শিক্ষা ডেস্ক:
দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকটের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পতিত আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও অর্থায়ন ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিতে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি; আবার কোনোটিতে ভাড়া ভবনে চলছে সীমিত পরিসরের কার্যক্রম। ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সচল করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে বেসরকারি সহযোগিতা ও সীমিত সরকারি উদ্যোগে ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিরও একাডেমিক কার্যক্রম চলতি বছর শুরু হয়েছে। অন্যগুলোও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
* ২০২৩-এ আটটি ও ২০২৬-এ একটির অনুমোদন
* ভাড়া বাসায় কার্যক্রম, হচ্ছে সমালোচনা
দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকটের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পতিত আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও অর্থায়ন ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিতে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি; আবার কোনোটিতে ভাড়া ভবনে চলছে সীমিত পরিসরের কার্যক্রম। ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সচল করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে বেসরকারি সহযোগিতা ও সীমিত সরকারি উদ্যোগে ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিরও একাডেমিক কার্যক্রম চলতি বছর শুরু হয়েছে। অন্যগুলোও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৬২টি। এর মধ্যে ৫৫টির একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৩১টি। কিন্তু ক্ষমতায় এসে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই একের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে পতিত সরকার। এক পর্যায়ে দেশের সব জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। সে অনুযায়ী ২০২৩ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরো আট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে তৎকালীন সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। চব্বিশের বিপ্লবের পর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর এসে পড়ে।
নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা সমস্যা ও সংকটের কথা উঠে আসে ইউজিসি আয়োজিত সাম্প্রতিক উপাচার্য সংলাপ অনুষ্ঠানে। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যমান সংকট কাটাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয় আগের সরকারের সময়ে অনুমোদিত হলেও বর্তমান সরকার দায়বদ্ধতার কারণে সেগুলো বন্ধ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা বাজেটে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বাড়িয়ে সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে অন্তত পাঁচটি করে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী। আমার দেশকে তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য দুটি আবাসিক হল এবং লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার এবার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। আগামীতে আরো বাড়িয়ে তারা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করবেন।
ড. হাছানাত আলী আরো জানান, বিএনপি সরকারের সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আগে পিডি নিয়োগ করে তারপর চালু করা হতো। কিন্তু পতিত সরকার আগে ভিসি নিয়োগ করে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে শুরুতেই অব্যবস্থাপনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নাম বদলে নতুন যাত্রা
২০২৩ সালে অনুমোদিত আট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটির নামকরণ করা হয়েছিল মুজিব পরিবারের সদস্যদের নামে। জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলোর নাম পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামে নামকরণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্রমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে কয়েকটিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা উপদেষ্টার পক্ষ থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেগুলোতেও নতুন শিক্ষক-কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি স্থগিত রাখতে উৎসাহিত করা হয়। মূলত বাজেট সংকটসহ নানা কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন। ফলে এগুলো স্থবির হয়ে ছিল। তবে পরে সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎপরতা শুরু হয়। সে অনুযায়ী একটিতে একাডেমিক কার্যক্রম চালু ও আরো কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন আছে।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মহিবুল আহসান আমার দেশকে জানান, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
ভাড়া বাড়িতে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়
আইন পাসের প্রায় তিন বছর পর গত ১৮ জুলাই ভাড়া বাড়ির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে দুটি বিভাগে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। আইন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শুরু হওয়া প্রথম ব্যাচের ক্লাসের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম নেই। সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করলে মানসম্মত প্রতিষ্ঠান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এই উপাচার্য জানান, বেসরকারি সহযোগিতায় ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম, ওয়াই-ফাই ও ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুটি বিভাগে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়টি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দের কারণে পাবলিক ও প্রাইভেট উদ্যোগের নতুন ডাইমেনশন শুরু করা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এতে ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া ত্বরান্বিত হবে।
বহু আন্দোলন-সংগ্রামেও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি শিক্ষা
চালুর অপেক্ষায় মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার পর ভাড়া বাড়িতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়নি। গত তিন বছরে তেমন কোনো অগ্রগতি ছাড়াই পার হয়েছেন দুই উপাচার্য। সবশেষ প্রায় তিন মাস আগে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন। নানা সংকট নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় একাডেমিক কার্যক্রম চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে তার প্রশাসন।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি বাড়ি ভাড়া করে ক্লাসরুম প্রস্তুতের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় কাজ এগোতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে গতি বাড়বে। তাছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম চালু হলে বইসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছু প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।
দুই বিভাগে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও এগোচ্ছে ধীরে। ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৩ সালে আইনটি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বর্তমান সরকার নতুন ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২৬’ পাস করে।
২০২৫ সালের ৩ জুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান জানান, নতুন আইনের পর অর্গানোগ্রাম এবং আট ফ্যাকাল্টির অধীনে ১৬টি বিভাগ খোলার প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স ও অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আইন পাস হওয়ার প্রায় চার বছরের মাথায় বর্তমান সরকারের সময় উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। গত ২৫ আগস্ট নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত আমার দেশকে জানান, বাজেট, জনবল ও অস্থায়ী কার্যালয়ের প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হবে।
উপাচার্য বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে চাই। এর জন্য ছয় থেকে আট মাস লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা আগামী জুনে
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে গত ৬ মে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল। সাড়ে আট একর জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা এগোলেও আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুটি ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ছয়টি বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল আমার দেশকে জানান, বর্তমানে ইউজিসি অনুমোদিত অস্থায়ী কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ অনুমোদিত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। স্থায়ী ক্যাম্পাসের ৮.৫৫ একর জমিও সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে কাজের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি, মাস্টারপ্ল্যানসহ প্রজেক্ট তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন।
আগামী মাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু লবিপ্রবির
লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গত ৮ জুন উপাচার্য নিয়োগের পর পাঁচতলা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় তৈরির কাজ চলছে। আগামী বছর একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নির্বাচিত জমি পরিদর্শনে এ মাসেই ইউজিসি প্রতিনিধিদল আসবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
অন্যদিকে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো উপাচার্য নিয়োগ হয়নি। গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিগগির নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিও সংকটে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। নানা প্রক্রিয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদে এর অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যাদেশ জারির পর কার্যক্রম শুরু হয় এবং চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার আসনের বিপরীতে ৬১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির আলাদা ক্যাম্পাস হবে এবং সাত কলেজ এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তবে সেই কাঠামো বাস্তবায়নে সময় লাগবে। বর্তমানে বারিধারার একটি ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি অবকাঠামো, শিক্ষক, গবেষণা, আবাসন ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও পুরোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো নানা সংকটের পুনরাবৃত্তির মুখে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন