রাজশাহী

Rajshahi district

  • চারঘাটে কৃষির নতুন সম্ভাবনা

    চারঘাটে কৃষির নতুন সম্ভাবনা

    উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত ফসলের বাইরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙুর, কমলা, বারোমাসি আম, মিষ্টি আমড়া, তুলা, উচ্চমূল্যের সবজি ও পলিনেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের মতো উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। চারঘাটের ফতেহপুর গ্রামের হানিফ মণ্ডলের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তোলেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারিতে মাল্টার পাশাপাশি কমলা, আঙুর, আতা, আনার ও আম চাষ হচ্ছে। ফল বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিক্রি করেও আয় করছেন তিনি। তার উদ্যোগ দেখে অন্য তরুণরাও ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এদিকে চারঘাটে বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষেও সাফল্য আসছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে সঠিক ফসল নির্বাচন, উৎপাদন খরচ ব্যবস্থাপনা ও বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। চারঘাটের মাটি ও আবহাওয়া বিকল্প ফসল চাষের উপযোগী। এসব ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

  • দুর্গাপুরে ২০ বস্তা সার জব্দ, ভ্যানচালককে জরিমানা

    দুর্গাপুরে ২০ বস্তা সার জব্দ, ভ্যানচালককে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর দুর্গাপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে নেয়ার সময় ২০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সুকুমার নামে এক ভ্যানচালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উজানখলসী শেখের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    জব্দ করা সারের মধ্যে ১০ বস্তা ডিএপি ও ১০ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে জব্দকৃত সার উপস্থিত কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে ২০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভ্যানচালকসহ ভ্যানটি আটক করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়া হলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সারগুলো জব্দ করেন। এ সময় ভ্যানচালক সুকুমারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভ্যানচালক সুকুমার উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের সুশীল চন্দ্রের ছেলে। তিনি জানান, অপরিচিত এক যুবক দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে তাহেরপুর বাজারের তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত ২০ বস্তা সার নেয়ার জন্য তার ভ্যান ভাড়া করেন। পরে উজানখলসী শেখের মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় যুবক জুয়েল খায়রুলসহ কয়েকজন তাকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।

    স্থানীয় কৃষক আবু সালেহ বলেন, কৃষকরা ঠিকমতো সার পাচ্ছেন না। অথচ অসাধু সার বিক্রেতারা সার অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের আরো কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক ড. মো: আব্দুল মজিদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিব ফারজানা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে। সার নিয়ে অনিয়ম রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • কালো ধান অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা।

    কালো ধান অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা।

    রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও উচ্চমূল্যের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। প্রচলিত সোনালি ধানের পাশাপাশি মাঠজুড়ে নতুন এ জাতের ধান কৃষকদের মধ্যে তৈরি করেছে আগ্রহ ও আশা। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ ফসল স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর পৌরসভার দেবীপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহান ১৬ কাঠা জমিতে এবং মাড়িয়া ইউনিয়নের পালি গ্রামের কৃষক আবু তালেব প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে কালো ধানের আবাদ করেছেন। নতুন এ ফসলের পরিচর্যা, ফলন বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

    কৃষক আবু তালেব বলেন, ‘ব্ল্যাক রাইস আমাদের এলাকায় একেবারেই নতুন। তাই ঝুঁকি বিবেচনায় পরীক্ষামূলকভাবে আড়াই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হওয়ার আশা করছি। উদ্যোগটি সফল হলে আশপাশের অন্য কৃষকেরাও এ ধান চাষে আগ্রহী হবেন।’

    কৃষকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় ১৬-১৮ মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি মণ ধানের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ৪ হাজার টাকা ধরা হলে বিঘাপ্রতি মোট বিক্রয় আয় হতে পারে ৬৪-৭২ হাজার টাকা। তবে এটি সম্ভাব্য আয়ের হিসাব; উৎপাদন খরচ, প্রকৃত ফলন ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত মুনাফা।

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো চালে অ্যান্থোসায়ানিন নামের একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রঞ্জক উপাদান থাকায় এর রং কালো বা গাঢ় বেগুনি হয়। এতে খাদ্য-আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যে কালো চালের চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের এ ফসলের বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনের পাশাপাশি উপযুক্ত বাজার ও কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

    দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক রাইসের আবাদ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এবারের ফলন, উৎপাদন খরচ ও বাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আবাদের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ এবং পালি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুমিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে খেতগুলো পরিচর্যা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সন্তোষজনক ফলন এবং প্রত্যাশিত বাজারমূল্য পাওয়া গেলে কালো ধানের আবাদ দুর্গাপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

    রাজশাহী অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে আউশ ও আমন ধানের চাষ হয়ে আসছে। পরবর্তী সময়ে গভীর নলকূপ ও আধুনিক সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ধারাবাহিকতায় দুর্গাপুরে কালো ধানের পরীক্ষামূলক চাষকে নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করছে মাঠের ফলন, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারে ক্রেতাদের প্রকৃত চাহিদার ওপর।#

  • রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া লাগেজ উদ্ধার, আটক ৪

    রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া লাগেজ উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জাতীয় ক্রিকেট লিগে অংশ নেয়া রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটারদের চুরি যাওয়া আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজশাহী জেলা পুলিশ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তা বিভাগের তৎপরতায় এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে লাগেজগুলো উদ্ধার করা হয়।

    চুরি হওয়া লাগেজগুলোর মালিক— রাজশাহী বিভাগের স্পিনিং অলরাউন্ডার এস এম মেহেরব হাসান, পেসার মোহর শেখ অন্তর, পেসার আলি মোহাম্মদ ওয়ালিদ ও দলের টিম বয় আব্দুল কাদের। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে তাদের মোট আটটি লাগেজ চুরি হয়।

    গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩), বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) ও তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহাদতের বাড়ি থেকেই চুরি যাওয়া লাগেজগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

    রাজশাহী পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, চুরি হওয়া লাগেজগুলোর বেশিরভাগ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামাল ক্রিকেটারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তবে কত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

    রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোজাদ্দেদ জামানী গণমাধ্যমকে জানান, ক্রিকেটারদের মালামাল উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যান। সেখানে আটক মোজাম্মেল হকের পরনে ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত পোশাক দেখতে পান।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা। দলের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে এর আগের রাতে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয় বিসিবির কাভার্ড ভ্যানটি।

    পথে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের তারাপুর মোড়ে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে কাভার্ড ভ্যানটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে তারা চলন্ত গাড়িটির তালা ভেঙে লাগেজসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    পরে পেছন থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীবকে জানান। পরে রাজশাহী নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউয়ে পৌঁছে তিনি সংশ্লিষ্টদের চুরির বিষয়টি অবহিত করেন।

    কাভার্ড ভ্যান থেকে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, বিসিবি ডিভিশন ক্রিকেট দলের মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে। বাকি আটটি লাগেজের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় বুধবার রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া আটটি লাগেজ উদ্ধার করে। এ,আর

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় বিদ্যালয়ের গেটে বাঁশের বেড়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন এক দাতা সদস্য। একই সাথে শিক্ষকদের অফিসে নতুন করে তালা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসব করেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়’ নাম নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে ওই সময়ের দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নামটির প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

    বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে কলাগাছ লাগানো হয়েছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষের দরজায় নতুন করে তালা ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, এ কারণে বিদ্যালয়ের নলকূপ ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন তারা।

