রাকসু নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি রাবি শিবিরের

প্রতিবেদন:

·

,

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই এখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এবং সিদ্ধান্ত নিক। তার আলোকে যাতে যথা সময়ে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে রাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতি বছর রাকসু নির্বাচন পাই, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

আবাসন সংকট ও ভাতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, শতভাগ আবাসিকতার বিষয়ে আমরা শুনেছি গত অর্থবাজেটে এটি সবুজ পাতায় সংযুক্ত হয়েছে। আমরা এটি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। ২০২৫ সালেই আমরা সংবাদ সম্মেলন করে রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। যেহেতু বাজেট হয়েছে, তাই কতদিনের মধ্যে হলগুলো নির্মাণ হবে তার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। তাই আমরা শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ চাচ্ছি। যতদিন শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত না হবে ততদিন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ভাতা প্রদান করতে হবে।

১০ মাসে রাকসুর অর্জন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আপনারা দেখবেন যে ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো ওভাবে হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং সিট বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সিট বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন। এসবই কিন্তু রাকসু থাকার জন্য সম্ভব হয়েছে। ক্যাম্পাসে বর্তমানে একটি জবাবদিহির পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি।

রাকসু নির্বাচন দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বিগত রাকসু নির্বাচনেও আমরা দেখেছি প্রশাসনের সদিচ্ছা ছিল না; কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমর্থন নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, ফলে তারা তফসিল দিতে বাধ্য হয়েছিল। তখন বিভিন্নভাবে নির্বাচন বানচাল এবং বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছিল; কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে তা রুখে দিয়ে রাকসু নির্বাচন আদায় করেছি। আবারও রাকসু নিয়ে যদি প্রশাসন গড়িমসি করে, তাহলে আমরা আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে রাকসুর দাবি আদায় করে নেব।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