বিশ্বকাপ

  • বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অবৈধভাবে সম্প্রচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যৌথ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ডিজিটাল পাইরেসির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পরিচালিত হয়।

    ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি ডোমেইন বন্ধ করা হয়েছে। একই সংখ্যক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কলম্বিয়ায়। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকেও আরও ৮৩০টি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অপারেশন অফসাইডস’ এবং ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনআইপিআরসিসি) পরিচালক ইভান জে. আরভেলো বলেন, অনুমতি ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার শুধু মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি অপরাধী চক্রগুলোকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে।

    ডিওজে জানায়, গত মাসের শেষ পর্যন্ত অবৈধ বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০০টি ওয়েবপেজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী অভিযানে আরও শত শত ওয়েবসাইট ও ডোমেইন বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে।

    ডিওজের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, ‘বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারে ব্যবহৃত এক হাজারেরও বেশি ডোমেইন জব্দ করা প্রমাণ করে যে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এসিই)-এর চেয়ারম্যান চার্লস রিভকিন বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক সরাসরি সম্প্রচারিত আসরকে লক্ষ্য করে পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    অভিযানে ফিফা, বিআইএন মিডিয়া গ্রুপ, এনবিসি ইউনিভার্সাল, আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সও সহযোগিতা করেছে। সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি থেকেই ফিফার আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

    কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের সময় ‘লস সিবেরইনফিলত্রাদোস’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশাধিকার অর্জন ও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়া অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি কলম্বিয়ায় জাল ক্রীড়া পোশাকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তল্লাশি ও জব্দ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিওজে জানিয়েছে, নকল ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে দেশটিতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ স্ট্রিমিং ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পের মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

  • মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। শিরোপার উচ্ছ্বাসে চাপা পড়ে গেছে আসরের আগে আলোচিত অনেক বিষয়। টিকিটের উচ্চ মূল্য, স্বাগতিক শহরগুলোর দীর্ঘ দূরত্ব, ৪৮ দল নিয়ে আয়োজনের ফলে মান কমে যাওয়ার শঙ্কা, ভিসা জটিলতা এবং স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ—এসব নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, টুর্নামেন্ট শেষে তা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আসর হিসেবে তুলে ধরবে, এমনটা অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল। সফল আয়োজন, বিপুল আয় এবং দর্শক আগ্রহকে সামনে রেখে এখন ভবিষ্যতের বিশ্বকাপকে আরও বড় করার আলোচনা শুরু হয়েছে।

    বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি ধারণা বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফল হয়, তাহলে আরও বড় আসর আয়োজনেও আপত্তির কারণ নেই। সেই ভাবনা থেকেই ৬৪ দল কিংবা আরও বড় পরিসরের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যদিও ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়, তবু এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সমর্থকদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।

    অনেকের মতে, অংশগ্রহণকারী দল বাড়লে প্রতিযোগিতার মান কমতে পারে। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। তাদের যুক্তি, ফুটবলের সাফল্য এখন শুধু মান দিয়ে নয়, দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব এবং আয় দিয়েও পরিমাপ করা হয়।

    এই ধারণা আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আটটি স্বাগতিক দেশে ১৬টি করে দল নিয়ে আলাদা আটটি পর্ব আয়োজন করা যেতে পারে। প্রতিটি পর্ব থেকে দুটি করে দল পরের ধাপে উঠবে।

    এরপর শেষ ১৬ দলকে নিয়ে নবম একটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে চারটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা শেষে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন।

    প্রথম দেখায় এমন আয়োজন অসম্ভব মনে হলেও হিসাব বলছে, সময় খুব বেশি বাড়বে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ৩৯ দিনে। প্রস্তাবিত ১২৮ দলের বিশ্বকাপও কয়েকটি ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৪১ দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় কিছুটা কমানো গেলে সেটিও ৩৯ দিনের সূচির মধ্যেই রাখা সম্ভব।

    অবশ্য এত বড় আসরের জন্য বাছাইপর্ব আগের মতোই থাকবে। স্বাগতিক দেশগুলো সরাসরি মূল পর্বে খেলবে, আর বাকি দলগুলোকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিতে হবে।

    এই পরিকল্পনার সমর্থকদের মতে, এতে ইতালির মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিশ্বকাপে না থাকার সম্ভাবনা কমবে। একই সঙ্গে চীন, ভারতসহ বড় বাজারের দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বকাপের একটি পর্ব আয়োজন করতে পারবে।

    তাদের বিশ্বাস, এতে সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য এবং বাণিজ্যিক আয় আরও অনেক বেড়ে যাবে। কারণ ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ কমার কোনো লক্ষণ নেই।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন একটি পরিকল্পনায় অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি। এমনকি ভবিষ্যতে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়িত হলেও তিনি বিস্মিত হবে না।

  • বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।

    মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর দলের প্রথম গন্তব্য ছিল সারসুয়েলা প্রাসাদ। সেখানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। এ সময় রাজা ফেলিপে বলেন, ‘এই শিরোপা শুধু একটি দলের অর্জন নয়, এটি পুরো স্পেনের গর্ব।’

    এরপর দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।

    প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ লাখ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আলোকসজ্জা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে উঠে খেলোয়াড়রাও সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।

    উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’

    মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

  • ট্রাম্পের সঙ্গে রোমেরো হাত না মোলানোর কারণ

    ট্রাম্পের সঙ্গে রোমেরো হাত না মোলানোর কারণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন না করে তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে রৌপ্যপদক গ্রহণের জন্য খেলোয়াড়রা মঞ্চে ওঠেন। সে সময় পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আর্জেন্টিনার বেশির ভাগ খেলোয়াড় আনুষ্ঠানিকতা মেনে মঞ্চে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন। তবে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান। টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রোমেরোর এই আচরণ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ এটিকে অসৌজন্যমূলক আচরণ বলে সমালোচনা করেছেন।

    কেন করমর্দন করেননি?

    রোমেরো কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেননি, সে বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে তার এই সিদ্ধান্তের কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে ট্রাম্পকে পাশ কাটিয়ে মঞ্চ অতিক্রম করেন।

    এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ রোমেরোর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ এটিকে অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তবে রোমেরো নিজে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তার উদ্দেশ্য বা অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

    মাঠের মতোই আপসহীন

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রোমেরোর এই আচরণ তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার আগে ইতালির ক্লাব আতালান্তায় খেলেছেন তিনি। সেখানে দৃঢ়, আগ্রাসী এবং লড়াকু ডিফেন্ডার হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। পরে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রোমেরো। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে লিওনেল মেসিদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি মূলত খেলোয়াড়দের অর্জন উদযাপনের জন্য হলেও ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে সেখানে রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হয়। আর সেই প্রেক্ষাপটে রোমেরোর করমর্দন না করার ঘটনাই রাতের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

    কেউ এটিকে অসম্মানজনক বলতে পারেন, তবে প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মান জোর করে আদায় করা যায় না। রোমেরো বিশ্বের কোটি দর্শকের সামনে নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আসা সমালোচনাও মেনে নিয়েছেন।

    ফাইনালে হারের হতাশার মধ্যেও তিনি কোনো কথা না বলেই নিজের নীতির প্রতি অটল থাকার বার্তা দিয়েছেন।

  • সবকিছুই মেসির, শুধু ট্রফিটা স্পেনের

    সবকিছুই মেসির, শুধু ট্রফিটা স্পেনের

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮০,৬৬৩ জন দর্শকের সিংহভাগই এসেছিলেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে—লিওনেল মেসিকে আরও একবার বিশ্বজয়ী হিসেবে দেখার জন্য। নিয়তি হয়তো স্ক্রিপ্টটা অন্যভাবে লিখেছিল। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যখন স্প্যানিশ উল্লাস, তখন মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ৩৯ বছর বয়সি ফুটবল জাদুকর চোখের জল ফেলছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালটা লিওনেল মেসির হাতে আরো একটি ট্রফি তুলে দেয়নি সত্যি; কিন্তু বিধাতা তাকে সব দিয়েছেন, যার নাম ‘অমরত্ব’। স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হার আর্জেন্টিনার জন্য হৃদয়ভঙ্গ হলেও ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য এটি ছিল এক কিংবদন্তির গৌরবময় ‘বিদায়ের মহাকাব্য’!

    কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো তরুণ তুর্কিদের গতি আর শক্তির বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের মেসি খেলেছেন স্রেফ মস্তিষ্ক দিয়ে। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯ গোলের ১২টিই এসেছে তার পা ছুঁয়ে (আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট)। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হাঁকিয়েছেন দারুণ এক হ্যাটট্রিক। ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পের (১০ গোল) চেয়ে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে থেকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রানার্সআপ হয়েছেন ইন্টার মিয়ামির এই মহাতারকা। বয়স যে স্রেফ একটি সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ‘এলএমটেন’।

    এ বিশ্বকাপে মেসির আরেকটি লড়াই ছিল ইতিহাসের পাতায় নিজের অবস্থান আরো শক্ত করার। টুর্নামেন্ট চলাকালে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে উঠেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে আবার শীর্ষস্থান দখল করেন। মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা থেমে যায় ২১-এ।

    এবারের বিশ্বকাপে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিসংখ্যানকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করেছেন; ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে অধিনায়কত্ব করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৩ গোলে অবদান এবং ১২ অ্যাসিস্টের মালিকও এখন এই মেগাস্টার। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ২০০ ম্যাচের এলিট ক্লাবে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন। গোল পেয়েছেন ১২৫টি।

    সংখ্যা বা পরিসংখ্যান দিয়ে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গভীরতা মাপা অসম্ভব। ২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেকের পর দীর্ঘ একটা সময় তাকে তীব্র সমালোচনা ও অপবাদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ এবং পরে টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়ের নিষ্ঠুর আঘাত সইতে না

    পেরে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। তবে সেই অভিমানী বিদায় স্থায়ী হয়নি। রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির ছোঁয়ায় বদলে যায় আর্জেন্টিনার ফুটবলের পুরো দৃশ্যপট। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, ২০২২ সালের স্বপ্নের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ে মেসির হাত ধরেই আলবিসেলেস্তেরা প্রবেশ করে সাফল্যের এক অবিস্মরণীয় স্বর্ণযুগে।

    ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের বিষাদ ছুঁয়ে গেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথাতেই লুকিয়ে ছিল আসল সত্য, ‘মেসি ফুটবলকে যা দিয়েছে, একটি ম্যাচ বা একটি ট্রফি দিয়ে তার পরিমাপ অসম্ভব।’

    ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠে হাত রেখে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন মেসি। চার বছর আগে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় আর টানা দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের পর এই হার যেন মেনে নেওয়া কঠিন ছিল ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য। লা লিগা ও পিএসজির পাট চুকিয়ে তিন বছর আগে যখন তিনি এমএলএস-এ যোগ দেন, অনেকেই ভেবেছিলেন তার ক্যারিয়ারের শেষ। কিন্তু এই বিশ্বকাপেও ৮ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে টেনে এনেছেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে লামিনে ইয়ামালরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেও মেসির চোখে-মুখে ছিল রাজ্যের হতাশা। রানার্স-আপ মেডেল নেওয়ার সময় স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দেওয়া ‘গার্ড অব অনার’-এর ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় জোড় করে একটু হাসার চেষ্টা করলেও তা মলিন হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই মেসির শেষ ম্যাচ কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি জানান, মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনো তাদের কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি যোগ করেন, ‘সবাই যেন তাকে নিয়ে গর্ববোধ করে, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।’

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটাই যদি মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ বিশ্বকাপ হয়ে থাকে, তবে কাপ না পাওয়ার আক্ষেপ ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে এক বুড়ো জাদুকরের অদম্য লড়াইকে। যিনি ট্রফি ছাড়াই ফুটবল মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন সর্বকালের সেরা বা ‘গোট’ হিসেবে।

    স্পেনের এই জয়ের দিনে ফুটবল বিশ্ব যেমন লামিনে ইয়ামালের মতো ১৯ বছর বয়সী নতুন এক তারকার উত্থান দেখল, ঠিক তেমনি দেখল এক কিংবদন্তির ট্র্যাজিক এবং অশ্রুসিক্ত অধ্যায়। কনফেত্তির সোনালী আলোয় যখন স্পেন মেতে উঠেছিল উল্লাসে, তখন কাঁধ ঝুঁকিয়ে গ্লানিভরা মুখে মাঠ ছাড়ছিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।

  • ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে ফাইনালেই। তবে পরাজয়ের বেদনার মাঝেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাতে ভোলেননি লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেসি লিখেছেন, “ব্যথাটা অনেক গভীর এবং এই ক্ষত শুকাতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু আমি ভালো স্মৃতিগুলোকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই।”

    টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার নামের পাশে এখন ২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট।

    তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত সাফল্যই যে তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই ফুটে উঠেছে পুরো বার্তাজুড়ে। তিনি লিখেছেন, “যে ম্যাচগুলোতে আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, সেগুলো চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন এবং এই দলের পরিশ্রম আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে জায়গা করে দিয়েছে। আজ আমরা যা করেছি, তার মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে।”

    সমর্থকদের উদ্দেশেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, “প্রতিটি শুভেচ্ছা এবং বার্তার জন্য হৃদয় থেকে অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা দেশ হিসেবে একত্রিত হতে পেরেছি এবং সবাই একসঙ্গে আর্জেন্টাইন হওয়ার বিশাল গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।”

    নিজেদের স্বপ্নভঙ্গের মাঝেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। পোস্টের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, “আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।”

    ফাইনালের পর মেসির এই বার্তা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। হতাশা, কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান—সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এই পোস্টকে অনেকেই একজন সত্যিকারের কিংবদন্তির ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

  • মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয়েই দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। তবে দলের সঙ্গে ছিলেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ব্যক্তিগত কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    সোমবার (স্থানীয় সময়) বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল। বিমানবন্দরে তাদের জন্য ছিল লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সামরিক ব্যান্ডের আয়োজন। বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এএফএর কর্মকর্তারাও।

    তবে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসিকে ঘিরে। কিন্তু বিমান থেকে নামতে দেখা যায়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। এএফএ আগেই জানিয়েছিল, স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য দলের সঙ্গে দেশে ফিরবেন না। মেসির পাশাপাশি আরও কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন।

    বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে এজেইজা বিমানবন্দরের বাইরে এবং জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। আকাশি-সাদা পতাকা ও ছাতা হাতে তারা করতালি আর স্লোগানে রানার্সআপ দলকে স্বাগত জানান। বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলেও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

    এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরপরই বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো সমর্থক। আতশবাজি, গান আর করতালিতে দলকে অভিনন্দন জানানো হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। তবুও দেশে ফেরার পর দলের প্রতি সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিরোপা হাতছাড়া হলেও স্কালোনির দল এখনও কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদয়ের দল।

  • ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    স্পেন–আর্জেন্টিনা ফাইনালের পর মাঠের অন্যতম আলোচিত চরিত্র কোনো খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের সদস্য নন, লামিনে ইয়ামালের ভাই কেইনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপজুড়ে প্রচারমাধ্যমের আলোয় থাকা কেইনেকে ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীর আগে মাঠজুড়ে ঘুরে নানা কাণ্ড–কীর্তিতে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ছবিতে দেখুন মজার সেসব দৃশ্য।

    ১ / ১৫

    কেইনে ইন মুড …রয়টার্স

    ২ / ১৫

    বল পায়ে নিয়ে একটু খেলা যাক রয়টার্স

    ৩ / ১৫

    দূরপাল্লার শট …রয়টার্স

    ৪ / ১৫

    উদ্‌যাপনে ভাই না হলে কি চলে! রয়টার্স

    ৫ / ১৫

    ভাইয়ের গলায় ওটা কী? দেখি তো! রয়টার্স

    ৬ / ১৫

    কেইনেও তারকা। ফটোগ্রাফারদের ভিড়েও খেলায় মনোযোগ রয়টার্স

    ৭ / ১৫

    গোলের জাল কেটে নিচ্ছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কেইনেরও একটু দরকার রয়টার্স

    ৮ / ১৫

    নেট এনে নিউইয়র্ক পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে খুনসুটি কেইনের রয়টার্স

    ৯ / ১৫

    পুলিশও কম যায় না, মাথার ক্যাপ পরিয়ে দিলেন কেইনের মাথায়র রয়টার্স

    ১০ / ১৫

    সবাই ব্যস্ত যাঁর যাঁর মতো। কেইনে ব্যস্ত ফাঁকা পোস্ট আর ছেঁড়া জালে গোল দেওয়ায় রয়টার্স