    স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ বলেন, ‘আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি ছিল। মামলা-মোকদ্দমার কারণে শিক্ষার্থী কমেছে। এরপরও নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। হঠাৎ করে আজাদ আলী এসে বিদ্যালয়ের ফটক ঘিরে দেয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা সমস্যায় পড়েছেন।’

    আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য ছিলেন। তার জমিতে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ হয়নি এবং ছেলের বউকেও চাকরি দেয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও কলাগাছ লাগিয়েছেন।’

    তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, ‘আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে জমি রেজিস্ট্রির সময় তার ছেলে ও ছেলের বউকে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার দাবি ওঠে। কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি নেয়।

    তিনি বলেন, কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে চাকরিরত অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মাধ্যমিক শাখায় অফিস সহকারী পদে নিয়োগের দাবি করেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয় এবং এ বিষয়ে রেজুলেশন রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। এর মধ্যেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।

    বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ‘কটি প্রতিষ্ঠান একদিনে দাঁড়ায় না। দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলছে।’

    তিনি জানান, গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।

    এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। রোববার পুঠিয়ায় ফিরে বিদ্যালয়টি চালু করার ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি বলেন, পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কেউ বন্ধ করতে পারবেন না। এ,আর

  • মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমির তানোর ও মোহনপুরে ধান, আলু ও আমের পাশাপাশি মাচায় তরমুজ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। সেচ সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে গতানুগতিক ফসলের বাইরে নতুন এ চাষে ভালো ফলন ও বাজারদাম পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

    মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের কৃষক শাফিউল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।

    শাফিউল জানান, তরমুজ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি তরমুজে নেট বেঁধেছেন। প্রতিটির ওজন গড়ে দুই কেজি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

    অন্যদিকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের পাড়িশো গ্রামের কৃষক খাইরুল ও জাকির ২৫ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো মাচায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের বীজ বপন করেন তারা। বর্তমানে মাচায় ঝুলছে রঙ্গীলা, আম্বার সুইট, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা জাতের তরমুজ।

    কৃষক জাকির বলেন, ‘মৌসুমের বাইরে তরমুজের চাহিদা ভালো থাকায় বাজারেও দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তরমুজ কিনেছেন। ফলে পরীক্ষামূলক এ চাষে লাভবান হচ্ছি।’

    মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্রভূমিতে মাচায় তরমুজের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’

  • মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, বাবাও হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বাবা মুজিব সরদারকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন আমিনুল।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহত জান্নাতুন বেগমের (৫৫) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর আহত মুজিব সরদারকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন ও এর অর্থ জোগাড় করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। তাকে নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও সফল হননি বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বুধবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আমিনুল হাসুয়া নিয়ে তার মা জান্নাতুন বেগমের ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমিনুল তার বাবা মুজিব সরদারকেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।

    জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে মোহনপুর থানা পুলিশ।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যা মামলা দায়েরের পর আমিনুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে জান্নাতুন বেগমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ,আর

  • রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে।

    মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।

    ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাঁর ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না।আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ায় অন্য কৃষক তাঁর প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ইউএনও বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষককে নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তাঁরা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন।শুধু ডিলারদের তাঁদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

    পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

    সারের বিতরণব্যবস্থা তদারকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাঁদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাঁদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।

    ইউএনও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তাঁরা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন- এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

    বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমন মৌসুমে কোন ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের তালিকা ও তাঁদের সারের চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটি আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম ও বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোন পেয়ে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসিকে আটক

    সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটি ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন এক নারী। ভেতরে তার স্বামী রয়েছেন— এমন দাবি করে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মিলছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক ওসি) ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে দু’জনকেই নেয়া হয় থানায়।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    থানায় নেয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনার পর মাহবুব আলম দাবি করেন, ভেতরে থাকা সানজিদা মৌ তার স্ত্রী। তবে তাদের বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি ডিভোর্স দিয়েছেন।

    ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। নওগাঁ থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ওই ফ্ল্যাটে আসেন আন্নি আক্তার। তার দাবি, আগের রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে এসেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌ নামে এক নারী রয়েছেন। এরপর তিনি এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন আন্নি আক্তার।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন আন্নি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও দরজা খোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    পরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। সে সময় সানজিদা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে, মাহবুব আলম বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে সানজিদার সাথে তার বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।

    পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

    আন্নি আক্তার নওগাঁর বাসিন্দা। তিনি নিজেকে নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। পরে মাহবুবের একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক এবং বিভিন্ন এলাকায় বিয়ের বিষয়ে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

    আন্নির আরো দাবি, রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সাথে পেয়েছিলেন তিনি। তখন বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান আন্নি।

    নাদের হাজির মোড়ের যে ফ্ল্যাটে শুক্রবারের ঘটনা ঘটেছে, সেটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেয়া। সেখানে তার পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফ্ল্যাটটিতে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

    মাহবুব আলমের চাকরির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাহার হন। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকার সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রাখা হয়।

    সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ।

    তিনি বলেন, মাহবুব আলম ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

    এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দু’টি কক্ষে রাখা হয়।

    চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

  • শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    শিক্ষক তিনজন, শিক্ষার্থী নেই একজনও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষক আছেন তিনজন। খাতায় শিক্ষার্থীর নামও আছে ১১ জনের। তবে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসে না একজন শিক্ষার্থীও। নেই শ্রেণিপাঠ, পরীক্ষা বা কোলাহল। নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষকরা। ওঠে জাতীয় পতাকা, তবে বাজে না ঘণ্টা। এমনই অবস্থা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

    ১৯৮১ সালে বওলাতলা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হয়। ২০১৪ সালে দেশের অন্যান্য রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে এটিও সরকারি করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। একপর্যায়ে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষা বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকার অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন।

    গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ তিন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে উপস্থিত। অপর দুই শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তার। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে জন্মেছে আগাছা। বড় বড় ঘাসে ঢেকে গেছে মাঠ। দীর্ঘদিন যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের দেয়ালে ময়লা জমেছে, বারান্দার গ্রিলে ধরেছে জং। মলিন হয়ে পড়েছে বিদ্যালয় ভবনটিও।

    প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, বিদ্যালয়ের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে তাদের কেউ বিদ্যালয়ে আসে না। ফলে শ্রেণিপাঠদান কিংবা কোনো পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় না।

    তিনি জানান, তার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রামে। শিক্ষার্থী না থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। বিদ্যালয়টির আশপাশের এলাকায় মানুষের বসবাসও তুলনামূলক কম। সেখানে প্রায় ৭৫টি পরিবার রয়েছে।

    সুশীল কুমার বলেন, ২০২৪ সালের জুনে তারা নতুন নিয়োগ পেয়ে এই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। যোগদানের পর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কোনো অভিভাবকই তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাননি। এলাকার শিশুরা সলঙ্গা কেজি স্কুল, মোস্তফা কেজি স্কুল, সলঙ্গা বেসরকারি আদর্শ স্কুল ও স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আনতে পারিনি। শ্রেণিপাঠদান না হলেও আমরা বিদ্যালয়ে এসে অফিসের কাজ করি এবং নিয়মিত বেতন পাই।’

    শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

    উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৭৮টি। এসব বিদ্যালয় তদারকির জন্য ১১টি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে মাত্র একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে এতগুলো বিদ্যালয় একজন কর্মকর্তার পক্ষে যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব ছিল না।

    তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থার বিষয়টি দেখতে পান। সেদিন বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আনার চেষ্টা চলছে।

