ক্যাটাগরি কিশোরগঞ্জ

Kishoreganj district

  • করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন চংনোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৩৮) ও নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৪)। তারা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সকাল ৭টার দিকে শাহ আলম ও মোকাররম জাল নিয়ে গ্রামের সামনের হাওরে মাছ ধরতে যান। এ সময় হালকা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    সকাল ১০টা পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা হাওরে খোঁজ করতে যান। পরে হাওরের হাঁটুপানিতে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

    স্থানীয়রা জানায়, মোকাররম হোসেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। শাহ আলম ধানবাহী নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

  • খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খাল-বিল, ডোবা আর জলাশয়ে একসময় কচুরিপানা ছিল কৃষকের কাছে নিছক আগাছা। জলাশয় পরিষ্কার করতে গিয়ে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। সেই কচুরিপানাই এখন কিশোরগঞ্জের অনেক কৃষক ও খামারির কাছে হয়ে উঠেছে গবাদিপশুর খাবারের অন্যতম ভরসা। সকাল হলেই হাতে দা নিয়ে জলাশয়ে নেমে পড়ছেন তারা। কেউ ভ্যানে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কচুরিপানা।

    এর পেছনে রয়েছে চলতি বছরের ফসলহানি। টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল। ফলে কমেছে খড়ের জোগান। অন্যদিকে বেড়েছে ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম। এতে গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। তাই বিনা খরচে বা কম খরচে পাওয়া কচুরিপানাকেই বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে।

    বিশেষ করে গাভি ও গরুর খাবারের জোগান ঠিক রাখতে বাড়ির আশপাশের কলাগাছ কেটে ছোট ছোট টুকরো করেও খাওয়াচ্ছেন কৃষকেরা। কচুরিপানা ও কলাগাছের সঙ্গে খড়, ঘাস, ভুসি কিংবা অন্যান্য খাবার মিশিয়ে গবাদিপশুকে দেওয়া হচ্ছে।

    কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান, কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করেন। আবার অনেকের কাছে গবাদিপশু সঞ্চয়ের বিকল্প। প্রয়োজনের সময় গরু বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বিয়ে কিংবা অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটান তারা। ফলে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট শুধু খামারেই নয়, এর প্রভাব পড়ে কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতিতেও।জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খড় প্রতি কেজি প্রায় ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি মণ খড়ের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। ৩৭ কেজির এক বস্তা গমের ভুসি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৩০ টাকা এবং ৪০ কেজির এক বস্তা ভুট্টার গুঁড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে।

    এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ। অন্যদিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাসও মিলছে না। অল্প কিছু উঁচু জমি, রাস্তার পাশ কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে ঘাস পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট খামারিরা।

    খামারিরা বলছেন, গরুর খাবারের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় গরু বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে খাবারের খরচ, অন্যদিকে কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসানের আশঙ্কা থাকছে। তাই গরু বিক্রি না করে কোনোভাবে লালন-পালন চালিয়ে যেতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিকল্প খাবারের ওপর নির্ভর করছেন তারা।

    জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক ও খামারিরা। কেউ বাড়ির পাশের জলাশয় থেকেই কচুরিপানা তুলে আনছেন। আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে করে তা সংগ্রহ করছেন। কোনো কোনো খামারি শ্রমিক নিয়োগ করেও কচুরিপানা সংগ্রহ করছেন।

    সকালে জলাশয়ের পানিতে নেমে কচুরিপানা তুলে স্তূপ করছেন কৃষকেরা। পরে ভ্যান, রিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে করে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে। সেখানে পরিষ্কার করে কেটে খড়, ঘাস বা অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হচ্ছে।

    করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামের জেসি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক হোসেন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, “গরুর জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার দরকার, তা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে জমি থেকে খড় ও ঘাস পাওয়া যেত, এখন সেগুলোর সংকট। তাই বাধ্য হয়ে কলাগাছ কেটে গাভিকে খাওয়াচ্ছি। এর সঙ্গে ভুসি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম কমানো বা সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে কৃষকদের জন্য অনেক উপকার হতো।”

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, “এবার অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলও ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারিনি। এতে মানুষের খাবারের পাশাপাশি গরুর খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। খাল-বিলে কচুরিপানা না থাকলে গরুগুলো বাঁচিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যেত।”তিনি বলেন, “আগে কচুরিপানাকে কেউ তেমন গুরুত্ব দিত না। জলাশয়ে বেশি হলে আগাছা মনে করে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। এখন গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এটিই অনেকটা ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু কচুরিপানা দিয়ে গরুর খাবারের চাহিদা পূরণ করা যায় না। এর সঙ্গে অন্য খাবারও দিতে হয়।”

    সদর উপজেলার বটকিলা গ্রামের বাচু মিয়াকে রৌহা বিল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এসব কিনে গরুকে ঠিকমতো খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে এসেছি।”

