মেসি

  • ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় যে আবেগের সঞ্চার হয়েছে, সেটিই ফুটে উঠেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথায়।

    বেনিনের বিপক্ষে মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার চেয়েও যে চাহিদা বেশি, সেটি বোঝাতে স্কালোনি বলেছেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সবগুলো পূর্ণ হয়ে যেত।’

    বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি। তার মতে, এখন আর মেসির বিদায় নিয়ে বলার মতো কিছু বাকি নেই, সময়টা শুধু উপভোগ করার। ‘আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। হাহা। আমার মনে হয়, সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা,’ বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

    ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। স্কালোনির মতে, মেসির বিদায়ের পর তাঁর অভাব প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভূত হবে। ‘আমরা সবসময় যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, সে যখন থাকবে না, তখন সেটা অনুভব হবে। এখন সে আর এখানে থাকবে না,’ বলেন স্কালোনি।

    মেসির শেষ ম্যাচের আবেগ নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি সবাই আবেগপ্রবণ থাকবে। মেসিও থাকবে। সে যেদিন মনুমেন্টালের মাঠে পা রাখবে, সেদিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা অবশ্যই এগিয়ে যাবে, তবে তার মতো অনুভূতি আর কেউ দিতে পারবেন না বলেই মনে করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলতে হবে, দলও চলবে। কিন্তু মাঠে তাকে থাকার যে অনুভূতি, তা অনন্য। মাঠে সে যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, অন্য কারও মধ্যে আমি কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমরা সেটাই সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’

    বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির সঙ্গে আরও দুটি অনুশীলন সেশন পাচ্ছেন স্কালোনি। তাই শেষ মুহূর্তগুলোও উপভোগ করতে চান আর্জেন্টাইন কোচ।

  • মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকছেন দি মারিয়া

    একসঙ্গে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন অনেক শিরোপা। মাঠে লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা যেন ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। সেই মেসির বিদায়ী ম্যাচে কি তিনি না এসে পারেন? দি মারিয়া জানিয়েছেন, মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবরের বিদায়ী ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকবেন তিনিও।

    রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে জয়ের পর মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে নিজের এই পরিকল্পনার কথা জানান দি মারিয়া।

    ৫ অক্টোবর বানফিল্ডের বিপক্ষে রেসিং ক্লাবের ম্যাচ রয়েছে। এরপর আর বুয়েন্স আয়ার্স ছাড়ছেন না দি মারিয়া। পরদিন সরাসরি চলে যাবেন মনুমেন্টালে।

    দি মারিয়া বলছেন, ‘আমাকে তো স্টেডিয়ামে যেতে হবে, তাই না? আমাকে যেতে হবে, মেসির শেষ ম্যাচটা দেখতে হবে। আমরা ৫ তারিখে বানফিল্ডের বিপক্ষে খেলবো। মনুমেন্টাল আমার পথেই পড়বে, আমি সেখানে থাকবো।’

    মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন দি মারিয়া, ‘ব্যাপারটা খুব কঠিন হবে। এত বছর পর লিওকে ছাড়া একটি দল, কল্পনাই করা যায় না। আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টাইনদের এবং পুরো বিশ্বের জন্য সে যা করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমরা শেষ দিনটা উপভোগ করবো।’

  • ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    ব্রাজিল কিংবদন্তির বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে মেসি

    লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকের প্রস্তুতি মানেই প্রতিপক্ষের শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি হওয়া। দূরত্ব যতই হোক না কেন, ফ্রি-কিক থেকে জাদুকরি গোল উপহার দেওয়া যেন তার বাঁ পায়ের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে সান ডিয়েগোর বিপক্ষে রবিবারের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ক্যারিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

    এমএলএসের রোমাঞ্চকর সেই ২-২ ড্রয়ের ম্যাচের ২৪ মিনিটে ইন্টার মায়ামি পিছিয়ে ছিল। সেই মুহূর্তে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের এক চোখ ধাঁধানো শট নেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বলটি দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এই গোলের সুবাদেই তিনি ক্যারিয়ারের ৯৩০তম গোলটি পূর্ণ করেন। এর মধ্যে শুধু ফ্রি-কিক থেকেই এসেছে তার ৭৫টি গোল।

    এই গোলের মাধ্যমে ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ব্রাজিলিয়ান তারকা জাইর রোসা পিন্টোকে টপকে এককভাবে সর্বকালের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন মেসি। সর্বকালের সেরা ফ্রি-কিক গোলের মালিক হতে তার সামনে এখন কেবল আরেক ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড মার্সেলিনিয়ো কারিওকা, যিনি ৭৮টি ফ্রি-কিক গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ রেকর্ডটি নিজের করে নিতে মার্সেলিনিয়ো থেকে মাত্র চার গোল দূরে রয়েছেন তিনি।

    ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোল:

    ক্রমিকখেলোয়াড়ের নামগোলসংখ্যাদেশ
    ১মার্সেলিনিয়ো কারিওকা৭৮ব্রাজিল
    ২লিওনেল মেসি৭৫আর্জেন্টিনা
    ৩জাইর রোসা পিন্টো৭৪ব্রাজিল
    ৪রবার্তো দিনামিতে৭৩ব্রাজিল
    ৫জুনিনহো পের্নাম্বুকানো৭২ব্রাজিল
    ৬মার্কোস আসুন্সাও৬৮ব্রাজিল
    ৭সিনিসা মিহাইলোভিচ৬৭সার্বিয়া
    ৮হোর্হে আরাভেনা৬৫চিলি
    ৯ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো৬৪পর্তুগাল
    ১০জিকো৬২ব্রাজিল
    ১১দিয়েগো মারাদোনা৬১আর্জেন্টিনা
  • লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    একটা সময় লা লিগায় নিয়মিতই দেখা যেত অবিশ্বাস্য সব গোল আর রেকর্ডের পর রেকর্ড। লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগে এক মৌসুমে ৪৮ বা ৫০ গোল করা ছিল যেন জলভাত। সময়ের পরিক্রমায় অনেকেই ধরে নিয়েছিল, ওই রূপকথার দিনগুলোর বুঝি চিরতরে অবসান ঘটেছে। তবে সব হিসাব পাল্টে দিয়ে সেই অসম্ভব রেকর্ডের দরজায় কড়া নাড়ছেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।

    চলতি লা লিগা মৌসুমে নিজের প্রথম ৭ ম্যাচেই অভাবনীয় ১২টি গোল করে ফেলেছেন এই সেলেসাও তারকা। এই পরিসংখ্যান তাকে সরাসরি বসিয়ে দিয়েছে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই মেসি-রোনালদোর স্বর্ণালী শুরুর দিনগুলোকে। কিন্তু রাফিনিয়ার পায়ে চলতি মৌসুমের এই অবিশ্বাস্য গোল উৎসবের পেছনে রয়েছে এক অন্য গল্প।

    এবারের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে কোনো কথার লড়াইয়ে না জড়িয়ে তিনি মাঠেই এর সবচেয়ে কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছেন গোলের পর গোল করে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে নতুন ট্যাকটিক্যাল পজিশনে খেলে রাফিনিয়া এখন লা লিগায় যে কোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ত্রাস হয়ে উঠেছেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম সাত ম্যাচের গোলের হিসেবে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন রাফিনিয়া। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে প্রথম ৭ ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে মেসি করেছিলেন প্রথম ৭ ম্যাচে ১১ গোল। আর চলতি মৌসুমে ১২ গোল করে মেসিকেও ছাড়িয়ে গেছেন রাফিনিয়া।

    এছাড়া লা লিগার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড ৫০ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। পরের স্থানটিই রোনালদোর। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তিনি ৪৮ গোল করেন। দুই মহাতারকা লা লিগা ছাড়ার পর থেকে ৪০ বা ৫০ গোলের ঘটনা হারিয়ে গিয়েছিল। লুইস সুয়ারেস (৪০ গোল) কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পে বা রবার্ট লেভানদোভস্কিরা চেষ্টা করলেও সেই যুগের পাগলাটে পরিসংখ্যান ছুঁতে পারেননি।

    কিন্তু রাফিনিয়ার বর্তমান ফর্ম নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রতি ম্যাচে ১.৭১ গড়ে গোল করে চলা এই ব্রাজিলিয়ান যদি এই ধারা অব্যাহত রাখেন, তবে গাণিতিক হিসাবে মৌসুম শেষে তার গোলের সংখ্যা গিয়ে ঠেকতে পারে ৬৫টিতে! যদিও পুরো মৌসুমে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন, তবুও তার বর্তমান ফর্ম ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরোনো সেই সোনালী দিনগুলোর কথা।

    -গোল ডটকম অবলম্বনে

  • মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    মেসি-সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলেও সান দিয়েগোর সঙ্গে ড্র মায়ামির

    লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০১তম গোল করলেও সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে জয় দেখা পায়নি দলটি। রোববার রাতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

    এই নিয়ে এমএলএসে টানা চতুর্থ ম্যাচে ড্র করল মায়ামি। ক্লাবটির নতুন কোচ কিলি গঞ্জালেসের অধীনে এটি ছিল লিগে প্রথম ম্যাচ। শেষদিকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ১২ মিনিটে জেপ্পে টভার্সকভের পাস থেকে গোল করে সান দিয়েগোকে এগিয়ে দেন আন্দের্স ড্রায়ার। গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট-ক্লেয়ারকে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি।

    ২৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। ডান দিক থেকে তার নেওয়া ফ্রি-কিক বক্সের ভেতর কাউকে স্পর্শ না করে সরাসরি দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এটি চলতি মৌসুমে এমএলএসে মেসির ২০তম গোল।

    চার দিন আগেই মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মায়ামির হয়ে নিজের শততম গোল করেছিলেন মেসি। এমএলএসে ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর ফ্রি-কিক থেকে এটি তার অষ্টম গোল যা কি না এই সময়ে লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

    দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামি আক্রমণে গতি বাড়ায়। ৭৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিউ ইংল্যান্ডকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মায়ামির।

    তবে আট মিনিট পরই আবার সমতায় ফেরে সান দিয়েগো। হেরন্সদের রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে আসা বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ড্রায়ার।

    ম্যাচ শেষে গঞ্জালেস মায়ামির রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের রক্ষণে আরও শক্ত হতে হবে এবং এ ধরনের ভুলের জন্য বড় মূল্য দিতে হয়। মাত্র চার দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ায় দলকে ঠিকমতো অনুশীলন করানোর সুযোগ পাননি বলেও জানান তিনি।

    এই ড্রয়ে ১২ জয়, ৪ হার ও ১০ ড্রয়ে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

    আগামী রোববার এমএলএসে কলম্বাস ক্রুর মাঠে খেলবে মায়ামি। আর শনিবার অস্টিন এফসির বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলবে সান দিয়েগো।

  • মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবে বার্সেলোনা

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ক্লাবের প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সভায় কথা বলার সময় মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি আয়োজনের ইচ্ছার কথা এরই মধ্যে তাকে জানিয়েছে বার্সেলোনা। নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই সেই সংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কাতালান ক্লাবটি।

    লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা মেসিকে জানিয়েছি এ বিষয়ে। স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে তার জন্য একটি সংবর্ধনা আয়োজন করতে চাই।’

    তবে সংবর্ধনার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মেসির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বার্সা সভাপতি, ‘স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা তার জন্য এই সংবর্ধনা আয়োজন করব, যদি তিনি সেটি চান।’

    মেসির আবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন লাপোর্তা। তার দাবি এক মৌসুমের জন্য হলেও মেসিকে আবার দলে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ‘আমাদের সঙ্গে আরও একটি মৌসুম খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি কারণ সে অন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’ তবে কোন সময়ের কথা তিনি বলছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বার্সা সভাপতি।

    লাপোর্তার এই মন্তব্যে ফের সামনে এসেছে বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে পুরোনো সেই আক্ষেপ। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়েন মেসি। তবে ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ গৌরবময় অধ্যায়ের পরও মাঠে তাকে যথাযথ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা।

    তবে সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্লাবের ইতিবাচক মনোভাবের কথাই তুলে ধরেছেন লাপোর্তা, ‘তাকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা খুবই খুশি হব। আশা করি খুব শিগগিরই তাকে দেখতে পাব।’

    এদিকে মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসির মৃত্যুতেও শোক জানিয়েছেন লাপোর্তা। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাপোর্তা বলেন, ‘তার বাবার প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ।’

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।

  • রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির পাশে স্থান করে নিলেন ব্রাজিলের তারকা রাফিনিয়া।

    শনিবার লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফার্মিন লোপেজের ক্রস থেকে জালে বল জড়ান বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলের সুবাদে চলতি মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচেই রাফিনিয়ার গোল হলো ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে রাফিনিয়া পেছনে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে প্রথম চার ম্যাচ শেষে পাঁচটি করে গোল করেছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন রাফিনিয়া।

    ব্রাজিলিয়ান তারকা নাম লিখিয়েছেন বার্সেলোনারই সাবেক তারকা লিওনেল মেসির পাশে। ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি গোলের কীর্তি আছে মেসির। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি করে গোল করেছিলেন মেসি।

    রাফিনিয়ার সামনে সুযোগ রয়েছে আরও রেকর্ডে নাম লেখানোর। বার্সার হয়ে টানা ৫ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড আছে দুইজন ফুটবলারের। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সিজার রদ্রিগেজ (৮ গোল) আর ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন।

  • মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর প্রথমবারের মতো ইন্টার মায়ামির জার্সিতে নামলেন লিওনেল মেসি। নেমেই গড়লেন ইতিহাস। মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ঘরের মাঠে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও গ্যালারির উত্তাপ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচটি রূপ নেয় এক ভিন্ন চিত্রে।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালের এই ম্যাচে বল মাঠে গড়ানোর আগে শুরু হয় তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত। ফলে ৯০ মিনিটের এক বাধ্যতামূলক আবহাওয়া বিলম্ব ঘটে। তবে খেলা শুরু হতেই নিজের চিরচেনা ছন্দে জ্বলে ওঠেন মেসি। ৩২ মিনিটে তার নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক প্রিমিয়ার লীগ তারকা মিগুয়েল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান। তবে প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে লুইস সুয়ারেজের চমৎকার ফিনিশিংয়ে আবারও লিড পায় মায়ামি।

    এই জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি মৌসুমে মেসির মোট গোল অবদান ১৮ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পৌঁছে গেল ঠিক ৩০টিতে। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন তিন মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়েন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দেনিস বোয়াঙ্গা কিংবা সিনসিনাটির এভান্ডারের মতো হেভিওয়েট তারকাদের পেছনে ফেলে এই কীর্তি গড়লেন এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। চলতি বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ভুলে যাওয়ার মতো এক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি। তবে ক্লাব ফুটবলে তার জাদুকরি ফর্ম এতটুকুও ম্লান হয়নি।

    মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচটি আলোচনায় ছিল গ্যালারির উত্তেজনার কারনেও। কাসেমিরোর গোলের পর আটলান্টা ইউনাইটেডের সমর্থকরা মাঠে মেসির বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘পেসি’ ব্যানার উন্মোচন করেন, যা পুরো স্টেডিয়ামের আবহকে আরও উসকে দেয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন মায়ামি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আটলান্টার নতুন খেলোয়াড় ও সুইস স্ট্রাইকার ব্রেয়েল এমবোলো পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান।

    ইনজুরি টাইমে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। আটলান্টার ম্যাথিউ এডওয়ার্ডস অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মায়ামিকে। ফলে এমএলএসের শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়লো ফ্লোরিডার ক্লাবটির জন্য। ২৩ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে মেসিরা। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ায় ন্যাশভিল।

  • একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি এবার একই দলের হয়ে মাঠে নামবেন? বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএনটি স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পরিকল্পনা চলছে।

    আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে ‘অ্যাপাচি’ খ্যাত তেভেজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ সংবর্ধনা ম্যাচটি। বোকা জুনিয়র্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তেভেজ। তার ইচ্ছা, এই বিশেষ আয়োজনে দুই ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি ও রোনালদোকে একসঙ্গে একই একাদশে খেলাবেন।

    ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্ব ফুটবলের বহু নামী ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই ঐতিহাসিক বিদায়ী ম্যাচে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক সতীর্থ অংশ নেবেন।

