বিশ্বকাপ ফুটবল- ২০২৬

  • ব্রাজিল কখনোই নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি

    ব্রাজিল কখনোই নরওয়ের বিপক্ষে জিততে পারেনি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কাগজে-কলমে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলই ফেবারিট। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা-নরওয়ের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।

    দুই দলের একমাত্র বিশ্বকাপের লড়াই হয়েছিল ১৯৯৮ আসরের গ্রুপ পর্বে। সে ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল শুরুতে এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে দুই গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় নরওয়ে এবং নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের টিকিট।

    বিশ্বকাপের বাইরে দুই দলের সামগ্রিক রেকর্ডও ব্রাজিলের জন্য সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। অর্থাৎ ব্রাজিলের জয় শূন্য।

    প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৮৮ সালে অসলোতে প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে একই ভেন্যুতে আবারও প্রীতি ম্যাচে রোনালদো, রোমারিও, দুঙ্গা, কাফু ও রবার্তো কার্লোসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারায় নরওয়ে। ২০০৬ সালে সর্বশেষ দেখায়ও দুই দল ১-১ গোলে সমতায় মাঠ ছাড়ে।তবে বর্তমান নরওয়ে আরও শক্তিশালী। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো আক্রমণভাগের তারকাদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইউরোপের দলটি। রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। নুসার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমাদ দিয়ালো সমতা ফেরালেও ৮৬ মিনিটে হালান্ডের গোলে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।

    অন্যদিকে ব্রাজিলও সহজে শেষ ষোলোয় ওঠেনি। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
    তবে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের রক্ষণ, বিল্ডআপ এবং মাঝমাঠের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লুকাস পাকেতার চোটও দলটির জন্য বড় ধাক্কা। নরওয়ের মতো দ্রুতগতির ও শারীরিক ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে এসব দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হালান্ড হলেও ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা, নুসার গতি এবং অস্কার বব ও স্যান্ডার বার্গের ট্রানজিশনও ব্রাজিলের জন্য হুমকি হতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিলের আশা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও নেইমারদের ওপর।

    পরিসংখ্যান ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না, তবে মানসিক চাপ তৈরি করে। নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ব্রাজিল। আর নরওয়ে চাইবে, ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের ব্যতিক্রমী আধিপত্য আরও একবার ধরে রাখতে।

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগ কেপভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগ কেপভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে বড় সমস্যায় কেপ ভার্দে। দলটির অধিনায়কের বিরুদ্ধেই উঠেছে ধর্ষণের অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তি হতে পারে।

    ব্রাজিলের সংবামাধ্যম ‘গ্লোবো’ এই খবর জানিয়েছে। চলতি বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডে ফিফা সিরিজ চলাকালীন কেপ ভার্দে দলের সঙ্গে যুক্ত এক তরুণী রায়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ করেছেন। তিনি কেপ ভার্দে দলে দোভাষীর কাজ করছিলেন।

    ওই তরুণীর অভিযোগ- হোটেলে তার ঘরে জোর করে ঢুকে তাকে ধর্ষণ ও মারধর করেছেন রায়ান। এই ঘটনার পর তিনি কেপ ভার্দে দলের তিন কর্তাকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কেউ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তারপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তার যৌনাঙ্গ, গলা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে রায়ানের বিরুদ্ধে কী কী ধারায় অভিযোগ হয়েছে তা জানা যায়নি।

    ‘ইউএসএ টুডে’ জানিয়েছে, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিউজিল্যান্ডের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ফিফা। তবে এর বাইরে এখনই কিছু বলতে চায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণক সংস্থা।

    এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়েছে তারা। তিনটি ম্যাচ ড্র করে রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। নকআউটে কেপ ভার্দের সামনে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কঠিন লড়াইয়ের আগে বিপাকে কেপ ভার্দে।

  • পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, কাঙ্ক্ষিত পারফর্ম করতে ব্যর্থ পর্তুগাল। গ্রুপপর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে টেনেটুনে ড্র দিয়ে শুরু, এরপর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দেওয়ার পর শেষ ম্যাচে ফের কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র।

    কলম্বিয়া ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল ফুটবল দল। এমনকি দেশটির ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ‘আ বোলা’ মাঠের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছে রোনালদোকে। তারা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে প্রধান তারকাকে ১০ এর মধ্যে ৪ রেটিং দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদোর শটগুলো তেমন বিপজ্জনক ছিল না এবং কলম্বিয়া গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের মুখোমুখি হয়ে পাওয়া বড় সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেননি। যদিও পরে সেই আক্রমণ অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়। ম্যাচটিতে রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। টুর্নামেন্টে যা ছিল দ্বিতীয়বার রোনালদোর কাছে পাওয়া প্রত্যাশার চেয়ে কম পারফরম্যান্স।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও ম্লান ছিলেন সিআরসেভেন। তার সেরা পারফরম্যান্স ছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে, যেখানে তিনি দুটি গোল করেছিলেন। রোনালদোর সমালোচনা করার পাশাপাশি কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের সেরা খেলোয়াড় হিসবে গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার কথা উল্লেখ করেছে ‘আ বোলা’। তাদের মতে, কস্তা ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় এবং ৮ রেটিং পেয়েছেন।

    কলম্বিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে ক্লিনশিট ধরে রেখেছেন দিয়োগো কস্তা। তিনি ‘সবকিছুই আটকে দিয়েছেন’ এবং ‘দুর্দান্ত পারফরম্যান্স’ করার কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমটি। কস্তার সেরা সেভের একটি ছিল দ্বিতীয়ার্ধের ৪৩ মিনিটে। হুয়ান কুইন্তেরোর ক্রস থেকে লুইস সুয়ারেজের কাছে বল পৌঁছানোর আগেই তিনি পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন।

    এ নিয়ে গ্রুপপর্বের দুটি ম্যাচে ড্র করেছে পর্তুগাল। ম্যাচের ফল তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও পুরো লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া এবং বেশি সুযোগও তারাই তৈরি করে। অতিরিক্ত সময়ে ডেভিনসন সানচেজ গোল করলেও মিলিমিটার অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ ৩২–এ রোনালদোর পর্তুগাল ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে লড়বে।

  • বিশ্বকাপে ৩০ দেশের চেয়ে একাই বেশি গোল মেসির!

    বিশ্বকাপে ৩০ দেশের চেয়ে একাই বেশি গোল মেসির!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসি যেন রেকর্ড গড়ার মিশন নিয়েই খেলছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০২৬ আসরে গ্রুপ পর্ব শেষ হতে না হতেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট তো আগেই উঠেছে তার মাথায়, এবার তিনি গড়েছেন আরও একটি অবিশ্বাস্য কীর্তি।

    গ্রুপ পর্ব শেষে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬। অথচ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩০টি দলই তার সমান গোলও করতে পারেনি। অর্থাৎ, একা মেসির গোলসংখ্যা সেই ৩০ দেশের পুরো দলের চেয়ে বেশি কিংবা সমান।

    এই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে আরেকটি গোল করেন। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচে তার গোল এখন ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড নিজের একার করে নেন।

    চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আট গোলের মধ্যে ছয়টিই এসেছে মেসির পা থেকে। প্রথম দুই ম্যাচে দলের পাঁচ গোলের সবকটিই করেছিলেন তিনি। শেষ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রাম দিলেও ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান।

    পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনাকে বাদ দিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭টি দল মেসির চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে। স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, মিসর, আলজেরিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা করেছে পাঁচটি করে গোল, যা মেসির চেয়েও কম। এছাড়া চারটি দল করেছে চার গোল, চারটি দল তিন গোল, ১২টি দল করেছে দুটি করে গোল এবং চারটি দল মাত্র একটি গোল করতে পেরেছে। একমাত্র পানামা এখনো গোলের দেখা পায়নি।

    গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ ১০টি করে গোল করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। কানাডার গোল ৯টি। আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও সেনেগাল করেছে আটটি করে গোল। সাতটি করে গোল রয়েছে ব্রাজিল, জাপান, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের। আর ছয়টি করে গোল করেছে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, মরক্কো, অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়াম।

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা মেসির সামনে এখন নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ। বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

  • তৃতীয় হয়েও নকআউটের টিকিট পেল যে ৮ দল

    তৃতীয় হয়েও নকআউটের টিকিট পেল যে ৮ দল

    প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফলে নকআউট পর্বও সম্প্রসারিত হয়েছে ৩২ দলে। নতুন ফরম্যাটের কারণে বদলে গেছে নকআউট পর্বে ওঠার হিসাব-নিকাশও। এবার শুধু প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলই নয়; তৃতীয় অবস্থানে থেকেও ১২টি গ্রুপ থেকে ৮টি দল শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে।

    গ্রুপপর্ব শেষে তৃতীয় অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে নকআউটের টিকিট পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, সুইডেন, ইকুয়েডর, ঘানা, সেনেগাল, আলজেরিয়া এবং ডিআর কঙ্গো।

    এর মধ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, সুইডেন, ইকুয়েডর, ঘানা, আলজেরিয়া ও ডিআর কঙ্গো ৪ পয়েন্ট নিয়ে এবং সেনেগাল ৩ পয়েন্ট নিয়েও সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছে।

    ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে পয়েন্টের ভিত্তিতে ৮টি দলকে নির্ধাবিচত করা হয়েছে। সমান পয়েন্ট হলে টাইব্রেকার হিসেবে গোল ব্যবধান বিবেচনা করা হয়েছে।

    এ কারণে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও ভাগ্য সহায় হয়নি ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্কটল্যান্ড ও উরুগুয়ের। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার কারণে ৪টি দলকে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

    তৃতীয় অবস্থানে থেকে নকআউট নিশ্চিত হলেও সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন সব পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ জার্মানি, সুইডেন লড়াই করবে ফ্রান্সের বিপক্ষে, ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর, ঘানার প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, সেনেগাল খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আলজেরিয়ার সামনে সুইজারল্যান্ড আর ডিআর কঙ্গোর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

    আজ রাতেই স্বাগতিক কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সিঙ্গেল-এলিমিনেশন ভিত্তিক নকআউট পর্বের খেলা। এই পর্বের ১৬ ম্যাচের বিজয়ীরাই রাউন্ড সিক্সটিনে জায়গা করে নেবে। আর হেরে যাওয়া দলগুলোর ধরতে হবে দেশে ফেরার ফ্লাইট।

  • গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    বয়স যতই বাড়ুক, গোল করার ক্ষুধায় যে এতটুকুও ভাটা পড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সোমবার জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ৬।

    এই গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, এরলিং হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো সময়ের সেরা তরুণ ফরোয়ার্ডদের পেছনে ফেলে মাত্র তিন ম্যাচে ছয় গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসিই। গ্রুপ পর্বে তার এই দুর্দান্ত গোল-পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

    বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচেও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মেসি। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে ৬০তম মিনিটে তিনি মাঠে নামেন, যখন আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ চাপ সৃষ্টি করছিল। মাঠে নেমেই আক্রমণে গতি এনে শেষ পর্যন্ত ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সাত গোল করে সিলভার বুট জিতেছিলেন মেসি। এবার গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই ছয় গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত হয়েছেন। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ক্যারিয়ারে আরও একটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে তার।

    আগামী ৩ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বেও যদি মেসি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি শিরোপা ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও আরও শক্ত ভিত পাবে।

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে

    ‘যদি কোনো কিছুকে তুমি পুরোটা হৃদয় দিয়ে চাইতে পারো, তাহলে পুরো মহাবিশ্ব তোমাকে সেটা পাইয়ে দিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়’ — পাউলো কোয়েলহোর আলকেমিস্টের এই উক্তি জগদ্বিখ্যাত বললেও কম হয়।

    তবে ব্রাজিলিয়ান এই কথাসাহিত্যিকের এই উক্তিটাকে আজ চাইলে ইরান প্রশ্নবিদ্ধ করলেও পারে। তারাও তো চেয়েছিল নকআউটের চৌকাঠ ছুঁতে, মনপ্রাণ দিয়েই চেয়েছিল; তাহলে কেন তাদের ক্ষেত্রে হলো তার ঠিক ১৮০ ডিগ্রি উল্টো বিষয়টা! গোটা মহাবিশ্ব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো বটে, কিন্তু এই ষড়যন্ত্র গেল তাদের বিপক্ষে।

    ইরান চাইলে প্রশ্ন করতেই পারে, ‘এভাবেও স্বপ্ন ভেঙে যায়?’ একবার হলে হতো, দুবারও মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু তাই বলে তিন বার? ইরানের সামনে হিসেবটা ছিল পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে মিশরকে হারাতে পারলেই শেষ ৩২-এ পৌঁছে যেত পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ। গড়া হয়ে যেত ইতিহাসও, কখনোই যে নকআউটে খেলা হয়নি তাদের!

    সোজা খালিলজাদেহর পায়ে ভর করে সে স্বপ্ন দেখতে শুরুও করেছিল তারা। যোগ করা সময়ে মিশরের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে বাঁধ সাধল ভিএআর, আর এমন এক নিয়ম, যার দেখা মেলে কালেভদ্রে। সাধারণত মনে করা হয় পাস রিসিভ করার সময় একজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিতে পারলেই বুঝি অফসাইডকে ফাঁকি দেওয়া যায়। সে ধারণা যে ভুল, আসল নিয়মে যে অন্য কিছু বলা আছে, সেটা জানানোর জন্যই যেন এমন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

    খালিলজাদেহ যখন বলটা পায়ে পেলেন, তখন তার সামনে গোলমুখে দাঁড়িয়ে মিশরের এক ডিফেন্ডার, তার অনেক পেছনে মিশরের গোলরক্ষক, আর ভগ্নাংশের ব্যবধানে পেছনে ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিম। সামনে এক ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে, তাহলে তো অফসাইডের কোনো ঝামেলা নেই, তাহলে আর কী, তার শট যখন আছড়ে পড়ল জালে, তখন উদযাপন শুরু হয়ে গেছে সিয়াটল থেকে তেহরান পর্যন্ত। হবেই তো, প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত বলে কথা।

    ঠিক তখন বাঁধ সাধল ভিএআর। অফসাইড! কারণ? অফসাইডের নিয়ম হচ্ছে, সামনে দুইজন ডিফেন্ডার থাকতে হয়, গোলকিপার সবসময় সামনে থাকেন বলেই সে সংখ্যাটা প্রায় সময় নেমে আসে ১-এ। ভুলটা সেখানেই হয়। ইরানও কি সে ফাঁদেই পা দিয়েছিল? সে যাই হোক, ভুলটা হয়েছে জায়গামতোই। যার ফল, ভাগ্যটা গেল ঝুলে। অনেকগুলো সুযোগ ছিল তাদের সামনে, তার কোনো একটার ফল পক্ষে এলেই কেল্লাফতে!

    তাই তাদের অপেক্ষা ছিল আজ সকালের। ক্রোয়েশিয়াকে হারতে হতো, ক্রোয়েশিয়া জিতল; জেতারই কথা ছিল অবশ্য। এরপর উজবেকিস্তান যখন ডিআর কঙ্গোকে চমকে দিয়ে প্রথম গোলটা করে বসল, তখন আশায় বুক বেধে বসেছিল ইরান। এরপর তিনটি গোল করে কঙ্গো চলে গেল শেষ ৩২-এ, ইরানের অপেক্ষাটা গিয়ে ঠেকল অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচে, এই ম্যাচে কোনো এক দল হেরে গেলেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম দল হিসেবে নকআউটে চলে যেত ইরান।

    তাদেরকে প্রথমে আশা দিলেন অস্ট্রিয়ার মার্কো আর্নাতোভিচ, তার গোলে অস্ট্রিয়ানরা এগিয়ে গিয়েছিল। এরপর আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরালেন রাফিক বেলঘালি। ৫৫ মিনিটে মার্সেল সাবিতজার গোল করলেন, ইরান একটু আশা দেখল, সেটাও উবে গেল ৫ মিনিট পর রিয়াদ মাহরেজ গোল করলে।

    ডেডলকটা গিয়ে ভাঙল যোগ করা সময়েরও চতুর্থ মিনিটে। রিয়াদ মাহরেজ আবারও গোল করে এগিয়ে দিলেন আলজেরিয়াকে। যেখানে চতুর্থ অফিসিয়াল অতিরিক্ত সময় দিয়েছেনই মোটে ৫ মিনিট, সেখানে ৯৪ মিনিটের গোলের জবাব আসে কী করে! ইরান শিবির থেকে শুরু করে তেহরানে বোধ হয় উৎসবটা শুরু হয়েই গিয়েছিল চূড়ান্তভাবে।

    সেটাতেও বাধ সাধল ভাগ্য। ৯৬ মিনিটে সাশা কালাইজিচের গোলে সমতা ফেরাল অস্ট্রিয়া। আলজেরিয়ারও ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি, দুই দলই চলে গেছে শেষ ৩২-এ। মাঝে কপাল পুড়ল ইরানের, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট ধরা দিতে দিতেও শেষমেশ গিয়ে ধরা দিল না।

    তবে ইরান চাইলে চোয়াল শক্ত করে নিজেদের অর্জনের দিকে তাকাতেই পারে। তিন ম্যাচ খেলেছে দলটি; নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, আর মিশরের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ হারেনি একটিও। এই ড্রকে আপনি জয়ের সমান করেই দেখবেন, যখন আপনার মনে পড়বে প্রেক্ষাপটটা।

    যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের যুদ্ধের জেরে ইরান ফুটবল দলও বেশ ঝক্কিতে পড়েছে। একগাদা অফিসিয়ালকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মিললেও থাকার অনুমতি পায়নি পুরো দল। তিনটি ম্যাচেই ইরান খেলেছে ভিন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে। ম্যাচের আগের দিন প্রত্যেক দলের জন্য স্টেডিয়ামে যাওয়ার অনুমতি থাকে। ইরান সেটাও পায়নি, পাবে কী করে, ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ারই তো অনুমতি পায়নি তারা! দিনে দিনে গিয়ে খেলে দিনে দিনে ফিরতে হয়েছে মেক্সিকোতে। ম্যাচ শেষে রিকভারি খেলোয়াড়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা ইরানকে সারতে হয়েছে আরও এক বিমানযাত্রার ধকল সামলে এর পর!

    একে তো ‘শত্রু’র দেশে খেলার মানসিক চাপ, তার ওপর এমন বিমানযাত্রার শারীরিক চাপ… সব মিলিয়ে এতো প্রতিকূলতা ছিল সামনে। তা সামলে ইরান পারফর্ম করেছে। চলে গিয়েছিল নকআউটের হাতছোঁয়া দূরত্বেও। একে কি আপনি অর্জন বলবেন না?

