নদীর নাব্য হারিয়ে এ অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। আবহমান গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীর দিঘীরপাড় পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হলো নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার বিকালে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নদীতীরবর্তী পুরো এলাকা নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ‘হেইয়োরে, হেইয়োরে’ ডাকে মুখর ছিল। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-নির্বিশেষে কয়েক হাজার মানুষ এ বাইচ উপভোগ করতে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে উপচেপড়া দর্শক। ইঞ্জিনচালিত ও পানসি নৌকা নিয়ে নদীতেও মানুষের উপস্থিতি। কোনো কোনো নৌকায় উচ্চৈঃস্বরে বাজছিল গান। দর্শকের টান টান উত্তেজনার মধ্যেই বাইচের নৌকার মাঝিরা হাঁক দিলেন, ‘হেইয়ো রে হেইয়ো’। দর্শকদের হর্ষধ্বনি আর হাততালি বাড়তি উৎসাহ জোগায় নৌকাগুলোকে। নদীর পাড়ে বিভিন্ন খাবারের পসরা নিয়ে বসে গ্রাম্যমেলা। দিঘীরপাড় নওমোজাহিদ ক্লাব আয়োজিত বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি, নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বাইচে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ-মানিকগঞ্জ জেলা থেকে ছোট-বড় ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। বাইচ বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়। পরে ক্লাবের সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ঢাকা-১ আসনের সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর আমরা নৌকাবাইচের আয়োজন করে থাকি।
সংসদ-সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য নৌকাবাইচ। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবারই বাইচ আয়োজনের চেষ্টা করি। আমরা চাই, মানুষ যেন শিকড় ভুলে না যায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌকাবাইচ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ আল-মামুন, সদস্য সচিব মোহসীন হাসান লিটু, বিএনপি নেতা মো. আমজাদ হোসেন, আবুল কালাম খন্দকার, আব্দুস সালাম প্রমুখ।
