বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার সামাদ প্লাজার সামাদ আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলায় এসি বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৫) ও হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সাব্বির (৩০)।
জেলা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ ও সদর মডেল থানার এসআই দুলাল জানান, দুই রাজমিস্ত্রি সামাদ আবাসিক হোটেলে এসি বসানোর কাজ করছিলেন। আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি লোহার রড বিদ্যুতের খোলা তারের সংস্পর্শে এলে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আফাজুলের ফুপু জাহেরা খাতুন বলেন, আফাজুলের স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তিনি সংসার চালাতেন।
অন্যদিকে সাব্বিরের চাচাশ্বশুর জাকির হোসেন জানান, সাব্বিরের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তার সংসার চলত।
জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করার সময় প্রায়ই ভবনের মালিকরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। ফলে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সর্বত্র নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাদের সন্তানদের দায়িত্ব মালিকপক্ষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
ভবনের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, রিপন মিয়াসহ সামাদ আবাসিক হোটেলের চারজন মালিক রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখর রঞ্জন পাল জানান, এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষের কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ,আর