    ইরানের এই যাত্রা তাই ব্যর্থ নয় কোনোভাবেই। কারণ তারা যে দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে অপরাজিত থেকে, সবচেয়ে বড় কথা, মাথা উঁচু করে!

  • ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ  ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি তার দেশের বিশ্বকাপ অভিযানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফিফা এবং সংস্থাটির সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় ড্রয়ের পরও ইরানকে এখন শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। ম্যাচ শেষে তারেমি বিশ্বকাপের ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে একটি বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন। শুক্রবারের ম্যাচ শেষে তারেমি ও তার সতীর্থদের যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে উড়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। প্রথমে টুর্নামেন্ট চলাকালে দলটির বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাঅঙ্গরাজ্যের টুকসনে হওয়ার কথা থাকলেও, মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে তারা বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য আটলান্টিক।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। ইরান দল এবং তাদের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বারবার জটিলতার মুখে পড়েছেন। তারেমির অভিযোগ, পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রতিশ্রুতি ইনফান্তিনো দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

    তারেমি সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি বিপর্যয়কর বিশ্বকাপ; পুরোপুরি একটি বিপর্যয়। ফিফার এখানে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা শুরু থেকেই কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর মি. ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটা তো কেবল শুরু…’।

    তারেমি আরও বলেন, আমাদের লজিস্টিক কর্মীরা এখানে নেই। তারা ভিসা পাননি। এটা কীভাবে সম্ভব যে আমাদের প্রতিবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। আমরা মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। কিন্তু একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে, একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় এভাবে খেলাটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের মতে, এটা মোটেও ন্যায়সংগত নয়। ফিফার কাছে যদি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের কাছে নয়। আসলে আমাদেরকে কে সাহায্য করতে চায়? যদি তারা চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিই, তাহলে ঠিক আছে, আমরা বিদায় নেব। কিন্তু এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের পুনর্বাসন (রিকভারি) বিশেষজ্ঞ নেই, লজিস্টিক কর্মীও নেই, যারা আমাদের সাহায্য করবে। আমরা সব সময় এসব বিষয়ে অভিযোগ করি, কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করে না, কেউই না।

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকো সিটিতে দেয়া বক্তব্যে গিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে নিজেই বাস চালিয়ে দলটিকে বিশ্বকাপে নিয়ে আসতেন। মিশরের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করা তারেমিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার কি মনে হয় ইরানকে এই টুর্নামেন্টে স্বাগত জানানো হয়নি? জবাবে তিনি বলেন, এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ আসলে কী চায়, আমি জানি না। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়, তারা সম্ভবত এটাই চায়। ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে, এটা কীভাবে সম্ভব?

    মিশরের বিপক্ষে শুক্রবারের ড্রয়ের ফলে ইরান গ্রুপ জি’তে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে। শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য শনিবারের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর ফল তাদের অনুকূলে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। যদি গ্রুপ জে’তে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ড্র করে। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে। ক্রোয়েশিয়া হারিয়েছে ঘানা’কে। ফলে ইরানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

  • কে সেরা, মেসি না রোনালদো?

    কে সেরা, মেসি না রোনালদো?

    কে সেরা। মেসি না রোনালদো? বিশ্বব্যাপী ফুটবল দুনিয়ায় এ নিয়ে অনন্ত বিতর্ক। মাঠের রাজা হচ্ছেন লিওনেল মেসি। আর বলা হয়ে থাকে, নাটকের সম্রাট ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আসলে দু’জনের মধ্যে মহাকাব্যিক যুদ্ধ। ফুটবল দুনিয়ায় এটাই হচ্ছে এক চিরন্তন লড়াই। এই লড়াই মাঠের সবুজ ঘাসেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিলাসবহুল জীবনযাত্রার মধ্যেও। চলতি বিশ্বকাপে এই দুই মহাতারকা আলোচনার কেন্দ্রে। একে অপরকে তারা যেভাবে টেক্কা দিচ্ছেন তা যে কোনো হলিউড থ্রিলারকেও হার মানায়। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এখন পর্যন্ত তিনি এককভাবে সিংহাসনে। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ যুবরাজ রোনালদো উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটো গোল করে এক অবিশ্বাস্য নজির স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে টানা ছটি বিশ্বকাপে গোলের সুবাদে। মেসির জন্ম ১৯৮৭ সনে। বাবা হোর্হে হোরাসিও ছিলেন তার প্রথম কোচ। ফুটবলের প্রতি মেসির ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। তার দাদি সেলিয়া ছাড়া আর কেউ তাকে সমর্থন করতো না। খেলায়ও নিতে চায়তো না অনেকেই। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতেন দাদি।

    দুর্ভাগ্য হচ্ছে- মেসির কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সেলিয়া দেখে যেতে পারেননি। তিনি মারা যান ১৯৯৮ সনে ৬৭ বছর বয়সে। পাঁচ বছর পর অনেকটা নাটকীয়ভাবে বার্সেলোনায় সুযোগ পান মেসি। ২০০৫ সনে আন্ডার টুয়েন্টিতে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় , বার্সেলোনার সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছিল একটি ন্যাপকিনে। এ কারণেই সম্ভবত বলা হয়ে থাকে—একটি ন্যাপকিন মেসির জীবনকে বদলে দেয়। অন্যদিকে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর জন্ম ১৯৮৫ সনে। তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রোনালদো শেষ, তিনি বুড়ো হয়ে গেছেন। এমনটাই ফুটবল দুনিয়ায় চাউর ছিল। কিন্তু এবার ফুটবল দুনিয়া আবিস্কার করলো পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয়ী অন্য এক রোনালদোকে। ক্যামেরুনের রোজার মিলাও বিশ্বকাপে গোল করে রেকর্ড করেছিলেন। যাইহোক, মেসি এবং রোনালদোর মাঠের বাইরের জীবনযাপনে বিস্ময়কর তফাৎ রয়েছে। রোনালদোর জীবন যেন এক গ্ল্যামারাস সিনেমার মতো। তিনি বরাবরই বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। কোটি টাকার সুপার কার কালেকশন তার যেন এক নেশা। নিজস্ব ব্র্যান্ড রয়েছে সিআর-৭ এর। এরসবই মিডিয়ায় তার জীবন নিয়ে একটা হটকেক আলোচনা। ৪১ বছর বয়সেও তার শরীরে মেদ নেই। যেমনটা থাকে একজন তরুণ অ্যাথলেটের মধ্যে। মেসি কিন্তু এসবের ঊর্ধ্বে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের এক চেনা মুখ। শৈশবের প্রেমিকা আন্তোনেলাকে বিয়ে করে তিন সন্তান নিয়ে ভালোই আছেন। মেসিকে দেখা যায় পরিবারের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে। বাচ্চাদের নিয়ে মাঝেমধ্যে ফুটবলও খেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজত্ব আসলে কার হাতে। এর উত্তর খুঁজতে গেলে রোনালদোকে এগিয়ে রাখতে হবে। সবক’টা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমে তিনি এখন বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি, যার রয়েছে এক বিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার। তিনি অহংকারী, সোজাসাপ্টা কথা বলতে পছন্দ করেন। মেসি এদিক থেকে অনেকটাই সংযত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরাবরই মৃদুভাষী। বিতর্ক তাকে স্পর্শ করে না।

    ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনের সামগ্রিক মূল্যায়নে দু’জনকে আলাদা করা খুব কঠিন। মেসির মধ্যে রয়েছে পেশাদারিত্ব। এ কারণেই হয়তো তাকে গোট(GOAT) বলে আখ্যায়িত করেন অনেকেই। মেসির ঝুলিতে রেকর্ডসংখ্যক ট্রফি ও ব্যালন ডি’অর রয়েছে। সমীকরণ যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে, চলতি বিশ্বকাপে আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে একটি সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালের মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন এই দুই মহাতারকা। এটা অবশ্য নির্ভর করে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নিজ নিজ নকআউট ম্যাচগুলো জিততে পারলে। তাহলেই কেবল বিশ্বমঞ্চে এই দুই তারকার শেষ যুদ্ধ দেখার সুযোগ হতে পারে ফুটবল বিশ্বের। মাঠের পারফরম্যান্সে মেসি সত্যিই একজন জাদুকর। আর জীবনের ড্রামায় রোনালদোই সত্যিকার বিনোদন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবন গ্ল্যামারে ভরা। রোনালদো এর মধ্যেই বলেছেন, আমি ফিরে এসেছি। ইঙ্গিতটা কিন্তু মেসির দিকেই। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটা গোল করে মেসি ফুটবল ইতিহাস বদলে দেন। এরমধ্যে তো একটা হ্যাটট্রিক আছেই।

    ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তখন পেছনের সারিতে। অবশ্য বেশি সময় নেননি। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুই গোল করে বিশ্বকে বললেন, আমি আবার ফিরে এসেছি। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ডও তিনি লিখলেন অন্যভাবে। মেসি কখনো রোনালদোকে নিয়ে বাজে কোনো মন্তব্য করেননি। অনেকক্ষেত্রে প্রশংসাও করেন। কিন্তু রোনালদো তার বিপরীত।

  • ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ – আর্জেন্টিনাকে পেয়ে বলল কেপ ভার্দে

    ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ – আর্জেন্টিনাকে পেয়ে বলল কেপ ভার্দে

    বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে। হিউস্টনে সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ ড্র করে গ্রুপ এইচ-এ দ্বিতীয় হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ উঠেছে তারা। এই অর্জনে তারা হয়েছে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে ছোট দেশ এবং ২০১০ সালের পর প্রথমবার অভিষেকেই নকআউটে যাওয়া দল।

    স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে একই গ্রুপে থেকেও তিনটি ড্র করে এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছে কেপ ভার্দে।

    সংবাদ সম্মেলনে দেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে কথা বললেন কোচ বুবিস্তা। রেকর্ডের কথা জানার পর তিনি বললেন, ‘আমরা? আমি জানতামই না। তাহলে আমরা একটা উদাহরণ হয়ে গেলাম যে যদি মনোযোগ, দৃঢ়তা এবং সংগঠিত থাকে তাহলে ছোট দেশগুলোও বড় লক্ষ্য রাখতে পারে। আমরা দেখিয়েছি কিছুই অসম্ভব নয়। আমরা শুধু আমাদের দেশকে নয়, আফ্রিকাকে এবং সারা বিশ্বের ছোট দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, দেরিতে হলেও কেপ ভার্দে একদিন এই মঞ্চে আসবে। কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা একের পর এক ধাপ পেরিয়েছি। বিশ্বকে দেখিয়েছি, কঠিনকে ভয় পেতে নেই। এখন আমরা নকআউটে, এটা আমাদের মানুষের জন্য, আমাদের দলের সঙ্গে পরিচয় রাখা সবার জন্য এবং বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য অসাধারণ একটা মুহূর্ত।’

    এরপর শুক্রবার মিয়ামিতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। মেসির দল নিয়ে বুবিস্তা বললেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পেরে আমরা গর্বিত। এই দেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সম্পর্ক আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিপক্ষ যেই হোক আমরা আমাদের নিজেদের পরিচয়েই খেলব। আমরা জানি আর্জেন্টিনায় বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড় আছেন, আর আছেন মেসি, যাকে অনেকে সর্বকালের সেরা মনে করেন।’

    ম্যাচের সময় ড্রেসিং রুম থেকে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের উৎসব করার শব্দ ভেসে আসছিল। সংবাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে চলছিল সেই আনন্দ।

  • শেষ ম্যাচে জিতলেই বিপাকে পড়বে এই ২ দল

    শেষ ম্যাচে জিতলেই বিপাকে পড়বে এই ২ দল

    শনিবার গ্রুপ জে-র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া। দুই দলই তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে। ড্র করলেও দুটি দলেরই নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তবু দুই কোচই বলছেন, জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন তারা।

    ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দল জেনে যাবে নকআউটের বাকি ব্র্যাকেট কেমন। গ্রুপ জে-তে দ্বিতীয় হলে মুখোমুখি হতে হবে গ্রুপ এইচ-এর শীর্ষ দলের, যেটি হতে পারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর তৃতীয় হলে সামনে পড়বে গ্রুপ বি-র শীর্ষ দল সুইজারল্যান্ড, যাকে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ বলা যায়। সুইজারল্যান্ডের চেয়ে স্পেন নিশ্চয়ই ধারে-ভারে কঠিন দল, সে কারণে ম্যাচটা জিতলেই বুঝি বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে দলকে। তাই অনেকেই ভাবছিলেন, দুই দল হয়তো ইচ্ছে করে ড্র খুঁজবে।

    কিন্তু অস্ট্রিয়া কোচ রাল্ফ রাংনিক তা সরাসরি নাকচ করলেন। তিনি বললেন, ‘না, একদমই না। ম্যাচ শুরুর পর আমরা পরিস্থিতি বুঝব, কিন্তু সেটা আমাদের খেলাকে প্রভাবিত করবে না। ড্র করলে হয়তো এগিয়ে যাওয়া যাবে, কিন্তু ড্রয়ের জন্য মাঠে নামা যায় না।’

    আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও একই সুরে বললেন, ‘ফুটবলে কোনো যদি বা কিন্তু নেই। আমাদের সবসময় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয় একই মনোভাব নিয়ে, পারফর্ম করার ইচ্ছা আর জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। ম্যাচের পর কী হবে দেখা যাবে, কিন্তু আগে জেতার চেষ্টা করতে হবে।’

    এই ম্যাচটি নিয়ে ১৯৮২ সালের স্মৃতিও উঠে আসছে বারবার। সেবার স্পেনের গিহনে পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া এমনভাবে খেলেছিল যে আলজেরিয়া বাদ পড়ে গিয়েছিল। প্রথম গোলের পর দুই দলই যেন চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছিল। ইতিহাসে এটি ‘গিহনের কলঙ্ক’ নামে পরিচিত। সেই ঘটনার পরই ফিফা গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচ একই সময়ে আয়োজনের নিয়ম চালু করে।

    সেই প্রসঙ্গে রানগনিক বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়রা হয়তো গত কয়েক দিনে খবরের কাগজে এটা পড়েছে। কিন্তু আমি মনে করি না এটা আগামীকালের ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলবে।’

    অস্ট্রিয়া মিডফিল্ডার কনরাড লাইমার বলেন, ‘আমরা মাঠে নামব জেতার জন্য। প্রতিপক্ষ কে সেটা কোনো ব্যাপার না।’

    দুই দলই আগে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে এবং জর্ডানকে হারিয়েছে। জর্ডান ইতোমধ্যে বাদ পড়ে গেছে।

  • কেপ ভার্দের রূপকথার নেপথ্য কারিগর ‘বুবিস্তা’

    কেপ ভার্দের রূপকথার নেপথ্য কারিগর ‘বুবিস্তা’

    বোয়া ভিস্তা দ্বীপের পোভোয়াসাও ভেলহা গ্রাম। পুরো গ্রামে ছিল মাত্র একটি টেলিভিশন। বিশ্বকাপের রাতে সেই টিভির সামনে ভিড় করতেন গ্রামের মানুষ। সবার পেছনে দাঁড়িয়ে এক ছোট্ট ছেলে মুগ্ধ চোখে দেখত ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর লোথার ম্যাথাউসের ফুটবল জাদু। ঘরে ফিরে মা তার জন্য মোজা দিয়ে বানিয়ে দিতেন একটি বল। সেই মোজার বল নিয়েই শুরু হয়েছিল তার ফুটবল-যাত্রা।

    বহু বছর পর সেই ছেলেটিই টানা ১১ বছর কেপ ভার্দে জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন। ফুটবল বিশ্ব এখন তাকে চেনে ‘বুবিস্তা’ নামে। যদিও তার আসল নাম পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো। জন্ম বোয়া ভিস্তা দ্বীপে বলেই শৈশবের ডাকনাম ‘বুবিস্তা’ আজ তার পরিচয় হয়ে গেছে। আর শনিবার সকালে হিউস্টনের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ৫৬ বছর বয়সী সেই মানুষটিই লিখলেন দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইতিহাস। তার হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।

    বিশ্বকাপে জায়গা পেতে নানা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে হয়েছে কেপ ভার্দেকে। টানা সাতবার ব্যর্থ হওয়ার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফ্রিকান ব্লু শার্কসরা। আর প্রথমবার সুযোগ পেয়েই চমকে দিয়েছে তারা। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গ্রুপ থেকে অপরাজিত রানার্সআপ হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বাইরে থেকে এটি রূপকথা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকের পরিকল্পনা, ধৈর্য আর কঠোর পরিশ্রম।

    কেপ ভার্দের এই সাফল্যের অন্যতম বড় ভিত্তি সেন্টার-ব্যাক লোগান কস্তা। ভিয়ারিয়ালের এই ডিফেন্ডার গত বছরের জুলাইয়ে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে প্রায় ১০ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। বিশ্বকাপের আগে গত ১৭ মে লা লিগায় মাত্র ১৩ মিনিট খেলেছিলেন। এমন একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বুবিস্তা বিশ্বাস হারাননি। সেটার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। স্পেন, উরুগুয়ে কিংবা সৌদি আরব- কেউই সহজে ভাঙতে পারেনি কস্তাদের রক্ষণপ্রাচীর। পুরো গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ।

    কেপ ভার্দের জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ। কিন্তু দেশের মানুষের চেয়ে প্রবাসী কেপ ভার্দিয়ানের সংখ্যা আরও বেশি। সেই ছড়িয়ে থাকা মানুষদেরই এক সুতোয় গেঁথেছেন বুবিস্তা। এই যেমন মিডফিল্ডার জামিরো মন্তেইরোর জন্ম নেদারল্যান্ডসের রটারডামে। অভিবাসী পরিবারে বেড়ে ওঠা এই ছেলেটি পাড়ার রাস্তায় ফুটবল শেখা শিখেছেন। পরে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার ঘুরে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এসওয়াতিনির বিপক্ষে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই নিশ্চিত করেছিলেন কেপ ভার্দের বিশ্বকাপের টিকিট।

    কেভিন পিনার গল্পও কম অবাক করার মতো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটনের রাস্তায় খেলতে খেলতেই সাবেক অধিনায়ক কার্লোস মোরাইসের চোখে পড়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই পেশাদার ফুটবলে যাত্রা। এখন রাশিয়ার ক্রাসনোদারে খেলেন। বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে তার ফ্রিকিক গোল এখনও টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