    নিজের গরুর কথা বলতে গিয়ে বাচু মিয়া বলেন, “একটি ছোট বাছুর ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে প্রায় চার বছর ধরে লালন-পালন করছি। গরুটি এখন দুধ দেয়। প্রতিদিন প্রায় ছয় লিটার দুধ পাওয়া যায়। এই গরুটি আমাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সংকট হলেও কোনোভাবে লালন-পালন করে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “গরুর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। সব খাবার বাজার থেকে কিনে দিলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। তাই কচুরিপানা, খড় ও অন্যান্য স্থানীয় খাবার সংগ্রহ করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছি।”

    সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের সল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রাকিব মিয়া বলেন, “আগে বাড়িতে উৎপাদিত ধানের খড় দিয়েই কয়েক মাস গরু পালন করা যেত। এবার ফসলের ক্ষতির কারণে খড় কম হয়েছে। বাইরে থেকে খড় কিনতে হচ্ছে। তার ওপর ভুসি ও অন্যান্য খাবারের দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরু পালন এখন আগের চেয়ে অনেক ব্যয়বহুল।”তিনি বলেন, “কচুরিপানা বিনা খরচে পাওয়া যায়। তাই জলাশয় থেকে তুলে এনে অন্য খাবারের সঙ্গে গরুকে দিচ্ছি। এতে কিছুটা হলেও খরচ কমানো যাচ্ছে। এখন গরু পালন করতে হলে শুধু বাজারের খাবারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন।”

    কৃষক রাকিব বলেন, “বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। কিন্তু গরু বিক্রি করতে নিয়ে গেলে অনেক সময় সেই হিসাবে দাম পাওয়া যায় না। খাদ্যের দামও বেশি। ফলে খামারিরা দুই দিক থেকেই চাপে আছেন।”

    তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের কাজলা (বগারবাইদ) গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে কয়েকটি গরু পালন করি। প্রতিদিন অনেক খাবারের প্রয়োজন হয়। বাজার থেকে সব খাবার কিনে দিলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ধরে রাখা কঠিন।

    প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, খাদ্যের দাম বাড়লেও গরু বিক্রি করে দেওয়া তাদের জন্য সহজ কোনো সমাধান নয়। কারণ এসব গবাদিপশুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সঞ্চয়, ঋণ, শ্রম ও ভবিষ্যতের আশা। অনেকেই বছরের পর বছর গরু পালন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তাই সাময়িক খাদ্যসংকটের কারণে গরু বিক্রি করে দিলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে বর্তমানে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৯ লাখ ২২ হাজার ৪৪৯টি এবং মহিষ ৭ হাজার ৭৪৫টি। এছাড়া জেলায় বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ৭৫ দশমিক ০৩ লাখ মেট্রিক টন। এত বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর খাদ্যের বড় একটি অংশ স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ফসলের উৎপাদন কমে গেলে একই সঙ্গে কমে যায় খড় ও অন্যান্য কৃষিজাত উপজাতের জোগান। এতে গবাদিপশুর খাদ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং বাড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ।

    কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “কচুরিপানায় পুষ্টিমান বা খাদ্যগুণ খুব বেশি নয়। তবে এটি সবুজ ঘাসের মতো এক ধরনের বাল্ক ফিড হিসেবে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। খাদ্যের সংকটের সময় অনেক খামারি কচুরিপানা ব্যবহার করছেন।”

    তিনি বলেন, “পরিমিত পরিমাণে কচুরিপানা খাওয়ালে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কোনো খাদ্যই গবাদিপশুর জন্য ভালো নয়। তাই কচুরিপানার পাশাপাশি খড়, ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যও গবাদিপশুর খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “চলতি বছরের এপ্রিল মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জে ১১ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫২ হাজার ৯৮০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসল উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবে এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।”

    তিনি বলেন, “ফসলের পাশাপাশি খড়ও নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে গো-খাদ্যের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সংকটও ধীরে ধীরে কেটে যাবে।”

  • মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ গোপদিঘী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো দক্ষিণ গোপদিঘী গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে হাফিজা আক্তার (৫) ও একই এলাকার জুয়েল মন্ডলের ছেলে জয়ন্ত মন্ডল (৬)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পেছনে খেলতে যায় দুই শিশু। একপর্যায়ে তারা পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাদের পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মিঠামইন থানার এসআই শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে হঠাৎ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরানের স্বপ্ন।

    বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই মনোহারি দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা-পয়সা ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাড সংলগ্ন একটি মনোহারি দোকানে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপের ব্যবসা শুরু করেন ইমরান মিয়া। ওই দোকান থেকে হোসেনপুর ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসব পণ্য সরবরাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দোকানটি তালাবদ্ধ করে তিনি নিজের বাড়িতে চলে যান। পরে গভীর রাতে এক রিকশাচালক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পেয়ে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান।

