আর্জেন্টিনা

  • ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় যে আবেগের সঞ্চার হয়েছে, সেটিই ফুটে উঠেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথায়।

    বেনিনের বিপক্ষে মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার চেয়েও যে চাহিদা বেশি, সেটি বোঝাতে স্কালোনি বলেছেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সবগুলো পূর্ণ হয়ে যেত।’

    বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি। তার মতে, এখন আর মেসির বিদায় নিয়ে বলার মতো কিছু বাকি নেই, সময়টা শুধু উপভোগ করার। ‘আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। হাহা। আমার মনে হয়, সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা,’ বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

    ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। স্কালোনির মতে, মেসির বিদায়ের পর তাঁর অভাব প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভূত হবে। ‘আমরা সবসময় যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, সে যখন থাকবে না, তখন সেটা অনুভব হবে। এখন সে আর এখানে থাকবে না,’ বলেন স্কালোনি।

    মেসির শেষ ম্যাচের আবেগ নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি সবাই আবেগপ্রবণ থাকবে। মেসিও থাকবে। সে যেদিন মনুমেন্টালের মাঠে পা রাখবে, সেদিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা অবশ্যই এগিয়ে যাবে, তবে তার মতো অনুভূতি আর কেউ দিতে পারবেন না বলেই মনে করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলতে হবে, দলও চলবে। কিন্তু মাঠে তাকে থাকার যে অনুভূতি, তা অনন্য। মাঠে সে যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, অন্য কারও মধ্যে আমি কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমরা সেটাই সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’

    বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির সঙ্গে আরও দুটি অনুশীলন সেশন পাচ্ছেন স্কালোনি। তাই শেষ মুহূর্তগুলোও উপভোগ করতে চান আর্জেন্টাইন কোচ।

  • মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    একসঙ্গে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন অনেক শিরোপা। মাঠে লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা যেন ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। সেই মেসির বিদায়ী ম্যাচে কি তিনি না এসে পারেন? দি মারিয়া জানিয়েছেন, মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবরের বিদায়ী ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকবেন তিনিও।

    রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে জয়ের পর মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে নিজের এই পরিকল্পনার কথা জানান দি মারিয়া।

    ৫ অক্টোবর বানফিল্ডের বিপক্ষে রেসিং ক্লাবের ম্যাচ রয়েছে। এরপর আর বুয়েন্স আয়ার্স ছাড়ছেন না দি মারিয়া। পরদিন সরাসরি চলে যাবেন মনুমেন্টালে।

    দি মারিয়া বলছেন, ‘আমাকে তো স্টেডিয়ামে যেতে হবে, তাই না? আমাকে যেতে হবে, মেসির শেষ ম্যাচটা দেখতে হবে। আমরা ৫ তারিখে বানফিল্ডের বিপক্ষে খেলবো। মনুমেন্টাল আমার পথেই পড়বে, আমি সেখানে থাকবো।’

    মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন দি মারিয়া, ‘ব্যাপারটা খুব কঠিন হবে। এত বছর পর লিওকে ছাড়া একটি দল, কল্পনাই করা যায় না। আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টাইনদের এবং পুরো বিশ্বের জন্য সে যা করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমরা শেষ দিনটা উপভোগ করবো।’

  • মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ক্লাবের প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সভায় কথা বলার সময় মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি আয়োজনের ইচ্ছার কথা এরই মধ্যে তাকে জানিয়েছে বার্সেলোনা। নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই সেই সংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কাতালান ক্লাবটি।

    লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা মেসিকে জানিয়েছি এ বিষয়ে। স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে তার জন্য একটি সংবর্ধনা আয়োজন করতে চাই।’

    তবে সংবর্ধনার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মেসির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বার্সা সভাপতি, ‘স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা তার জন্য এই সংবর্ধনা আয়োজন করব, যদি তিনি সেটি চান।’

    মেসির আবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন লাপোর্তা। তার দাবি এক মৌসুমের জন্য হলেও মেসিকে আবার দলে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ‘আমাদের সঙ্গে আরও একটি মৌসুম খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি কারণ সে অন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ তবে কোন সময়ের কথা তিনি বলছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বার্সা সভাপতি।

    লাপোর্তার এই মন্তব্যে ফের সামনে এসেছে বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে পুরোনো সেই আক্ষেপ। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়েন মেসি। তবে ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ গৌরবময় অধ্যায়ের পরও মাঠে তাকে যথাযথ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা।

    তবে সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্লাবের ইতিবাচক মনোভাবের কথাই তুলে ধরেছেন লাপোর্তা, ‘তাকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা খুবই খুশি হব। আশা করি খুব শিগগিরই তাকে দেখতে পাব।’

    এদিকে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসির মৃত্যুতেও শোক জানিয়েছেন লাপোর্তা। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাপোর্তা বলেন, ‘তার বাবার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ।’

  • নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই বিদায় জানানো হবে লিওনেল মেসিকে। এই সফরে দেশে আসার আগে এশিয়ার গণমাধ্যম মিগুকে সাক্ষাৎকার দেন স্কালোনি।

    বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি যে তিনি থাকবেন কিনা। বরং এই সিদ্ধান্তকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেই মনে করেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি’।

    ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকছেন স্কালোনি, এটা নিশ্চিত। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে চাইছে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দলটির কোচ হিসেবে তাকে না দেখা যেতে পারে তখনই, যখন তিনি নিজে এএফএকে না বলবেন। সেই তিনিই যখন বলছেন অনিশ্চয়তার কথা, তখন তা নিশ্চিতভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি করে। আর তাতেই শুরু হয়ে গেছে নতুন গুঞ্জন।

    সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি নতুন অনেক মুখকে ডেকেছেন ক্যাম্পে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য। আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ, সুন্দর অধ্যায় শুরু হচ্ছে। দরজায় কড়া নাড়া এই ছেলেদের ওপর আস্থা রাখার সময় এখন। আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কিনা তার ওপর। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো, যারা আমাদের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে, তাদের সবাইকে সুযোগ দেওয়া।’

    নতুন প্রজন্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জেতা কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরের সময়ের সঙ্গেও তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরও আমার মনে হয়েছিল সামনের সময়টা কঠিন হবে। কারণ সব শিরোপা জেতার পর, বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে, প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা তা অনুভব করে দেখেছি সত্যিই সেটা সম্ভব ছিল।’

    বিশ্বকাপ পরবর্তী সময় নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল শেষ হওয়ার পর, জিতি বা হারি সেটা বিষয় নয়। এখন থেকে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করবো। শিরোপা পুনরাবৃত্তি করার কথা বলছি না। দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখাই কঠিন কাজ। এমনটা আবার করা সহজ হবে না। মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে। আমার মনে হয় এটা আবার চেষ্টা করা কঠিন হবে। সহজ হবে বলছি না। একজন কোচ হিসেবে, দলের প্রধান হিসেবে জানতেই হবে যে এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’

    স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে দলের অবস্থা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক ছিল। এবার আমরা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমার ভিন্ন একটা দিকে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমাদের খেলোয়াড়েরা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের চেয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাদের।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। এই আট বছরে যারা সবকিছু দিয়েছে তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি ছিল। একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তথ্যসূত্র : গোল.কম

  • আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পাওয়া কে এই রোমান ভেগা

    বিশ্বকাপের পর প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাঝে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সবাই ভেবেছিলেন প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াড হবে পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার।

    অবশ্যই। তবে ২২ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এখনো এমন কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি, যাঁর ওপর আলাদা করে চোখ রাখতে হয়। আসলে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলে সবারই চোখ থাকে নতুন কারও ওপর। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার তো এ বিষয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি। কারণ মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই স্কোয়াডেও মেসি থাকায় রোমান ভেগা যে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সেটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে।


    তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কোয়াডে রোমানই সবচেয়ে বড় চমক। টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা রোমান আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনে সমস্যার সমাধান হতে পারেন, যেখানে খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।

    ভেগার পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও।ভেগার ইনস্টাগ্রাম

    ভেগার খেলার ধরন কেমন

    তাঁর পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ওদিকে আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছেন। এখনই তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আগামী বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাই কাউকে তৈরি করতে হবে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই ভেগাকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    ভেগা বাঁ পায়ের ফুটবলার। বিরামহীনভাবে উইং ধরে ওঠা-নামা করতে পারেন। আক্রমণে ওঠার পথে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে পেছনে ফেলতে পারেন হরহামেশাই। গতি, ম্যাচ রিড করার ক্ষমতা, পায়ের কাজ, খেলা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী শট নেওয়ায় এরই মধ্যে বেশ নজর কাড়ছেন ভেগা।

    উঠে আসার পথটা যেমন ছিল

    ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স। এই কারণে ক্লাবটিকে কেউ কেউ ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ও বলেন। ভেগা উঠে এসেছেন এই ক্লাব থেকেই। বয়সভিত্তিক দল থেকে ২০২১ সালে এই ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে তাঁর অভিষেক।


    বুয়েনস এইরেসে ২০০৪ সালে জন্মানো ভেগার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁকে ৫০ হাজার ইউরোয় এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠায় জুনিয়র্স। ৪৫ লাখ ইউরোয় পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও বার্সা সে পথে হাঁটেনি। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবারও আর্জেন্টিনার ক্লাবটিতে ফেরেন ভেগা। জুনিয়র্সের একাদশে ধীরে ধীরে নিয়মিত হন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ১ গোলের সঙ্গে ৩টি গোল করিয়েছেন।

    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ।ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগা ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলেও। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলার পথে তাঁকে দেখা গেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।


    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। চুক্তি হয় পাঁচ বছরের। শুরুতে ক্লাবটির মূল দলে নিয়মিত তাঁকে দেখা না গেলেও এখন নিয়মিতই খেলছেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগ জয়ের পথে খেলেন ১৪ ম্যাচ, সব মিলিয়ে মৌসুমে ২৩ ম্যাচ। এ বছর জিতেছেন রাশিয়ান সুপার কাপও। সব মিলিয়ে রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা।

    মজার ব্যাপার, ভেগা জেনিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পরই তাঁকে কিনতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। কিন্তু সেই দর–কষাকষি আর আলোর মুখ দেখেনি।


    ক্লাব ফুটবলে ভালো খেলাটা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে ভেগাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে ধারণা দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর। সন্দেহ নেই ভেগা সেই চেষ্টাই করবেন। অন্তত জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখে সেটাই মনে হয়, ‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

    ভেগা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও। ভেগার ইনস্টাগ্রাম


    ভেগার স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এখন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নপূরণের পালা। পারবেন তো? এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর শেষ প্রীতি ম্যাচ। স্কালোনির নজর কাড়তে ভেগাকে যা করার এসব ম্যাচেই করতে হবে।

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।

  • মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ইএসপিএনের সাংবাদিক এস্তেবান এদুলের বরাতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর নেতৃত্বের জন্য রোমেরোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।

    মেসি নিয়মিত অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন রোমেরো। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তির কারণে সেদিন মেসি বেঞ্চে ছিলেন। রোমেরোর নেতৃত্বে ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

    পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন এই ডিফেন্ডার। ফলে মেসি-পরবর্তী সময়ে তাকেই নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।

    ২৮ বছর বয়সী রোমেরোর জাতীয় দলে অভিষেক ২০২১ কোপা আমেরিকার আগে চিলির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর লিওনেল স্কালোনির দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ, গোল করেছেন চারটি।

    রোমেরোর জাতীয় দল অধ্যায়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা। মেসি, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দিদের প্রজন্মের পর এবার নতুন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন রোমেরো।

    ২৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পেলে সামনে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে তার। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে এই টটেনহাম ডিফেন্ডারের সামনে। তবে আপাতত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এএফএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। একাধিক প্রতিবেদনে অবশ্য মেসির পর স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

  • মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পর বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির পরিকল্পনা। তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে এশিয়া সফরের যে পরিকল্পনা করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), সেটি এখন বাতিল হওয়ার পথে।

    এশিয়া সফর বাতিল করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

    ইএসপিএন আর্জেন্টিনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিন ম্যাচের একটি ঘরোয়া সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এএফএ। প্রথম ম্যাচটি বুয়েনস এইরেসের এল মনুমেন্টালে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল অথবা কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি দুটি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে আছে কর্দোবা ও রোজারিও।

    এর আগে এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে এশিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনার। চীনের বিপক্ষে একটি ম্যাচও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

    ইএসপিএনের সাংবাদিক দিয়েগো মনরোইগ জানিয়েছেন, পুরো আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার দেশের মাটিতে খেলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। স্পোর্টসসেন্টারের সকালের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘দলটির ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে পুরো সময়টা ঘরের মাঠে কাটানোর।’

    মেসিকে ছাড়া নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানোর ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের এই তিন ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য। জুলাইয়ে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখন এই কোচের সামনে।

    এর পর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আরেকটি ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ব্যস্ত সূচি শুরুর আগে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দলকে প্রস্তুত করার জন্য আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো স্কালোনির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।

  • বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    বার্সায় যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্তিনেজ

    হুলিয়ান আলভারেজের জন্য যে এখনো আকুল হয়ে আছে বার্সেলোনা সেটা সবারই জানা। তবে আর্জেন্টাইন এই তারকা ফরোয়ার্ডকে শেষ পর্যন্ত না পেলে বিকল্প একাধিক পরিকল্পনাও নাকি ছিল কাতালান ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আলভারেজের জাতীয় দলের সতীর্থ লাউতারো মার্তিনেজকেও বিবেচনায় রেখেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

    ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন লাউতারো মার্টিনেজ। ‘গ্রান গালা দেল ক্যালসিও’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ইন্টার মিলানের এই অধিনায়ক কথা বলেন ‘স্কাই ইতালি’র সামনে। বার্সেলোনায় হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর মার্তিনেজকে জড়িয়ে যেসব দলবদলের গুঞ্জন চাউর হয়েছিল, সে বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে একদমই পিছপা হননি তিনি।

    দলবদলের এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরিই মার্তিনেজ বলেন, ‘এই ধরনের কোনো প্রস্তাব আসলে সত্যি বলতে বেশ ভালো লাগে, কারণ নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার জন্যই তো আমরা দিনরাত কষ্ট করি। গুঞ্জনগুলো কিন্তু মিথ্যে ছিল না, তবে আমার চিন্তাভাবনা শুরু থেকেই একদম পরিষ্কার ছিল—আমি ইন্টারের সতীর্থ আর আমাদের এই অসাধারণ সমর্থকদের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাকে যত দিন চাইবে, আমি এখানেই থাকব; এমনকি সারা জীবন থেকে যেতে বললেও আমার আপত্তি নেই।’