    আবার উরুগুয়ের বিপক্ষে বদলি নেমে সমতাসূচক গোল করা হেলিও ভারেলা খেলেন ইসরায়েলের ক্লাবে। ম্যাচের আগে হয়তো খুব কম মানুষই তার নাম জানত, কিন্তু একটি গোলই তাকে কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে দিয়েছে।

    ডিফেন্ডার পিকো লোপেসের গল্প আরও মজার। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার প্রথমে ভেবেছিলেন, লিংকডইনে পর্তুগিজ ভাষায় আসা কেপ ভার্দে কোচের বার্তাটি বুঝি স্প্যাম! পরে বুঝতে পারেন, সেটিই ছিল জাতীয় দলের ডাক। সেই বার্তা উপেক্ষা করলে হয়তো ইতিহাসের অংশ হওয়াই হতো না।

    আর গোলরক্ষক ভোজিনহা তো এখন পুরো দেশের নায়ক। স্পেনের বিপক্ষে একাই সাতটি সেভ করে ম্যাচসেরা হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ বাঁশির পর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কারণ সেই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছিল প্রয়াত দাদা-দাদিকে- যাদের হাত ধরেই ফুটবলে তার প্রথম পথচলা।

    ৩৬ বছর বয়সী অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখ। গত ১৬ বছরে ৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি ছিলেন কেপ ভার্দের প্রতিটি উত্থান-পতনের সাক্ষী। আর ২৫ বছর বয়সী ডেইলন লিভ্রামেন্তো বাছাইপর্বে ক্যামেরুন ও এসওয়াতিনির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে বিশ্বকাপের পথটাই খুলে দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সেই গোলগুলোর কথা খুব বেশি মানুষ মনে রাখেনি, কিন্তু ইতিহাসের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সেখানেই।

    কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বকাপ শুধু স্বপ্ন নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগও। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব খেলেই কেপ ভার্দে ফিফার কাছ থেকে পাচ্ছে এক কোটি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার। ফেডারেশনের পরিকল্পনা, এই অর্থের পুরোটা ব্যয় হবে দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা কেপ ভার্দিয়ান প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে। ১৪ বছর বয়সী একাডেমি ফুটবলার ইউরি মার্লে ফার্নান্দেসদের প্রজন্মকে তাই আর কল্পনা করতে হয় না। তারা বড় হয়েছে এমন একটি জাতীয় দলকে দেখে, যারা আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে, ক্যামেরুনের মতো দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে উঠেছে। তাদের কাছে বিশ্বমঞ্চ আর অসম্ভব কোনো স্বপ্ন নয়।

    সৌদি আরব ম্যাচের আগে বুবিস্তা বলেছিলেন, ‘সবারই স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। অসম্ভব বলে কিছু নেই।’ মোজার ফুটবল দিয়ে খেলা শুরু করা এই মানুষটি ভালো করেই জানেন, বিশ্ব ফুটবলের সমীহ আদায় করতে ঠিক কতটা রক্ত-ঘাম ঝরাতে হয়।

    আগামী ৪ জুলাই নকআউট পর্বে তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষে থাকবেন লিওনেল মেসি। পোভোয়াসাও ভেলহা গ্রামের সেই ছোট্ট ছেলেটি ধার করা টেলিভিশনে এর চেয়েও বড় বড় ম্যাজিক দেখে বড় হয়েছে। এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের গল্প লেখার পালা তার।

  • দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    কিছু মানুষের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল মানে পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখা। নিজের জীবনের সঙ্গে কিছু মুহূর্তকে চিরস্থায়ী করে রাখার নাম। তপন চৌধুরীর গল্প তেমনই।

    ব্যবসায়িক পরিচয়ে তিনি দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রয়েছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘ পথচলা। গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসবের বাইরে আরেকটি দিক আছে, যা তাকে আলাদা করে। তপন চৌধুরী বিশ্বকাপ ফুটবলের এক নিবেদিত পথিক।

    তার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে, মেক্সিকো থেকে। সেই সময় মেক্সিকো নিয়ে নানা আতঙ্ক ছিল। পরিচিতরা বলেছিলেন, সাবধানে থাকতে, পরিস্থিতি নাকি খুব ভালো নয়। চারদিকে ছিনতাই, নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। ভয় তাকে আটকে রাখতে পারেনি। বন্ধু ফকির মাহবুব আনামকে (বর্তমানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ) উড়ে গেলেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ দেখতে।

    সেই সময়ের হিসাবেই একেকজনের খরচ হয়েছিল প্রায় ১৮শ মার্কিন ডলার। থাকা, খাওয়া, খেলা দেখা সব মিলিয়ে। তারা দেখেছিলেন সাতটি ম্যাচ। কিন্তু খেলার ফলের চেয়ে বেশি মনে গেঁথে আছে স্টেডিয়ামের বাইরের পৃথিবী।

    তপন চৌধুরী এখনও মনে করতে পারেন সেই দিনটির কথা, যেদিন দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

    তিনি বলছিলেন, সেদিন পুরো মেক্সিকো যেন উৎসবে ভেঙে পড়েছিল। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন। তিনি আর তার বন্ধুও সেই জনসমুদ্রে মিশে গিয়েছিলেন।

    তারপর হোটেলে ফিরে টেলিভিশনে দেখলেন আরেক গল্প, ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত হাতের গোল। মাঠে বসে তারা কেউই বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে।

    তারপর শুরু হয় এক দীর্ঘ বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৯৯০–এ দেখেছেন রোমের সেই রাত। যেখানে ফুটবলের রাজা ম্যারাডোনা কাঁদলেন, আর জার্মানি ট্রফি তুলল।

    ১৯৯৪–এ দেখেছেন আমেরিকার গরমে বদলে যাওয়া ফুটবলের ভাষা। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে ইতালির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য।

    ১৯৯৮–এ প্যারিসে দেখেছেন তরুণ এক ফরাসি দলের উত্থান। যখন পুরো স্টেডিয়াম জিদানের নামে কাঁপছিল।

    ২০০২–এ এশিয়ার আকাশের নিচে দেখেছেন ব্রাজিলের পুনর্জন্ম। রোনালদো যেন হারানো সময় ফিরে পেয়েছিলেন।

    ২০০৬–এ দেখেছেন বার্লিনের ফাইনাল। এক মহাতারকার বিদায় ফুটবলকে বিষণ্ন করেছিল।

    ২০১০–এ দক্ষিণ আফ্রিকার রাতজাগা ভুভুজেলা আর স্পেনের ধৈর্যের ফুটবল তাকে নতুন এক সৌন্দর্য চিনিয়েছিল।

    ২০১৪–তে রিওর উৎসব আর তার মাঝেই দেখেছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ভাঙনের একটি। ব্রাজিল–জার্মানির সেই ম্যাচ। তিনি বলছিলেন, প্রথম গোল খাওয়ার পরই তার মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঠিক নেই। ব্রাজিল যেন নিজের ছায়াকেও চিনতে পারছিল না। বিরক্ত হয়ে পাশে বসা মানুষদের বলে ফেলেছিলেন, “আজ ব্রাজিল সাত গোল খাবে।” মিনিটের পর মিনিট যেন সময় থেমে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ড বদলাচ্ছিল, মানুষ বদলাচ্ছিল। একসময় আর গোল গোনা হচ্ছিল না, গোনা হচ্ছিল স্তব্ধতা। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের চোখে পানি, মুখে অবিশ্বাস। কেউ পতাকা দিয়ে মুখ ঢেকেছে, কেউ মাথা নিচু করে বসে আছে।

    তিনি বলছিলেন, জীবনে এত খেলা দেখেও কোনো দেশের ফুটবল হৃদয়কে এভাবে ভেঙে যেতে দেখেননি। যখন সপ্তম গোল হলো, পাশে বসা এক ইতালিয়ান ভদ্রলোক বারবার তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, এ মানুষটা কি সত্যিই আগেই জানত।

    তপন চৌধুরী হাসতে হাসতে বলেন, “আমি জ্যোতিষী ছিলাম না। শুধু মনে হয়েছিল ব্রাজিল সেদিন আর মাঠে ছিল না।”

    ২০১৮–তে দেখেছেন নতুন প্রজন্মের উত্থান।

    আর ২০২২–এ কাতারের সেই রাত, যেখানে ফুটবল যেন এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখেছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে লিওনেল মেসি ট্রফি তুললেন, আর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ শুধু একটা ম্যাচ দেখেনি। দেখেছিল সময়কে পূর্ণ হতে।

    বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সম্পর্ক এরপরও থামেনি। এবারও তিনি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। এটা হবে তার দশম বিশ্বকাপ। একসময় প্রায় প্রতি আসরেই তার সঙ্গে ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা পরিবারের কেউ না কেউ থাকত। বিশ্বকাপ ছিল পরিবারেরও উৎসব।

    এবার যাত্রার আগে একটি অনুপস্থিতি তাকে অন্যরকমভাবে স্পর্শ করছে। তার ছেলে ড্যানি আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তাকে। কথা বলতে বলতে থেমে যান তপন চৌধুরী। বলেন, ছেলেটাকে খুব মিস করেন।

