গাইবান্ধা

Gaibandha district

  • সাঘাটায় নতুন আসমানি নিঃসন্তান দম্পতি

    সাঘাটায় নতুন আসমানি নিঃসন্তান দম্পতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    একবেলা রান্না করে খেতে হয় তিন বেলা। সকালে ভাত জুটলেও রাতে খেতে হয় পান্তা। কখনো আবার অনাহারেই কাটে দিন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, তার ওপর অসুস্থতা। নেই চিকিৎসার টাকা, নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা। জীবনের শেষ সময়ে এসে অভাব-অনটনে দিন কাটছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের গাছাবাড়ী গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতি নুরজাহান বেগম (৪৯) ও হাবিজার রহমানের (৫৩)। এ যেন রসুলপুরের সেই রহিম উদ্দীনের বাড়ীতে অসহায় দম্পতি আসমানি ।

    একসময় কৃষিশ্রমিকের আয়ে কোনোরকমে চলত সংসার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে এখন বন্ধ উপার্জনের পথ। প্রতিবেশীদের সামান্য সহযোগিতায় কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা। শেষ বয়সে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন এ দম্পতি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে রান্না করছেন নুরজাহান বেগম। এই রান্না দিয়েই চালাতে হবে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার। অভাবের সংসারে প্রতিদিন রান্না করার সামর্থ্য নেই তাদের। একবার রান্না করে তিন বেলা খেতে হয়। খাবার জুটলে খাওয়া হয়, না জুটলে থাকতে হয় অনাহারে। সংসারে নেই কোনো সন্তান। অসুস্থতার কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনই এখন অসহায়। একদিকে খাবারের সঙ্কট, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাব সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

    স্থানীয় অনেকেই জানায়, হাবিজার রহমান একসময় কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জনের পথ। অন্যদিকে পায়ে আঘাত পাওয়ায় নুরজাহানের স্বাভাবিক চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার টাকা না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। প্রতিবেশীদের কেউ সহযোগিতা করলে ওষুধ কেনা হয়, অন্যথায় বিনা চিকিৎসায় থাকতে হয়।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান বেগম বলেন, ‘গতকাল সকালে ভাত রান্না করেছিলাম। কিছু ভাত রাতে খেয়েছি। একবার রান্না করে তিন বেলা খেতে হয়। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। ছেলে-মেয়ে নেই। শেষ বয়সে এসে অনাহারে মরতে হচ্ছে। আপনারা একটু আমাদের দিকে তাকান।’

    হাবিজার রহমান বলেন, ‘স্ত্রী অসুস্থ, ওষুধ কেনার টাকা নেই। এক বেলা খেলে আরেক বেলা উপোস থাকতে হয়। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। পাশের বাড়ির সাহাবুল মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা দেন। তারও সংসার আছে। আপনারা যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতেন, তাহলে দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।’

    গাছাবাড়ী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী বলেন, ‘নুরজাহান ও হাবিজার অনেক কষ্টে দিন কাটান। আমরা মাঝে মাঝে সহযোগিতা করি। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাহাবুলও তাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেন। এভাবেই কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা। বিত্তবানরা পাশে না দাঁড়ালে তাদের কষ্টের অবসান হবে না।’

    স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘তারা না খেয়ে আছেন শুনলে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। যখন যা পারি, খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে আসি। কিন্তু আমাদেরও সংসার আছে। একার পক্ষে তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। সবাই মিলে এগিয়ে এলে পরিবারটির কিছুটা কষ্ট লাঘব হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘তাদের অবস্থা এমন যে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। অভাবের সংসার, দেখার মতো কেউ নেই। ছেলে-মেয়েও নেই। সরকারি সহযোগিতা পেলে তাদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরত।’

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। বিভিন্ন ভাতার মাধ্যমে সহযোগিতা করারও উদ্যোগ নেব।’

    সাঘাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমাদের জানা ছিল না। এখন জানলাম। তাদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’

    নিঃসন্তান এ দম্পতির কষ্ট লাঘবে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তা ও মানুষের মানবিক উদ্যোগে নুরজাহান ও হাবিজারের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে। এ,আর

  • পুকুরের পানিতে ডুবে ২ ভাই-বোনের মৃত্যু

    পুকুরের পানিতে ডুবে ২ ভাই-বোনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির উঠানে খেলাধুলার সময় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশুর বয়স দুই বছর করে; তারা উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আপন চাচাতো ভাই-বোন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই শিশু আজ (সোমবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অন্য শিশুদের সাথে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় সকলের অগোচরে তারা দু’জন পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর শিশু দু’টির মা উঠানে এসে অন্য শিশুরা খেলাধুলা করলেও তাদের ছেলে-মেয়েকে দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

    পরে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেন।

    পুকুরের পানিতে ডুবে আপন চাচাতো দুই ভাই-বোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ফিরোজ কবির প্রধান। এ,আর

  • মেয়ে সম্পত্তির জন্য বাবার জানাজা আটকে দিল

    মেয়ে সম্পত্তির জন্য বাবার জানাজা আটকে দিল

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আটকে গেছে এক বৃদ্ধের জানাজা ও দাফন। বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজায় আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা বেগম। এতে বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে ৭৫ বছর বয়সী কৃষক নাজির উদ্দিন বেপারীর মরদেহ।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারিত থাকলেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা ধরে মরদেহটি উঠানে পড়ে ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    মৃত নাজির উদ্দিন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তার এক ছেলে ইদ্রিস আলী (৪৮) ও এক মেয়ে হালিমা বেওয়া (৫০)। গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজির উদ্দিন জীবদ্দশায় তার সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে উপস্থিত হন। তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে জানাজায় বাধা দেন মেয়ে হালিমা।মেয়ে হালিমা বেগমের অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার ভাই ইদ্রিস আলী সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। নিজের ভাগের এক বিঘা জমি বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার জানাজা হতে দেবেন না বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলীর দাবি, তার বাবা স্বেচ্ছায় তাকে জমি লিখে দিয়েছেন। ওই সম্পত্তিতে বোনের কোনো ভাগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    এ নিয়ে জানাজায় অংশ নিতে আসা স্থানীয় লোকজন সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। ফলে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই পড়ে ছিল নাজির উদ্দিনের মরদেহ।

    ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিরোধ মিটিয়ে দ্রুত জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, মরদেহ দাফনের পর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।

    এ বিষয়ে ধাপেরহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক এস্তেখার হাসান বলেন, এ ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি তদন্তকেন্দ্রে এসেছিলেন। তার কাছে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি আর আসেননি।

  • সাঘাটায় বাড়িতে পৌঁছাতে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, ২ জন গ্রেফতার

    সাঘাটায় বাড়িতে পৌঁছাতে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, ২ জন গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে এক তরুণীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: দুরুল হোদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গ্রেফতার দু’জন হলেন— সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের মো: আলমের ছেলে সৈকত (২৮) ও উল্লাসোনাতলা (হাজীপাড়া) গ্রামের মো: বাদল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মুস্তাকিম (২০)।

    পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী এক সন্তানের জননী। শনিবার (১০ অক্টোবর) গোবিন্দগঞ্জের বোনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বোনারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সৈকতের সাথে তার কথা হয়। সৈকত তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে। পরে একটি ভ্যানে করে তাকে হেলেঞ্চা এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় মুস্তাকিমও সাথে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় দুই যুবক ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আজ রোববার মামলা করা হয়েছে।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: দুরুল হোদা জানান, ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মতিনবাজার নামক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন সাহাবাজ (মতিনবাজার) গ্রামের মরহুম আব্দুল করিম খানের ছেলে আব্দুল জলিল (৭০) ও তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৬০)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে আমিনা বেগমের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ত্রীর চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী আব্দুল জলিল। মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে আব্দুল জলিল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে আসার পর গত সোমবার গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় আব্দুল জলিল খানের।

    বিকেল ৩টার দিকে মরহুম আব্দুল জলিলের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে বাড়ি ফেরার দুই ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে মৃত্যু হয় স্ত্রী আমিনা বেগমের। পরে রাতে জানাজা শেষে স্বামীর পাশেই মরহুমা আমিনা বেগমকে দাফন করা হয়েছে।

    মৃত দম্পতির ছেলে আলম মিয়া বলেন, ‘বাবা-মায়ের মধ্যে খুবই ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। বাবাকে দাফন করে আসার পরপরই মাও চলে গেলেন। এক দিনেই আমরা এতিম হয়ে গেলাম।’

    সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘একই দিনে স্বামীর জানাযার মাত্র দুই ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু খুবই বিরল।’ এ,আর

  • ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    গাইবান্ধায় ছুটিতে বাড়িতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আসাদুজ্জামান ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

    পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, ছুটি নিয়ে শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে আসেন আসাদুজ্জামান। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনি বাড়িতে আইপিএস (তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের যন্ত্র) মেরামত করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • কয়েলের আগুনে কৃষকের ২ গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    কয়েলের আগুনে কৃষকের ২ গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার এই ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঙ্গুর মিয়া (৩৫) ওই গ্রামের মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে। রাতে মশা তাড়ানোর জন্য গোয়াল ঘরে কয়েক জ্বালিয়েছিলেন কৃষক আঙ্গুর।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো গোয়াল ঘরের মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল জ্বালিয়ে দেয় কৃষকের পরিবার। হঠাৎ রাত ১টার দিকে আগুনের শব্দে বাড়ির লোকজনের ঘুম ভাঙে। এ সময় কৃষকের পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে গোয়াল ঘরে থাকা পাঁচটি গরুর মধ্যে দুইটি গরু পুড়ে মারা যায়। অপর তিনটি গরুর আংশিক শরীর পুড়ে যায়। মৃত গরু দুটি দেশীজাত থেকে জাত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নতজাতের শংকর (ক্রস) গরু ছিল।

    রাতে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তাকারী প্রতিবেশী সাজু মিয়া বলেন, ‘রাতে হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচিতে আমাদের ঘুম ভাঙে। পরে আঙ্গুর মিয়ার গোয়ালঘর জ্বলে যাচ্ছে দেখা যায়। এসময় প্রতিবেশীরা মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আগুন নিভলেও দুটি গরু মারা যায়, তিনটি আহত হয়। পরিবারটির একমাত্র সম্ভব ছিল এসব গরু।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, প্রতিদিনই কয়েল জ্বালাই কিন্তু কাল রাতে কেমনে (কিভাবে) কি হলো জানি না। এই গরুগুলোই আমার সম্বল ছিল। এসময় তিনি আগুনে তিন লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

    বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, চরে আঙ্গুর মিয়া নামের এক ব্যক্তির গোয়াল ঘরসহ গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

  • গাইবান্ধায় নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

    শনিবার বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাদেকুল ইসলাম।

    নিহত বাবা ময়নুল ইসলাম (৩২) ওই ইউনিয়নের সাতকালপানি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তার উদ্ধার হওয়া ছেলের নাম মাহিদ (১০)।

    ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টার দিকে ছেলে মাহিদকে নিয়ে নৌকায় করে স্থানীয় তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান ময়নুল। সেখানে পৌঁছার কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত ছেলে মাহিদ নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায়। ছেলেকে উদ্ধারে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা ময়নুল। পরে তিনি পানিতে নিখোঁজ হন।

    বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাবা-ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মাহিদকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাবা ময়নুলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় বিলের একটি খাদ থেকে ময়নুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাদেকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে আমাদের ৭ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয়রা এরই মধ্যে ছেলেটিকে জীবিত উদ্ধার করেছিলেন। পরে নিখোঁজ ময়নুলকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় বিলের একটি খাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ময়নুলকে উদ্ধারে রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছিল। তবে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় তারা পথিমধ্যে রংপুরে ফিরে যায়। নৌকা থেকে পড়ে যাওয়া ছেলে মাহিদ সুস্থ রয়েছে।

  • গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে আবদুল সামাদ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শিমুলতাড়ই এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবদুল সামাদ মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবুদখালী গ্রামের মরহুম আবদুল সালাম মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গাইবান্ধা রেলওয়ে ফাঁড়ি থানার আইসি সাহেব গণি বলেন, সকালে রেললাইনের পাশে ওই যুবকের লাশ দেখে গাইবান্ধা রেলস্টশন মাস্টারকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ সময় লাশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বায়োমেট্রিক করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই লাশের ছবি পোস্ট করেন স্থানীয়রা। পরে নিহত যুবকের চাচাতো ভাই সাজু মিয়া থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন থেকে আবদুল সামাদ মিয়া মানসিক রোগে ভুগছিলেন।

    আইসি সাহেব গণি আরো বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের স্ত্রী ময়না বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

  • গাইবান্ধায় প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থী

    গাইবান্ধায় প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থী

    গাইবান্ধার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোর সূত্র জানায়, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি উপবৃত্তির সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৩ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয় উপজেলায় কেবল চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসে উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৮৪ জন। যার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ২৯ হাজার ৫৩০ টাকা। বিগত বছর হিসেব করলে শিক্ষার্থী ও বঞ্চিত অর্থের পরিমাণ আরও বেশ বাড়বে বলে ধারণা দেন দপ্তর সংশ্লিষ্টরা।

    ছয় উপজেলায় উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪২৪ জন, যার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫২৭ টাকা। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জে ২১৮ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮৩ হাজর ৬৪৫ টাকা, সাদুল্লাপুরে ২২২ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৮ টাকা, পলাশবাড়িতে ২২৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৩ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ২১৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৩১ টাকা ও ফুলছড়িতে ৮৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে অর্থ ফেরতের পরিমাণ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।

    প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ৬ সেপ্টেম্বর করা ওই অভিযোগে তিনি উপবৃত্তির সরকারি টাকা না পাওয়ার প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

    সেখানে বলা হয়েছে, গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি হতে অদ্যবদি শিক্ষা শুরু থেকেই সরকারি উপবৃত্তির টাকা পেয়ে আসছিল। কিন্তু সর্বশেষ গত দুই দফায় কোনো টাকা পাননি।

    পত্রে অভিযোগ করে উল্লেখ করা হয়, উপবৃত্তির ১ম দফার টাকা বঞ্চিত হয়ে বিষয়টি প্রথমে শিশুটির শ্রেণি শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার অবগত করা হয়। সর্বশেষ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা তাদের সংরক্ষণে থাকা ‘গৃহীত’ লেখা সম্বলিত একটি সিট দেখিয়ে টাকা প্রদান হয়েছে মর্মে জানান। এসবের মধ্যেই অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির ২য় দফার টাকাও পায়।

    পরে ওই অভিভাবক নগদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তার উপবৃত্তিতে ব্যবহৃত নগদ অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট তুলে দেখতে পান সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২ জুলাইয়ের পরে ওই অ্যাকাউন্ট নম্বরে কোনো উপবৃত্তির টাকা জমা হয়নি। পরে গত ২১ জুলাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। এতেও বিষয়টির সন্তোষজনক কোনো সমাধান না পেয়ে টাকা উদ্ধারের প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়সহ কেন এবং কি কারণে টাকা পাওয়া হতে বঞ্চিত হলো তার সঠিক কারণ উদঘাটনে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন।

    এদিকে, সম্প্রতি কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। যা একাধিক গণমাধ্যমসহ চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছে। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামকে প্রধান করে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়া টাকা ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন।

    প্রধান শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন চতুর্থ শ্রেণির জিম। জানতে চাইলে জিমের মা স্বপ্না বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে হেড আপা (প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে ৯০৫ টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা পরে দিতে চেয়েছেন। আমার অ্যাকাউন্টে হঠাৎ টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে গেছিল।

    উপবৃত্তির অর্থ বঞ্চিত হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে জানান, দফায় দফায় যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান পাননি, তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের অবগত করার প্রায় দুইমাস পর জানানো হলো টাকা রিটার্ন গেছে। হঠাৎ কেন বন্ধ হলো, আর কোথায় ফেরত গেলো এটি বের হওয়া জরুরি।

    এ বিষয়ে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগম ওই শিক্ষার্থীদের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তা সমাধান করা হয়েছে বলে জানান।

    তবে, এ সময় তিনি উপবৃত্তি-সংক্রান্ত অনলাইনের কাজ নিজে করেননি দাবি করে কাজটি শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে হয়েছে বলে জানান।

    উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া প্রশ্নে উপবৃত্তি-সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল্লাহ্ বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদনকারী অভিভাবকের শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আইবাসে রিটার্ন (বাউন্স) দেখানো হয়েছে। তবে, কি কারণে এমনটা হয়েছে সে সম্পর্কে জানা যায়নি, বলেন এ কর্মকর্তা।

    উপবৃত্তি-সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী যার আইডিকার্ড তার নামেই নগদ/বিকাশ অ্যাকাউন্ট হতে হচ্ছে। এ ছাড়া পুরাতন এনআইডি কার্ডের সঙ্গে নতুন স্মার্টকার্ডের সংখ্যার অমিল থাকার কারণে কিছু কিছু শিক্ষার্থীর টাকা বন্ধ হচ্ছে। সব ঠিক থাকার পরেও যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে না, সেটি আমাদের জানার বাইরে।

    সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, উপবৃত্তির এরকম সমস্যা-সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো সমাধানে আমাদের হাতে প্রকৃত পক্ষে কিছুই নেই। তবে, আনঅফিসিয়ালি এক সূত্রের বরাতে তিনি জানান, অর্থ ফেরত দেখানো শিক্ষার্থীরদের এসব টাকা প্রদান করা হবে। কিন্তু কোন সময়ে বা কোন প্রক্রিয়ায় এসব অর্থ ফেরত আসবে তার কোনো সদুত্তুর মেলেনি তাদের কাছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিজের অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের টাকা নেওযার বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপবৃত্তি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস দেখে থাকে। ফলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই

    কলেজ শিক্ষক ও গাইবান্ধা প্রেসক্লবাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা অনেকভাবে আত্মসাতের ঘটনা রয়েছে। বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের টাকা আসলেই সরকারি হিসেবে ফেরত যাচ্ছে কি-না? বা কেন যাচ্ছে সেটি খতিয়ে দেখা দরকার এবং সমাধান দরকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা এই টাকা পাবে কি-না বা পেলেও তা কিভাবে পাবে বা কোন সময়ে পেতে পারে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার নোটিশ থাকা উচিৎ।

    এ ব্যাপারে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রেদুয়ানুল হালিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সরকারি অর্থ বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

  • সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুলিশের সীমানা জটিলতায় এক নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল ৯ ঘণ্টা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর এই নারীর দাফন সম্পন্ন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

    ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকতেন ভবঘুরে ওই নারী। নাম-পরিচয় না জানা ওই নারী গত শুক্রবার সকালে ধাপেরহাট ওভারব্রিজের ওপর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন। একজন পথচারী সেই দৃশ্য দেখে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেটি দেখে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

    খবর পেয়ে স্থানীয় ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশও আসে। দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীকে অটোভ্যানে করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পথেই মারা যান তিনি।

    অটোভ্যানের চালক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মরদেহ নিয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। কিন্তু সেখানকার পুলিশ সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাদের পরামর্শে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ রেখে আসেন মহাসড়কের ওপর, যেখান থেকে নারীকে ভ্যানে উঠিয়েছিলেন সেখানে। এজন্য একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে ১০০ টাকা দেন।

    এরপর শুরু হয় মরদেহ নিয়ে টানা-হ্যাঁচরা ! সংবাদকর্মী আমিনুল ইসলাম ও শিক্ষক আব্দুল মালেক সাজু জানান, ঘটনাস্থল ‘মহাসড়ক’ হওয়ায় সংবাদ দেওয়া হয় হাইওয়ে পুলিশে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আসে ঘটনাস্থলে। তারা রাত ১০টা অবধি থেকে চলে যান মরদেহ না নিয়েই। আবার শুরু হয় পুলিশের দুই ইউনিটের রশি টানাটানি।

    এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র মরদেহ সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়। এর পর গতকাল শনিবার ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে।

    ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজ উদ্দিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর গাইবান্ধা আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করা হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করতে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও তারা মরদেহ নিয়ে যায়নি।

    ঘটনাস্থলে আসা গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফারুক হোসেন বলেন, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহায়তায় ওই নারীর মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়। তাতে ওই নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, হাইওয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় আমাদেরই সবকিছু করতে হয়েছে। কিছু বিষয় থাকে মানবিক। তাই দায়িত্ব এড়াতে পারিনি। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

    বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী এমদাদুল হকের বাড়িতে অবৈধভাবে সার মজুত করা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৫০ কেজি ওজনের টিএসপি ও পটাশ সারসহ মোট ২১ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ী এমদাদুল হক এন্তাজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে গত এক সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

    উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার মৌজার ভোরের পাখি, সিঙ্গীজানী ও লালচামার পাড়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আকস্মিক তিস্তা নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অনেক পরিবার এক বস্ত্রে প্রাণে বাঁচলেও আসবাবপত্র, পরনের কাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারেনি।

    নতুন করে আরো ৮৩টি পরিবারের ভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো দুই শতাধিক পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীর পাড় পাঁচ থেকে দশ ফুট খাড়াভাবে ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি এবং দুই হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তা বিলীন হয়েছে। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের মানুষ নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে আছে। রাতে ঘুমাতে পারছে না, কখন বাড়ি নদীতে চলে যায়।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’

  • পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া ১০ বছরের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ময়নুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাবার মৃত্যু হয়েছে। সন্তানকে রক্ষা করতে পারলেও নিজে আর বিলের পানি থেকে উঠে আসতে পারেননি তিনি।

    শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত ময়নুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া তার ১০ বছর বয়সী ছেলের নাম মাহিদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ময়নুল ইসলাম ও তার ছেলে মাহিদ একসঙ্গে জাল নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে দুজনেই বিলের গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এমন মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান মাইনুল। একপর্যায়ে ছেলেকে বিপদমুক্ত করে পাড়ে ঠেলে দিতে সক্ষম হলেও নিজে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

    ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে বোনারপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে ময়নুল ইসলামের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, নিজের জীবন দিয়ে ছেলেকে বাঁচানো অভিভাবকের অতুলনীয় এক আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

  • সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে যাওয়া ছেলে মাহিন ইসলামকে (১০) বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবা ময়নুল হকের (৩৬) মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) ইব্রাহিম আলী।

    নিহত ময়নুল হক বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাটকালপানি গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

    ইউপি সদস্য ইব্রাহিম আলী জানান, প্রতিদিনের মতো ময়নুল ও তার ছেলে মাহিন তেলিয়ান বিলে পেলি জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার পর গোসলের একপর্যায়ে ময়নুলের ছেলে মাহিন ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে বাবা ময়নুল চেষ্টা করলে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

    খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ মিনিট চেষ্টার পরে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করি।

  • গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শিয়ালগাড়া (তরককামাল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাছগছি বাজার এলাকার নজরুল মিয়ার ছেলে লিমন (২৮) ও কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রুবেল (২৯)।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে সড়কের দুই পাশে দু’টি মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দুই আরোহী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ায় নেয়ার পর শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরে তাদের বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

  • সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।

    শাহীন সরকার (৬০) উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এসব সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।

    তবে শাহীন সরকার বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা এসব সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বা অবৈধভাবে মজুত করা হয়নি। রোপা আমন জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ’

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করলে বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শাওন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-রাজাবিরাট আঞ্চলিক সড়কের ইসলামপুর কারেন্টের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাওন বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দাড়িদহ সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন তিনি।

    স্থানীয় যুবক আবদুল আলীম বলেন, শাওন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করতেন বলে শুনেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে বের হন তিনি। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাওনের মৃত্যু হয়।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফ্যামিলি কার্ডের জন্য লোক নিয়োগের তালিকা বাতিল করার দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    জানা গেছে, সকালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। এই তালিকা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, এনসিপির নেতাকর্মী এবং চাকরি না পাওয়া লোকজন একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয় চত্বরে আসেন।

    একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন ইউএনও অফিসের ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় তলার একটি অফিস রুমের জানালার কাচ ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করেন। পরে বিএনপির বড় নেতারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই নিয়োগ তালিকায় আওয়ামী লীগের লোক ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই অবিলম্বে এই তালিকা বাতিলের দাবি জানান তারা।

