ফের মেট্রো বন্ধ করল বিজেপি

প্রতিবেদন:

·

, ,

ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি বিতর্কিত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলো যখন সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন কর্তৃপক্ষ দিল্লির বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর ডাকা এই পদযাত্রাকে সামনে রেখে সোমবার (১২ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ধাতব ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের জেরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দল এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)’ সমর্থকরা চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নেমেছে। সমালোচকদের মতে, এই সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাবে।

এর আগে বিক্ষোভ থেকে হাজার হাজার ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সিজেপির সমর্থকরা বিক্ষোভ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই)’ অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিরোধী দলের নেতারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গণ-আটকের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেছেন, রোববারের বিক্ষোভের সময় পুলিশ তার সঙ্গে ‘ধস্তাধস্তি করেছে এবং টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে’।

তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা নয়; এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপরও আঘাত।’

বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, প্রেস কার্ড স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা সত্ত্বেও তাদের আটক করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক এনজিও ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় অন্তত ১৬ জন সাংবাদিককে ‘নিষ্ঠুরভাবে’ আটক করা হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। এটি তাদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।’

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তার সমর্থকদের সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো করা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে এক্স বার্তায় রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘যত খুশি পুলিশ নিয়ে আসুন—১০ হাজার, ২০ হাজার, ৪০ হাজার—নিয়ে আসুন। প্রয়োজনে বিজেপি-আরএসএসের যত গুন্ডা দরকার, তাদেরও ডাকুন। আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। আমরা পিছু হটার লোক নই। এই লড়াই এখন থামবে না!’

জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির নেতা ও সমর্থকরা।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