রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমির তানোর ও মোহনপুরে ধান, আলু ও আমের পাশাপাশি মাচায় তরমুজ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। সেচ সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে গতানুগতিক ফসলের বাইরে নতুন এ চাষে ভালো ফলন ও বাজারদাম পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের কৃষক শাফিউল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।
শাফিউল জানান, তরমুজ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি তরমুজে নেট বেঁধেছেন। প্রতিটির ওজন গড়ে দুই কেজি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের পাড়িশো গ্রামের কৃষক খাইরুল ও জাকির ২৫ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো মাচায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের বীজ বপন করেন তারা। বর্তমানে মাচায় ঝুলছে রঙ্গীলা, আম্বার সুইট, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা জাতের তরমুজ।
কৃষক জাকির বলেন, ‘মৌসুমের বাইরে তরমুজের চাহিদা ভালো থাকায় বাজারেও দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তরমুজ কিনেছেন। ফলে পরীক্ষামূলক এ চাষে লাভবান হচ্ছি।’
মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্রভূমিতে মাচায় তরমুজের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’
