।

    তবে এ সুবিধার বিপরীতে সরকারের অর্থ বিভাগের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংকও সরকারের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। এ ছাড়া শাইনপুকুর সিরামিকসের সব আয় একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে আনুপাতিক হারে সোনালী ব্যাংকের পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণসুবিধা দিতে পারবে না। এ ধারার কারণে শাইনপুকুর সিরামিকসের মতো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়। এবার বিশেষ বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ওই নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত জুলাই মাসে শাইনপুকুর সিরামিকসকে শতভাগ মার্জিন জমা দিয়ে শুধু কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

    গ্রুপটির অপর প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট–১-কেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের এ ঋণখেলাপি গ্রাহককে শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ঋণপত্র খোলা এবং চলতি মূলধন সরবরাহের ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এ সুবিধাও আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন ঋণসুবিধা পেতে বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট–১-এর সব আয় একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই আয় থেকে আনুপাতিক হারে ন্যাশনাল ব্যাংকের পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সরকারের ওপর কোনো আর্থিক দায় চাপানো যাবে না এবং ব্যাংক সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

  • গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে ন্যাশনাল ব্যাংক আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে

    গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে ন্যাশনাল ব্যাংক আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে

    আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে আবেদন গ্রহণ শুরু করবে ন্যাশনাল ব্যাংক। ১৫ অক্টোবর থেকে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহকেরা।

    এর আগে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন বলেছেন, ‘আমরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সব সেবা চালু করব। আমরা সব ব্রাঞ্চে, এটিএম বুথে পর্যাপ্ত তারল্য রেখে প্রস্তুত থাকব, যাতে কোনো গ্রাহক খালি হাতে না ফিরে যান।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর শিকদার গ্রুপ এই ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এখন ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা।

    তবে আগের অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকটি এখনো সংকটে ভুগছে। যেমন, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, টানা লোকসান ও টাকা তুলতে গ্রাহকদের সমস্যা হচ্ছে ব্যাংকটিতে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বারবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও ব্যাংকটি পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি।

    ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর লোকসান গুনছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির বিতরণকৃত মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি আছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে।

    ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্যাংকটি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৭.১০ টাকা। ২০২৫ সালের একই এ সময়ে লোকসান ছিল শেয়ারপ্রতি ৩.৬ টাকা; টাকার অঙ্কে ৯৮৫ কোটি টাকা।

  • ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ চায় আইসিবি

    ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ চায় আইসিবি

    দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটানো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা চায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। ১০ বছর মেয়াদে (দুবছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) এই ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে আইসিবি। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রসার এবং শেয়ারবাজারে মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধিতে ‘মার্কেট মেকার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং উচ্চ সুদহারের কারণে বাজারে পতন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ এবং বিদেশি মুদ্রার ঋণ পরিশোধের কারণে আইসিবির ওপর আর্থিক চাপ বেড়ে গেছে। বর্তমানে নিয়মিত শেয়ার কেনাবেচা বা ক্যাপিটাল গেইন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব আয়ও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    আইসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ ১০ হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেলে তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলগত খাতে ব্যবহার করা হবে। এই তহবিলের একটি বড় অংশ সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে, যা বাজারে তারল্য সংকট দূর করতে এবং শেয়ারের গতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করবে। উচ্চ সুদের আগের ঋণগুলো পরিশোধের মাধ্যমে আইসিবির আর্থিক ব্যয় বা সুদজনিত চাপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে এই তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে আইসিবিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও লাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যাবে, যা নিয়মিতভাবে সরকারকে লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর বাজার পুনর্গঠন, তারল্য সংকট দূরীকরণ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইসিবি ‘মার্কেট মেকার’ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের ধসের পর বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী উচ্চ সুদে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়াদি আমানত সংগ্রহ করে আইসিবি ধারাবাহিকভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে।