    অন্যদিকে, ফুলছড়ির ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এক হাজারের বেশি আবেদন থেকে নিয়ম মেনে ও মেধার ভিত্তিতেই ৭৩ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। মূলত চাকরি না পাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

  • সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

    গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

    মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না
    দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন।

    স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

    মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

    পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

    দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
    সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত।

    হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর।
    সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই।

    ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে
    সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

    দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

    মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
    সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

    আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
    নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

    কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
    স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়।

    নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

    বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন।

    শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
    সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

    নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

    বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান।

    পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে।

    (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

  • গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পিকআপের ধাক্কায় আমির হোসেন (৪২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমির হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায়।

    স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার ভোরে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দিনাজপুরগামী একটি পিকআপ পেছন দিক থেকে এসে ওই বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের ভেতরে থাকা চালক আমির হোসেন নিহত হন।

    দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপের ভেতর থেকে নিহত চালককে উদ্ধার করেন।

    দুর্ঘটনার পর কিছু সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সেইসাথে বাস ও পিকআপটি আটক করা হয়েছে।

  • সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।

    এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মনজু, সরকার হাসেমুজ্জামান প্রমুখ।

    দুস্থ, গরিব ও অসহায় কয়েকশ’ মানুষের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।

  • গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধার সাঘাটায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির পাট কাটার ধারালো বেগির (বড় কাস্তে) কোপে দাদি ফেরোজা বেগম (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি শাকিল আহম্মেদকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইড় গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফেরোজা বেগম আহত আব্দুল করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী।

    আটক শাকিল আহম্মেদ একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং আব্দুল করিমের নাতি।

    স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল জানান, আজ দুপুরে বাড়ির পাশের একটি জমিতে পাট কাটার সময় পূর্বের পারিবারিক বিরোধের জেরে শাকিল আহম্মেদের সাথে দাদি ফেরোজা বেগমের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল তার হাতে থাকা ধারাল পাট কাটার বেগি দিয়ে ফেরোজা বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে আব্দুল করিমকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।

    স্থানীয়রা দু‘জনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেয়ার পথেই ফেরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। আহত আব্দুল করিম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

    ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। নিহতের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • সুন্দরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

    সুন্দরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কফিল উদ্দিন (৫৫) নামে একজন চালব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কফিল উদ্দিন উপজেলার বামডাঙ্গা ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন দুপুরে তার মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাদুল্লাপুর যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী নলডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছলে একাই মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ নিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সাথে কথা হলে তিনি জানা,ন সড়ক দুর্ঘটনার কথা শুনেছি, মোটরসাইকেল চালক একাই পড়ে আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

  • বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন নিহতের বাবা উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান।

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টায় বোনারপাড়া সরকারি কাজি আজহার আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজায় অংশ নেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, গাইবান্ধা জেলার সাবেক সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মান, সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডল, সাঘাটা উপজেলার আমির ইব্রাহিম, সেক্রেটারি আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা প্রমুখ।

    উলেখ্য, রোববার (২১ জুন) বিকেলে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথায় সাইফুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সঙ্গীরা।

    রোববার রাতে জেলা যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    এ ঘটনায় রাতেই যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। এছাড়া রাতে রাজধানীতে ও আজ (সোমবার) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

  • সাদুল্লাপুরে অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে ঘরবাড়ি, আশ্রয়হীন বহু পরিবার

    সাদুল্লাপুরে অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে ঘরবাড়ি, আশ্রয়হীন বহু পরিবার

    আঁকাবাঁকা বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। টানা বৃষ্টিতে পানির সাথে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগ। আর সেই স্রোতের ধাক্কায় অব্যাহত নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। এখন আশ্রয়হীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নদীপারের বহু পরিবার।

    সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নে সীট জামুডাঙ্গা (মুন্সীপাড়া) নামক স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙনের দৃশ্য। অব্যাহত ভাঙনের ফলে বেশকিছু ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। এড়াছাও হুমকির মুখে পড়েছে আরো একাধিক বসতবাড়ি।

    স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগ। এতে করে সীট জামুডাঙ্গা মুন্সীপাড়া এলাকায় শুরু হয়েছে ঘাঘটের অব্যাহত ভাঙন। সেই ভাঙনের কবলে ইতোমধ্যে জহুরুল, সাদা, মুকুল, মচকুট ও মোস্তফাসহ অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র।

    এছাড়া সম্প্রতি ভাঙনে আজিজল, আনোয়ারুল, ফুল মিয়া, নীল মিয়া ও শহিদুলের ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে তাদের বাপ-দাদার ঘরবাড়ি। একইসাথে বাঁশঝাড় ও ফসলী জমিও বিলীন হয়েছে অনেকের।

    নদী ভাঙনের শিকার মানুষদের মধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে বাঁধসহ আত্নীয়-স্বজনদের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে অন্যের জমিতে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা মেলেনি তাদের।

    ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সীট জামুডাঙ্গা (মুন্সীপাড়া) নামক স্থানের ভাঙন নতুন নয়, এটি দীর্ঘদিনের। এখানে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ একাধিক দায়িত্বশীলদের জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তবে দুই বছর আগে জিও ব্যাগ বসানোর প্রস্তুতি নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ স্থানে ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

    ক্ষতিগ্রস্ত নীল মিয়া কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দরিদ্রতার সাথে লড়াই করে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। এরই মধ্যে ঘাঘট নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবনযাপন করছি।’

    এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবেদন দাখিল করে স্থানীয় এমপির কাছে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা হবে।’

  • গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের নাকাইহাট বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নিহত ওই যুবকের নাম আনিছুর রহমান। তিনি নাকাইহাট বন্দর এলাকার নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নাকাইহাট বন্দরের একটি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা মাপার কাজ চলছিল। এ সময় নাকাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান ও তার ভাই আব্দুল মজিদ প্রধানের পক্ষের সাথে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজার রহমান মণ্ডলের আত্মীয় শাহ আলমের পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি হিরো মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয় এবং একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সায়েম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান, আব্দুল মজিদ প্রধান, মানিক প্রধান, মেহেদুল প্রধানসহ আরো কয়েকজন।

    গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বুধবার ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিছুর রহমান মারা যান।

    ঘটনার খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    এদিকে, গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) রশীদুল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে : মাওলানা আব্দুল হালিম

    মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে : মাওলানা আব্দুল হালিম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জনসেবা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

    রোববার (১০ মে) গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলা মজলিশে শূরা, কর্মপরিষদ, উপজেলা আমির-সেক্রেটারি, নারী ইউনিট এবং ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কর্মীরা অংশ নেন।

    সভায় মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে আর্থিক সহযোগিতা ও ত্যাগের মনোভাব জরুরি। পাশাপাশি সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে বৃহত্তর আন্দোলন ও সমাজ উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। জ্ঞান, আমল ও নৈতিকতায় এগিয়ে থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত সবার মূল লক্ষ্য।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলা আমির মো. আব্দুল করিম। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকার।

    এ সময় কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎচালিত ধান মাড়াই মেশিনে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের পাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাফর আলী পাইকা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।

    স্বজনরা জানায়, জাফর আলী কৃষি কাজের পাশাপাশি স্থানীয় ঢোলভাঙ্গা বাজারে কাপড়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রোববার সকালের দিকে ধান মাড়াই করার জন্য মেশিনে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিচ্ছিলেন। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আতোয়ার রহমান বলেন, ‘ধান মাড়াই মেশিন চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলীর মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক।’

    সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়ে একটি ম্যাসেজ পেয়েছি। ঘটনাটি দেখা হচ্ছে।’

  • গুটি বসন্তে শিক্ষকের মৃত্যু

    গুটি বসন্তে শিক্ষকের মৃত্যু

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গুটি বসন্ত (পক্স) রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিশ চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক মৃত্যু হয়েছে। ৪ এপ্রিল সোমবার রাত ১ টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    ইতিশ চন্দ্র সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বোডঘর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খোলাহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ আগে ইতিশ চন্দ্রের ছেলে ঢাকা থেকে এসে গুটি বসন্তে আক্রান্ত হন। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে একে একে ইতিশ চন্দ্র দাস সহ তার স্ত্রী ও আরেক ছেলেও গুটি বসন্তে আক্রান্ত হন।

    আক্রান্ত হওয়ার পর পাশের গ্রামের এক কবিরাজের কাছ থেকে শিক্ষক ইতিশ চন্দ্র চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে গত রাতে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান।

  • ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল চা দোকানির

    ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল চা দোকানির

    গাইবান্ধার সাঘাটায় ব্লেন্ডার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহাবুব আলম। একইদিন সকালে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের মথরপাড়া পচাবস্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন (মনা)। মনা ওই গ্রামের সুরেন্দ্র বর্মনের ছেলে। তিনি মথরপাড়া বটতলা বাজারে চা-দোকানি ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার নিজ বাড়িতে ব্লেন্ডার মেশিন মেরামত করার চেষ্টা করছিলেন মনা। এসময় হঠাৎ বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট হলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। পরে পরিবারের সদস্য টের পেলে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের ফুফাতো ভাই সুমন রায় জানান, মনা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। মনার বাবা-মা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগী। সকালে ব্লেন্ডার ঠিক করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম স্থানীয়দের বরাতে বলেন, বাড়ির ব্লেন্ডার ঠিক করার সময় মথর পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর হয়েছে। তিনি চা দোকানি ছিলেন।

  • মাকে বাঁচাতে আকুতি ঢাবি শিক্ষার্থী সজলের

    মাকে বাঁচাতে আকুতি ঢাবি শিক্ষার্থী সজলের

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী সজল কুমার রায়। বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় মেধাবী স্বজল এখন দেশের সেরা বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী। বাড়িতে ভালো পোশাক কিংবা বেশিরভাগ সময় জোটেনি তিনবেলা খাবার। ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ চালাচ্ছেন সংগ্রামী সজল। তবে, এই সংগ্রামী জীবনে সজলকে নতুন করে যুদ্ধ করতে হচ্ছে তার ৪৬ বছর বয়সী মা স্বপ্না রানীর শরীরে বাঁধা অদৃশ্য এক শত্রুর সঙ্গে।

    জটিল ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত সজলের মা স্বপ্না রানী। বাবা কাঠ মিস্ত্রি ও সজলের টিউশনির আয়ের সমন্বয়ে চলা সংসারের পাশাপাশি চলতো মায়ের চিকিৎসা। রোগটি ধরা পড়ার পর গেল দুই বছরে শেষ সম্বল হিসেবে থাকা নিজেদের ১০ শতক জমি, তিনটি গরুসহ সহায়-সম্বল সবই বিক্রি করতে হয়েছে চিকিৎসার খরচে।

    তবে দীর্ঘ সময়েও দেশের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল মেলেনি। ফলে এখন যতদ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    সজল কুমার রায়ের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামে। বাবা মোহননাল চন্দ্র রায় পেশায় কাঠ মিস্ত্রি, মা গৃহিণী। চার ভাইয়ের মধ্যে সজল দ্বিতীয়। পরিবারে বাবা-মা, ভাই-ভাবি ও তাদের এক কন্যা সন্তানসহ সজলের ছোট আরও দুই ভাই রয়েছে। তারা স্থানীয় স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে দশম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ভাই টেক্সটাইলের ডে লেবার হিসেবে কাজ করেন।

    সজলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রথমে রংপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় মা স্বপ্না রানীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ‘সিএআরটি ব্রেস্ট, আইডিসিসি, জি-২’। বেশকিছু দিন সেখানকার চিকিৎসায় আশানুরুপ ফল না পেয়ে পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানেও চিকিৎসার উন্নতি না হয়ে সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল ঢাকার আহসানউল্লাহ মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন স্বপ্না রানীর। সেখানে মেডিকেল ইকোলজি ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. পারভিন শাহিদা আখতারের তত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।

    পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে সজলের মায়ের ক্যান্সার ধরা পরলেও সমেস্যা দেখা দিয়েছিল আরও দুই বছর আগে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভালো চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা যায়নি। প্রথম দুই বছর হোমিও চিকিৎসা করা হয় স্বপ্না রানীর। পরে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে তাকে রংপুরে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