    স্থানীয় অভিভাবক মনিরা ও আনোয়ারা খাতুন বলেন, একসময় বিদ্যালয়টিতে কিছু শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ভালো পড়াশোনা না হওয়ায় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কমে যায়। পরে তারা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। শিক্ষকদেরও আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি এলাকার মানুষও শিক্ষার বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন। বিদ্যালয়টি রক্ষায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের এখানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় শত শত কৃষক এই অবরোধে অংশগ্রহণ করেন। এতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

    গত দু’মাস ধরে পুঠিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধান চাষের ভরা মৌসুমে ন্যায্য মূল্য দিয়েও সার পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা। সরকারি দামে সার কেনা কৃষকের কাছে এখন যেন সোনার হরিণ। টিএসপি আর ডিএপি সারের তো দেখাই মিলছে না ডিলারদের কাছে। এগুলো ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর আগেই যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। বেশি দাম দিলে খুচরা ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে।

    কৃষকরা সরকারি বাজারমূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। সরকার নির্ধারণ করে দেয়া সারের বাজারমূল্য প্রতি কেজি পটাশ ২০ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা। অথচ অজানা কারণে ডিলার-সাব ডিলারের হাত ঘুরে বালাইনাশক বিক্রেতাদের দোকানে টিএসপি ৬০ টাকা, ডিএপি ৫০ টাকা আর এমওপি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের কাছেও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের শর্ত হচ্ছে সারের সাথে বালাইনাশকের ওষুধগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে।

    অবরোধে অংশ নেয়া কৃষক আব্দুস সালাম জানান, চার বিঘা রোপা আমন ধান রোপণ করেছি কিন্তু সারের অভাবে ধান চাষ করতে পারছি না ঠিকমতো। ডিলারদের কাছে গেলে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সারের অভাবে ধান চাষে লাভবান হতে পারবে না কৃষকরা। সার কিনতে গেলে ডিলারদের কাছে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্বিগুণ দাম দিলে বালাইনাশকদের কাছে সার মিলছে।’

    এদিকে বানেশ্বরে কৃষকদের অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতি মাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ আসছে। তবে ধান চাষের মৌসুমে চাষের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।’

    ডিলারদের কাছে সার নেই, সব সার বালাইনাশক বিক্রেতাদের কাছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকেন তিনি।

  • যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

    যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় তার চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তার (প্রবাস কুমার) বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

    তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির দায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তার একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তার বক্তব্যগুলো বিভিন্ন সময়ে লিখিত আকারে পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।

    এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাস কুমার নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ক্লাস উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের চেম্বারে যান। পরবর্তীতে সে শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষক তাকে সাজেশনের কথা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন দেন এবং ছবি তুলতে নিষেধ করে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর শরীরের একাধিক স্থানে অশোভন স্পর্শ করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন।

    পরে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা।এ ঘটনা তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের দ্বারা গঠিত একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠিত হয়। তাদের তদন্ত রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

  • রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৮ জানুয়ারি, আবেদন ১২ নভেম্বর থেকে

    রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৮ জানুয়ারি, আবেদন ১২ নভেম্বর থেকে

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। এবার সাতটি বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক আবেদন করতে পারবেন।

    রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার দুপুরে প্রশাসন ভবন-১-এর কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত ভর্তি উপ-কমিটির সভায় এসব বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

  • পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও

    পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর চারঘাটে পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছেন শ্বশুরও। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার অনুপামপুর কলোনিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    তারা হলেন- মৃত রেকাত আলীর ছেলে শমসের আলী (৬০) ও শরিফুল ইসলামের স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৫)।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতের বাড়ির ভেতরে একটি ভ্যান চার্জে দেওয়া ছিল। সেখান থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগের একটি তার গোয়াল ঘরের দিকে নেওয়া হয়। ওই বৈদ্যুতিক তারের পাশেই কাপড় শুকানোর জন্য একটি দড়ি টাঙানো ছিল। শুক্রবার দুপুরে তানিয়া বেগম ওই দড়িতে ভেজা কাপড় শুকাতে দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তার শ্বশুর শমসের আলী পুত্রবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকদিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক তারের ওপর ভেজা কাপড় দিতে গিয়ে প্রথমে পুত্রবধূ তানিয়া বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার শ্বশুর শমসের আলীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে দুজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    চারঘাট মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের দুজন মারা গেছেন।

  • রাজশাহীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিষ্কার হলো সড়ক-ড্রেন

    রাজশাহীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিষ্কার হলো সড়ক-ড্রেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নগরীর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে নগরীর অক্ট্রয় মোড় (রুয়েট প্রাচীর) থেকে ফ্লাইওভার পর্যন্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় নগরজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে জন্মানো আগাছা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে সড়কে জমে থাকা কাদামাটি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং ড্রেনের মুখে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়।

    রাসিক জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সড়ক ও ফুটপাতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

    নগরীর পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ দফতর।

    অভিযানকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু, মনিটরিং কর্মকর্তা (মশক) এবং পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত

    সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত

    রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা: আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ‘সাংবাদিক ইব্রাহিম হোসেন সম্রাটের ওপর সন্ত্রাসী হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ‘রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    দৈনিক গণকণ্ঠের রাজশাহীর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট এবং ক্যামেরাম্যান আবিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, দখলবাজি ও নানা অপরাধের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কোনো সাংবাদিক হামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর হুমকি। হামলা, ভয়ভীতি কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের পথ কখনোই রুদ্ধ করা যাবে না। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজশাহীসহ দেশের সাংবাদিক সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, হামলায় জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে এ ধরনের অপরাধ আরো উৎসাহিত হবে, তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।’

    সাংবাদিক নেতা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সব ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।’

    এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এস এম আব্দুল মুগনী নীরো, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

    এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের গড়ে তোলা হবে।

  • ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ

    ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তে দু’টি কমিটি গঠনসহ পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি মেনে নেয়ায় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রায় আট ঘণ্টা অবরোধের পর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয় তদন্ত করবে এবং অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন।
    সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
    রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।’এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে প্রায় আট ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
    পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

  • দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    বৃহস্পতিবার ২৫ জুন এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো— পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া বউবাজারের দুলালের দুই মেয়ে দুলালী বেগম (২২), তার ছোট বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরভী খাতুন (১৪) ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম (১৯)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুলালী বেগম, তার ছোট বোন সুরভী খাতুন ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম বাড়ির পাশে মরা কাল নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় আকস্মিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যায় তারা।

    পরে ঘণ্টাখানেক পরও তাদের বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকজন নদীর ধারে গিয়ে দেখতে পায়, তাদের জামা-কাপড় নদীর ধারে পড়ে আছে অথচ তারা তিনজন নিখোঁজ। এ সময় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা একটি মুঠ জাল (ঝাকি জাল) নদীতে ফেললে ওই তিন নারীর লাশ জালে উঠে আসে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, মরা কাল নদীর বউবাজার ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নারী-পুরুষ গোসল করে আসছে। কিন্তু চলতি বছর আকস্মিকভাবে নদীর তলদেশ গভীর হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    পাবর্তীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে

  • বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার

    বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার

    কৃষি বিষয়ক তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা ‘কৃষি কথা’। এ পত্রিকার গ্রাহক সংগ্রহে অসাধারণ সাফল্যের জন্য বগুড়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রাহক সংগ্রহ করে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস।

