ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনদুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইনি বিধান প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক বা ক্ষতিকর উপদ্রব দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধারার উদ্দেশ্য শুধু বিক্ষোভ বা জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা নয়; জনস্বার্থে সৃষ্ট উপদ্রব বন্ধ করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
ভারতের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসির ১৩৩ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে জনসাধারণের চলাচল ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি দূর করতে শর্তসাপেক্ষ আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। বর্তমানে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৫২ ধারায় একই ধরনের বিধান রয়েছে।
কোন পরিস্থিতিতে এই ধারা প্রয়োগ করা যায়?
আইন অনুযায়ী, জনসাধারণের ব্যবহারের রাস্তা বা জায়গায় বেআইনি বাধা কিংবা উপদ্রব সৃষ্টি হলে তা সরানোর নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। কোনো ব্যবসা বা পেশার কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করলে সেটি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের আদেশও দেওয়া সম্ভব।
কীভাবে দেওয়া হয় আদেশ?
পুলিশের প্রতিবেদন বা অন্য কোনো তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদেশ দিতে পারেন। আদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপদ্রব দূর করতে বলা হয়। কেউ আদেশের সঙ্গে একমত না হলে নির্ধারিত সময় ও স্থানে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন এবং আদেশ চূড়ান্ত করা উচিত নয় কেন, তার কারণ দেখানোর সুযোগ পান।
অর্থাৎ, এটি মূলত জনসাধারণের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রতিরোধমূলক আইনি ব্যবস্থা।
১৩৩ ও ১৪৪ ধারার পার্থক্য কী?
দুটি ধারার উদ্দেশ্য এক নয়। পুরোনো সিআরপিসির ১৩৩ ধারা মূলত জনউপদ্রব দূর করার জন্য ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে ১৪৪ ধারা জরুরি পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিপদ বা শান্তিভঙ্গ ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা দিত। নতুন বিএনএসএসে ১৪৪ ধারার সমতুল্য বিধান হলো ১৬৩ ধারা।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