    ২০২২ সালের জুনে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই ফরোয়ার্ড কোচিং পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। রোসারিও সেন্ট্রাল ও ইন্দেপেন্দিয়েন্তের পর বর্তমানে তায়েরেস কোর্দোবার ডাগআউট সামলাচ্ছেন তিনি। তবে কোচিংয়ের ব্যস্ততা ছাপিয়ে এখন তার সব মনোযোগ ঐতিহাসিক এই বিদায়ী আয়োজন নিয়ে।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বোকা জুনিয়র্সের বিখ্যাত হোমগ্রাউন্ড লা বমবুনেরা স্টেডিয়ামে আগামী ডিসেম্বরের ১২-১৩ কিংবা ১৮-১৯ তারিখে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আর্জেন্টাইন লীগের সূচির সঙ্গে যাতে ম্যাচটির তারিখের সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

  • মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    বল নিয়ে কাড়াকাড়ি তাঁরা করেননি। একজন ছিলেন মাঠে, অন্যজন ডাগআউটে। তবু একসময় এল ক্লাসিকোতে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ফুটবল–বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি। একজনের পায়ের নৈপুণ্য আর অন্যজনের মাথার ট্যাকটিকসের লড়াই অনেকের কাছেই ছিল উপভোগ্য।

    এরপর অবশ্য এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনিও বলেছেন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে তিনি সব সময়ই মিস করবেন।

    আগামীকাল লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিনিও বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে কথা বলা কঠিন। তার খেলোয়াড়ি মান নিয়ে বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এমনকি এই যে বিশ্বকাপ, সেখানে ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সেও সে আমাদের দেখিয়েছে, সে কী করতে পারে।’

    ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি এবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপরই ঘোষণা দেন—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা শেষ। মেসির বিদায় যে ফুটবলের একটি যুগেরও অবসান, মরিনিওর কথায় সেটিই ফুটে উঠেছে, ‘কখনো কখনো এমন খেলোয়াড় থাকে, যাদের আপনি মিস করবেন। তার শেষ কয়েক বছর বা মৌসুমগুলোকে উপভোগ করতে আমাদের হয়তো কিছু এমএলএস ম্যাচ দেখতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা এমএলএস দেখতে পছন্দ করি না, কিন্তু তাকে দেখতে হলে দেখতে হবে। কারণ, সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আপনি সব সময়ই মিস করবেন।’

    যখন মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়, মরিনিও রিয়ালেছবি: এক্স

    মরিনিও ও মেসি কখনো সরাসরি একই দলের হয়ে কাজ করেননি বা খেলেননি। মেসি বার্সেলোনায় থাকার সময় ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিও। সেই সময়ের এল ক্লাসিকো উত্তাপ ও বিতর্ক মিলিয়ে উত্তেজনাময় ছিল। কোচ হিসেবে মরিনিওকে বারবারই মোকাবিলা করতে হয়েছে মেসির বার্সেলোনাকে।

    তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেসির প্রতি মরিনিওর শ্রদ্ধা কমাতে পারেনি। পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘গত দুই দশকে আমাদের প্রজন্মের জন্য সে কী প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা আমরা সবাই জানি।’

  • মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পর বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির পরিকল্পনা। তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে এশিয়া সফরের যে পরিকল্পনা করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), সেটি এখন বাতিল হওয়ার পথে।

    এশিয়া সফর বাতিল করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

    ইএসপিএন আর্জেন্টিনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিন ম্যাচের একটি ঘরোয়া সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এএফএ। প্রথম ম্যাচটি বুয়েনস এইরেসের এল মনুমেন্টালে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল অথবা কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি দুটি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে আছে কর্দোবা ও রোজারিও।

    এর আগে এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে এশিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনার। চীনের বিপক্ষে একটি ম্যাচও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

    ইএসপিএনের সাংবাদিক দিয়েগো মনরোইগ জানিয়েছেন, পুরো আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার দেশের মাটিতে খেলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। স্পোর্টসসেন্টারের সকালের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘দলটির ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে পুরো সময়টা ঘরের মাঠে কাটানোর।’

    মেসিকে ছাড়া নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানোর ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের এই তিন ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য। জুলাইয়ে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখন এই কোচের সামনে।

    এর পর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আরেকটি ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ব্যস্ত সূচি শুরুর আগে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দলকে প্রস্তুত করার জন্য আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো স্কালোনির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।

  • আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    একটা সময় আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গল্পটা ছিল শুধুই আক্ষেপের। বারবার ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া, আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিতে না পারার আক্ষেপই ছিল বেশি। সেই মেসিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ পূরণ করেছেন নিজের এবং আর্জেন্টাইনদের সব স্বপ্ন।

    সব ট্রফি জেতা মেসি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলেছেন। এখন মেসিকে তাঁর মতো করে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়ার পক্ষে আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার হোয়ান রোমান রিকেলমে। সে কারণে মেসির এই সাবেক জাতীয় দল সতীর্থ চান, মেসি আর্জেন্টিনায় না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকুক।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির প্রশংসা করে রিকেলমে বলেছেন, আর্জেন্টাইনদের উচিত এখন তাকে আরও বেশি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানো।

    রিকেলমের ভাষায়, ‘আমাদের উচিত মেসিকে আরও বেশি ধন্যবাদ জানানো। ও যা করেছে, এরপর আমরা মেসির কাছে আর কী চাইতে পারি? মেসি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে, আমাদের স্বপ্নও পূরণ করেছে। মেসি সর্বকালের সেরা কি না জানি না, তবে সেরাদের একজন। কোনো ফুটবলার এত বছর ধরে সেরা পর্যায়ে থাকতে পারেনি। এটা অবিশ্বাস্য।’

    মেসির দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রিকেলমে। শুরুতে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য না পেলেও মেসি কীভাবে লড়াই করে গেছেন, সেটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টাইনরা মেসিকে যে ভালোবাসা দিচ্ছে, সবটুকুই ওর প্রাপ্য। কারণ, মেসি নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছে। অনেক কষ্ট করেছে। শুরুতে জিততে পারেনি, অনেক সংগ্রাম করেছে। শেষ পর্যন্ত মেসি সবকিছু অর্জন করেছেন। ঈশ্বর মেসির প্রতি ন্যায়বিচার করেছে, এটা সত্যিই দারুণ। এখন আমাদের উচিত মেসিকে ভালোবাসা। আর্জেন্টিনার ফুটবল ও পুরো ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছে, তার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। পুরো বিশ্ব মেসিকে ভালোবাসে আর ও সেই ভালোবাসার যোগ্য।’

    মেসির সঙ্গে রিকেলমের সম্পর্কও বেশ পুরোনো। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন সোনার পদক। সেই সম্পর্ক এখনো অটুট। ২০২৩ সালে রিকেলমের বিদায়ী ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি মেসির আগে পরেছেন রিকেলমে। এখন বোকা জুনিয়র্সে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এ মিডফিল্ডার।

    লিওনেল মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমে ইনস্টাগ্রাম

    মেসির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিকেলমে বলেন, ‘আমি সব সময় মেসির সঙ্গে কথা বলি। আমাদের সম্পর্কটা দারুণ। মেসি আমাকে খুব ভালোবাসে, আমিও ওকে খুব ভালোবাসি। আমি ওর সঙ্গে আরও অনেক বেশি খেলতে চেয়েছিলাম। তবে যতটুকু খেলতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের মধ্যে যে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান আছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’

    মেসির মতো খেলোয়াড় আবার আসবেন কি না, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিকেলমে। তবে আর্জেন্টাইনরা তাঁর মতো কাউকে পেয়েছিল বলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন রিকেলমে।

    শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমরা আর কখনো মেসির মতো খেলোয়াড় পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করব কি না, জানি না। ম্যারাডোনা মারা যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম, এমন কেউ আর আসবে না। এরপর এমন একজন এল, যিনি তাঁর মতোই ভালো, কিংবা আরও ভালো। আমরা আর্জেন্টাইনরা খুবই ভাগ্যবান।’

    মেসিকে এখন নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে দিতে চান রিকেলমে। আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি।

    এর আগে জানা গিয়েছিল, ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে আর্জেন্টিনায় নিজের শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির ফেরার ইচ্ছা আছে।

    লিওনেল মেসি এখন ইন্টার মায়ামির হয়ে এএফপি

    কিন্তু রিকেলমে মনে করেন, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ফেরার চেয়ে মেসি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো, ‘এখন মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে যত দিন ইচ্ছা ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়া উচিত। আমরা আর্জেন্টাইনরা মেসিকে সব সময় অনেক ভালোবাসা ও স্নেহ দেব। আমাদের উচিত মেসিকে একা ছেড়ে দেওয়া। যত দিন মেসি খেলতে চায়, তাকে খেলতে দেওয়া উচিত। ওর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো। আর আমরা আর্জেন্টিনার সব ফুটবলপ্রেমী মেসিকে সমর্থন করে যাব।’

  • মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি না রোনালদো? এ নিয়ে তর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়। নিজে অবশ্য কখনোই নিজেকে সর্বকালের সেরা বলেননি মেসি। তবে অবসরের ঠিক পরপরই নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মেসিকেই বলা হয়েছে ‘সর্বকালের সেরা’।

    গত ৩১ আগস্ট আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছেন মেসি। মেসির ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে গতকাল। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘২০ বছরের বেশি সময়। ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপ ও অগণিত স্মৃতি। আমার পথচলার প্রতিটি ধাপে পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

    ইনস্টাগ্রামের এই ভিডিও পোস্টে অবশ্য ট্যাগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিয়ার কোম্পানি মাইকেলব আল্ট্রাকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির সব অর্জন দেখানো হয়েছে এক রেস্তোরাঁর রসিদে। সেই রসিদের শেষ লাইনে সর্বকালের সেরা নিয়ে বিতর্কের অবসানও টানা হয়েছে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, রসিদে একের পর এক লাইনে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সব অর্জন। তবে এটি কিন্তু একটি নতুন ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনের অংশ।

    রসিদে উঠে এসেছে মেসির প্রভাবের কথাও। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলে তিনি যে কোটি কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করেছেন, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কতটা যন্ত্রণা দিয়েছেন, সেটাও বাদ যায়নি। আর সবশেষে লেখা হয়েছে—‘গোট ডিবেট সেটেলড।’

  • মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মাঠ থেকে নয়, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দুই দশকের বর্ণিল পথচলাকে মাঠেই বিশেষভাবে সম্মান জানাতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    চলতি সপ্তাহান্তে আর্জেন্টিনার সব ঘরোয়া ম্যাচের দশম মিনিটে খেলা থামবে। দেওয়া হবে এক মিনিটের করতালি। মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার পর তাঁকে সম্মান জানাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা দলে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন মেসি। সে জন্যই খেলা থামানো হবে দশম মিনিটে। পুরুষ ও নারীদের সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হবে। গত বুধবার এএফএ এক বিবৃতিতে খবরটি জানায়।

    শুধু করতালিতেই শেষ হচ্ছে না মেসির জন্য আয়োজন। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেসব মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে মেসিকে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন করা হবে। মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এএফএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    গত সোমবার ইনস্টাগ্রামে স্প্যানিশ ভাষায় হাতে লেখা তিনটি কাগজের ছবি পোস্ট করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। সেখানে তিনি নিশ্চিত করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দল অধ্যায়ের ইতি টানলেন কিংবদন্তি।

    মেসি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই বাকি নেই।’ সিদ্ধান্তটি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনো ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সময়টা এসে গেছে—এমন উপলব্ধি থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি।

    ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার মূল দলে অভিষেক মেসির। এরপর জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫ গোল, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ। খেলেছেন রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন মেসি। সেটি ছিল ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ এবং দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়।

    বিশ্বকাপেও একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর। সবচেয়ে বেশি ২৩টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও তাঁর দখলে।

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ অধ্যায় তাই শুধু একটি অবসরের গল্প নয়। দুই দশকের বেশি সময়ের এক বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। আর সেই ক্যারিয়ারকেই এবার দেশের প্রতিটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার মাঠে এক মিনিটের করতালিতে সম্মান জানাবে এএফএ।

  • কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জাতীয় দল তো একদিন ছাড়তেই হতো। বয়সও হয়ে গিয়েছিল ৩৯ বছর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়েছে। তবু কারও কারও কাছে গতকাল রাতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা এসেছে চমক হয়ে। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মেসি প্রকাশের আগপর্যন্ত ব্যাপারটা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে আজই (গতকাল) সেই দিন!

    তাই জল্পনা–কল্পনা এখনো থামেনি। মেসি কেন এখন অবসর ঘোষণা করলেন, উঠছে সে প্রশ্নও। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের ৪৩ দিন আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। এ তথ্যের সঙ্গে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নেওয়া যায়।

    মেসি তাঁর অবসরবার্তার শেষ অংশে লিখেছেন, ‘এই (অবসরবার্তা) কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার ঘটনার পর আজ (গতকাল) আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

    বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৯ দিন। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১–০ গোলে হারের পর সেই সিদ্ধান্ত আরেকটু পাকা হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

    মেসি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। বাবাকে হারানোর পর স্বীকার করেছিলেন, তাঁর শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সতীর্থদেরও ইঙ্গিত ছিল যে মেসির অবসরের দিন ঘনিয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট যেমন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস বুঝিয়ে দেন, জাতীয় দলে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মেসি। আর সেই ম্যাচটি হলো বিশ্বকাপের ফাইনাল। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’

    পারেদসের সেই কথা এবং মেসির অবসরবার্তার কয়েকটি কথা মেলালে ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার হয়। অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। তা ছাড়া পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের (জাতীয় দলে) থাকাটা প্রাপ্য।’

    বিশ্বকাপ ফাইনালটা স্মরণ করা যায়। স্পেনের বিপক্ষে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেটাও মেসি মাঠে থাকতে—যেটা তাঁর ক্যারিয়ারেই বিরল ঘটনা।

    ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে সেই বিরল তেতো স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তে কি মেসির মনে হয়েছে, তাঁর আর কিছু দেওয়ার নেই? পাশাপাশি নিকো পাজ–থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণেরাও উঠে এসেছেন। সে জন্যই কি মেসির মনে হয়েছে, সময়টা এখনই? প্রশ্নটি তোলা যায়, কারণ সেই ফাইনালকে জাতীয় দলে নিজের শেষ ম্যাচ বানিয়ে অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়।’

    বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। তার আগে অবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি। অর্থাৎ চার বছরের নতুন একটি বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগের এ সময়কে আকাশি–সাদা জার্সি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে কিংবদন্তির। এই বিরতিতে প্রতিটি জাতীয় দল এক থেকে চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে। লা নাসিওন জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বুয়েনস এইরেসে বিশ্বকাপ রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল এবং মেসিকে সম্মান জানাতে জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। সুতরাং জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে অন্তত আরও একবার মাঠে দেখার সম্ভাবনা আছে।লা নাসিওন আরও জানিয়েছে, ২৩ দিন আগে বাবার মৃত্যু মেসির এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘আমি আর কত দিন ফুটবল চালিয়ে যাব, এখন তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’ আরও একটি কারণ অনুমান করা যায়। জাতীয় দলে যে প্রজন্মের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, সেই দলটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটির বেশ কয়েকজন সতীর্থের ক্যারিয়ারের চক্র শেষের পথে, দল পুনর্গঠন করতে হবে। এমনকি আগামী ডিসেম্বরের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির থাকা নিয়েও সংশয় আছে।পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ দীর্ঘ বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। সে হিসাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্ট ২০২৮ কোপা আমেরিকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত মাঝের এই দুই বছরে নিজের বয়স আরও ভারী করে সে পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে চাননি।

    এএফএর অনেকেই আশা করেছিলেন, মেসি জাতীয় দলে আরও কিছুদিন খেলবেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ স্মৃতিটি কোনো হেরে যাওয়া ফাইনাল যেন না হয়, সেটা ছিল এই আশার পেছনের কারণ। অন্তত কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলবেন, এই আশাও করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু মেসিকে জানা থাকলে একটি বিষয় ভেবে নেওয়াই যায়। জাতীয় দলে সব সময় নিজের সেরাটা দিতে পারেন—এই বিশ্বাস সব সময়ই ছিল মেসির। দুই বছর পর কোপায় সেটা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কি সন্দেহে ভুগেছেন? মেসির অবসরবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবসরবার্তাতেই বলে দিয়েছেন, ‘নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি।’

    অর্থাৎ আর দেওয়ার কিছু নেই? সেটা মেসি বুঝেছেন বলেই কি সরে দাঁড়ালেন!