    ১৪৩২ বঙ্গাব্দে বগুড়া অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৯৩ জন গ্রাহক সংগ্রহ করায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: গাজীউল হককে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

    গত ১২ জুন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মানিত পরিচালক মো: মসীহর রহমানের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন মো: গাজীউল হক।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, ফসল ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন, কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সরকারি কৃষি সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে ‘কৃষি কথা’ পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    এ পত্রিকার গ্রাহক বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি তথ্যকে আরো বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর ফলেই এ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, বিভিন্ন কৃষি সভা, উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ‘কৃষি কথা’ পত্রিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে পত্রিকাটির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহক সংখ্যা আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পায়।

    পুরস্কার প্রাপ্তির পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: গাজীউল হক বলেন, ‘এ অর্জন শুধু আমার একার নয়, নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি জ্ঞান ও প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে আমরা ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব।’

    কৃষি সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের স্বীকৃতি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি আরো উৎসাহিত করবে এবং কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে কৃষকদের মাঝে নির্ভরযোগ্য কৃষি তথ্য পৌঁছে দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসের এ অর্জনে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

  • পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার

    পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার

    পাবনার আতাইকুলায় স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করেছে আতাইকুলা থানা পুলিশ। এছাড়াও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে যুবদল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আতাইকুলা থানা পুলিশের টিম।

    গ্রেফতার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকার আড়িয়াডাংগী গ্রামের মরহুম নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল রোববার (১৪ জুন) সারারাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীর মা আবুল কাশেমকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীকে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল রোববার অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয়রা।

    এদিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকেও আবুল কাশেমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তার সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়।

  • ধুনটে খালের পানিতে পড়ে ৬ বছরের শিশু নিখোঁজ

    ধুনটে খালের পানিতে পড়ে ৬ বছরের শিশু নিখোঁজ

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় খালের পানিতে পড়ে মারজিয়া খাতুন (৬) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিখোঁজ মারজিয়া খাতুন নবীনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির পাশের আড়িয়ামারা খালের দাবুর বাড়ির ঘাট এলাকায় অন্য শিশুদের সাথে খেলছিল মারজিয়া। একপর্যায়ে সে খালের পানিতে নেমে পড়ে। সাঁতার না জানায় খালের তীব্র স্রোতে সে তলিয়ে যায়। এ সময় অন্য শিশুদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান।

    পরে খবর পেয়ে ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় খালের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের ফায়ার ফাইটার সাব্বির হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে খালের পানিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তবে খালের তীব্র স্রোতের কারণে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    তিনি আরো জানান, বিষয়টি রাজশাহী বিভাগের ডুবুরি দলকে অবহিত করা হয়েছে। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

  • ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলের দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

    নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ও মেস সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তাঁর এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মাহফুজুরের কক্ষে (৪১৫ নম্বর) দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান, মাহফুজুরের চার-পাঁচ বছর ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

    এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, ‘মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

    ওসি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তাঁর পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

  • দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীকে (৪৬) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

    শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর পুলিশ মো. মুরাদ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), তাঁর ভাই মো. বুলবুল (২৮) এবং যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা মামলাটি মিথ্যা দাবি করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আসছেন। তাঁর দুই ছেলে। একজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অন্যজন মায়ের সঙ্গে থাকেন। মামলার পর শনিবার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এজাহারে ওই নারী দাবি করেন, ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেই বাড়িতে ওঠেন। সেদিনই রাত ৯টার দিকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে ধরেন। এরপর ওই নারীকে জড়িয়ে তাদের অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোন লুট করেন।

    লুটপাটের পর আসামি সাইফুল ওই নারীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করেন। এরপর ফিরোজ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে আসামি মুরাদকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি ফিরোজ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানে চড়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

    জানতে চাইলে জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ বলেন, ওই নারীর বাড়িতে এক ছেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিল। এলাকাবাসী তাঁদের ধরেছিল। তারপর সিদ্ধান্ত হয় যে ওই রাতেই তাঁকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তিনি তাঁকে মোটরসাইকেলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওই নারী নলডাঙ্গা চলে যান। এখানে লুটপাট ও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনৈতিক কাজের জন্য গ্রামছাড়া করার কারণে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

    পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা মিথ্যা নাকি সত্য, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

  • আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    খুনের পর লুট হয় একটি মুঠোফোন। এরপর সেটি একের পর এক হাতবদল হয়েছে—মোট আটবার। কখনো ৫০০, কখনো ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেটি। হত্যার রহস্যের কোনো কূলকিনারা না পেয়ে প্রায় এক বছর পর সেই ফোনের খোঁজে নেমেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান খুনের পরিকল্পনাকারীদের কাছে। আর তাতেই উন্মোচিত হয় রাজশাহীর বাগমারায় মা–ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

    ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন আকলিমা বেওয়া (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান (২৮)। ধারালো অস্ত্রে তাঁদের হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন আকলিমার আরেক ছেলে দুলাল উদ্দিন বাগমারা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিল বাগমারা থানা–পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জানা যায়, তাঁরা কেউই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এক বছর পর মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তখনই তদন্তকারীরা নজর দেন খুনের পর আকলিমার নিখোঁজ হওয়া মুঠোফোনের দিকে। মুঠোফোনটি আটবার হাতবদল হয়ে তত দিনে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে। এই মুঠোফোনটিই হয়ে ওঠে পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া প্রধান আলামত।

    সূত্র মিলল হারিয়ে যাওয়া ফোনে

    পিবিআইয়ের তদন্তে দেখা যায়, খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর সেটি একের পর এক ব্যক্তির হাতে বিক্রি হতে থাকে। তদন্তকারীরা ফোনটির আইএমইআই নম্বর ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন।

    ফোনটি কার কাছ থেকে কার কাছে গেছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে—প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে মা–ছেলেকে হত্যার পর হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

    পিবিআই জানায়, মুঠোফোনের হাতবদলের পর্যায়ক্রম পর্যালোচনা করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে নিহত আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান ছিলেন।

    হত্যাকাণ্ডের শিকার আকলিমা বেওয়া ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আকলিমার সঙ্গে আবুল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও আকলিমার বিরোধ ছিল। আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমানের পরিকল্পনায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে মা–ছেলেকে খুন করানো হয়। মুঠোফোনটি নিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান জোড়া খুনের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

    —মোস্তফা কামাল, পিবিআইয়ের প্রধান

    পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, জোড়া খুনের এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ ক্লু ছিল একটি মুঠোফোন। খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি লুট হয়েছিল। তারপর আটজনের হাতে ঘুরেছে। কিন্তু সেই মুঠোফোনের হাতবদলের ক্রম অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

    ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি

    পিবিআই সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ এবং ক্লুলেস মার্ডার মামলার তদন্ত’ শীর্ষক বইয়ে এই মামলার তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বইটি প্রকাশিত হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ছিলেন স্থানীয় মাতবর। নানা কারণে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আবার মাদকের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আকলিমার সঙ্গে হাবিবুর রহমানেরও বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের জেরেই আকলিমাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমান।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভাড়াটে খুনি সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল হাবিবুর রহমানের। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ ভাড়াটে খুনি জোগাড় করা হয়।

    মা–ছেলে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিতরা

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে ভাড়াটে খুনিদের আবুল হোসেন মাস্টার মোটরসাইকেলে পথ দেখিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেন। খুনিরা তাঁর মোটরসাইকেল অনুসরণ করে আকলিমার বাড়ির সামনে আসেন।