    চিঠিতে আরো জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি সরকার আইসিবিকে মোট ২৯৮.২৬ কোটি টাকা মূলধন প্রদান করেছে। এর বিপরীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত আইসিবি সরকারি কোষাগারে লভ্যাংশ ও করপোরেট ট্যাক্স বাবদ মোট ১,৭৮৫.০৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে লভ্যাংশ বাবদ ৫৯২.৯৪ কোটি টাকা এবং করপোরেট ট্যাক্স বাবদ প্রায় ১,১৯২.১২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে একটি রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবি ধারাবাহিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ অবদান রেখে আসছে।

    চিঠিতে তুলে ধরা হয়, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে একসময়ের আর্থিকভাবে শক্তিশালী আইসিবি বর্তমানে বেশ দুর্বল ও উচ্চ দায়গ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে বাজারকে সার্বিক সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

    এ সংকট উত্তরণে এবং পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার কর্তৃক স্বল্পব্যয়ী তহবিল বা ঋণ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা পেলে আইসিবি তার আর্থিক ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। এই তহবিলের সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাত হাজার কোটি টাকা উচ্চ সুদবাহী দায় পরিশোধের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। আর বাকি তিন হাজার কোটি টাকা পুনরায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনী ও লভ্যাংশ আয় অর্জন করে মাত্র দুবছরের মধ্যে আইসিবিকে পুনরায় একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যাবে।

    আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারকে বাঁচাতে গিয়ে এক সময় বেশি দামে শেয়ার কিনে এখন বড় লোকসানে আছে আইসিবি। এ ছাড়া অতীতে অনেকে আইসিবিকে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাতে প্রতিষ্ঠানটি এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় এটিকে টিকিয়ে রাখতে ১০ হাজার কোটি টাকার স্বল্প সুদের ঋণ দরকার।

  • শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন হবে না: অর্থমন্ত্রী

    শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন হবে না: অর্থমন্ত্রী

    এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চার শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই চার শর্ত পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর সম্মেলনকক্ষে ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের সমাধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। ‘আমরা শুধু শুনতে চাই না, তার কার্যকর সাড়াও দিতে চাই।’

    মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে কাজ করছেন। এই অংশীদারিত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দেওয়া প্রয়োজন।

    এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের সমন্বিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সার্বিক সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এনজিওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এনজিওদের টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম করার আহ্বান জানান।

    শীতলপাটিসহ স্থানীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধুনিক ডিজাইন, মূল্য সংযোজন এবং বিপণন জোরদার করতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি শর্ত নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। শর্তগুলো হলো— অর্থের সঠিক ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এই চার শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।

    সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ অন্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১৬৬০১ কোটি টাকা

    বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১৬৬০১ কোটি টাকা

    সরকার প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। তাই পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে । চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩,২৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই মাসে সরকারের ঋণ নেওয়া বেড়েছে ৪১০ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আগে থেকেই দেশের বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু রয়েছে, সেগুলোও ধুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায় ২০ শতাংশ কমেছে। ফলে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকেই ঋণ নিতে হচ্ছে। কারণ, এ মুহূর্তে সরকারের সামনে বিকল্প অর্থায়নের পথও সীমিত।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিলেও এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৩,৭২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে এ দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় নিট ঋণ ৭,৪৮৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে মোট এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ১১.৪৯ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

    বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য প্রায় সাত লাখ কোটি টাকার যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের কোনো সময়ই এনবিআর এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারেনি। বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট বা বিশৃঙ্খলা না থাকলেও অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি। মূলত সরকারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই এ বাস্তবতাহীন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জাহিদ হোসেন আরো বলেন, আগামীতে সরকারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপ আরো বাড়বে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে আগামী দুবছরের মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ে ন্যূনতম এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে। এর পরোক্ষ প্রভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যয়ও বাড়বে। এ ছাড়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহায়তা থাকলেও এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থেরও বড় অংশগ্রহণ রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে ভর্তুকির ব্যয়ও বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানো গেলেও তা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হবে না।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে আয় না বাড়িয়ে ব্যয়ের চাপ বাড়তে থাকলে বাজেট ঘাটতি আরো বাড়বে। আর বাজেট ঘাটতি বাড়লে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাহিদাও ধীরে ধীরে আরো বাড়বে।

    তথ্য অনুযায়ী ৩০ আগস্ট শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮,০২৫ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। গত জুনে এর পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

  • একনেকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

    আর্থিক খাত সংস্কারসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ২১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া’, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উন্নয়ন, মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর-ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প রয়েছে।

    আরও রয়েছে রংপুর বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ, মাদারীপুর-শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, এসআরবির কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।

    এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বল স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়বহুল দুই প্রকল্প

    এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বল স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়বহুল দুই প্রকল্প

    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা স্বাস্থ্য খাতে এবার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যক্ষ্মা, এইচআইভি বা এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মা-শিশু ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে প্রকল্প দুটিতে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আইএমইডির তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এডিপি বরাদ্দের মাত্র ৩১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৩৬.৭২ শতাংশ অর্থ খরচ করতে পেরেছে। এমন বাস্তবতায় বড় অঙ্কের নতুন প্রকল্প নেওয়া নিয়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    আজ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সভায় স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের মোট ১৫টি প্রকল্প উঠবে।

    পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপির বিপরীতে বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬৭.৫২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা এডিপি বাস্তবায়নের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা খাতগুলোর একটি স্বাস্থ্য।

    এর মধ্যেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন এডিপিতে এ খাতে রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্থ এ খাতে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    প্রস্তাবিত দুই প্রকল্পের মধ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে প্রায় ৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। দ্য গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস, টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া থেকে অনুদান হিসেবে আসবে প্রায় ৮৭০ কোটি টাকা।

    প্রকল্পটির বড় অংশ ব্যয় হবে চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে। চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কেনায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে ৯৫৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পুষ্টি সহায়তায় ব্যয় হবে ৪১৬ কোটি টাকা। স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৭০ কোটি এবং জরিপে ১৪৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ লাখ মানুষের প্রতিরোধমূলক যক্ষ্মা চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ২৩টি অগ্রাধিকার জেলায় চলমান কার্যক্রম ৬৪ জেলার হাসপাতাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। মেয়াদ শেষে সম্ভাব্য এইচআইভি আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

    ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণেও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এর মধ্যে বান্দরবানে ৪১ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৩৬ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৯ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতি হাজারে আক্রান্তের হার একের নিচে নামিয়ে আনা এবং ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।

    তবে প্রকল্পটির মূল্যায়নে কিছু দুর্বলতাও উঠে এসেছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগের কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাত্র ২০ শতাংশ সচল রয়েছে। তাই নতুন যন্ত্রপাতি কেনার আগে বিদ্যমান সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক অনুদান শেষ হওয়ার পর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাস্তবসম্মত ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরির কথা বলা হয়েছে। অন্য প্রকল্প ‘হেলথ সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং থ্রু এমএনসিএইচ সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড এনসিডি কন্ট্রোল’-এ ব্যয় হবে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রাস্ট এটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারের অর্থায়ন ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং জাইকার ঋণ ৩২১ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

    প্রকল্পের আওতায় ১৪ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক, ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ৩০টি জেলা হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। মা, নবজাতক ও শিশুর চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও ফলোআপের ব্যবস্থা করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চতর প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর রেফারেল ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। হৃদরোগেই প্রায় ৩৪ শতাংশ মৃত্যু ঘটে। ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের হার ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে এসব রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কিনতে ১৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা, স্থানীয় প্রশিক্ষণে ১০৪ কোটি ৩৭ লাখ এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। গবেষণায় ৮ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার এবং বিদেশি প্রশিক্ষণে ৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

  • জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

    অনলাইনভিত্তিক তৈরি পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনারের নির্দেশনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-১২ এলাকায় জে-ক্রিয়েশনের কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি ও বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক বিক্রি করে।

    অভিযানের সময় মূসক ফাঁকির আলামত পাওয়ার পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মূসক-১২.৩ ফরমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিপিইউসহ বিভিন্ন দলিলপত্র জব্দ করা হয়।

    পরে জব্দ করা নথি ও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে সংগৃহীত দলিলপত্র আরো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে

    জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    মে মাসের তুলনায় জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণেই এই কমতি এসেছে।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯.৪২ শতাংশ।খাদ্য মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে।
    অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও মে মাসের ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, অর্থনীতির অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।