ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বারের মতো ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। প্রস্তাবের পক্ষে সব ভোটদানকারী ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্য ভোট দেন। এর মধ্যে তিনজন রিপাবলিকান প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২২০-২০৪ ভোটে একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেন, আলোচনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। আমি আরেকটি অনির্দিষ্ট যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

তবে এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত এমন কোনো প্রস্তাবই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও প্রস্তাবটি ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি এতে ভেটো দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তোলেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চলটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান। ট্রাম্প ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে এটিই শেষ ভোট হতে পারে। নির্বাচনের প্রচারে বিদেশের এই যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। এ সময়ে পালটাপালটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে এবং এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতারা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণকারী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

এদিকে নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং দেশটির অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতেও চাপ তৈরি করছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেস এর আগেও কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ জুন ও জুলাইয়ে দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও দশম প্রচেষ্টায় একই ধরনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান পরিবর্তন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্টও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনা প্রত্যাহারের জন্য আরও ৩০ দিনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।