    ১১ / ১৫

    গোওওওওল …

    ১২ / ১৫

    ভাই এক পাশে, অন্য পাশে বল নিয়ে কেইনে রয়টার্স

    ১৩ / ১৫

    বিশ্বকাপের মাঠে সমবয়সী একজনকে পেয়ে গেছে কেইনে রয়টার্স

    ১৪ / ১৫

    শরীরের তুলনায় বলের আকার ছোটখাটো নয় রয়টার্স

    ১৫ / ১৫

    কার দিকে তাকিয়ে এত হাসি কেইনের? রয়টার্স

  • ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। অবিশ্বাস্য এই ফাইনাল শেষে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মনে হয়েছে, ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।

    রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

    ম্যাচ শেষে ফিফার সম্প্রচারমাধ্যমকে তোরেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই গোলটি শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়, স্পেনের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। এই শিরোপা আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আজ আমরা আমাদের দেশের মানুষ থেকে অনেক দূরে আছি, কিন্তু যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল সব সময়ই কঠিন হয়। প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন অবশ্যই কিছুটা দুশ্চিন্ত থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, সেটি আমরা আবারও করে দেখাতে পেরেছি।’

    গোলের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোল করতে পেরে বিশাল স্বস্তি পেয়েছি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি সব সময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন। আর শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মানুষদেরই প্রাপ্য জিনিসটি দেন, যারা সত্যিই তার যোগ্য।’

  • বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার ১–০ গোলে হারের সঙ্গে আপাতত শেষ হয়ে গেল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির ‘বিয়ের পরিকল্পনাও’। ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি মজাচ্ছলে বলেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

    পরীমনিছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    পরীমনির এমন মন্তব্যেও সাড়া পড়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে ৫২ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, মন্তব্যের ঘর বন্ধ থাকায় শেয়ার হয়েছে পোস্টটি। কথা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে যেন বিয়ের আগেই সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেল। আর্জেন্টিনার জন্য মনটা খুব খারাপ। কারণ, এই দলের সঙ্গে ইমোশন ও ভালোবাসা—দুটোই জড়িয়ে আছে। তবে আমি মনে করি, হার মানেই শেষ নয়, নতুনভাবে শুরু করাও। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, তোমাদের জন্য অপেক্ষা থাকবে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নিশ্চয়ই তোমরা আরও দারুণভাবে ফিরে আসবে। আর মেসি তো একটা মায়া, তার জন্য মন থেকে ভালোবাসা।’

    এদিকে বিশ্বকাপের পুরো সময়টায় আর্জেন্টিনার সমর্থনে সরব ছিলেন পরীমনি। দলের প্রতিটি জয় উদ্‌যাপন করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কখনো আকাশি-সাদা জার্সি পরে ভিডিও বানিয়েছেন, কখনো আবার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন পোস্টে।

    চিত্রনায়িকা পরীমনির বিয়ের ঘোষণা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট আলোচনায় আসে গত বুধবার দিবাগত রাতে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’ মজার ছলে দেওয়া সেই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েক লাখ প্রতিক্রিয়া ও হাজার হাজার শেয়ারে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

    পরীমনিফেসবুক থেকে

    ফাইনালের আগে সেই পোস্ট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেও পড়েছিলেন পরীমনি। গতকাল রোববার দুপুরে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব।’

    শুধু তা–ই নয়, বিয়ের পথে আরেকটি বড় বাধার কথাও তুলে ধরেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।’

    তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন যেমন পূরণ হয়নি, তেমনি আপাতত সত্য হচ্ছে না পরীমনির সেই বহুল আলোচিত বিয়ের ঘোষণাও। তাই ফাইনাল শেষে অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াতেই যেন ধরা পড়েছে আর্জেন্টিনা-ভক্তের আক্ষেপ—‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

  • ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    দীর্ঘ লড়াই শেষে স্পেনের জয়ের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা আসরের। জমজমাট এই আয়োজন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে এর আয়োজক ফিফা। রেকর্ড ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট থেকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ আয় হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শনিবার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী ফিফার এই মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

    আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি:

    ফিফা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা। বিশেষ করে চড়া দামের ‘সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট’ থেকে আয়ের বড় অংশ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন আদায় করে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবারও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিট পোর্টালে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজ হিসেবে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ ডলারে (প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    সদস্য দেশগুলোর লাভ ও ইনফান্তিনোর অবস্থান:

    বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বাম্পার রেভিনিউ বা রেকর্ড রাজস্বের সুবিধা ফিফার সদস্যভুক্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে সেই সম্পর্কিত চূড়ান্ত বিবরণী এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে মাসব্যাপী আয়োজিত বিতর্কের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থানকে ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের বিষয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে ফিফা নতিস্বীকার করেছে এমন অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর (এফএ) মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুবাদে অসন্তুষ্ট দেশগুলোও হয়তো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাবে না।

    এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে। পরবর্তী খালি থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার দেশ আবারও এটি আয়োজন করতে ইচ্ছুক এবং এবার তারা কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়া এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    স্পেনের উল্লাসে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে। কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই উৎসবের মধ্যেও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলো লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আলিঙ্গন। মুহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়। একজন নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যজন সদ্য হারানো স্বপ্নের ভারে নুয়ে পড়া কিংবদন্তি; দুই প্রজন্মের এই সাক্ষাৎ ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।

    অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পর যখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত স্প্যানিশ ফুটবলাররা, তখন ইয়ামাল সবার কাছ থেকে সরে গিয়ে মাঠের এক পাশে বসে থাকা লিওনেল মেসির দিকে হাঁটতে শুরু করেন।

    ৩৯ বছর বয়সি মেসি তখন নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ের বেদনায় ডুবে ছিলেন। ইয়ামাল তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মেসি উঠে দাঁড়ান। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছুক্ষণ ব্যক্তিগত কথা বলেন। কী কথা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি কেউ। তবে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

  • ‘ওরা ভালো খেলেছে, আমি দুঃখিত হার মেনে নিচ্ছি’

    ‘ওরা ভালো খেলেছে, আমি দুঃখিত হার মেনে নিচ্ছি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    “স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, তা ভুলে যাব। আমি আমার দেশের মানুষ, আমার সতীর্থ ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর গলায় রানার্সআপের মেডেল, চোখে অশ্রু আর কণ্ঠে প্রতিপক্ষের প্রতি অকপট স্বীকৃতি—লিওনেল মেসির প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল একই সঙ্গে সৌজন্য ও বেদনা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার রাতে নিজের ব্যর্থতার অজুহাত না খুঁজে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বই মেনে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হার মানে আর্জেন্টিনা।

    ফাইনালে বহু প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং, নিখুঁত মার্কিং ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে তিনি ছিলেন অস্বাভাবিকভাবে নিস্প্রভ। ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটে মেসি মাত্র দুবার বলে স্পর্শ করার সুযোগ পান। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটিও শট নিতে পারেননি তিনি। বল পায়ে তার স্বাভাবিক প্রভাব, ড্রিবল কিংবা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সেই পরিচিত জাদুও দেখা যায়নি।

    আসলে স্পেন এমনভাবেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল যে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ, বিশেষ করে মেসি, কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বল দখল, পাসিং, সুযোগ সৃষ্টি—প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আধিপত্য দেখায় লা রোজা। পুরো ম্যাচে মিনিটে শটের হিসাব ছিল স্পেন২০- আর্জেন্টিনা ২। এই দুটো শটও আবার আর্জেন্টিনা নেয় ম্যাচের ১১৭ মিনিটের পর। প্রথম নব্বই মিনিট স্পেনের পোস্টে কোনো অন টার্গেট শটই নিতে পারেনি তারা। শুধু শটে নয় পাসেও বড় ব্যবধান। পাসে স্পেন এগিয়ে ছিল ৮৪৫-৪৩৩ ব্যবধানে।

    ম্যাচ শেষে কান্না ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত। তবে আমি জানি, আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।”

    ফাইনালে ব্যর্থ হলেও পুরো বিশ্বকাপে মেসির অবদান ছিল অসাধারণ। ছয় ম্যাচে তিনি করেছেন ৭ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪টি গোল। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণ ছিলেন তিনি। নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচে তার গোল ও সৃজনশীলতাই দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। তবে শেষ মঞ্চে স্পেনের কৌশলী ফুটবলের সামনে সেই জাদু আর দেখা যায়নি।

    তারপরও হারকে মর্যাদার সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

    “ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু তাই বলে আমরা এই বিশ্বকাপে যা অর্জন করেছি, তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়,” বলেন মেসি।

    বিশ্বকাপ ট্রফি এবার হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু পরাজয়ের মুহূর্তেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে, নিজের দেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং চোখের জলে সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে মেসি আবারও দেখিয়ে দিলেন—মহানত্ব শুধু জয়ের মধ্যেই নয়, পরাজয়কে গ্রহণ করার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।

  • গোল্ডেন গ্লাবস পেলেন উনাই সিমন

    গোল্ডেন গ্লাবস পেলেন উনাই সিমন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরার স্বীকৃতি ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ পেয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন।

    পুরো আসরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের সাফল্যে বড় অবদান রাখেন তিনি। নকআউট পর্বে তার নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স স্পেনকে শিরোপার পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আসরে সবমিলিয়ে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন তিনি।

  • হার মেনে স্পেনকে কৃতিত্ব দিলেন স্কালোনি

    হার মেনে স্পেনকে কৃতিত্ব দিলেন স্কালোনি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়ে নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    পরাজয়ের পর হতাশা লুকাননি স্কালোনি। তবে তিনি মনে করেন, তার দল মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছে।

    স্কালোনি বলেন, ‘কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমরা জানি যে আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আমার অনেক কিছুই বলার আছে, কিন্তু এখন আর তা বলে লাভ নেই। আমি এই ছেলেদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

    স্পেনের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমার দারুণ সব স্মৃতি রয়েছে। আমাদের অবশ্যই স্পেনকে প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে হবে। জয়-পরাজয় দুই ক্ষেত্রেই উদারতা দেখাতে হয়। আমরা দেখিয়েছি যে আমরা হারতেও জানি।’

  • গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের ঝলক না থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়া কীভাবে সেরা হলেন তিনি?

    একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রির মূল দায়িত্ব গোলের হিসাব মেলানো নয়, বরং খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠকে সুতোয় বেঁধে রেখেছিলেন। বলের দখল রাখা, রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার সংযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করে দেওয়ায় রদ্রি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেনের রক্ষণভাগ যে পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, তার পেছনে রদ্রির রক্ষণাত্মক দক্ষতার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।

    রদ্রির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানের পাতায়। টুর্নামেন্টের ৮ ম্যাচে তিনি সফল পাস দিয়েছেন ৬৫০টিরও বেশি। মাঠে তার দৌড়ের পরিধি এবং উচ্চগতির দৌড়ের সংখ্যা ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিলেন রদ্রি। দলের প্রতিটি আক্রমণ বা রক্ষণাত্মক জমাট বাঁধার মুহূর্তে তিনি ছিলেন এক অবিচল স্তম্ভ।

    কেন মেসিকেও পেছনে ফেললেন রদ্রি?ফাইনালে হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেও গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে হেরেছেন রদ্রির কাছে। অনেকের কাছে এটি অবাক করা বিষয় হলেও, ফিফার মূল্যায়নের মানদণ্ড ভিন্ন। ফিফা শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান বা গোল-অ্যাসিস্ট দেখে সেরা নির্বাচন করে না। একজন ফুটবলারের খেলার সামগ্রিক প্রভাব, দলের প্রতি অবদান, ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। রদ্রি টুর্নামেন্টজুড়ে যে অসামান্য ভারসাম্য এবং দলগত শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন, সেটিই তাকে সবকিছুর উর্ধ্বে জায়গা করে দিয়েছে।

  • স্পেনের লাল ঝড়ে, সোনালি বিজয়

    স্পেনের লাল ঝড়ে, সোনালি বিজয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন শেষ বাঁশিটা বাজল, লিওনেল মেসির বিষণ্ন মুখের ওপর তখন ডুবে যাওয়া সূর্যের আলো– চার বছর আগের লুসাইলের সেই রূপকথার এক নির্মম, নিষ্ঠুর বৈপরীত্য! ‘দিবু’ মার্টিনেজের ১৩টি অতিমানবীয় সেভের সেই অবিশ্বাস্য দেয়াল, এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনার সেই আদিম ডিফেন্স– সবকিছু স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ফুটবলের স্বর্গীয় সিংহাসন ছিনিয়ে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।

    লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসদের গতিময় উইং-প্লে আর মাঝমাঠের নিখুঁত তিকিতাকার অলকানন্দায় ভেসে গেল স্কালোনির রক্ষণাত্মক সাম্রাজ্য। ১-০ গোলে স্পেনের রক্তকরবীর কাছে মাথা নত করতে হলো আর্জেন্টিনাকে। ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে মেসি-যুগের এক মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব ফুটবল দেখল এক নতুন সূর্যোদয়, যেখানে মেসির রাজমুকুট কেড়ে নিয়ে নিউ জার্সির বুকে রাজ্যাভিষেক হলো একুশ শতকের নতুন ফুটবল সম্রাট– স্পেনের! ২০১০ সালের পর ফের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    যারা বিশ্বাস করেছিলেন, ফুটবল-ঈশ্বর মেসিকে শূন্য হাতে ফেরাবেন না, তারা এদিন এক মহাসত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্তব্ধ। স্প্যানিশ ফুটবলের সেই উদ্ধত, তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নিখুঁত জ্যামিতির কাছে পরাস্ত হলো লাতিন আমেরিকার চিরন্তন ঘরানা। স্পেনের তিকিতাকার সেই মরণকামড়ে নীল-সাদার স্বপ্ন আজ যেন ডানাভাঙা পাখির মতো আছড়ে পড়ল মাঠের সবুজ ঘাসে। ৩৯ বছরের এক ক্লান্ত জাদুকর, যাঁর কাঁধে চেপে বিগত কয়েক বছর এক অবিনাশী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল আর্জেন্টিনা, আজ তাঁর শরীরেও যেন ভর করেছিল এক অসহনীয় ক্লান্তি এবং অবসাদগ্রস্ততা। মাঝমাঠে রদ্রি-ইয়ামালদের সেই ত্রাসজাগানিয়া ক্ষিপ্রতা আর স্পেস-ফুটবলের আগ্রাসনের সামনে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছিল।

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচ রিপোর্ট লিখতে বসে পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে যে কোনো ফুটবল রোমান্টিকের বুক কেঁপে উঠবে– পুরো ৯০ মিনিটে অবিশ্বাস্য ৬৬.৩ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখেছিল স্প্যানিশ আর্মাডা, যেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্রেফ ৩৩.৭ শতাংশ বলের মালিকানা নিয়ে কোণঠাসা হয়ে ধুঁকেছে। গোলমুখের নির্মম সত্যটা আরও ভয়াবহ– যেখানে স্পেনের আক্রমণাত্মক ঝড়ের ১৭টা কামানের গোলা আছড়ে পড়েছে, সেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার পাশে জ্বলজ্বল করছে এক বড় শূন্য! ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে এই নীল-সাদা ব্রিগেডকে চেনাই যায়নি। ভাগ্যদেবীর অশেষ কৃপায় বারবার নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে বেঁচেছে তারা। কিন্তু ৯০ মিনিটে নাটকের আসল ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল। স্পেনের ২৩ বার প্রতিপক্ষের বক্সে সশব্দে ঢুকে পড়ার বিপরীতে স্কালোনির দল মাত্র দুবার পা ছোঁয়াতে পেরেছিল লা রোজাদের দুর্গে। স্প্যানিশদের ৬৪৭টি নিখুঁত পাসের আলপনার সামনে মেসিদের ৩৩৭টি পাস আর ৭৯.৫ শতাংশ পাসিং অ্যাকুরেসি স্রেফ খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। তার ওপর ম্যাচের অন্তিমলগ্নে যখন এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন, তখন আর্জেন্টিনাকে বাধ্য হয়েই অলআউট ডিফেন্সের এক নরক যন্ত্রণার গহ্বরে সেঁধিয়ে যেতে হলো।

    সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের সমস্ত ট্যাকটিকসকে একা বুক দিয়ে রুখে দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; একের পর এক ১৩টি অতিমানবীয় গোল সেভ করে তিনি যেন একাই আস্ত একটা প্রাচীর! ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিকো উইলিয়ামসের সেই হৃৎস্পন্দন থামিয়ে দেওয়া বুলেট কিক কিংবা তার আগে লামিনে ইয়ামালের বিষাক্ত ফ্রিকিক– সবকিছুই এসে আছড়ে পড়ল দিবুর ওই ইস্পাতকঠিন গ্লাভসে। ১৯টি ফাউল করে ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করা আর্জেন্টিনাকে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও যে কোনো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেননি রদ্রি-পেদ্রিরা, তার একমাত্র কারণ মাঝমাঠের ওই সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

    একটা চেষ্টা ছিল আর্জেন্টাইনদের– যদি কোনো অলৌকিক উপায়ে টাইব্রেকার বা অতিরিক্ত সময়ে ভাগ্য বদলে দেওয়া যায়। কিন্তু প্রতিবারই কি ভাগ্য সহায় হয়! তা ছাড়া ভাগ্য তো থাকে সাহসীদের সঙ্গে। এত ভিতু আর্জেন্টিনাকে এর আগে কবে দেখা গেছে? প্রেসবক্সে গজগজ করতে থাকা পাশের আর্জেন্টাইন সাংবাদিক বলে দিলেন– মেসি-উত্তর এই দল আরও বিপদে পড়বে সামনে!

  • ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ মাঠে বসে দেখতে মরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম টিকিট সংকট। পুনর্বিক্রির বাজারে একটি টিকিটের দাম উঠেছে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার। যার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেও কমেনি টিকিটের চাহিদা। টিওয়াসি স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, স্টাবহাব ও টিকিটমাস্টারের মতো পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে সর্বনিম্ন টিকিটের দামই শুরু হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাধারণ টিকিটের সুযোগ এরই মধ্যে প্রায় শেষ। এখন অবশিষ্ট আছে কেবল হসপিটালিটি বা ভিআইপি ক্যাটাগরির টিকিট, যার দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে-বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ। টিকিট সংকটের এই চিত্র শুধু স্টেডিয়াম চত্বরেই সীমাবদ্ধ নেই, দেখা গেছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও।

    সেখানে অনেক সমর্থককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ‘টিকিট চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে। এই ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য যেকোনো অঙ্কের অর্থ খরচ করতেও প্রস্তুত তারা। আবার অনেকে অপেক্ষায় আছেন শেষ মুহূর্তে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার আশায়। ফাইনালকে ঘিরে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা ও স্পেন-দুই দলেরই সমর্থকরা। তবে সংখ্যায় স্পষ্টতই এগিয়ে ছিলেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।

    লিওনেল মেসিদের সমর্থনে মুহূর্তেই যেন বুয়েনস আয়ার্সে রূপ নেয় নিউইয়র্কের এই বিখ্যাত চত্বর। মজা করে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডেও একে ‘আর্জেন্টাইনস স্কয়ার’ নামে দেখানো হয়। আর্জেন্টাইনদের এই দাপুটে উপস্থিতির মধ্যেও নিজেদের মতো করে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন স্পেনের সমর্থকরাও। বৃষ্টিও বাধা হতে পারেনি দুই দলের সমর্থকদের উদযাপনে।

  • বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকায় একটি কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে মঞ্চ মাতাবেন সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান।

  • স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

    এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

    অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

    অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

  • ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা অনেকের কাছেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    লিওনেল মেসি পুরো আর্জেন্টিনা দলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘একটা পরিবার। গত কিছু বছরে কয়েকটা খেতাব জয়ই শুধু নয়, পুরো যাত্রা পথটাই ছিল অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিনের পথ চলা, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো সবকিছুই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমরা। আমার প্রত্যেক সতীর্থ, দলের সব টেকনিক্যাল স্টাফ এবং সেই সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাদের জাতীয় দলকে পরিবারের মতো ধরে রাখতে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন। রবিবার যাই হোক না কেন, এই দলটা এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে, যেটা আমরা কখনও ভুলব না। গল্পটা কেউ মুছে দিতেও পারবে না।’

    তিনি লিখেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমরা অনুভব করতে পারছিলাম। জানি, সমর্থকরা যে কোনও ম্যাচের থেকে বেশি ওই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। প্রথমত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। দ্বিতীয়ত, জিততে পারলে আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর তাৎপর্য অপরিসীম। আমি জানি আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা খুশি হয়েছেন। আমার মা, পরিবারের অন্যেরা আমাকে মানুষের উদ্‌যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনাবাসীকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত।’

    বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর অনুশীলন করেছি। নিজেকে শারীরিক ভাবে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখতে সর্বস্ব দিয়েছি। এই মুহূর্তে শুধু উপভোগ করতে চাই। গত বিশ্বকাপ জয় বা অন্য কোনও ট্রফির কথা বলছি না। এই দল সব সময় নিজেদের সেরাটাই দেয়। এই দল কারও কাছে ঋণী নয়। আমাদের এই দল কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয় না। আমরা আমাদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি।’

    এ নিয়ে তৃতীয়বার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেন মেসি। ২০১৪ সালে রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাকে। সেবার জার্মানির কাছে হেরে যায় তার আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপ মেসিকে হতাশ করেনি। হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এ বার সামনে স্পেন।

  • মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের সবচেয়ে বড় ভাবনার নাম লিওনেল মেসি। তাকে আটকাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেণ তারা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

  • স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    মাঠের খেলায় শেষ পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাস টিকে না। কিন্তু তারপরও শক্তিমত্তার হিসাব-নিকাশ থেকে কৌশল ও পারফরম্যান্সের কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এমন পাঁচটি দিক তুলে ধরেছে, যেগুলো আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।

    পজিশনগুলোর দ্বৈরথ
    স্পেনের ডান প্রান্তে লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে অন্যতম প্রধান দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। চোটের কারণে আসরের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বর্তমানে ইয়ামাল চেনা ছন্দে ফিরছেন। তাঁকে সামলাতে বেগ পেতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মাঠের অপর প্রান্তে লিওনেল মেসিকে সামলাবেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবার্সি। মার্কারদের (পাহারা দেওয়া ডিফেন্ডার) চোখ ফাঁকি দিতে মেসি প্রায়ই মাঠের একটু নিচে নেমে যান। চলতি আসরেও সে প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে লাপোর্তে ও কুবার্সির জন্য মেসিকে সামলোর কাজ বেশ কঠিন।

    এছাড়া, স্পেনের হয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার দুই মারকুটে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের।

    শৈলীর লড়াই
    এবারের ফাইনালে ফুটবলের দুটি বিপরীতমুখী দর্শনের মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে। পুরো আসরে মাত্র একটি গোল খাওয়া স্পেন, বলের ওপর তাদের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফাইনালে উঠেছে। তারা বল নিজেদের দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে যেমন কোণঠাসা করে ফেলে, তেমনি মাঠের ওপরের দিকে বল কেড়ে নেওয়ার জন্য ‘কাউন্টার প্রেস’ ব্যবহার করে।

    এই কৌশলের সফল প্রয়োগ দেখা গেছে সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের কিলিয়ান এম্বাপে গোল করার তেমন কোনো সুযোগই পাননি।

    বিপরীতে, আর্জেন্টিনা এই আসরে টিকে আছে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সরাসরি আক্রমণের (ডিরেক্ট ফুটবল) ওপর ভর করে। আসরে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে তারা যেমন বেশি গোল করেছে, তেমনি হজমও করেছে সাতটি।

    ফাইনালে ওঠার পথে আলবিসেলেস্তেরা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো দুটি মহাকাব্যিক ম্যাচ খেলেছে। দুইবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। যা দেখায়, প্রচণ্ড চাপের মুখে যেকোনো উপায়ে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটি বেশ আত্মবিশ্বাসী।

    মেসির জাদু
    সবশেষ কয়েকটি ম্যাচে লিওনেল মেসির ভূমিকায় একটু পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি নিজে গোল না করে আক্রমণ তৈরি করার দিকে মনোযোগী ছিলেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করা দুটি গোলেই তিনি অবদান রেখেছেন। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি আক্রমণ শুরু করায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো- কীভাবে মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখা এবং খেলার মতো জায়গা (স্পেস) দেওয়া থেকে বিরত রাখা যায়?

    একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ ও দ্রুত প্রেসিংয়ের কৌশলটি মেসিকে আটকানোর জন্য বেশ উপযোগী। এই কৌশলের মাধ্যমে যেসব পকেটে (মাঠের ফাঁকা জায়গা) মেসি চেনা ছন্দে খেলেন, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া যায়। ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেন যেভাবে খেলেছে, সেটির পুনরাবৃত্তি করতে পারলে, কোনো ক্ষতি করার আগেই মেসিকে বলের জোগান থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা হয়তো স্পেনের এই প্রেসিংকে মাঠের আরও ওপরের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করবে। এর লক্ষ্য থাকবে স্পেনের ডিফেন্সের পেছনে ফরোয়ার্ড ও উইঙ্গারদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করা।

    মাঝমাঠের লড়াই
    আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে এনজো ফার্নান্দেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয়ে। সেই ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব বর্তাবে স্পেনের ব্যালন ডি’অর (২০২৪) জয়ী রদ্রির ওপর। পুরো টুর্নামেন্টে স্প্যানিশদের মাত্র একটি গোল খাওয়ার পেছনে মূল চাবিকাঠি ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা। এক্ষেত্রে বল দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষেত্রে রদ্রি সাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।

    আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের শেষ প্রান্তে (ফাইনাল থার্ড) বল ছাড়া মুভমেন্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এনজো ফার্নান্দেস। বিশেষ করে মেসি যে ফাঁকা জায়গাগুলো (পকেট) তৈরি করে যান, তিনি সেগুলোতে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টার গোল শট নেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করেন। তাদের এই তৎপরতা ডি পল ও লেয়ান্দ্রো পারেদেসের রক্ষণাত্মক শক্তির সঙ্গে দারুণ এক ভারসাম্য তৈরি করে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের এই শারীরিক শক্তি ও আগ্রাসী রূপের বিপরীতে দেখা যাবে স্পেনের রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের নিখুঁত টেকনিক্যাল নিয়ন্ত্রণ।

    নেতৃত্ব পরিবর্তনের মুহূর্ত
    এবারের ফাইনাল ম্যাচটি স্কোরলাইনের চেয়েও গভীর এক প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ভাইরাল হওয়া শৈশবের একটি ছবি দুই খেলোয়াড়কে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।

    স্পেন যদি এই ম্যাচে জয় পায়, তবে সেটি ফুটবলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হবে। যেখানে মেসির পর ফুটবল বিশ্বের পরবর্তী প্রধান তারকা হিসেবে ইয়ামালের অভিষেক ঘটবে।

    তাই, দ্বিতীয়বারের মতো স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলে, ফাইনাল ম্যাচটি কেবল ফলাফলের জন্য নয় বরং প্রজন্মের ব্যাটন হস্তান্তরের ইতিহাস হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    খেলাধুলার জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর বলা যায় ফুটবলকে। আর এই খেলাটির সবচেয়ে বড় আসর ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চস্থ হতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। শিরোপার লড়াইয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠা স্পেন।

    বাংলাদেশে ফুটবলের কোটি কোটি ভক্ত। বিশেষ করে ফাইনালে দর্শকদের বড় একটি অংশ পাশে থাকবে আকাশী-নীলদের। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রিকেটের তারকারাও খেলার ব্যস্ততার ফাঁকে ফাইনালে চোখ রাখছেন। পাশাপাশি বিসিবির পরিচালকরাও সমর্থন দিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের দলকে।

    বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গ্রুপ পর্বে করা নিজের সবকটি প্রেডিকশনই ঠিকঠাক দিয়ে রীতিমতো সফল ‘জ্যোতিষী’ বনে গেছেন শান্ত। তবে ফাইনাল নিয়ে নিজের প্রেডিকশন দিতে নারাজ তিনি।

    নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই কষ্টার্জিতভাবে জিতেছে আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে শান্ত বলেন, বিশেষ করে প্রথমার্ধটা আইসিইউতে ছিলাম, অপেক্ষায় ছিলাম ম্যাজিক হবে কি না। আলহামদুলিল্লাহ হয়েছে। খেলা দেখে যেরকম টেনশন কাজ করে, চাই না এই টেনশন ফাইনালেও তারা দিক।

    ফাইনালের ফলাফল নিয়ে কৌশলী শান্ত বলেন, আমরা প্রায় প্রতি ম্যাচে খেলছি ৭০ মিনিটের পর গিয়ে! এ কারণে একটু ডিফেন্সিভ উত্তর দেওয়াই ভালো! তবে তার আশা আর্জেন্টিনাই জিতবে। তিনি বলেন, ফাইনালের প্রেডিকশন করব না। দুই দলই খুব ভালো দল। আর্জেন্টিনার ফ্যান হিসেবে এগিয়ে রাখলাম আর্জেন্টিনাকে। আর প্রেডিকশন করায়েন না! ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় আর্জেন্টিনা জিতবে।

    গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের প্রেডিকশন স্কোরসহ হুবহু মিলে যাওয়া নিয়ে শান্ত জানালেন, ক্যাজুয়েলি বলে দিয়েছিলাম। সেভাবে চিন্তা করিনি। তবে আর্জেন্টিনা যেমন দল ছিল, যাদের সঙ্গে খেলা ছিল, জেতা উচিৎ ছিল। ঐ ধারণা করেই করা। ওরকম সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করে করেছি তা নয়। এরপর অনেক ফোন এসেছে, ম্যাসেজ এসেছে। বিশেষ করে যারা ব্রাজিলের সমর্থক তারা অনেক জানার চেষ্টা করেছে। এটা শুধু ফান ছিল, ক্যাজুয়েলি বলে দেওয়া।

    আর্জেন্টিনার মহাতারকা মেসিকে নিয়ে শান্ত বলেন, যতদিন ধরে ওর খেলা দেখছি সবসময় উপভোগ করেছি। কাপ পেলে আরও ভালো লাগবে। জানি না ও আরও খেলবে কি না। তবে যতদিন খেলা দেখেছি খুবই উপভোগ করেছি। ও যথেষ্ট অর্জন করেছে।

  • ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    নিউইয়র্কের ফাইনাল সামনে রেখে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন নিজের মতো করে। টনি ক্রুসও করলেন। ভাইয়ের পডকাস্টে জার্মানির এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তার বাজি স্পেনের পক্ষে।

    নিজের ভাবনার পেছনের কারণও খোলাসা করেছেন ক্রুস। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে তিনি জার্মানির চেয়ে ভালো মনে করেন না। যদিও জার্মানি এবারের আসরের নকআউট পর্বের শুরুতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে।

    শঙ্কার নানা বাঁক পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনালে উঠে আসার নেপথ্যে লিওনেল মেসির ভূমিকা দেখছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তিনি ভেবেছিলেন কাতার বিশ্বকাপই শেষ মেসির।

    অনেকের মতো ক্রুসের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে ছুটছেন তিনি দুর্বার গতিতে। তবে, মেসির প্রশংসার পঞ্চমুখ হলেও ক্রুস ফাইনালে আর্জেন্টিনার তেমন কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না।

    ক্রুস বলেন, যদি স্পেন ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, ভুলে যাও, আরও তিন-চার গোল করবে। আর্জেন্টিনা সমাধানের পথ খুঁজে পাবে না। আর্জেন্টিনা জার্মানির চেয়ে ভালো দল নয়, কিন্তু তাদের মানসিকতা অবিশ্বাস্য।

    টনি ক্রুস আরও বলেন, তাদেরকে ফাইনালে নিয়ে এসেছে মেসি। আমার উপলব্ধি, মেসির বুদ্ধিমত্তা বেড়েই চলেছে। আমি ভেবেছিলাম, ২০২২ বিশ্বকাপই তার শেষ।

    নিউইয়র্কে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় (এএম) উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে এক টিকিটের দাম ৭৪ লাখ টাকা!