    দোকান মালিক মোবাইলে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, ‘দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আমার ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো: শামসুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।

    রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে।

    নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫০), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৩০) ও মিলন মিয়ার মেয়ে জারা মনি (৫)।

    গুরুতর আহতরা হলেন বন্যা আক্তার (২৫), সিএনজি চালক কাজল মিয়া (৩০), বদিউল আলম (৫৫), প্রিয়া আক্তার (২০) ও সাকিবুল হাসান (৮)।

    আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলম জানান, আমার মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মজিদ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তাকে দেখার জন্য আমার পরিবারের লোকজন নিয়ে শুক্রবার কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামে আসি। রোববার দুপুরে তাড়াইল থেকে আমরা সিএনজিতে চড়ে আমাদের ব্যবসায়িক কর্মস্থল নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে যাওয়ার পথে দ্রুত গতিতে আসা একটি কাভার্ডভ্যান আমাদের সিএনজিকে চাপা দেয়। ফলে ঘটনাস্থলেই আমার মেয়ের জামাই মিলন মিয়া মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আমার স্ত্রী রাবেয়া ও নাতনি জারা মনিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আমি, আমার মেয়ে বন্যা, সিএনজিচালক কাজল মিয়া, আমার বাড়ির প্রিয়া আক্তার ও সাকিবুল গুরুতর আহত হয়েছি।

    কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মোহাম্মদ আনিছুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মিলন মিয়া নামে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। রাবেয়া ও জারা মনি নামে অপর দুইজনকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত আরো পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।

    কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, তিনিসহ হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে সিরাত কনফারেন্স আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কিশোরগঞ্জ শহর জামায়াতের উদ্যোগে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক মো: রমজান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরতনগর এ ইউ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: নাজমুল ইসলাম।

    আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাওলানা ড. ফয়জুল হক, মুফতি আহমদ শরীফ বিন আসাদ ও করিমগঞ্জ সোবহানিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী রিয়াদী।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ শহর শাখার আমির মাওলানা আ ম ম আব্দুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি আবু নাছের মো: নয়িম।দ

    অনুষ্ঠানে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, মহানবীর আদর্শ আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে অনুসরণের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

    কনফারেন্সে জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

    কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামে ধান কেনার কথা থাকলেও গুদামে ধান ঢোকাতে টনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষকের ধান ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

    চলতি মৌসুমে নিকলী খাদ্যগুদামে এক হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ধান ও দুই হাজার এক মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, দালাল চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি বস্তা ব্যবহার করে আগে ধান সংগ্রহ করছেন।

    দামপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ৩০৭ মণ ধান ওজন করে গুদামে নেয়া হলেও টনপ্রতি দুই হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় গুদামের কর্মকর্তা ধান ফেরত নেয়ার চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক আল আমিন জানান, অগ্রিম টাকা দেয়ার শর্ত দেয়ায় তার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এলএসডির ওসি হিমেল। তিনি বলেন, গুদামে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং তার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    অন্য দিকে নিকলী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফুর নাহার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের কথা বললেও, প্রভাবশালীদের সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায় নাম ঢোকানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তার দাবি, জাতীয় পরিচয় সংগ্রহ করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ আসেনি। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত বাংগালপাড়া-চাতলপাড় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এখন সীমাহীন ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

    অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হওয়ার কথা। হাওরাঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক দুই রূপের কারণে সারা বছর সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সাথে বছরজুড়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭৮ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পাদন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    শুরুর দিকে দ্রুত গতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণদার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই স্থবিরতা নেমে আসে প্রকল্পটিতে।

    একপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি থমকে যায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের সব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করা শুরু করে। বর্তমানে নদীর বুকে সেতুর মাত্র কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা হাওরবাসীর স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

    ফলে বর্ষায় উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে ট্রলার কিংবা নৌকাই একমাত্র ভরসা। আবার শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে খেয়া পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সঙ্কটাপন্ন রোগীদের। এতে সারাদেশের সাথে সড়ক পথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওরবাসীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

    সেতুটি চালু হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আশা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এই সেতু কেবল দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি পণ্য সহজে সারা দেশে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

    এদিকে হাওরাঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আবার কাজ চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

  • কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জজ মিয়াকে (৫৫) দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো: জজ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জজ মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে। শিশুটিকে তার বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড়ে ফারুক মিয়ার জমি থেকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জজ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন।

  • কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: ফয়সাল মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলছাত্র ফয়সাল মিয়া লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আওয়াল মিয়ার ছোট ছেলে। সে স্থানীয় লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, ফয়সাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের কাছ থেকে লাশ দাফনের অনুমতি আনার পর লাশ দাফনের ব্যবস্থা করবে পরিবারের সদস্যরা।