    পিবিআই জানায়, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে আকলিমা ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সময় বাইরে মোটরসাইকেল পাহারায় ছিলেন আরেক ব্যক্তি। হত্যার পর আকলিমার মুঠোফোন নিয়ে খুনিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

    দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আকলিমা–জাহিদ হত্যা মামলার রায় দেন আদালত।

    আদালত আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরেকজন দুর্গাপুরের দেবীপুরের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্য ও ভাড়াটে খুনিদের দলের নেতা।

    এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুর্গাপুরের শ্যামপুরের আবদুল্লাহ আল কাফি, রুহুল আমিন, খিদ্রকাশিপুর গ্রামের রুস্তম আলী ও খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

  • রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    ‘নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছি না, দুই বছর ধরে মুনাফাও বন্ধ। সংসার চালাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ‘হেয়ারকাট’ বাতিল, পূর্ণ আমানত ও মুনাফা ফেরত এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন তারা। রোববার (১০ মে) সকালে নগরীর অলোকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (জিআইবি), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ারকাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় জমাকৃত টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য অমানবিক ও বৈষম্যমূলক।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নওশীন জাহান, মো: আপেল মাহামুদ, তাহমিদুল হক, মো: ফয়সাল কবির ও মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা।

    তারা বলেন, অনেক পরিবার জমি, বাড়ি বিক্রি, প্রবাসী আয়, পেনশন কিংবা ব্যবসার সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে রেখেছিলেন। সেই টাকার মুনাফার ওপর নির্ভর করেই চলত সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে না পারায় বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লাখো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা দাবি করেন, দেশে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় তিন কোটি পরিবারের সদস্য এই সঙ্কটের সাথে জড়িত।

    ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘হেয়ারকাট’ বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে; অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখতে হবে; এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা পূর্ণ মুনাফাসহ পরিশোধ করতে হবে এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার করতে হবে।

    বক্তারা আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। নিজেদের টাকা তুলতে না পারলে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীতেও চট্টগ্রামের মতো ব্যাংক শাখায় তালা ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    মানববন্ধন শেষে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

  • মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে একজনের পরীক্ষার পর হাম শনাক্ত করা গেছে। বাকি ২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।

    সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে পজিটিভ আছে একজন। বাকি ২৯ জনের নমুনা টেস্ট করে হাম পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

    অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত কর্নার এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুটি ওয়ার্ডের কর্নারে আলাদা করে আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রোগী বাড়লে আমার সেটি দেখব।

    আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটি চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগজনক। তবে এক বছরের ওপরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।

    রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, ১ হাজার ২শ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বাঘা শাহী মসজিদ

    ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বাঘা শাহী মসজিদ

    ১৫২৩-১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ। বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোট ও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে রয়েছে প্রাচীন এই স্থাপত্যটি।

    পুরো মসজিদজুড়ে অপরূপ কারুকাজ আর টেরাকোটার নকশায় সুসজ্জিত ১০ গম্বুজের মসজিদটিতে রয়েছে পাঁচটি দরজা। মাঝখানের দরজার ওপর ফারসি হরফে একটি শিলালিপি লেখা রয়েছে, যা প্রধান ফটক থেকে অপরূপ নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের ভেতরে টেনে। মসজিদটির চার কোনায় চারটি চৌচালা গম্বুজ, ভেতরে ছয়টি স্তম্ভ। রয়েছে চারটি অপূর্ব কারুকার্যখচিত মিহরাব। মিহরাবের নকশায় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী আম, গোলাপ ফুলসহ নানা রকম নকশা রয়েছে।

    ১৫২৩-২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলার স্বাধীন সুলতান নুসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। সামনে খনন করেছিলেন প্রায় ২৫৬ বিঘা জমির ওপর সুবিশাল দিঘি। রয়েছে আউলিয়াদের মাজার, মূল দরগাহ শরিফ ও জাদুঘর।

    স্থাপত্যশৈলীর আকর্ষণে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে আসেন বাঘার এই মসজিদটি দেখতে। মসজিদটি সমতল থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু বেদির ওপরে। মসজিদটির আঙিনা ঘিরে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে দুটি প্রবেশপথ। প্রবেশপথ দুটির দুপাশেই রয়েছে দুটি ফটক। দক্ষিণ পাশের ফটকটি ঠিক থাকলেও উত্তর পাশেরটির অবস্থা আর আগের মতো নেই।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট, প্রস্থ ৪২ ফুট, উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেয়াল চওড়ায় ৮ ফুট। গম্বুজের ব্যাস ২৪ ফুট, উচ্চতা ১২ ফুট। এ ছাড়া সবখানেই টেরাকোটার নকশা। ২০০৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অনুরূপ নকশা প্রতিস্থাপন করেছে। সিরাজগঞ্জের টেরাকোটা শিল্পী মদন পাল কাজটি করেছিলেন। ৫০১ বছরে পা দেওয়া মসজিদটিকে দেখতে এখনো দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। ইতিহাস খুঁজতে আসেন ইতিহাসবিদেরাও। প্রাচীন অন্যতম এই নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন সবাই।বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে আসা দর্শনার্থী সেকাদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাঘা মসজিদের ছবি দেশের ৫০ টাকার নোটে রয়েছে। একই সঙ্গে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটেও দেখা যায়। প্রাচীন স্থাপত্যের এই নিদর্শনটি অনেক সুন্দর। না দেখলে বলা যাবে না এটি কত সুন্দর। মসজিদটি ঘিরে যে ধরনের টেরাকোটার নকশা রয়েছে; তা এই যুগের স্থাপনায় দেখা যাবে না। আসলে সেই সময় প্রযুক্তির ছোঁয়া না থাকলেও এত সুন্দর কাজ সত্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

    বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে এসে মেয়ের রোগমুক্তির আশায় আল্লাহর কাছে দোয়া করে মসজিদে মুরগি দিলেন সালমা খাতুন। শুধু সালমা খাতুন নয়, তার মতো অনেকেই মুরগি দিচ্ছেন। এ ছাড়া মসজিদের পূর্বদিকের পুকুর পাড়ে বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে ও বিভিন্ন ইচ্ছা পূরণের আশায় আসা অনেকেই রান্না করে মানুষদের খাওয়ান।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের যানবাহনগুলো মসজিদের দক্ষিণ পাশে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রয়েছে মসজিদ ঘিরে আউলিয়াদের মাজার,
    দরগা শরিফ ও জাদুঘর। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে হজরত শাহ দৌলা (র.) এবং তার পাঁচজন সঙ্গীর মাজার। মাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে হজরত শাহ (র.)-এর পরিবারের সদস্যদের মাজার। মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরে দক্ষিণ-পশ্চিমে দুজন বাগদানি দরবেশের মাজার। এ ছাড়া এখানে আসা জহর খাকী পীরসহ আরও অনেক সাধকের মাজার রয়েছে চারপাশে। আর পাশেই রয়েছে নারী মসজিদ। দর্শনার্থীরা বাঘা মসজিদ ছাড়াও আশপাশের আউলিয়াদের মাজার ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে সুবিশাল দিঘীর পাড়ে বসে অনেকেই সময় কাটান।

    মসজিদের মুয়াজ্জিন শাফিকুল ইসলাম প্রায় ১০ ধরে আছেন বাঘার শাহী মসজিদে। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, বছরের এই সময়টায় প্রচুর মানুষ (দর্শনার্থী) আসেন বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে। এ ছাড়া অনেক পুরোনো এই মসজিদে জুমার দিনে নামাজ আদায় করতে দূরদূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ আসেন।