    বিশ্বকাপ ফাইনালে এক টিকিটের দাম ৭৪ লাখ টাকা!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ফাইনালকে ঘিরে সেই দাম এখন আরও বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে ফাইনালের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে।

    শনিবার ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪১১ দশমিক ২৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

    এরপর সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্যও প্রায় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছে যায়। স্টেডিয়ামের আপার ডেকের কর্নার অংশের এসব টিকিটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা।

    মাঠের কাছাকাছি আসনের টিকিট কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। আর বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিটের মূল্য উঠেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকার সমান।

    টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম সিটগিক ও স্টাবহাবেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে আপার ডেকের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। লোয়ার বোলের কিছু আসনের মূল্য পৌঁছেছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলারে।

    এবারের ফাইনাল ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহের বড় কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। পাশাপাশি এটি বিশ্বকাপে মেসির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ বলেও ধরা হচ্ছে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে। সর্বশেষ ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল।

    অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন। চলতি আসরে মেসি এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।

    বিশ্বকাপের আগে গত মার্চে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত দুই দলের লড়াই হচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

  • এমবাপ্পের আক্ষেপ , ‘মেসি তো ফাইনালে গোল করবেই’

    এমবাপ্পের আক্ষেপ , ‘মেসি তো ফাইনালে গোল করবেই’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি ভেঙেছেন লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের রেকর্ড। কিন্তু ব্যক্তিগত এই অর্জনও ফরাসি অধিনায়কের হতাশা দূর করতে পারেনি। কারণ, তার কাছে রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ।

    শনিবার মায়ামিতে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে তৃতীয় স্থানও হাতছাড়া করে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে অকপটে বলেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের আনন্দ ছাপিয়ে তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে ফাইনালে না খেলতে পারার আক্ষেপ।

    বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যাওয়া এমবাপ্পে বলেন, “আমি সবসময় দলের জন্য গোল করতে চাই। এত গোল করতে পারা অবশ্যই বিশেষ কিছু। কিন্তু সত্যি বলতে, এই রেকর্ড না পেলেও যদি ফাইনাল খেলতে পারতাম, সেটাই বেছে নিতাম।”

    রোববার স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিয়েও নিজের ধারণা জানিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসিকে নিয়ে হাসিমুখেই তিনি বলেন, “লিও তো সবসময়ই গোল করে। কালও (আজ) সে অবশ্যই গোল করবে।”

    বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেও আপাতত সেটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন এমবাপ্পে, “ফুটবল ক্যারিয়ারের উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসির দিক থেকে এটি অবশ্যই দারুণ অর্জন। হয়তো অবসরের পর একদিন ভাবব, আমিও কিংবদন্তিদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে এসব আমার মাথায় নেই।”

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। এমন হতাশাজনক শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “প্রথমার্ধ দেখে সমর্থকরা যদি হতাশ হয়ে থাকেন, আমি সেটা বুঝতে পারি। আমরা মানুষ, খারাপ দিন আসতেই পারে। প্রথমার্ধে আমরা পুরোপুরি ছন্দহীন ছিলাম।”

    তবে বিরতির পর দলের লড়াইয়ের প্রশংসাও করেন তিনি, “দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের আসল রূপে ফিরেছিলাম। অনেক বেশি তীব্রতা আর আবেগ নিয়ে খেলেছি। আমরা দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটি ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।”

    এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়ালেন দিদিয়ের দেশম। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তাই প্রিয় কোচকে জয় দিয়ে বিদায় জানাতে না পারার আক্ষেপও ঝরে পড়ে এমবাপ্পের কণ্ঠে।“আমরা তার জন্য বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে মনে হয়েছে যেন আমরা তাকে হতাশ করেছি। আমরা তাকে এভাবে বিদায় জানাতে চাইনি। ফ্রান্সের ফুটবলের জন্য তিনি যা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একটি ম্যাচের হার কখনোই তার কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ারকে ম্লান করতে পারবে না।”- বলেন ফরাসি অধিনায়ক।

  • মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড মার্টিনেজ

    মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড মার্টিনেজ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ কেবল একজন প্রথাগত গোলরক্ষক নন, মাঠের একজন দুর্দান্ত পারফর্মার এবং খাঁটি ম্যাচ-উইনারও। ফুটবল ইতিহাসে খুব কম গোলরক্ষকই আছেন যারা একক দক্ষতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের পুরো দলের ওপর মানসিক আধিপত্য বিস্তার করতে পারেন। মার্টিনেজ ঠিক সেই বিরল ঘরানার একজন খেলোয়াড়। বিশেষ করে নকআউট পর্বের চরম চাপের মুখে এবং পেনাল্টি শুটআউটের সময় প্রতিপক্ষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করায় বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা মাস্টারমাইন্ড।

    মার্টিনেজের খেলার মূল শক্তি তার অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স, বিশাল শারীরিক উপস্থিতি এবং শূন্যে বল দখলের কৌশলে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ। ডি-বক্সের ভেতর নিজের রাজত্ব বজায় রাখতে দারুণ পটু। অন্য অনেক গোলরক্ষক যেখানে শুধু ট্যাকটিক্যাল পজেশনিংয়ের ওপর নির্ভর করেন, মার্টিনেজ সেখানে নিজের সহজাত প্রবৃত্তির ওপর ভরসা করেন বেশি। যখনই দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখনই নিজের সেরা সেভটি বের করে আনেন—যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক শেষ মুহূর্তের সেভ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

    মাঠে মার্টিনেজ চলেন তীব্র আগ্রাসন আর আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাসের জোরে। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিপর্যস্ত করতে নানারকম অঙ্গভঙ্গি, কথা বলা ও স্লেজিং ব্যবহার করেন। তার এই আক্রমণাত্মক মনোভাব অনেক সময় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিতর্কের জন্ম দিলেও আর্জেন্টিনার জন্য তা সব সময়ই এক জাদুকরী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আলবিসেলেস্তেদের জন্য একজন অভেদ্য দেয়াল এবং দলের খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। চাপের মুখে দমে না গিয়ে আরো বেশি জ্বলে ওঠেন, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও স্মরণীয় গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরার পর থেকে এখনো প্রতিদিনই ব্যথা অনুভব করেন মার্টিনেজ। তারপরও অস্ত্রোপচার না করিয়ে খেলে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই বাজপাখি। ফাইনালেও একই কাজ করতে প্রস্তুত।

  • মেসিকে থামাতে স্পেনের ‘তিন স্তরের ফাঁদ’

    মেসিকে থামাতে স্পেনের ‘তিন স্তরের ফাঁদ’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসিকে থামানোই স্পেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চলতি আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করা আর্জেন্টাইন অধিনায়কই আলবিসেলেস্তাদের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে।

    প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

    ফলে ফাইনালে লড়াইটা শুধু মেসি বনাম স্পেন নয়; বরং দুই কোচের কৌশলগত দাবা খেলাও। একদিকে মেসির সৃজনশীলতা ও আর্জেন্টিনার অভিযোজন ক্ষমতা, অন্যদিকে স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং ও সমন্বিত রক্ষণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা নির্ধারণে এই কৌশলগত দ্বৈরথই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

  • ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের স্মৃতি কি তবে আবারও ফিরছে স্পেনের ফুটবলে? তৎকালীন স্প্যানিশ দলের মেরুদণ্ড ছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে স্পেন, আর এবারের দলের মূল শক্তিও সেই বার্সেলোনাই। বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা আট ফুটবলারই বার্সেলোনার। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি স্বয়ং বার্সা কিংবদন্তি। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন কাতালান ক্লাবটিতে।

    স্পেনের এই দলটিতে লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা আট খেলোয়াড় হলেন— লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং পাউ কুবারসি। ম্যাচের শুরুতেই লামিন ইয়ামাল ডি বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন, যা থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল।

    দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে পেদ্রো পোরো গোল করলে ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ষণভাগে পাউ কুবারসির দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ফরাসি আক্রমণভাগকে কোনো সুযোগই দেয়নি। বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস এবং পেদ্রি মাঝমাঠ ও আক্রমণে প্রাণসঞ্চার করেছেন। এছাড়া স্কোয়াডে থাকা জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া ও গাভি—পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। বার্সেলোনার এই আট খেলোয়াড়ই এখন স্পেনের শিরোপা জয়ের মূল সারথি।

    বার্সেলোনা বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলাররা এখন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০১০ সালে যখন স্পেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখনও দলটির স্কোয়াডে বার্সেলোনার নয় জন খেলোয়াড় ছিলেন—ভিক্টর ভালদেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনা। সেই ইতিহাসের যেন আবারও পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় ঢুকেছিলেন লিওনেল মেসি। এখন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের একজন। বার্সেলোনার হয়ে এমন কিছু নেই যা তিনি জেতেননি। বার্সেলোনায় যাকে মেসির পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সেই লামিনে ইয়ামালও লা মাসিয়ার প্রোডাক্ট। ফাইনালের আগে ইয়ামালকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মেসি। মাঠের খেলায় তাকে আটকে রাখার কথাও বলেছেন। ফাইনাল ম্যাচটি তাই হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার দুই প্রজন্মের লড়াই।

  • অবসর নিয়ে এবার ভোল পাল্টালেন মার্তিনেস

    অবসর নিয়ে এবার ভোল পাল্টালেন মার্তিনেস

    টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে এখন আর্জেন্টিনা। আগামীকাল নিউজার্সিতে স্পেনকে হারালেই তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ ধরে রাখার কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে যখন এমিলিয়ানো মার্তিনেস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, তখন এসেছে তাঁর অবসরের প্রসঙ্গ।

    মার্তিনেসের অবসরের প্রসঙ্গ ফের এল তাঁর ২০২৪ সালে একটা কথার ওপর ভিত্তি করে। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের দুই বছর পূর্তিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি দুটি বিশ্বকাপ জিতি, তাহলে অবসর নেব।’ স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে অবসর নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তা উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।

    অবসর নিয়ে কথাবার্তা যে হয়নি, ব্যাপারটা তা নয়। তবে আপাতত আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক বর্তমানে বাঁচতে চান। আপাতত আগামীকালের ফাইনালে নিয়েই তিনি ভাবছেন। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের আগে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আজ বলেন, ‘হ্যাঁ, সেটা (অবসরের প্রসঙ্গ) এএফএর অনুশীলন মাঠে নিকোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় এসেছিল। কিন্তু আগে আমাদের জিততে হবে। এখন আমার পুরো মনোযোগ শুধু সেটাতেই (ফাইনাল)।’

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর জয়রথ ছুটছে আর্জেন্টিনার। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ টানা ১৩ ম্যাচ জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। মূল ম্যাচ তো বটেই, টাইব্রেকারে গড়ালে মার্তিনেস রীতিমতো বাজপাখি হয়ে যান। যাঁকে ভেদ করে গোল দেওয়া প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য রীতিমতো কঠিন হয়ে যায়। গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল—এই দুই ম্যাচে পেনাল্টিতে মার্তিনেস-বীরত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে একের পর এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতলেও কোনোটাতে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে যায়নি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে মার্তিনেস বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের তুলনায় এই বিশ্বকাপটা অনেক বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমার দিকে খুব বেশি শট আসেনি। তবু তারা গোল করেছিল। আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় এখন পা দিয়ে (বল নিয়ন্ত্রণ ও পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে) আরও ভালো খেলছি। রোববার মাঠে নামব। আমাকে আপনারা হাসিমুখেই দেখতে পাবেন।’

    ফিফা গত রাতে নিশ্চিত করেছে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের জার্সি। দুই দলই হোম জার্সি পরে খেলবে। তবে দুই দলকে আলাদা করে চেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির সঙ্গে সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরবে। এই জার্সি পরে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এদিকে স্পেন লাল জার্সির সঙ্গে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) শর্টস ও মোজা পরে খেলবে। স্প্যানিশরা ২০১০ সালে একই জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

  • এই খাবার ছাড়া আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের চলেই না

    এই খাবার ছাড়া আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের চলেই না

    লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, রদ্রিগো ডি পল কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ—মাঠে তাঁদের লড়াইয়ের শক্তির পেছনে আছে আরেকটি অভিন্ন ভালোবাসা। সেটি হলো ‘আসাদো’। স্থানীয় পদ্ধতিতে আগুনে সেঁকা বা বারবিকিউ করা এই খাবার আর্জেন্টিনার খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। বিশ্বকাপ খেলতে এসে এবারও নিজেদের দেশের স্বাদ ধরে রাখতে আর্জেন্টিনা দল সঙ্গে এনেছে বিপুল পরিমাণ গরুর মাংস, যা দিয়ে তৈরি হবে আসাদো।

    স্প্যানিশ শব্দ ‘আসাদো’ অর্থ মূলত পোড়া বা গ্রিল করা মাংস। কাঠকয়লার আগুনে ধীরে ধীরে গরুর মাংস, পাঁজর, সসেজ কিংবা মাংসের বিভিন্ন অংশ গ্রিল করে তৈরি করা হয় এই ঐতিহ্যবাহী খাবার। ভেড়া ও ছাগলের মাংস দিয়েও আসাদো বানানো হয়, তবে আর্জেন্টিনায় সবচেয়ে জনপ্রিয় আসাদো তৈরি হয় গরুর মাংস দিয়ে।

    স্প্যানিশ শব্দ ‘আসাদো’ অর্থ মূলত পোড়া বা গ্রিল করা মাংসছবি: পেক্সেলস

    ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা দল যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে নিজেদের বেজক্যাম্পে আগেভাগেই বিভিন্নভাবে কাটা প্রায় ৫০০ কেজি গরুর মাংস পাঠিয়েছে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) নীতিমালা মেনেই বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই মাংস আমদানি করা হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কাছে আসাদো শুধু একটি খাবার নয়, এটি দলীয় সংস্কৃতিরও অংশ। ম্যাচের আগে দলীয় ডিনার, অনুশীলনের বিরতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জয় উদ্‌যাপন—সব ক্ষেত্রেই থাকে আসাদো। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই বারবিকিউ আয়োজন। অনেকের মতে, আসাদোর টেবিলেই আরও দৃঢ় হয় দলের পারস্পরিক বন্ধন।

    আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কাছে আসাদো শুধু একটি খাবার নয়, এটি দলীয় সংস্কৃতিরও অংশছবি: ভিডিও থেকে

    আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে ফুটবল যেমন জাতীয় পরিচয়ের অংশ, তেমনি আসাদোও তাদের জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য উপাদান। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও প্রিয় এই খাবার থেকে দূরে থাকতে রাজি নন মেসিরা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের দেশের স্বাদও তাঁরা ধরে রাখতে চান বিশ্বের অন্য প্রান্তে।

    সূত্র: দ্য সান, এনডিটিভি

  • টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম—লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নামা আর্জেন্টিনার দুই দলের পার্থক্য শুধু সাড়ে তিন বছরের। ঠিক যেখানে বিশ্বকাপ আসর শেষ করেছিল আলবিসেলেস্তেরা, সেখান থেকেই যেন শুরু করেছে তারা। ২২ বিশ্বকাপে যাঁদের ওপর ভরসা করে ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি, তাঁদের ওপর ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে।

    স্কালোনির জন্য শাপেবর ছিল গত বিশ্বকাপের স্কোয়াড। সেই স্কোয়াডের গড় বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। এর মধ্যে অভিজ্ঞতার ভান্ডার নিয়ে আসা মেসি, আনহেল দি মারিয়া ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে বাদ দিলে স্কোয়াডটা পরিণত হতো তারুণ্যের সমাহারে। ২৬ জনের দলে ৩০–এর কোটা পার করেছিলেন ৭ জন। এর মধ্যে দুজন ছিলেন বেঞ্চে বসা গোলরক্ষক।

    ৩০ পার করা অভিজ্ঞ পাপু গোমেজ, মার্কোস আকুনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন তরুণ এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, হুলিয়ান আলভারেজরা। একেবারে প্রথম দিন থেকেই একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এসব তরুণ তুর্কিরা। ফলে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হোঁচট খেলেও ঠিকই বিশ্বকাপ নিয়েই কাতার থেকে ফিরেছিল আর্জেন্টিনা। আলভারেজ, ফার্নান্দেজদের সঙ্গে মেসি-দি মারিয়ার জুটি মিলে সমাপ্তি টেনেছিল ৩৬ বছরের অপেক্ষার।

    চার বছরে স্কালোনির সেই স্কোয়াড বড় হয়েছে, বয়স ও অভিজ্ঞতা—দুটোতেই। চার বছরে দুই দলের স্কোয়াডে পরিবর্তন এসেছে মোট ৯টি জায়গায়। কিন্তু বেশির ভাগ পরিবর্তনই এসেছে বেঞ্চে, একাদশের আশপাশে বলার মতো পরিবর্তন এসেছে মাত্র দুটি। ফুটবলকে বিদায় জানানো দি মারিয়া আর অফ ফর্মের কারণে বাদ পরা পাওলো দিবালা। এই দুজনকে বাদ দিলে দুই বিশ্বকাপের একাদশে পার্থক্য খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফিফা

    গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের সঙ্গে যদি এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের একাদশ মেলানো হয়, সেখানে পরিবর্তন চোখে পড়বে মাত্র একটি—দি মারিয়ার জায়গায় এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। চার বছর পর এসেও একই দলের ওপর ভরসা রাখা, সেই দলকে নিয়ে পারফর্ম করা কিন্তু সহজ কথা নয়। স্কালোনি সেটাই করে দেখিয়েছেন। তৈরি হওয়া সমস্যার খুঁজেছেন নতুন সমাধান।

    দি মারিয়া চলে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্ত অনেকটাই অকার্যকর হয়ে আছে। তাগলিয়াফিকোর সঙ্গে দি মারিয়ার যে রসায়ন ছিল গত বিশ্বকাপে, সেটা তো নেই-ই। সঙ্গে বয়সের কারণে তাগলিয়াফিকোর সেই ধারও নেই। ফলে স্কালোনিকে খেলতে হয়েছে মাঝমাঠ ব্যবহার করে, আক্রমণও সাজাতে হয়েছে সেভাবে।

    এখানেই দিবালার মতো একজন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারকে হয়তো মিস করেছেন তিনি। কারণ, মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের প্রেসিং সয়ে মাঠের ভেতরের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করার মতো একজন খেলোয়াড়ের বড্ড অভাব ছিল দলে। চার বছরে শাণিত হওয়া এনজো ফার্নান্দেজকে এই জায়গাতে ব্যবহার করেছেন তিনি। ফার্নান্দেজ-দি পল-ম্যাক আলিস্টার ভূমিকা পাল্টালেও নিজেদের কাজ তাঁরা ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন।

    মাঝমাঠে নতুন সংযোজন হিসেবে দলে এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকো গঞ্জালেজ, নিকো পাজের মতো তরুণ তারকা। কিন্তু গত বিশ্বকাপে যেভাবে তরুণদের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন, সেভাবে এবার কারও ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। একেবারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে মাঠে নামাচ্ছেন না কাউকেই। ফলে দলের খুঁতগুলো সহজেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে বাদে প্রতিটি নকআউট পর্বের ম্যাচই জিততে হয়েছে পিছিয়ে পড়ার পর। অভিজ্ঞতা আর চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতার ওপর ভর করেই ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে স্কালোনির দল।

  • ২০১০ থেকে ২০২৬—ফাইনালে স্পেনের দুই দলে পার্থক্য কেমন

    ২০১০ থেকে ২০২৬—ফাইনালে স্পেনের দুই দলে পার্থক্য কেমন

    ষোলো বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন। মাঝের তিনটি বিশ্বকাপের স্মৃতি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে লা রোহারা। এই তিন বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পায়নি একটি নকআউট ম্যাচেও। একবার বাদ পড়েছে গ্রুপ পর্বে, দুবার শেষ ষোলোতে। অবশেষে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে এসে ফর্মে ফিরেছে দল। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন।

    ১৯ জুলাই মাঠে নামতে যাওয়া দে লা ফুয়েন্তের স্প্যানিশ দলের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে ১৬ বছর আগে খেলে যাওয়া দেল বস্কের। দুই দলই বিশ্বকাপের আসরে পা দিয়েছিল ইউরো শিরোপা নিয়ে। ফেবারিট হিসেবে শুরু করা স্পেন দুই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই খেয়েছিল হোঁচট। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ স্পেন শুরু করেছিল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচনা হয়েছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে।

    ভিসেন্তে দেল বস্কের ২০১০ দলের সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের ২০২৬ দলের মিল কতটুকু? কারাই–বা থাকবে এগিয়ে?

    গোলরক্ষক

    ইকার ক্যাসিয়াস (অধিনায়ক) বনাম উনাই সিমন

    বয়স: ২৯ বনাম ২৯

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সময় ইকার ক্যাসিয়াসের বয়স ছিল ২৯, উনাই সিমনেরও তাই। কিন্তু ক্যাসিয়াস তত দিনে স্পেনের অধিনায়ক, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। অন্যদিকে উনাই সিমন কিছুটা পিছিয়ে আছেন অভিজ্ঞতায়, কোচ দে লা ফুয়েন্তের প্রিয়পাত্র বলেই হয়তো টানা সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু এই বিশ্বকাপে হজম করেছেন মাত্র এক গোল, ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট। দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৬০২ মিনিট হজম করেননি কোনো গোল।

    ফুলব্যাক

    সার্জিও রামোস ও জোয়ান ক্যাপডেভিয়া বনাম পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া

    বয়স: ২৪ ও ৩২ বনাম ২৬ ও ২৮

    টটেনহাম ও চেলসিতে হতাশাজনক একটি মৌসুম কাটানোর পর তাঁদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেননি কেউই। বরং কথা উঠেছিল, দে লা ফুয়েন্তের দলে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দুই উইংব্যাক। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই পাশার দান বদলে দিয়েছেন পেদ্রো ও কুকুরেয়া। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই কুকুরেয়াকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। এর পর থেকে তাঁদের জুটি যেন দারুণভাবে জ্বলে উঠেছে। গোল-অ্যাসিস্টে পেদ্রো-কুকুরেয়া জুটি এই বিশ্বকাপের ত্রাস।

    দারুণ ছন্দে আছে এই স্পেনএএফপি

    অন্যদিকে রামোস-ক্যাপডেভিয়া জুটি পুরো বিশ্বকাপজুড়েই ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। রামোস ছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপের সেরা ড্রিবলার। সবচেয়ে বেশি (৩১) টি সফল ড্রিবল করেছিলেন তিনি। রক্ষণ আর আক্রমণ, দুই ক্ষেত্রেই সমান ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। ক্যাপডেভিয়া ফর্মের তুঙ্গে না থাকলেও নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতেন। নামের পাশে ইউরো আর বিশ্বকাপের ট্রফি সেটাই যেন জানান দিয়ে যায়।

    সেন্টারব্যাক

    কার্লোস পুয়োল ও জেরার্ড পিকে বনাম এমেরিক লাপোর্ত ও পাউ কুবারসি

    বয়স: ৩২ ও ২৩ বনাম ৩২ ও ১৯

    সবাই যেন পুয়োল-পিকে জুটির ছায়া দেখছেন লাপোর্ত-কুবারসির জুটি মধ্যে। ২০১০ বিশ্বকাপে বার্সেলোনা তারকাদের জুটি হজম করেছিল দুই গোল। এবার লাপোর্ত-কুবারসি জুটি হজম করেছে মাত্র এক গোল। বয়সের দিক থেকে লাপোর্ত ও পুয়োল সমানে সমান হলেও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে কার্লোস পুয়োল। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা থাকায় পিকেও কাগজে–কলমে এগিয়ে। কিন্তু এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রয়ীকে যেভাবে রুখে দিয়েছেন তারা, তাতে ফাইনালের আগে একটু এগিয়েই রাখতে হবে কুবারসিকে।

    ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড

    সার্জিও বুসকেটস ও জাবি আলোনসো বনাম রদ্রি (অধিনায়ক) ও ফাবিয়ান রুইজ

    বয়স: ২২ ও ২৮ বনাম ৩০ ও ৩০

    ২০১০ বিশ্বকাপ ছিল সার্জিও বুসকেটসের উত্থানের বিশ্বকাপ। জাবি আলোনসোর সঙ্গে মিলে রক্ষণকে যেমন রক্ষা করতেন, তেমনি লম্বা পাসে পুরো ম্যাচের চিত্রও ঘুরিয়ে দিতে পারতেন। তিকিতাকায় পুরো মাঝমাঠের যে নিয়ন্ত্রণ দরকার হয়, পুরো কাজটাই নিচ থেকে করতেন দুজনে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই জায়গাটা দখল করেছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি এবং টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ফ্যাবিয়ান রুইজ। বুসকেটস-আলোনসোর মতো অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে না পারলেও নিজেদের কাজটা একেবারে পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে করেছেন দুজনে। যে কারণে স্প্যানিশ মাঝমাঠকে কোনো বেগই পেতে হয়নি।

    ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনএএফপি

    অ্যাটাকিং মিডফিল্ড

    জাভি ও ইনিয়েস্তা বনাম দানি ওলমো ও আলেক্স বায়েনা

    বয়স: ৩০ ও ২৬ বনাম ২৮ ও ২৫

    চলতি বিশ্বকাপে ওলমো-বায়েনা জুটি পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই। প্রতি ম্যাচেই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স পাচ্ছে স্পেন। কিন্তু জাভি-ইনিয়েস্তা জুটির ধারেকাছে নেই কেউ। জাভির পাস থেকে সেমিতে পুয়োলের গোল, ইনিয়েস্তার ফাইনালে গোল স্পেনকে এনে দিয়েছিল অধরা শিরোপা। ওলমো-বায়েনা জুটির সামনে এখন সেটাই পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ।

    আক্রমণভাগ:

    ডেভিড ভিয়া ও পেদ্রো বনাম লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারসাবাল

    বয়স: ২৮ ও ২৩ বনাম ১৯ ও ২৯

    অভিজ্ঞ সেনানির সঙ্গে তরুণ তুর্কি। স্পেনের আক্রমণভাগটা ষোলো বছর পর এসেও সাজানো হয়েছে একইভাবে, একই ধাঁচে। দুর্দান্ত ফর্মের ভেডিড ভিয়ার সঙ্গে পেদ্রো ছিলেন সঙ্গী। এখানে অবশ্য কিছুটা উলটো। লামিনে ইয়ামাল দলের নতুন মুখ হলেও গোল পেয়েছেন মাত্র একটি। অন্যদিকে ওইয়ারসাবাল স্পেনের হয়ে প্রতি দুই ম্যাচে গোল পান একটি করে। ফাইনালেও ইয়ামাল-ওইয়ারসাবাল জুটির কাছ থেকে দারুণ কিছু পাওয়ার অপেক্ষা থাকবে সমর্থকদের।

    কোচ:

    ভিসেন্তে দেল বস্ক বনাম লুইস দে লা ফুয়েন্তে

    বয়স: ৫৯ বনাম ৬৫

    বয়সের দিক থেকে বড় হলেও অভিজ্ঞতায় বেশ এগিয়ে ছিলেন ভিসেন্তে দেল বস্ক। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রিয়ালের হয়ে, প্রথম বড় টুর্নামেন্টে হিসেবে পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ। সেখানেই দলকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশলে খেলিয়ে পেয়েছেন সাফল্য। সেই তুলনায় দে লা ফুয়েন্তে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ। তবে স্প্যানিশ দলের সঙ্গেই তাঁর বড় হওয়া। গত ১৩ বছর ধরে স্পেনের কোনো না কোনো দলের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এই দলকে নিয়ে জিতেছেন ইউরো, উঠেছেন ন্যাশনস লিগের ফাইনালেও।

  • ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    মহাভারতের একলব্য ও দ্রোণাচার্যের কাহিনিতে ট্র্যাজেডি আছে, আছে কর্তৃত্ব। কিন্তু মহাভারত আমাদের আরেকটি কথাও বলে– সময়ের কাছে দ্রোণাচার্যও অনিশ্চিত, একলব্যও অনিশ্চিত। ইতিহাস কখনও একক বীরের সম্পত্তি নয়। বিশ্বকাপও তাই।

    একুশের সিকি শতাব্দী পার করে তাই প্রশ্নটি শুধু রোমান্টিক নয়, গভীরভাবেই দার্শনিক–লামিনে ইয়ামাল কি একলব্য, আর লিওনেল মেসি কি দ্রোণাচার্য? নাকি উল্টোটা? কিংবা তারা কেউই নন? বিশ্বকাপের আরাধ্য সোনালি ট্রফিটি কি আদৌ কোনো পৌরাণিক উপমার কাছে আত্মসমর্পণ করে?

    বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি এক দীর্ঘ আলোকবর্তিকা। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি কেবল ফুটবলার নন; তিনি এক ভাষা, এক নন্দন, এক শিল্পরীতি। অসংখ্য নবীনের শৈশবের দেয়ালে শোভিত পোস্টারের নাম মেসি। আজকের প্রজন্মের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রেও সেই সত্যের ব্যতিক্রম নেই। ইয়ামালের ফুটবলীয় অভিধানে মেসি একটি অনিবার্য উচ্চারণ।

    মহাভারতের একলব্য দ্রোণাচার্যের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও তাঁকেই মানসগুরু মেনেছিলেন। দূর থেকে দেখে, অনুকরণ করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। সেই অর্থে ইয়ামালও যেন আধুনিক ফুটবলের এক একলব্য। বার্সেলোনার ঘাসে, ইউরোপীয় ফুটবলের নন্দনতত্ত্বে দীক্ষিত এবং মেসির রেখে যাওয়া শিল্পভাষায় বেড়ে ওঠা তরুণ। ফুটবল তাঁকে শিখিয়েছে, একজন গুরু সব সময় সামনে বসে থাকেন না; অনেক সময় তিনি হয়ে ওঠেন একটি আদর্শ, একটি ছায়া, একটি স্বপ্ন– দূরে অবস্থান করেও। কিন্তু এখানেই তুলনার উপমাটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

    কারণ দ্রোণাচার্যের সঙ্গে একলব্যের সম্পর্ক ছিল অসম ক্ষমতার সম্পর্ক। সেখানে প্রত্যাখ্যান ছিল, ছিল শ্রেণি ও বর্ণবৈষম্যের নির্মমতা। লিওনেল মেসি কখনও লামিনে ইয়ামালের অগ্রযাত্রার পথে অঙ্গুলি দাবি করেননি। বরং ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই যে, একজন কিংবদন্তি আরেকজন কিংবদন্তির জন্মের জন্য জায়গা করে দেন। মেসির উত্তরাধিকার কোনো সংকীর্ণ উত্তরাধিকার নয়; এটি এমন এক নদী, যা নতুন স্রোতকে স্বাগত জানায়।

    তবুও বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে এই উপমা আমাদের অন্য এক জায়গায় নিয়ে যায়। ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো– বিশ্বকাপ কাউকে কিছু পাওনা রাখে না।
    জোহান ক্রুইফ বিশ্বকাপ জেতেননি। ফেরেঙ্ক পুসকাস জেতেননি। পাওলো মালদিনি জেতেননি। রোনালদো নাজারিওর দুটি বিশ্বকাপ আছে, কিন্তু রোনালদিনহোর একটি। আবার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার একটি গোল তাঁকে অমর করেছে। বিশ্বকাপ সব সময় ন্যায়বিচারের আদালত নয়; এটি অনিশ্চয়তারও সবচেয়ে সুন্দর ক্ষেত্র। হয়তো এই অনিশ্চয়তাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র।

    ২০২২ সালে মেসি বিশ্বকাপ জিতেছেন। এতে ফুটবল তাঁর কাছে ঋণ শোধ করেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, ফুটবল কারও কাছে ঋণী নয়। যদি তিনি সেই ফাইনালে হেরে যেতেন, তাহলেও তিনি লিওনেল মেসিই থাকতেন। যেমন ২০১৪ সালের পরও তিনি ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা।

    একইভাবে লামিনে ইয়ামাল যদি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জিতে যান, তবে তা হবে তাঁর প্রজন্মের এক মহাকাব্যিক ব্যক্তিত্ব। আর যদি কখনও বিশ্বকাপ না-ও জেতেন, তাহলে কি তাঁর শিল্পের মূল্য কমে যাবে? মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কোনো ভাস্কর্যের মূল্য কি নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় কমে যায়? শিল্পের পরিমাপ সব সময় পুরস্কারে হয় না। ফুটবলও শেষ পর্যন্ত শিল্পেরই এক রূপ।

    না চাইলেও আসলে বিশ্বকাপকে একটি চূড়ান্ত নৈতিক বিচারক বানিয়ে ফেলেছি আমরা। যেন ট্রফিটি নির্ণায়ক, বলে দেয়– কে মহৎ আর কে নয়। অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এটি প্রতিভা, প্রস্তুতি, ভাগ্য, সময়, ইনজুরি, একটি ভুল পাস কিংবা একটি টাইব্রেকারের সম্মিলিত নাট্যমঞ্চ।

    অনেকে বলেন, ইয়ামালই হবেন নতুন মেসি, তারা হয়তো ভবিষ্যতের প্রতি অতি উদার। আবার যারা মনে করেন, মেসির উচ্চতায় পৌঁছানো অসম্ভব, তারাও হয়তো সময়ের সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করছেন না। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো, পরবর্তী প্রজন্মকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ছায়ায় আটকে রাখা।

    মহাভারতের একলব্য শেষ পর্যন্ত নিজের অঙ্গুলি উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের একলব্যদের কোনো অঙ্গুলি কেটে দিতে হয় না। তাদের প্রয়োজন নিজেদের স্বকীয়তার চর্চা করা। কারণ প্রকৃত উত্তরাধিকার নিহিত অনুকরণে নয়, অতিক্রমে।

    তাই ইয়ামাল একলব্য কিনা, মেসি দ্রোণাচার্য কিনা– এটি প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা আমাদের কী শেখায়?