    অবশ্য পেশাদার ফুটবলে যে ভিন্ন বাস্তবতাও আছে সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মার্তিনেজ, ‘তবে এই পেশার নির্মম বাস্তবতা তো আমাদের সবারই জানা—যখন তুমি আর কারো কাজে আসবে না, তখন তোমাকে ছুড়ে ফেলা হবে। ইন্টার আমার কাছে সবকিছু—আমার গর্ব, আমার আনন্দ আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা। তাই আবারও এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইন্টারের হয়ে দারুণ কিছু করে দেখাতে চাই।’

    ২৯ বছর বয়সি মার্তিনেজ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ রানার্সআপ হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন। আবার অধিনায়ক হিসেবে ইন্টারের ঝুলিতে তুলে দিয়েছেন আরও একটি ‘স্কুদেত্তো’। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার পা থেকে এসেছে ২২টি গোল।

    ক্লাবে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ইন্টারের তারকা ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমি এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এখানে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি এবং ইন্টারের হয়ে দারুণ সব সাফল্য পেতে চাই।’

    ২০১৮ সালে ইন্টার মিলানে নাম লিখিয়ে ক্লাবটির হয়ে অনেক সাফল্যই পেয়েছেন মার্তিনেজ। ৩৭৮ ম্যাচে ইতালি জায়ান্ট ক্লাবটির জার্সিতে করেছেন ১৭৫ গোল। তিনটি লিগ শিরোপা সহ জিতেছেন মোট নয়টি ট্রফি।

    ইন্টার মিলানের হয়ে এতটা সাফল্য পাওয়ার কথা কখনো কল্পনাতেও নাকি ছিল না মার্তিনেজের। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘ইন্টারে নিজের ক্যারিয়ার এই পর্যায়ে পৌঁছাবে কিংবা সব স্বপ্ন পূরণ হবে—এমনটা আগে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তবে এই সাফল্যই আমাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে; শুরু থেকেই আমার মানসিকতা এমন। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনেই আমি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করি। ফুটবলে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব, তবে বর্তমান চুক্তিতে আমি অত্যন্ত সুখী। এখানে আমি বেশ ভালো আছি এবং ইন্টারের হয়ে আরও বড় বড় অর্জন ছুঁতে চাই বলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    ইন্টার মিলানের সঙ্গে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মার্তিনেজের। অন্যদিকে ইন্টার কর্তৃপক্ষও ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মূল্যেই হোক নিজেদের অধিনায়ককে হাতছাড়া করতে রাজি নয় তারা।

  • মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মাঠ থেকে নয়, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দুই দশকের বর্ণিল পথচলাকে মাঠেই বিশেষভাবে সম্মান জানাতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    চলতি সপ্তাহান্তে আর্জেন্টিনার সব ঘরোয়া ম্যাচের দশম মিনিটে খেলা থামবে। দেওয়া হবে এক মিনিটের করতালি। মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার পর তাঁকে সম্মান জানাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা দলে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন মেসি। সে জন্যই খেলা থামানো হবে দশম মিনিটে। পুরুষ ও নারীদের সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হবে। গত বুধবার এএফএ এক বিবৃতিতে খবরটি জানায়।

    শুধু করতালিতেই শেষ হচ্ছে না মেসির জন্য আয়োজন। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেসব মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে মেসিকে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন করা হবে। মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এএফএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    গত সোমবার ইনস্টাগ্রামে স্প্যানিশ ভাষায় হাতে লেখা তিনটি কাগজের ছবি পোস্ট করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। সেখানে তিনি নিশ্চিত করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দল অধ্যায়ের ইতি টানলেন কিংবদন্তি।

    মেসি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই বাকি নেই।’ সিদ্ধান্তটি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনো ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সময়টা এসে গেছে—এমন উপলব্ধি থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি।

    ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার মূল দলে অভিষেক মেসির। এরপর জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫ গোল, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ। খেলেছেন রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন মেসি। সেটি ছিল ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ এবং দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়।

    বিশ্বকাপেও একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর। সবচেয়ে বেশি ২৩টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও তাঁর দখলে।

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ অধ্যায় তাই শুধু একটি অবসরের গল্প নয়। দুই দশকের বেশি সময়ের এক বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। আর সেই ক্যারিয়ারকেই এবার দেশের প্রতিটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার মাঠে এক মিনিটের করতালিতে সম্মান জানাবে এএফএ।

  • কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জাতীয় দল তো একদিন ছাড়তেই হতো। বয়সও হয়ে গিয়েছিল ৩৯ বছর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়েছে। তবু কারও কারও কাছে গতকাল রাতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা এসেছে চমক হয়ে। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মেসি প্রকাশের আগপর্যন্ত ব্যাপারটা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে আজই (গতকাল) সেই দিন!

    তাই জল্পনা–কল্পনা এখনো থামেনি। মেসি কেন এখন অবসর ঘোষণা করলেন, উঠছে সে প্রশ্নও। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের ৪৩ দিন আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। এ তথ্যের সঙ্গে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নেওয়া যায়।

    মেসি তাঁর অবসরবার্তার শেষ অংশে লিখেছেন, ‘এই (অবসরবার্তা) কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার ঘটনার পর আজ (গতকাল) আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

    বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৯ দিন। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১–০ গোলে হারের পর সেই সিদ্ধান্ত আরেকটু পাকা হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

    মেসি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। বাবাকে হারানোর পর স্বীকার করেছিলেন, তাঁর শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সতীর্থদেরও ইঙ্গিত ছিল যে মেসির অবসরের দিন ঘনিয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট যেমন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস বুঝিয়ে দেন, জাতীয় দলে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মেসি। আর সেই ম্যাচটি হলো বিশ্বকাপের ফাইনাল। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’

    পারেদসের সেই কথা এবং মেসির অবসরবার্তার কয়েকটি কথা মেলালে ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার হয়। অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। তা ছাড়া পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের (জাতীয় দলে) থাকাটা প্রাপ্য।’

    বিশ্বকাপ ফাইনালটা স্মরণ করা যায়। স্পেনের বিপক্ষে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেটাও মেসি মাঠে থাকতে—যেটা তাঁর ক্যারিয়ারেই বিরল ঘটনা।

    ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে সেই বিরল তেতো স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তে কি মেসির মনে হয়েছে, তাঁর আর কিছু দেওয়ার নেই? পাশাপাশি নিকো পাজ–থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণেরাও উঠে এসেছেন। সে জন্যই কি মেসির মনে হয়েছে, সময়টা এখনই? প্রশ্নটি তোলা যায়, কারণ সেই ফাইনালকে জাতীয় দলে নিজের শেষ ম্যাচ বানিয়ে অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়।’

    বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। তার আগে অবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি। অর্থাৎ চার বছরের নতুন একটি বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগের এ সময়কে আকাশি–সাদা জার্সি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে কিংবদন্তির। এই বিরতিতে প্রতিটি জাতীয় দল এক থেকে চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে। লা নাসিওন জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বুয়েনস এইরেসে বিশ্বকাপ রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল এবং মেসিকে সম্মান জানাতে জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। সুতরাং জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে অন্তত আরও একবার মাঠে দেখার সম্ভাবনা আছে।লা নাসিওন আরও জানিয়েছে, ২৩ দিন আগে বাবার মৃত্যু মেসির এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘আমি আর কত দিন ফুটবল চালিয়ে যাব, এখন তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’ আরও একটি কারণ অনুমান করা যায়। জাতীয় দলে যে প্রজন্মের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, সেই দলটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটির বেশ কয়েকজন সতীর্থের ক্যারিয়ারের চক্র শেষের পথে, দল পুনর্গঠন করতে হবে। এমনকি আগামী ডিসেম্বরের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির থাকা নিয়েও সংশয় আছে।পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ দীর্ঘ বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। সে হিসাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্ট ২০২৮ কোপা আমেরিকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত মাঝের এই দুই বছরে নিজের বয়স আরও ভারী করে সে পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে চাননি।

    এএফএর অনেকেই আশা করেছিলেন, মেসি জাতীয় দলে আরও কিছুদিন খেলবেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ স্মৃতিটি কোনো হেরে যাওয়া ফাইনাল যেন না হয়, সেটা ছিল এই আশার পেছনের কারণ। অন্তত কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলবেন, এই আশাও করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু মেসিকে জানা থাকলে একটি বিষয় ভেবে নেওয়াই যায়। জাতীয় দলে সব সময় নিজের সেরাটা দিতে পারেন—এই বিশ্বাস সব সময়ই ছিল মেসির। দুই বছর পর কোপায় সেটা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কি সন্দেহে ভুগেছেন? মেসির অবসরবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবসরবার্তাতেই বলে দিয়েছেন, ‘নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি।’

    অর্থাৎ আর দেওয়ার কিছু নেই? সেটা মেসি বুঝেছেন বলেই কি সরে দাঁড়ালেন!

  • ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    মধুর প্রতিশোধই নিল আর্জেন্টিনা। মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালের গত আসরে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল তারা। এবার সেই ডাচদের হারিয়েই জিতল শিরোপা। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জেতে তারা।

    আর্জেন্টিনা সর্বশেষ হকির বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০১০ সালে। ১৬ বছর পর শিরোপা ঘরে তুলল তারা। নারীদের হকি বিশ্বকাপে এটা আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা। সেটাও এল টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসের মুকুট কেড়ে নিয়ে।

    আমস্টারডামের ফাইনালে ইবি ইয়ানসের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৫১ সেকেন্ড আগে ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে ইবি ইয়ানসেনের জোরালো শট গোলপোস্টের বাঁ দিক দিয়ে জড়ায় জালে। গোলের পর গর্জে উঠে গ্যালারিভর্তি দর্শক। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮ গোল করলেন তিনি।

    চতুর্থ কোয়ার্টারে খেলা শেষের ছয় মিনিট আগে আরেকটি পেনাল্টি কর্নার থেকে মারিয়া গ্রানাতোর গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আলোচিত ঘটনা ছিল আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনোর একটি অসাধারণ চমৎকার সেভ। পিয়েন ডিকের আক্রমণের মুখে গোলপোস্ট ছেড়ে প্রতিরোধ গড়ে স্কোরলাইন সমতায় রাখেন তিনি। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই বাজিমাত আর্জেন্টিনার।

    ম্যাচসেরা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনো ফাইনাল শেষে ভাসলেন উচ্ছ্বাসে, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ১৬ বছর ধরে। নেদারল্যান্ডস খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ আর আমরা জানতাম ম্যাচটা এমনই হবে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করা, গোল ঠিকই আসবে। আর তারপর শুটআউটে গিয়ে নিছক উপভোগ করা।’

    এর আগে, ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। ৪৮ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পদক জিতল তারা।

  • আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো কম হয়নি। বিশেষ করে ফাইনাল শেষে স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় আর্জেন্টিনার ফুটবলার-কোচদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। অবশেষে তাঁরা পেলেন সুখবর। ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিচ্ছে।

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) গতকাল নিশ্চিত করেছে যে ফুটবলার-কোচদের শাস্তি তুলে নিতে ফিফার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা তা অনুমোদন করেছে। এক বিবৃতিতে এএফএ বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের এবং নিজেদের খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর ফিফার আপিল কমিটির কাছে যথাযথ আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ক্রীড়া আদালতে যাব।’

    ১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর লেয়ান্দ্রো পারেদেস মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। এমনিতেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে একটা হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। রানার্সআপ হওয়ার পর পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলার গাভি ও দানি অলমোর গলা চেপে ধরেছিলেন। জোড়া হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখার পর ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিয়েছিল।

    পারেদেসের শাস্তি তুলে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা আর্জেন্টিসা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে তদন্ত করে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এরপর পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাউয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাছাড়া গলা চেপে ধরার কাণ্ডে জড়িত থাকায় সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা জড়িত থাকায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।

    মলিনা-পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা থাকলেও এএফএর পক্ষ থেকে ফিফার কাছে বিশেষ অনুরোধ করা হয়। ফুটবলাররা যেন অফিশিয়াল টুর্নামেন্টের বাইরে প্রীতি ম্যাচগুলোতেও তাঁদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারেন, সেই অনুরোধ করেছে এএফএ।বিশ্ব
    ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আর্জেন্টিনার এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। দরকার পড়লে ক্রীড়া আদালত পর্যন্ত যাওয়ার চিন্তা করছে এএফএ।

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। স্পেনের মতো ফ্রান্সও দুইবার জিতেছে বিশ্বকাপ। সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। জার্মানি-ইতালি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছে।

  • সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। সেই ঘটনায় উরুগুয়ের তারকাকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। ১২ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে ফাইনাল-পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সুয়ারেজের সেই শাস্তির সঙ্গে তুলনা টেনে পারেদেসের সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সঙ্গে তাঁকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

    এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচের দাবি, পারেদেসের শাস্তি তাঁর কাজের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।

    ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেছেন, ‘পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের ঘটনাটির তুলনা করেন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার পরও সে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিল। অথচ পারেদেস পেয়েছে ১০ ম্যাচ। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে।’

    শুধু সুয়ারেজের ঘটনাই নয়, অন্য একটি নজিরের কথাও তুলেছেন উরিচ। তাঁর দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এএফএর মতে, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে এসব নজির পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    এ বিষয়ে উরিচের কথা, ‘আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি। আমাদের ধারণা ছিল, শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত।’

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি রয়টার্স

    পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা পেয়েছেন ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।

    তবে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা। ফলে পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে সংস্থাটি।

    এএফএ এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দিয়ে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনও যদি শাস্তি বহাল রাখে, তাহলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।

    আর্জেন্টিনার সামনে অবশ্য একটি পুরোনো নজিরও আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    সেই নজিরে এবার পারেদেস ও মলিনাদের শাস্তিও কমানোর আশা করছে এএফএ। তবে আপাতত তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার জন্য সুয়ারেজের শাস্তি যেখানে ছিল ৯ ম্যাচ, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?

  • অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। হারের হতাশার মধ্যেই অবসরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।

    বৃহস্পতিবার কোপা লিবার্তাদোরেসের রাউন্ড অব ১৬-এর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় রোজারিও সেন্ট্রাল। সেই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন দি মারিয়া। আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে মুহূর্তটি, কারণ ১২ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলই তাকে নিয়ে গিয়েছিল ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের পথে।

    ম্যাচ শেষে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান দি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন মুহূর্ত। আমার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। ইচ্ছা ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়ার। তবে এটাই ফুটবল। এখন আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে আমি সামনে কী করতে চাই।’

    ফক্স স্পোর্টসের কাছেও ম্যাচের হতাশা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার ভাষায়, ‘আমাদের গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম ম্যাচটি সেভাবে এগোয়নি। আমরা বেশ লড়াই করেছি, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

    দীর্ঘ ১৮ বছর ইউরোপের ফুটবলে দাপট দেখানোর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে আসেন দি মারিয়া। এরপর গত জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ান তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকার কথা রয়েছে তার। সে সময় তার বয়স হবে ৩৯ বছর।

    তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল এই ফুটবলার। সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া গেছে।

    রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। এই সময়ে ১৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল। তবে কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে বিদায়ের পর তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে ভক্তরা।

  • ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার পর এবার ক্লাবের অনুশীলনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।

    অনুশীলন মাঠের সামনে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কোথাও কোথাও আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির ওপর ক্রস চিহ্ন এঁকে তাঁর বিদায়ও দাবি করেছেন ভক্তরা। বার্সায় যেতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই সমর্থকদের বড় একটি অংশ আলভারেসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন আতলেতিকোর প্রধান কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আলভারেসকে দলে না রাখার কারণ দলবদলের গুঞ্জন নয়, ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতির অভাব। সে এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে আমার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করছি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলবে।’

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোতে যোগ দেন আলভারেস। এরপর ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

    আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকোর চুক্তি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আতলেতিকো আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও আলভারেস যেতে চান বার্সাতেই। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি কাতালানদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে রাজি হয়নি। ফলে আক্রমণভাগের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দিবাগত রাতে ভিয়ারিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো। চোটের কারণে আলেকজান্ডার সরলথ না থাকায় সে ম্যাচে আলভারেসের মাঠের নামার সম্ভাবনা বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলতে নামলে তাঁর সামনে আরেকটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আরও একবার আতলেতিকোর দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে যে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছিল, এবার তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কথা বলেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠে কোনো রহস্যজনক ঘটনা ঘটেনি, বরং শিরোপার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েই লড়েছিল দল।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের আচরণ ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূল ধারার অনেক সংবাদ মাধ্যমই প্রচার করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’।

    ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে পুরো বিশ্বকাপ অভিযানের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করা হয়। ভিডিওর ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’

    ফাইনালের পর ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব নিয়ে এএফএর অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’

    ভিডিওর শেষ দিকে দেখানো হয় ফাইনাল শেষে রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত। এরপর নেপথ্য ধারাভাষ্যকার ভিডিও শেষ করেন এভাবে, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

    এএফএর এই বার্তার পাশাপাশি সরব হয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    তাপিয়ার অভিযোগ, ফাইনালের পর কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন, যেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর থেকেই দলটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা শুরু হয়।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ তাপিয়া এ কারণে যে, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও যারা এসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের কেউ নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি। তার ভাষায়, এখনো কেউ প্রকাশ্যে বলেনি, ‘আমরা ভুল ছিলাম।’

    তাপিয়া আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানো হচ্ছিল। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এএফএ সভাপতি মনে করেন, এমন অভিযোগকে নীরবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে, এমন অপেক্ষাও করতে রাজি নন তিনি। বিশেষ করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট করেছেন তাপিয়া।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো অভিযোগের পর বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন, তাদেরই এখন নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    সবশেষে কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তাপিয়া বলেন, যারা মাঠে নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছেন।

  • মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    মেসির খুব কাছের মানুষদের একজন পারেদেস। এলএমটেনের জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। পিএসজিতেও দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। তাই পারেদেসের মুখ থেকে মেসির অবসর ভাবনার কথা উঠে আসায় তা বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্ট দেয়, কারণ বিশ্বকাপজুড়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাইনি মেসি শেষ ম্যাচটি আসুক। আমার মনে হয়, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতীয় দলের হয়ে সেটিই (বিশ্বকাপ ফাইনাল) ছিল তার শেষ ম্যাচ।’

    তবে পারেদেসের আশা, আপাতত অবসরের বিষয়টি একপাশে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি, ‘আশা করি, এমনটা হবে না। আশা করি, সে আরও খেলতে পারবে। সিদ্ধান্তটা তারই হবে। সে যা করলে খুশি থাকবে, সেটাই আমাদের জন্যও আনন্দের হবে।’

    মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন পারেদেস। আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি, ‘আমি জানি না, এটা একটা প্রক্রিয়া। আমাদের বিষয়টি হজম করতে হবে, ভাবতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

    পারেদেস আরও যোগ করেন, ‘অনেকের জন্যই চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। এটা ছিল সুন্দর, অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছি। এই পর্যায় ধরে রাখা এবং দলকে এভাবে কার্যকর রাখা কঠিন হবে। আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

  • থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    চার বছর আগে আর্জেন্টিনা যখন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, তখন সবাই ধরে নিয়েছিল সেটিই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন মেসি। স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও সবুজগালিচায় মেসি ছিলেন ফুটবলের শিল্পী। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩। এই বয়সে বিশ্বমঞ্চে তাঁকে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কিংবদন্তি মেসিকে না পেলেও আগামী বিশ্বকাপে তাঁর ছেলে থিয়াগোকে আকাশি-নীল জার্সিতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইনরা।

    মেসির বড় ছেলে থিয়াগোর বর্তমান বয়স ১৩। তার এই বয়সের কারণেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে একটা গাণিতিক হিসাব বেশ নজর কেড়েছে, যা ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০৩০ সালের আসরটি বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তির আসর। ততদিনে রোজারিওতে জন্ম নেওয়া ফুটবলের মহাতারকা মেসির জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো প্রাপ্তবয়স্ক হবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরে পা দেবে ১৮ বছরে। তাই থিয়াগো মেসিকে নিয়ে স্বপ্নটা দেখছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা।

    সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা একটি গাণিতিক হিসাব নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সবচেয়ে আশাবাদী সমর্থকরা বলছেন, থিয়াগো যদি তার নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খুব দ্রুত পেশাদার ফুটবলে পা রাখতে পারে, তবে জাতীয় দলে বাবার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়। ১৩ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার বর্তমানে ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমি থেকে ফুটবলের প্রথম পাঠ নিচ্ছে। ফ্লোরিডার এই একাডেমিতে তার পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন ভক্তরা, যারা এই মেসি পরিবারের রাজত্বকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চান।

    যদিও বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির বর্ণিল সময়ের মধ্যেই থিয়াগোর জন্ম, তবুও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ এই ফুটবলার নিজের স্পষ্ট অবস্থান বেশ কয়েকবার প্রকাশ করেছে। চাইলে স্পেনের জার্সিতে খেলতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো নিজেই জোর দিয়ে বলেছে, বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। এককথায় বলা যায়, জাতীয় দলের হয়ে বাবার সঙ্গে একই দল বা মাঠে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা ২০৩০ আসরকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মেসি পরিবারে ফুটবলের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা দেখা যায়। তিন ভাই থিয়াগো, মাতেও ও চিরো– তিনজনেই তাদের শৈশবে ফুটবলের প্রাথমিক স্তরে খেলছে এবং অল্প বয়সেই নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছে।

    বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থিয়াগো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবল খেলছে এবং দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে। তবে ভক্ত থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকরা সবাই উচ্চপর্যায়ের ফুটবলের কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন। তারা মানেন, তাদের বাবার অর্জিত কিংবদন্তিতুল্য উচ্চতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। সমর্থকদের উদ্দেশে কেবল একটি চমৎকার সম্ভাবনা উপভোগ করা, তরুণ থিয়াগোর ওপর তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই কোনো অতিরিক্ত চাপ বা দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়। আপাতত সময়ই বলে দেবে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এই রঙিন স্বপ্ন সত্যি হবে কিনা।

  • মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয়েই দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। তবে দলের সঙ্গে ছিলেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ব্যক্তিগত কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    সোমবার (স্থানীয় সময়) বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল। বিমানবন্দরে তাদের জন্য ছিল লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সামরিক ব্যান্ডের আয়োজন। বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এএফএর কর্মকর্তারাও।

    তবে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসিকে ঘিরে। কিন্তু বিমান থেকে নামতে দেখা যায়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। এএফএ আগেই জানিয়েছিল, স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য দলের সঙ্গে দেশে ফিরবেন না। মেসির পাশাপাশি আরও কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন।

    বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে এজেইজা বিমানবন্দরের বাইরে এবং জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। আকাশি-সাদা পতাকা ও ছাতা হাতে তারা করতালি আর স্লোগানে রানার্সআপ দলকে স্বাগত জানান। বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলেও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

    এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরপরই বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো সমর্থক। আতশবাজি, গান আর করতালিতে দলকে অভিনন্দন জানানো হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। তবুও দেশে ফেরার পর দলের প্রতি সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিরোপা হাতছাড়া হলেও স্কালোনির দল এখনও কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদয়ের দল।

  • ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই’

    ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই’

    আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। প্রিয় দলের জয় উদযাপনের জন্য আতশবাজি কিনেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। প্রিয় দলের এমন পরাজয়ে মন খারাপ আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।

    এদিকে ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পরও সেই আতশবাজিগুলো ফুটিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন কেয়া পায়েল। গতকাল রোববার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, ছাদে দাঁড়িয়ে আতশবাজি ফোটাচ্ছেন কেয়া। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ভাবছিলাম জিতলে ফুটাব, কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে তো, তাই আরকি।’

    এতেই শেষ নয়। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কৌতুক করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই, খেললে জিতে যাইতাম।’

    কেয়ার এই ভিডিও প্রকাশের পর নেটদুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার রসবোধের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ মজার ছলে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খোঁচা দিয়ে মন্তব্যও করছেন।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ফুটবলপ্রেমীদের নানা প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই কেয়া পায়েলের এই ব্যতিক্রমী উদযাপন নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ‘ওরা ভালো খেলেছে, আমি দুঃখিত হার মেনে নিচ্ছি’

    ‘ওরা ভালো খেলেছে, আমি দুঃখিত হার মেনে নিচ্ছি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    “স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, তা ভুলে যাব। আমি আমার দেশের মানুষ, আমার সতীর্থ ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর গলায় রানার্সআপের মেডেল, চোখে অশ্রু আর কণ্ঠে প্রতিপক্ষের প্রতি অকপট স্বীকৃতি—লিওনেল মেসির প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল একই সঙ্গে সৌজন্য ও বেদনা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার রাতে নিজের ব্যর্থতার অজুহাত না খুঁজে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বই মেনে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হার মানে আর্জেন্টিনা।

    ফাইনালে বহু প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং, নিখুঁত মার্কিং ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে তিনি ছিলেন অস্বাভাবিকভাবে নিস্প্রভ। ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটে মেসি মাত্র দুবার বলে স্পর্শ করার সুযোগ পান। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটিও শট নিতে পারেননি তিনি। বল পায়ে তার স্বাভাবিক প্রভাব, ড্রিবল কিংবা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সেই পরিচিত জাদুও দেখা যায়নি।

    আসলে স্পেন এমনভাবেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল যে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ, বিশেষ করে মেসি, কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বল দখল, পাসিং, সুযোগ সৃষ্টি—প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আধিপত্য দেখায় লা রোজা। পুরো ম্যাচে মিনিটে শটের হিসাব ছিল স্পেন২০- আর্জেন্টিনা ২। এই দুটো শটও আবার আর্জেন্টিনা নেয় ম্যাচের ১১৭ মিনিটের পর। প্রথম নব্বই মিনিট স্পেনের পোস্টে কোনো অন টার্গেট শটই নিতে পারেনি তারা। শুধু শটে নয় পাসেও বড় ব্যবধান। পাসে স্পেন এগিয়ে ছিল ৮৪৫-৪৩৩ ব্যবধানে।

    ম্যাচ শেষে কান্না ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত। তবে আমি জানি, আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।”

    ফাইনালে ব্যর্থ হলেও পুরো বিশ্বকাপে মেসির অবদান ছিল অসাধারণ। ছয় ম্যাচে তিনি করেছেন ৭ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪টি গোল। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণ ছিলেন তিনি। নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচে তার গোল ও সৃজনশীলতাই দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। তবে শেষ মঞ্চে স্পেনের কৌশলী ফুটবলের সামনে সেই জাদু আর দেখা যায়নি।

    তারপরও হারকে মর্যাদার সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

    “ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু তাই বলে আমরা এই বিশ্বকাপে যা অর্জন করেছি, তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়,” বলেন মেসি।

    বিশ্বকাপ ট্রফি এবার হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু পরাজয়ের মুহূর্তেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে, নিজের দেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং চোখের জলে সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে মেসি আবারও দেখিয়ে দিলেন—মহানত্ব শুধু জয়ের মধ্যেই নয়, পরাজয়কে গ্রহণ করার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।

  • স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

    এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

    অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

    অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

  • মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের সবচেয়ে বড় ভাবনার নাম লিওনেল মেসি। তাকে আটকাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেণ তারা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

  • স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    মাঠের খেলায় শেষ পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাস টিকে না। কিন্তু তারপরও শক্তিমত্তার হিসাব-নিকাশ থেকে কৌশল ও পারফরম্যান্সের কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এমন পাঁচটি দিক তুলে ধরেছে, যেগুলো আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।

    পজিশনগুলোর দ্বৈরথ
    স্পেনের ডান প্রান্তে লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে অন্যতম প্রধান দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। চোটের কারণে আসরের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বর্তমানে ইয়ামাল চেনা ছন্দে ফিরছেন। তাঁকে সামলাতে বেগ পেতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মাঠের অপর প্রান্তে লিওনেল মেসিকে সামলাবেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবার্সি। মার্কারদের (পাহারা দেওয়া ডিফেন্ডার) চোখ ফাঁকি দিতে মেসি প্রায়ই মাঠের একটু নিচে নেমে যান। চলতি আসরেও সে প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে লাপোর্তে ও কুবার্সির জন্য মেসিকে সামলোর কাজ বেশ কঠিন।

    এছাড়া, স্পেনের হয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার দুই মারকুটে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের।

    শৈলীর লড়াই
    এবারের ফাইনালে ফুটবলের দুটি বিপরীতমুখী দর্শনের মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে। পুরো আসরে মাত্র একটি গোল খাওয়া স্পেন, বলের ওপর তাদের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফাইনালে উঠেছে। তারা বল নিজেদের দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে যেমন কোণঠাসা করে ফেলে, তেমনি মাঠের ওপরের দিকে বল কেড়ে নেওয়ার জন্য ‘কাউন্টার প্রেস’ ব্যবহার করে।

    এই কৌশলের সফল প্রয়োগ দেখা গেছে সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের কিলিয়ান এম্বাপে গোল করার তেমন কোনো সুযোগই পাননি।

    বিপরীতে, আর্জেন্টিনা এই আসরে টিকে আছে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সরাসরি আক্রমণের (ডিরেক্ট ফুটবল) ওপর ভর করে। আসরে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে তারা যেমন বেশি গোল করেছে, তেমনি হজমও করেছে সাতটি।

    ফাইনালে ওঠার পথে আলবিসেলেস্তেরা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো দুটি মহাকাব্যিক ম্যাচ খেলেছে। দুইবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। যা দেখায়, প্রচণ্ড চাপের মুখে যেকোনো উপায়ে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটি বেশ আত্মবিশ্বাসী।

    মেসির জাদু
    সবশেষ কয়েকটি ম্যাচে লিওনেল মেসির ভূমিকায় একটু পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি নিজে গোল না করে আক্রমণ তৈরি করার দিকে মনোযোগী ছিলেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করা দুটি গোলেই তিনি অবদান রেখেছেন। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি আক্রমণ শুরু করায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো- কীভাবে মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখা এবং খেলার মতো জায়গা (স্পেস) দেওয়া থেকে বিরত রাখা যায়?

    একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ ও দ্রুত প্রেসিংয়ের কৌশলটি মেসিকে আটকানোর জন্য বেশ উপযোগী। এই কৌশলের মাধ্যমে যেসব পকেটে (মাঠের ফাঁকা জায়গা) মেসি চেনা ছন্দে খেলেন, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া যায়। ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেন যেভাবে খেলেছে, সেটির পুনরাবৃত্তি করতে পারলে, কোনো ক্ষতি করার আগেই মেসিকে বলের জোগান থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা হয়তো স্পেনের এই প্রেসিংকে মাঠের আরও ওপরের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করবে। এর লক্ষ্য থাকবে স্পেনের ডিফেন্সের পেছনে ফরোয়ার্ড ও উইঙ্গারদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করা।

    মাঝমাঠের লড়াই
    আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে এনজো ফার্নান্দেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয়ে। সেই ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব বর্তাবে স্পেনের ব্যালন ডি’অর (২০২৪) জয়ী রদ্রির ওপর। পুরো টুর্নামেন্টে স্প্যানিশদের মাত্র একটি গোল খাওয়ার পেছনে মূল চাবিকাঠি ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা। এক্ষেত্রে বল দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষেত্রে রদ্রি সাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।

    আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের শেষ প্রান্তে (ফাইনাল থার্ড) বল ছাড়া মুভমেন্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এনজো ফার্নান্দেস। বিশেষ করে মেসি যে ফাঁকা জায়গাগুলো (পকেট) তৈরি করে যান, তিনি সেগুলোতে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টার গোল শট নেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করেন। তাদের এই তৎপরতা ডি পল ও লেয়ান্দ্রো পারেদেসের রক্ষণাত্মক শক্তির সঙ্গে দারুণ এক ভারসাম্য তৈরি করে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের এই শারীরিক শক্তি ও আগ্রাসী রূপের বিপরীতে দেখা যাবে স্পেনের রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের নিখুঁত টেকনিক্যাল নিয়ন্ত্রণ।

    নেতৃত্ব পরিবর্তনের মুহূর্ত
    এবারের ফাইনাল ম্যাচটি স্কোরলাইনের চেয়েও গভীর এক প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ভাইরাল হওয়া শৈশবের একটি ছবি দুই খেলোয়াড়কে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।

    স্পেন যদি এই ম্যাচে জয় পায়, তবে সেটি ফুটবলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হবে। যেখানে মেসির পর ফুটবল বিশ্বের পরবর্তী প্রধান তারকা হিসেবে ইয়ামালের অভিষেক ঘটবে।

    তাই, দ্বিতীয়বারের মতো স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলে, ফাইনাল ম্যাচটি কেবল ফলাফলের জন্য নয় বরং প্রজন্মের ব্যাটন হস্তান্তরের ইতিহাস হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড মার্টিনেজ

    মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড মার্টিনেজ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ কেবল একজন প্রথাগত গোলরক্ষক নন, মাঠের একজন দুর্দান্ত পারফর্মার এবং খাঁটি ম্যাচ-উইনারও। ফুটবল ইতিহাসে খুব কম গোলরক্ষকই আছেন যারা একক দক্ষতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের পুরো দলের ওপর মানসিক আধিপত্য বিস্তার করতে পারেন। মার্টিনেজ ঠিক সেই বিরল ঘরানার একজন খেলোয়াড়। বিশেষ করে নকআউট পর্বের চরম চাপের মুখে এবং পেনাল্টি শুটআউটের সময় প্রতিপক্ষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করায় বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা মাস্টারমাইন্ড।

    মার্টিনেজের খেলার মূল শক্তি তার অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স, বিশাল শারীরিক উপস্থিতি এবং শূন্যে বল দখলের কৌশলে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ। ডি-বক্সের ভেতর নিজের রাজত্ব বজায় রাখতে দারুণ পটু। অন্য অনেক গোলরক্ষক যেখানে শুধু ট্যাকটিক্যাল পজেশনিংয়ের ওপর নির্ভর করেন, মার্টিনেজ সেখানে নিজের সহজাত প্রবৃত্তির ওপর ভরসা করেন বেশি। যখনই দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখনই নিজের সেরা সেভটি বের করে আনেন—যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক শেষ মুহূর্তের সেভ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

    মাঠে মার্টিনেজ চলেন তীব্র আগ্রাসন আর আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাসের জোরে। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিপর্যস্ত করতে নানারকম অঙ্গভঙ্গি, কথা বলা ও স্লেজিং ব্যবহার করেন। তার এই আক্রমণাত্মক মনোভাব অনেক সময় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিতর্কের জন্ম দিলেও আর্জেন্টিনার জন্য তা সব সময়ই এক জাদুকরী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আলবিসেলেস্তেদের জন্য একজন অভেদ্য দেয়াল এবং দলের খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। চাপের মুখে দমে না গিয়ে আরো বেশি জ্বলে ওঠেন, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও স্মরণীয় গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরার পর থেকে এখনো প্রতিদিনই ব্যথা অনুভব করেন মার্টিনেজ। তারপরও অস্ত্রোপচার না করিয়ে খেলে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই বাজপাখি। ফাইনালেও একই কাজ করতে প্রস্তুত।

  • অবসর নিয়ে এবার ভোল পাল্টালেন মার্তিনেস

    অবসর নিয়ে এবার ভোল পাল্টালেন মার্তিনেস

    টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে এখন আর্জেন্টিনা। আগামীকাল নিউজার্সিতে স্পেনকে হারালেই তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ ধরে রাখার কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে যখন এমিলিয়ানো মার্তিনেস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, তখন এসেছে তাঁর অবসরের প্রসঙ্গ।

    মার্তিনেসের অবসরের প্রসঙ্গ ফের এল তাঁর ২০২৪ সালে একটা কথার ওপর ভিত্তি করে। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের দুই বছর পূর্তিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি দুটি বিশ্বকাপ জিতি, তাহলে অবসর নেব।’ স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে অবসর নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তা উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।

    অবসর নিয়ে কথাবার্তা যে হয়নি, ব্যাপারটা তা নয়। তবে আপাতত আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক বর্তমানে বাঁচতে চান। আপাতত আগামীকালের ফাইনালে নিয়েই তিনি ভাবছেন। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের আগে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আজ বলেন, ‘হ্যাঁ, সেটা (অবসরের প্রসঙ্গ) এএফএর অনুশীলন মাঠে নিকোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় এসেছিল। কিন্তু আগে আমাদের জিততে হবে। এখন আমার পুরো মনোযোগ শুধু সেটাতেই (ফাইনাল)।’

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর জয়রথ ছুটছে আর্জেন্টিনার। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ টানা ১৩ ম্যাচ জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। মূল ম্যাচ তো বটেই, টাইব্রেকারে গড়ালে মার্তিনেস রীতিমতো বাজপাখি হয়ে যান। যাঁকে ভেদ করে গোল দেওয়া প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য রীতিমতো কঠিন হয়ে যায়। গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল—এই দুই ম্যাচে পেনাল্টিতে মার্তিনেস-বীরত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে একের পর এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতলেও কোনোটাতে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে যায়নি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে মার্তিনেস বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের তুলনায় এই বিশ্বকাপটা অনেক বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমার দিকে খুব বেশি শট আসেনি। তবু তারা গোল করেছিল। আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় এখন পা দিয়ে (বল নিয়ন্ত্রণ ও পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে) আরও ভালো খেলছি। রোববার মাঠে নামব। আমাকে আপনারা হাসিমুখেই দেখতে পাবেন।’

    ফিফা গত রাতে নিশ্চিত করেছে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের জার্সি। দুই দলই হোম জার্সি পরে খেলবে। তবে দুই দলকে আলাদা করে চেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির সঙ্গে সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরবে। এই জার্সি পরে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এদিকে স্পেন লাল জার্সির সঙ্গে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) শর্টস ও মোজা পরে খেলবে। স্প্যানিশরা ২০১০ সালে একই জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

  • টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম—লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নামা আর্জেন্টিনার দুই দলের পার্থক্য শুধু সাড়ে তিন বছরের। ঠিক যেখানে বিশ্বকাপ আসর শেষ করেছিল আলবিসেলেস্তেরা, সেখান থেকেই যেন শুরু করেছে তারা। ২২ বিশ্বকাপে যাঁদের ওপর ভরসা করে ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি, তাঁদের ওপর ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে।

    স্কালোনির জন্য শাপেবর ছিল গত বিশ্বকাপের স্কোয়াড। সেই স্কোয়াডের গড় বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। এর মধ্যে অভিজ্ঞতার ভান্ডার নিয়ে আসা মেসি, আনহেল দি মারিয়া ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে বাদ দিলে স্কোয়াডটা পরিণত হতো তারুণ্যের সমাহারে। ২৬ জনের দলে ৩০–এর কোটা পার করেছিলেন ৭ জন। এর মধ্যে দুজন ছিলেন বেঞ্চে বসা গোলরক্ষক।

    ৩০ পার করা অভিজ্ঞ পাপু গোমেজ, মার্কোস আকুনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন তরুণ এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, হুলিয়ান আলভারেজরা। একেবারে প্রথম দিন থেকেই একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এসব তরুণ তুর্কিরা। ফলে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হোঁচট খেলেও ঠিকই বিশ্বকাপ নিয়েই কাতার থেকে ফিরেছিল আর্জেন্টিনা। আলভারেজ, ফার্নান্দেজদের সঙ্গে মেসি-দি মারিয়ার জুটি মিলে সমাপ্তি টেনেছিল ৩৬ বছরের অপেক্ষার।

    চার বছরে স্কালোনির সেই স্কোয়াড বড় হয়েছে, বয়স ও অভিজ্ঞতা—দুটোতেই। চার বছরে দুই দলের স্কোয়াডে পরিবর্তন এসেছে মোট ৯টি জায়গায়। কিন্তু বেশির ভাগ পরিবর্তনই এসেছে বেঞ্চে, একাদশের আশপাশে বলার মতো পরিবর্তন এসেছে মাত্র দুটি। ফুটবলকে বিদায় জানানো দি মারিয়া আর অফ ফর্মের কারণে বাদ পরা পাওলো দিবালা। এই দুজনকে বাদ দিলে দুই বিশ্বকাপের একাদশে পার্থক্য খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফিফা

    গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের সঙ্গে যদি এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের একাদশ মেলানো হয়, সেখানে পরিবর্তন চোখে পড়বে মাত্র একটি—দি মারিয়ার জায়গায় এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। চার বছর পর এসেও একই দলের ওপর ভরসা রাখা, সেই দলকে নিয়ে পারফর্ম করা কিন্তু সহজ কথা নয়। স্কালোনি সেটাই করে দেখিয়েছেন। তৈরি হওয়া সমস্যার খুঁজেছেন নতুন সমাধান।

    দি মারিয়া চলে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্ত অনেকটাই অকার্যকর হয়ে আছে। তাগলিয়াফিকোর সঙ্গে দি মারিয়ার যে রসায়ন ছিল গত বিশ্বকাপে, সেটা তো নেই-ই। সঙ্গে বয়সের কারণে তাগলিয়াফিকোর সেই ধারও নেই। ফলে স্কালোনিকে খেলতে হয়েছে মাঝমাঠ ব্যবহার করে, আক্রমণও সাজাতে হয়েছে সেভাবে।

    এখানেই দিবালার মতো একজন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারকে হয়তো মিস করেছেন তিনি। কারণ, মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের প্রেসিং সয়ে মাঠের ভেতরের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করার মতো একজন খেলোয়াড়ের বড্ড অভাব ছিল দলে। চার বছরে শাণিত হওয়া এনজো ফার্নান্দেজকে এই জায়গাতে ব্যবহার করেছেন তিনি। ফার্নান্দেজ-দি পল-ম্যাক আলিস্টার ভূমিকা পাল্টালেও নিজেদের কাজ তাঁরা ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন।

    মাঝমাঠে নতুন সংযোজন হিসেবে দলে এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকো গঞ্জালেজ, নিকো পাজের মতো তরুণ তারকা। কিন্তু গত বিশ্বকাপে যেভাবে তরুণদের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন, সেভাবে এবার কারও ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। একেবারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে মাঠে নামাচ্ছেন না কাউকেই। ফলে দলের খুঁতগুলো সহজেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে বাদে প্রতিটি নকআউট পর্বের ম্যাচই জিততে হয়েছে পিছিয়ে পড়ার পর। অভিজ্ঞতা আর চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতার ওপর ভর করেই ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে স্কালোনির দল।

  • স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে ভিসেন্তে দেল বস্ক নামটা যেন এক রূপকথার জাদুকর। চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে ১৬ বছর আগের সেই সোনালি দিন, যখন তাঁর হাত ধরেই স্পেন প্রথমবার ছুঁয়েছিল বিশ্বকাপের আদিগন্ত আকাশ।

    সময়ের নদী বেয়ে এক যুগেরও বেশি পথ পেরিয়ে স্পেন আবারও দাঁড়িয়ে এক মহা–উদ্‌যাপনের আঙিনায়। কিন্তু এবার ওপারে যে দল দাঁড়িয়ে, তারা কোনো সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা তো বর্তমান বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা, যাদের পায়ে এখন ফুটবলের মোহিনী জাদু!