    প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের বাঘা জাদুঘর মডেলার (সংযুক্ত) মো. এনায়েত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৫০১ বছর চলছে রাজশাহীর বাঘা মসজিদের বয়স। এখানে একটা জাদুঘর রয়েছে। এটি দেখতে সারা বছরই দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসেন। তবে বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রচুর দর্শনার্থী আসেন বাঘায়।
    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব এবং খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল আলম বলেন, বাঘা শাহী মসজিদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। তারাই মসজিদের দেখভাল করেন। এটি প্রাচীনতম একটি মসজিদ। প্রায় ৫০০ বছরের বেশি বয়সের মসজিদ এটি। বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোট ও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে দেখা যায় প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন শাহী মসজিদটিকে।

    বাঘা শাহী মসজিদের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী, রংপুর বিভাগ ও বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. নাহিদ সুলতানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১৫২৩ থেকে ১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদটির বয়স ৫০১ বছর। প্রতি বছরই প্রচুর দর্শনার্থী আসেন বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে।

    বাঘা শাহী মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মসজিদটির বয়স ৫০১ বছর হয়েছে। ওজুখানাসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আরও কাজ চলমান। মসজিদ থেকে যে টাকা উঠে সেগুলো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয়।

    যেভাবে যাবেন

    বাঘা মসজিদ দেখতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যারা রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের বাসিন্দা তাদের রাজশাহী শহরের বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাঘা উপজেলা সদরে যেতে হবে। এ ছাড়া যারা নাটোর জেলা হয়ে আসতে চান তাদের রাজশাহী শহরে না এলেও হবে। শহরের অদূরে পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজার হয়ে দক্ষিণে চারঘাটের রাস্তায় যেতে হবে। চারঘাটের পরের উপজেলা বাঘা।

    এ ছাড়া পুঠিয়া উপজেলা সদর থেকেও

    যেকোনো যানবাহনে সড়কপথে বাঘা শাহী মসজিদে যাওয়া যায়। তবে কেউ চাইলে ট্রেনেও আসতে পারেন মসজিদটি দেখতে। সেক্ষেত্রে দর্শনার্থীকে এমন ট্রেনে উঠতে হবে যে ট্রেন আড়ানী স্টেশনে থামবে। এরপর এই স্টেশন থেকে ভ্যান, অটোরিকশা বা সিএনজিতে যেতে হবে বাঘা উপজেলা সদরে। সেখান থেকে খুবই কাছে বাঘা শাহী মসজিদ।

  • গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় নারিকেল গাছ থেকে পড়ে কাজল (২৭) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ঝলমলিয়া পুরাতন ডাকবাংলো এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কাজল উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকার মো. কামালের ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত কাজল সব সময় নেশা করেন। নেশার টাকার জন্য মানুষের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল চুরি করে বিক্রি করে তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় রাতে বা ভোরের কোনো এক সময় ডাকবাংলোর ডাব গাছে উঠেন তিনি। এ সময় হঠাৎ ডাব গাছ থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ডাব গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • পদ্মার চরে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৭, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    পদ্মার চরে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৭, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    চারঘাটসহ পদ্মা নদীর চারটি চরে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ চালিয়ে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজশাহী জেলার পদ্মার চর থেকে ১৪ জন, নাটোর থেকে ২০ জন, পাবনা থেকে ২৪ জন এবং কুষ্টিয়া থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এই গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) রাত থেকে রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত পুলিশ, র‍্যাব ও এপিবিএনের প্রায় ১ হাজার ২০০ জন সদস্য কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী পদ্মার চরে অভিযান পরিচালনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, অভিযানে মোট ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি অস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি, দুইটি গুলির খোসা, ২৪টি হাসুয়া, ৬টি ডেসার, ২টি ছোরা, ৪টি চাকু, ৩টি রামদা, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ২০ বোতল ফেসনিডিল, ৫০ পিস ইয়াবা, ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৫টি মোটরসাইকেল ও একটি লোহার পাইপ।

    রাজশাহী জেলার পদ্মার চর থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে চারজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ছয়জন মাদক কারবারি, দুইজন ডেভিল হান্ট এবং দুইজন সর্বহারা। এ সময় উদ্ধার হয় তিনটি ওয়ান শুটারগান, একটি গুলি, একটি খোসা, ২০ বোতল ফেসনিডিল, ৫০ পিস ইয়াবা, ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৫টি মোটরসাইকেল, একটি হাসুয়া ও একটি ছোরা।নাটোর জেলার পদ্মার চর থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে চারজন হ্যাকার, ছয়জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, একজন সাজাপ্রাপ্ত, একজন হত্যা মামলার আসামি, দুইজন মাদক কারবারি এবং ছয়জন সন্দিগ্ধ। উদ্ধার হয় দুটি শুটারগান, একটি রিভলবার, ২২টি হাসুয়া, ৬টি ডেগার, চারটি চাকু, চারটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি পাইপ।

    পাবনা জেলার পদ্মার চর থেকে ২৪ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে একজন সর্বহারা, দুইজন মামলার আসামি, সাতজন ওয়ারেন্টভুক্ত, দুইজন ডেভিল হান্ট, চারজন মাদক এবং ৮ জন নিয়মিত মামলার আসামি। এসময় উদ্ধার করা হয় দুটি শুটারগান, তিনটি গুলি, একটি খোসা, দুটি পাইপগান, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি রামদা, একটি হাসুয়া ও একটি ছোরা।

    কুষ্টিয়ার পদ্মার চর থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে আটজন ওয়ারেন্টভুক্ত এবং একজন নিয়মিত মামলার আসামি। এই অভিযানে বাঘা থানার ডাবল মার্ডার ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা, একটি স্পিডবোড, অস্ত্র রাখার একটি সিলিন্ডার, দুটি তাবু এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার পদ্মার চরে কাঁকন বাহিনীসহ ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। রোকনুজ্জামান কাঁকন ইঞ্জিনিয়ার কাঁকন নামে পরিচিত। তার বাহিনীর নৃশংসতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন উদ্বিগ্ন। অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে মন্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বা

    বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী ও নাহারুল বাহিনী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব বাহিনীকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    প্রসঙ্গত, ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের হবিরচরে কাঁকন বাহিনীর গোলাগুলিতে বাঘা উপজেলার নিচখানপুরের আমান মন্ডল ও নাজমুল মন্ডলের মৃত্যু হয়। পরের দিন ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, নিহত লিটন কাঁকন বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

  • মোহনপুর কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের পান

    মোহনপুর কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের পান

    শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষকের পানের বরজে কোল্ড ইনজুরিসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে পানপাতা লালচে, হলুদবর্ণ ছাড়াও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পানের বরজগুলোতে।

    জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় এবছর পান চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থকরী এই ফসলটি কেনাবেচায় স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে হাট-বাজার। ফলে চাষিদের পান কেনাবেচায় দূরের কোথাও যেতে হয় না।

    মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে পানপাতায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কোনো কোনো পানের বরজে কোল্ড ইনজুরিতে গোড়া পচন রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে পানপাতা লালচে, হলুদবর্ণ ধারণ করছে। আবার কিছু কিছু পানের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে।

    চাষিরা জানান, প্রথম পান লালচে ও হলুদবর্ণের হয়ে যাচ্ছে। এরপরে পাতার নিচের অংশে শুকাতে শুরু করছে। একপর্যায়ে পুরো পানপাতা শুকিয়ে ঝড়ে যাচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তারা বলছেন, বছরের এই সময়ে তুলনামূলক পানের দাম বেশি থাকে। তাই তাদের লোকসানটাও বেশি হচ্ছে।

    কেশরহাটের কীটনাশক দোকানি কোবাদ আলী বলেন, ঠান্ডায় পান ঝরেপড়া বন্ধের জন্য সঠিকভাবে কোনো কীটনাশক কাজে আসে না। তবে কৃষকরা রিপকর্ড কনফিডর, সালকক্স, চিলেটেড জিংক ও রুট শক্তি এই জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন।

    এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষার জন্য চাষিদের পলিথিন ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • ৩৬ বিঘা পানের বরজ পুড়ে ছাই

    ৩৬ বিঘা পানের বরজ পুড়ে ছাই

    মাত্র আধাঘণ্টায় ৩৬ বিঘা জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খোদাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬০ জন পানচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    ফায়ার সার্ভিস বলছে, ধারণা করা হচ্ছে- বিড়ি বা সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে কৃষকের ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোদাপুর সরদারপাড়া বিলের পান বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় পানের বরজে কোনো লোকজন ছিল না। ওই বিলের পান বরজের দক্ষিণ পাশে আগুন জ্বলতে দেখে পান বরজের কয়েকজন কৃষক। তারা চিৎকার শুরু করলে গ্রামের আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে। অবশেষে দুটি ইউনিটের দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    খোদাপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমান আলী জানান, তখন জুমার নামাজের সময়। হঠাৎ বিলের পান বরজের দক্ষিণ পাশে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তেই বড় আকার ধারণ করে ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় কৃষক ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তার আগেই আমাদের ২০ বিঘা জমির পান বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৬০ জন পানচাষির ৩৬ বিঘা জমির পানের বরজ পুড়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

    তবে বাগমারা ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে- বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকে ঘটনার সূত্রপাত।

    এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক। কৃষি অফিসারের মাধ্যমে ভিজিট করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

  • জেলের জালে ৭৬ কেজির বাঘাইড়!

    জেলের জালে ৭৬ কেজির বাঘাইড়!

    রাজশাহীর পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়েছে ৭৬ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার হরিশংকরপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলে মো. মাসুমের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

    শনিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলে মো. মাসুম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মাছ ধরতে পদ্মা নদীতে যাই। আমরা ৪ জন ছিলাম। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর গভীর রাতে মাছটি আমাদের জালে উঠে।

    পরে ওজন দিয়ে দেখি মাছটি ৭৬ কেজি। আমি ১৮ বছর ধরে মাছ ধরছি। কিন্তু আগে কখনো এতবড় মাছ পাইনি। এবারই প্রথম এতবড় মাছ আমার জালে উঠেছে। মাছটি ৮০০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারে কেটে বিক্রি করেছি। মাছটি বিক্রি করে মোট ৮০ হাজার টাকা পেয়েছি।

    জেলে মো. মাসুম বলেন, বিশাল মাছটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। শনিবার দুপুরে মাছটি বিক্রি শেষ হয়। বড় পাটি না পাওয়ায় কেটে বিক্রি করতে হয়েছে। দামও পেয়েছি তুলনামূলক কম। অন্য সময়ে ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দাম হত, কিন্তু এখন মাত্র ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হলো। তবুও আমি অনেক খুশি।

    এদিকে, বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছটি দেখতে হরিশংকরপুর বাজার এলাকায় ভীড় জমান আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ। উৎসুক জনতার অনেকে মাছটির সাথে সেলফিও তোলেন।

  • কারিমার মেডিকেল জয়

    কারিমার মেডিকেল জয়

    হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী কারিমা খাতুন। এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (এমবিবিএস) বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। হতদরিদ্র বাবার একমাত্র মেয়ে কারিমার এমন সাফল্যে খুশির জোয়ারে ভাসছে এলাকাবাসী।

    কারিমা রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আব্দুল করিম মন্ডলের মেয়ে। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ৭৮ নম্বর নিয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে দুর্গাপুর উপজেলার বেলঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০২৩ সালে রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসি দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ- ৫ পান তিনি।

    কারিমার বাবা আব্দুল করিম মন্ডল বলেন, আমার দুটি সন্তান এক মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। ছেলেটিও এইচএসসি পাস করেছে। আমি একজন দরিদ্র মানুষ, দিন এনে দিন খাই। পরের জমিতে কামলা দিই। খুব কষ্ট করে আমার সংসার চালাতে হয়। তারপরও আমার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাতে কমতি রাখিনি।

    করিম মন্ডল আরও বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানি এবং আমার সন্তানদের শিক্ষকদের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। মেয়ে যেন বড় ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

    কারিমা খাতুন বলেন, বাবা পেশায় দিনমজুর হলেও কখনো লজ্জাবোধ করি না। নিজেকে ছোট ভাবি না। কারণ বাবা সৎভাবে কাজ করে টাকা উপার্জন করে। আমরা দুই ভাই-বোন। আমি ছোট ভাই বড়। ভাই ডিএমডি রোগে আক্রান্ত, হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। এই রোগের চিকিৎসা এখনো আসেনি। তারপরও ভাই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কারিমা বলেন, আমি একজন ভালো ডাক্তার হতে চাই। সবার পাশে থাকতে চাই। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। প্রতিবন্ধী ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে চাই।

    নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ রেজাইল করিম বলেন, কারিমা মেডিকেলে চান্স পাওয়ার কারণে আমরা অনেক খুশি। সে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার বাবা একজন দিনমজুর। মানুষের কাজ করে তার বাবা সংসার চালান এবং ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করান। আমরা এলাকাবাসী হিসেবে দোয়া করি কারিমা যেন বড় ডাক্তার হতে পারে এবং এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর সেবা করতে পারে।

  • রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    ‘বাজারে মুলা তোলার আগেই সব শেষ হইয়া গেল—এই যে জমি, এখন শুধু পানি আর পানি।’ গতকাল শুক্রবার সকালে জমির সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামের কৃষক রাব্বানী মন্ডল। রাব্বানীর চোখের কোণে পানি, পায়ের নিচেও হাঁটুসমান পানি। একসময় যে জমি ভরে উঠেছিল মুলার গাছে, এখন সে জমি ডুবে রয়েছে বৃষ্টির পানিতে।

    নভেম্বরের শুরুতেই অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে এখনো এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার হাজারো কৃষক এখন বড় ক্ষতির মুখে। শাক থেকে শুরু করে ঢ্যাঁড়স, মুলা, পেঁয়াজ; এমনকি আমন ধান—সব ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪ হাজার ২০০ জন। দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তবে বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, ১৯৮৬ সালের পর এই সময়ে এমন বৃষ্টি আর কখনো দেখেননি তাঁরা। গতকাল সকালে পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামে গিয়ে কথা হয় কৃষক রাব্বানী মন্ডলের সঙ্গে। মুখে বিষণ্ণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আষাঢ় মাসেও এমন বৃষ্টি হয় না, যে বৃষ্টি এবার হইছে। এখনো পানি নামেনি। ৫ বিঘা জমি পানির নিচে। চারপাশে পুকুর, পানি নামারও পথ নাই।’

    রাব্বানী আরও বলেন, ‘সরকার যদি পাশে থাকে, তাহলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। তা না হলে কঠিন হবে।’