    শেখায়– সোনালি সেই ট্রফি গন্তব্য হতে পারে, পরিচয় নয়। বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হতে পারে, কিন্তু তাঁর শিল্পের একমাত্র পরিমাপক নয়। মেসি বিশ্বকাপ জিতেও মহান; ইয়ামাল বিশ্বকাপ না জিতেও মহান হতে পারেন। আবার উল্টো ঘটনাও সত্য হতে পারে।

    কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত মহাভারত নয়, যেখানে পূর্বলিখিত নিয়তি অপেক্ষা করে থাকে। ফুটবল এমন এক মহাকাব্য, যার শেষ পৃষ্ঠাটি এখনও লেখা হয়নি। সেখানে দ্রোণাচার্যও একদিন বিস্মিত হন, আর একলব্যও নিজের ভাষায় ইতিহাস লিখে ফেলেন।

    বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি সেই অমোঘ সত্যেরই আরেক নাম– অনিশ্চয়তা।

    এম এম খালেকুজ্জামান
    আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
    adv.mmkzaman@gmail.com

    সূত্রঃ দৈনিক সমকাল

  • ফাইনালের আগে স্কালোনির নিজ ঘরেই বিভক্তি

    ফাইনালের আগে স্কালোনির নিজ ঘরেই বিভক্তি

    ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কাল স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই ফাইনালে জয় পেলে কোচ লিওনেল স্কালোনির ঝুলিতে উঠবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। তবে ম্যাচটি আর্জেন্টাইন কোচের নিজ ঘরেই তৈরি করেছে বিভক্তি।

    স্কালোনির পরিবারের অনেকেই জন্মসূত্রে স্প্যানিশ। ফাইনাল মহারণের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আর্জেন্টিনার এই মাস্টারমাইন্ড খোলাসা করলেন—এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার প্রিয়জনেরা আসলে কাকে সমর্থন করছেন।

    সংবাদ সম্মেলনের আগে মিক্সড জোনে কথা বলার সময় স্কালোনি হাসিমুখেই বলেন, ‘আমার স্ত্রী এবং সন্তানরা অবশ্যই আর্জেন্টিনার সঙ্গে থাকবে। আমার স্ত্রী স্প্যানিশ হওয়া সত্ত্বেও সে খুব ভালো করেই জানে এই দলটার জন্য আমি কতটা পরিশ্রম করি, কতটা চাপ ও আবেগের মধ্য দিয়ে যাই। আর আমার সন্তানরা তো সেটা আরও ভালো বোঝে।’

    ২০০৮ সালে ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিও থেকে ধারে মায়োর্কায় যোগ দেওয়ার পর এলিসা মন্তেরোর প্রেমে পড়েন স্কালোনি। ২০১২ সালে তাদের প্রথম সন্তান ইয়ান এবং চার বছর পর দ্বিতীয় সন্তান নোয়াহ’র জন্ম হয় স্পেনের এই মায়োর্কা দ্বীপেই।

    জন্মসূত্রে স্প্যানিশ হলেও, বাবার কাজের প্রতি ভালোবাসা আর আবেগের জায়গা থেকে দুই সন্তানই গলা ফাটাবেন আকাশি-সাদা শিবিরের জন্য। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা উদযাপনের সময়ও বাবার পাশে থেকে আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের সাথে তাদের ছবি তুলতে ও উল্লাস করতে দেখা গেছে।

    স্কালোনির স্ত্রীর পরিবারের সবাই মায়োর্কার বাসিন্দা। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবেন স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটা জিতুক।

    ঘরে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে পাশে পেলেও মায়োর্কার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘মায়োর্কাতে আমাদের যে আত্মীয়রা আছেন, তারা নিশ্চয়ই চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। আমি বুঝি, পরিস্থিতিটা তাদের জন্য একটু কঠিন। তবে যাই হোক না কেন, দিনশেষে তারা খুশিই হবেন।’

    আর্জেন্টিনার চতুর্থ নাকি স্পেনের দ্বিতীয়, জানা যাবে রোববারই। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। সরাসরি দেখা যাবে টি স্পোর্টসের পর্দায়।

  • স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র

    ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে ভিসেন্তে দেল বস্ক নামটা যেন এক রূপকথার জাদুকর। চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে ১৬ বছর আগের সেই সোনালি দিন, যখন তাঁর হাত ধরেই স্পেন প্রথমবার ছুঁয়েছিল বিশ্বকাপের আদিগন্ত আকাশ।

    সময়ের নদী বেয়ে এক যুগেরও বেশি পথ পেরিয়ে স্পেন আবারও দাঁড়িয়ে এক মহা–উদ্‌যাপনের আঙিনায়। কিন্তু এবার ওপারে যে দল দাঁড়িয়ে, তারা কোনো সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা তো বর্তমান বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা, যাদের পায়ে এখন ফুটবলের মোহিনী জাদু!

    আগামীকাল যখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিকেল নামবে, তখন সবুজ ঘাসের বুকে লেখা হবে এক নতুন মহাকাব্য।

    তবে এই মহারণের ঠিক আগে ফেলে আসা দিনের সেই মহানায়ক দেল বস্ক স্পেনের তরুণ রক্তকে মনে করিয়ে দিলেন আকাশি-সাদার ভেতরের দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্রের কথা—তাদের অনিশ্চিত খেলার মায়াজাল আর অভিজ্ঞতার গভীরতা।

    যে দলে মেসির মতো একজন আছেন তাঁরা তো এমনই কনমেবল

    স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসের পাতায় যেন নিজের মনের কোণের সেই আশঙ্কা আর মুগ্ধতার কথাই বুনেছেন দেল বস্ক, ‘আমি মনে করি, ফাইনালে স্পেনই জিতবে। তবে আর্জেন্টিনার অনিশ্চিত খেলার ধরন ও তাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে স্পেনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় আর্জেন্টাইন সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি, তাই আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কতটা লড়াকু মানসিকতার।’

    সত্যিই তো, সেমিফাইনালের রাতে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, কে ভেবেছিল এমন এক প্রত্যাবর্তন অপেক্ষা করছে। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার এই যে অদম্য জেদ, একেই তো ভয় দেল বস্কের।

    তাই তো আবেগের চাদর সরিয়ে তিনি অকপটেই বললেন, ‘ফুটবলের অন্যতম বড় সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা; এই রোববার কী ঘটবে, তা আমরা কেউই জানি না। আর্জেন্টিনা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ—ক্ষমা করবেন কথাটা বলছি, কিন্তু তারা সত্যিই ভীষণ চতুর দল। তারা খুব ভালো করেই জানে কীভাবে খেলতে হয় এবং কী করতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখলেই সেটা বোঝা যায়।’

  • বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘোষণা মতোই ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হয়েছে। দল ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ফিফার আয় এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানিও।

    দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের মোট প্রাইজ ফান্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। আগামী রোববারের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার, আর রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

    তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ দল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল, শেষ ষোল ও শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশ নেওয়া প্রতিটি দল অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।

    ফিফা এই অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করে, পরে তারা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ফুটবল উন্নয়নে তা বণ্টন করে। এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ১৯৮২ সালে প্রথমবার প্রাইজমানি প্রকাশের সময় চ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। চার দশকের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে এবার চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

    ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও তৃতীয় হওয়া দল যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পাবে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়, গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ‘গোল্ডেন বল’, ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ ও ‘গোল্ডেন বুট’ দেওয়া হবে। তবে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হবে না।

  • ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ‘পয়া’ জার্সি পরেই নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা

    ৪০ দিনের ফুটবল বিশ্বকাপের ইতি ঘটছে আগামীকাল। যে উন্মাদনায় বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী বুঁদ হয়ে ছিল, আগামীকাল শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে পয়া জার্সি পরে নামছে আর্জেন্টিনা-স্পেন।

    ফিফা গত রাতে নিশ্চিত করেছে আগামীকাল হতে যাওয়া ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের জার্সি। দুই দলই হোম জার্সি পরে খেলবে। তবে দুই দলকে আলাদা করে চেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির সঙ্গে সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরবে। এই জার্সি পরে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এদিকে স্পেন লাল জার্সির সঙ্গে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) শর্টস ও মোজা পরে খেলবে। স্প্যানিশরা ২০১০ সালে একই জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের চোখে সাধারণত নীল জার্সি ‘কুফা’। এই জার্সি পরে খেলে ১৯৯০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। দুবারই আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল জার্মানি। তবে ফাইনাল বাদে অন্য নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর হিসাব আলাদা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। আসতেকার ৪০ বছরের পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবারও। আটলান্টায় এবার সেমিফাইনালে নীল জার্সি পরে আর্জেন্টিনা হারিয়ে দেয় ইংলিশদের।

    এবার চ্যাম্পিয়ন হলে ইতালি, জার্মানির রেকর্ডে ভাগ বসাবে আর্জেন্টিনা। ইতালি, জার্মানি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। আলবিসেলেস্তেরা তিনবার জিতেছে বিশ্বকাপ।

    নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।

  • বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কথা উঠলেই সবার আগে উচ্চারিত হয় লিওনেল মেসির নাম। পাশাপাশি কখনও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্ব আর লাউতারো মার্টিনেজের গোল। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার টানা সাফল্যের নেপথ্যে এমন এক সৈনিক আছেন, যার নাম গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তিনি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে তিনি দারুণ এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এখন ম্যাক অ্যালিস্টারের দখলে। অপটা জো’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজের খেলা ১৩টি ম্যাচের একটিতেও হারেননি এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ১১টি ম্যাচে এবং ড্র করেছেন দুটি। সেই দুটি ড্র হওয়া ম্যাচও শেষে টাইব্রেকারে জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপেও চলছে ম্যাক অ্যালিস্টারের এই অজেয় যাত্রা।

    ডিফেন্স ও অ্যাটাকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখায় ম্যাক অ্যালিস্টারের জুড়ি নেই। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। স্কালোনি যেন তার ওপর অন্ধ আস্থা রাখেন, যার প্রমাণ—আর্জেন্টিনার গত চারটি ম্যাচেই তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন, কোনোবারই তাকে তুলে নেওয়া হয়নি। ফাইনালে মেসি বা ইয়ামালের মতো তারকাদের দিকে সবার নজর থাকলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ম্যাক অ্যালিস্টারই হতে পারেন আর্জেন্টিনার আসল ‘তুরুপের তাস’।

    ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেও মনে করেন, আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি শারীরিক। আর সেই শারীরিক শক্তির সঙ্গে মেধার সমন্বয় ঘটিয়েই তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে চান শিরোপার পথে। এনজো ফার্নান্দেজ বা রদ্রিগো ডি পলের সাথে তার রসায়ন আর্জেন্টিনা দলকে দারুণ এক ভারসাম্য এনেছে। ১৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট—এই পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি কিছু বলবে না, কিন্তু আর্জেন্টিনার এই অজেয় যাত্রায় ম্যাক অ্যালিস্টার ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আড়াল থেকেই।

  • টানা বিশ্বকাপ জয়ের পথে যে ‘অভিশাপ’ তাড়া করছে আর্জেন্টিনাকে

    টানা বিশ্বকাপ জয়ের পথে যে ‘অভিশাপ’ তাড়া করছে আর্জেন্টিনাকে

    চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

    বিশ্বকাপ শুরুর সময় ১৮৭৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে ২ জুলাই প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের হটিয়ে শীর্ষে উঠে আসে ফ্রান্স। তখন দিদিয়ের দেশমের দলের সংগ্রহ ছিল ১৯১৬.২৪ পয়েন্ট। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফরাসিরা ১৮৬৯.৪৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছিল।

    টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্যন্ত শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ চারে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর সেই অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ওই জয়ে তারা অর্জন করে ২৬.৯০ পয়েন্ট। ফলে বর্তমানে আলবিসেলেস্তেদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৯৭০.৩৭।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩০.৮২ পয়েন্ট যোগ করেছে স্পেন। ১৯৬৫.৬১ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। বিশ্বকাপের আগে ১৮৭৩.০১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ছিল স্প্যানিশরা। পরে ফ্রান্স শীর্ষে ওঠায় আর্জেন্টিনা নেমে যায় দ্বিতীয় এবং স্পেন তৃতীয় স্থানে। এখন আবার পরিস্থিতি বদলে আর্জেন্টিনা শীর্ষে এবং স্পেন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    তবে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে তাড়া করছে এক পুরনো পরিসংখ্যানও। ১৯৯২ সালে ফিফা র‌্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে কোনো বিশ্বকাপেই টুর্নামেন্ট চলাকালে বা শেষের দিকে শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দল শিরোপা জিততে পারেনি।

    ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে ছিল জার্মানি, কিন্তু তারা বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ১৯৯৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে যায়। ২০০২ সালে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০০৬ সালে এক নম্বর ব্রাজিলের যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে।

    একই চিত্র দেখা যায় ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপেও। যথাক্রমে ব্রাজিল ও স্পেন শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১৮ সালে এক নম্বরে থাকা জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

    এবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। তাই প্রশ্ন উঠছে—ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের বিশ্বকাপ না জেতার দীর্ঘদিনের সেই ‘অভিশাপ’ কি এবারও বহাল থাকবে, নাকি ইতিহাস বদলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতবে আলবিসেলেস্তেরা?

  • ৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা

    ৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা

    রোববারের ফাইনাল ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য হতে পারে এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। শিরোপা জিততে পারলে শুধু বিশ্বকাপের মুকুটই ধরে রাখা হবে না, ভেঙে যাবে দীর্ঘ ৬৪ বছরের একটি অপেক্ষার রেকর্ডও। সে ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব গড়বে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর থেকেই আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনার সামনে থাকা সম্ভাব্য রেকর্ডগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দল এই কীর্তি গড়েছে। প্রথমে ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। পরে ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে একই সাফল্য অর্জন করে। এরপর আর কোনো দল সেই অর্জনের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি।

    অবশ্য অনেক দলই এই মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ১৯৯০ সালেও ফাইনালে খেলেছিল, কিন্তু জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। একইভাবে ১৯৯৪ সালের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ১৯৯৮ সালের ফাইনালে উঠেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও ২০২২ সালের ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল পরের আসরে গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। ১৯৩৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৯৫০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। একই ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির ক্ষেত্রেও; ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে।

    এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করা। ফাইনালে জয় পেলে তারা শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফিই জিতবে না, বরং ছয় দশকের বেশি সময় ধরে অক্ষত থাকা এক অনন্য রেকর্ডও নিজেদের করে নেবে।

  • ‘কীভাবে চাপ সামলাও তুমি?’

    ‘কীভাবে চাপ সামলাও তুমি?’

    নোভাক জোকোভিচ এবং লিওনেল মেসি দুই জনেরই বয়স এখন ৩৯। কেউই অবসরের ইঙ্গিত দেননি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মুখোমুখি দুই তারকা।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় নোভাক জোকোভিচ। আর উত্তরদাতা লিওনেল মেসি। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক মেসিকে প্রশ্ন করে বসলেন চাপ সামলানো নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারও তাকে জবাব দিলেন হাসি মুখে।

    মেসিকে সামনে পেয়ে জোকোভিচ প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কী করে চাপ উপেক্ষা করে নিজের খেলার দক্ষতা বজায় রাখতে শিখলে?’

    প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেন মেসি। বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়ের সার্ভ সামলে বলেন, ‘আমি চাপ নিয়ে কখনও খুব বেশি ভাবি না। আমি একটা সব সময় খুব স্বাভাবিক বিষয় হিসাবেই দেখেছি। খেলতে যাওয়া, উপভোগ করা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকা। আমরা প্রতিযোগিতা ভালবাসি। সব সময় জিততে চাই। দেখ ফুটবল একটা খেলা। আমাদের প্রতিপক্ষও জেতার জন্য মাঠে নামে। সব সময় জেতা সম্ভব হয় না।’

    এরপর মেসি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি শিখেছি, জয়ের থেকে হারের সংখ্যাই বেশি হয়। এই উপলব্ধি আমাকে এক জন ব্যক্তি এবং খেলোয়াড় হিসাবে পরিণত হতে সাহায্য করেছে।’

    ১৯ জুলাই তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামবেন মেসি। প্রতিপক্ষ স্পেন। কয়েক দিন আগেই উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠেছিলেন জোকার। দু’জনেরই বয়স এখন ৩৯। কেউই অবসরের ইঙ্গিত দেননি।

  • ফাইনালে মাঠে থাকবেন ট্রাম্প-মামদানি, কে কোন দলকে সমর্থন করছেন?

    ফাইনালে মাঠে থাকবেন ট্রাম্প-মামদানি, কে কোন দলকে সমর্থন করছেন?

