মেসির বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন এনজো, নেপথ্যে অজানা গল্প

প্রতিবেদন:

·

, , ,

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ। মাঠে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়। কিন্তু ম্যাচ শেষে আনন্দের চেয়ে আবেগই বেশি ছিল এদিন। মেসির বিদায়ী বক্তব্যের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে তখন মেসির কথা শুনছিলেন হাজারো দর্শক। সতীর্থরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় অধিনায়কের পাশে। মেসি কথা বলার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি এনজো।

কান্নার সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ম্যাচ শেষে এনজোকে সেই অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, দিনটি ছিল খুব আবেগের। অনেক রকম অনুভূতি কাজ করছিল। আশা করি, লিও দিনটি উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।’

মেসির প্রতি এনজোর ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেসিকে নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। তখন মেসি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এনজো হিসাব কষতেন, মেসি ও তার বয়সের ব্যবধান কত। একদিন মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারবেন কি না, সেটিও ভাবতেন।

শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। শুধু মেসির সঙ্গে খেলাই নয়, তার সঙ্গে বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো।মেসিকে নিয়ে লেখা চিঠিতে এনজো বলেছিলেন, ‘আমি ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়স মিলিয়ে হিসাব করতাম। ভাবতাম, তোমার সঙ্গে একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারব কি না।’

মেসির সঙ্গে খেলতে এসে এনজোর অভিজ্ঞতা আরও বড় হয়েছে। সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মেসিকে। ভাগ করে নিয়েছেন অনুশীলন, ড্রেসিংরুম, কঠিন সময় ও আনন্দের মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত দুজন হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

এনজো লিখেছেন, ‘আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, যেভাবে তুমি আমাকে শুরু থেকেই আপন করে নিয়েছ। আমি আমার আদর্শের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই তুমি আমাকে দলের একজন মনে করেছ।’

মেসির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও পরামর্শও ভোলেননি এনজো। তার ভাষায়, ‘তোমার একটি ভালো কথা, একটি পরামর্শ, একটি আলিঙ্গন অথবা শুধু এমনভাবে পাশে থাকা, যাতে প্রয়োজনের সময় স্বস্তি পাই- কখনো ভুলব না।’

মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরের ক্যাম্পের কথাও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এনজোর। এত বছর ১০ নম্বর জার্সিতে সামনে মেসিকে দেখে অভ্যস্ত তিনি। চিঠির শেষ দিকে এনজো লিখেছেন, ‘কী ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই ছোট্ট ছেলেটি কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত- সে কখনো সময়মতো তোমার সঙ্গে খেলতে পারবে কি না।’

এরপর মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এনজোর শেষ কথা, ‘আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছ, যা কিছু শিখিয়েছ এবং তোমার গল্পের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’