  • ‘তুমি পড়ে গিয়েছ, আবার উঠে দাঁড়িয়েছ’—মেসিকে আন্তোনেলা

    ‘তুমি পড়ে গিয়েছ, আবার উঠে দাঁড়িয়েছ’—মেসিকে আন্তোনেলা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনা দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায় ঘিরে আবেগে ভাসছে পুরো ফুটবলবিশ্ব। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেওয়ার পর সতীর্থ, সমর্থক ও স্বজনদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এবার স্বামীকে উদ্দেশ করে হৃদয়ছোঁয়া এক বার্তা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতনের কথা স্মরণ করেছেন আন্তোনেলা। একই সঙ্গে একজন ফুটবলার ও বাবা হিসেবে মেসির প্রতি নিজের গর্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘তোমাকে এভাবে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে দেখে কী যে গর্ব হচ্ছে। কত বছর, কত মুহূর্ত, কত আনন্দ, আর কত প্রতিকূলতাও ছিল।’

    মেসির জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলায় সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়ও খুব কাছ থেকে দেখেছেন আন্তোনেলা। আর্জেন্টিনার হয়ে একের পর এক ব্যর্থতার পরও কীভাবে মেসি লড়াই চালিয়ে গেছেন, সে কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।

    আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, পড়তে দেখেছি, আবার উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন পরিস্থিতি তোমার অনুকূলে ছিল না, তখনও তোমাকে লড়ে যেতে দেখেছি এবং সব সময় আবার চেষ্টা করতে দেখেছি। আর এত বছর পর, তোমার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের কিছু মুহূর্ত উপভোগ করতে দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে।’

    তবে মেসির ফুটবলজীবনের চেয়েও একটি বিষয় আন্তোনেলাকে বেশি আবেগাপ্লুত করেছে—তাঁদের তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো বাবার পুরো যাত্রাটির সাক্ষী হয়ে বড় হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে আন্তোনেলা লিখেছেন,‘তবে এই পুরো গল্পের একটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়—আমাদের সন্তানরা নিজের চোখে এসবের সাক্ষী হয়ে বড় হয়েছে। তারা তাদের বাবাকে নিজের চাওয়া পূরণের জন্য লড়তে দেখেছে, কখনো হাল না ছাড়তে দেখেছে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখতে দেখেছে। এরপর তারা নিজের চোখেই দেখেছে, তাদের বাবা সবকিছু অর্জন করেছেন এবং বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছেন।’

    আন্তোনেলার মতে, সন্তানরা হয়তো এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি তাদের বাবা মাঠে কতটা অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন। তবে একজন বাবা হিসেবে মেসিকে নিয়ে তাদের গর্বের কোনো কমতি নেই, ‘হয়তো একদিন তারা সত্যিকার অর্থেই বুঝতে পারবে তোমার গল্পের বিশালতা। আজ তারা শুধু তাদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত।’সবশেষে স্বামীকে উদ্দেশ করে ভালোবাসা ও গর্বে ভরা বার্তা দিয়েছেন আন্তোনেলা, ‘আর আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার পথচলা নিয়ে, তুমি যেসব বাধা অতিক্রম করেছ সেসব নিয়ে এবং সবকিছুর চেয়েও বেশি—প্রতিটি মুহূর্তের আড়ালে থাকা মানুষটিকে নিয়ে। তোমার পাশে থেকে এই সবকিছুর অংশ হতে পারা কত বড় সৌভাগ্যের। আমরা তোমাকে অসীম ভালোবাসি।’

  • আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব কীর্তি রেখে গেলেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব কীর্তি রেখে গেলেন মেসি

    ক্রীড়াডেস্ক:

    যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত এই পঙ্‌ক্তিই লিওনেল মেসি আজ সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে গোল, শিরোপা জয়ের পর তাঁর উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন আর দেখা যাবে না।আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের কাঁদিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মেসি। ক্যারিয়ারে অজস্র রেকর্ড গড়ে পেয়েছেন ‘রেকর্ডের বরপুত্র’ উপাধি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৮ গোলে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে পূরণ করেছেন তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্ন। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ২৩ মিনিট পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ২ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। স্প্যানিশ গানে তৈরি সেই ভিডিওতে তুলে ধরেছেন তাঁর ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। চলুন, এবার জেনে নিই, তিনি কী কী কীর্তি ও রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা দলকে বিদায় বলেছেন।

    আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির রেকর্ড ও কীর্তি

    আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ১২৫

    আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা: ২০৭

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক: ১১

    এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল: ২০২২ সালে ১৮টি

    দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৩১টি

    ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোল: সরাসরি ফ্রি-কিকে ১২ গোল

    বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড

    অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ১৯

    আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়: ২০০৬ সালে ১৮ বছর বয়সে

    আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়: ২০২৬ সালে ৩৮ বছর বয়সে

    জাতীয় দলে বড় শিরোপা

    ফিফা বিশ্বকাপ: ২০২২

    কোপা আমেরিকা: ২০২১, ২০২৪

    কনমেবল-উয়েফা কাপ অব চ্যাম্পিয়নস (ফিনালিসিমা): ২০২২

    অলিম্পিক স্বর্ণপদক: ২০০৮

    আবেগঘন এক বার্তায় মেসি আজ সামাজিক মাধ্যমে দিয়েছেন অবসরের ঘোষণা। তবে এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়ে রেখেছিলেন ২১ জুলাই। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারার পর মেসির দুচোখ বেয়ে যেভাবে পানি পড়ছিল, আজ তাঁর পোস্টেও যেন সেটারই ছাপ দেখা গেছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে একবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর হতাশায় আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৯ বছর। কিন্তু এবার তাঁর বয়স হয়েছে ৩৯ বছর। ২০১৬ সালের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

  • ফুটবল হারাল তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

    ফুটবল হারাল তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণায় স্তব্ধ হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনার হয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার খবরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম দেখছে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে।

    সোমবার সন্ধ্যায় আবেগঘন এক বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। এই সিদ্ধান্ত তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান এই ফরোয়ার্ড। তবে দেশের জন্য নিজের দেওয়ার মতো সবকিছুই দিয়ে ফেলেছেন বলে মনে করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদপত্র ওলে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্টকে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে দেখেছে। তাদের মতে, এই দিনেই মেসি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন নিজের অতুলনীয় উত্তরাধিকার।

    পত্রিকাটি মেসির বিদায়ী বার্তার ব্যক্তিগত আবহের কথাও তুলে ধরেছে। জাতীয় দলকে ভালোবাসতেন এবং সবসময়ই ভালোবাসবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেসি জানিয়েছেন, মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নয়, এবার বাইরে থেকে একজন সমর্থক হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনার পাশে থাকবেন, সুখের সময়েও, কঠিন সময়েও।

    মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে নতুন এক অধ্যায় শুরু হচ্ছে বলেও মনে করছে ওলে। তার অবসর শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির পরবর্তী দল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা মেসির অবসরকে বিশ্বজুড়ে বোমা ফাটানো খবর বলে মন্তব্য করেছে। আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটালেন তিনি। শিরোপা ও রেকর্ডে ভরা সেই যাত্রার পরিসংখ্যানও সহজে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

    আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। জাতীয় দলের ইতিহাসে তিনিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো মেসিকে অভিহিত করেছে সেরাদের সেরা হিসেবে। তাদের মতে, ‘ফুটবল বিশ্বে বোমা ফাটানো খবর। সুন্দর এই খেলার ইতিহাসে অনেকের চোখে সর্বকালের সেরা ফুটবলার ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি সদ্য আর্জেন্টিনার দলের হয়ে খেলা থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।’

    ইতালির লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত মেসির সিদ্ধান্তকে দেখেছে অন্য এক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের কাছে এটি ছিল বেদনাদায়ক তবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।

    মেসির বক্তব্য তুলে ধরে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই, আর সামনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষটা হয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং দুবারের কোপা আমেরিকা জয়ী হিসেবে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক শিরোপার অপেক্ষার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় শিরোপার খরা কাটিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ জিতে পূর্ণতা পায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

    ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপ গুরুত্ব দিয়েছে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতি ক্যারিয়ারকে। দুই দশকের বেশি সময় জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার পর ৩৯ বছর বয়সে অবসরে যাচ্ছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি এখনও তাঁকে ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও নিজের বার্তায় জানিয়েছেন মেসি।

    ফরাসি ওয়েবসাইট ফুট মার্কাতো লিখেছে, ‘মেসির অবসর আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।’ তাদের মতে, ফাইনালে একের পর এক হতাশার পর ২০২১ সালে মেসির শিরোপার খরা কাটানোই আর্জেন্টিনার সোনালি এক যুগের শুরু; যার চূড়ান্ত পরিণতি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়।

    ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরও আবেগঘন ভাষায় মেসির বিদায়কে তুলে ধরেছে। তাদের শিরোনাম, ‘মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন: ফুটবল তার আত্মার একটি অংশ হারাল।’

    আর্জেন্টিনার টিএনটি স্পোর্টস মেসিকে বিদায় জানিয়েছে, ‘তুমি একজন মহান, অধিনায়ক।’ খবরটি সরাসরি দর্শকদের জানাতে গিয়ে বিশ্লেষক পাবলো হিরালতকে চোখের জল সামলাতেও দেখা গেছে।

    ২০১৬ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। সেই ঘটনার স্মৃতি টেনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান শিরোনাম করেছে, ‘মেসি আবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।’ অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটালেন মেসি।’জার্মানি

    র ‘বিল্ড’-এর শিরোনাম ছিল সংক্ষিপ্ত—‘ফুটবলে বিস্ময়: জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন মেসি।’ পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা’ও একে বলেছে ‘ফুটবল বিশ্বে বোমা ফাটানো খবর’ এবং মেসির সিদ্ধান্তকে অভিহিত করেছে ‘একটি যুগের সমাপ্তি’ হিসেবে।

    জার্মান সংবাদপত্র ডি সাইট-এর মতে, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের ৪৩ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের মাত্র দুই দিন পরই, ২১ জুলাই নিজের অবসরের বার্তাটি লিখেছিলেন তিনি। তবে সেটি প্রকাশের আগে অপেক্ষা করেন আরও কিছুদিন।

  • বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কুইন সুলিভানকে চড় মারার ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসিকে। তবে জরিমানার পরিমাণ প্রকাশ করেনি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ২০ আগস্ট ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের শেষ দিকে সুলিভানের মাথার পেছনে চড় মারেন মেসি। বল খেলার পর সুলিভান তাঁকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন—এমন অভিযোগ করতে গিয়ে ওই ঘটনার সূত্রপাত। মেসির চড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান সুলিভান। পরে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    এই ম্যাচে মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় ছিলেন মেসি।

    সুলিভানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মেসিই একমাত্র শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড় নন। মায়ামির ইয়ান ফ্রেকেও জরিমানা করা হয়েছে। বক্সের মধ্যে সুলিভান পড়ে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরেছিলেন ফ্রে।

    উত্তপ্ত ম্যাচটিতে যোগ করা সময়ে দুটি লাল কার্ডও দেখা যায়। মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে পর্যালোচনার পর কাভানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    এদিকে, ইস্টার্ন কনফারেন্সে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।

    বাবার মৃত্যুর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। বাবাকে স্মরণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ইঙ্গিত দেন, ফুটবলে তাঁর পথচলা হয়তো আর খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।

  • পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    মাঠে ছিলেন না লিওনেল মেসি, তবে তার উপস্থিতি যেন অনুভব করল পুরো স্টেডিয়াম। গোল করে জার্সি খুলতেই রদ্রিগো ডি পলের গায়ে দেখা গেল মেসির ১০ নম্বরের জার্সি। শোকাহত অধিনায়ক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং সমর্থনের এই বার্তা ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

    ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি (৬৮)। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে তড়িঘড়ি করে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমানায় মেক্সিকান ক্লাব মন্তেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।

    মেসির বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুই দল। গ্যালারিতেও মেসির প্রতি সমর্থন জানাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন মায়ামির সমর্থকেরা। সেসব বার্তায় লেখা ছিল, ‘শক্ত থাকো, লিও।’ এরপর ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানান ডি পল। পেনাল্টি বক্সের বেশ বাইরে থেকে জোরালো শটে মন্তেরের গোলরক্ষক লুইস কার্দেনাসকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

    গোলের পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন ডি পল। আর তখনই তার পরনে থাকা গেঞ্জিতে ফুটে ওঠে মেসির ১০ নম্বরের প্রতীক। মেসির অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ হিসেবে পরিচিত ডি পলের এই উদযাপনকে শোকাহত বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ও বাবার অসুস্থতার কারণে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সেই সময় তার পাশে ছিলেন ডি পল। এবার ক্লাব ফুটবলেও বন্ধুর সবচেয়ে কঠিন সময়ে আবেগঘন এই শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। তবে ডি পলের গোল শেষ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে হুগো কুইপার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্তেরে। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে দিয়েগো রসি গোল করলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকান ক্লাবটি।

  • মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন। একাধিক আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম গোলডটকম।

    আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ইনফোবায়ে এবং রোসারিও৩ নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

    গত জুনে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মেসি। ম্যাচের পর নিজের কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কয়েকটি কঠিন দিনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

    এরপর মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে মেসি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গুজব ও জল্পনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসি ও তার স্বজনদের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধও করা হয়েছিল। তবে এবার এখনও মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।

    ছোটবেলা থেকেই ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হোর্হে মেসি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালে লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় যাওয়ার পথ তৈরি করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ফুটবল খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন হোর্হে মেসি।

  • মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। বৃষ্টিস্নাত রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় পায় ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে লিগ কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে উঠে এলেন মেসি।

    ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে ওই এলাকায় বজ্রপাতের কারণে খেলা ৩০ মিনিট বিলম্বিত হয়।

    মেসি ম্যাচের ১১ ও ৪৪তম মিনিটে গোল করেন। ১২টি লিগ কাপ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১৪টি—যা টুর্নামেন্টের চার বছরের ইতিহাসে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বোয়াঙ্গার চেয়ে এক গোল বেশি এবং এর মাধ্যমে তিনি এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    মেসি বাদেও তেলাস্কো সেগোভিয়া এবং ডিফেন্ডার মাইকায়েল একটি করে গোল করেছেন এবং নোয়াহ অ্যালেন তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এর সুবাদে টানা ৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো ইন্টার মায়ামি।

    এদিন বিশ্বকাপের পর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলেছিলেন, তবে লা আলবিসেলেস্তেরা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা শনিবার কলম্বাস ক্রুর সাথে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৩৭ মিনিট মাঠে ছিলেন।

    কলম্বাসের বিপক্ষে গোলবঞ্চিত থাকার পর, বুধবার প্রভাব বিস্তার করতে মেসির বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় ডেভিড রদ্রিগেজ হেডে গোল করে সান লুইসকে এগিয়ে নেওয়ার পর, অ্যালেনের বাড়ানো একটি লম্বা ক্রস থেকে আন্দ্রেস সানচেজকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে তিনি খুব কাছ থেকে ফিনিশ করে আরও একটি গোল করেন এবং স্টপেজ টাইমে মাইকায়েলের হেডে করা গোলেও অ্যাসিস্ট করেন।

    ২০২৩ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরপরই মেসি মায়ামিকে লিগ কাপের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ইন্টার মায়ামি গত বছরও ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে সিয়াটলের কাছে তারা ৩-০ গোলে হেরে যায়।

  • ‘মেসিই সর্বকালের সেরা’, বললেন পিকে

    ‘মেসিই সর্বকালের সেরা’, বললেন পিকে

    ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লড়াই। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করা এই দুই মহাতারকার দ্বৈরথকে এবার ফুটবলের সেরা অধ্যায়গুলোর একটি বলে অভিহিত করেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে।

    ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী এই স্প্যানিশ তারকা মনে করেন, মেসি ও রোনালদোর অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আধুনিক ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসেও দুই তারকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার সক্ষমতা তাকে মুগ্ধ করেছে।

    কিংস লিগের এক অনুষ্ঠানে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে মেসি ও রোনালদো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ফুটবল দক্ষতা দিয়ে অবিশ্বাস্য এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিয়েছেন। এখন তারা ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও এই বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি, তারা এখনও বড় মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর ক্ষমতা রাখে।’

    ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মেসি ও রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। মেসি তার অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলতা ও ক্ষুদ্র পরিসরে ড্রিবলিং দক্ষতার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে রোনালদো গতি, শারীরিক শক্তি, নিখুঁত ফিনিশিং ও গোল করার দুর্দান্ত সামর্থ্যের মাধ্যমে নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতায় পরিণত করেছেন।

    এই ভিন্নধর্মী দুই ফুটবল দর্শনই প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিয়েছে। নিজেদের স্বতন্ত্র দক্ষতা ও ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তারা ফুটবলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ভিন্ন ভিন্ন পথও দেখিয়েছেন।

    তবে পিকের কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার একজনই—লিওনেল মেসি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপেও মেসি আবার প্রমাণ করেছে যে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় সে-ই।’

    যদিও এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিততে পারেনি, তবুও পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি আটটি গোল করেছেন, চারটি গোলে সহায়তা করেছেন এবং দলের আটটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন।

    মেসির অবদান নিয়ে পিকে বলেন, ‘সে অনেক গোল করেছে এবং দলকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে না পারলেও, তার অর্জন নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো।’

  • মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    মেসির খুব কাছের মানুষদের একজন পারেদেস। এলএমটেনের জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। পিএসজিতেও দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। তাই পারেদেসের মুখ থেকে মেসির অবসর ভাবনার কথা উঠে আসায় তা বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্ট দেয়, কারণ বিশ্বকাপজুড়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাইনি মেসি শেষ ম্যাচটি আসুক। আমার মনে হয়, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতীয় দলের হয়ে সেটিই (বিশ্বকাপ ফাইনাল) ছিল তার শেষ ম্যাচ।’

    তবে পারেদেসের আশা, আপাতত অবসরের বিষয়টি একপাশে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি, ‘আশা করি, এমনটা হবে না। আশা করি, সে আরও খেলতে পারবে। সিদ্ধান্তটা তারই হবে। সে যা করলে খুশি থাকবে, সেটাই আমাদের জন্যও আনন্দের হবে।’

    মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন পারেদেস। আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি, ‘আমি জানি না, এটা একটা প্রক্রিয়া। আমাদের বিষয়টি হজম করতে হবে, ভাবতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

    পারেদেস আরও যোগ করেন, ‘অনেকের জন্যই চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। এটা ছিল সুন্দর, অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছি। এই পর্যায় ধরে রাখা এবং দলকে এভাবে কার্যকর রাখা কঠিন হবে। আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

  • থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    চার বছর আগে আর্জেন্টিনা যখন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, তখন সবাই ধরে নিয়েছিল সেটিই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন মেসি। স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও সবুজগালিচায় মেসি ছিলেন ফুটবলের শিল্পী। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩। এই বয়সে বিশ্বমঞ্চে তাঁকে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কিংবদন্তি মেসিকে না পেলেও আগামী বিশ্বকাপে তাঁর ছেলে থিয়াগোকে আকাশি-নীল জার্সিতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইনরা।

    মেসির বড় ছেলে থিয়াগোর বর্তমান বয়স ১৩। তার এই বয়সের কারণেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে একটা গাণিতিক হিসাব বেশ নজর কেড়েছে, যা ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০৩০ সালের আসরটি বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তির আসর। ততদিনে রোজারিওতে জন্ম নেওয়া ফুটবলের মহাতারকা মেসির জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো প্রাপ্তবয়স্ক হবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরে পা দেবে ১৮ বছরে। তাই থিয়াগো মেসিকে নিয়ে স্বপ্নটা দেখছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা।

    সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা একটি গাণিতিক হিসাব নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সবচেয়ে আশাবাদী সমর্থকরা বলছেন, থিয়াগো যদি তার নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খুব দ্রুত পেশাদার ফুটবলে পা রাখতে পারে, তবে জাতীয় দলে বাবার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়। ১৩ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার বর্তমানে ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমি থেকে ফুটবলের প্রথম পাঠ নিচ্ছে। ফ্লোরিডার এই একাডেমিতে তার পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন ভক্তরা, যারা এই মেসি পরিবারের রাজত্বকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চান।

    যদিও বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির বর্ণিল সময়ের মধ্যেই থিয়াগোর জন্ম, তবুও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ এই ফুটবলার নিজের স্পষ্ট অবস্থান বেশ কয়েকবার প্রকাশ করেছে। চাইলে স্পেনের জার্সিতে খেলতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো নিজেই জোর দিয়ে বলেছে, বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। এককথায় বলা যায়, জাতীয় দলের হয়ে বাবার সঙ্গে একই দল বা মাঠে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা ২০৩০ আসরকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মেসি পরিবারে ফুটবলের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা দেখা যায়। তিন ভাই থিয়াগো, মাতেও ও চিরো– তিনজনেই তাদের শৈশবে ফুটবলের প্রাথমিক স্তরে খেলছে এবং অল্প বয়সেই নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছে।

    বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থিয়াগো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবল খেলছে এবং দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে। তবে ভক্ত থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকরা সবাই উচ্চপর্যায়ের ফুটবলের কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন। তারা মানেন, তাদের বাবার অর্জিত কিংবদন্তিতুল্য উচ্চতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। সমর্থকদের উদ্দেশে কেবল একটি চমৎকার সম্ভাবনা উপভোগ করা, তরুণ থিয়াগোর ওপর তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই কোনো অতিরিক্ত চাপ বা দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়। আপাতত সময়ই বলে দেবে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এই রঙিন স্বপ্ন সত্যি হবে কিনা।

  • সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কার্যালয়ের জাদুঘরের গ্যালারিতে যে কটি দলগত ছবি রয়েছে, কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি তাতে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারার মেলায় কিছু তারকাকে যেমন খুব সহজে আলাদা করা যায়, দেশটির ফুটবল আকাশে তেমনই উজ্জ্বল নক্ষত্র তারা। ম্যারাডোনাকে আবর্তিত করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জিতেছেন সার্জিও বাতিস্তা, মার্সেলো বোচিনিরা। সময়ের সেরা দল ছিল সেটি। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত তৈরি হয়েছিল ম্যারাডোনাকে দেখে। টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ম্যারাডোনার বিদায়ের পর সাদামাটা একটি দলে পরিণত হয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।

    লিওনেল মেসির দলটিকে দেশটির ফুটবলের সোনালি প্রজন্ম বলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের খেলোয়াড়দের দলগত ছবি দেখলে সমর্থকদের চোখে খেলে খুশির ঝলক। কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিয়ে এই দলটিকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন মেসি। এই সোনালি প্রজন্মের দলেও হয়তো বিচ্ছেদের রাগিণী বাজবে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ, পরের বিশ্বকাপ নিয়ে এখন থেকেই যে ভাবতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মেসি ৩৯ বছর বয়সে খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মায়ামিতে। তিনি চাইলে জাতীয় দলে আরও দুই বছর খেলতে পারবেন অনায়াসে। তবে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখা বেশি কিছু চাওয়া। কারণ, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। ওই বয়সে বিশ্বকাপের মতো হাইভোল্টেজ টুর্নামেন্টে খেলা ভীষণ কঠিন। মেসির মতো কিংবদন্তি অতটা স্বার্থপর না হওয়ারই কথা। আর তাঁর না খেলা মানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে এক সুতায় বেঁধে রাখা কঠিন। দেশটির বর্তমান দলে মেসি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো তারকা নেই। তাই নতুন ম্যারাডোনা বা নতুন মেসির খোঁজ করতে হবে তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনাকে। সোনালি প্রজন্মের দল থেকে এক-দুই বছরের মধ্যেই মেসি, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোদের সময় ফুরিয়ে যেতে পারে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নতুন তারকার খোঁজ করতে হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

    যদিও স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে কোচ মিডিয়ায় বলেছেন, ‘এখন ওর বয়স ৩৯ বছর। এককথায় সে অবিশ্বাস্য। তার থেকে আমি নতুন কিছু আর বের করতে পারব না। এই কথা আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি। মেসি যত দিন চায় খেলে যেতে পারে। সব সমর্থক, সতীর্থ তাঁর পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত, প্রত্যেকে ওকে নিয়ে গর্বিত। ও যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’

    আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিকে অভিজ্ঞ আর তরুণ খেলোয়াড়ে ভারসাম্য এনেছিলেন কোচ। যেখানে হেভিওয়েট খেলোয়াড় মেসি। বাকিরা সাধারণ। ক্লাব ফুটবলে তাদের প্রভাব থাকলেও মেসিকে ছাড়া কখনও খেলেনি। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর্জেন্টিনাকে বিকল্প ভাবতে হতে পারে শতবর্ষী বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। যদিও এই দল নিয়েই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। সদ্য শেষ হওয়া উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের রানার্সআপ তারা। শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিতে ফাইনাল খেলে রানার্সআপ দুবার। কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে দুবার।

    সাফল্যে মোড়ানো এই দলটিকে কোচ হয়তো এক সুতায় বেঁধে রাখার চেষ্টা করবেন আরও কিছুদিন। কারণ, মেসিদের সাফল্যে সফল তিনিও। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ কোচ স্কালোনির এই দলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুয়ান মুসো। মিডফিল্ডে লিওনার্দো বালেরদি, গঞ্জালো মন্তিয়েল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা, নাহুয়েল মলিনা। মিডফিল্ডে ভালেন্তিন বার্কো, জিওভান্নি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেজ, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকোলাস পাজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, লাউতারো মার্তিনেজরা হয়তো দলকে এগিয়ে নেবেন। তবে সময়ের আবর্তে একটি-দুটি তারা ঝরে পড়া স্বাভাবিক। সেখানে গোলক্ষক হেরোনিমো রুইয়ি, মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঢুকে যেতে পারেন সেই ঝুঁকির তালিকা।

  • মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত কোটি ভক্তের মতোই স্পর্শ করেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশীকে। ম্যাচশেষে মেসির কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার এ অভিনেত্রী পোস্টের শুরুতেই মেসির প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সব সময় ভালোবাসব। তুমি সর্বকালের সেরা। মেসি, তুমি দয়া করে কেঁদো না।’

    নিজেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক উল্লেখ করে শশী লেখেন, জীবনে সবাই সবকিছু পায় না—এটাই বাস্তবতা। তাই একটি পরাজয় কখনোই মেসির অসাধারণ অর্জন ও কিংবদন্তি মর্যাদাকে ম্লান করতে পারে না। তার ভাষায়, ‘আজকের দিনটি হয়তো তোমার ছিল না। কিন্তু তাই বলে তুমি কোনো অংশেই কম নও। তোমার ছোট ছোট অপূর্ণতাগুলোই তোমাকে আরও সুন্দর করে তোলে।’

    ফাইনাল শেষে স্পেন যখন শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, তখন নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘স্পেন যখন উদ্‌যাপনে ব্যস্ত ছিল, আমি দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের পর্দায় শুধু ১০ নম্বর জার্সিটির দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। আমার চোখ সেখানেই আটকে ছিল।’

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মেসির নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে শশী বলেন, জয়-পরাজয়কে কীভাবে গ্রহণ করতে হয়, তা মেসিই শিখিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ধন্যবাদ জানান।

    স্ট্যাটাসের শেষেও মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অটুট ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শশী লেখেন, ‘আজকের দিনটা একসময় হারিয়ে যাবে, কিন্তু মেসি কখনো হারিয়ে যাবে না। তাই এখনো আমার কণ্ঠে একটাই ধ্বনি—মেসি সর্বকালের সেরা, আর সেরা আর্জেন্টিনা।’

    শশীর এই আবেগঘন স্ট্যাটাসে আর্জেন্টিনা ও মেসির অসংখ্য সমর্থক একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, একটি হার কখনোই লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ার বা তার প্রতি ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারবে না।

  • মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর উচ্ছ্বাসের মধ্যেও প্রতিপক্ষের কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সি সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি।

    শৈশব থেকেই মেসিকে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে আসা কুবারসি বলেন, প্রিয় খেলোয়াড়কে পরাজিত হতে দেখা তার জন্য সহজ ছিল না। তার ভাষায়, ‘তিনি আমার আদর্শ। তাই তাকে এভাবে হারতে দেখা আমার ভালো লাগেনি।’

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার প্রতি কুবারসির এই আবেগঘন মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • সবকিছুই মেসির, শুধু ট্রফিটা স্পেনের

    সবকিছুই মেসির, শুধু ট্রফিটা স্পেনের

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮০,৬৬৩ জন দর্শকের সিংহভাগই এসেছিলেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে—লিওনেল মেসিকে আরও একবার বিশ্বজয়ী হিসেবে দেখার জন্য। নিয়তি হয়তো স্ক্রিপ্টটা অন্যভাবে লিখেছিল। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যখন স্প্যানিশ উল্লাস, তখন মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ৩৯ বছর বয়সি ফুটবল জাদুকর চোখের জল ফেলছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালটা লিওনেল মেসির হাতে আরো একটি ট্রফি তুলে দেয়নি সত্যি; কিন্তু বিধাতা তাকে সব দিয়েছেন, যার নাম ‘অমরত্ব’। স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হার আর্জেন্টিনার জন্য হৃদয়ভঙ্গ হলেও ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য এটি ছিল এক কিংবদন্তির গৌরবময় ‘বিদায়ের মহাকাব্য’!

    কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো তরুণ তুর্কিদের গতি আর শক্তির বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের মেসি খেলেছেন স্রেফ মস্তিষ্ক দিয়ে। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯ গোলের ১২টিই এসেছে তার পা ছুঁয়ে (আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট)। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হাঁকিয়েছেন দারুণ এক হ্যাটট্রিক। ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পের (১০ গোল) চেয়ে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে থেকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রানার্সআপ হয়েছেন ইন্টার মিয়ামির এই মহাতারকা। বয়স যে স্রেফ একটি সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ‘এলএমটেন’।

    এ বিশ্বকাপে মেসির আরেকটি লড়াই ছিল ইতিহাসের পাতায় নিজের অবস্থান আরো শক্ত করার। টুর্নামেন্ট চলাকালে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে উঠেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে আবার শীর্ষস্থান দখল করেন। মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা থেমে যায় ২১-এ।

    এবারের বিশ্বকাপে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিসংখ্যানকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করেছেন; ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে অধিনায়কত্ব করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৩ গোলে অবদান এবং ১২ অ্যাসিস্টের মালিকও এখন এই মেগাস্টার। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ২০০ ম্যাচের এলিট ক্লাবে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন। গোল পেয়েছেন ১২৫টি।

    সংখ্যা বা পরিসংখ্যান দিয়ে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গভীরতা মাপা অসম্ভব। ২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেকের পর দীর্ঘ একটা সময় তাকে তীব্র সমালোচনা ও অপবাদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ এবং পরে টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়ের নিষ্ঠুর আঘাত সইতে না

    পেরে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। তবে সেই অভিমানী বিদায় স্থায়ী হয়নি। রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির ছোঁয়ায় বদলে যায় আর্জেন্টিনার ফুটবলের পুরো দৃশ্যপট। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, ২০২২ সালের স্বপ্নের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ে মেসির হাত ধরেই আলবিসেলেস্তেরা প্রবেশ করে সাফল্যের এক অবিস্মরণীয় স্বর্ণযুগে।

    ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের বিষাদ ছুঁয়ে গেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথাতেই লুকিয়ে ছিল আসল সত্য, ‘মেসি ফুটবলকে যা দিয়েছে, একটি ম্যাচ বা একটি ট্রফি দিয়ে তার পরিমাপ অসম্ভব।’

    ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠে হাত রেখে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন মেসি। চার বছর আগে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় আর টানা দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের পর এই হার যেন মেনে নেওয়া কঠিন ছিল ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য। লা লিগা ও পিএসজির পাট চুকিয়ে তিন বছর আগে যখন তিনি এমএলএস-এ যোগ দেন, অনেকেই ভেবেছিলেন তার ক্যারিয়ারের শেষ। কিন্তু এই বিশ্বকাপেও ৮ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে টেনে এনেছেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে লামিনে ইয়ামালরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেও মেসির চোখে-মুখে ছিল রাজ্যের হতাশা। রানার্স-আপ মেডেল নেওয়ার সময় স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দেওয়া ‘গার্ড অব অনার’-এর ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় জোড় করে একটু হাসার চেষ্টা করলেও তা মলিন হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই মেসির শেষ ম্যাচ কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি জানান, মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনো তাদের কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি যোগ করেন, ‘সবাই যেন তাকে নিয়ে গর্ববোধ করে, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।’