    সজল বলেন, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা জরুরি। মাকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের সংগ্রহ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যা ছিল সম্বল আগেই বিক্রি করে দিয়েছি।

    তিনি বলেন, শেষ চারমাস ধরে প্রতিমাসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ বাবদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার করে টাকা যাচ্ছে। এতে আমরা হাঁপিয়ে উঠছি। সামনে হয়তো আর সম্ভব হবে না।

    সজল জানান, সর্বশেষ গত (২৩ মার্চ) আহসানিয়া মিশন এন্ড ক্যান্সার জেনারেল হাসপাতালে মাকে দেখানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক প্রথম দিন কোনো ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) দিতে পারেননি, তারা সময় নিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার তারা ডেকেছেন। সেদিন হয়তো চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন। জানি না তারা কি জানান! গত এক বছর যাবত টানা চিকিৎসা চলছে কিন্তু বাংলাদেশের চিকিৎসায় কোনো রেজাল্ট হচ্ছে না।

    দেশের বাইরে জটিল এই রোগের জন্য চিকিৎসায় ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। যা সজলের পরিবারের জন্য জোগার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে মাকে বাঁচাতে দেশের সরকার ও বিত্তবানসহ সরকারি-বেসরকারি দানশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।

    স্বজল কুমার রায়ের নম্বর ০১৬১২০২৩৮৮৬ (বিকাশ, নগদ, রকেট)। এ ছাড়া, ব্র্যাক ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 1066367030001, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 060261339। ইসলামী ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20502156700186003, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 125261337।

    শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে প্রথম শুনলাম। সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সেক্টরে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহযোগিতা করা হয়। তারা যোগাযোগ করলে বা খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

  • একসঙ্গে বিষপান, প্রেমিকার পর এবার প্রেমিকের মৃত্যু

    একসঙ্গে বিষপান, প্রেমিকার পর এবার প্রেমিকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একসঙ্গে বিষপানে প্রেমিকা মীম আক্তারের মৃত্যুর ৬ দিন পর মারা গেলেন প্রেমিক মোরছালিন হাসান পরশও। শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরশের মৃত্যু হয়।

    শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম।

    নিহত পরশ (২৫) উপজেলার জয়েনপুর গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে ও মীম (১৯) একই গ্রামের শফিউল ইসলামের মেয়ে। তারা একে অপরের প্রতিবেশী ।

    এর আগে গত ১৯ এপ্রিল সকালে ওই গ্রামে মীম ও পরশ একসঙ্গে বিষপান করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেলেই মীমের মৃত্যু হয় এবং পরশের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মোরছালিন হাসান পরশ ও মীম আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে তারা দুজনই নিজেদের পরিবারে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে উভয়ের পরিবার রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি মীমকে অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। এরমধ্যে মীম স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এলে উভয়ের মধ্যে অভিমানের সৃষ্টি হয়। পরে সেই অভিমান থেকেই পরশ ও মীম ১৯ এপ্রিল সকালে একসঙ্গে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

    সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ সকালে পরশের মৃত্যু হয়েছে। আমরা রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছি। সেখানেই (রমেকে) মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এম কে

  • গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক

    গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক

    গাইবান্ধার ফুলছড়িতে যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির এক নেতাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফুলছড়ি উপজেলার বালাশীঘাট এলাকার রসুলপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    আটক ব্যক্তি হলেন, মিলন মিয়া (৪৪)। তিনি কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের মৃত মেছের উদ্দিন সরকারের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা মিলন মিয়ার নিজ বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাকে আটক করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে চারটি রাম দা, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা, ভয়ভীতি ও নাশকতা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যৌথ বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

    ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম জয় বলেছেন, আটক মিলন মিয়া কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত নেবো।

    ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, যৌথ অভিযানে উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

  • গাইবান্ধায় বাড়িতে লুকানো ৭২ বস্তা ভিজিএফের চাল জব্দ

    গাইবান্ধায় বাড়িতে লুকানো ৭২ বস্তা ভিজিএফের চাল জব্দ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ভিজিএফের প্রায় চার টন চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    সোমবার রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ভিজিএফের প্রায় চার টন চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই দিন দুপুরে কমিটি গঠন করা হয়।

    প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের মো. আবদুল মজিদ মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বাড়ির একটি ঘর থেকে অবৈধভাবে মজুত রাখা ভিজিএফের ৭২ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। পরে উদ্ধার করা চাল স্থানীয় সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. বিলকিস বেগমের জিম্মায় রাখা হয়।

    ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বপন কুমার দে এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, উদ্ধার হওয়া চালের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গাইবান্ধায় ঝড়ে ৩ শতাধিক বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড

    গাইবান্ধায় ঝড়ে ৩ শতাধিক বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভেঙে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি, হেলে পড়েছে আরও কয়েকটি। এতে তিন থেকে চার শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় বিদ্যালয়ে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    সোমবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। এর আগে রোববার রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় প্রবল বাতাসে অন্তত তিন শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গিয়ে দূরের আবাদি জমিতে পড়ে। ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, কোথাও আবার হেলে পড়েছে। ফলে রোববার রাত থেকেই ওই এলাকার কয়েকশ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

    রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতের ঝড়ে ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় তিন থেকে চার শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবারের থাকার ঘর না থাকায় তারা অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

    ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে তার ওয়ার্ডে অন্তত তিন শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘর ভেঙে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে আছে।

    তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদের থাকার জায়গা নেই। তাদের জন্য দুটি বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

    ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বুলু মিয়া বলেন, ঝড়ের সময় তার ওয়ার্ডের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা স্কুল টেকনিক্যাল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণাধীন ইটের দেয়ালও ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির চালা, কাঠ ও বাঁশ ছিটকে পড়ে আছে জমিতে।

    গোবিন্দগঞ্জ জোনের পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার রাশেদ আব্দুল্লাহ জানান, ঝড়ে রাজাহার ইউনিয়ন এলাকায় আমাদের দুটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং সাত থেকে আটটি খুঁটি হেলে পড়েছে। এতে গতকাল ঝড়ের সময় হতে তিন থেকে চার শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