    হয়তো এবারও যাওয়ার কথা ছিল। বাবা–ছেলে একসঙ্গে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতেন। গোল হলে উঠে দাঁড়াতেন, ছবি তুলতেন, তর্ক করতেন, ফিরে এসে রাতভর আলোচনা করতেন। এখন সেই আসন খালি।

    বিশ্বকাপ থেমে থাকে না। জীবনও না। তপন চৌধুরী আবার যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে। এবার তার ব্যাগে থাকবে শুধু টিকিট আর পাসপোর্ট নয়, থাকবে ১৯৮৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অসংখ্য ফাইনালের আলো, হাজারো গ্যালারির শব্দ, আর এক না–ফেরা সঙ্গীর জন্য গভীর, নীরব এক অপেক্ষা।

  • প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল আইভরি কোস্ট। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের দুই গোলই করেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।

    ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হতো আইভরি কোস্টের। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে তারা। তারই ফল হিসেবে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।

    প্রথম গোলটির সূচনা করেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিয়োমান্দে। কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে পেপের কাছে বাড়িয়ে দেন তিনি। সুযোগ নষ্ট করেননি পেপে। সহজ ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষক এলয় রুমকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

    প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রাখে আইভরি কোস্ট। ৬৪তম মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পেপে। এরপর তিন মিনিট পরই তাকে তুলে নেন কোচ, যাতে ৩০ জুনের নকআউট ম্যাচের আগে বিশ্রাম পান এই ফরোয়ার্ড।এই জয়ে গ্রুপের রানারআপ হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। আগামী ৩০ জুন নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘আই’ গ্রুপের রানারআপ—ফ্রান্স অথবা নরওয়ে।

    আইভরি কোস্টের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪—টানা তিন বিশ্বকাপ খেলেও কখনো গ্রুপপর্বের বাধা পেরোতে পারেনি তারা। দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাও শেষ ম্যাচে জিতলে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখানো ক্যারিবীয় দেশটি শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হলো তাদের।গ্রুপপর্বে আইভরি কোস্ট প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে লড়াই করেও ২-১ গোলে হারে। তবে শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে কোনো ভুল করেনি আফ্রিকার দলটি।

  • পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নকআউটে জাপান-সুইডেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ দিনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে জাপান ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দলই নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিট। একই সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষও। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা আগামী ২৯ জুন মুখোমুখি হবে জাপানের।

    অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ৩-১ গোলে হারিয়েছে তিউনিসিয়াকে। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান। আর সুইডেন সেরা আট তৃতীয়-স্থানধারী দলের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। ফলে শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কো।ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় জাপান। ৫৬তম মিনিটে রিতসু দোয়ানের নিখুঁত পাস পেনাল্টি বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেত্তারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন ডাইজেন মায়েদা।

    তবে জাপানের সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৬২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান অ্যান্থনি এলাঙ্গা। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

    এই ম্যাচে গোল করে জাপান নতুন এক কীর্তিও গড়েছে। এবারের আসরে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে, যা এক বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল ছিল জাপানের সর্বোচ্চ অর্জন।এ নিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে নকআউটে উঠল জাপান। সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরোল তারা। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে প্রথমবার শেষ ষোলোতে খেলেছিল এশিয়ার দলটি।

    অন্যদিকে ১৯৯৪ সালের পর থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সুইডেনও টানা তৃতীয়বারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে। প্রথমবার অংশ নিয়েই তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।

    ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। ইনজুরি সময়ে এলাঙ্গার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। পরের কর্নার থেকে আলেক্সান্ডার আইজাকের হেডও রুখে দেন তিনি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। এখন নকআউট পর্বে ব্রাজিল-জাপান এবং নেদারল্যান্ডস-মরক্কো লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

  • গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    তিন গোলের দাপুটে জয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল নেদারল্যান্ডস। তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। একই সময়ে জাপান ও সুইডেনের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস। ফলে নকআউট পর্বে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে এড়িয়ে তারা মুখোমুখি হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কোর।

    কানসাস সিটির ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শুরুতেই তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিস শিকিরি আত্মঘাতী গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন। এরপর সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান ব্রবি নিজের বিশ্বকাপের তৃতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ভার্জিল ফন ডাইকের হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দলকে স্বস্তি এনে দেন তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া একবার ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে হাজেম মাসতুরি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৬২তম মিনিটে জ্যান পল ফন হেকের হেড আনিস স্লিমানের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস।

    ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধও রাখতে হয়। বিরতির পরও অবশ্য বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সহজেই ম্যাচ শেষ করে ডাচরা।এই জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান, যারা নকআউটে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে। আর চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে সুইডেন।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে তিউনিসিয়া। প্রথম ম্যাচে হারের পর কোচ পরিবর্তন করেও ভাগ্য বদলায়নি। জাপানের কাছে বড় ব্যবধানে হারার পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও পরাজিত হয়ে কোনো জয় ছাড়াই বিশ্বকাপ শেষ করল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

    নকআউটে ওঠার আগে টানা দুই জয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামবে নেদারল্যান্ডস, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চমক দেখিয়ে নকআউটে ওঠা মরক্কো।

  • ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের সম্ভাবনা জাগতে শুরু করেছে। নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই লাতিন পরাশক্তি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল রয়েছে টুর্নামেন্টের ভিন্ন অংশে। তাই ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ হতে পারে সেমিফাইনাল।

    তবে সেই স্বপ্নের লড়াই দেখতে হলে দুই দলকেই পেরোতে হবে নকআউট পর্বের একাধিক কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলে তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল।

    অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুটা করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে কোনো একটি দল।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচ, ব্রাজিলের জয় ৩৯টি, আর ২৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, নকআউটের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ উপহার দিতে পারে কি না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

  • পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার

    ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রভাব শুধুমাত্র গোল, ট্রফি কিংবা পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজেদের সৃজনশীলতা, নৈপুণ্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে তারা হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র তেমনই একজন ফুটবলার, যিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

    মাঠে তার অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষিপ্র গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ক্যারিয়াজুড়ে গড়া অসংখ্য রেকর্ড তাকে এনে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা। চোট, বিতর্ক কিংবা সমালোচনা- সবকিছুর মাঝেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন তিনি।

    ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

    নেইমারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান নেইমার।

    ব্রাজিলের মতো ফুটবল সমৃদ্ধ দেশের হয়ে এমন একটি রেকর্ড গড়া নিঃসন্দেহে বিরাট কৃতিত্ব। কারণ দেশটির জার্সি গায়ে খেলেছেন পেলে, রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো, রোনালদিনহোসহ অসংখ্য কিংবদন্তি তারকা।

    অলিম্পিক স্বর্ণ জয়ের নায়ক

    ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে ফুটবলে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জেতানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল নেইমারের। স্বাগতিকদের সেই ঐতিহাসিক অভিযানে ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নেন তিনিই।

    একই আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় গোল করে অলিম্পিক ফুটবলের অন্যতম দ্রুততম গোলের রেকর্ডও গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

    ইউরোপ জয় ও এমএসএন ত্রয়ী

    এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময়ই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের সেরা সময় কাটান নেইমার। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়ে ওঠা বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচিত।

    ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নেইমারের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব ও ফাইনালে তার গোল দলকে শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখে।

    বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার

    ২০১৭ সালে ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দেন নেইমার। বার্সেলোনা ছেড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন তিনি।

    এটি এখনো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও কোনো ফুটবলার এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।

    মাঠের বাইরে জনপ্রিয়তার শিখরে

    শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ নেইমার। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েকশ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে এই বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

    গিনেস রেকর্ডেও স্বীকৃতি

    ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার মতো নানা অর্জনের কারণে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিভিন্ন তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার। এছাড়া বার্সেলোনার ঐতিহাসিক আক্রমণভাগের অংশ হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছে একাধিক পরিসংখ্যানভিত্তিক রেকর্ডে।

    শুধু রেকর্ড নয়, এক প্রজন্মের প্রতীক

    নেইমারের ক্যারিয়ারকে শুধুমাত্র গোল কিংবা ট্রফির সংখ্যায় মূল্যায়ন করা কঠিন। তিনি এমন এক ফুটবলার, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও বিনোদনমূলক ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

    তার ড্রিবল, ফ্লেয়ার ও সাহসী খেলার ধরন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণকে ফুটবলের প্রেমে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।

    আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল

    এরই প্রমাণ মিলেছে ২৫ জুন ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনহার পরিবর্তে মাঠে নামতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। প্রিয় তারকাকে আবারও সেলেসাওদের হয়ে খেলতে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা।

    ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। সেই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়—নেইমার কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি আবেগ, একটি প্রজন্মের স্মৃতি এবং আধুনিক ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় আইকন।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    আড়েবেড়ে বয়স তো অনেক হলো, সব পাওয়াও হলো—কিন্তু ফুটবলকে কবে বিদায় বলবেন লিওনেল মেসি? কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশ্ন এবারও ঘুরে-ফিরে আসছে। মেসি জানিয়েছেন, সব পেয়েছেন। এবার শরীর ঠিক থাকলেই খেলা চালিয়ে যাবেন।

    আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি বলছেন, ‘আমি আরও কিছুদিন খেলব। যতক্ষণ দলের জন্য কিছু করতে পারব, শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করব এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারব, ততক্ষণ খেলে যাব।’

    তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখন সেটা নিয়ে ভাবছি না। ২০৩০ এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। আমি বর্তমান নিয়েই ভাবছি এবং একদিন করে এগোচ্ছি।’

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা আগেভাগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়েও জোড়া গোল করেন।

    গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় ওই ম্যাচে দলকে আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ। মেসিদের আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে গা গরমের ম্যাচও বলা যায় সেটিকে!

  • মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    মেসির পরামর্শে বার্সেলোনায় যেতে বেশি আগ্রহী আলভারেজ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উত্তাপের মধ্যেই ইউরোপের ট্রান্সফার বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জিজান্তেস এফসির তথ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনায় খেলাকে নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।

    বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন আলভারেজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিওনেল মেসির কাছ থেকে বার্সেলোনা শহর ও ক্লাবের ঐতিহ্য সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শোনার পর কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ আরও বেড়েছে তার।

    ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব—রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি এবং আর্সেনাল—আলভারেজকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখালেও তিনি নাকি বার্সেলোনাকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ফলে সম্ভাব্য এই দলবদল নিয়ে বার্সেলোনা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

    জানা গেছে, কাতালান ক্লাবের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে আলভারেজকে দলে আনার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলমান বিশ্বকাপের কারণে তারা আপাতত কোনো তাড়াহুড়া করতে চাইছে না।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আলভারেজের জন্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ইউরোর একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বার্সেলোনা। যদিও এই ট্রান্সফার সহজ হবে না, কারণ আতলেতিকো মাদ্রিদ তাদের অন্যতম সেরা তারকাকে ছাড়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

    স্প্যানিশ ক্লাবটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলভারেজকে দলে নিতে চাইলে তার চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ পূরণ করতে হবে। ফলে বার্সেলোনার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এই সম্ভাব্য দলবদল শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি!

    গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে শনিবার জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বেশ কয়েকজন তরুণ ও মাঠে কম নামা ফুটবলারকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তবে দল ঘুরিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা থাকলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে মাঠে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ডান হাতের অনামিকার চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা মার্তিনেজ নিজেই জর্ডানের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে গোল হজম না করা এই গোলরক্ষকের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

    মেসিকেও এই ম্যাচে কিছু সময়ের জন্য মাঠে নামানোর চিন্তা রয়েছে। তবে তিনি শুরু থেকেই খেলবেন নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবু সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

    স্কালোনি মূল একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নিকো পাজ, ভ্যালেন্টিন বার্কো এবং জুলিয়ানো সিমিওনেকে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চোটের কারণে খেলতে না পারা গঞ্জালো মন্তিয়েল এবার রাইট-ব্যাক পজিশনে ফিরতে পারেন। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে মার্কোস সেনেসি অথবা ফাকুন্দো মেদিনার একজনকে দেখা যেতে পারে। বাম প্রান্তে খেলবেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।

    মিডফিল্ডে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পাশে সুযোগ পেতে পারেন ভ্যালেন্টিন বার্কো। এছাড়া আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড ও উইংয়ে জুলিয়ানো সিমিওনে এবং জিওভানি লো সেলসোকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজের পরিবর্তে খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। এছাড়া প্রয়োজন হলে লোপেসকেও মাঠে নামানো হতে পারে। মেসি যদি শুরুর একাদশে না থাকেন, তাহলে তার জায়গায় নিকো পাজকে দেখা যেতে পারে। আর মেসি শুরু করলেও ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে তরুণ এই মিডফিল্ডারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের।

  • বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব চলাকালে প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্ট অনুসরণ করা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি পেশা। বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখার দায়িত্ব পালন করে তারা প্রত্যেকে পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার।

    মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ান তাদের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা এই দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা জানতেই সম্প্রতি তাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

    টাইমস স্কয়ারে বিশেষ কাচের ঘরে বিশ্বকাপ দেখা

    নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কাচঘেরা একটি কক্ষ। পথচারীরা সহজেই তাদের দেখতে পারেন, যা অনেক দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    এই ঘরের ভেতরে রয়েছে আরামদায়ক রিক্লাইনার চেয়ার, চামড়ার সোফা, বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন, ফুসবল টেবিল এবং ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা সামগ্রী। পাশাপাশি রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সংগ্রহ।

    কেভিনের ভাষায়, একজন ফুটবল ভক্ত তার স্বপ্নের ঘরে যা যা কল্পনা করতে পারেন, তার প্রায় সবকিছুই সেখানে রয়েছে।

    হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচন

    ফ্লোরিডায় রাঁধুনির কাজ করা কেভিন এবং ফিলাডেলফিয়ার কনটেন্ট নির্মাতা অস্টিন হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই ব্যতিক্রমী সুযোগ পেয়েছেন। তাদের দায়িত্ব শুধু ম্যাচ দেখা নয়, দর্শকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।

    ‘এটা আসলে দীর্ঘ এক ম্যারাথন’

    বিশ্বকাপের দীর্ঘ সূচির কারণে কাজটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। কেভিন জানিয়েছেন, টানা ম্যাচ দেখতে দেখতে তারা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং নতুন রুটিনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    অস্টিনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিদিনের ঘটনাগুলো কখনো কখনো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়। তার মতে, কাজটি অনেকটা ম্যারাথনের মতো—দেখতে সহজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একই মনোযোগ ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

    তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের টাইমস স্কয়ারের কাচের ঘরেই রাত কাটাতে হয় না। শিফট শেষে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে বিশ্রাম নিতে পারেন।

    ঐতিহাসিক মুহূর্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ

    এই দায়িত্ব পালনের সময় তারা বিশ্বকাপের বেশ কিছু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। একসময় আর্জেন্টাইন খাবার উপভোগ করতে করতে তারা দেখেছেন লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলসংখ্যার নতুন রেকর্ড গড়ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ম্যাচ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য, যা অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

    ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ*

    ম্যাচের বিরতিতে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাচ্ছেন তারা। ব্রাজিল, নরওয়েসহ নানা দেশের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবল ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা তাদের কাজের অন্যতম আকর্ষণ।

    অস্টিনের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের গল্প শোনা এবং তাদের ফুটবল-উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখা এই অভিজ্ঞতার সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।

    কারা জিততে পারে বিশ্বকাপ?

    শিরোপা দৌড়ে কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানার সমর্থক।

    অন্যদিকে অস্টিনের সমর্থন নরওয়ের প্রতি। তার বিশ্বাস, আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে চমক দেখিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

    দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন

    এই অদ্ভুত চাকরি নিয়ে মানুষের মতামতও একরকম নয়। কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া এতগুলো ম্যাচ দেখা অতিরিক্ত চাপের বিষয়। আবার অনেকে বলছেন, বিশ্বকাপ দেখার জন্য অর্থ পাওয়া নিঃসন্দেহে স্বপ্নের মতো একটি সুযোগ।

    কিছু দর্শকের মতে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ আলাদা। তবে অনেকেই কেভিন ও অস্টিনের এই ব্যতিক্রমী দায়িত্বকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় চাকরি হিসেবে দেখছেন।

  • ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে চলছে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মধ্যে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতা। শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, দলগুলোর মধ্যেও চলছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যে চলছে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র মতো খেলা। কখনো এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল, কখনোবা জার্মানি।

    মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড। এই ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল-জার্মানি। দুই দলেরই ছিল ২৪১ গোল। আজ স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিল ব্রাজিল। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ এবার তাদের গোলসংখ্যা ২৪৪। তবে এই রেকর্ড কতক্ষণ টিকে থাকে সেটাই দেখার। কারণ, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচ। বিশ্বকাপ এলেই যে জার্মানকে দেখা যায় ভয়ংকর রূপে, তাতে হয়তো রাতেই সর্বোচ্চ গোলের সিংহাসনটা ব্রাজিলের কাছ থেকে কেড়ে নেবে জার্মানরা।

    জার্মানি-ব্রাজিলের লড়াইটা শুরু ১৪ জুন থেকেই। সেদিন ভোরে নিউজার্সিতে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। ২৩৮ গোল নিয়ে তখনো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ব্রাজিলেরই। কিন্তু সেই রাতে এক ঝটকায় সব ওলটপালট করে দিল জার্মানরা। হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে গোলসংখ্যা ২৩৯ করে ফেলল জার্মানি।

    ২৩৯ গোল করে রেকর্ডটা এক সপ্তাহ টিকিয়ে রাখতে পারেনি জার্মানি। ২০ জুন ভোরে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের নিজের দখলে নেয় ব্রাজিল। এই তিন গোলের পর সেলেসাওদের গোলসংখ্যা হয়েছে ২৪১। কাকতালীয়ভাবে একই রাতে পড়ে যায় জার্মানদের ম্যাচ। তবে এবার আর জার্মানরা টপকে যেতে পারেনি ব্রাজিলকে। টরন্টোতে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে জার্মানি। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার এই জয়ে ১২ বছর পর নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জার্মানরা।

    আজ সকালেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। তাতে করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে চলে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিন গোলের দুটি করেছেন ভিনি এবং মাথিয়াস কুনিয়া করেন এক গোল। ৫ গোল করে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। চারটি করে গোল করে যৌথভাবে দুইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং ভিনি।

    অবস্থানদলগোল
    ১ব্রাজিল২৪৪
    ২জার্মানি২৪১
    ৩আর্জেন্টিনা১৫৭
    ৪ফ্রান্স১৪২
    ৫ইতালি১২৮
  • নকআউটে জার্মানির সঙ্গী কে?

