ফিলিস্তিনি চিকিৎসক মাজেন আল-রানতিসিকে প্রায় চার মাস আটক রাখার পর ইসরাইলের কুখ্যাত ওফার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তির পর ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ৭২ বছর বয়সি এই চিকিৎসককে অত্যন্ত শীর্ণকায় অবস্থায় দেখা গেছে। তার কপালে রয়েছে স্পষ্ট লাল ক্ষতচিহ্ন।
রোববার অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওফার কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগে কারাগারটি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত।
দরিদ্র ও অসচ্ছল ফিলিস্তিনিদের স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মাজেন আল-রানতিসি ‘দরিদ্রের চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচিত। গত ২১ জুন অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার আল-তিরা এলাকায় তার বাড়িতে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী।
পরে তার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি অলাভজনক সংস্থা ইউনিয়ন অব হেলথ ওয়ার্ক কমিটিজের (ইউএইচডব্লিউসি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি প্রতি বছর হাজারো ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন আল-রানতিসি। অনেক ক্ষেত্রে তিনি চিকিৎসার ফি নিতেন না। রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি বিনা খরচে চিকিৎসাসেবাও দিতেন তিনি। রামাল্লায় তার ক্লিনিকটি স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত সহায়তা প্রত্যাশী ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছিল।
রোগীদের ভাষ্য, ক্লিনিকের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও তিনি ফোন ও বিভিন্ন বার্তাপ্রেরণ অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ দিতেন। এসব সেবার জন্য প্রায়ই কোনো অর্থ নিতেন না তিনি।
তার আটকের ঘটনায় পশ্চিম তীরজুড়ে নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও রোগীরা তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফ্রিডম ফর ড. মাজেন আল-রানতিসি’ হ্যাশট্যাগে সংহতি অভিযানও শুরু করেন অধিকারকর্মীরা।
আটকের সময় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তার আটকের কারণ জানায়নি। এমনকি তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলি বাহিনী শত শত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করেছে। তাদের অধিকাংশকেই গাজা উপত্যকা থেকে আটক করা হয়েছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
