শীতের আমেজ পুরোপুরি শুরু না হলেও মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাঠজুড়ে শুরু হয়ে গেছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের তুমুল ব্যস্ততা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবজি তুলে চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার বড়টিয়া, পয়লা, সিংজুরী, বানিয়াজুরী ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কৃষি মাঠগুলো ঘুরে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে উঠেছে জমি প্রস্তুতকরণ, চারা রোপণ ও নিবিড় পরিচর্যার কাজ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, উচ্ছে, করলা ও শিমের মতো চড়া চাহিদার সবজিতে ভরে উঠছে একের পর এক ক্ষেত। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেতেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এসব আগাম সবজি স্থানীয় ও রাজধানীর বাজারে সরবরাহ শুরু হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলায় ৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলার বৈলট গ্রামের কৃষক করিম বলেন, “এ বছর জমিতে বন্যার পানি না ওঠায় নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই বেগুনের আবাদ করতে পেরেছি। সঠিক সময়ে ফসল বাজারে তুলতে পারলে ভালো লাভের মুখ দেখতে পাবো।”
তবে আশার পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না চাষিদের। বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক বারেক, ময়নাল ও মজনু জানান, আগাম সবজি চাষে লাভের বড় সুযোগ থাকলেও ঝুঁকি অনেক বেশি। আকস্মিক অতিবৃষ্টি কিংবা রোগবালাইয়ের হানা নিমেষেই স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। তা ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। আবার একই সময়ে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে গেলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে সঠিক সময়ে কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন বলেন, “পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চাষিদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”