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। যদিও রাজনীতিতে বিপরীত মেরুর এ দুই নেতার আলাদা করে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে মেয়রের মুখপাত্র।

    এর আগেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল গত মাসের এনবিএ ফাইনালে। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের একটি ‘বুলেটপ্রুফ লাক্সারি বক্সে’ বসে খেলা উপভোগ করা ট্রাম্পকে দেখে সেদিন নিউইয়র্ক নিক্সের সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনি দিতে ছাড়েননি। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের বাইরের ওয়াচ পার্টি বাতিল করতে হয়েছিল, দর্শকদেরও মাঠে ঢুকতে হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা দুয়েক আগে।

    অন্যদিকে, মেয়র জোহরান মামদানি ছিলেন অনেকটাই আড়ালে। সাধারণ দর্শকদের মতো গ্যালারির একেবারে ওপরের সারিতে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেছিলেন তিনি। এক মাসের ব্যবধানে আবারও তাদের দেখা যাবে। এবার আরও বড় টুর্নামেন্ট ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে। যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    গত মাসেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো নিশ্চিত করেছিলেন, এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প নিজেই। ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই থাকব, ফাইনাল উপভোগ করব এবং যৌথভাবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেব। আমরা সবসময় একসঙ্গেই আছি।’

    তবে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার জন্য ইনফান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোনও করেছিলেন ট্রাম্প। ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বালোগান খেলতে পেরেছিলেন। যদিও ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হস্তক্ষেপ এবং ফিফা সভাপতির তা মেনে নেওয়া মোটেও ভালোভাবে নেননি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির কারণে ফাইনাল ম্যাচটিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আয়োজন, যার সুরক্ষায় আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ গোয়েন্দা দল এবং বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরসহ ব্যাপক ফেডারেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চলতি বিশ্বকাপে এখনো গ্যালারিতে না দেখা গেলেও মেয়রের গল্পটা ভিন্ন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচেই মাঠে ছিলেন মামদানি। নিজেকে আর্সেনালের কট্টর সমর্থক ও ‘ফুটবল পাগল’ দাবি করা এই রাজনীতিক মেয়র নির্বাচনের আগেও ব্রুকলিনে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।

    এবার বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিজের রাজনৈতিক আদর্শকেও কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ‘দ্য মর্নিং পিচ’ নামে একটি ফুটবল ও আবহাওয়া বিষয়ক ভিডিও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য পার্কগুলো রাতে খোলা রেখে ওয়াচ পার্টি ও খেলার ব্যবস্থা করেছেন। তার উদ্যোগে ফুটবল ভক্তদের জন্য মাত্র ৫০ ডলারের বিশেষ জার্সি এনেছিল সিটি কর্পোরেশন, যা মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি ফিফাকে রাজি করিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ৫০ ডলার মূল্যের ১,০০০টি টিকিটের ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। সাউথ ব্রঙ্কসের মেক্সিকান রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র, এমনকি রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে বসেও খেলা দেখতে দেখা গেছে এই মেয়রকে।

    ফাইনালে কার সমর্থন কোন দিকে?

    ফাইনালে ট্রাম্প কিংবা মামদানি—কে কোন পক্ষ নিচ্ছেন, তা এখনো রহস্যই বটে। সম্প্রতি স্পেনের সমালোচনা করায় ট্রাম্প এবার আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন কিনা—জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি লেভিট মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

    সম্প্রতি নিউইয়র্কে ফিফা ইভেন্টে হাজির ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গেও তার সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা হয়। তাকে তিনি অভিবাদন জানান এবং রোববারের ম্যাচটি নিয়ে জানতে চান। ট্রাম্প তাকে বলেন, ‘তোমরা কি আবার ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত?’

    অন্যদিকে, মেয়রের পছন্দের দল মরক্কো আগেই বিদায় নিয়েছে। ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী জানতে চাইলে মামদানি রসিকতা করে বলেন, আমি এবার যার পক্ষ নিয়েছি, সেই হেরেছে। এই মুহূর্তে আমি যার নামই নেব, মনে হচ্ছে সেই দলটাই হেরে যাবে! এর আগে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিংয়ের পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ‘ডাকাতি হয়েছে’।

  • এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    আরও আগেই ইউরোপ অধ্যায়ের পাট চুকিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালেই যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। এরপরও নবম ব্যালন ডি’অরের হাতছানি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সামনে।

    বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখনই ব্যালন ডি’অর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজকেরা জানিয়েছে, ব্যালন ডি’অর জিততে কোনো ফুটবলারের ইউরোপের ক্লাবে খেলা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেলে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ রয়েছে।

    একসময় ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৫ সালে পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক রূপ পেলেও তখনো ইউরোপে খেলা ছিল অন্যতম শর্ত। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকেই ব্যালন ডি’অর দেওয়া হচ্ছে, তিনি কোন লিগ বা ক্লাবে খেলছেন, সেটি আর বিবেচ্য নয়।

    এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়োজকেরা গত ১৮টি আসরের উদাহরণ তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্য, ‘গত ১৮টি আসর বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, ইউরোপের বাইরে খেলেও কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জেতা বাস্তবসম্মত কি না। ২০০৭ সালে কাকা, ২০০৮ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ২০০৯ সালে লিওনেল মেসি—তিনজনই ওই বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন, যা ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত। লুকা মদরিচ, করিম বেনজেমা, রদ্রি ও উসমান দেম্বেলেও যখন এই পুরস্কার জিতেছেন, তখন সবাই ইউরোপেই খেলছিলেন।’

    তবে এই ধারার ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যালন ডি’অরের আয়োজকেরা লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউরোপের বাইরে খেলে ব্যালন ডি’অর জেতা একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি। ৬৭তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান, যা ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়, তখন আর্জেন্টাইন তারকা ইতোমধ্যেই ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছিলেন। ফলে আটবারের এই বিজয়ীই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে কোনো অ-ইউরোপীয় ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে ব্যালন ডি’অর জেতেন।’

    বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কিছুই অসম্ভব নয় এবং যেকোনো ফুটবলারই এই পুরস্কার জিততে পারেন।’

    এই ব্যাখ্যা এমন সময় এলো, যখন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। সাত ম্যাচে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে মায়ামির এই তারকা নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনাতেও জোরালোভাবেই রয়েছেন।

  • বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপের আলোচনায় সাধারণত জায়গা করে নেন মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো তারকারা। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত চিত্র বদলে দিয়েছেন মাত্র তিন বছরের এক শিশু। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন মাঠে না নেমেও নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর দুষ্টুমিতে হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।

    স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট কেইনকে। তার হাসি, উচ্ছ্বাস, নাচ, মজার অঙ্গভঙ্গি কিংবা ক্যামেরার সামনে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে ফুটবলারদের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে এই খুদে দর্শকও।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও কেইনকে নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। অনেকের মতে, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কোনো গোল বা ট্রফি নয়, বরং গ্যালারিতে থাকা এই তিন বছরের শিশুটি। কেউ তাকে ‘বিশ্বকাপের ক্ষুদে তারকা’, আবার কেউ ‘স্পেনের গ্যালারি সুপারস্টার’ বলেও অভিহিত করছেন।

    স্পেনের ম্যাচ চলাকালে সম্প্রচার ক্যামেরা যখনই কেইনের দিকে ঘুরে যায়, তখনই তার হাসিখুশি মুখভঙ্গি দর্শকদের মন জয় করে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারানোর পরও এমনই এক মুহূর্তে আবার আলোচনায় আসে সে। খেলোয়াড়রা মাঠে জয় উদযাপনে ব্যস্ত থাকলেও ক্যামেরায় ধরা পড়ে গ্যালারিতে থাকা কেইনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তার দুষ্টুমি দেখে হাসিতে মেতে ওঠেন বড় ভাই লামিন ইয়ামালও। সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    অবশ্য কেইনের পরিচিতি এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে স্পেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভাইয়ের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে অংশ নিয়েছিল সে। একই বছর প্যারিসে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ছোট্ট কালো স্যুট ও স্নিকার্স পরে রেড কার্পেটে হেঁটে নজর কাড়ে এই খুদে।

    পারিবারিকভাবে লামিন ইয়ামাল ও কেইনের মা একই হলেও তাদের বাবা আলাদা। ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর জন্ম হয় কেইনের। তবে বয়সের প্রায় ১৫ বছরের ব্যবধান দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গভীরতায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

    ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামাল বরাবরই আবেগপ্রবণ। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আমার কাছে সবকিছু। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। মনে হয় সে আমার নিজের সন্তান।’

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর গ্যালারিতে দুই হাত তুলে ‘ভামোস!’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় কেইনকে। সেই দৃশ্যও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া কেইন এখনো শৈশবের আনন্দে মেতে থাকলেও ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন লামিন ইয়ামাল। একসময় কঠিন আর্থিক বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা এই বার্সেলোনা তারকা জানিয়েছেন, এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান মায়ের মুখে হাসি দেখতে এবং ছোট ভাইকে সুন্দর শৈশব উপভোগ করতে দেখে।

    বর্তমানে একজন মাঠে পায়ের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন, আর অন্যজন গ্যালারিতে নিজের নিষ্পাপ হাসি, উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্যে কোটি মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়ে নিচ্ছে।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    বিশ্বকাপ ফাইনালে যে ১১ রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে এই ম্যাচটি শুধু শিরোপা নির্ধারণের লড়াই নয়। বরং লিওনেল মেসির জন্য অপেক্ষা করছে অনন্য ১১টি ব্যক্তিগত রেকর্ডের হাতছানি। ফাইনালে মাঠে নামা থেকে শুরু করে গোল করা কিংবা ট্রফি জেতা, সবকিছু মিলিয়ে মেসি ছুঁতে পারেন একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    এক নজরে ফাইনালে মেসির সামনে থাকা ১১টি সম্ভাব্য রেকর্ড

    ১. গোলরক্ষক ছাড়া সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট: ফাইনালের দিন মেসির বয়স হবে ৩৯ বছর ২৫ দিন। ফুটবল ইতিহাসে গোলরক্ষক বাদে কোনো খেলোয়াড় এত বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামেননি। রেকর্ডটি এখনও ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফেরের দখলে আছে। ৪০ বছর ১৩৩ দিনে তিনি পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৮২ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন। মেসি এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে নামলে, আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে তিনিই হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনালিস্ট।

    ২. দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল: ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর মেসির এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে টানা তিনটি ফাইনালে খেলেছিলেন। সেই অভিজাত তালিকায় মেসি দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লেখাতে চলেছেন।

    ৩. প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিন ফাইনাল নেতৃত্ব: ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি অধিনায়কের নাম রয়েছে, যারা দুবার দলকে ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মেসিই হবেন প্রথম খেলোয়াড়, যিনি তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন।

    ৪. অধিনায়ক হিসেবে জোড়া বিশ্বকাপ শিরোপা: ফুটবলে দুবার বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড় অনেক আছেন, কিন্তু দুইবারই ‘অধিনায়ক’ হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার নজির নেই। ইতালি ও ব্রাজিলের অনেক তারকা দুবার বিশ্বজয়ী হলেও তাদের কেউ অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়বার ট্রফি ধরেননি। আর্জেন্টিনা জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক যিনি দুবার বিশ্বকাপ শিরোপা নিজের হাতে নেওয়ার অনন্য রেকর্ডের মালিক হবেন।

    ৫. ফাইনালের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা: ফাইনালে গোল করা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই বড় প্রাপ্তি। স্পেনের বিপক্ষে মেসি গোল পেলে তিনি ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা সুইডেনের নিলস লিডহোমের (৩৫ বছর ২৬৪ দিন) রেকর্ডটি ভেঙে দেবেন। এটি তাকে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা হিসেবে অমর করে রাখবে।

    ৬. আর্জেন্টিনার হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল: ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিল ৮টি গোল করেছিলেন। ৯৬ বছর ধরে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮টি গোল করে ফেলেছেন। ফাইনালে একটি গোল করলেই তিনি স্তাবিলকে টপকে এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলবেন।

    ৭. ১০ গোলের মাইলফলক: এক আসরে ১০ গোল করা মানেই ফুটবলারদের একটি বিশেষ অভিজাত ক্লাবে জায়গা পাওয়া। যদি মেসি ফাইনালে জোড়া গোল করতে পারেন, তবে তিনি জাস্ট ফনটেইন (১৩ গোল), স্যান্ডর কোসিস (১১ গোল) এবং গার্ড মুলারের (১০ গোল) তালিকায় নাম লেখাবেন। ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো ফুটবলারের জন্য এটি হবে এক অবিশ্বাস্য অর্জন।

    ৮. দুটি আলাদা বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল: ২০২২ সালের ফাইনালে মেসি গোল করেছিলেন। যদি ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে তিনি গোল করতে পারেন, তবে তিনি ভাভা, পেলে, পল ব্রেইটনার, জিনেদিন জিদান ও কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মত ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়বেন।

    ৯. বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো ৮টি গোল করেছিলেন। আর্জেন্টিনা যদি এবার চ্যাম্পিয়ন হয় এবং মেসি কমপক্ষে একটি গোল করেন, তবে তিনি ৯ গোল নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।

    ১০. ফাইনালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: বিশ্বকাপ ফাইনালে এককভাবে সর্বোচ্চ ৪টি গোলের মালিক কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসি যদি ফাইনালে দুটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি এমবাপ্পের সেই রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর যদি হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে ৫ গোল নিয়ে তিনি এককভাবে এই তালিকার শীর্ষে উঠে আসবেন এবং জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়বেন।

    ১১. সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়: টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয় করা বিরল ঘটনা। এর আগে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২) এই নজির গড়েছিল। আর্জেন্টিনা এবার জিতলে মেসি হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার যিনি টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের নীল্টন সান্তোস ৩৭ বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, মেসি সেটি অতিক্রম করবেন।

  • গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    বয়স তার ৩৯। কিন্তু মাঠে লিওনেল মেসি যা করছেন, তাতে বয়সটাকে মনে হচ্ছে শুধুই সংখ্যা! এই আসরে যেন আরও বেশি জয়ের ক্ষুধা নিয়ে নেমেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক সেমিফাইনালে মেসির জোড়া অ্যাসিস্টেই ফিরে আসার রূপকথার গল্প রচনা করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ শেষে গোল্ডেন বল ও বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন মেসিই।

    মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, এখন পর্যন্ত দুজনেরই গোল ৮টি করে। দুজনেই আরও একটি করে ম্যাচ খেলবেন এই আসরে।

    বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। মেসি সেখানে এমবাপ্পের চেয়ে এক অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন।

    এখন পর্যন্ত মেসির অ্যাসিস্ট ৪ টি, এমবাপ্পের ৩টি। গোল্ডেন বুটের মূল লড়াইটা হবে এই দুইজনের মধ্যেই। এছাড়াও এই দৌড়ে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। দুজনের গোলসংখ্যা ৬টি, অ্যাসিস্ট একটি। উসমান দেম্বেলের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ২টি। স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবালের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ১টি। তারা সবাই খেলবেন আরও একটি ম্যাচ।

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও সেরা ফুটবলার বা গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে মেসিই সবচেয়ে এগিয়ে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে তো বটেই, রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার উঠতে পারে তার হাতেই। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি।

  • ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক যুগের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে লিওনেল মেসির দল। এই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল ১৯টি। এতেই তারা স্পর্শ করল ১৯৭০ সালের বিখ্যাত সেই ব্রাজিল দলকে।

    এই আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচে করেছে ৮ গোল। আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি ও জর্ডানের বিপক্ষে তিনটি।

    নকআউটের চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাদের গোল ১১টি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে তারা জিতেছে ৩-২ গোলে। শেষ ১৬ এর ম্যাচে মিসরকে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসিদের জয় ৩-১ ব্যবধানে।

    সেমিতে ইংলিশদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতল ২-১ গোলে। আর এতেই গোলের রেকর্ডে ১৯৭০ সালের ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলল স্কালোনির দল। সেবার পুরো আসরে ১৯ গোল করেছিল পেলের দল। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোলও ১৯।

    আর্জেন্টিনা ও ১৯৭০ এর ব্রাজিল এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের দিক দিয়ে আছে ৫ম স্থানে। ১৯৫০ সালে ২২ গোল করে চতুর্থ স্থানে আছে ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ২৩ গোল করা ফ্রান্স আছে তৃতীয় স্থানে।

    ১৯৫৪ সালে ২৫ গোল করে পশ্চিম জার্মানি আছে দ্বিতীয় স্থানে। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হাঙ্গেরির। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ২৭ গোল করে এই তালিকার সবার ওপরে আছে তারা।

  • সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিকতার আরেকটি অনন্য নজির গড়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা, প্রতিবারই নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট। অর্থাৎ ৭টি সেমিফাইনাল খেলে ৭ বারই উঠেছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।

    চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই অনন্য রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনাল মানেই ফাইনালের নিশ্চয়তা। ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬—প্রতিবারই শেষ চারের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নকআউট রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও ওই টুর্নামেন্টে বর্তমান ফরম্যাটের মতো আলাদা সেমিফাইনাল ছিল না। সে সময় দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ পর্ব থেকে সরাসরি ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছিল।

    ২০২৬ এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোল না করলেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রেখেছে।

  • নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    ৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু যেন একটুও ম্লান হয়নি। মাঠে তার নেতৃত্ব, ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

    আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন মেসি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দুই অসাধারণ অ্যাসিস্ট বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

    ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হারের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’

    প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, শারীরিক দ্বৈরথ এবং ফাউলই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও শেষ দিকে মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

    জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। রক্ষণভাগের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। আর সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। বয়স ৩৯ হলেও তার প্রভাব, সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা আবারও প্রমাণ করেছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভয়ংকর।

  • ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরোটাই সাজানো? ফিফা কি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেবে? রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব থেকে শুরু করে ভিএআর এর সুবিধা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এমন অভিযোগের তালিকা ততই দীর্ঘ হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের সব ধোঁয়াশা দূর করে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মাঠের পারফরম্যান্সে সব অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাঠের লড়াইয়ে তারাই বিশ্বের সেরা দল, আর এটাই চূড়ান্ত প্রমাণিত সত্য।

    সমালোচকদের উদ্দেশে ক্ষোভ ঝেড়ে মেসি বলেন, ‘এই কথাগুলো খুব কষ্ট দেয়। গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। পরপর দুটো বিশ্বকাপে আমরা দেখালাম, আমরা কাকতালীয়ভাবে জিতিনি। কেউ আমাদের বাড়তি সুবিধা দেয়নি। পরপর দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা সহজ নয়। এই দলটা সেটা করে দেখিয়েছে।’

    চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে এনেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তারপরও সমালোচনা থেমে থাকেনি। মেসি মনে করেন, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে হয়তো এই নিন্দুকরা আরও অর্বাচীনের মতো কথা বলার সুযোগ পেত। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে অর্বাচীনের মতো কথা বলত। ওদের সেই সুযোগটাই দিইনি। আমরা জানি আমরা কতটা ভালো খেলি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু আমার মনে হয়, কিছু বলার আগে ভাবা উচিত। এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে পরে আফসোস করতে হয়।’

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব মেসির অজানা নয়। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দটা অন্যসব জয়ের চেয়ে কিছুটা বেশিই। মেসি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।’

    মেসি আরও জানান, এই ম্যাচে তাদের হারার কোনো উপায় ছিল না। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই হার হজম করা অসম্ভব ছিল। মেসির কথায়, ‘আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না, সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।’

  • যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    আর্জেন্টিনা গোল করেছে দুটি। একটি এনজো ফার্নান্দেজ, অন্যটি লাওতারো মার্তিনেজ। গোলদাতার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তবু সবাই জানেন, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক লিওনেল মেসিই।

    ম্যাচের ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে প্রায় আটকেই রেখেছিল ইংল্যান্ড। এরপর যা হলো, তা যেন এক খেলোয়াড়ের হাতে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যাওয়ার গল্প।

    টমাস টুখেলের দল হয়তো ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দেখেছে ২–১। কিন্তু মাঠের ভেতরে তারা আসলে হেরেছে একজন মেসির কাছেই।

    ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি মেসি। তাঁর অভিষেকের পর আর্জেন্টিনা যে একবার (২০০৫ সালে) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তিনি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় মাঠে ছিলেন না। অবশেষে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে প্রথম দেখায় ইংলিশদের যে অভিজ্ঞতা হলো, এমন কিছু নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে তারা।

    প্রথমার্ধে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রেখেছিল ইংল্যান্ড। বল পেলে কয়েকটি চমৎকার টাচ দেখিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচে তাঁর প্রভাব চোখে পড়ার মতো ছিল না। ইংল্যান্ডও খেলছিল পরিকল্পনামাফিকই। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় তারা। এরপরই আসলে দিক বদলাতে শুরু করে ম্যাচের স্রোতোধারা।

    দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের মেসির অবস্থান বদলে ফেলা হয় এএফপি

    গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা কোচের কৌশল না পাল্টে উপায় ছিল না। সেই কৌশলে ঝুঁকিও ছিল। লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠের ডান দিকে সরিয়ে দেন। স্কালোনির এই একটি সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের পুরো রক্ষণ-পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন, ‘মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

    ওদিকে ইংল্যান্ড কোচ টুখেল তখন রক্ষণ আরও শক্ত করতে ডিফেন্ডার নামাতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল এগিয়ে থাকা স্কোরলাইন ধরে রাখা। কিন্তু সেটিই বুমেরাং হয়। ইংল্যান্ড ক্রমেই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যায়, আর বলে দখল বাড়ে আর্জেন্টিনার।

    এতটাই যে ৫৫ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিট—এই ১৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের সঠিক পাস ছিল মাত্র ২টি। দুটিই গোলকিপার জর্ডান ও পিকফোর্ড সেন্টারব্যাক জন স্টোনসের একে অপরকে দেওয়া ফিরতি পাস।

    মূলত এ সময়টাতেই ম্যাচের নাটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। বল পেলেই একজন, দুজন, কখনো তিনজন ইংলিশ ফুটবলারকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। ডান প্রান্ত থেকে কখনো ভেতরে ঢুকেছেন, কখনো বক্সের সামনে এসে জায়গা তৈরি করেছেন, আবার কখনো এমন পাস দিয়েছেন, যা পুরো ইংলিশ রক্ষণকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

    ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের পর মেসিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এএফপি

    পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইংল্যান্ড আসলে কতটা অসহায় ছিল। ম্যাচে মেসির সফল ড্রিবল ছিল ৯টি। পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে করেছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, একাই পুরো ইংল্যান্ড দলের চেয়েও বেশি ডিফেন্ডার কাটিয়েছেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের বক্সে মেসির টাচ ছিল ৭টি, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সমান। গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৪টি, এটিও পুরো ইংলিশ দলের সমান। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্রসও এসেছে তাঁর পা থেকেই।

    আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আর্জেন্টিনার দুটি গোলের পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাঁর ক্রস থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।

    ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস তাই বলছিলেন, ‘সে মাঠের মধ্যে হেঁটে বেড়ায়, কিন্তু বল পায়ে আসামাত্রই জ্বলে ওঠে। এখানেই তার প্রতিভা। আর এটা প্রায়ই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।’

    মেসির এই ‘হেঁটে বেড়ানো’ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের অবস্থান পড়েন, শক্তি সঞ্চয় করেন, তারপর ঠিক মুহূর্তে আঘাত করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটিই আবার দেখা গেল।

    আরও একবার আর্জেন্টিনার জয়োৎসবের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসিরয়টার্স

    ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্টের বিশ্লেষণও একই রকম, ‘আমরা মেক্সিকো আর নরওয়ের বিপক্ষে যেভাবে রক্ষণ লক করে রেখেছিলাম, সে রকমই করতে চেয়েছি। কিন্তু তাতে করে মেসি পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায়। আর সেই তালা খোলার চাবি তো তাঁর কাছেই ছিল। শেষ ১৫ মিনিট সে একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

    ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, মেসির কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে তাঁর দল, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ওকে ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়, বল পেলেই তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। এমনি এমনি তো তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হননি।’

    সম্ভবত এটাই মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

  • আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    এক সময় এই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কণ্ঠে ছিল হতাশা। ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রায় এক দশক পর আবার ফিরছেন—তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালের জন্য। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটও মিস করেছিলেন মেসি।

    অবসরের কথাও বলেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সমর্থকদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন, জেতেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ক্যারিয়ারে। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ।

    ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে মাঠ একদিন ছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠই এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

    বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে মাঠে একদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, সেই মাঠেই কি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন?

  • বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    আগামী ১৯ জুলাই ফুটবল বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে এক রূপকথার ফাইনাল। একদিকে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে কোপা আমেরিকার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি।

    তবে এই ব্লকবাস্টার ফাইনালের মূল আকর্ষণ কেবল ট্রফি জয় নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য এক নিয়তি। ফুটবল ভক্তদের সব আলো এখন কেড়ে নিচ্ছেন দুই মহাতারকা: লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামাল।

    আর্জেন্টিনার এই জীবন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখতেন ইয়ামাল। অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন।

    সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে জনপ্রিয় স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ডেজন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘আমি একটু বড় হয়েছি, আর লিও-ও (অভিজ্ঞতায়) বেড়েছে। আশা করি আমি একটি ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে পারব, বিশেষ করে যেহেতু আমাদের মধ্যে ফিনালিসিমা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।’

    অবশেষে ইয়ামালের সেই স্বপ্নই সত্যি হতে যাচ্ছে। ফুটবল অমরত্বের লড়াইয়ে মেসিরই মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছেন এই স্প্যানিশ পোস্টারবয়।

    আগামী রোববার (১৯ জুলাই) ফাইনালের মহারণে এই দুজন মুখোমুখি হবেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। একদিকে মেসির সামনে তার সোনালী ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি, অন্যদিকে তরুণ ইয়ামালের সামনে বিশ্বজয়ের মঞ্চে নিজেকে নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ। ফুটবলের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।

  • মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা উঠে গেল ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিকস আর লিওনেল মেসির জাদুকরীয় ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিংয়ে স্কালোনি পেয়েছেন পূর্ণ ১০ এবং মেসি পেয়েছেন ৯। কিন্তু কেন?

    শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা আর্জেন্টিনা দলকে কেমন রেটিং দিয়েছেন:

    এমিলিয়ানো মার্তিনেস (৬/১০): খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে দায়িত্বশীল ছিলেন।

    নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।

    লিসান্দ্রো মার্তিনেস (৬/১০): বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০): রক্ষণভাগে ছিলেন বেশ সতর্ক।

    নাহুয়েল মলিনা (৩/১০): ইংল্যান্ডের গোলটির সময় তার ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

    এনজো ফার্নান্দেস (৮/১০): দলের প্রয়োজনে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।

    আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

    লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০): মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিতে ভূমিকা রেখেছেন।

    জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): প্রেস করার কাজটা ভালো করলেও প্রথমার্ধের পরেই বদলি হন।

    হুলিয়ান আলভারেস (৬/১০): দলের হয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে গোল পাননি।

    লিওনেল মেসি (৯/১০): ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি যেন অজেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার বাঁ পায়ের জাদুকরী ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি আসে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে পুরো দলকে এক সুঁতায় গেঁথেছেন, তা এক কথায় বিস্ময়কর। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনা ধুঁকছিল, তখন মেসি নিজেই নিচে নেমে আসেন। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লকের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার কাজটি তিনিই করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার সেই অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেসের জয়সূচক গোল। এটিই প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে মেসি কেন এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল না পেলেও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অ্যাসিস্ট ও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।

    লিওনেল স্কালোনি (১০/১০): আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে দশে দশ দিয়েছেন ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা। এর মূল কারণ তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন স্কালোনি ঘাবড়ে যাননি। তার সাবস্টিটিউশনগুলো ছিল নিখুঁত। ৭২ মিনিটে মলিনা ও পারেদেসকে তুলে নিয়ে রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মনতিয়েলকে নামানো ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এই পরিবর্তনের ফলেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধাঁরালো হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। তাছাড়া সঠিক সময়ে লাউতারোকে নামিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। কোচ হিসেবে স্কালোনি দেখিয়েছেন পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ছক পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

    প্রশ্ন আসতে পারে, স্কালোনিকে কেন মেসির চেয়েও বেশি রেটিং দেওয়া হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কালোনির ১০ পাওয়ার কারণ তার নির্ভুল গেম প্ল্যান ও প্লেয়ার পরিবর্তন। অন্যদিকে মেসির ৯ পাওয়ার কারণ তার একক ম্যাজিক। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ম্যাচ দেখা গেছে যেখানে দুর্দান্ত কৌশল থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় জয় আসে না। আবার অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও ভুল কৌশলের কারণে দল হারে। আটলান্টায় এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছে। স্কালোনি ছক এঁকেছেন, আর মেসি সেই ছক অনুযায়ী দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। নিজে গোল না পেলেও রেখেছেন গোল অবদান।

    ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ ও অধিনায়ক যে ফর্মে আছেন, তাতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন আরও একটি বিশ্ব জয়ের। মেসি কি পারবেন ফাইনালে নিজের রেটিং ১০-এ নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই।

  • ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ডালাসের মাঠে ফরাসিদের দাপটের সাথে বিদায় করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। গত রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

    আজ বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জয়ী দলই আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’র সুপারকম্পিউটার হিসাব কষে জানিয়েছে, ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে আসলে কারা এগিয়ে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ফেভারিট ঘোষণা করলেও সুপার কম্পিউটারের সেই পূর্বাভাস মাঠে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফরাসিদের বিদায় দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন।

    ফরাসি জুজু কাটার পর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস দিল অপটা’র সুপারকম্পিউটার। অপটার ২৫,০০০ প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশনের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে থমাস টুহেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫২.৫৩ শতাংশ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪৭.৪৭ শতাংশ।

    পরিসংখ্যান বলছে, থ্রি লায়ন্সদের লড়াকু ফুটবল আর ট্যাকটিক্যাল শক্তির কারণে লিওনেল মেসির দলের টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আজ রাতে বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।

    প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখার পর ট্রফি জয়ের দৌড়েও পরিবর্তন এসেছে। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, তিন সিংহের দল কিংবা আলবিসেলেস্তেরা যারাই ফাইনালে উঠুক না কেন, শিরোপা জয়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসাব মতে, স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখন ৫৬.১৫ শতাংশ।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    কিছু ম্যাচ থাকে, যার গল্প পরিসংখ্যানের খাতায় নয়, লেখা থাকে মানুষের স্মৃতিতে। পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা দেখায়, স্মৃতিতে বেঁচে থাকে ইতিহাস। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ সালের সেই আজতেকার বিকেল, ‘হ্যান্ড অব গড’, শতাব্দীর সেরা গোল আর বেকহাম-সিমিওনের দ্বন্দ্ব। সেই সুখস্মৃতি মনে রাখতেই যেন আর্জেন্টিনার আরজি, নীল জার্সি পরতে দিতে হবে তাদের।

    সেমিফাইনালে ওঠার পরই ফিফার কাছে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি নিয়েছে তারা। যে রঙের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ’৮৬–এর ম্যারাডোনার সেই দুই গোল। একটিতে ‘ঈশ্বরের হাত’, আরেকটি পায়ের অলৌকিক এক কারুকার্য। এক যুগ পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে একই জার্সিতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড।

    সেদিন ডেভিড বেকহাম লাথি মেরেছিলেন দিয়েগো সিমিওনেকে, দেখেছিলেন লাল কার্ড। মূল খেলা ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। নীল কেন আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, সেটি বোঝা যাবে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে তাকালেও। ২০০২ আসরের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের লালের বিপক্ষে সাদা-আকাশি জার্সিতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেদিন নীল ছিল না, আর্জেন্টিনাও বেকহামের একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছিল।

    নিয়ম অনুযায়ী, সেমিতে আগে ওঠায় ম্যাচে ইংল্যান্ডের পোশাকি নাম টিম ‘এ’। আর টিম ‘এ’ জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য সাদা জার্সি বেছে নিলে টিম ‘বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ‘অ্যাওয়ে’ মানে নীল জার্সিতে খেলতে হতো। আর ইংল্যান্ড যদি অ্যাওয়ে, অর্থাৎ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে সাদা-আকাশি জার্সি পরে খেলতে হতো।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনভাবে জার্সি বেছে নিতে হয়, যাতে সাদা-কালো পর্দায় দুই দলকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা যাতে দুই দলকে গুলিয়ে না ফেলেন, সেটাও খেয়াল রাখা হয়। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের একধরনের প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড যাতে কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরা থামাতে না পারে, তাই আগেভাগেই নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

    অবশ্য এত কিছু করার প্রয়োজনও তেমন ছিল না। কারণ, টিম ‘এ’ হিসেবে ইংল্যান্ড নিজেদের হোম জার্সি, অর্থাৎ সাদা জার্সিই বেছে নিয়েছে। সঙ্গে সাদা শর্টস আর সাদা মোজা। যে কারণে আর্জেন্টিনার জন্য নীল জার্সি, নীল শর্টস আর নীল মোজাই পড়েছে।

  • ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    ইংলিশদের বিপক্ষে একাদশে যে পরিবর্তন আনতে পারে আর্জেন্টিনা

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে শুরুর একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় দলে এক-দুটি পরিবর্তন আনতে পারেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখে আমরা একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের লক্ষ্য সম্ভাব্য সেরা দলটিকে মাঠে নামানো। তবে সবাই ভালো অবস্থায় আছে।’

    যদিও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানো দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই একাদশে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, পরিবর্তন এলে সেটি মূলত মাঝমাঠেই দেখা যেতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, নিয়মিত একাদশের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে। মিসরের বিপক্ষেও তার জায়গা নিয়ে আলোচনা ছিল। এছাড়া জাতীয় দলের সর্বশেষ দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

    দি পল না খেললে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেস কিংবা জুলিয়ানো সিমিওনেকে দেখা যেতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে একাধিকবার কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন সিমিওনে। তিনি একাদশে সুযোগ পেলে বাম প্রান্তে খেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্কালোনি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের বিন্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল/জুলিয়ানো সিমিওনে/নিকোলাস গনসালেস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।