    পবা উপজেলার শিয়ালবেড়, পাইকপাড়া, দাদপুর ও মুরারীপুর গ্রামের মাঠজুড়ে একই চিত্র। যেদিকে চোখ যায়, এখনো চোখে পড়ে কেবল পানি। কোথাও ধান হেলে পড়েছে, কোথাও শাকসবজি ডুবে রয়েছে পানির নিচে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১২ কাঠা জমিতে শাকসবজি করেছিলাম, বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় তো বৃষ্টি হয় না।’

    একই এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ১ বিঘা জমিতে বি৮৭ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ধান কাটার আগেই নভেম্বরে অসময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি উঠেছে, বাতাসে ধানের গাছ হেলে পড়েছে। মাঠে দেখা গেল, কৃষকেরা কাদামাটি মাড়িয়ে হেলে পড়া ধান কেটে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁর ছেলে সোহানুর রহমান বলেন, ‘অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে। শ্রমিক খরচও বেশি হবে। মনে হচ্ছে খরচের টাকাও উঠবে না। তিন দিন পর বৃষ্টি হইলে এই সর্বনাশ হতো না।’

    পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, নভেম্বরের শুরুতেই যে বৃষ্টি হয়েছে, সেটি মূলত নিম্নচাপের কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন জমি শুকিয়ে দ্রুত নতুন ফসল লাগাতে পারেন।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রণোদনা এলে তা বিতরণ করা হবে।

  • নারীরা শিবিরেই সবচেয়ে নিরাপদ : ডাকসুর ভিপি

    নারীরা শিবিরেই সবচেয়ে নিরাপদ : ডাকসুর ভিপি

    রাজশাহী কলেজে আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম দাবি করেছেন যে, শিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ নেই। তার মতে, নারীরা শিবিরের কাছেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে বক্তব্য রাখেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ একটি উদাহরণ দেখাতে পারবে না যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে কোনো নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। নারীদের নিরাপত্তায় শিবিরের বিকল্প নেই।

    ডাকসুর ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেছেন, ছাত্রশিবিরের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর হাতে কোনো নারীর শ্লীলতাহানির নজির নেই। শিবিরের কাছেই নারীরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

    সাদিক কায়েম আরো বলেন, নারীদের শিবিরের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা কোনো সংগঠন দিতে পারবে না। শিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে কেউ একটি উদাহরণ দিতে পারবে না যে শিবিরের কাছে কোনো নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, রাজশাহী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ সারা দেশের সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অতি দ্রুত দিয়ে দিতে হবে। আমরা রাজশাহী কলেজের ছাত্র সংসদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ থেকে কাজ করবো।

    রাজশাহী কলেজকে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ক্যাম্পাস হিসেবে উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ছাত্র সংসদ ক্যাম্পাসের সব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এই ক্যাম্পাসকে নেতৃত্ব দেবেন। আপনাদের সমস্যা সংকট সবকিছু ছাত্রনেতাদের মাধ্যমে ওঠে আসবে ও এই সমস্যার সমাধান ছাত্র নেতৃত্বদের মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব। আবাসন সমস্যা থেকে শুরু ক্যাম্পাসের যাবতীয় সমস্যা দূরীকরণে ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    জুলাই বিপ্লবে তরুণ সমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণরাই জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছে ও বিপ্লব সফল করেছে। তরুণরা বলেছে, বাংলাদেশে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে না। তরুণরা দিল্লির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, তাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছে ও রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করেছে। বৈষম্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত ও নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এসময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক ও সাবেক রাজশাহী মহানগর সভাপতি মো. সিফাত আলম, রাকসু ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, রাজশাহী মহানগর সভাপতি মোহা. শামীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে রাজশাহী কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন।

  • রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যায় একমাত্র আসামির ৫ দিনের রিমান্ড

    রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যায় একমাত্র আসামির ৫ দিনের রিমান্ড

    রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) বাসায় ঢুকে খুনের ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত লিমন মিয়ার (৩৫) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর ঘটনাটির বিষয়ে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে তার রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ।

    এ সময় শুনানি শেষে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে রাজপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর ঘটনাটির বিষয়ে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • বিচারকের ছেলের হত্যাকারী আটক

    বিচারকের ছেলের হত্যাকারী আটক

    রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ (জেলা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে লিমন মিয়া নামে এক যুবক।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে এ হামলায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী গুরুতর আহত হয়েছেন। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এর আগে ওই যুবক বাড়ির ফটকে নিরাপত্তাকর্মীদের জজের স্ত্রীর ভাই পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে। হত্যার ঘটনার পর জ্ঞান হারিয়ে পড়ে ছিলেন হত্যাকারী লিমন। পরে তাকে আটক করেছে পুলিশ। আটক লিমন মিয়ার (৩৫) বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি এলাকায়।

    রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, হামলাকারী যুবকও বিচারক পরিবারের পূর্বপরিচতি বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লিমন বিচারকের বাসায় প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ধারাল অস্ত্রের কোপে তাওসিফ রহমান সুমন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় বিচারকের ছেলে ও স্ত্রী তাসমিন নাহারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনা সময় বিচারক আবদুর রহমান বাসায় ছিলেন না। খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান।

    এদিকে হামলাকারী যুবক লিমন মিয়াও আহত অবস্থায় এখন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আরএমপির মুখপাত্র ও উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সেখানে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে লিমনও আহত হন।’

    রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল কাজ করছে। হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হামলাকারী লিমন মিয়া যেহেতু অজ্ঞান অবস্থায় আছে, তাই এখনই কী কারণে এটি ঘটেছে—সেটি বলা যাচ্ছে না। আমরা তদন্ত করছি।’

    গত ৬ নভেম্বর সিলেটের সুরমা থানায় একটি জিডি করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী লুসি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, লিমন মিয়ার সঙ্গে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে তার পরিচয় হয়। এরপর তার দারিদ্রতার কারণে লিমনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন লুসি। একপর্যায়ে সহযোগিতা করা বন্ধ করে দিলে লিমন আরও টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করলে লিমন গত ৩ নভেম্বর তাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি সিলেটের সুরমা থানায় নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে লিমনের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন।

  • রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

    রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

    বিডিনিউজ ডেক্স

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ৩০ অক্টোবর ২০২৫:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি আজ তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে রয়েছেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান। কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য কয়েকটি সুপারিশ প্রদান করেছে।

    ঐ ঘটনা তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেউ যদি অতিরিক্ত কোনো তথ্য বা মতামত জানাতে চান তবে তা দ্রুত কমিটিকে জানাতে আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

  • ৫৫ লাখ টাকার সোনার বারসহ রাজশাহীর এক যুবক গ্রেফতার

    ৫৫ লাখ টাকার সোনার বারসহ রাজশাহীর এক যুবক গ্রেফতার

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভারতে সোনা পাচারকারী একজনকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার হাটপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছে থেকে ২৯৪ দশমিক ১৩ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতার মো. মোশারফ হোসেন (২০) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চর আলাতলী ইউনিয়নের বকচর গ্রামের মো. নাইমুল ইসলামের ছেলে।
    গোদাগাড়ী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি বিশেষ দল। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোশাররফ পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে পাঁচটি সোনার বারের কাটা অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত সোনার ওজন ২৯৪ দশমিক ১৩ গ্রাম। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

    তিনি আরও বলেন, মোশারফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান পলাতক ডাবলু ও জাহিদসহ আরও দুই-তিনজনের সহযোগিতায় তিনি বিভিন্ন জেলা থেকে সোনা সংগ্রহ করে ভারতে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদ্ধারকৃত সোনা ও আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

    ওসি আরও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক সোনা পাচারচক্রের অংশ হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।