৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু যেন একটুও ম্লান হয়নি। মাঠে তার নেতৃত্ব, ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন মেসি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দুই অসাধারণ অ্যাসিস্ট বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হারের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, শারীরিক দ্বৈরথ এবং ফাউলই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও শেষ দিকে মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। রক্ষণভাগের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। আর সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। বয়স ৩৯ হলেও তার প্রভাব, সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা আবারও প্রমাণ করেছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভয়ংকর।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
