জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা

শিক্ষা ডেস্ক:

জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‍্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান, টার্ম ফাইনাল ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে আজ বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং করেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪ তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) ১৩ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং করা হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং বাকি ১১ জন নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮ এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী তাদের এ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে।