ছবি

  • রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে। এছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে নাতি।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ৩টায় গঙ্গাচড়া উপজেলার মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র (৪০) ও ১০ বছর বয়সী নাতি বন্ধনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বেতগাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন উপজেলার চেংমারি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র (৬০)। পথিমধ্যে মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে একটি ট্রাকে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নির্মল চন্দ্র ও প্রশান্ত চন্দ্রের মৃত্যু হয়।

    গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

    এ ঘটনায় ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।

    এদিকে, এ ঘটনায় চেংমারি গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বইছে। স্বজনহারাদের আর্তনাদে সেখানকার আকাশ বাতাস হয়ে উঠেছে। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন শতশত মানুষ।

    গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে আমরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ট্রাকটিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা হবে।’

  • বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    পটুয়াখালীর বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতঘরের মালিককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই বান টিন এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

    ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ক্ষতির তুলনায় আমাদের এই প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। তারপরও সান্ত্বনার অংশ হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আপনাদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দল-মত দেখে সহযোগিতা করি না। এখানে হিন্দু ভাইয়ের দোকান আছে, মুসলিম ভাইয়ের দোকান আছে, অন্য দলের ভাইদের দোকানও আছে। কিন্তু তারা ক্ষতিগ্রস্ত—এটাই আমাদের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়।’

    সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা যখন ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন জনপ্রতিনিধির এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: জামাল হোসেন, বগা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রিপন কাজী (২৫) নামে এক মুদি দোকানিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের মিরপুর পৌরসভার তালতলা এলাকায় সড়কের পাশ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

    নিহত রিপন মিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম কাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে স্থানীয়রা রিপনকে তার দোকানের সামনে মহাসড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

  • উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় তিন হাজার ৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রায়হানুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে জনপ্রতি পাঁচ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়।

    এছাড়া এক হাজার ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ, ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও ৯০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের বীজ দেয়া হয়। এসব কৃষকের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে এমওপি ও ১৫ কেজি করে ডিএপি সারও প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান। এই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি। কৃষির ওপর নির্ভর করেই আমার বাবা-মা আমাদের মানুষ করেছেন। কৃষির সাথে আমাদের সবার জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সময়োপযোগী বীজ ও সারের সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষির সার্বিক অবস্থা, চলমান কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি।

    বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো: আজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম, সাবেক আমির আব্দুস সামাদ, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, অফিস সম্পাদক আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগের আট দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এর আগে, গত সোমবার দুপুরে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

    পুলিশের ভাষ্য, আনোয়ারের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় নথিভুক্ত করা হবে।

    আনোয়ার হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন রাতে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে তারা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস, হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে আটক করেন। পরে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে সারারাত বেঁধে রেখে তাকে মারধর করা হয়।

    এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রসেনজিত আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরদিন ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিত বিশ্বাসের মা দাবি করেন, আনোয়ার তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন। ‘চোর, চোর’ বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে, তা তিনি জানেন না।

    তার দাবি, প্রসেনজিতই আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন।

    অন্যদিকে নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার চাই।’

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

  • ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার নিকলা নয়াপাড়া এলাকায় মরহুম অধ্যাপক ডা: মোকতেল হোসেনের স্মরণে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও নাক, কান, গলাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, যেখানে ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকার ভিজিট গুণতে হয়, সেখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারা। এতে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

    ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজক ডাক্তার হাবিবুল হাসান সৌরভ জানান, গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে মরহুম অধ্যাপক ডাক্তার মোকতেল হোসেনের স্মরণে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

  • প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    এছাড়া ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো: সামছুদ্দিন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল হক (২৬) ও তার ভাই এনামুল হক। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন— তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) ও চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)।

    রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো: আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো: রফিকুল ইসলাম খান।

    আদালত সূত্র জানায়, নিহত সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জিয়াউল হকের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা গোপন রাখতে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়।

    আকাশ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় আকাশের লাশ উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো: আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।

    ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি এনামুল হককে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের (৩২) লাশ দাফনের দুই মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে আদালতের নির্দেশে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানসহ একদল পুলিশ সদস্য।

    মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাদ্দাম হোসেন। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    পরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চলতি বছরের ২ মে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়েছিল।

    পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আজ তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামছুল হক মিঠু বলেন, সাদ্দাম হোসেন একজন উদীয়মান ও পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    লাশ উত্তোলনের বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান বলেন, আদালতের নির্দেশে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আজ কবর থেকে সাদ্দাম হোসেনের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    দিনাজপুরের হিলিতে সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে হিলি উপজেলার সাতকুড়ি এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, হিলির সাতকুড়ি এলাকায় বেশ কিছু চোরাই মাল বস্তায় ভর্তি করে কে বা কারা রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বস্তাগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ সময় সেখানে মালামালের মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো মালিক না পাওয়ায় মালামালগুলো মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রকৃত মালিক খুঁজে বের করতে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। মালিক না পাওয়া গেলে পরবর্তী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, উদ্ধার পণ্যের মাধ্যে ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো বস্তা ছেঁড়া-ফাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে ।

  • নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নতুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।এ বিষয়ে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

  • মানবজাতির প্রতি মহানবীর ১০ অবদান

    মানবজাতির প্রতি মহানবীর ১০ অবদান

    কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলিমদের নয়, সব যুগের সব মানুষের জন্য ছিলেন সাক্ষাৎ রহমত। বিশ্বমানবতার প্রতি তাঁর অবদানের শেষ নেই। এখানে সংক্ষেপে তাঁর ১০টি অবদানের কথা তুলে ধরছি—

    আল্লাহর ওহি লাভের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতাকে মানুষের দাসত্ব ও তাদের গোলামি থেকে একমাত্র শরিকবিহীন আল্লাহর ইবাদতের দিকে নিয়ে গেছেন। এতে করে মানুষ আল্লাহ ছাড়া আর সবকিছুর দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে। বলাবাহুল্য এটিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্মান।

    আল্লাহর ওহি লাভের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতাকে সব কল্পকথা ও কুসংস্কার এবং সব রকমের মিথ্যা ও প্রতারণার সামনে শির না নোয়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। অক্ষম প্রতিমা ও অলীক প্রভুদের বন্দি দশা থেকে উদ্ধার করেছেন। মুক্ত করেছেন তিনি সুস্থ বিবেকপরিপন্থী চিন্তাধারার বিশ্বাস থেকে।

    মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতার চেতনায় ক্ষমা ও উদারতার ভিতগুলোকে সুদৃঢ় করেছেন। পবিত্র কোরআনে খোদ আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি ‘ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই’ মর্মে ওহি প্রেরণ করেছেন। এদিকে তিনি (সা.) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মুসলিমের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসকারী অমুসলিমদের সব অধিকার নিশ্চিত করেছেন। তাদের জীবন, সন্তান, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা ঘোষণা করেছেন। তাই তো আজ অবধি মুসলিম দেশগুলোয় ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সসম্মানে জীবনযাপন করতে দেখা যায়। অথচ একই সময়ে বৌদ্ধদের হাতে মিয়ানমারে, হিন্দুদের হাতে ভারতে, ইহুদিদের হাতে ফিলিস্তিনে ও খ্রিস্টানদের হাতে পশ্চিমা দেশগুলোয় তারা নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। উদারতার দাবিদার পশ্চিমাদের দেশগুলোয় ইসালামোফোবিয়া ও হেইট স্পিচের শিকার হচ্ছে।

    মুহাম্মদ (সা.) ধর্ম, বর্ণ ও বংশ নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষার মধ্যে বরং এমন উপাদানেরও অভাব নেই, যা পক্ষী ও প্রাণিকুলের প্রতি মায়া-মমতা ও কোমলতা দেখাতেও গুরুত্ব দেয়। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এদের অকারণে কষ্ট প্রদান কিংবা এদের প্রতি বিরূপ আচরণকে।

    মুহাম্মদ (সা.) তাঁর অগ্রবর্তী সব নবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল চিত্র উপস্থাপন করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন নবী ইবরাহীম, মুসা ও ঈসা (আ.) প্রমুখ নবী-রাসুল। উপরন্তু তাঁর প্রতি আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বাণীই প্রেরণ করেছেন, যে কেউ তাঁদের (আল্লাহর প্রেরিত নবীদের) মধ্যে কাউকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, অথবা তাঁর সম্মানহানি ঘটাবে, সে মুসলিম নয়। কেননা সব নবী ভাই ভাই। তাঁরা সবাই মানুষকে লাশরিক এক আল্লাহর প্রতি ডাকার কাজে সমান।

    নবী মুহাম্মদ (সা.) ছোট-বড় ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার রক্ষা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তার সামাজিক মর্যাদা বা জীবনযাত্রার মানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি চমৎকার একগুচ্ছ নীতিনির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর অন্যতম হলো প্রস্থানের তিন মাস আগে বিদায় হজে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের কিছু বাণী। এতে তিনি মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মানে আঘাত হানাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি এ ভাষণ প্রদান করেন, এমন সময় বিশ্ব যখন ১২১৫ সালে ম্যাগনাকার্টা লিবার্ট্যাটাম, ১৬৭৯ সালের হেবিয়াস কর্পাস অ্যাক্ট, ১৬৯৮ সালের ব্রিটিশ বিল অব রাটইস, ১৭৭৬ সালের আমেরিকান স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭৮৯ সালের ফরাসি ডিক্লারেশন অব হিউম্যান অ্যান্ড সিভিল রাইটস এবং ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার কথা পৃথিবীবাসী কল্পনাও করেনি।

    মুহাম্মদ (সা.) মানবজীবনে আখলাক তথা সচ্চরিত্রের মান তুলে ধরেছেন অনেক উঁচুতে। মানুষকে তিনি উত্তম আখলাক তথা সচ্চরিত্র এবং তার সহায়ক গুণগুলো বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যেমন তিনি সততা, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তিনি পিতামাতার সঙ্গে সদাচার এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বহাল রাখতে বলেছেন। জীবনে তিনি এর সফল প্রয়োগও ঘটিয়েছেন। পক্ষান্তরে তিনি অসৎ চরিত্র অবলম্বন থেকে বারণ করেছেন। তিনি নিজে যেমন মন্দ স্বভাব থেকে দূরে থেকেছেন, তেমনি অন্যদেরও এ থেকে সতর্ক করেছেন। যেমন মিথ্যা, ছলনা, হিংসা, জেনা-ব্যভিচার ও পিতামাতার অবাধ্যাচরণ করা। শুধু তাই নয়, এসব থেকে সৃষ্ট সমস্যাবলির প্রতিকারও বলে দিয়েছেন তিনি।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহিপ্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ (সা.) বুদ্ধি কাজে লাগাতে বলেন। সৃষ্টিজগৎ উদ্ঘাটন ও তার পরিচয় লাভে উৎসাহিত করেন। একে তিনি নেকি তথা পুণ্য কাজ বলে গণ্য করেন। অথচ একই সময়ে অপর সভ্যতাগুলোর জ্ঞানী ও চিন্তানায়করা নির্যাতন ভোগ করছিলেন।

    আল্লাহর ওহি লাভের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) মানুষের প্রকৃতি ও স্বভাববান্ধব এক দীন নিয়ে আবির্ভূত হন, যা আত্মিক খোরাক ও দৈহিক চাহিদার প্রতি লক্ষ রাখে। পার্থিব কাজ ও আখিরাতের আমলের মধ্যে ভারসাম্য বিধান করে। পরিশীলিত ও পরিমার্জিত করে মানুষের সহজাত বাসনা ও ঝোঁককে। অপরাপর জাতিগুলোর সভ্যতার মতো একে ধ্বংস বা অবদমিত করে না। অন্য জাতিগুলোর সভ্যতায় দেখা যায়, তারা মানুষের প্রকৃতিবিরুদ্ধ মূর্তিপূজার মধ্যে ডুবে গিয়েছিল। ধর্ম-অন্তঃপ্রাণ ও তপস্যানুরাগীদেরকে তাদের প্রাকৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। যেমন বিয়ে-শাদি। বঞ্চিত করেছিল অবিচারের বিরুদ্ধে তাদের স্বভাবসুলভ মানবিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের অধিকার থেকে।

    মানবতার কল্যাণে মহানবী (সা.) মানুষের আন্তঃসম্প্রদায়ে ভ্রাতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ নমুনা পেশ করেছিলেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কোনো মানব সম্প্রদায়ের ওপর অন্য কোনো মানব সম্প্রদায়ের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মূল সৃষ্টি, অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান। শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচিত হবে কেবল ঈমান ও তাকওয়া তথা বিশ্বাস ও আল্লাহভীতির নিরিখে। তিনি তাঁর সব সঙ্গী-সাহাবিকে দীনের খেদমত করার এবং তাতে সম্পৃক্ত হওয়ার সমান সুযোগ দিয়েছেন। তাই তো তাঁদের মধ্যে আরবদের পাশাপাশি ছিলেন (রোম দেশের) সুহাইব রুমি, (হাবশার) বিলাল হাবশি ও (পারস্যের) সালমান ফারসি রাদিআল্লাহু আনহুম।

  • রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ী সদর উপজেলায় মুরগিবাহী একটি পিকআপের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জোহান (৩৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সেতু আক্তার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রযেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জোহান ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোশারফের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক জোহানের মৃত্যু হয় এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে রেফার্ড করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী লিটন জানান, দুর্ঘটনার পর তারা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে নিহত ব্যক্তির লাশ পাশেই পানিতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতের স্বজন আকরামুল হক বিপ্লব বলেন, আমার বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শেষে দু’জন মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিলে পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের দুই মাস বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

    পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • ইসলামের দৃষ্টিতে এলসি: হালাল বাণিজ্য লেনদেনে যা করণীয়

    ইসলামের দৃষ্টিতে এলসি: হালাল বাণিজ্য লেনদেনে যা করণীয়

    বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)। তবে একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য শুধু নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটি ইসলামী শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সহযোগিতায় সময় টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইসলামী অর্থনীতি’-তে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি চিফ অব ইসলামিক ব্যাংকিং এ. কে. এম. মীজানুর রহমান এবং বাহরাইনের এওফি (AAOIFI) তাকাফুল ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি লুকমান হাসান।

    এ. কে. এম. মীজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এলসি হলো ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের একটি কার্যকর ব্যবস্থা। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর আমদানিকারক তার ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলেন। এরপর রপ্তানিকারক পণ্য পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে যাচাই-বাছাই শেষে ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করে। প্রয়োজন হলে কনফার্মেশন এলসির মাধ্যমে অর্থপ্রদানের নিশ্চয়তাও নিশ্চিত করা যায়।

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এলসি ব্যবস্থায় ডকুমেন্টে ভুল, জালিয়াতি, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত ঝুঁকি এবং আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কা থাকে। এসব ঝুঁকি কমাতে দক্ষ জনবল, সঠিক মূল্য যাচাই এবং নির্ভরযোগ্য রপ্তানিকারক নির্বাচন জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এলসি ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে ব্যাংকগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য যাচাইয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে মুফতি লুকমান হাসান বলেন, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী এলসি হালাল হওয়ার জন্য শুধু অর্থায়ন নয়, পুরো লেনদেনের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। যদি গ্রাহক পূর্ণ অর্থ জমা দিয়ে কেবল ব্যাংকের নিশ্চয়তা নেন, তাহলে ব্যাংক এজেন্সি ফি নিতে পারে, যা শরিয়াহসম্মত। কিন্তু ব্যাংক যদি অর্থায়ন করে, তাহলে প্রচলিত সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ব্যাংককে আগে পণ্যের মালিকানা গ্রহণ করে পরে নির্ধারিত মুনাফায় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে হবে।

    তিনি বলেন, ইসলামে সুদ (রিবা), অনিশ্চয়তা (গারার) এবং প্রতারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই পণ্যের প্রকৃত মালিকানা ও ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়া বিক্রি করা শরিয়াহসম্মত নয়। এ কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে প্রকৃত বেচাকেনাভিত্তিক মুরাবাহা, সালাম বা ইস্তিসনা চুক্তির মাধ্যমে এলসি পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।

    মুফতি লুকমান হাসানের মতে, বিদ্যমান আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো সরাসরি আমদানিকারক হিসেবে কাজ করতে পারে না। তিনি মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা, যাতে তারা সরাসরি পণ্যের মালিকানা গ্রহণ করে শতভাগ শরিয়াহসম্মত উপায়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে।

  • ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীর হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরগুনার পাথরঘাটার সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত উপজেলার কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে দুই শতাধিক অসহায় ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন পাথরঘাটা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: বেল্লাল হোসেন জুয়েল।

    কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের পরিচালক মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ছারছীনার মরহুম পীরসাহেব হযরত শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর জীবন ছিল মানবকল্যাণ, দ্বীনি খেদমত ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার আদর্শ ও কর্মধারাকে অনুসরণ করেই আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্তেকালবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবসেবামূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

    এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, খানকাহর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জোহরের নামাজের পর ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীরসহ এলাকার মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

  • সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারের নবীনগরের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাভার ডিবি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল ইসলাম।

    গ্রেফতাররা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে মো: মাসুম (২২) ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথুলি এলাকার মো: জামাল শেখের ছেলে মো: সোয়েব শেখ (২০)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল বলেন, ‘ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপ-পরিদর্শক মো: নাফিউল ইসলাম পিপিএমসহ ডিবির একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। এ সময় দুই মাদককারবারিকে ৪২ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। ’

    ডিবি পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং জব্দ করা গাড়িটির মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে পাইকারিভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন বলেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মাসুমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

    ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

    বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। বহু হতাহতের খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। যেকোনো সময় বাংলাদেশও শিকার হতে পারে এ ভূমিকম্পে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করব

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতানু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান।অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে।

    এ এম

  • ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়ন বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা সেতুর পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তিনি আরো জানান, নিহত ব্যক্তিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় ঘোলদাড়ি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে বাজারের চালের আড়ত, মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, সার ও বীজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মো: শুকুর আলীর ‘মিষ্টি বাড়ি’ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • আশুরায় বর্জনীয় বিষয়

    আশুরায় বর্জনীয় বিষয়

    হিজরি নববর্ষের সূচনাকারী মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। ইসলামের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং ইবাদতের সঙ্গে মহররম মাসের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক স্থানে এই মাসকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা ও আনুষ্ঠানিকতা চালু হয়েছে, যা কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য মহররমের প্রকৃত তাৎপর্য জানা এবং সুন্নাহভিত্তিক আমল করা অপরিহার্য।

    এ হাদিসে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা এ মাসের বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ। তাই এ মাসের অন্যতম প্রস্তুতি হওয়া উচিত নিজের আমলের হিসাব নেওয়া, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করা।

    মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আশুরার রোজা। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি বহু তাৎপর্যমণ্ডিত ঘটনার সাক্ষী। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহতায়ালা এ দিনে নবী মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ উপলক্ষে মুসা (আ.) রোজা পালন করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও এ রোজা পালনের নির্দেশ দেন।

    দুঃখের বিষয়, মহররম মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের কিছু অংশে নানা ধরনের বিদআত ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। কারবালার বেদনাবিধুর ঘটনাকে স্মরণ করতে গিয়ে কেউ কেউ বুক চাপড়ানো, মাতম করা, শরীরে আঘাত করা কিংবা রক্ত ঝরানোর মতো কাজ করে থাকেন। অথচ ইসলামে এসবের কোনো অনুমোদন নেই।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গালে আঘাত করে, কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারি : ১২৯৪)

    তেমনি তাজিয়া মিছিল, আশুরাকে কেন্দ্র করে বিশেষ শোকানুষ্ঠান, নির্দিষ্ট খাবারকে ধর্মীয় আমল মনে করা কিংবা বিশেষ নামাজ ও দোয়ার অনুষ্ঠান উদ্ভাবন করাও সুন্নাহসম্মত নয়। ইসলামে ইবাদতের ভিত্তি হলো কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ। নবী করিম (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারি : ২৬৯৭; মুসলিম : ১৭১৮)

    কারবালার ঘটনা মুসলিম ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। কিন্তু এর শিক্ষা শোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সত্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ কোরবানি দেওয়ার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্রের শাহাদত ইসলামের ইতিহাসে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

    মহররম তাই শোকের নয়, শিক্ষাগ্রহণের মাস; বিদআতের নয়, সুন্নাহ অনুসরণের মাস; আনুষ্ঠানিকতার নয়, আত্মশুদ্ধির মাস। আসুন, আমরা এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখি, তওবা করি, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার অঙ্গীকার করি। তাহলেই মহররম আমাদের জীবনে কল্যাণ, বরকত ও আল্লাহর নৈকট্যের বার্তা বয়ে আনবে।

    এ এম

  • প্রবাসে নয়, কৃষিতেই ভাগ্য বদল ফটিকছড়ির এয়াকুব দৌলতের

    প্রবাসে নয়, কৃষিতেই ভাগ্য বদল ফটিকছড়ির এয়াকুব দৌলতের

    একসময় প্রবাসে বছরের পর বছর পরিশ্রম করেও সফলতার মুখ দেখেননি মোহাম্মদ এয়াকুব দৌলত। তবে দেশে ফিরে কৃষিকেই জীবনের নতুন পথ হিসেবে বেছে নিয়ে বদলে ফেলেছেন নিজের ভাগ্য। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ফকিরটিলা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর টিলা ও সমতল ভূমিজুড়ে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির আমের বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে এক হাজারের বেশি গাছ, যা তাকে এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও পরিচিতি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো ও সুস্বাদু আম্রপালি ও রাংকোয়াচি (বার্মিচ) আম। গাছ থেকে আম সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ছুটে আসছেন এই বাগানে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে তার উৎপাদিত আম।

    এয়াকুব দৌলত জানান, সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। কিন্তু নানা ব্যবসায়-বাণিজ্যে যুক্ত থেকেও কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাননি। দেশে ফিরে বেকারত্বের হতাশার মধ্যে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আম্রপালি আম চাষ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর নিজের পরিত্যক্ত টিলা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আম্রপালি চাষ শুরু করেন।

    তিনি বলেন, ‘শুরুতে অনেকেই আমাকে পাগল বলেছিল। টিলা জমিতে বিদেশি জাতের আম হবে না বলেও নানা কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। প্রথম বছরের সফলতা আমাকে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সাহস দিয়েছে।’

    এ এম

  • পোনা খামারে মিলেছে রায়হানের জীবনের ঠিকানা

    পোনা খামারে মিলেছে রায়হানের জীবনের ঠিকানা

    চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইতনগর গ্রামে মোহাম্মদ বাবর আলী রায়হানের (৪২) সকাল শুরু হয় পুকুরপাড়ের ব্যস্ততায়। সূর্যের আলো পানিতে ঝিলমিল করতেই এক পুকুর থেকে আরেক পুকুরে ছুটে যান তিনি। পানির মান, পোনার বৃদ্ধি, খাবারের অবস্থা- সবকিছুই তার নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকে।

    একসময় জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন রায়হান। কমার্স বিষয়ে পড়াশোনা শেষে প্রায় ৯ বছর প্রবাসে ভাঙারি ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে টানত গ্রামের মাটি। সেই টানেই দেশে ফিরে বেছে নেন মাছের পোনা উৎপাদনের মতো সম্ভাবনাময় একটি খাত।

    প্রায় এক যুগ আগে মাত্র ৫০০০০-৬০০০০ হাজার টাকা বিনিয়োগে কয়েকটি পুকুর নিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। সময়ের সঙ্গে পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে সেই ছোট উদ্যোগ আজ বড় খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তিনটি নিজস্ব ও পাঁচটি লিজ নেওয়া পুকুরসহ মোট আটটি পুকুরে পোনা উৎপাদন করছেন তিনি। এ খাতে তার বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকায়।

    রায়হানের খামারে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালি বাউশ, গ্রাস কার্প, সিলভার কার্প ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি গত ৩ বছর ধরে তিনি হালদা নদীর রেণু পোনা সংগ্রহ ও উৎপাদনের কাজও করছেন।

    হালদার প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগৃহীত রেণু পোনা দেশের মৎস্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ কাজে তাকে সহায়তা করছে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা নিয়মিত খামারে এসে পানির মান পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকেও নিয়মিত তদারকি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হয়।

    মৎস্য খামারী রায়হান জানান, তিনি পোনা উৎপাদনে অর্গানিক পদ্ধতিকে বেশি গুরুত্ব দেন। প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহারের ফলে রোগবালাই কম হয় এবং সুস্থ ও মানসম্মত পোনা উৎপাদন সম্ভব হয়।

    প্রতি বছর তার খামারে দুই থেকে তিন টন পোনা উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হয় এসব পোনা। বর্তমানে এ খামার থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

    রায়হান বলেন, ‘প্রবাস থেকে ফিরে এমন একটি কাজ করতে চেয়েছিলাম, যা নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও উপকারে আসবে। মাছের পোনা উৎপাদন আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে।’

    ফটিকছড়ির গ্রামীণ জনপদে রায়হানের এই উদ্যোগ এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। বিদেশফেরত একজন মানুষের হাতে গড়ে ওঠা পোনা খামার শুধু তার জীবিকার উৎস নয়, স্থানীয় মৎস্য খাতের উন্নয়নেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দীর্ঘ এক যুগের শ্রম, ধৈর্য ও স্বপ্নের প্রতিফলন আজ দেখা যায় তার আটটি পুকুরের স্বচ্ছ জলে বেড়ে ওঠা হাজারো মাছের পোনায়।

    উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘রায়হান বাবর একজন উদ্যমী ও পরিশ্রমী মাছ চাষি। তিনি গত দুই বছর ধরে হালদা নদী থেকে সংগৃহীত প্রাকৃতিক রেণু ব্যবহার করে পোনা উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং কারিগরি পরামর্শ নিয়েছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং হালদার প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’

    এ এম

  • পাঁচবিবিতে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষে সফল আবু হুরায়রা

    পাঁচবিবিতে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষে সফল আবু হুরায়রা

    আঙ্গুর চাষে সফল পাঁচবিবির আবু হোরায়রা

    ডেক্স নিউজ: জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর জয়দেবপুর গ্রামে আঙ্গুর চাষ করে সফলতা পেয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা আবু হুরায়রা। জীবীকার তাগিদে বিদেশ যেতে চাওয়া হুরায়রা এখন বিদেশি জাতের আঙ্গুর বাগান করেই সফল হয়েছে। বাবার ২৫ শতক জমিতে আঙ্গুর বাগান করে লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন তার। প্রতিটি গাছের ডগায় থোকায় থোকায় ঝুলছে অতি মিষ্টি আঙ্গুর ফল।

    উপজেলার সীমান্তবর্তী আয়মারসুলপুর ইউপির উত্তর জয়দেবপুর গ্রামের আবু হুরায়রা পড়ালেখা শেষে কাজের সন্ধানে ইতালি যেতে চেয়েছিল। বিদেশ না গিয়ে এক প্রবাসীর পরামর্শে আঙ্গুরের বাগান করেন। তার বাগানে লাল-সবুজ রংয়ের আঙ্গুরে নজর কাড়ছে সবার।

    হুরায়রার বাগানে বাইকুনুর, রিলায়েন্স ও ডিক্সন সহ ৫ জাতের ৬০ টি আঙ্গুর চারা রোপন করে। অক্লান্ত পরিশ্রমে ৭ মাসেই প্রতিটি গাছেই আঙ্গুর ধরে। ইতিমধ্যেই আঙ্গুর বিক্রয় শুরু করেছে হুরায়রা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ তেমন সহযোগিতা না করলেও জাকস ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা করেছে।