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটাই যদি মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ বিশ্বকাপ হয়ে থাকে, তবে কাপ না পাওয়ার আক্ষেপ ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে এক বুড়ো জাদুকরের অদম্য লড়াইকে। যিনি ট্রফি ছাড়াই ফুটবল মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন সর্বকালের সেরা বা ‘গোট’ হিসেবে।

    স্পেনের এই জয়ের দিনে ফুটবল বিশ্ব যেমন লামিনে ইয়ামালের মতো ১৯ বছর বয়সী নতুন এক তারকার উত্থান দেখল, ঠিক তেমনি দেখল এক কিংবদন্তির ট্র্যাজিক এবং অশ্রুসিক্ত অধ্যায়। কনফেত্তির সোনালী আলোয় যখন স্পেন মেতে উঠেছিল উল্লাসে, তখন কাঁধ ঝুঁকিয়ে গ্লানিভরা মুখে মাঠ ছাড়ছিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।

  • ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে ফাইনালেই। তবে পরাজয়ের বেদনার মাঝেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাতে ভোলেননি লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেসি লিখেছেন, “ব্যথাটা অনেক গভীর এবং এই ক্ষত শুকাতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু আমি ভালো স্মৃতিগুলোকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই।”

    টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার নামের পাশে এখন ২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট।

    তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত সাফল্যই যে তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই ফুটে উঠেছে পুরো বার্তাজুড়ে। তিনি লিখেছেন, “যে ম্যাচগুলোতে আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, সেগুলো চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন এবং এই দলের পরিশ্রম আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে জায়গা করে দিয়েছে। আজ আমরা যা করেছি, তার মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে।”

    সমর্থকদের উদ্দেশেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, “প্রতিটি শুভেচ্ছা এবং বার্তার জন্য হৃদয় থেকে অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা দেশ হিসেবে একত্রিত হতে পেরেছি এবং সবাই একসঙ্গে আর্জেন্টাইন হওয়ার বিশাল গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।”

    নিজেদের স্বপ্নভঙ্গের মাঝেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। পোস্টের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, “আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।”

    ফাইনালের পর মেসির এই বার্তা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। হতাশা, কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান—সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এই পোস্টকে অনেকেই একজন সত্যিকারের কিংবদন্তির ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

  • এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    স্পেনের উল্লাসে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে। কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই উৎসবের মধ্যেও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলো লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আলিঙ্গন। মুহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়। একজন নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যজন সদ্য হারানো স্বপ্নের ভারে নুয়ে পড়া কিংবদন্তি; দুই প্রজন্মের এই সাক্ষাৎ ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।

    অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পর যখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত স্প্যানিশ ফুটবলাররা, তখন ইয়ামাল সবার কাছ থেকে সরে গিয়ে মাঠের এক পাশে বসে থাকা লিওনেল মেসির দিকে হাঁটতে শুরু করেন।

    ৩৯ বছর বয়সি মেসি তখন নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ের বেদনায় ডুবে ছিলেন। ইয়ামাল তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মেসি উঠে দাঁড়ান। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছুক্ষণ ব্যক্তিগত কথা বলেন। কী কথা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি কেউ। তবে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

  • মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজার আগে গ্যালারির প্রতিটি চোখ একবার হলেও খুঁজে নেবে একটা মুখ। সেটি আর কেউ নন। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ঊনচল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে দাঁড়ানো এই মানুষটার জন্য রাতটা যেন এক দীর্ঘ জীবনের বৃত্ত পূর্ণ হওয়ার মুহূর্ত।


    ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে উনিশ বছরের এক কিশোর হয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপে সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল হেরে চোখের জলে ভাসিয়েছিলেন গোটা আর্জেন্টিনাকে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও গল্পের পূর্ণতা দিতে পারেননি। ২০২২ কাতারে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন। হাতে তুলেছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফি। যা ছিল তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ আক্ষেপ। ২০২৬ সালে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে বসে গেছেন। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা হাতে গোনা কজনের একজন মেসি। তবে রোনালদো নিজের শেষ বিশ্বকাপের কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। মেসি মুখ ফুটে বলেননি এখনো। কিন্তু এই বয়স, এই শরীর নিয়ে চার বছর পর আবার একই মঞ্চে ফেরা কতটা সম্ভবÑউত্তরটা সবাই জানেন, শুধু স্বীকার করতে চান না কেউ।


    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সামান্য পেশির চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল আর্জেন্টিনা শিবির। কোচ লিওনেল স্কালোনি খোলাখুলি কিছু না বললেও, পুরো আসরে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে মেসিকে খেলাতে হয়েছে তাকে। তারপরও মাঠে যা দেখিয়েছেন তিনি, তা রূপকথার কাছাকাছি। এই বিশ্বকাপে করেছেন নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। শরীর হয়তো আর আগের মতো নেই, কিন্তু চোখ আর পায়ের জাদু এখনো অটুট। এই বৈপরীত্যই যেন মেসির শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক।


    আটবার ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। যা আজও কেউ ছুঁতে পারেননি। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে জিতেছেন প্রায় সবকিছু। তবু দীর্ঘদিন সমালোচকরা বলতেন, বিশ্বকাপ ছাড়া তার কীর্তি অসম্পূর্ণ। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেই অপবাদ ঘুচিয়েছিলেন তিনি। আজ যদি আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতে, তাহলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের টানা দুই শিরোপার পর ৬৪ বছরে এই কীর্তি গড়া প্রথম দল হবে আর্জেন্টিনা। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হবেন মেসি নিজেই। ২০১৪ সালে মারাকানায় ফাইনাল হেরে ট্রফির মঞ্চে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা মেসির সেই ছবি আজও ভাসে আর্জেন্টাইনদের চোখে। বছরের পর বছর সেই ব্যর্থতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হেরে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। সেই মানুষটাই আজ ঊনচল্লিশ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আছেন ফাইনালের মঞ্চে। হয়তো শেষবারের মতো। প্রতিটি ম্যাচ এখন তার কাছে যেন বাড়তি এক উপহার। বাড়তি সময়। যা পাবেন কিনা তা নিয়ে নিজেও কখনো নিশ্চিত ছিলেন না।


    মেসির এই দীর্ঘ পথচলায় বড় অনুপ্রেরণা স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। ছোটবেলার বন্ধু থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠা আন্তোনেলা মেসির ছায়া হয়ে ছিলেন সবসময়। ক্লাব ফুটবল হোক বা বিশ্বকাপ-গ্যালারিতে থেকেছেন তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে। ২০২২ সালে কাতারে ট্রফি হাতে মেসির উদযাপনের সেই আইকনিক দৃশ্যে পরিবারের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে আছে। আজ রাতেও, ফলাফল যাই হোক না কেন, গ্যালারির সেই চেনা মুখগুলোই হয়তো সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করবে সময়ের এই বাঁকবদল।
    আর্জেন্টিনার রাস্তায়, বুয়েন্সে আয়েন্সের ক্যাফেতে, রোজারিওর অলিগলিতেÑমেসির জন্মশহর জুড়ে আজ রাতের অপেক্ষা যেন নিঃশ্বাস আটকে রাখা এক উৎকণ্ঠা। আটলান্টার গ্যালারিতে থাকা এক আর্জেন্টাইন সমর্থক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি চান না মেসি অবসর নিন, কারণ তার খেলা দেখে মনে হয় তিনি এখনো পঁচিশ বছরের তরুণ। শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ঢাকার অলিগলি থেকে গ্রামের পাড়া পর্যন্ত নীল-সাদা জার্সির উন্মাদনা প্রমাণ করে মেসি কোনো একটা দেশের সম্পত্তি নন, তিনি গোটা বিশ্ব ফুটবলের।
    দিয়েগো মারাডোনার উত্তরসূরি হওয়ার যে বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন মেসি, সেই তুলনার ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। পেলে-মারাডোনা-মেসি-এই ত্রয়ীর মধ্যে তার নাম উচ্চারিত হয় নির্দ্বিধায়। আর্জেন্টিনা ফাইনাল জিতুক বা হারুক, মেসির কীর্তি ফুটবলের পাতায় খোদাই হয়ে থাকবে চিরকাল। তবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে বসিয়ে দেবে এমন এক মুকুটÑযা তাকে চিরতরে পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাবে। মেটলাইফের কয়েক ঘণ্টা স্রেফ একটা ফাইনাল নয়। এটা একটা বিদায়ের প্রস্তুতি, একটা কীর্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা, আর কোটি ভক্তের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা এক নামের অধ্যায়। যার হয়তো কোনো শেষ নেই।

  • ‘ওরা ভালো খেলেছে, আমি দুঃখিত হার মেনে নিচ্ছি’

    ‘ওরা ভালো খেলেছে, আমি দুঃখিত হার মেনে নিচ্ছি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    “স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, তা ভুলে যাব। আমি আমার দেশের মানুষ, আমার সতীর্থ ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর গলায় রানার্সআপের মেডেল, চোখে অশ্রু আর কণ্ঠে প্রতিপক্ষের প্রতি অকপট স্বীকৃতি—লিওনেল মেসির প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল একই সঙ্গে সৌজন্য ও বেদনা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার রাতে নিজের ব্যর্থতার অজুহাত না খুঁজে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বই মেনে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হার মানে আর্জেন্টিনা।

    ফাইনালে বহু প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং, নিখুঁত মার্কিং ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে তিনি ছিলেন অস্বাভাবিকভাবে নিস্প্রভ। ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটে মেসি মাত্র দুবার বলে স্পর্শ করার সুযোগ পান। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটিও শট নিতে পারেননি তিনি। বল পায়ে তার স্বাভাবিক প্রভাব, ড্রিবল কিংবা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সেই পরিচিত জাদুও দেখা যায়নি।

    আসলে স্পেন এমনভাবেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল যে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ, বিশেষ করে মেসি, কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বল দখল, পাসিং, সুযোগ সৃষ্টি—প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আধিপত্য দেখায় লা রোজা। পুরো ম্যাচে মিনিটে শটের হিসাব ছিল স্পেন২০- আর্জেন্টিনা ২। এই দুটো শটও আবার আর্জেন্টিনা নেয় ম্যাচের ১১৭ মিনিটের পর। প্রথম নব্বই মিনিট স্পেনের পোস্টে কোনো অন টার্গেট শটই নিতে পারেনি তারা। শুধু শটে নয় পাসেও বড় ব্যবধান। পাসে স্পেন এগিয়ে ছিল ৮৪৫-৪৩৩ ব্যবধানে।

    ম্যাচ শেষে কান্না ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত। তবে আমি জানি, আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।”

    ফাইনালে ব্যর্থ হলেও পুরো বিশ্বকাপে মেসির অবদান ছিল অসাধারণ। ছয় ম্যাচে তিনি করেছেন ৭ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪টি গোল। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণ ছিলেন তিনি। নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচে তার গোল ও সৃজনশীলতাই দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। তবে শেষ মঞ্চে স্পেনের কৌশলী ফুটবলের সামনে সেই জাদু আর দেখা যায়নি।

    তারপরও হারকে মর্যাদার সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

    “ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু তাই বলে আমরা এই বিশ্বকাপে যা অর্জন করেছি, তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়,” বলেন মেসি।

    বিশ্বকাপ ট্রফি এবার হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু পরাজয়ের মুহূর্তেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে, নিজের দেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং চোখের জলে সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে মেসি আবারও দেখিয়ে দিলেন—মহানত্ব শুধু জয়ের মধ্যেই নয়, পরাজয়কে গ্রহণ করার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।

  • স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

    এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

    অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

    অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

  • ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা অনেকের কাছেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    লিওনেল মেসি পুরো আর্জেন্টিনা দলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘একটা পরিবার। গত কিছু বছরে কয়েকটা খেতাব জয়ই শুধু নয়, পুরো যাত্রা পথটাই ছিল অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিনের পথ চলা, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো সবকিছুই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমরা। আমার প্রত্যেক সতীর্থ, দলের সব টেকনিক্যাল স্টাফ এবং সেই সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাদের জাতীয় দলকে পরিবারের মতো ধরে রাখতে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন। রবিবার যাই হোক না কেন, এই দলটা এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে, যেটা আমরা কখনও ভুলব না। গল্পটা কেউ মুছে দিতেও পারবে না।’

    তিনি লিখেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমরা অনুভব করতে পারছিলাম। জানি, সমর্থকরা যে কোনও ম্যাচের থেকে বেশি ওই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। প্রথমত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। দ্বিতীয়ত, জিততে পারলে আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর তাৎপর্য অপরিসীম। আমি জানি আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা খুশি হয়েছেন। আমার মা, পরিবারের অন্যেরা আমাকে মানুষের উদ্‌যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনাবাসীকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত।’

    বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর অনুশীলন করেছি। নিজেকে শারীরিক ভাবে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখতে সর্বস্ব দিয়েছি। এই মুহূর্তে শুধু উপভোগ করতে চাই। গত বিশ্বকাপ জয় বা অন্য কোনও ট্রফির কথা বলছি না। এই দল সব সময় নিজেদের সেরাটাই দেয়। এই দল কারও কাছে ঋণী নয়। আমাদের এই দল কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয় না। আমরা আমাদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি।’

    এ নিয়ে তৃতীয়বার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেন মেসি। ২০১৪ সালে রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাকে। সেবার জার্মানির কাছে হেরে যায় তার আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপ মেসিকে হতাশ করেনি। হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এ বার সামনে স্পেন।

  • মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের সবচেয়ে বড় ভাবনার নাম লিওনেল মেসি। তাকে আটকাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেণ তারা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

  • মেসিকে থামাতে স্পেনের ‘তিন স্তরের ফাঁদ’

    মেসিকে থামাতে স্পেনের ‘তিন স্তরের ফাঁদ’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসিকে থামানোই স্পেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চলতি আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করা আর্জেন্টাইন অধিনায়কই আলবিসেলেস্তাদের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে।

    প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

    ফলে ফাইনালে লড়াইটা শুধু মেসি বনাম স্পেন নয়; বরং দুই কোচের কৌশলগত দাবা খেলাও। একদিকে মেসির সৃজনশীলতা ও আর্জেন্টিনার অভিযোজন ক্ষমতা, অন্যদিকে স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং ও সমন্বিত রক্ষণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা নির্ধারণে এই কৌশলগত দ্বৈরথই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

  • ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের স্মৃতি কি তবে আবারও ফিরছে স্পেনের ফুটবলে? তৎকালীন স্প্যানিশ দলের মেরুদণ্ড ছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে স্পেন, আর এবারের দলের মূল শক্তিও সেই বার্সেলোনাই। বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা আট ফুটবলারই বার্সেলোনার। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি স্বয়ং বার্সা কিংবদন্তি। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন কাতালান ক্লাবটিতে।

    স্পেনের এই দলটিতে লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা আট খেলোয়াড় হলেন— লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং পাউ কুবারসি। ম্যাচের শুরুতেই লামিন ইয়ামাল ডি বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন, যা থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল।

    দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে পেদ্রো পোরো গোল করলে ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ষণভাগে পাউ কুবারসির দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ফরাসি আক্রমণভাগকে কোনো সুযোগই দেয়নি। বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস এবং পেদ্রি মাঝমাঠ ও আক্রমণে প্রাণসঞ্চার করেছেন। এছাড়া স্কোয়াডে থাকা জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া ও গাভি—পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। বার্সেলোনার এই আট খেলোয়াড়ই এখন স্পেনের শিরোপা জয়ের মূল সারথি।

    বার্সেলোনা বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলাররা এখন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০১০ সালে যখন স্পেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখনও দলটির স্কোয়াডে বার্সেলোনার নয় জন খেলোয়াড় ছিলেন—ভিক্টর ভালদেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনা। সেই ইতিহাসের যেন আবারও পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় ঢুকেছিলেন লিওনেল মেসি। এখন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের একজন। বার্সেলোনার হয়ে এমন কিছু নেই যা তিনি জেতেননি। বার্সেলোনায় যাকে মেসির পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সেই লামিনে ইয়ামালও লা মাসিয়ার প্রোডাক্ট। ফাইনালের আগে ইয়ামালকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মেসি। মাঠের খেলায় তাকে আটকে রাখার কথাও বলেছেন। ফাইনাল ম্যাচটি তাই হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার দুই প্রজন্মের লড়াই।

  • ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    মহাভারতের একলব্য ও দ্রোণাচার্যের কাহিনিতে ট্র্যাজেডি আছে, আছে কর্তৃত্ব। কিন্তু মহাভারত আমাদের আরেকটি কথাও বলে– সময়ের কাছে দ্রোণাচার্যও অনিশ্চিত, একলব্যও অনিশ্চিত। ইতিহাস কখনও একক বীরের সম্পত্তি নয়। বিশ্বকাপও তাই।

    একুশের সিকি শতাব্দী পার করে তাই প্রশ্নটি শুধু রোমান্টিক নয়, গভীরভাবেই দার্শনিক–লামিনে ইয়ামাল কি একলব্য, আর লিওনেল মেসি কি দ্রোণাচার্য? নাকি উল্টোটা? কিংবা তারা কেউই নন? বিশ্বকাপের আরাধ্য সোনালি ট্রফিটি কি আদৌ কোনো পৌরাণিক উপমার কাছে আত্মসমর্পণ করে?

    বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি এক দীর্ঘ আলোকবর্তিকা। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি কেবল ফুটবলার নন; তিনি এক ভাষা, এক নন্দন, এক শিল্পরীতি। অসংখ্য নবীনের শৈশবের দেয়ালে শোভিত পোস্টারের নাম মেসি। আজকের প্রজন্মের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রেও সেই সত্যের ব্যতিক্রম নেই। ইয়ামালের ফুটবলীয় অভিধানে মেসি একটি অনিবার্য উচ্চারণ।

    মহাভারতের একলব্য দ্রোণাচার্যের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও তাঁকেই মানসগুরু মেনেছিলেন। দূর থেকে দেখে, অনুকরণ করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। সেই অর্থে ইয়ামালও যেন আধুনিক ফুটবলের এক একলব্য। বার্সেলোনার ঘাসে, ইউরোপীয় ফুটবলের নন্দনতত্ত্বে দীক্ষিত এবং মেসির রেখে যাওয়া শিল্পভাষায় বেড়ে ওঠা তরুণ। ফুটবল তাঁকে শিখিয়েছে, একজন গুরু সব সময় সামনে বসে থাকেন না; অনেক সময় তিনি হয়ে ওঠেন একটি আদর্শ, একটি ছায়া, একটি স্বপ্ন– দূরে অবস্থান করেও। কিন্তু এখানেই তুলনার উপমাটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

    কারণ দ্রোণাচার্যের সঙ্গে একলব্যের সম্পর্ক ছিল অসম ক্ষমতার সম্পর্ক। সেখানে প্রত্যাখ্যান ছিল, ছিল শ্রেণি ও বর্ণবৈষম্যের নির্মমতা। লিওনেল মেসি কখনও লামিনে ইয়ামালের অগ্রযাত্রার পথে অঙ্গুলি দাবি করেননি। বরং ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই যে, একজন কিংবদন্তি আরেকজন কিংবদন্তির জন্মের জন্য জায়গা করে দেন। মেসির উত্তরাধিকার কোনো সংকীর্ণ উত্তরাধিকার নয়; এটি এমন এক নদী, যা নতুন স্রোতকে স্বাগত জানায়।

    তবুও বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে এই উপমা আমাদের অন্য এক জায়গায় নিয়ে যায়। ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো– বিশ্বকাপ কাউকে কিছু পাওনা রাখে না।
    জোহান ক্রুইফ বিশ্বকাপ জেতেননি। ফেরেঙ্ক পুসকাস জেতেননি। পাওলো মালদিনি জেতেননি। রোনালদো নাজারিওর দুটি বিশ্বকাপ আছে, কিন্তু রোনালদিনহোর একটি। আবার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার একটি গোল তাঁকে অমর করেছে। বিশ্বকাপ সব সময় ন্যায়বিচারের আদালত নয়; এটি অনিশ্চয়তারও সবচেয়ে সুন্দর ক্ষেত্র। হয়তো এই অনিশ্চয়তাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র।

    ২০২২ সালে মেসি বিশ্বকাপ জিতেছেন। এতে ফুটবল তাঁর কাছে ঋণ শোধ করেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, ফুটবল কারও কাছে ঋণী নয়। যদি তিনি সেই ফাইনালে হেরে যেতেন, তাহলেও তিনি লিওনেল মেসিই থাকতেন। যেমন ২০১৪ সালের পরও তিনি ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা।

    একইভাবে লামিনে ইয়ামাল যদি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জিতে যান, তবে তা হবে তাঁর প্রজন্মের এক মহাকাব্যিক ব্যক্তিত্ব। আর যদি কখনও বিশ্বকাপ না-ও জেতেন, তাহলে কি তাঁর শিল্পের মূল্য কমে যাবে? মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কোনো ভাস্কর্যের মূল্য কি নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় কমে যায়? শিল্পের পরিমাপ সব সময় পুরস্কারে হয় না। ফুটবলও শেষ পর্যন্ত শিল্পেরই এক রূপ।

    না চাইলেও আসলে বিশ্বকাপকে একটি চূড়ান্ত নৈতিক বিচারক বানিয়ে ফেলেছি আমরা। যেন ট্রফিটি নির্ণায়ক, বলে দেয়– কে মহৎ আর কে নয়। অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এটি প্রতিভা, প্রস্তুতি, ভাগ্য, সময়, ইনজুরি, একটি ভুল পাস কিংবা একটি টাইব্রেকারের সম্মিলিত নাট্যমঞ্চ।

    অনেকে বলেন, ইয়ামালই হবেন নতুন মেসি, তারা হয়তো ভবিষ্যতের প্রতি অতি উদার। আবার যারা মনে করেন, মেসির উচ্চতায় পৌঁছানো অসম্ভব, তারাও হয়তো সময়ের সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করছেন না। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো, পরবর্তী প্রজন্মকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ছায়ায় আটকে রাখা।

    মহাভারতের একলব্য শেষ পর্যন্ত নিজের অঙ্গুলি উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের একলব্যদের কোনো অঙ্গুলি কেটে দিতে হয় না। তাদের প্রয়োজন নিজেদের স্বকীয়তার চর্চা করা। কারণ প্রকৃত উত্তরাধিকার নিহিত অনুকরণে নয়, অতিক্রমে।

    তাই ইয়ামাল একলব্য কিনা, মেসি দ্রোণাচার্য কিনা– এটি প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা আমাদের কী শেখায়?

    শেখায়– সোনালি সেই ট্রফি গন্তব্য হতে পারে, পরিচয় নয়। বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হতে পারে, কিন্তু তাঁর শিল্পের একমাত্র পরিমাপক নয়। মেসি বিশ্বকাপ জিতেও মহান; ইয়ামাল বিশ্বকাপ না জিতেও মহান হতে পারেন। আবার উল্টো ঘটনাও সত্য হতে পারে।

    কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত মহাভারত নয়, যেখানে পূর্বলিখিত নিয়তি অপেক্ষা করে থাকে। ফুটবল এমন এক মহাকাব্য, যার শেষ পৃষ্ঠাটি এখনও লেখা হয়নি। সেখানে দ্রোণাচার্যও একদিন বিস্মিত হন, আর একলব্যও নিজের ভাষায় ইতিহাস লিখে ফেলেন।

    বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি সেই অমোঘ সত্যেরই আরেক নাম– অনিশ্চয়তা।

    এম এম খালেকুজ্জামান
    আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
    adv.mmkzaman@gmail.com

    সূত্রঃ দৈনিক সমকাল

  • ‘কীভাবে চাপ সামলাও তুমি?’

    ‘কীভাবে চাপ সামলাও তুমি?’

    নোভাক জোকোভিচ এবং লিওনেল মেসি দুই জনেরই বয়স এখন ৩৯। কেউই অবসরের ইঙ্গিত দেননি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মুখোমুখি দুই তারকা।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় নোভাক জোকোভিচ। আর উত্তরদাতা লিওনেল মেসি। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক মেসিকে প্রশ্ন করে বসলেন চাপ সামলানো নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারও তাকে জবাব দিলেন হাসি মুখে।

    মেসিকে সামনে পেয়ে জোকোভিচ প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কী করে চাপ উপেক্ষা করে নিজের খেলার দক্ষতা বজায় রাখতে শিখলে?’

    প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেন মেসি। বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়ের সার্ভ সামলে বলেন, ‘আমি চাপ নিয়ে কখনও খুব বেশি ভাবি না। আমি একটা সব সময় খুব স্বাভাবিক বিষয় হিসাবেই দেখেছি। খেলতে যাওয়া, উপভোগ করা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকা। আমরা প্রতিযোগিতা ভালবাসি। সব সময় জিততে চাই। দেখ ফুটবল একটা খেলা। আমাদের প্রতিপক্ষও জেতার জন্য মাঠে নামে। সব সময় জেতা সম্ভব হয় না।’

    এরপর মেসি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি শিখেছি, জয়ের থেকে হারের সংখ্যাই বেশি হয়। এই উপলব্ধি আমাকে এক জন ব্যক্তি এবং খেলোয়াড় হিসাবে পরিণত হতে সাহায্য করেছে।’

    ১৯ জুলাই তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামবেন মেসি। প্রতিপক্ষ স্পেন। কয়েক দিন আগেই উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠেছিলেন জোকার। দু’জনেরই বয়স এখন ৩৯। কেউই অবসরের ইঙ্গিত দেননি।

  • এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    আরও আগেই ইউরোপ অধ্যায়ের পাট চুকিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালেই যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। এরপরও নবম ব্যালন ডি’অরের হাতছানি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সামনে।

    বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখনই ব্যালন ডি’অর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজকেরা জানিয়েছে, ব্যালন ডি’অর জিততে কোনো ফুটবলারের ইউরোপের ক্লাবে খেলা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেলে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ রয়েছে।

    একসময় ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৫ সালে পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক রূপ পেলেও তখনো ইউরোপে খেলা ছিল অন্যতম শর্ত। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকেই ব্যালন ডি’অর দেওয়া হচ্ছে, তিনি কোন লিগ বা ক্লাবে খেলছেন, সেটি আর বিবেচ্য নয়।

    এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়োজকেরা গত ১৮টি আসরের উদাহরণ তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্য, ‘গত ১৮টি আসর বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, ইউরোপের বাইরে খেলেও কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জেতা বাস্তবসম্মত কি না। ২০০৭ সালে কাকা, ২০০৮ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ২০০৯ সালে লিওনেল মেসি—তিনজনই ওই বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন, যা ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত। লুকা মদরিচ, করিম বেনজেমা, রদ্রি ও উসমান দেম্বেলেও যখন এই পুরস্কার জিতেছেন, তখন সবাই ইউরোপেই খেলছিলেন।’

    তবে এই ধারার ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যালন ডি’অরের আয়োজকেরা লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউরোপের বাইরে খেলে ব্যালন ডি’অর জেতা একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি। ৬৭তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান, যা ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়, তখন আর্জেন্টাইন তারকা ইতোমধ্যেই ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছিলেন। ফলে আটবারের এই বিজয়ীই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে কোনো অ-ইউরোপীয় ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে ব্যালন ডি’অর জেতেন।’

    বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কিছুই অসম্ভব নয় এবং যেকোনো ফুটবলারই এই পুরস্কার জিততে পারেন।’

    এই ব্যাখ্যা এমন সময় এলো, যখন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। সাত ম্যাচে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে মায়ামির এই তারকা নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনাতেও জোরালোভাবেই রয়েছেন।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে এই ম্যাচটি শুধু শিরোপা নির্ধারণের লড়াই নয়। বরং লিওনেল মেসির জন্য অপেক্ষা করছে অনন্য ১১টি ব্যক্তিগত রেকর্ডের হাতছানি। ফাইনালে মাঠে নামা থেকে শুরু করে গোল করা কিংবা ট্রফি জেতা, সবকিছু মিলিয়ে মেসি ছুঁতে পারেন একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    এক নজরে ফাইনালে মেসির সামনে থাকা ১১টি সম্ভাব্য রেকর্ড

    ১. গোলরক্ষক ছাড়া সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট: ফাইনালের দিন মেসির বয়স হবে ৩৯ বছর ২৫ দিন। ফুটবল ইতিহাসে গোলরক্ষক বাদে কোনো খেলোয়াড় এত বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামেননি। রেকর্ডটি এখনও ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফেরের দখলে আছে। ৪০ বছর ১৩৩ দিনে তিনি পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৮২ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন। মেসি এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে নামলে, আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে তিনিই হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট।

    ২. দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল: ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর মেসির এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে টানা তিনটি ফাইনালে খেলেছিলেন। সেই অভিজাত তালিকায় মেসি দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লেখাতে চলেছেন।

    ৩. প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিন ফাইনাল নেতৃত্ব: ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি অধিনায়কের নাম রয়েছে, যারা দুবার দলকে ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মেসিই হবেন প্রথম খেলোয়াড়, যিনি তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন।

    ৪. অধিনায়ক হিসেবে জোড়া বিশ্বকাপ শিরোপা: ফুটবলে দুবার বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড় অনেক আছেন, কিন্তু দুইবারই ‘অধিনায়ক’ হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার নজির নেই। ইতালি ও ব্রাজিলের অনেক তারকা দুবার বিশ্বজয়ী হলেও তাদের কেউ অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়বার ট্রফি ধরেননি। আর্জেন্টিনা জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক যিনি দুবার বিশ্বকাপ শিরোপা নিজের হাতে নেওয়ার অনন্য রেকর্ডের মালিক হবেন।

    ৫. ফাইনালের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা: ফাইনালে গোল করা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই বড় প্রাপ্তি। স্পেনের বিপক্ষে মেসি গোল পেলে তিনি ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা সুইডেনের নিলস লিডহোমের (৩৫ বছর ২৬৪ দিন) রেকর্ডটি ভেঙে দেবেন। এটি তাকে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা হিসেবে অমর করে রাখবে।

    ৬. আর্জেন্টিনার হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল: ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিল ৮টি গোল করেছিলেন। ৯৬ বছর ধরে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮টি গোল করে ফেলেছেন। ফাইনালে একটি গোল করলেই তিনি স্তাবিলকে টপকে এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলবেন।

    ৭. ১০ গোলের মাইলফলক: এক আসরে ১০ গোল করা মানেই ফুটবলারদের একটি বিশেষ অভিজাত ক্লাবে জায়গা পাওয়া। যদি মেসি ফাইনালে জোড়া গোল করতে পারেন, তবে তিনি জাস্ট ফনটেইন (১৩ গোল), স্যান্ডর কোসিস (১১ গোল) এবং গার্ড মুলারের (১০ গোল) তালিকায় নাম লেখাবেন। ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো ফুটবলারের জন্য এটি হবে এক অবিশ্বাস্য অর্জন।

    ৮. দুটি আলাদা বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল: ২০২২ সালের ফাইনালে মেসি গোল করেছিলেন। যদি ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে তিনি গোল করতে পারেন, তবে তিনি ভাভা, পেলে, পল ব্রেইটনার, জিনেদিন জিদান ও কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মত ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়বেন।

    ৯. বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো ৮টি গোল করেছিলেন। আর্জেন্টিনা যদি এবার চ্যাম্পিয়ন হয় এবং মেসি কমপক্ষে একটি গোল করেন, তবে তিনি ৯ গোল নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।

    ১০. ফাইনালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: বিশ্বকাপ ফাইনালে এককভাবে সর্বোচ্চ ৪টি গোলের মালিক কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসি যদি ফাইনালে দুটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি এমবাপ্পের সেই রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর যদি হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে ৫ গোল নিয়ে তিনি এককভাবে এই তালিকার শীর্ষে উঠে আসবেন এবং জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়বেন।

    ১১. সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়: টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয় করা বিরল ঘটনা। এর আগে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২) এই নজির গড়েছিল। আর্জেন্টিনা এবার জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার যিনি টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের নীল্টন সান্তোস ৩৭ বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, মেসি সেটি অতিক্রম করবেন।

  • গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    বয়স তার ৩৯। কিন্তু মাঠে লিওনেল মেসি যা করছেন, তাতে বয়সটাকে মনে হচ্ছে শুধুই সংখ্যা! এই আসরে যেন আরও বেশি জয়ের ক্ষুধা নিয়ে নেমেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক সেমিফাইনালে মেসির জোড়া অ্যাসিস্টেই ফিরে আসার রূপকথার গল্প রচনা করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ শেষে গোল্ডেন বল ও বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন মেসিই।

    মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, এখন পর্যন্ত দুজনেরই গোল ৮টি করে। দুজনেই আরও একটি করে ম্যাচ খেলবেন এই আসরে।

    বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। মেসি সেখানে এমবাপ্পের চেয়ে এক অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন।

    এখন পর্যন্ত মেসির অ্যাসিস্ট ৪ টি, এমবাপ্পের ৩টি। গোল্ডেন বুটের মূল লড়াইটা হবে এই দুইজনের মধ্যেই। এছাড়াও এই দৌড়ে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। দুজনের গোলসংখ্যা ৬টি, অ্যাসিস্ট একটি। উসমান দেম্বেলের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ২টি। স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবালের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ১টি। তারা সবাই খেলবেন আরও একটি ম্যাচ।

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও সেরা ফুটবলার বা গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে মেসিই সবচেয়ে এগিয়ে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে তো বটেই, রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার উঠতে পারে তার হাতেই। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি।

  • নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    ৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু যেন একটুও ম্লান হয়নি। মাঠে তার নেতৃত্ব, ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

    আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন মেসি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দুই অসাধারণ অ্যাসিস্ট বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

    ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হারের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’

    প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, শারীরিক দ্বৈরথ এবং ফাউলই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও শেষ দিকে মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

    জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। রক্ষণভাগের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। আর সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। বয়স ৩৯ হলেও তার প্রভাব, সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা আবারও প্রমাণ করেছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভয়ংকর।

  • এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে কাতার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে আবারও শিরোপা এনে দেন তিনি।

    ২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে যে ট্রফিতে চুম্বন করেছিলেন মেসি, চার বছর পর নিউইয়র্কে আবারও সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজরা। দুই গোলের পেছনেই ছিল মেসির অবদান, দুটি অ্যাসিস্টই এসেছে তার পা থেকে। আর এই স্মরণীয় জয়টি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সি। আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসি জানান, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও বিশেষ এক উপহার।

    মেসি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে এই ম্যাচ উপভোগ করছেন। আজ তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি। এটাও তার জন্য একটি উপহার।’

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই জয় অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। পরে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।

    চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে হারাল আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন শান্ত ও ধৈর্যশীল। মাঝমাঠে নেমে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তৈরি করেছেন দুই গোলের সুযোগ।

    প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস দিয়ে সমতাসূচক গোলের পথ খুলে দেন। পরে লাউতারো মার্তিনেজের উদ্দেশে ভাসানো ক্রস থেকে আসে জয়সূচক হেড। এখন শিরোপার পথে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন।

    আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।

    তবে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়কে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন মেসি। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় অর্জনের সঙ্গে ম্যারাডোনার স্মৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকবে।

  • ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরোটাই সাজানো? ফিফা কি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেবে? রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব থেকে শুরু করে ভিএআর এর সুবিধা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এমন অভিযোগের তালিকা ততই দীর্ঘ হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের সব ধোঁয়াশা দূর করে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মাঠের পারফরম্যান্সে সব অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাঠের লড়াইয়ে তারাই বিশ্বের সেরা দল, আর এটাই চূড়ান্ত প্রমাণিত সত্য।

    সমালোচকদের উদ্দেশে ক্ষোভ ঝেড়ে মেসি বলেন, ‘এই কথাগুলো খুব কষ্ট দেয়। গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। পরপর দুটো বিশ্বকাপে আমরা দেখালাম, আমরা কাকতালীয়ভাবে জিতিনি। কেউ আমাদের বাড়তি সুবিধা দেয়নি। পরপর দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা সহজ নয়। এই দলটা সেটা করে দেখিয়েছে।’

    চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে এনেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তারপরও সমালোচনা থেমে থাকেনি। মেসি মনে করেন, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে হয়তো এই নিন্দুকরা আরও অর্বাচীনের মতো কথা বলার সুযোগ পেত। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে অর্বাচীনের মতো কথা বলত। ওদের সেই সুযোগটাই দিইনি। আমরা জানি আমরা কতটা ভালো খেলি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু আমার মনে হয়, কিছু বলার আগে ভাবা উচিত। এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে পরে আফসোস করতে হয়।’

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব মেসির অজানা নয়। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দটা অন্যসব জয়ের চেয়ে কিছুটা বেশিই। মেসি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।’

    মেসি আরও জানান, এই ম্যাচে তাদের হারার কোনো উপায় ছিল না। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই হার হজম করা অসম্ভব ছিল। মেসির কথায়, ‘আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না, সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।’

  • আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    এক সময় এই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কণ্ঠে ছিল হতাশা। ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রায় এক দশক পর আবার ফিরছেন—তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালের জন্য। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটও মিস করেছিলেন মেসি।

    অবসরের কথাও বলেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সমর্থকদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন, জেতেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ক্যারিয়ারে। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ।

    ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে মাঠ একদিন ছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠই এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

    বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে মাঠে একদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, সেই মাঠেই কি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন?

  • মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা উঠে গেল ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিকস আর লিওনেল মেসির জাদুকরীয় ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিংয়ে স্কালোনি পেয়েছেন পূর্ণ ১০ এবং মেসি পেয়েছেন ৯। কিন্তু কেন?

    শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা আর্জেন্টিনা দলকে কেমন রেটিং দিয়েছেন:

    এমিলিয়ানো মার্তিনেস (৬/১০): খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে দায়িত্বশীল ছিলেন।

    নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।

    লিসান্দ্রো মার্তিনেস (৬/১০): বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০): রক্ষণভাগে ছিলেন বেশ সতর্ক।

    নাহুয়েল মলিনা (৩/১০): ইংল্যান্ডের গোলটির সময় তার ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

    এনজো ফার্নান্দেস (৮/১০): দলের প্রয়োজনে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।

    আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

    লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০): মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিতে ভূমিকা রেখেছেন।

    জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): প্রেস করার কাজটা ভালো করলেও প্রথমার্ধের পরেই বদলি হন।

    হুলিয়ান আলভারেস (৬/১০): দলের হয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে গোল পাননি।

    লিওনেল মেসি (৯/১০): ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি যেন অজেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার বাঁ পায়ের জাদুকরী ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি আসে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে পুরো দলকে এক সুঁতায় গেঁথেছেন, তা এক কথায় বিস্ময়কর। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনা ধুঁকছিল, তখন মেসি নিজেই নিচে নেমে আসেন। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লকের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার কাজটি তিনিই করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার সেই অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেসের জয়সূচক গোল। এটিই প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে মেসি কেন এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল না পেলেও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অ্যাসিস্ট ও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।

    লিওনেল স্কালোনি (১০/১০): আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে দশে দশ দিয়েছেন ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা। এর মূল কারণ তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন স্কালোনি ঘাবড়ে যাননি। তার সাবস্টিটিউশনগুলো ছিল নিখুঁত। ৭২ মিনিটে মলিনা ও পারেদেসকে তুলে নিয়ে রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মনতিয়েলকে নামানো ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এই পরিবর্তনের ফলেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধাঁরালো হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। তাছাড়া সঠিক সময়ে লাউতারোকে নামিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। কোচ হিসেবে স্কালোনি দেখিয়েছেন পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ছক পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

    প্রশ্ন আসতে পারে, স্কালোনিকে কেন মেসির চেয়েও বেশি রেটিং দেওয়া হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কালোনির ১০ পাওয়ার কারণ তার নির্ভুল গেম প্ল্যান ও প্লেয়ার পরিবর্তন। অন্যদিকে মেসির ৯ পাওয়ার কারণ তার একক ম্যাজিক। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ম্যাচ দেখা গেছে যেখানে দুর্দান্ত কৌশল থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় জয় আসে না। আবার অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও ভুল কৌশলের কারণে দল হারে। আটলান্টায় এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছে। স্কালোনি ছক এঁকেছেন, আর মেসি সেই ছক অনুযায়ী দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। নিজে গোল না পেলেও রেখেছেন গোল অবদান।

    ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ ও অধিনায়ক যে ফর্মে আছেন, তাতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন আরও একটি বিশ্ব জয়ের। মেসি কি পারবেন ফাইনালে নিজের রেটিং ১০-এ নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই।

  • ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই ফুটবল মাঠের বাইরেও বাড়তি উত্তেজনা। ইতিহাস, রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের বৈরিতা ঘিরে এই লড়াইকে ঘিরে থাকে আলাদা আবহ। তবে বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে সেই উত্তাপ কমানোরই চেষ্টা করলেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো তিনিও বললেন, এটি তাদের কাছে ‘স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ’।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা জানি মেসি কতটা অসাধারণ ফুটবলার। একই সঙ্গে জানি আর্জেন্টিনা দল হিসেবেও কতটা শক্তিশালী। তবে এটি শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপের সেরা চার দলের একটি সেমিফাইনাল। দুই দলেরই আবেগপ্রবণ সমর্থক রয়েছে।’

    আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের প্রশংসাও করেন ইংলিশ এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘ডিবুর বিপক্ষে আমি খেলেছি, যখন সে ওলভারহ্যাম্পটনে লোনে ছিল আর আমি প্রেস্টন নর্থ এন্ডে খেলতাম। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে সে নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করেছে। সে একজন টপ-ক্লাস গোলরক্ষক।’

    বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা লিওনেল মেসি আবার পেনাল্টি নিতে ভয় পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমার মনে হয় না মেসি আবার পেনাল্টি নিতে বিন্দুমাত্র ভয় পাবে। সবাই মেসিকে নিয়েই কথা বলে, কারণ সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তবে আমাদের নিজেদের দল ও খেলোয়াড়দের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।’

    দুই দলের অতীত বৈরিতা, ২০০৫ সালের প্রীতি ম্যাচ কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যাম-দিয়েগো সিমিওনের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। তবে এসব বিতর্কে না গিয়ে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা শেষ কবে খেলেছিলাম? ২০০৫ সালে? অনেক আগের কথা। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেটাই সবাই দেখেছে। আমরা শুধু জিততে চাই এবং কোনো ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চাই। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রেখেই খেলাই আমাদের লক্ষ্য।’

  • মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রাখবে ইংল্যান্ড

    মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রাখবে ইংল্যান্ড

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মহারণ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর সাবেক ইংলিশ ফুটবলাররাও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জো কোল, যিনি লিওনেল মেসিকে ঘিরে বেশ সাহসী মন্তব্য করেছেন।

    নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের এক আলোচনায় গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মাইকাহ রিচার্ডসের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিয়ে কথা বলছিলেন কোল। সেখানেই তিনি বলেন, ‘মেসিকে আমাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হবে। আমরা ওকে নিষ্ক্রিয় করে রাখব। আমি শতভাগ নিশ্চিত।’

    কোলের এমন মন্তব্য শুনে উপস্থিত অন্যরা সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে দেন। তারা বলেন, ‘এখনই এমন কথা বলো না। এসব পরে বলা যাবে।’ কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি সাবেক চেলসি ও লিভারপুল তারকা. তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে।’

    তবে আলোচনায় কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন সাবেক ডিফেন্ডার মাইকাহ রিচার্ডস। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনাকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। রিচার্ডস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা খুবই চতুর এবং মানসিকভাবে ভীষণ লড়াকু। তাদের হারাতে হলে ইংল্যান্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে আরও ভালো খেলতে হবে। তবে আমাদের গতি তাদের চেয়ে বেশি। আমার বিশ্বাস, আমরা জিতব।’

    মজার বিষয় হলো, জো কোল অতীতে একাধিকবার প্রকাশ্যে লিওনেল মেসির প্রশংসা করেছেন। এমনকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে এগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক আলোচনায় কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় রোনালদো রাতে হয়তো ভাবেন, যদি তিনি মেসির মতো নিখুঁত হতে পারতেন! মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি ফুটবলে অর্জনের সবকিছু অর্জন করেছেন।’

    এদিকে আরেক সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি নেভিলও আর্জেন্টিনার দুই সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন। নেভিলের ভাষায়, ‘ওদের আমি বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে অস্থির সেন্টার-ব্যাক জুটি বলি। কখনো তারা অসাধারণ খেলবে, সব বল জিতবে, আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করবে, যা বিশ্বাস করা কঠিন। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই তারা যেন অন্য এক রূপ ধারণ করে।’

    আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াইয়ের আগে কথার উত্তাপও সমানতালে বাড়ছে।

  • মেসির নতুন রেকর্ড, ম্যারাডোনার পাশে আলভারেজ

    মেসির নতুন রেকর্ড, ম্যারাডোনার পাশে আলভারেজ

    আজ সকালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচে গোল না পেলেও, রেকর্ড গড়া অব্যাহত রেখেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    এ ছাড়া ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় গোল করে কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার পাশে নাম লিখিয়েছেন জুলিয়ান আলভারেজ।

    সর্বশেষ চার বিশ্বকাপে তিনবার (২০১৪, ২০২২, ২০২৬) সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি তারা।

    চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ২০টি পাস থেকে গোল করার মতো শট নেয়া সম্ভব হয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের তিনটি ভিন্ন আসরে ২০ বা তার বেশি গোল করার মতো শট নেয়া যায় এমন পাস দিয়েছেন মেসি। ২০২২ সালে ২১টি এবং ২০১৪ সালে ২৪টি পাস দেন তিনি।

    এবারের বিশ্বকাপে টানা চারটি ম্যাচে ৩ বা তার বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা চার ম্যাচে ৩ বা তার বেশি গোল করার রেকর্ড এটি।

    এই বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিনটি গোল করে ইংল্যান্ড ও বসনিয়া- হার্জেগোভিনার রেকর্ড স্পর্শ করেছে আর্জেন্টিনা। যা তিন দলেরই যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

    মজার বিষয় হলো, গড় উচ্চতার দিক থেকে এই টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থানে আছে আর্জেন্টিনা। তারপরও অন্য ৪৪টি দেশের চেয়ে হেডে সর্বোচ্চ ৩টি গোল করেছে তারা।

    এ ছাড়া সেট-পিস (কর্নার বা ফ্রি-কিক) থেকে গোল করার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের (৫টি) সাথে যৌথভাবে শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা।

    বিশ্বের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে চারটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু করে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। এর আগে এই তালিকায় নাম তুলেন জার্মানির লোথার ম্যাথাউস, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং উভে সিলা।

    ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচটি গোলের মধ্যে চারটিই নকআউট পর্বে করেছেন আর্জেন্টিনার জুলিয়ান আলভারেজ। তাতেই কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। যা আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৭টি গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন মেসি।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে প্রথম এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা এখন ১০টি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে যা সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট। ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন ম্যারাডোনা। মেসির এই ১০টি অ্যাসিস্ট থেকে ১০ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন।

    এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটে (৯:৩৪ মিনিটে) দেয়া এই অ্যাসিস্ট বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির দ্রুততম অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে কর্নার থেকে দেয়া এটি মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট।

    ফিফা বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেখে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশে বসলেন মেসি। ২০২২ সালে ১০টি ও ২০২৬ সালে ১১টিতে অবদান ছিল এমবাপ্পের। অন্যদিকে মেসি ২০২২ ও ২০২৬ সালে ১০টিতে অবদান রাখেন। গত ৬০ বছরের মধ্যে মাত্র এই দুজন খেলোয়াড়ই এমন নজির গড়েছেন।

    ফিফা বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলা আর্জেন্টিনার শেষ ৮ ম্যাচে মেসি সরাসরি ১৩টি গোলে অবদান রেখেছেন (৭টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট)।

    বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার

    ১৩টি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। যা বিশ্ব রেকর্ড। এতে জার্মানির ১২টি ম্যাচের রেকর্ড ভাঙে আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারের জয়সহ হিসাব করলে ১১টিতে জিতেছে তারা।

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির গোল-অবদানের সংখ্যা এখন ১৫। গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনো খেলোয়াড়ের এটিই সর্বোচ্চ। এতে কিলিয়ান এমবাপ্পের ১৪টির রেকর্ড ভেঙেছেন মেসি।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলের শুরুর একাদশে গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১৭৭ দিন। যা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী গড়। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের খেলা একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ২০৯ দিন। ১৯৬২ সালের পর আবারো এমন ঘটনা দেখা গেল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ থেকে বিদায় নেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের ভান করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়া চতুর্থ খেলোয়াড় এমবোলো। এই তালিকায় আগে নাম লিখিয়েছেন মেক্সিকোর লুইস পেরেজ (২০০৬ সাল, পর্তুগালের বিপক্ষে), ঘানার আসামোয়া জিয়ান (২০০৬ সাল, ব্রাজিলের বিপক্ষে) এবং ইতালির ফ্রান্সেস্কো টট্টি (২০০২ সাল, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে)।আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এটি অষ্টম ম্যাচ। এর ফলে ২০১৪ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের রেকর্ড স্পর্শ করল এবারের আসর। ওই দুই আসরে সর্বোচ্চ ৮টি করে নক আউট পর্বের ম্যাচ অতিরিক্ত সময় গড়িয়েছিল। অবশ্য ২০১৪ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের ম্যাচ ছিল মাত্র ১৫টি করে। সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ইতোমধ্যে ২৮ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • মেসি-এমবাপ্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    মেসি-এমবাপ্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াই জমে উঠেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২ জুলাই পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৮।

    তবে টাইব্রেকারে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। কারণ, ৮ গোলের পাশাপাশি তার রয়েছে ৩টি অ্যাসিস্ট। মেসির অ্যাসিস্ট ২টি। এছাড়া এমবাপ্পে এই কীর্তি গড়েছেন ৫৬৩ মিনিট খেলে, আর মেসি খেলেছেন ৬০৮ মিনিট।

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ড। তার গোল ৭টি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তার গোলসংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই।

    চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। দুজনেরই গোল ৬টি এবং অ্যাসিস্ট ১টি করে। তবে কম সময় মাঠে খেলায় (৫৭৪ মিনিট) বেলিংহাম এগিয়ে আছেন কেইনের (৬২৭ মিনিট) তুলনায়।

    এখন টুর্নামেন্টে টিকে আছে শুধু আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন। ফলে এমবাপ্পে, মেসি, বেলিংহাম ও কেইনের সামনে সেমিফাইনাল এবং সম্ভাব্য ফাইনালে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ রয়েছে।

    এখানে উল্লেখ্য, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে প্রথমে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়। অ্যাসিস্টও সমান হলে কম সময় মাঠে খেলা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হয়।

  • ‘কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি’

    ‘কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি’

    সহজ ছিল না লড়াইটা। নির্ধারিত সময়ে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কঠিন এই জয়ের পর সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করার পর ইনস্টাগ্রামে মেসি লেখেন, “আবারও আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে! চল এগিয়ে যাই!”

    কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সুইজারল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এবার অবশ্য সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে লিওনেল স্কালোনির দলের। আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপে দেশকে তৃতীয় শিরোপা এনে দিয়েছিলেন মেসি। এবার তার সামনে রয়েছে আরও একটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।

    এদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও দৌড়ে আছেন মেসি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি। সেমিফাইনাল ও সম্ভাব্য ফাইনালে আরও গোল করে নিজের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করার লক্ষ্য থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।

  • সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে সংশয়! এ তো রীতিমতো দুঃসাহস! তবু ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নটা করতে হচ্ছে। আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন? প্রশ্নটা করতে হচ্ছে মেসির কারণেই। কারণটা হয়তো জানেনই—এবারের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি নিয়ে দুটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি।

    একবার ভাবুন তো, ওই দুটি পেনাল্টি থেকে মেসি গোল পেলে কী হতো? মিসর ম্যাচে হয়তো আর্জেন্টিনা খাদের কিনারায় পড়ত না। কিছু সময়ের জন্য দল চাপে পড়ত না অস্ট্রিয়া ম্যাচেও। সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন একাই রাজত্ব করতেন। ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সিংহাসন ভাগাভাগি করতে হতো না।

    ধরুন, আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আবার পেনাল্টি পেল, তখন কি সেটা মেসিই নেবেন? নাকি অন্য কেউ? অন্য কাউকে আলোচনায় আনাটা সহজ নয়। কারণ, এই দলে সবকিছুই তো মেসিনির্ভর! একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক।

    মিসরের বিপক্ষে গোলের পর মেসির উদ্‌যাপন রয়টার্স

    সর্বশেষ যে ম্যাচটিতে মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন, সেই ম্যাচেই মেসি গোল করেছেন, আবার করিয়েছেনও। বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছেন, যেখানে ১৯৬৬ সালের পর থেকে অন্য কোনো খেলোয়াড় তিনবারের বেশি এটি করতে পারেননি। সেই ম্যাচেই মেসি গড়েন বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ আর নকআউট ম্যাচে টানা ৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ড।

    তো এত সব করা মেসিকে পেনাল্টি নিতে বারণ করাও তো বিপদ! আর্জেন্টিনা দলে অন্যরা কেমন পেনাল্টি নেন, সেটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেসি ছাড়া আর কে আছেন পেনাল্টি নেওয়ার মতো? মেসি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে পেনাল্টি নিয়েছেন ১৪৮টি। এর মধ্যে ১১৪টি শটে গোল করেছেন, সাফল্যের হার ৭৭ শতাংশ। মেসির চেয়ে কেউ কি ভালো আছেন এই দলে?

    শতাংশের বিচারে বললে বলতে হবে, আছেন। তা–ও একজন নয়। এই হিসাবে পেনাল্টিতে মেসির চেয়ে ভালো আছেন পাঁচজন। আর্জেন্টিনা দলে পেনাল্টি সফলতায় সবচেয়ে এগিয়ে লিয়ান্দ্রো পারদেস, তাঁর সফলতার হার ৯২.৯ শতাংশ।

    তালিকায় এর পরে আছেন ম্যাক অ্যালিস্টার, তিনি ৯১.৭ শতাংশ পেনাল্টিকে গোলে পরিণত করেছেন। সমান শতাংশ সফলতা আছে এনজো ফার্নান্দেজেরও। হুলিয়ান আলভারেজের সফলতার হার ৮৯.৪ শতাংশ। এমনকি নিকো গঞ্জালেজের পেনাল্টি সফলতার হারও মেসির চেয়ে ভালো—৮২.০৪ শতাংশ।

    তাহলে এরা সবাই কি মেসির চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেন? এর আসলে সরাসরি কোনো উত্তর নেই। কারণ, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১০টি পেনাল্টি গোল করা কোনো আর্জেন্টাইন মেসির ৫ শতাংশের ভাগের এক শতাংশ পেনাল্টিও নেননি। এ তালিকায় মেসির পর সর্বোচ্চ পেনাল্টি নিয়েছেন মার্তিনেজ, তা–ও মাত্র ২৭টি। পেনাল্টি যিনি বেশি নেন, মিস তো তিনিই বেশি করবেন!

  • মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এগিয়ে চলেছেন! ফুটবলের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এই বয়সে একজন খেলোয়াড়ের গতি ও কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আর্জেন্টাইন মহাতারকা যেন এখনও একইভাবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। আর সেই কারণেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বাস, মেসি যত দিন মাঠে নামবেন, তত দিনই তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হয়ে থাকবেন।

    বাংলাদেশ সময় রোববার (১১ জুলাই) সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি তার অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

    চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অগ্রযাত্রায় মেসির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়টি ছিল তার নেতৃত্ব ও প্রভাবের বড় উদাহরণ। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দল শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেছিলেন মেসি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পেশির চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে মাঠে নামার পর সেই সংশয়ের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের সেরাটাই তুলে ধরছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।

    মেসির ফিটনেস প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, তিনি প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় একই মাত্রার পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও নিজের শরীরের প্রতি বিশেষ যত্ন। কোচের মতে, মেসি যখন অনুভব করেন যে তিনি দলের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারছেন, তখন তার মধ্যে এক ধরনের অতিরিক্ত শক্তি কাজ করে এবং তিনি আরও কার্যকর হয়ে ওঠেন।

    বয়সের কারণে মেসির পারফরম্যান্স কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন স্কালোনি। তার ভাষায়, যারা মেসিকে কাছ থেকে চেনে না, তারাই হয়তো এমনটা ভাবতে পারে। তবে তিনি বরাবরই বিশ্বাস করেন, মেসি যত দিন খেলার সিদ্ধান্ত নেবেন, তত দিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রাখবেন।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্যও বিশেষ একটি উপলক্ষ। কারণ, অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল।

    বর্তমানে টুর্নামেন্টে ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

    স্কালোনি জানান, প্রতিদিনের অনুশীলনে মেসির নিবেদন এখনো তাকে মুগ্ধ করে। তার মতে, আজকের মেসিকে যারা দেখছে, তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারবে না তরুণ বয়সে বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার অধীনে খেলার সময় তিনি কতটা বিস্ময়কর ছিলেন।

  • মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    এ বিশ্বকাপেই মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙেছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা ছিল ক্লোসার দখলে। এ বিশ্বকাপে ক্লোসার ১৬ গোল ছাড়িয়ে গেছেন মেসি, এখন তাঁর গোল ২১টি।

    সর্বোচ্চ গোলের এ রেকর্ড ভিনদেশি কারও কাছে হাতছাড়া হলে একটু খারাপ লাগা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই আফসোস ক্লোসার নেই। এমনকি রেকর্ড ভাঙার পর নাকি আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লোসা বলেছেন, ‘মেসি এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়কর প্রতিভা!’ এরপর মেসির সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দেন জার্মানির সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
    ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে একই দলে খেলেছিলেন ক্লোসা। ওই বন্ধুত্বটা তাঁদের রয়ে গেছে এখনো। স্কালোনি এখন আর্জেন্টিনার কোচ। তাঁর সূত্রেই ক্লোসার কথা হয়েছে মেসির সঙ্গে।

    পুরো গল্পটা ক্লোসার মুখেই শুনুন, ‘স্কালোনি আমার সতীর্থ ছিল। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মেসি আমার বিশ্বকাপের গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করার পর স্কালোনিই আমাদের মধ্যে এই ফোনালাপের ব্যবস্থা করে দেয়। খুবই আবেগঘন মুহূর্ত ছিল এটা।’

    এখানেই শেষ নয়, কথোপকথনের সময় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তাঁকে একটি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। হাসিমুখে ক্লোসা জানান, ‘সে (মেসি) আমাকে বলেছে যে সে আমাকে নিজের সই করা একটি জার্সি পাঠাবে।’

    ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ক্লোসা। ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া একাধিকবার তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন।

    বর্তমানে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি নুরেমবার্গের কোচের দায়িত্বে থাকা ক্লোসা জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে নাকি কখনো এত লম্বা আলাপ হয়নি তাঁর, ‘মেসির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হয়েছে, যা সব সময়ই খুব আনন্দদায়ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ফুটবলের বাইরে এবারই প্রথম আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কথা বললাম।’

    মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পর প্রকাশ্যেই আর্জেন্টিনার এই অধিনায়কের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন ক্লোসা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ১৮তম গোল করে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তখন জার্মানির সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন!’

    এবার তো কথা হয়ে গেল খোদ মেসির সঙ্গেই।

  • মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেই খ্যাপাটে উদ্‌যাপন করেছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির দিকে ছুটে আনন্দে লাফিয়েও উঠতে দেখা যায় তাঁকে। আর্জেন্টাইন তারকাকে সাধারণত গোল করে এতটা উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় না।

    তাহলে সেদিন কী হলো? দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাস তো ছিলই। ম্যাচের পর মেসি জানিয়েছেন, গোলটা করে একটু স্বস্তিও পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর মেসি নাকি ভেবেছিলেন, দলকে বোধ হয় একাই ডুবিয়ে দিলেন!

    পেনাল্টিতে তাঁর শটটা ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাঁর জন্য এমন ঘটনা বিশ্বকাপে অবশ্য প্রথম নয়। এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এখন তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে অনেক খারাপ?

    এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। তবে পরিসংখ্যানে তাকালে কিছুটা আঁচ করা যায়। পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করা কিন্তু মেসির জন্য এবারই প্রথম নয়। দুই দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

    মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলকিপার রয়টার্স

    তবে এবারের ঘটনা বেশি চোখে লেগেছে সময়ের কারণে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন এবার। পরপর দুটি পেনাল্টি মিসের আগের ঘটনাগুলোর কোনোটিই এত দ্রুত সময়ে হয়নি।

    মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পেনাল্টি–খরায় পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সে বছর টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করেন। ওই বছরের ৫ এপ্রিল লা লিগায় বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের ম্যাচে আন্তোনিও আদান তাঁর শট রুখে দেন।

    কয়েক মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে আবারও পেনাল্টি মিস করেন। এরপর ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার ম্যাচে ব্রাজিলের গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট ঠেকিয়ে দিলে টানা তিন পেনাল্টি মিস হয় মেসির।

    এর মধ্যেও অবশ্য ‘পেনাল্টি’ থেকে গোল করেছিলেন মেসি। তবে সেটি ছিল টাইব্রেকারে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকই বল জালে জড়ান তিনি। পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেলেও হেরে যায় জার্মানির কাছে।

    ২০২১ সালে এসে আবার পেনাল্টি–খরায় পড়েন মেসি। ওই বছরের ১০ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। এর ৫৩ দিন পর লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার জ্যাসপার সিলেসেন আরেকটি পেনাল্টি আটকে দেন, যদিও সেবার ফিরতি শটে মেসি গোল করতে সক্ষম হন।

    তৃতীয় ঘটনাটি তো এবারের বিশ্বকাপেই। ১৫ দিনের ব্যবধানে এবার অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করলেও দুর্দান্ত ফর্মেই আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে তিনি এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলও তাঁর।

    পেনাল্টি মিসের পর হতাশ মেসি রয়টার্স

    বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড এমনিতে খুব একটা সুখকর নয় আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপে পাওয়া ৮ পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও মেসির। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও তাঁর।

    বিশ্বকাপে ব্যর্থতা থাকলেও সব মিলিয়ে কিন্তু মেসির পেনাল্টি রেকর্ডটা মন্দ নয়। মেসি ক্যারিয়ারে মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন, এর মধ্যে ১২৫টিতে গোল করেছেন, ২৭টি সেভ হয়েছে আর ৯টি মেরেছেন গোলপোস্টের বাইরে। সব মিলিয়ে ৭৭.৬৪% পেনাল্টি থেকেই গোল করেছেন মেসি।

    বার্সেলোনায় থাকার সময় ১০৭টি পেনাল্টি থেকে ৮২টি গোল করেছেন মেসি। পিএসজিতে ৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতে গোল করেন, ইন্টার মায়ামিতে ৯ পেনাল্টির মধ্যে ৮টিতেই গোল করেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নির্ধারিত সময়ে ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টি গোল এসেছে তাঁর পা থেকে। এই বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই আর পেনাল্টি মিস করতে চাইবেন না মেসি!

  • আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তার ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনার। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’

    মঙ্গলবার রাতে আটালান্টায় ম্যাচের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। তবে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের।

    বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি। এর মধ্যে চারটিতে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। একই সঙ্গে (টাইব্রেকার বাদে) বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    এদিন ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। সেমিফাইনালের মিশনে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

    মেসি বলেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’

    সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আমি ওদের চিনি, জানি তারা কীভাবে কাজ করে। এই দল লড়াই করতে জানে, বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটা আমার জন্য সম্মানের। আমরা যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত।’

  • অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির মুখে হাসি ছিল না। দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবুও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

    আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করেন মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় তিনি খুবই রাগান্বিত ও হতাশ ছিলেন। মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি নিজের ওপর খুবই রাগান্বিত ছিলাম, খুব হতাশ ছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত।’

    তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় মেসির নেতৃত্বেই। ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে নিজেই সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

    এ বিষয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যেভাবে জিতেছি এবং পরের পর্বে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম, সব দলই খুব কাছাকাছি মানের। আমি খুবই খুশি।’ ম্যাচ শেষে মেসি জানান, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টির বাইরে আরও পরিষ্কার কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়ে আমি গোল করতে পেরেছি। যা ঘটেছিল, তার পরও এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ অনুভূতি।’

    মিশরের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসি শুধু গোলই করেননি, একাধিক সুযোগ তৈরি করে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও পেনাল্টি মিসের কারণে বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম উঠেছে তার। টাইব্রেকার বাদে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

    এ ছাড়া মিশরের বিপক্ষে তার নেওয়া একটি ফ্রি-কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষক শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় মেসির।

    তবে সবকিছুর পরও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা, পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল করা এবং ওপেন প্লে থেকে পাঁচটির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

    মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১টি করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯-এ, ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল এবারের আসরে তার অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

    দলের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এটাই এই দলের চরিত্র। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করি। আজকের জয় আমাদের গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।’ এই

    নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

    বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।