চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি

প্রতিবেদন:

·

,

অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণের কারনে ভোলার চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। ফসলি জমি ভরাট করে বসত ঘর সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় উদ্বেগজনকভাবে ফসলের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। তবে মেঘনার নদীর ক্রমাগত ভাঙনেও কমে যাচ্ছে এসব কৃষি জমি। এমনটাই দাবি করছেন স্থানান্তরিত বাসিন্দারা।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ফসলি জমির আশে পাশে বাড়ি ঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, ইটভাটা এসবের কারনে জমির পরিমাণ ও ফসলের চাষাবাদ কমে যাচ্ছে। তবে অপরিকল্পিত ভাবে কৃষি জমি ভরাট হওয়ায় আউশ, আমন, ইরি, বোরো ও রবিশস্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চরফ্যাসন উপজেলায় ৮৫ হাজার ১৯২ হেক্টর আবাদি জমি ও ৩ হাজার ৩৩৭ হেক্টর অনাবাদি জমি রয়েছে। প্রতি বছর এসব জমির মধ্যে শতকরা ১ শতাংশ কৃষি জমি অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণের কারনে কমে যায়। আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ২৭ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এছাড়া সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল চাষ হয়েছে ৭৫ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে।

মেঘনা নদীরপাড়ের বসত পাল্টানো বাসিন্দা বশির চকিদার (৬৫)। পাঁচ বারের ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে নতুন বাড়ি করেছেন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের কাশেমগঞ্জ এলাকায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাক্ষী হয়েছেন অনেক দৃশ্যপটের। মেঘনা নদী ভাঙনের শত স্মৃতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘খড়-কুটোর ঘর, গবাদি পশু, চাষের জমি, এমনকি পরিবার ও জীবনসহ সব কিছুই বিপদের মুখে রেখে বসবাস করতে হয় নদীর তীরের মানুষদের। ঝড়-বন্যা আর ভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। এমনিতেই গরিব, তার ওপর আবার বসতভিটা, চাষের জমি, থাকার ঘরও খোয়া গেছে ভাঙনে। তাই ভাঙনে ধরা গ্রামের মানুষগুলোর বারবার বসত পাল্টাতে হয়। এজন্য এখানে ৮ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করেছি।’

একই এলাকার শাহেআলম মাঝি,বয়স ৫৭ ছুঁয়েছে। ৬ সদস্যের সংসার চালাতে হয় অন্যের নৌকায় মাছ ধরে। বেশ বড় বাড়ি ছিল এক সময়, ছিলো নিজের কৃষি জমি আবাদ করেই সংসার চলতো। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে এখন ৪ শতাংশ জমিতে টিন দিয়ে চারচালা ঘরে মাথা গোজাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান ‘চরফ্যাসন উপজেলায় মানুষের আয়ের উৎসের সিংহভাগ হলো কৃষি। ফসল উৎপাদন কমে যাবার অন্যতম কারণ হচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাওয়া। কয়েক বছর আগেও কৃষিজমির পরিমাণ যা ছিল আবাসিক চাহিদা ও নদী ভাঙ্গনে অনেকটা কমে গেছে। অপরিকল্পিত বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা, পুকুর খননসহ নানা রকম স্থাপনা যত্রতত্র গড়ে উঠছে। এতে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। ফলে কয়েক বৎসর পর কৃষি উৎপাদন মারাত্মকহারে হ্রাস পাবে। তাই তারা মনে করে জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবার আগে জাতীয় ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও নীতিমালা জরুরী।’

চরফ্যাসন উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে একই আবাদি জমিতে বহুমুখী শস্যের চাষ হওয়ায় চরফ্যাশন উপজেলায় খাদ্যে ঘাটতি নেই। তবে যেভাবে আবাদি জমির সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তাতে একসময় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ উপজেলার ২ লক্ষ ৬০ হাজার কৃষক রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা তাদের পেশা বদলে ফেলছে। আসলে কৃষিজমি সুরক্ষা আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ার কারনে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাট ও স্থাপনা রোধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে এসব বিষয়ে জনসচেতনতার প্রয়োজন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, ‘কৃষিজমি রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমি (যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ) আইন-২০২২, কার্যকর হলে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

এ এম

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