    একই সঙ্গে জাকসের কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন শাহিনের পরামর্শে বাগান করার পাশাপাশি নিজেই বিদেশি আঙ্গুরের চারা উৎপাদন করছেন। শ্রমিক ছাড়াই বাবা ভাইয়ের সহযোগিতায় হুমায়রা আঙ্গুর বাগান করছেন। আবু হুমায়রা এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

    প্রতিদিন আবু হুরায়রার আঙ্গুর বাগান দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এবং জানাচ্ছেন নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।

    পড়ালেখা করে চাকরির পিছনে না ছুটে হুমায়রার মত তরুণ উদ্যোক্তা হতে হবে। তাহলেই কৃষি পণ্যে স্বনির্ভর হবে দেশ সচেতন মহলের এমনটি ধারণা।

    এ এম

  • পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনা সদরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আতাইকুলা থানার কুচিমোরা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা সবদুল প্রামাণিক (৩৫) ও তার স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)।

    আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, তাদের বাড়ির পাশের পুকুরের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তার একটি সরু বাঁশের লাঠি দিয়ে ঠেকনা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই দম্পতি পুকুরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তারটি বাঁশের লাঠি থেকে পিছলে সরাসরি পানিতে পড়ে যায় এবং তারা দু’জনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ করে বিদ্যুৎ লাইনের প্রধান সুইচ বন্ধ করে দেন এবং ওই দুইজনকে পানি থেকে টেনে তোলেন। ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

    ওসি মুজিবুর রহমান আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • মহেশপুরে থামছে না সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি

    মহেশপুরে থামছে না সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর থামছে না সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি। গত ৫ বছরে প্রায় ১০০টি ট্রান্সফরমা চুরি হলেও প্রতিকার পাইনি গ্রাহকরা। দন্ড দিতে হয়েছে কৃষকদের প্রায় ১ কোটি টাকা।

    মহেশপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে এই উপজেলায় সেচ পাম্পের প্রায় ১০০টি ট্রান্সফরমা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

    বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম অভিজিত সাহা জানায়, ট্রান্সফরমা চুরি হলে অফিসের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ট্রান্সফরমা উদ্ধার বা চোর আটকের খবর তাদের কাছে নেই। নিয়ম অনুযায়ী চুরি হওয়া ট্রান্সফরমা মূল্য দিতে হয় গ্রাহককে।

    এ পর্যন্ত যেসব গ্রাহকের কাছ থেকে মূল্য আদায় করা হয়েছে তার মধ্যে ফতেপুর গ্রামের সেচ পাম্পের গ্রাহক আব্দুল কাদের জানায় ২০২৪ সালে তার সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি হয়ে যায়।

    সেই থেকে সেচ পাম্পটি বন্ধ ছিল। গত জুনে নোটিশ দিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্য তার কাছ থেকে বিদ্যুৎ অফিস নিয়েছে। ডিজিএম আরো জানান, এ পর্যন্ত যত ট্রান্সফরমা চুরি হয়েছে ১ জন বাদে সবার কাছ থেকে মূল্য আদায় করা হয়েছে। ২৯ জুন উপজেলা আজমপুর ইউনিয়নের সবুর খানের ড্রাগন বাগানের সেচ পাম্পের ২৫ কেবি’র ৩টি ট্রান্সফরমা চুরি হয়েছে।

    প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে মামলা হচ্ছে কিন্ত এর কোনো প্রতিকার নেই বরং কৃষকদের দন্ড দিতে হচ্ছে। ভুক্তভুগী পরিবারগুলো এই চুরির প্রতিরোধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছে।

    মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, আজমপুর কুলবাগান গ্রামের ট্রান্সফরমা চুরি হওয়ার বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত চুরি হওয়া ট্রান্সফরমা উদ্ধার করা বা চোরকে আটক করতে পারিনি পুলিশ।

    এ এম

  • পানছড়িতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    পানছড়িতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৩ বিজিবি)।

    বুধবার দুপুরে লোগাং জোনের জোন কমান্ডার মো: রবিউল ইসলাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লোগাং জোনের দায়িত্বপূর্ণ বিওপি, ক্যাম্প ও এলাকায় মোট আড়াই লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি চারা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল মতিন, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সুবেদার মেজর নাজমুলসহ সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজীকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

    নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কাজীবাড়ি গ্রামের মো: মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    জানা গেছে, বাবা ভুট্টো কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে ছেলে রিপন কাজী দুই বছর আগে বাবাকে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেন। এর প্রতিশোধ নিতে বাবা ভুট্টো কাজী গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছেলেকে মারধর করেন। কিন্তু তাতেও প্রতিশোধের নেশা কাটেনি বাবা ভুট্টো কাজীর। এরপর বাবা তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ভাই সাব্বির কাজীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার ভাই নিহত ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী ও চাচাত ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো: রিফাত কাজীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দু’জনের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী তার ভাইয়ের ছেলে সজিব কাজী, ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগী রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীকে নিয়ে ছেলে রিপন কাজীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তার চাচাত ভাই রাজিব কাজী বাজারঘোনা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি কালিবাড়ী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বাবা মিজানুর কাজী, তার ভাইয়ের ছেলে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।

    এ সময় রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ রিপন কাজী ও তার আরেক চাচাত ভাই রাজিব কাজী সড়কে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা রিপন কাজীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সাথে থাকা রাজিব কাজী।

    স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাজিব কাজী গুরুতর আহত রিপন কাজীকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে নিহতের বাবাসহ সন্ত্রাসীরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে পালানোর সময় আটক করে আমতলী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের ওই থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান ওসি মো: মনিরুজ্জামান।

    এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় নিহতের মা আমেনা বেগম মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, আমি আর রিপন কাজী রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারঘোনা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে গগণখা নামক স্থানে পৌঁছামাত্রই রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ আমরা সড়কে লুটিয়ে পড়ি। আমি দৌড়ে খালে পড়লেও রিপন কাজীকে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, আমার বাবা মিজানুর কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। ভাই রিপন কাজী এর প্রতিবাদ করলে তার সাথে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অপর দিকে আমার চাচাত ভাই ঢাকা বিমানবন্দরে চাকরিরত সজিব কাজীর পরিকল্পনায় বাবার নেতৃত্বে ও চাচাত ভাই রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর বিচার চাই।

    আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা দু’জনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের পটুয়াখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দু’জন পটুয়াখালী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মোবাইল নিহত রিপন কাজীর বাবা মিজানুর কাজীর। ঘটনাস্থল পটুয়াখালী হওয়ায় সেখানকার পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ক্যাম্পাসে গণ-অনশনে বসেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শরবত খাইয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

    তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে। অনশনকারীদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় মহা লোকসানে পড়েছেন তারা।

    বুধবার (১ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টা থেকে কাচারী বাজার এলাকায় অবস্থিত ডিসি অফিসের ক্যাম্পাসের ভেতরের বটতলায় অনশনে বসেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড রোদকে উপেক্ষা করে সেখানে বিপুল পরিমাণ আলু চাষী ও ব্যবসায়ী যোগ দেন। অনেকেই কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়েও অংশ নেন।

    অনশনে অংশ নিয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।’

    তৈয়বুর রহমান আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শেই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি বছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে? সিন্ডিকেটের কারণেই এই পরিস্থিতি।’

    তৈয়বুর রহমান ঘোষণা দেন, গত ১৭ জুন আমরা মহাসড়ক অবরোধ করলে জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সেটা করা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন চলবে।

    পরে দুপুর ২টায় অনশনস্থলে আসেন রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনশনস্থলে আসতে দেরি হয়েছে, এতে কষ্ট হয়েছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয়, সেই হিমাগার মালিকদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র জানায়, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) রমিজ আলমকে আহ্বায়ক এবং কৃষি বিপণন অধিদফতরের ডিডিকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ব্যবসায়ী, চাষী ও হিমাগার মালিক পক্ষের লোকজনকে সদস্য করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

    গেল ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

  • কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মো: ডালিম মিয়া (৩৪) নামে এক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে।

    বুধবার (১ জুলাই) গ্রেফতার ডালিম মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাঁজা ও পিকআপ ভ্যানসহ তাকে আটক করা হয়।

    কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত তুলাভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানকে থামার জন্য সংকেত দেয় পুলিশ। সংকেত উপেক্ষা করে চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে কয়েক কিলোমিটার পথ ধাওয়া করে পুলিশ পিকআপ ভ্যানটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

    এরপর পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয় এবং মো: ডালিম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার ডালিম মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ডালিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি তার সাথে মাদক কারবারে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরো জোরদার করা হচ্ছে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    ডস্কে,

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় মানসুরা (২৫) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মানসুরা মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের সেলিম মাদবরের মেয়ে। তিনি ফতুল্লার ভুঁইগড়ের মাহমুদপুর এলাকায় স্বামী ইমন ও চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী পেশায় একজন চায়ের দোকানদার।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানসুরা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করে।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

  • রোগাক্রান্ত ফেরিওয়ালা রশিদের আকুতি

    রোগাক্রান্ত ফেরিওয়ালা রশিদের আকুতি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ছোট শিশুদের বই কাঁধে করে কখনো ট্রেনে, কখনো বাজারে, কখনো লঞ্চে, কখনো-বা রাস্তায় চলতে চলতে বয়সের ভার আর নানা রোগের বাসা বেঁধেছে শরীরে। বেঁচে থাকার তাগিদে এভাবেই ৪৮ বছর পার করেছেন আব্দুর রশিদ প্রামাণিক।

    এক সময়‌ যৌবন, শক্তি-সামর্থ্য, স্ত্রী-সন্তান, বাড়ি-ঘর সব ছিল। এখন কিছু নেই। শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ। ওষুধ কেনার পয়সা জোটে না। পরনে ময়লা লুঙ্গি আর শার্ট।

    সারাদিন ট্রেনে বা রাস্তা-ঘাটে বা বাজারে বই বিক্রি করে। পুঁজি বাদে আয় হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা। অসুস্থ হলে আয় বন্ধ। না খেয়েই পড়ে থাকতে হয় যত্রতত্র।

    কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার পূর্ব মুহূর্তে ক্লান্ত অসুস্থ দেহ, হাতের বাম পাশে একটি কাপড়ের ব্যাগের ভেতর কয়েকটি বই নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন ভিটে-মাটি, স্ত্রী-সন্তানহারা রশিদ। চোখে পড়তেই তার কাছে ছুটে গিয়ে সালাম দিয়ে তার জীবনের গল্প জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। কথাই বলতে পারছেন না তিনি। এক পর্যায়ে ডুকরে কেঁদে উঠে শুরু করেন অনেক কথা!