    তিনি বলের, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনের দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি আমরা।

    এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানাকে।

    গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা মোবাইল ফোনে বলেন, গতকাল রাতের ঝড়ে গোবিন্দগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনও। ক্ষতিগ্রস্ত ১৪২টি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৪. ২৬০ মেট্রিকটন চাল এবং ৪ লাখ ২৬ হাজার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে, পরবর্তীতে তাদেরকে কৃষিসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

  • গাইবান্ধায় আগুনে গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    গাইবান্ধায় আগুনে গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে দুটি উন্নত জাতের বিদেশি গরু দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আগুনে গরুসহ গোয়ালঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের পবনতাইড় গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবনতাইড় গ্রামের সিনতউল্লার ছেলে আসাদুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে হঠাৎ তার গোয়ালঘর থেকে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুরু করেন। পরে ঘর থেকে বের হয়ে আসাদুল ইসলাম দেখেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

    স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা দুটি বিদেশি জাতের গরু দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পাশাপাশি গোয়ালঘরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, এই গরু দুটিই ছিল আমার পরিবারের আয়ের প্রধান সম্বল। আগুনে সবকিছু হারিয়ে আমি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি। প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    এদিকে শুক্রবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘুড়িদহ ইউনিয়ন সেক্রেটারি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামাল পাশা মণ্ডলসহ স্থানীয় নেতারা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেন।

    এ সময় কামাল পাশা মণ্ডল ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

  • গাইবান্ধায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

    গাইবান্ধায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

    গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে ভাড়া বাসা থেকে ববিতা খাতুন (৩০) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ডেস্ক নিউজঃ

    রোববার (২৯ মার্চ) ভোররাত ৪টার দিকে তাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান।

    গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা এলাকার আমালাগছি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ববিতা বেগমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে কেটে ফেলা একটি পুরুষাঙ্গ পায় পুলিশ ।

    পুলিশ জানায়, পুরুষাঙ্গটি ববিতার স্বামী হারুন মিয়ার। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছে , স্বামী স্ত্রীর ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে ববিতা তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। পরে হারুন তার স্ত্রীকে হত্যা করে আহত অবস্থায় পালিয়ে যান। পরে আজ ভোররাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারুনকে গ্রেপ্তার করেন তারা।

    এ ঘটনায় আজ রোববার হত্যার শিকার ববিতা বেগমের মা হাসনা বেগম বাদি হয়ে হারুনকে প্রধান আসামি করে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামালা দায়ের করেন।

    পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান বলেন, গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ববিতা বেগমের পলাতক স্বামী হারুন মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া রুমে পাওয়া পুরুষাঙ্গটি হারুন মিয়ার।

    ওসি আরও জানান, হারুন মিয়া শঙ্কামুক্ত হলেও রক্তস্বল্পতা জনিত কারণে তার শরীরে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। তিনি কোনো কথাই বলছেন না। সুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

    এসময় তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • এসিল্যান্ডের অভিযানে পালাতে গিয়ে ট্রাক্টর উল্টে ধানখেতে

    এসিল্যান্ডের অভিযানে পালাতে গিয়ে ট্রাক্টর উল্টে ধানখেতে

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুকুর খননের মাটি বহনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে একটি ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানখেতে উল্টে পড়েছে। এ সময় ট্রাক্টরের ধাক্কায় একটি মুরগির ঘর (খোয়ার) ভেঙে যায় এবং চালকসহ আশপাশের কয়েকজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের উত্তর দামোদরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তি পুকুর খনন করছিলেন। খননকৃত মাটি ট্রাক্টর দিয়ে বহনের কারণে স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাক্টরচালক জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত গাড়ি চালিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। পালানোর সময় ট্রাক্টরটি রাস্তার পাশে আব্দুল মজিদ আকন্দের একটি মুরগির ঘরে (খোয়ার) ধাক্কা দিলে ঘরটি ভেঙে যায়। এ সময় খোয়ারের আশপাশে থাকা শিশুসহ কয়েকজন ব্যক্তি অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।

    পরে ট্রাক্টরটি স্থানীয় এমদাদুল হকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ভুট্রু মিয়ার ধানখেতে নামিয়ে দেন। এতে ট্রাক্টরটি উল্টে যায় এবং গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চালক জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত নেমে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীম উদ্দিন বলেন, অভিযানের সময় ট্রাক্টরটি থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক নির্দেশ না মেনে দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন।

    ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুকুর খনন ও মাটি বহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অসন্তোষ ছিল।

  • গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে সোনালি ভুট্টা চাষে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। চরবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও উর্বর পলিমাটির কারণে ভুট্টা এখন জেলার অন্যতম লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের জীবনমান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি ছোট-বড় চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠেছে এই ফসল।

    কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর পলিমাটি ও বিস্তীর্ণ জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় গত এক দশকে এ অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

    গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর (১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ বিঘা) জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর বেশি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৩ হেক্টর বেশি।

    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদরে ১,১৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১,১০০, পলাশবাড়ীতে ১,০০০, গোবিন্দগঞ্জে ১,৩৮৫, সাঘাটায় ২,০০৫, সুন্দরগঞ্জে ৪,৪০৫ এবং ফুলছড়িতে ৫,৯৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।

    সম্প্রতি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চর রসুলপুর, গুপ্তমনি, উরিয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও কাবিলপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা ভুট্টাক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে গাছে কলা এসেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১,১৫০ টাকায়। ফলে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব।

    চরের কৃষক মাজের আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। সবই বর্গা নেওয়া। এই ফসলই আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।

    আরেক কৃষক ফুল মিয়া জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। গাছ কাঁচা অবস্থায় গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এবং শুকনা অবস্থায় জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

    কৃষকদের দাবি, চরাঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও গুদাম নির্মাণ করা হলে ফসল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চরভিত্তিক বাজার বা সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলে এর আবাদ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন ফিড মিল ও খাদ্য শিল্পে সরবরাহ হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা জেলার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ভুট্টা ও মরিচ এই জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।