ক্যাটাগরি গাইবান্ধা

Gaibandha district

  • সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুলিশের সীমানা জটিলতায় এক নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল ৯ ঘণ্টা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর এই নারীর দাফন সম্পন্ন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

    ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকতেন ভবঘুরে ওই নারী। নাম-পরিচয় না জানা ওই নারী গত শুক্রবার সকালে ধাপেরহাট ওভারব্রিজের ওপর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন। একজন পথচারী সেই দৃশ্য দেখে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেটি দেখে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

    খবর পেয়ে স্থানীয় ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশও আসে। দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীকে অটোভ্যানে করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পথেই মারা যান তিনি।

    অটোভ্যানের চালক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মরদেহ নিয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। কিন্তু সেখানকার পুলিশ সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাদের পরামর্শে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ রেখে আসেন মহাসড়কের ওপর, যেখান থেকে নারীকে ভ্যানে উঠিয়েছিলেন সেখানে। এজন্য একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে ১০০ টাকা দেন।

    এরপর শুরু হয় মরদেহ নিয়ে টানা-হ্যাঁচরা ! সংবাদকর্মী আমিনুল ইসলাম ও শিক্ষক আব্দুল মালেক সাজু জানান, ঘটনাস্থল ‘মহাসড়ক’ হওয়ায় সংবাদ দেওয়া হয় হাইওয়ে পুলিশে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আসে ঘটনাস্থলে। তারা রাত ১০টা অবধি থেকে চলে যান মরদেহ না নিয়েই। আবার শুরু হয় পুলিশের দুই ইউনিটের রশি টানাটানি।

    এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র মরদেহ সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়। এর পর গতকাল শনিবার ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে।

    ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজ উদ্দিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর গাইবান্ধা আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করা হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করতে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও তারা মরদেহ নিয়ে যায়নি।

    ঘটনাস্থলে আসা গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফারুক হোসেন বলেন, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহায়তায় ওই নারীর মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়। তাতে ওই নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, হাইওয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় আমাদেরই সবকিছু করতে হয়েছে। কিছু বিষয় থাকে মানবিক। তাই দায়িত্ব এড়াতে পারিনি। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

    বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী এমদাদুল হকের বাড়িতে অবৈধভাবে সার মজুত করা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৫০ কেজি ওজনের টিএসপি ও পটাশ সারসহ মোট ২১ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ী এমদাদুল হক এন্তাজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে গত এক সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

    উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার মৌজার ভোরের পাখি, সিঙ্গীজানী ও লালচামার পাড়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আকস্মিক তিস্তা নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অনেক পরিবার এক বস্ত্রে প্রাণে বাঁচলেও আসবাবপত্র, পরনের কাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারেনি।

    নতুন করে আরো ৮৩টি পরিবারের ভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো দুই শতাধিক পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীর পাড় পাঁচ থেকে দশ ফুট খাড়াভাবে ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি এবং দুই হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তা বিলীন হয়েছে। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের মানুষ নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে আছে। রাতে ঘুমাতে পারছে না, কখন বাড়ি নদীতে চলে যায়।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’

  • পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া ১০ বছরের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ময়নুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাবার মৃত্যু হয়েছে। সন্তানকে রক্ষা করতে পারলেও নিজে আর বিলের পানি থেকে উঠে আসতে পারেননি তিনি।

    শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত ময়নুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া তার ১০ বছর বয়সী ছেলের নাম মাহিদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ময়নুল ইসলাম ও তার ছেলে মাহিদ একসঙ্গে জাল নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে দুজনেই বিলের গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এমন মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান মাইনুল। একপর্যায়ে ছেলেকে বিপদমুক্ত করে পাড়ে ঠেলে দিতে সক্ষম হলেও নিজে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

    ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে বোনারপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে ময়নুল ইসলামের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, নিজের জীবন দিয়ে ছেলেকে বাঁচানো অভিভাবকের অতুলনীয় এক আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

  • সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে যাওয়া ছেলে মাহিন ইসলামকে (১০) বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবা ময়নুল হকের (৩৬) মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) ইব্রাহিম আলী।

    নিহত ময়নুল হক বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাটকালপানি গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

    ইউপি সদস্য ইব্রাহিম আলী জানান, প্রতিদিনের মতো ময়নুল ও তার ছেলে মাহিন তেলিয়ান বিলে পেলি জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার পর গোসলের একপর্যায়ে ময়নুলের ছেলে মাহিন ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে বাবা ময়নুল চেষ্টা করলে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

    খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ মিনিট চেষ্টার পরে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করি।

  • গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শিয়ালগাড়া (তরককামাল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাছগছি বাজার এলাকার নজরুল মিয়ার ছেলে লিমন (২৮) ও কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রুবেল (২৯)।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে সড়কের দুই পাশে দু’টি মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দুই আরোহী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ায় নেয়ার পর শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরে তাদের বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

  • সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।

    শাহীন সরকার (৬০) উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এসব সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।

    তবে শাহীন সরকার বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা এসব সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বা অবৈধভাবে মজুত করা হয়নি। রোপা আমন জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ’

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করলে বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শাওন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-রাজাবিরাট আঞ্চলিক সড়কের ইসলামপুর কারেন্টের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাওন বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দাড়িদহ সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন তিনি।

    স্থানীয় যুবক আবদুল আলীম বলেন, শাওন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করতেন বলে শুনেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে বের হন তিনি। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাওনের মৃত্যু হয়।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফ্যামিলি কার্ডের জন্য লোক নিয়োগের তালিকা বাতিল করার দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    জানা গেছে, সকালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। এই তালিকা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, এনসিপির নেতাকর্মী এবং চাকরি না পাওয়া লোকজন একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয় চত্বরে আসেন।

    একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন ইউএনও অফিসের ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় তলার একটি অফিস রুমের জানালার কাচ ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করেন। পরে বিএনপির বড় নেতারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই নিয়োগ তালিকায় আওয়ামী লীগের লোক ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই অবিলম্বে এই তালিকা বাতিলের দাবি জানান তারা।

    অন্যদিকে, ফুলছড়ির ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এক হাজারের বেশি আবেদন থেকে নিয়ম মেনে ও মেধার ভিত্তিতেই ৭৩ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। মূলত চাকরি না পাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

  • সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

    গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

    মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না
    দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন।

    স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

    মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

    পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

    দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
    সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত।

    হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর।
    সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই।

    ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে
    সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

    দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

    মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
    সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

    আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
    নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

    কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
    স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়।

    নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

    বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন।

    শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
    সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

    নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

    বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান।

    পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে।

    (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)