    আব্দুর রশিদ প্রামাণিক বলেন, ‘আমার জীবনে সাজানো সংসার ছিল। দারিদ্র্যতার কারণে পড়ালেখা তেমন করতে পারিনি। সংসারের হাল ধরতে আজ থেকে ৪৮ বছর পূর্বে শিশুদের বই ক্রয় করে ট্রেনে, হাটে বাজারে, স্টেশনে, পথে ঘাটে, লঞ্চে বিক্রি করে যা আয় করতাম বেশ ভালো চলে যেত। কিন্তু দিন যত যায় ততই কষ্ট আর দুঃখ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। দশ বছর হলো স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এক ছেলে এক মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে। তারাও দুর্দিনে একটা পয়সা দিয়ে সহায়তা করে না। বসবাস করার মতো ঘর নেই। তিন মাস থেকে থাকি কাঁকনহাটের বাজারে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে থাকতাম রাজশাহীতে। মানুষের দেয়া টাকায় কয়েকটি বই কিনে বিক্রি করি। বই বিক্রি করে সারা দিনে ২০ থেকে ৩০ টাকা আয় হয়। এতেই খেয়ে না খেয়ে চলে যায়। রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছি। ওষুধ কেনার টাকা জুটাতে পারি না।’

    যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বার চাইলে তিনি জানান তার ফোন নেই।

    বই বিক্রি ছাড়া অন্য পেশায় কেনো যাননি প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি শিশুদের খুব ভালোবাসি। তারা ছোট থেকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় বই পড়ে বেড়ে উঠবে এমন আনন্দ থেকে এবং ছোট বাচ্চাদের শিক্ষার আলো দেখাতেই আমি এ পেশায় এসেছিলাম। এখন দেখি শিশুদের জন্য অনেক আধুনিক মানের বই বের হওয়াতে আগের মতো আর বই কেউ নিতে চায় না। সব মিলিয়ে আমি এখন জীবন্ত লাশ হয়ে গেছি। আমাকে দেখার মতো পৃথিবীতে কেউ নেই।’

  • নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

    নিহত বৃদ্ধ শওকত মোল্লা উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মরহুম জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে অর্ধগলিত একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    নিহতের চাচাত ভাই মো: আয়নাল মোল্লা (৪৩) জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। আজ (বুধবার) দুপুর ১টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে রয়েছে।

    নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনো কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়।

    নিখোঁজরা হলেন উপজেলার চাডোল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    নিখোঁজের স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তারা আর বাড়ি ফিরেনি। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।

    একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একসাথে নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে করা জিডির ভিত্তিতে চার ছাত্রীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।

  • সিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

    সিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

    নাটোরের সিংড়ায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন এলাকায় এই সহায়তা বিতরণের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

    এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম বুলবুল, সিংড়া ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি ও তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, বিএনপি নেতা খাইরুজ্জামান ছিটু প্রমুখ।

    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে ৫৮ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

  • তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার মৌসুম। কোথাও মাঠ থেকে বাদাম তোলা, কোথাও শুকানো, আবার কোথাও বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। মৌসুমের শেষ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নিচু জমির বাদামক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলে লোকসান গুনছেন।

    কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলনের আশা ছিল বেশ ভালো। বিশেষ করে গত বছরের বন্যার পর নদীবাহিত পলি জমে চরাঞ্চলের অনেক জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় বাদাম চাষে আশাবাদী ছিলেন তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের বৈরী আবহাওয়া সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    সরেজমিনে তিস্তার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমির বাদামখেতে ফলন সন্তোষজনক হলেও নিচু এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে গেছে। কোথাও আবার বাদামের দানা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কৃষকদের ফসল তুলে ফেলতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের বড় অংশই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    গোড়াইপিয়ার চরের কৃষক কোব্বাস আলী জানান, ৪০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন তিনি। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ফসল তুলতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত বাদাম তুলতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও উৎপাদন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই খরচের অল্প অংশই উঠবে। ঋণ শোধ ও সংসার চালানো নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায়।

    একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন চাঁদ মিয়া, মঞ্জু মিয়া, কাশেম আলী, রবিয়ালসহ চরাঞ্চলের আরো অনেক কৃষক। তাদের দাবি, তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বাদাম। কিন্তু বন্যা, আকস্মিক বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া প্রায়ই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তারা দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৬৮ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭৫ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু জমিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘উঁচু চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। তবে নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে অন্য কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

  • সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।

    এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মনজু, সরকার হাসেমুজ্জামান প্রমুখ।

    দুস্থ, গরিব ও অসহায় কয়েকশ’ মানুষের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।

  • ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে চন্দন ভগত (৫৮) নামে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    পরিবারের দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের চাপেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত চন্দন ভগত (৫৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা বন্দর (মুড়িহাট) এলাকার পরলোকগত বৈদ্যনাথ (দেবনাথ) ভগতের ছেলে।

    পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের কোনো এক সময় নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির রেলিংয়ের সাথে নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন চন্দন ভগত।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহতের স্ত্রী নুপুর রবি দাস জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া কিস্তির ঋণ পরিশোধ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন তার স্বামী। মঙ্গলবার কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাড়িতে এলে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি সারাদিন বাড়ির বাইরে ছিলেন। রাতে পরিবারের অজান্তেই এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রাও জানান, ঋণের কিস্তি নিয়ে চন্দন ভগতকে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা যেত। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ।

    ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ঋণের চাপের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • চাষাবাদের জন্য অনুমোদন পেল বিনার নতুন দুই ধানের জাত

    চাষাবাদের জন্য অনুমোদন পেল বিনার নতুন দুই ধানের জাত

    বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) দীর্ঘ গবেষণায় উচ্চফলনশীল, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী এবং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ আমন ধানের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। আমন ধানের দুটি জাত হচ্ছে ‘বিনা ধান২৭’ ও ‘বিনা ধান২৮’। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষকদল এ দুটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেন।

    সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাত দুটি সারা দেশে চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮টি।

    বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বলেন, ফসলের বড় শত্রু ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ মোকাবিলায় ‘বিনা ধান ২৭’ দেশের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আমন ধান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১২০ থেকে ১২৫ দিনের জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতটির গাছের উচ্চতা ৯৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, ফলে ঝড়ো হাওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিকূলতা জয় করে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ টন এবং অনুকূল পরিবেশে তা ৭ টন পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব।

    প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি হেক্টরপ্রতি প্রায় এক থেকে আড়াই টন বেশি উৎপাদন দিতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    বিনা ধান-২৮ সম্পর্কে ড. ফাহমিদা জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালের নতুন জাত ‘বিনা ধান ২৮’ কৃষকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলতে পারে। মার্কার অ্যাসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই ধানের প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এই জিংকসমৃদ্ধ চাল হতে পারে আশীর্বাদ।

    বিনার মহাপরিচালক ড. মো. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, বিনা ধান-২৮ দেশের সর্বোচ্চ উচ্চফলনশীল সুগন্ধি আমন জাত হিসেবে কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। আলোক অসংবেদনশীলতা, উচ্চ ফলন, পুষ্টিগুণ ও সুগন্ধ- সব মিলিয়ে এটি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ভোক্তার পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুগন্ধি চালের বাজারে ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এ এম

  • ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে চারটি গাঁজা গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাটগোপালপুরের মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে এসব জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, মোল্লাপাড়া এলাকার মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু তার সুপারি বাগানে গোপনে গাঁজা গাছ রোপণ করে পরিচর্যা করে আসছিলেন। মঞ্জুর দু’টি বাগান থেকে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দু’টি ও দুই ফুট উচ্চতার দু’টি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়। এ সময় মঞ্জু এলাকায় না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুন ও ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু একজন মাদকসেবী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাঁজার চাষ করে আসছেন।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ভূরুঙ্গামারী ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে প্রচুর সুপারি বাগান তৈরি হয়েছে। মাদক কারবারিরা এসব বাগানে গাঁজা চাষ করা শুরু করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • বাকৃবি গবেষকের সফলতা