    আগামীকাল যখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিকেল নামবে, তখন সবুজ ঘাসের বুকে লেখা হবে এক নতুন মহাকাব্য।

    তবে এই মহারণের ঠিক আগে ফেলে আসা দিনের সেই মহানায়ক দেল বস্ক স্পেনের তরুণ রক্তকে মনে করিয়ে দিলেন আকাশি-সাদার ভেতরের দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্রের কথা—তাদের অনিশ্চিত খেলার মায়াজাল আর অভিজ্ঞতার গভীরতা।

    যে দলে মেসির মতো একজন আছেন তাঁরা তো এমনই কনমেবল

    স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসের পাতায় যেন নিজের মনের কোণের সেই আশঙ্কা আর মুগ্ধতার কথাই বুনেছেন দেল বস্ক, ‘আমি মনে করি, ফাইনালে স্পেনই জিতবে। তবে আর্জেন্টিনার অনিশ্চিত খেলার ধরন ও তাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে স্পেনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় আর্জেন্টাইন সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি, তাই আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কতটা লড়াকু মানসিকতার।’

    সত্যিই তো, সেমিফাইনালের রাতে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, কে ভেবেছিল এমন এক প্রত্যাবর্তন অপেক্ষা করছে। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার এই যে অদম্য জেদ, একেই তো ভয় দেল বস্কের।

    তাই তো আবেগের চাদর সরিয়ে তিনি অকপটেই বললেন, ‘ফুটবলের অন্যতম বড় সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা; এই রোববার কী ঘটবে, তা আমরা কেউই জানি না। আর্জেন্টিনা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ—ক্ষমা করবেন কথাটা বলছি, কিন্তু তারা সত্যিই ভীষণ চতুর দল। তারা খুব ভালো করেই জানে কীভাবে খেলতে হয় এবং কী করতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখলেই সেটা বোঝা যায়।’

  • ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ৪০ দিনের ফুটবল বিশ্বকাপের ইতি ঘটছে আগামীকাল। যে উন্মাদনায় বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী বুঁদ হয়ে ছিল, আগামীকাল শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে পয়া জার্সি পরে নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন।

    ফিফা গত রাতে নিশ্চিত করেছে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের জার্সি। দুই দলই হোম জার্সি পরে খেলবে। তবে দুই দলকে আলাদা করে চেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির সঙ্গে সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরবে। এই জার্সি পরে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এদিকে স্পেন লাল জার্সির সঙ্গে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) শর্টস ও মোজা পরে খেলবে। স্প্যানিশরা ২০১০ সালে একই জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের চোখে সাধারণত নীল জার্সি ‘কুফা’। এই জার্সি পরে খেলে ১৯৯০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। দুবারই আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল জার্মানি। তবে ফাইনাল বাদে অন্য নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর হিসাব আলাদা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। আসতেকার ৪০ বছরের পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবারও। আটলান্টায় এবার সেমিফাইনালে নীল জার্সি পরে আর্জেন্টিনা হারিয়ে দেয় ইংলিশদের।

    এবার চ্যাম্পিয়ন হলে ইতালি, জার্মানির রেকর্ডে ভাগ বসাবে আর্জেন্টিনা। ইতালি, জার্মানি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। আলবিসেলেস্তেরা তিনবার জিতেছে বিশ্বকাপ।

    নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

  • বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কথা উঠলেই সবার আগে উচ্চারিত হয় লিওনেল মেসির নাম। পাশাপাশি কখনও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্ব আর লাউতারো মার্টিনেজের গোল। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার টানা সাফল্যের নেপথ্যে এমন এক সৈনিক আছেন, যার নাম গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তিনি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে তিনি দারুণ এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এখন ম্যাক অ্যালিস্টারের দখলে। অপটা জো’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজের খেলা ১৩টি ম্যাচের একটিতেও হারেননি এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ১১টি ম্যাচে এবং ড্র করেছেন দুটি। সেই দুটি ড্র হওয়া ম্যাচও শেষে টাইব্রেকারে জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপেও চলছে ম্যাক অ্যালিস্টারের এই অজেয় যাত্রা।

    ডিফেন্স ও অ্যাটাকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখায় ম্যাক অ্যালিস্টারের জুড়ি নেই। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। স্কালোনি যেন তার ওপর অন্ধ আস্থা রাখেন, যার প্রমাণ—আর্জেন্টিনার গত চারটি ম্যাচেই তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন, কোনোবারই তাকে তুলে নেওয়া হয়নি। ফাইনালে মেসি বা ইয়ামালের মতো তারকাদের দিকে সবার নজর থাকলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ম্যাক অ্যালিস্টারই হতে পারেন আর্জেন্টিনার আসল ‘তুরুপের তাস’।

    ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেও মনে করেন, আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি শারীরিক। আর সেই শারীরিক শক্তির সঙ্গে মেধার সমন্বয় ঘটিয়েই তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে চান শিরোপার পথে। এনজো ফার্নান্দেজ বা রদ্রিগো ডি পলের সাথে তার রসায়ন আর্জেন্টিনা দলকে দারুণ এক ভারসাম্য এনেছে। ১৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট—এই পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি কিছু বলবে না, কিন্তু আর্জেন্টিনার এই অজেয় যাত্রায় ম্যাক অ্যালিস্টার ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আড়াল থেকেই।

  • টানা বিশ্বকাপ জয়ের পথে যে ‘অভিশাপ’ তাড়া করছে আর্জেন্টিনাকে

    টানা বিশ্বকাপ জয়ের পথে যে ‘অভিশাপ’ তাড়া করছে আর্জেন্টিনাকে

    চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

    বিশ্বকাপ শুরুর সময় ১৮৭৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে ২ জুলাই প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের হটিয়ে শীর্ষে উঠে আসে ফ্রান্স। তখন দিদিয়ের দেশমের দলের সংগ্রহ ছিল ১৯১৬.২৪ পয়েন্ট। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফরাসিরা ১৮৬৯.৪৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছিল।

    টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্যন্ত শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ চারে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর সেই অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ওই জয়ে তারা অর্জন করে ২৬.৯০ পয়েন্ট। ফলে বর্তমানে আলবিসেলেস্তেদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৯৭০.৩৭।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩০.৮২ পয়েন্ট যোগ করেছে স্পেন। ১৯৬৫.৬১ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। বিশ্বকাপের আগে ১৮৭৩.০১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ছিল স্প্যানিশরা। পরে ফ্রান্স শীর্ষে ওঠায় আর্জেন্টিনা নেমে যায় দ্বিতীয় এবং স্পেন তৃতীয় স্থানে। এখন আবার পরিস্থিতি বদলে আর্জেন্টিনা শীর্ষে এবং স্পেন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    তবে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে তাড়া করছে এক পুরনো পরিসংখ্যানও। ১৯৯২ সালে ফিফা র‌্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে কোনো বিশ্বকাপেই টুর্নামেন্ট চলাকালে বা শেষের দিকে শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দল শিরোপা জিততে পারেনি।

    ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে ছিল জার্মানি, কিন্তু তারা বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ১৯৯৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে যায়। ২০০২ সালে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০০৬ সালে এক নম্বর ব্রাজিলের যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে।

    একই চিত্র দেখা যায় ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপেও। যথাক্রমে ব্রাজিল ও স্পেন শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১৮ সালে এক নম্বরে থাকা জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

    এবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। তাই প্রশ্ন উঠছে—ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের বিশ্বকাপ না জেতার দীর্ঘদিনের সেই ‘অভিশাপ’ কি এবারও বহাল থাকবে, নাকি ইতিহাস বদলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতবে আলবিসেলেস্তেরা?

  • ৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা

    ৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা

    রোববারের ফাইনাল ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য হতে পারে এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। শিরোপা জিততে পারলে শুধু বিশ্বকাপের মুকুটই ধরে রাখা হবে না, ভেঙে যাবে দীর্ঘ ৬৪ বছরের একটি অপেক্ষার রেকর্ডও। সে ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব গড়বে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর থেকেই আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনার সামনে থাকা সম্ভাব্য রেকর্ডগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দল এই কীর্তি গড়েছে। প্রথমে ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। পরে ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে একই সাফল্য অর্জন করে। এরপর আর কোনো দল সেই অর্জনের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি।

    অবশ্য অনেক দলই এই মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ১৯৯০ সালেও ফাইনালে খেলেছিল, কিন্তু জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। একইভাবে ১৯৯৪ সালের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ১৯৯৮ সালের ফাইনালে উঠেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও ২০২২ সালের ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল পরের আসরে গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। ১৯৩৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৯৫০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। একই ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির ক্ষেত্রেও; ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে।

    এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করা। ফাইনালে জয় পেলে তারা শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফিই জিতবে না, বরং ছয় দশকের বেশি সময় ধরে অক্ষত থাকা এক অনন্য রেকর্ডও নিজেদের করে নেবে।

  • ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক যুগের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে লিওনেল মেসির দল। এই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল ১৯টি। এতেই তারা স্পর্শ করল ১৯৭০ সালের বিখ্যাত সেই ব্রাজিল দলকে।

    এই আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচে করেছে ৮ গোল। আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি ও জর্ডানের বিপক্ষে তিনটি।

    নকআউটের চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাদের গোল ১১টি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে তারা জিতেছে ৩-২ গোলে। শেষ ১৬ এর ম্যাচে মিসরকে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসিদের জয় ৩-১ ব্যবধানে।

    সেমিতে ইংলিশদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতল ২-১ গোলে। আর এতেই গোলের রেকর্ডে ১৯৭০ সালের ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলল স্কালোনির দল। সেবার পুরো আসরে ১৯ গোল করেছিল পেলের দল। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোলও ১৯।

    আর্জেন্টিনা ও ১৯৭০ এর ব্রাজিল এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের দিক দিয়ে আছে ৫ম স্থানে। ১৯৫০ সালে ২২ গোল করে চতুর্থ স্থানে আছে ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ২৩ গোল করা ফ্রান্স আছে তৃতীয় স্থানে।

    ১৯৫৪ সালে ২৫ গোল করে পশ্চিম জার্মানি আছে দ্বিতীয় স্থানে। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হাঙ্গেরির। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ২৭ গোল করে এই তালিকার সবার ওপরে আছে তারা।

  • ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরোটাই সাজানো? ফিফা কি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেবে? রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব থেকে শুরু করে ভিএআর এর সুবিধা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এমন অভিযোগের তালিকা ততই দীর্ঘ হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের সব ধোঁয়াশা দূর করে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মাঠের পারফরম্যান্সে সব অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাঠের লড়াইয়ে তারাই বিশ্বের সেরা দল, আর এটাই চূড়ান্ত প্রমাণিত সত্য।

    সমালোচকদের উদ্দেশে ক্ষোভ ঝেড়ে মেসি বলেন, ‘এই কথাগুলো খুব কষ্ট দেয়। গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। পরপর দুটো বিশ্বকাপে আমরা দেখালাম, আমরা কাকতালীয়ভাবে জিতিনি। কেউ আমাদের বাড়তি সুবিধা দেয়নি। পরপর দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা সহজ নয়। এই দলটা সেটা করে দেখিয়েছে।’

    চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে এনেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তারপরও সমালোচনা থেমে থাকেনি। মেসি মনে করেন, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে হয়তো এই নিন্দুকরা আরও অর্বাচীনের মতো কথা বলার সুযোগ পেত। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে অর্বাচীনের মতো কথা বলত। ওদের সেই সুযোগটাই দিইনি। আমরা জানি আমরা কতটা ভালো খেলি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু আমার মনে হয়, কিছু বলার আগে ভাবা উচিত। এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে পরে আফসোস করতে হয়।’

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব মেসির অজানা নয়। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দটা অন্যসব জয়ের চেয়ে কিছুটা বেশিই। মেসি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।’

    মেসি আরও জানান, এই ম্যাচে তাদের হারার কোনো উপায় ছিল না। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই হার হজম করা অসম্ভব ছিল। মেসির কথায়, ‘আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না, সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।’

  • যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    আর্জেন্টিনা গোল করেছে দুটি। একটি এনজো ফার্নান্দেজ, অন্যটি লাওতারো মার্তিনেজ। গোলদাতার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তবু সবাই জানেন, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক লিওনেল মেসিই।

    ম্যাচের ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে প্রায় আটকেই রেখেছিল ইংল্যান্ড। এরপর যা হলো, তা যেন এক খেলোয়াড়ের হাতে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যাওয়ার গল্প।

    টমাস টুখেলের দল হয়তো ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দেখেছে ২–১। কিন্তু মাঠের ভেতরে তারা আসলে হেরেছে একজন মেসির কাছেই।

    ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি মেসি। তাঁর অভিষেকের পর আর্জেন্টিনা যে একবার (২০০৫ সালে) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তিনি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় মাঠে ছিলেন না। অবশেষে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে প্রথম দেখায় ইংলিশদের যে অভিজ্ঞতা হলো, এমন কিছু নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে তারা।

    প্রথমার্ধে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রেখেছিল ইংল্যান্ড। বল পেলে কয়েকটি চমৎকার টাচ দেখিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচে তাঁর প্রভাব চোখে পড়ার মতো ছিল না। ইংল্যান্ডও খেলছিল পরিকল্পনামাফিকই। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় তারা। এরপরই আসলে দিক বদলাতে শুরু করে ম্যাচের স্রোতোধারা।

    দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের মেসির অবস্থান বদলে ফেলা হয় এএফপি

    গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা কোচের কৌশল না পাল্টে উপায় ছিল না। সেই কৌশলে ঝুঁকিও ছিল। লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠের ডান দিকে সরিয়ে দেন। স্কালোনির এই একটি সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের পুরো রক্ষণ-পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন, ‘মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

    ওদিকে ইংল্যান্ড কোচ টুখেল তখন রক্ষণ আরও শক্ত করতে ডিফেন্ডার নামাতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল এগিয়ে থাকা স্কোরলাইন ধরে রাখা। কিন্তু সেটিই বুমেরাং হয়। ইংল্যান্ড ক্রমেই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যায়, আর বলে দখল বাড়ে আর্জেন্টিনার।

    এতটাই যে ৫৫ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিট—এই ১৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের সঠিক পাস ছিল মাত্র ২টি। দুটিই গোলকিপার জর্ডান ও পিকফোর্ড সেন্টারব্যাক জন স্টোনসের একে অপরকে দেওয়া ফিরতি পাস।

    মূলত এ সময়টাতেই ম্যাচের নাটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। বল পেলেই একজন, দুজন, কখনো তিনজন ইংলিশ ফুটবলারকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। ডান প্রান্ত থেকে কখনো ভেতরে ঢুকেছেন, কখনো বক্সের সামনে এসে জায়গা তৈরি করেছেন, আবার কখনো এমন পাস দিয়েছেন, যা পুরো ইংলিশ রক্ষণকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

    ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের পর মেসিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এএফপি

    পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইংল্যান্ড আসলে কতটা অসহায় ছিল। ম্যাচে মেসির সফল ড্রিবল ছিল ৯টি। পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে করেছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, একাই পুরো ইংল্যান্ড দলের চেয়েও বেশি ডিফেন্ডার কাটিয়েছেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের বক্সে মেসির টাচ ছিল ৭টি, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সমান। গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৪টি, এটিও পুরো ইংলিশ দলের সমান। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্রসও এসেছে তাঁর পা থেকেই।

    আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আর্জেন্টিনার দুটি গোলের পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাঁর ক্রস থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।

    ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস তাই বলছিলেন, ‘সে মাঠের মধ্যে হেঁটে বেড়ায়, কিন্তু বল পায়ে আসামাত্রই জ্বলে ওঠে। এখানেই তার প্রতিভা। আর এটা প্রায়ই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।’

    মেসির এই ‘হেঁটে বেড়ানো’ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের অবস্থান পড়েন, শক্তি সঞ্চয় করেন, তারপর ঠিক মুহূর্তে আঘাত করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটিই আবার দেখা গেল।

    আরও একবার আর্জেন্টিনার জয়োৎসবের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসিরয়টার্স

    ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্টের বিশ্লেষণও একই রকম, ‘আমরা মেক্সিকো আর নরওয়ের বিপক্ষে যেভাবে রক্ষণ লক করে রেখেছিলাম, সে রকমই করতে চেয়েছি। কিন্তু তাতে করে মেসি পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায়। আর সেই তালা খোলার চাবি তো তাঁর কাছেই ছিল। শেষ ১৫ মিনিট সে একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

    ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, মেসির কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে তাঁর দল, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ওকে ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়, বল পেলেই তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। এমনি এমনি তো তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হননি।’

    সম্ভবত এটাই মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

  • আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    এক সময় এই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কণ্ঠে ছিল হতাশা। ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রায় এক দশক পর আবার ফিরছেন—তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালের জন্য। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটও মিস করেছিলেন মেসি।

    অবসরের কথাও বলেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সমর্থকদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন, জেতেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ক্যারিয়ারে। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ।

    ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে মাঠ একদিন ছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠই এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

    বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে মাঠে একদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, সেই মাঠেই কি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন?

  • মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা উঠে গেল ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিকস আর লিওনেল মেসির জাদুকরীয় ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিংয়ে স্কালোনি পেয়েছেন পূর্ণ ১০ এবং মেসি পেয়েছেন ৯। কিন্তু কেন?

    শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা আর্জেন্টিনা দলকে কেমন রেটিং দিয়েছেন:

    এমিলিয়ানো মার্তিনেস (৬/১০): খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে দায়িত্বশীল ছিলেন।

    নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।

    লিসান্দ্রো মার্তিনেস (৬/১০): বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০): রক্ষণভাগে ছিলেন বেশ সতর্ক।

    নাহুয়েল মলিনা (৩/১০): ইংল্যান্ডের গোলটির সময় তার ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

    এনজো ফার্নান্দেস (৮/১০): দলের প্রয়োজনে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।

    আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

    লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০): মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিতে ভূমিকা রেখেছেন।

    জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): প্রেস করার কাজটা ভালো করলেও প্রথমার্ধের পরেই বদলি হন।

    হুলিয়ান আলভারেস (৬/১০): দলের হয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে গোল পাননি।

    লিওনেল মেসি (৯/১০): ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি যেন অজেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার বাঁ পায়ের জাদুকরী ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি আসে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে পুরো দলকে এক সুঁতায় গেঁথেছেন, তা এক কথায় বিস্ময়কর। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনা ধুঁকছিল, তখন মেসি নিজেই নিচে নেমে আসেন। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লকের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার কাজটি তিনিই করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার সেই অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেসের জয়সূচক গোল। এটিই প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে মেসি কেন এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল না পেলেও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অ্যাসিস্ট ও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।

    লিওনেল স্কালোনি (১০/১০): আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে দশে দশ দিয়েছেন ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা। এর মূল কারণ তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন স্কালোনি ঘাবড়ে যাননি। তার সাবস্টিটিউশনগুলো ছিল নিখুঁত। ৭২ মিনিটে মলিনা ও পারেদেসকে তুলে নিয়ে রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মনতিয়েলকে নামানো ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এই পরিবর্তনের ফলেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধাঁরালো হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। তাছাড়া সঠিক সময়ে লাউতারোকে নামিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। কোচ হিসেবে স্কালোনি দেখিয়েছেন পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ছক পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

    প্রশ্ন আসতে পারে, স্কালোনিকে কেন মেসির চেয়েও বেশি রেটিং দেওয়া হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কালোনির ১০ পাওয়ার কারণ তার নির্ভুল গেম প্ল্যান ও প্লেয়ার পরিবর্তন। অন্যদিকে মেসির ৯ পাওয়ার কারণ তার একক ম্যাজিক। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ম্যাচ দেখা গেছে যেখানে দুর্দান্ত কৌশল থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় জয় আসে না। আবার অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও ভুল কৌশলের কারণে দল হারে। আটলান্টায় এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছে। স্কালোনি ছক এঁকেছেন, আর মেসি সেই ছক অনুযায়ী দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। নিজে গোল না পেলেও রেখেছেন গোল অবদান।

    ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ ও অধিনায়ক যে ফর্মে আছেন, তাতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন আরও একটি বিশ্ব জয়ের। মেসি কি পারবেন ফাইনালে নিজের রেটিং ১০-এ নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই।

  • আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    কিছু ম্যাচ থাকে, যার গল্প পরিসংখ্যানের খাতায় নয়, লেখা থাকে মানুষের স্মৃতিতে। পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা দেখায়, স্মৃতিতে বেঁচে থাকে ইতিহাস। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ সালের সেই আজতেকার বিকেল, ‘হ্যান্ড অব গড’, শতাব্দীর সেরা গোল আর বেকহাম-সিমিওনের দ্বন্দ্ব। সেই সুখস্মৃতি মনে রাখতেই যেন আর্জেন্টিনার আরজি, নীল জার্সি পরতে দিতে হবে তাদের।

    সেমিফাইনালে ওঠার পরই ফিফার কাছে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি নিয়েছে তারা। যে রঙের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ’৮৬–এর ম্যারাডোনার সেই দুই গোল। একটিতে ‘ঈশ্বরের হাত’, আরেকটি পায়ের অলৌকিক এক কারুকার্য। এক যুগ পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে একই জার্সিতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড।

    সেদিন ডেভিড বেকহাম লাথি মেরেছিলেন দিয়েগো সিমিওনেকে, দেখেছিলেন লাল কার্ড। মূল খেলা ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। নীল কেন আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, সেটি বোঝা যাবে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে তাকালেও। ২০০২ আসরের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের লালের বিপক্ষে সাদা-আকাশি জার্সিতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেদিন নীল ছিল না, আর্জেন্টিনাও বেকহামের একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছিল।

    নিয়ম অনুযায়ী, সেমিতে আগে ওঠায় ম্যাচে ইংল্যান্ডের পোশাকি নাম টিম ‘এ’। আর টিম ‘এ’ জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য সাদা জার্সি বেছে নিলে টিম ‘বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ‘অ্যাওয়ে’ মানে নীল জার্সিতে খেলতে হতো। আর ইংল্যান্ড যদি অ্যাওয়ে, অর্থাৎ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে সাদা-আকাশি জার্সি পরে খেলতে হতো।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনভাবে জার্সি বেছে নিতে হয়, যাতে সাদা-কালো পর্দায় দুই দলকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা যাতে দুই দলকে গুলিয়ে না ফেলেন, সেটাও খেয়াল রাখা হয়। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের একধরনের প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড যাতে কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরা থামাতে না পারে, তাই আগেভাগেই নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

    অবশ্য এত কিছু করার প্রয়োজনও তেমন ছিল না। কারণ, টিম ‘এ’ হিসেবে ইংল্যান্ড নিজেদের হোম জার্সি, অর্থাৎ সাদা জার্সিই বেছে নিয়েছে। সঙ্গে সাদা শর্টস আর সাদা মোজা। যে কারণে আর্জেন্টিনার জন্য নীল জার্সি, নীল শর্টস আর নীল মোজাই পড়েছে।

  • ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে শুরুর একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় দলে এক-দুটি পরিবর্তন আনতে পারেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখে আমরা একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের লক্ষ্য সম্ভাব্য সেরা দলটিকে মাঠে নামানো। তবে সবাই ভালো অবস্থায় আছে।’

    যদিও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানো দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই একাদশে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, পরিবর্তন এলে সেটি মূলত মাঝমাঠেই দেখা যেতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, নিয়মিত একাদশের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে। মিসরের বিপক্ষেও তার জায়গা নিয়ে আলোচনা ছিল। এছাড়া জাতীয় দলের সর্বশেষ দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

    দি পল না খেললে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেস কিংবা জুলিয়ানো সিমিওনেকে দেখা যেতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে একাধিকবার কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন সিমিওনে। তিনি একাদশে সুযোগ পেলে বাম প্রান্তে খেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্কালোনি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের বিন্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল/জুলিয়ানো সিমিওনে/নিকোলাস গনসালেস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

  • ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে ঘুরেফিরে আসছে অতীতের অনেক স্মৃতি। বিশেষ করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, ৪০ বছর আগের সেই কোয়ার্টার ফাইনাল—এগুলো নিয়েই চলছে চর্চা। প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র ইংল্যান্ড ম্যাচটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না।

    আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। এই ম্যাচটি ঘিরে রাজনৈতিক বৈরিতার বিষয়টিও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধে ৯০৭ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এবার সেমিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার ছেলে বলেন, ‘আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা ভক্তদের জন্য এটা একটা বিশেষ ম্যাচ। ফকল্যান্ড যুদ্ধে আমাদের যেসব ভাইয়েরা মারা গেছেন, তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়।’

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পরই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর আসতেকায় কোয়ার্টারে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে এই ম্যাচে। এবার আটলান্টায় সেমিফাইনালের আগে ম্যারাডোনার ছেলে মনে করিয়ে দিলেন ৪০ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ঘটনা। মার্কাকে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘১৯৮৬ সালে বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেটাও মনে পড়ে যায় এই ম্যাচ (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) দেখে। সেবার বাবা ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন।’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচকে কেন ‘ম্যারাডোনা-ইংল্যান্ড’ ম্যাচ বলা হয়, সেটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। ম্যারাডোনা যখন খেলতে নামতেন, তখন সেটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র। পাশাপাশি রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে আলোচনা হলেও লিওনেল স্কালোনি এটাকে স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথারই প্রতিধ্বনি গতকাল শোনা গেছে রদ্রিগো দি পলের কণ্ঠে।

    স্কালোনি-রদ্রিগো দি পল যা-ই বলুন না কেন, ম্যারাডোনার ছেলে মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারবার টেনে এনেছেন ৪০ বছর আগের প্রসঙ্গ। ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘বাবা এটাকে (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। অনেক কিছুই বলা যায়। তবে কোনো সাধারণ ম্যাচ হচ্ছে না।’

    কীর্তিমানের মৃত্যু নেই—ম্যারাডোনা-পেলের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে কথা বলতে গেলে বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্য চলে আসবেই। ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে ম্যারাডোনা চলে যান না ফেরার দেশে। কিন্তু ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যেসব ভেন্যুতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ হয়েছে, সব জায়গার গ্যালারিতেই দেখা গেছে তাঁর ছবি।

    ছন্দে থাকা মেসি চলতি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ৮ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ২ গোলে। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলা মেসি ১০ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন। ভেঙে দিয়েছেন ম্যারাডোনার সর্বোচ্চ ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

    আটলান্টায় আজ হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমির টিকিটের দামও অনেক বেড়েছে। এই স্টেডিয়ামের সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত।

    আটলান্টা স্টেডিয়ামের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর এই সেমির জয়ী দল নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। গতকাল ডালাসে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন।

  • ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে কেবল দুই জয় দূরে। যার প্রথম ধাপ আগামীকাল আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা দলের কথা বললে যাঁর নাম আগে খোঁজা হয়, সেই লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় লেগে থাকে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে টিকিটের দামও বহুগুণ বেড়েছে।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড স্রেফ তো একটি ম্যাচ নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। যার প্রভাব পড়েছে টিকিটের দামের ওপরও। আটলান্টার সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত। মাঠের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

    ডালাসে আজ ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেমিফাইনাল পর্ব। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে এই ম্যাচ। এই ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিট হলো ৫৫০০ রিয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ক্যাটাগরি ১-এর টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১১ হাজার রিয়াল থেকে (২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা)। এমনকি ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও কিছু টিকিট পাওয়া গিয়েছিল।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা সম্পর্কে কদিন আগে জানতে চেয়েছিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী ফিফার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনরায় বিক্রি করা টিকিটগুলো এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

    রাজনৈতিক বৈরিতা থাকায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আটলান্টা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আর্জেন্টিনার ফেডারেল সরকারের বরাতে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিশেষ করে যেসব সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টুডো নোটিসিয়াসের (ক্লারিন গ্রুপের অংশ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচকে কেন্দ্র করে ফ্যালকন অ্যালার্ট নামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। আগে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ সমর্থক আর্জেন্টিনা ছাড়লে শুধু গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হতো। এখন থেকে সেই তথ্য ফ্রাঙ্কো বেরলিনকেও জানানো হবে।

    ফ্রাঙ্কো বেরলিন আর্জেন্টিনার জাতীয় ক্রীড়া ইভেন্ট নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা দিতে পারবেন—এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটল এক ইতিহাস। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারে থাকা দলগুলো এবারই প্রথমবারের মতো খেলছে সেমিফাইনালে। আজ ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও স্পেন অবস্থান করছে ১ ও ৩ নম্বরে। আর আটলান্টায় আগামীকাল হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের অবস্থান ২ ও ৪ নম্বরে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর যখন বিশ্বকাপের সূচি ঠিক করা হয়েছিল, তখনো র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।

  • ইতিহাস ফাইনালে পৌঁছে দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে!

    ইতিহাস ফাইনালে পৌঁছে দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে!

    সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ইতিহাস। সেই ইতিহাস বলছে, এখান থেকে কখনো তাদের পা হড়কায় না। এর আগে পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে পাচঁবারই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।

    এ নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলবে তিনবারের বিশ্বজয়ীরা। রবিবার সকালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পৌঁছে যায় সেমিফাইনালের মঞ্চে। সেখানে তারা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বুধবার রাতে। তবে ইংলিশদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানে মেসিরা খানিকটা পিছিয়ে আছেন। বিশ্বকাপে ৫বার মুখোমুখিতে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার আর আর্জেন্টিনা দুই বার।

    ১৯৬২ সালে গ্রুপে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। চার বছর বাদে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে আবার ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।

    তারা জিতেছে ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে, ২-১ গোলে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও টাইব্রেকারে জেতে আর্জেন্টিনা।

    এবার কেইন-বেলিংহামের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হওয়ার আগেই ইতিহাস প্রেরণা জোগাচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছানো মানেই ফাইনাল খেলা!

  • ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্মরণীয় ঘটনা। এমন এক মহারণের আগে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে তাদের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে। কয়েক দিন আগেই ৮৯ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আর তার বিদায়ের পরই বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

    সবশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দুই দলের শেষ লড়াই হয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। প্রায় ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। সেই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক এই দ্বৈরথের পাঁচটি বহুল আলোচিত অধ্যায়।

    রাত্তিনকে মাঠ ছাড়াতে নেমেছিল পুলিশ

    ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রিটলিনের সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিন। ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে দোভাষী চাইলেও তা মেলেনি। মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে তাকে বাইরে নিয়ে যায়।

    তখনও ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে ফুটবলে কার্ড ব্যবস্থার সূচনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বার্তোনির ঘুষিতে ভেঙেছিল চেরির দাঁত

    ১৯৭৭ সালে লা বোম্বোনেরায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচেও দুই দলের লড়াই উত্তপ্ত রূপ নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির কঠিন ট্যাকলের জবাবে আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি সরাসরি তার মুখে ঘুষি মারেন। এতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

    পরে দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখেছিলেন ট্রেভর চেরি।

    পচেত্তিনোর ফাউল, বেকহ্যামের গোল

    ২০০২ বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়েও বিতর্কের জন্ম হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে আর্জেন্টিনার মরিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

    বহু বছর পর টটেনহ্যামের কোচ থাকাকালে পচেত্তিনো দাবি করেছিলেন, ওভেন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে স্পর্শই করেননি।

    বেকহ্যামের লাল কার্ড

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দলের আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহ্যাম।

    ১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই হার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।

    ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। গোলশূন্য অবস্থায় পিটার শিলটনের সঙ্গে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান দিয়েগো ম্যারাডোনা। রেফারি গোলের স্বীকৃতি দিলে জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ মুহূর্ত।

    এর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোলটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে স্বীকৃতি পায়।

    শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে সেই আসরেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

  • ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই ফুটবল মাঠের বাইরেও বাড়তি উত্তেজনা। ইতিহাস, রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের বৈরিতা ঘিরে এই লড়াইকে ঘিরে থাকে আলাদা আবহ। তবে বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে সেই উত্তাপ কমানোরই চেষ্টা করলেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো তিনিও বললেন, এটি তাদের কাছে ‘স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ’।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা জানি মেসি কতটা অসাধারণ ফুটবলার। একই সঙ্গে জানি আর্জেন্টিনা দল হিসেবেও কতটা শক্তিশালী। তবে এটি শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপের সেরা চার দলের একটি সেমিফাইনাল। দুই দলেরই আবেগপ্রবণ সমর্থক রয়েছে।’

    আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের প্রশংসাও করেন ইংলিশ এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘ডিবুর বিপক্ষে আমি খেলেছি, যখন সে ওলভারহ্যাম্পটনে লোনে ছিল আর আমি প্রেস্টন নর্থ এন্ডে খেলতাম। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে সে নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করেছে। সে একজন টপ-ক্লাস গোলরক্ষক।’

    বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা লিওনেল মেসি আবার পেনাল্টি নিতে ভয় পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমার মনে হয় না মেসি আবার পেনাল্টি নিতে বিন্দুমাত্র ভয় পাবে। সবাই মেসিকে নিয়েই কথা বলে, কারণ সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তবে আমাদের নিজেদের দল ও খেলোয়াড়দের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।’

    দুই দলের অতীত বৈরিতা, ২০০৫ সালের প্রীতি ম্যাচ কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যাম-দিয়েগো সিমিওনের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। তবে এসব বিতর্কে না গিয়ে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা শেষ কবে খেলেছিলাম? ২০০৫ সালে? অনেক আগের কথা। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেটাই সবাই দেখেছে। আমরা শুধু জিততে চাই এবং কোনো ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চাই। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রেখেই খেলাই আমাদের লক্ষ্য।’

  • কষ্ট আর্জেন্টিনার ডিএনএতে মিশে আছে: স্কালোনি

    কষ্ট আর্জেন্টিনার ডিএনএতে মিশে আছে: স্কালোনি

    গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে দাপুটে জয় নিয়েই নকআউটে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু নকআউট পেরিয়ে সেমিফাইনালের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দে, শেষ ষোলোতে মিসর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রীতিমতো ঘাম ঝরিয়ে জিততে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষা দিয়েই জিততে হবে- এমনটাই যেন মেনে নিয়েছেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। দেশটির বিশ্বকাপজয়ী কোচ বলেন, তীব্র চাপ উপেক্ষা করে লড়াই করে জয় পাওয়াটাই তাদের পরিচয়।

    কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের কষ্ট করে জিততে হবে। এটা আমাদের রক্তে মিশে গেছে, আমাদের ডিএনএতেই আছে। এটাই আমাদের মানসিক শান্তি দেয়।’

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার প্রত্যেকটি ম্যাচই ছিল নাটকীয়তায় ভরা। কেপ ভার্দের মতো নবাগত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয়। এরপর মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডও আর্জেন্টাইনদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিয়ে সেমিফাইনের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    স্কালোনির বিশ্বাস, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাই কঠিন মুহূর্তগুলো সামলে তার দলকে জয় পেতে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, ‘কাতারে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, আমিও ছিলাম না। তখন এমন পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি প্রতিপক্ষের চাপে পড়া কেমন, সমতা ফিরিয়ে আনার চাপ কেমন। তাই আজ আমরা শান্ত থাকতে পেরেছি। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।’

    সুইজারল্যান্ডের প্রশংসাও করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘ওরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। একের বিপক্ষে এক লড়াইয়ে ওরা দারুণ শক্তিশালী ছিল। টানা পাঁচ-ছয়টি পাস খেলাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সত্যিই অনেক ভুগতে হয়েছে।’

    খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেছেন, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা একটি দল, আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর এটাই প্রমাণ করে ফুটবল কতটা কঠিন খেলা।’

  • আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের কয়েক দিন পরও ক্ষোভ কমেনি মিশর শিবিরে। দলের কোচিং স্টাফ আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তোপ দেগে দাবি করেছে, বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণেই তাদের ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

    মিশরের অভিযোগ, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তাদের একটি বৈধ গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত। সেই মুহূর্ত থেকেই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

    বিতর্কের মধ্যেও এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।

    কিন্তু শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে নিলে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    মিশরের কিংবদন্তি যমজ হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান দেশটির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

    হোসাম হাসান বলেন, ‘ওরা ভীষণ উসকানিমূলক আচরণ করেছে। শুরু থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করেছে। খেলোয়াড়দের মুখোমুখি গিয়ে বারবার উসকানি দিয়েছে। এমনকি একজন লাল কার্ডও দেখেছে। তার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করা।’

    মিশরের কোচের মতে, এই পরাজয়ের জন্য শুধু নিজেদের দায়ী করা যায় না; ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বড় কারণ।

    তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। রেফারি পুরো ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছেন। প্রতি দুই মিনিট পরপর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তর্ক, একের পর এক হলুদ কার্ড এবং প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই আমাদের বিপক্ষে গেছে। এতে পুরো ম্যাচ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল।’

    মিশরের জন্য এই বিদায় তাই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ইতিহাস গড়ার সুযোগ তাদের হাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতা তাদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে দেয়। সেই নাটকীয় ম্যাচ এবং রেফারিং বিতর্ক দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলেই মনে করছে ফুটবল অঙ্গন।

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা কি রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।

    শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসরের কোচ ও কয়েকজন ফুটবলার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, শিরোপাধারীদের সুবিধা দিতেই এবারের বিশ্বকাপ সাজানো হয়েছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। অনেকের মতে, ওই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল না।

    নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ ভিএআরের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকার দুই নম্বরে আছে আর্জেন্টিনা। শীর্ষে রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মেক্সিকো।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেষ ষোলো পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তও যায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও।

    প্রতি ১০০টি ফাউলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত পাঁচ দল হলো—মেক্সিকো (দলের পক্ষে ৭.৮, বিপক্ষে ০.০), আর্জেন্টিনা (৬.৭, ০.০), পর্তুগাল (৪.৬, ০.০), নিউজিল্যান্ড (৪.২, ০.০) এবং সৌদি আরব (৩.৬, ০.০)।

    অন্যদিকে, ভিএআরের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার ওপর। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের পক্ষে একটি ভিএআর সিদ্ধান্তও পায়নি। তাদের বিপক্ষে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার প্রতি ১০০ ফাউলে ৬.৫।

    এই তালিকায় এরপর রয়েছে ইরান (দলের পক্ষে ০.০, বিপক্ষে ৫.৪), কাতার (০.০, ৫.১), জার্মানি (০.০, ৪.০) এবং ইংল্যান্ড (০.০, ৩.৫)।

  • যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    বিশাল আকৃতির একটি বটগাছ। গাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে ডালপালা—সবখানেই আকাশি ও সাদা রঙের ছোঁয়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, প্রকৃতি যেন আর্জেন্টিনার চিরচেনা পতাকার সাজে সেজেছে। যেন আর্জেন্টিনার পতাকাই আকাশ ছুঁয়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।

    সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজগড়া-জামতৈল খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে যমুনার চরে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয়দের চাঁদায় প্রায় ১০ হাজার টাকার রঙ কিনে যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি ১৯ জন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বটগাছটি রাঙিয়েছেন।

    বটগাছটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আড়াই যুগেরও বেশি পুরোনো এই বটগাছটি এতদিন যমুনার চরের ক্লান্ত পথিকদের ছায়া দিত। এখন এটি ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নীল-সাদা রঙে সজ্জিত গাছটি চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যেন সমর্থকদের স্বাগত জানাচ্ছে। গাছের ওপরে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে। নিচে চায়ের দোকানে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন সমর্থকেরা।

    স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রান্না করা খাবারের আয়োজন, সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জাও থাকে। এসব আয়োজনের জন্য স্থানীয়রাই চাঁদা তোলেন।

    স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থক আসাদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই বটগাছটি নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

    তিনি আরও বলেন, ফুটবলের উন্মাদনা এখন যমুনার চরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনের কাজ শেষে বিকাল বা সন্ধ্যায় এখানে বসে সবাই আলোচনা করেন—২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে।

  • ‘লাল কার্ডেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে’

    ‘লাল কার্ডেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে’

    ফিফার নতুন নিয়মের বলি হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সুইসরা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড এবং ফিফার নতুন ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ আইন। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ম্যাচ শেষে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড শিবির।

    কানসাসে ম্যাচটিতে দুই দলই সমানে সমানে লড়াই করছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে ৭১ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সামনে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

    ম্যাচের ৭১ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর। তবে এই লাল কার্ডটি সাধারণ কোনো কার্ড ছিল না। ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনার অনুরোধে এই বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ (ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সংশোধনের আইন) নিয়মের অধীনে লাল কার্ড দেখা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হলেন এম্বোলো। এই সিদ্ধান্তের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সুইস তারকা।

    রেফারির এই সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য নয়। আমি জানি তারা (ফিফা) রেফারিদের প্রতিবারই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই নিয়মের কারণেই আজকের ম্যাচটা শেষ হয়ে গেছে।’

    ইয়াকিনের দাবি, এম্বোলোর ফাউলটি মোটেও বিপজ্জনক ছিল না এবং সেখানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো যৌক্তিকতাই ছিল না। ম্যাচ শেষে এম্বোলোর মানসিক অবস্থা নিয়ে কোচ জানান, ‘সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। দলকে সে সহযোগিতা করতে পারেনি আজ। তার মতো আমরা সবাই ব্যথিত। এটা পুরোপুরি রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত।’

    কোচের সুরেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লার। ম্যাচের রেফারিং এবং ভিএআর-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না রেফারি কী করছিলেন। প্রথমার্ধে এরকম ফাউল আরও অনেকগুলো হয়েছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে তো এই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। তাহলে তো সবাইকেই হলুদ কার্ড দেখাতে হয়।’

    ভিএআরের যত্রতত্র হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না এরকম পরিস্থিতিতে ভিএআর কীভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। মাঠের রেফারিদের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে দেওয়া উচিত।’

    একটি নতুন নিয়ম এবং রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি দলের বিশ্বকাপের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে পারে, কানসাসের এই ম্যাচটি তারই এক নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল।

  • ‘কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি’

    ‘কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি’

    সহজ ছিল না লড়াইটা। নির্ধারিত সময়ে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কঠিন এই জয়ের পর সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করার পর ইনস্টাগ্রামে মেসি লেখেন, “আবারও আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে! চল এগিয়ে যাই!”

    কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সুইজারল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এবার অবশ্য সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে লিওনেল স্কালোনির দলের। আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপে দেশকে তৃতীয় শিরোপা এনে দিয়েছিলেন মেসি। এবার তার সামনে রয়েছে আরও একটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।

    এদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও দৌড়ে আছেন মেসি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি। সেমিফাইনাল ও সম্ভাব্য ফাইনালে আরও গোল করে নিজের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করার লক্ষ্য থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।

  • শেষের ঝড়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

    শেষের ঝড়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই বলে কথা। রোমাঞ্চ আর স্নায়ুচাপ সবই থাকল। শেষের নাটকীয়তা শেষে হাসি হাসল লিওনেল মেসিরাই। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ৯ মিনিটের আক্রমণের ঝড়ে দুই গোল যোগ করে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে নেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতায় থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষের নাটকীয়তা শেষে সুইস রক্ষণভাগ ভেঙে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ চারের ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা লড়বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

    ম্যাচের শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সুইস রক্ষণভাগের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে। এর ফলও তারা হাতেনাতে পায় ম্যাচের ১০ম মিনিটেই। মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দুর্দান্ত এক আক্রমণে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আর্জেন্টিনা আধিপত্য বজায় রাখলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড বেশ কয়েকটি প্রতিআক্রমণ চালালেও গোল করতে ব্যর্থ হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ড্যান এনদোয়ে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে সমতায় ফেরান। সমতায় ফেরার পর ম্যাচ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জমে ওঠে। তবে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সুইস শিবির। দলের তারকা ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। একজন কম নিয়ে খেলার পরও নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত তারা আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে রুখে দিয়েছিল।

    ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে অল-আউট আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। সুইস গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা বীরত্বের সঙ্গে বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১১২তম মিনিটে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ নিখুঁত এক শটে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (১২০+১ মিনিট) লাউতারো মার্টিনেজ সুইজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। তাতে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নেয়।

    এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের শেষ টিকিটটি লুফে নিয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই, বুধবার তারা ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার ফ্রান্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে স্পেনের বিপক্ষে।জশেষের ঝড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দশ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার লিড এনে দিলে জয়ের স্বপ্ন বুঁনতে থাকে । কিন্তু লড়াইয়ের ৬৭ মিনিটে স্কোর লেভেল করেন সুইজারল্যান্ডের দান এনদোয়ে। পাঁচ মিনিট বাদেই ব্রিল এম্বোলো লাল কার্ড দেখলে দশ জনে পরিণত হয়ে যায় সুইসরা। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এক্সট্রা টাইমের ১১১ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের গোলও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ইনজুরি টাইমে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ চারের ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা লড়বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

  • সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে সংশয়! এ তো রীতিমতো দুঃসাহস! তবু ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নটা করতে হচ্ছে। আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন? প্রশ্নটা করতে হচ্ছে মেসির কারণেই। কারণটা হয়তো জানেনই—এবারের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি নিয়ে দুটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি।

    একবার ভাবুন তো, ওই দুটি পেনাল্টি থেকে মেসি গোল পেলে কী হতো? মিসর ম্যাচে হয়তো আর্জেন্টিনা খাদের কিনারায় পড়ত না। কিছু সময়ের জন্য দল চাপে পড়ত না অস্ট্রিয়া ম্যাচেও। সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন একাই রাজত্ব করতেন। ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সিংহাসন ভাগাভাগি করতে হতো না।

    ধরুন, আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আবার পেনাল্টি পেল, তখন কি সেটা মেসিই নেবেন? নাকি অন্য কেউ? অন্য কাউকে আলোচনায় আনাটা সহজ নয়। কারণ, এই দলে সবকিছুই তো মেসিনির্ভর! একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক।

    মিসরের বিপক্ষে গোলের পর মেসির উদ্‌যাপন রয়টার্স

    সর্বশেষ যে ম্যাচটিতে মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন, সেই ম্যাচেই মেসি গোল করেছেন, আবার করিয়েছেনও। বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছেন, যেখানে ১৯৬৬ সালের পর থেকে অন্য কোনো খেলোয়াড় তিনবারের বেশি এটি করতে পারেননি। সেই ম্যাচেই মেসি গড়েন বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ আর নকআউট ম্যাচে টানা ৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ড।

    তো এত সব করা মেসিকে পেনাল্টি নিতে বারণ করাও তো বিপদ! আর্জেন্টিনা দলে অন্যরা কেমন পেনাল্টি নেন, সেটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেসি ছাড়া আর কে আছেন পেনাল্টি নেওয়ার মতো? মেসি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে পেনাল্টি নিয়েছেন ১৪৮টি। এর মধ্যে ১১৪টি শটে গোল করেছেন, সাফল্যের হার ৭৭ শতাংশ। মেসির চেয়ে কেউ কি ভালো আছেন এই দলে?

