সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুলিশের সীমানা জটিলতায় এক নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল ৯ ঘণ্টা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর এই নারীর দাফন সম্পন্ন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকতেন ভবঘুরে ওই নারী। নাম-পরিচয় না জানা ওই নারী গত শুক্রবার সকালে ধাপেরহাট ওভারব্রিজের ওপর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন। একজন পথচারী সেই দৃশ্য দেখে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেটি দেখে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

খবর পেয়ে স্থানীয় ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশও আসে। দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীকে অটোভ্যানে করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পথেই মারা যান তিনি।

অটোভ্যানের চালক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মরদেহ নিয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। কিন্তু সেখানকার পুলিশ সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাদের পরামর্শে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ রেখে আসেন মহাসড়কের ওপর, যেখান থেকে নারীকে ভ্যানে উঠিয়েছিলেন সেখানে। এজন্য একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে ১০০ টাকা দেন।

এরপর শুরু হয় মরদেহ নিয়ে টানা-হ্যাঁচরা ! সংবাদকর্মী আমিনুল ইসলাম ও শিক্ষক আব্দুল মালেক সাজু জানান, ঘটনাস্থল ‘মহাসড়ক’ হওয়ায় সংবাদ দেওয়া হয় হাইওয়ে পুলিশে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আসে ঘটনাস্থলে। তারা রাত ১০টা অবধি থেকে চলে যান মরদেহ না নিয়েই। আবার শুরু হয় পুলিশের দুই ইউনিটের রশি টানাটানি।

এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র মরদেহ সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়। এর পর গতকাল শনিবার ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে।

ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজ উদ্দিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর গাইবান্ধা আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করা হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করতে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও তারা মরদেহ নিয়ে যায়নি।

ঘটনাস্থলে আসা গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফারুক হোসেন বলেন, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহায়তায় ওই নারীর মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়। তাতে ওই নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, হাইওয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় আমাদেরই সবকিছু করতে হয়েছে। কিছু বিষয় থাকে মানবিক। তাই দায়িত্ব এড়াতে পারিনি। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।