    বাকৃবি গবেষকের সফলতা

    স্বল্পখরচে শৈবাল থেকে মাছের লাইভ ফিড

    ডেক্স নিউজ : দেশীয় স্বাদুপানির অণুশৈবাল (মাইক্রোঅ্যালজি) ব্যবহার করে স্বল্পখরচে লাইভ ফিড (জীবন্ত খাদ্য) ও অ্যাকোয়াফিড প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাছ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহা খানের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি (বিএএস) ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এর অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. সালেহা খান।

    তিনি বলেন, দেশের মিঠাপানির মৎস্যচাষের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাছের লার্ভা ও পোনার জন্য মানসম্মত লাইভ ফিড এবং সাশ্রয়ী অ্যাকুয়াফিড না পাওয়া। এ সমস্যা সমাধানে দেশীয় অণুশৈবাল ব্যবহার করে স্বল্পখরচে লাইভ ফিড এবং অ্যাকোয়াফিড উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য প্রচলিত ব্যয়বহুল প্রোটিন উৎস, বিশেষ করে ফিশমিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প টেকসই অ্যাকোয়াফিড প্রযুক্তি উদ্ভাবন। গবেষনায় প্রথমে দেশীয় Scenedesmus sp. শৈবাল পৃথক করে অণুশৈবাল উৎপাদন করা হয়। এরপর এগুলো ব্যবহার করে মাছের লার্ভার জন্য লাইভ ফিড জুপ্ল্যাঙ্কটন উৎপাদন করা হয়। এই লাইভ ফিড মাছের রেণু ও পোনার গুণগত মান ও বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

    এ এম

  • দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জঙ্গল মুকুন্দপুর গ্রামের মরহুম মজলিশ শেখের ছেলে মো: সোহানুল ইসলাম, একই জেলার কোটালীপাড়ার মুসুরিয়া গ্রামের মরহুম মহানন্দ বালার ছেলে বরুন বালা, ভোলা সদরের রাজাপুর (পশ্চিম ইলিশা) এলাকার মরহুম আব্দুল গনির ছেলে মো: খলিল এবং রংপুরের মিঠাপুকুর থানার মুরাদপুর গ্রামের মো: আবুল কালামের ছেলে মো: দুলাল মিয়া।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানার বাহাদুর বাজার স্টেশন রোড এলাকার হোটেল রাজের তৃতীয় তলার ৩০৬ নম্বর কক্ষে কয়েকজন আন্তঃজেলা ডাকাত সদস্য ডাকাতির উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করছে— এমন সংবাদ পায় ডিবি পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ওই কক্ষ থেকে চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৫৫২৩ নম্বরের একটি নিসান ডাবল কেবিন ক্যারি বয় পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এ,আর

  • ‘সময় থাকতে ভাল হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট!

    ‘সময় থাকতে ভাল হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট!

    নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এক পরিবারের দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট রেখে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    অজ্ঞাত ব্যক্তির রেখে যাওয়া হুমকিমূলক চিরকুটে প্রাণনাশের উল্লেখ থাকায় তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে আব্দুল গফুরের বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়সদৃশ কাপড় ও চিরকুট রাখা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কে বা কারা গেটের দরজার সামনে একটি কাফনের কাপড় রেখে যায় এবং সাথে একটি চিরকুট সংযুক্ত করে। বিষয়টি সকালে নজরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    চিরকুটে লেখা আছে-

    ‘সময় থাকতে ভাল হয়ে যা। পরে আর সময় নাও পেতে পারিস। আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে ভাল হয়ে যা। আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিক। মানুষের উপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে আল্লাহভীরু হো।’

    ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আ: গফুর, আ: বারিকসহ অনেকে জানান, হঠাৎ এমন অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর হুমকির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

    এ বিষয়ে নলডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নূরে আলম বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’

  • গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধার সাঘাটায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির পাট কাটার ধারালো বেগির (বড় কাস্তে) কোপে দাদি ফেরোজা বেগম (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি শাকিল আহম্মেদকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইড় গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফেরোজা বেগম আহত আব্দুল করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী।

    আটক শাকিল আহম্মেদ একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং আব্দুল করিমের নাতি।

    স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল জানান, আজ দুপুরে বাড়ির পাশের একটি জমিতে পাট কাটার সময় পূর্বের পারিবারিক বিরোধের জেরে শাকিল আহম্মেদের সাথে দাদি ফেরোজা বেগমের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল তার হাতে থাকা ধারাল পাট কাটার বেগি দিয়ে ফেরোজা বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে আব্দুল করিমকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।

    স্থানীয়রা দু‘জনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেয়ার পথেই ফেরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। আহত আব্দুল করিম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

    ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। নিহতের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • নবীজির (সা.) ঘোষণায় প্রকৃত বুদ্ধিমান কে?

    নবীজির (সা.) ঘোষণায় প্রকৃত বুদ্ধিমান কে?

    মানুষ পৃথিবীতে জ্ঞান, সম্পদ, পদমর্যাদা ও সাফল্যের পেছনে নিরন্তর ছুটে চলে। সমাজও অনেক সময় ধনী, প্রভাবশালী বা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমান বলে মনে করে। কিন্তু ইসলাম মানুষের বুদ্ধিমত্তার একটি ভিন্ন ও গভীর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। যে ব্যক্তি মৃত্যুর অনিবার্য বাস্তবতাকে স্মরণ রাখে, নিজের আমলের হিসাব নেয় এবং আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে— রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কাছেই প্রকৃত প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার স্বীকৃতি দিয়েছেন।প্রকৃত বুদ্ধিমানের পরিচয়

    হজরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন— ‘মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম কে?’ তিনি বললেন, ‘যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।’ এরপর জিজ্ঞাসা করা হলো— ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমান কে?’ তিনি বললেন—

    أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لِمَا بَعْدَهُ اسْتِعْدَادًا، أُولَئِكَ الْأَكْيَاسُ

    ‘যারা মৃত্যুকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য সর্বোত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তারাই প্রকৃত বুদ্ধিমান।’ (ইবন মাজাহ ৪২৫৯)

    কুরআনের শিক্ষা

    আল্লাহ তাআলা বলেন—

    كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۖ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ

    ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর তোমাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আল-আনকাবূত: আয়াত ৫৭)

    আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে দেখে যে, সে আগামী দিনের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ১৮)মৃত্যুস্মরণ কেন জরুরি?

    মৃত্যুর স্মরণ মানুষের অন্তরকে নরম করে, অহংকার দূর করে, গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনে এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। যে ব্যক্তি জানে তার প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন আল্লাহর সামনে দিতে হবে, সে অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং ইবাদত, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবসেবায় যত্নবান হয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—

    أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ

    ‘তোমরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিনষ্টকারী (মৃত্যু)-এর স্মরণ অধিক পরিমাণে কর।’ (তিরমিজি ২৩০৭, নাসাঈ ১৮২৪)

    পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী। তাই প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যিনি সাময়িক দুনিয়ার মোহে বিভোর না হয়ে চিরস্থায়ী জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন।

    ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা কেবল জাগতিক জ্ঞান বা সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জীবনকে পরিচালিত করাই প্রকৃত প্রজ্ঞা। মৃত্যুর কথা স্মরণ করা হতাশার বিষয় নয়, বরং এটি মানুষকে সৎপথে অবিচল রাখে, গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং আখিরাতমুখী জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজের আমলের হিসাব গ্রহণ করি, আল্লাহর কাছে তাওবা করি এবং সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি নিই, যেদিন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি নয়—শুধু ঈমান ও নেক আমলই আমাদের উপকারে আসবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রকৃত বুদ্ধিমান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

    এ এম

  • যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

    যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

    প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্যেই প্রকাশ পায়। একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উত্তম আচরণেই প্রকৃত প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে। একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের জীবনকে এমন কিছু সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, যা তাকে দুনিয়ায় সম্মানিত এবং আখিরাতে সফল হওয়ার পথ দেখায়।জ্ঞানী মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, বরং তার চরিত্র ও কর্মে ফুটে ওঠে। অপ্রয়োজনীয় কথা কম বলুন, প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

    ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।’ (বুখারি ৬০১৮, মুসলিম ৪৭)

    যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শান্ত থাকুন

    রাগ বা উত্তেজনা নয়, ধৈর্য ও আত্মসংযমই একজন শক্তিশালী মানুষের প্রকৃত পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

    আত্মসমালোচনা ও চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন

    কখনো কখনো নির্জনতা মানুষকে নিজের ভুল-ত্রুটি বুঝতে, আল্লাহকে স্মরণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ… لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

    ‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৯০)

    তর্কে নয়, উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দিন

    অকারণ বিতর্ক মানুষকে বিভক্ত করে, কিন্তু উত্তম চরিত্র ও সৎকর্ম মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا

    ‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিত্যাগ করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (আবু দাউদ ৪৮০০)

    সৎ ও প্রজ্ঞাবান মানুষের সঙ্গ বেছে নিন

    মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই উত্তম চরিত্রের মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করুন এবং ক্ষতিকর সঙ্গ থেকে দূরে থাকুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ

    ‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

    অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন

    যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য আরও কল্যাণ বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

    ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৭)

    পরিবারের গোপন বিষয় সংরক্ষণ করুন

    পরিবারের সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত বিষয় অযথা প্রকাশ করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً… يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

    ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের একজন হলো সে, যে তার স্ত্রীর গোপন বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে।’ (মুসলিম ১৪৩৭)

    বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

    জীবনে পরীক্ষা আসবেই। ধৈর্য, হাসিমুখ ও আল্লাহর প্রতি ভরসাই একজন মুমিনের শক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

    ‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

    আমরা যদি এই গুণগুলোকে জীবনের অংশ করে নিতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ দুনিয়ায় সম্মানিত জীবন এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হবে।

    এ এম

  • বকশীগঞ্জে ৩ দশক ধরে ভাঙছে ব্রহ্মপুত্র নদ মানচিত্র রক্ষায় মানববন্ধন

    বকশীগঞ্জে ৩ দশক ধরে ভাঙছে ব্রহ্মপুত্র নদ মানচিত্র রক্ষায় মানববন্ধন

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার খায়রুন সুন্দরীর স্মৃতিবিজড়িত মেরুরচর ইউনিয়ন একটি প্রাচীন জনপদ। বর্তমানে ভাটি কলকিহারা, উত্তর কলকিহারা, বাঘাডোবা এবং লুৎফরগঞ্জসহ কয়েকটি গ্রাম ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। একের পর এক ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসাসহ শত শত একর ফসলি জমি।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এই ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা ও উত্তর কলকিহারা গ্রামে পৃথক পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

    বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: রকিবুর রহমান লিপুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— আব্দুল খালেক, ইমাম ও খতিব আরমান হোসাইন, আব্দুল হক মাস্টার, আলমগীর হোসেন, মো: সোলায়মান, দেলোয়ার হোসেন মাস্টার, আলম, মুকুল মিয়া, মেরুরচর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী মিনারা বেগম মিনা, আশরাফ হোসেন, আমিনুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, শহর আলী, লুৎফর, সাত্তার, ফুলু, সালাম, কামাল, আসেদ, আমজাদ, ফরহাদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি ও উত্তর কলকিহারা গ্রামকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

    এ ব্যাপারে তারা জামালপুর-১ আসনের এমপি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    সমাজসেবক রকিবুর রহমান লিপু ও মেরুরচর ইউপি মহিলা দলের সভানেত্রী মিনারা বেগম মিনা সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিগত ৩ দশক ধরে এখানে নদীভাঙন চলছে। একের পর এক গ্রাম, জনপদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পথঘাট নদীতে বিলীন হচ্ছে।

    শত শত পরিবার বাড়িভিটা, জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ভূমিহীন হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    বক্তারা জানান, কলকিহারা গ্রাম ছাড়াও রসুলপুর, ফকিরপাড়া, ভিটাকান্দি, বাঘাডোবা, কাউনিয়ারচর, নয়াবাড়িসহ প্রায় ১০টির বেশি গ্রাম নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধ করে খায়রুন সুন্দরীর স্মৃতিবিজড়িত মেরুরচর ইউনিয়ন রক্ষার আকুল আবেদন জানান।

  • ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথে বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

    ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথে বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

    ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদে প্রবেশের প্রধান ফটকের সামনে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় গেটের সামনে জমে যায় হাঁটুসমান পানি। এতে উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কারণে বৃষ্টি হলেই উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় নারী, বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এমন বেহাল পরিস্থিতি জনসেবায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে।

    ভুক্তভোগীরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সচেতন মহল।

    তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং সরকারি সেবাদান কার্যক্রম আরো স্বাভাবিক হবে।

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

  • শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    মাদারীপুরের শিবচরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী (৪০) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার সকালে শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    আটক সিদ্দিক শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকার আব্দুল কাদির বেপারীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল সিদ্দিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির আঙিনায় মাটির নিচে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সিদ্দিক মাদককারবারের সাথে জড়িত। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি এ পথ থেকে সরে আসেননি। আজ তার বাড়িতে ইয়াবার চালান এসেছে এমন তথ্য পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এবং মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন মাদককারবারের সাথে জড়িত। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

  • কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা আরও কার্যকর করা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্প্রসারণে সরকার বদ্ধপরিকর।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনেন। তিনি এলাকার রাস্তা, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং কৃষক কার্ড প্রাপ্তির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

    তিনি বলেন, কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ ও সরকার সর্বদা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

    এর আগে সোমবার বিকালে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে হারভেস্টার সরবরাহ, সার ও উন্নতমানের বীজের সহজলভ্যতা, সেচসুবিধার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার বিষয় ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।

    এ এম

  • রাণীনগরে ৪০ লিটার মদ ও ট্যাপেন্টাডলসহ দুজন আটক

    রাণীনগরে ৪০ লিটার মদ ও ট্যাপেন্টাডলসহ দুজন আটক

    নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪০ লিটার বাংলা চোলাই মদ ও ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুজন মাদককারবারিকে আটক করেছে। এর আগে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের চরকানাই ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে জুয়েল জোসেন (৩০) নামে একজন মাদককারবারীকে আটক করা হয়।

    আটককালে তার কাছ থেকে ৩০ পিস নেশা জাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জুয়েল মিরাট ধনপাড়া গ্রামের দেলু মোল্লার ছেলে।

    এ ছাড়া মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আতাইকুলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪০ লিটার বাংলা চোলাই মদসহ শরিফ উদ্দীন (২৮) নামে মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটক শরিফ নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, শরিফসহ কয়েকজন প্লাস্টিকের জারে ৪০ লিটার বাংলা চোলাই মদ নিয়ে এসে বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শরিফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ

    ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ

    সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতার থেকে আসা ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে নিহতের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিহতদের মরদেহের কফিন ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছার আগেই সেখানে উপস্থিত হন সিলেট জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। এসময় লাশ রিসিভের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের সহমর্মিতা জানান তারা।

    মঙ্গলবার সকালে কাতার থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ছয়টি লাশের কফিন আসে। এরমধ্যে সকলেই দুর্ঘটনায় মারা যান। তন্মধ্যে পাঁচজন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এবং একজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার।

    গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

    এদিকে, গত ১৭ জুন সকালে কাতারে ডিউটি করার সময় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশিঘর গ্রামের মরহুম আব্দুল আলীর ছেলে লিফন মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে লিফনের লাশও রিসিভ করা হয়।

    কাতার ফেরত ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, জেলা নায়েবে আমির হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, সাবেক ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

    এসময় জামায়াত নেতৃবৃন্দ নিহতের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। তারা বলেন, নিহত প্রবাসীরা গরীব পরিবারের মানুষ। তারা স্বজনের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে গিয়েছেন। অনেকেই ঋণ ও দ্বার-কর্জ করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। একটি দুর্ঘটনা তাদের জীবন ও স্বজনের মুখে হাসি কেড়ে নিয়েছে। সিলেট এয়ারপোর্টে নিহতের স্বজনদের কান্না দেখে চোখের পানি আটকানো যায়নি। নিহত প্রবাসীদের পরিবারের পাশে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাধ্যমত সহযোগিতা নিয়ে নিহত ছয় প্রবাসীর পরিবারের পাশে আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

    কানাইঘাটের নিহতরা হলেন- ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ ও দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।

  • কর্ণফুলীতে জাহাজ ডুবির ঘটনায় ক্রুদের পাশে কোস্টগার্ড

    কর্ণফুলীতে জাহাজ ডুবির ঘটনায় ক্রুদের পাশে কোস্টগার্ড

    চট্টগ্রামের কর্ণফুলী চ্যানেলে লাইটার জাহাজ ডুবির ঘটনায় ক্রুদের জীবিত উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে কোস্টগার্ড।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূচনালগ্ন থেকেই দেশের সুবিশাল সমুদ্র উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ সকল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, জনগণের জানমাল রক্ষার পাশাপাশি নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং উদ্ধার তৎপরতা প্রদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মানুষের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার বিশ্বস্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার রাত ৩টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী নদীর ১৮নং ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এম ভি বে হারবার-২ নামক একটি লাইটার জাহাজ ঢাকা গমনকালে চলমান অন্য একটি লাইটার জাহাজ এমভি সামুদা-৬ এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে জাহাজটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজের হাল ফেটে পানি প্রবেশের ফলে একপাশে হেলে পড়ে। এমতাবস্থায়, জাহাজটি কিছুদূর অতিক্রম করার পরে বহিঃনোঙর বয়া নং২ ও ৩ এর মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন অধীনস্থ বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ডুবে যাওয়া জাহাজে অবস্থানরত ১২ জন ক্রু এর মধ্যে ৮ জনকে তৎক্ষণাৎ কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়াও, অপর ৪ জন নিখোঁজ ক্রু প্রবল স্রোতের টানে পারকির চরের দিকে ভেসে যায় এবং নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হয়।

    তিনি জানান, উদ্ধার ক্রুদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চরম অবহেলা ও অদক্ষতায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ‍অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

    নিহত প্রসূতির নাম মোসা: তুলী বেগম (২৯)। তিনি টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের এমদাদুল হকের স্ত্রী।

    পরিবারের অভিযোগ, সিজারের এক দিন পর থেকেই তুলীর পেট ফুলে যেতে শুরু করে এবং অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও তারা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রসূতির জীবন রক্ষার সুযোগ হারিয়ে যায়।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে তুলীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন শিশু ও মা উভয়ের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই তুলীর পেট ফুলে যায় এবং ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও তারা বলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই, সিজারের পর এমন হয়, চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে যাবে।’

    অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে পরিবার ক্লিনিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

    নিহতের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, ‘সিজারের পর আমার স্ত্রী ও সন্তান দু’জনই সুস্থ ছিল। কিন্তু এক দিন পর থেকে আমার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ক্লিনিকে বললেই তারা বলতো ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত রংপুরে নিয়ে গেলাম, কিন্তু বাঁচানো গেল না।’

    এ ঘটনায় মেডিনোভা ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের ক্লিনিকগুলোতে অদক্ষ চিকিৎসক ও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে অপারেশন চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নইলে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হবে না।

  • বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    পীরগঞ্জে বাদশা মিয়ার সবুজ বিপ্লব

    ডেক্স নিউজ: রংপরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের বাদশা মিয়া। কিশোর বয়স থেকে গাছ লাগানোর প্রতি তার আগ্রহ। নিজের জমি না থাকায় যুবক বয়সে বেছে নেন সড়কের দুই ধার, মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পতিত জায়গা। বিশ বছরে ত্রিশ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। তার এ সবুজায়ন ছড়িয়ে দিতে বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে উপহার হিসেবে গাছ নিয়ে হাজির হন তিনি।সরেজমিন দেখা গেছে, বড়দরগাহ্-মাদারগঞ্জ সড়কের মেষ্টা গ্রামের আমতলা থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ। ফলের গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরনের ফল।

    বাদশা গাছ লাগিয়ে থেমে যাননি বরং নিজস্ব অর্থায়নে সার কীটনাশকসহ প্রতিটি গাছের করেছেন সন্তানের মতো যত্ন। তার উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি বেড়েছে জীববৈচিত্র্য।

    বাদশা মিয়া বলেন, ‘গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। তাই আমি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর অনুরোধ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। মানুষ বলে গাছগুলো বাদশা লাগিয়েছে, এটাই আমার বড় পাওয়া। আমার স্বপ্ন-একদিন পুরো এলাকা সবুজে ঘেরা হবে, আর মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে আরও নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, শামীম, ইমরান, রতন বলেন, গ্রীষ্মের দাবদাহে বাদশার লাগানো গাছের ছায়া পথচারীদের স্বস্তি দেয়। পাশাপাশি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে অনেকে খেয়ে থাকেন। শানেরহাট কেজে ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার এখলাছুর রহমান বলেন, বাদশা প্রকৃত পরিবেশবন্ধু। তার এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগাতে ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে। আমি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পরিবেশ পদক দেওয়ার অনুরোধ করছি।

    শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে বাদশার মতো মানুষদের উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সবুজায়নের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা অনুকরণীয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বাদশা একজন বৃক্ষপ্রেমী। তার গাছ লাগানো অব্যাহত রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

    এ এম

  • গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক এমপি নবী নেওয়াজকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

    সোমবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ’ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।

  • কৃষিতে আরো বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

    কৃষিতে আরো বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

    প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় বাজেটে এ খাতে আরো বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।

    সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। গ্রামীণ অর্থায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।নিজের কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় গ্রামীণ কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু হয়। সে সময় কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। একই সঙ্গে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, পাওয়ার টিলারের প্রসার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো উদ্যোগ কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

    রিজভী বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এই বৃদ্ধি খুব বেশি নয়। তার মতে, অর্থনীতিতে কৃষির অবদান বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে থাকলেও এটি সাত থেকে আট শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষিকে কেন্দ্র করে হওয়ায় এ খাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও সেই তুলনায় কৃষি খাতের বরাদ্দের বৃদ্ধি খুব বেশি নয়। সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়নে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ ও নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষির কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ব্যাহত হতে পারে।সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে এবার ৩০ হাজার মেট্রিক টন নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আলুর মতো কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার আরো সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন সহজ হবে এবং অতিরিক্ত উৎপাদন নষ্ট হবে না।

    তিনি কৃষি গবেষণার ওপর আরো গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিপুলসংখ্যক কৃষিবিদ বের হচ্ছেন। তাদের মেধা ও গবেষণার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতে বিদ্যমান সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

    রিজভী কৃষিপণ্য সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আলু ছাড়াও অন্যান্য ফল ও সবজি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের প্রযুক্তি দেশে আনা সম্ভব হলে মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হবে না। এ বিষয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

    তিনি বলেন, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো পণ্যের উৎপাদন আরো বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। এ জন্য গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

    রিজভী বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামাল দেশে পর্যাপ্ত না থাকলেও কৃষিই বাংলাদেশের প্রধান শিল্পভিত্তি হতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে এসব দেশ উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশেরও কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, কৃষি দুর্বল হলে খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ, গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    সেমিনারে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ, ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডাঃ তৌহিদুর রহমান আউয়াল সহ প্রমুখ।

    এ এম

  • দিনাজপুরে কালেমার পতাকা নিয়ে বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

    দিনাজপুরে কালেমার পতাকা নিয়ে বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

    তৌহিদি জনতার ব্যানারে দিনাজপুর শহরে কালেমার পতাকা নিয়ে এক বিশাল বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার চক্ষু হাসপাতাল সংলগ্ন স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়।

    আয়োজকরা জানান, ইসলামের বিজয় ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়া এবং কালেমার পতাকার ছায়াতলে মুসলিম জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    বাইক র‍্যালিতে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সর্বস্তরের মুসলিম তৌহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন করে।

  • শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মোটরসাইকেল ও পিকআপ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তৃর্থ বিশ্বাস নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত তৃর্থ বিশ্বাস উপজেলার ভাটই গ্রামের তপন কুমার বিশ্বাসের ছেলে। সে ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপ গাড়ির সাথে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক স্কুলশিক্ষার্থী তৃর্থ বিশ্বাস মারা যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শী যাদব কুমার নামে এক ব্যক্তি জানান, গত দুই মাস আগে বাবার সাথে জিদ ধরে এই মোটরসাইকেল কেনে তৃর্থ বিশ্বাস। আজ সেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঝিনাইদহ যাওয়ার সময় ভাটই সরকারি কলেজের সামনে পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

    এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিকআপ গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

  • ফেনীতে গৃহবধূ কাজল হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

    ফেনীতে গৃহবধূ কাজল হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

    ফেনীর ফুলগাজীতে গৃহবধূ বিবি কুলসুম কাজল (৩৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দূর সম্পর্কের ভাগ্নে মো: আরিফুল ইসলামকে (৩১) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৭-এর স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আরিফ ঘটনার দিন দিবাগত রাত ৪টার দিকে ঋণের টাকা জোগাড়ের জন্য তার দূর সম্পর্কের মামি ভুক্তভোগী কাজলের বাসায় প্রবেশ করেন। এসময় তার হাতে থাকা কাটার নিয়ে তিনি গ্রিল বেয়ে ছাদে ওঠেন। ছাদের ঢেউটিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে তিনি মুখ ঢেকে ফেলেন। পরে ভুক্তভোগী যখন দরজা খোলেন, তার জন্য ওঁৎপেতে থাকা আরিফ কাজলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে হাত বাঁধার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী ও আরিফের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাজলকে দেওয়ালের সাথে ধাক্কা দেন আরিফ। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরিফ নিজেকে দোষী বলে স্বীকারোক্তি দেন। জানান, তিনি ঋণের টাকার জন্য তার মামির বাসায় প্রবেশ করেন।

    আরিফকে সোমবার ভোরে ফুলগাজী উপজেলার উত্তর ধর্মপুর এলাকায় অভিযান পরিচালানা করে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাতে ফুলগাজীর আমজাদ হাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়ায় ঘরের টিন কেটে ঢুকে গৃহবধূ কাজলকে হত্যা করা হয়।

  • কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    কানাইঘাটে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোরকে হত্যা

    সিলেটের কানাইঘাট পৌর শহরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্কশপ কর্মচারী কিশোর আব্দুল আহাদকে হত্যা করেছে সায়েম আহমেদ নামে এক যুবক।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

    নিহত কিশোর আব্দুল আহাদ কানাইঘাট পৌরসভার দলইরমাটি গ্রামের রিকশাচালক ছালেহ আহমদের ছেলে। অভিযুক্ত সায়েম আহমেদ কানাইঘাট পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম ভান্ডারির ছেলে।

    জানা যায়, রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় তাজুল ইসলামের ওয়ার্কশপে সায়েম আহমেদের স্ক্রু ড্রাইভারের আঘাতে কিশোর আহাদ গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে আব্দুল আহাদ মারা যায়।

    এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পারিবার এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি।

  • মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    মহাদেবপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    নওগাঁর মহাদেবপুরে বৃষ্টির পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা আব্দুল জব্বারকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন ভাতিজা চপল।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ছোট মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল জব্বার মহেশপুর গ্রামের মরহুম তাছির উদ্দীনের ছেলে।

    জানা যায়, আব্দুল জব্বারের সাথে তার ভাই আব্দুর হাইয়ের ছেলে চপলের আগে থেকেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আব্দুল জব্বারের বাড়ির দিক থেকে সেই বৃষ্টির পানি চপলের জায়গা দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছিল। এই পানি যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা ও ভাতিজার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

    এর একপর্যায়ে ভাতিজা চপল তার চাচাকে তুলে আছাড় মারেন এবং গলা টিপে ধরেন। এতে চাচা আব্দুল জব্বারের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।