    শতাংশের বিচারে বললে বলতে হবে, আছেন। তা–ও একজন নয়। এই হিসাবে পেনাল্টিতে মেসির চেয়ে ভালো আছেন পাঁচজন। আর্জেন্টিনা দলে পেনাল্টি সফলতায় সবচেয়ে এগিয়ে লিয়ান্দ্রো পারদেস, তাঁর সফলতার হার ৯২.৯ শতাংশ।

    তালিকায় এর পরে আছেন ম্যাক অ্যালিস্টার, তিনি ৯১.৭ শতাংশ পেনাল্টিকে গোলে পরিণত করেছেন। সমান শতাংশ সফলতা আছে এনজো ফার্নান্দেজেরও। হুলিয়ান আলভারেজের সফলতার হার ৮৯.৪ শতাংশ। এমনকি নিকো গঞ্জালেজের পেনাল্টি সফলতার হারও মেসির চেয়ে ভালো—৮২.০৪ শতাংশ।

    তাহলে এরা সবাই কি মেসির চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেন? এর আসলে সরাসরি কোনো উত্তর নেই। কারণ, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১০টি পেনাল্টি গোল করা কোনো আর্জেন্টাইন মেসির ৫ শতাংশের ভাগের এক শতাংশ পেনাল্টিও নেননি। এ তালিকায় মেসির পর সর্বোচ্চ পেনাল্টি নিয়েছেন মার্তিনেজ, তা–ও মাত্র ২৭টি। পেনাল্টি যিনি বেশি নেন, মিস তো তিনিই বেশি করবেন!

  • সুইজারল্যান্ড ম্যাচে স্কালোনির ভরসা পুরোনো একাদশ

    সুইজারল্যান্ড ম্যাচে স্কালোনির ভরসা পুরোনো একাদশ

    শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনের পর এখন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা। শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি। বরং আগের ম্যাচের মূল কাঠামোই ধরে রাখার পরিকল্পনা তার।

    মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১২ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। যদিও নাটকীয় জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে কিছু ঘাটতি খুঁজে পেয়েছে কোচিং স্টাফ। বিশেষ করে সুযোগ নষ্ট করা এবং রক্ষণভাগের কয়েকটি ভুল নিয়ে কাজ করছেন স্কালোনি।

    তবে এসব কারণে পুরো একাদশে বড় রদবদলের পথে হাঁটতে চান না তিনি। বরং দুটি পজিশন নিয়েই চলছে শেষ মুহূর্তের ভাবনা। ডান প্রান্তের রক্ষণে নাহুয়েল মোলিনা নাকি গনসালো মন্টিয়েল—কে শুরু করবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। একইভাবে আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেসের পরিবর্তে লাউতারো মার্তিনেজকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

    মিসরের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মন্টিয়েল ও লাউতারো দুজনই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেন। বিশেষ করে লাউতারো আক্রমণে গতি এনে দেওয়ার পাশাপাশি জয়ের তৃতীয় গোলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করেন। ফলে তাদের একজন বা দুজনই একাদশে জায়গা পেতে পারেন।

    ম্যাচের আগে শেষ দুটি অনুশীলনে বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে দেখবেন স্কালোনি। এরপরই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা হবে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে এক বা দুটি পরিবর্তনের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:

    এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; নাহুয়েল মোলিনা/গনসালো মন্টিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেস/লাউতারো মার্টিনেজ।

  • আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ফিফার ব্যাখ্যা

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ফিফার ব্যাখ্যা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর এবার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্বাধীন এবং কোনোভাবেই বাইরের প্রভাবের শিকার নয়। তার ভাষায়, “ফাউল মানেই ফাউল”; ঘটনাটি গোলের যত আগেই ঘটুক না কেন, ভিএআর সেটি শনাক্ত করলে রেফারিকে জানাবেই।

    ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির দাবি নাকচ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কোচ হোসাম হাসান ও মিসরের খেলোয়াড়রা। তারা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ভিএআরের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কোলিনা বলেন, “বিশ্বকাপের আর মাত্র আটটি ম্যাচ বাকি। সামগ্রিকভাবে আমরা রেফারিংয়ের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। এত অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো নাও হতে পারে। তবে সেসব থেকে শিক্ষা নিয়েই ম্যাচ কর্মকর্তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করেন।”

    রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এমন অভিযোগ অনেক সময় তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

    কোলিনা আরও স্পষ্ট করে জানান, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেন না। তার ভাষায়, “রেফারিং কার্যক্রম কারও দ্বারা পরিচালিত হয় এমন দাবি ঠিক নয়। এমনকি ফিফা সভাপতির পক্ষ থেকেও নয়। ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।”

    মিসরের বাতিল হওয়া গোলের প্রসঙ্গে কোলিনা বলেন, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণভাগের বল দখলের পুরো ধাপ (Attacking Possession Phase) ভিএআর পরীক্ষা করে। যদি গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখানে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কত সময় আগে ঘটেছে, সেটি বিবেচ্য নয়।

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের নির্দিষ্ট ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “মিসরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি ফাউল। রেফারি মাঠে না দেখলেও ভিএআর সেটি শনাক্ত করে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

    শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের সংস্পর্শে মিশরের পেনাল্টির দাবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তিনি বলেন, “যদি কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। ওই ঘটনাতেও রেফারি ও ভিএআর দুজনই সেটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।”

    তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকেই। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট বলেও জানান বিশ্বখ্যাত এই সাবেক ইতালিয়ান রেফারি।

  • আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    মিসরের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছে শেষ মুহূর্তে। এই জয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের।

    গতকাল রাতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে সুইসরা। ওই ম্যাচের পরই শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনের কাছে। তাঁর কথায় প্রতিপক্ষের জন্য সমীহ থাকলেও আর্জেন্টিনাকে হারানো যে অসম্ভব কিছু নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা ভালো করেই জানি।’

    ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছর পর আবার তারা শেষ আটে জায়গা পেল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

    নকআউটে আলজেরিয়ার পর কলম্বিয়াকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে আসা রিকার্দো রদ্রিগেজ। তাঁর কণ্ঠে সমীহই ছিল আর্জেন্টিনার জন্য।

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা আর্জেন্টিনা অসাধারণ একটা দল। ওদের দলে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছে। ওরা কীভাবে খেলে, তা আমাদের জানা। ওদের দলে আছে বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি।’

  • আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তার ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনার। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’

    মঙ্গলবার রাতে আটালান্টায় ম্যাচের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। তবে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের।

    বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি। এর মধ্যে চারটিতে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। একই সঙ্গে (টাইব্রেকার বাদে) বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    এদিন ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। সেমিফাইনালের মিশনে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

    মেসি বলেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’

    সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আমি ওদের চিনি, জানি তারা কীভাবে কাজ করে। এই দল লড়াই করতে জানে, বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটা আমার জন্য সম্মানের। আমরা যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত।’

  • অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির মুখে হাসি ছিল না। দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবুও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

    আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করেন মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় তিনি খুবই রাগান্বিত ও হতাশ ছিলেন। মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি নিজের ওপর খুবই রাগান্বিত ছিলাম, খুব হতাশ ছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত।’

    তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় মেসির নেতৃত্বেই। ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে নিজেই সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

    এ বিষয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যেভাবে জিতেছি এবং পরের পর্বে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম, সব দলই খুব কাছাকাছি মানের। আমি খুবই খুশি।’ ম্যাচ শেষে মেসি জানান, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টির বাইরে আরও পরিষ্কার কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়ে আমি গোল করতে পেরেছি। যা ঘটেছিল, তার পরও এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ অনুভূতি।’

    মিশরের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসি শুধু গোলই করেননি, একাধিক সুযোগ তৈরি করে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও পেনাল্টি মিসের কারণে বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম উঠেছে তার। টাইব্রেকার বাদে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

    এ ছাড়া মিশরের বিপক্ষে তার নেওয়া একটি ফ্রি-কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষক শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় মেসির।

    তবে সবকিছুর পরও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা, পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল করা এবং ওপেন প্লে থেকে পাঁচটির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

    মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১টি করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯-এ, ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল এবারের আসরে তার অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

    দলের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এটাই এই দলের চরিত্র। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করি। আজকের জয় আমাদের গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।’ এই

    নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

    বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

  • আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ল্যাতেজিয়ার ছিলেন দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট। এটা স্বীকার করতেই হবে- আর্জেন্টিনা ঝড়ের কবলে পড়েছিল। লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল প্রায় সবকিছু। মেসি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন। এই আসরেই অষ্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করেন। খেলায় গোল হয়েছে পাঁচটি। প্রথম গোল করেন মিশরের ইয়াসের ইব্রাহিম। দ্বিতীয় গোলটি করেন মোস্তফা জিকো। এর আগে নাটকীয় ঘটনাও ঘটে বেশ কিছু। মিশরের একটি গোল বাতিল হয়। যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ফুটবলভক্তরা তাজ্জব হয়েছেন। মাঠের মধ্যে উসকানি দেখে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে শুধু হাসলেন। সংবাদমাধ্যম এই খবরটাই দিয়েছে। কিন্তু কেন? বোধ করি আপনারাও বুঝতে পেরেছেন। কারণ গোল হওয়ার ২০ সেকেন্ডে একটা ফাউলের অভিযোগে গোল বাতিল হয়। যা ছিল হাস্যকর, কলঙ্কিত। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাইরের দুনিয়াও একই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলেছেন, এটা আর্জেন্টিনা নয় ভার্জেন্টিনা। যাই হোক, পাঁচ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা দুটো গোল করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মেসি সরাসরি গোল করেন। আর তার বলে অন্যটি করেন রোমেরো। বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন মেসি। খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইনজুরি টাইমে। এই গোলটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ মিশরের তারকা সালাহকে স্পষ্ট ফাউল করলেও তা রেফারি এড়িয়ে যান। এমনকি রিভিউতেও পাঠাননি। যেটা অবিশ্বাস্য। অভিযোগ, মিশর হেরে গেল রেফারির ছল-চাতুরিতে। নাহলে হয়তো খেলাটি ঘিরে তেমন একটা বিতর্ক হতো না। মোস্তফা জিকোর গোলটা বাতিলের পর বোঝা গিয়েছিল অন্য কিছু হতে পারে। এর আগের ইতিহাস- রোনালদো নেই, ব্রাজিল নেই বিশ্বকাপে তাহলে থাকলো কী। এবার যদি আর্জেন্টিনাও চলে যায় তাহলে তো বিশ্বকাপের উন্মাদনাই থাকবে না। মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবেইর আসলেই এক পিরামিড হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই পিরামিড ভাঙলো অদৃশ্য শক্তির খেলায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ও লিপিবদ্ধ হলো। বিশ্বকাপে শুধু খেলা নয়, ব্যবসার দিকটাও দেখতে হবে। এবার ফিফা কি সেই ঝুঁকি নেবে। মিশর এর আগে চারবার বিশ্বকাপে এসেছিল। আর এবারই প্রথম নকআউটে আসে। অঙ্কের হিসেবে মিশর হারলেও বিবেকের বিচারে আসল জয়ী তারাই। খেলা শেষে মেসি আবারও আলোচনায়। বলা চলে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ফুটবলকে শাসন করছেন। তিনি এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। গত সপ্তাহে দুটি জয়ের মাঝখানে তিনি তার ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন। তার অগণিত ভক্তরা কীভাবে তাদের প্রিয় তারকার শেষ বিশ্বকাপকে উপভোগ করছেন- এই প্রশ্নের মধ্যেই মিশরের উত্থান দেখে মেসি নিজেই চিন্তায় পড়ে যান। মিশরের প্রথম গোলের পর তিনি উপুড় হয়ে ঘাস দেখছিলেন। এই ঘাস, এই মাঠ ও এই গ্যালারি তার শক্তি, সাহস। বিতর্ক হচ্ছে- এই বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হবেন কে। লামিন ইয়ামাল- এক স্প্যনিশ কিশোর? কিলিয়ান এমবাপ্পে- ফুটবলের অতি গতিসম্পন্ন বোগাত্তি গাড়ি! নাকি আর্লিং হালান্দ- নরওয়ের সেই গোলদানব! বৃটেনের হ্যারি কেইন? ১৯শে জুলাই এর উত্তর মিলবে। খেলা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে কুৎসিত কিছু ঘটনাও ঘটে। রেফারি আবোল-তাবোল অনেক সিদ্ধান্ত দেন। লাল কার্ড, হলুদ কার্ড মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও দেখান। যা খেলার সৌন্দর্যে দাগ লাগিয়ে দেয়। জমজমাট প্রশ্নের সৃষ্টি করে।