    নকআউটে জার্মানির সঙ্গী কে?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে জার্মানি। এখন প্রশ্ন হলো ‘ই’ গ্রুপ থেকে নকআউটে তাদের সঙ্গী হচ্ছে কে? আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, কুরাসাও–এ তিন দলই নকআউটের দৌড়ে আছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউইয়র্কে জার্মানির মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর। একই সময়ে ফিলাডেলফিয়ায় আইভরি কোস্টের প্রতিপক্ষ কুরাসাও। কোনো দল যেন বাড়তি সুবিধা না পায়, সে জন্য একই সময়ে শুরু হচ্ছে ম্যাচ দুটি।

    দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপে শীর্ষে আছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডর ও কুরাসাও ১ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করেছে। তবে গোল পার্থক্যে তৃতীয় স্থানে ইকুয়েডর। নকআউটের দৌড়ে থাকলেও ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের কাজটা খুবই কঠিন। ইকুয়েডরকে নকআউটে যেতে হলে আজ জার্মানির বিপক্ষে জিততেই হবে। আর ড্র করলে লাতিন আমেরিকার দেশটির পয়েন্ট হবে ২। গ্রুপে তৃতীয় হলেও ২ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে যাওয়াটা বেশ কঠিন হবে।

    অবশ্য কুরাসাও যদি আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জিতে যায়, তাহলে তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে। কুরাসাও জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারাই নকআউটে চলে যাবে। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে আইভরি কোস্টেরও সম্ভাবনা থাকবে। পঞ্চম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইকুয়েডর আগের চারবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। এবারও তারা প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে হেরে ও একটি ড্র করে বিদায়ের পথেই আছে। এরমধ্যে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার পোস্টে লাগানোর পর একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা। এরপর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে।

    নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এ ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরখ করে দেখতে পারেন জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগলেশমান। গত দুই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ। এরমধ্যে গত ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দিয়ে নায়ক বনে যান। গত দুই ম্যাচে ৩ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সে পুরস্কার হিসেবে আজশুরুর একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন স্টুটগার্টের এ স্ট্রাইকার। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে বিশ্রাম দিয়ে অলিভার বাউম্যানকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে এ ম্যাচে। গোড়ালির চোটে সেন্টার-ব্যাক নিকো স্লটারবেক ছিটকে যাওয়ায় রক্ষণে জোনাথন টাহয়ের সঙ্গী হতে পারেন এন্টিনিও রুডিগার। লেফট-ব্যাক ডেভিড রাউমও সুযোগ পেতে পারেন আজ।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে জার্মানির মিডফিল্ডে। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা লিয়ন গোরেৎসকা, নাদিম আমিরি আজ শুরু থেকে নামতে পারেন। তাদের সঙ্গে মাঝমাঠে বিশ্বকাপ অভিষেক হতে যাচ্ছে এঞ্জেলো স্টিলারের। আক্রমণভাগে কাই হাভার্টজের জায়গা উনদাভ ও উইংয়ে লেরয় সানে ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের জায়গায় জেমি লেভেলিং ও ম্যাক্সিমিলিয়ান বায়ারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ইকুয়েডর দলে চোট সমস্যা নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারছে তারা। অবশ্য কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ড্র করা একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে জানা গেছে। জার্মানি ও ইকুয়েডর এখন পর্যন্ত দু’বার মুখোমুখি হবে; যেখানে দু’বারই বিজয়ীর হাসি হেসেছে জার্মানরা।

  • হাইতির বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ে নকআউটে মরক্কো

    হাইতির বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ে নকআউটে মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কাগজে-কলমে লড়াইটা ছিল গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট বনাম ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা পুঁচকে হাইতির। তবে আটলান্টা স্টেডিয়ামে শক্তি-সামর্থ্যে ঢের পিছিয়ে থাকা হাইতি রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ছাড়ল মরক্কোর। ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো।

    টানা দুই ম্যাচ হেরে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল হাইতির। তাই তাদের আজ হারানোর কিছু ছিল না। তাই হয়তো কিছু একটা করে দেখানোর মানসিকতা ছিল। ম্যাচের ১০ম মিনিটে মরক্কোকে স্তব্ধ করে লিড নেয় ক্যারিবীয় দলটি। মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর মারাত্মক ভুলে আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে হাইতির প্রথম এবং চলতি বিশ্বকাপের ১৫০তম গোল।

    পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া মরক্কো ৩৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। এল খান্নুসের শট হাইতি গোলরক্ষক প্লাসিড ঠেকালেও ফিরতি বল গোলমুখে পেয়ে সহজেই জালে জড়ান আশরাফ হাকিমি। তবে মরক্কোর এই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র ৪ মিনিট। ৪৩ মিনিটে মরক্কো রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটে বল জালে পাঠিয়ে হাইতিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন উইলসন ইসিদোর।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মরক্কোর স্বস্তি ফেরান ইসমায়েল সাইবারি। হাকিমির নিচু ক্রসে বক্সের মাঝখান থেকে প্রথম ছোঁয়ার শটে বল জালে জড়িয়ে ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় মরক্কো।

    বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ালেও হাইতির সুসংগঠিত রক্ষণের কারণে গোল পাচ্ছিল না মরক্কো। অবশেষে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন সুফিয়ান রাহিমি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে রিয়াদের টাচের পর বল পেয়ে কার্লিং শটে গোল করেন রাহিমি। মরক্কো এগিয়ে যায় ৩-২ ব্যবধানে।

    একেবারে শেষদিকে ৮৯ মিনিটের সময় বাম দিক থেকে রাহিমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান এবং বল বাড়ান ইয়াসিনের কাছে। ফাঁকা জালে সহজেই বল জড়িয়ে দেন তিনি। হাইতির খেলোয়াড়রা বল বাইরে চলে গিয়েছিল বলে দাবি করলেও রেফারি ভিএআর যাচাই শেষে গোলের বৈধতা নিশ্চিত করেন। মরক্কো এগিয়ে যায় ৪-২ ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর বিপক্ষে বীরোচিত লড়াইয়ের তৃপ্তি নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল হাইতি। আর স্বস্তির জয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা।

    তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল মরক্কো। অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে ব্রাজিল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের এখনও সেরা চার তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষীণ সুযোগ আছে। শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মরক্কো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের। যে স্থানটি বর্তমানে দখল করে রেখেছে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস।

  • ভিনির জাদুতে নকআউটে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল 

    ভিনির জাদুতে নকআউটে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল 

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ব্রাজিলের জার্সিতে প্রায় তিন বছর পর মাঠে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। তবে ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন মাঠে প্রবেশের আগে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন ভিনিসিয়ুস ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাওয়া এই তরুণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল। তার দাপটে ৩-০ গোলে জিতেছে সেলেসাওরা। গ্রুপ ‘সি’ সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।

    ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের অপরসঙ্গী মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতির বিপক্ষে জয় পেয়েছে। তিন ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের সমান ৭ পয়েন্ট তুলেছে আফ্রিকার দলটিও। তবে ব্রাজিলের চেয়ে ৩ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা দলটি।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে লিড নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের ৭ মিনিটে জালে বল পাঠিয়ে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। রাফিনিয়ার ইনজুরিতে শুরুতে একাদশে জায়গা পাওয়া রায়ান তাকে গোলে সহায়তা দেন। বক্সের মুখে স্কটিশ ডিফেন্ডারের নড়বড়ে নিয়ন্ত্রণের সুযোগে পা থেকে বল কেড়ে ভিনিকে দিলে সহজে জালে পাঠান তিনি।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভিনি দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। দলকে নির্ভার রেখে প্রথমার্ধ শেষ করেন। তার এবারের গোলটি পাওয়া হেড থেকে। গোলের একেবারেই মুখে ব্রুনো গিমারেজ ফাঁকায় থাকা ভিনিকে লম্বা করে বল পাঠান। তিনি হেড দিয়ে জালে বল পাঠিয়ে দেন।দলের তৃতীয় গোলটিকেও দারুণ এক সহায়তা দিয়েছেন ব্রাজিলের মাঝমাঠের প্রাণভ্রোমরা গিমারেজ। তিনি ম্যাচের ৬০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের বক্সের ঠিক বাহির থেকে ছোট্ট নিঁখুত পাসে ম্যাথিউস কুনিয়াকে ফাঁকায় বল পাঠান। বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ম্যানইউ স্ট্রাইকার। টুর্নামেন্টে ভিনির চার গোলের পাশাপাশি তিন গোল করেছেন এই নাম্বার নাইন। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে পরে খেলছেন এই তারকা।

  • এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি যেন প্রতিনিয়ত নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে শুধু দলকে নকআউট পর্বে তুলেই দেননি, একই সঙ্গে গড়েছেন চারটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও।

    টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুই গোলের সুবাদে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মেসির নতুন রেকর্ডগুলো।

    আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন মেসি।

    এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলের নারী ফুটবল তারকা মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ডও অতিক্রম করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

    গোলের রেকর্ড ছাড়াও জয়সংখ্যার দিক থেকেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৮তম জয়, যা ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

    এ ছাড়া ম্যাচে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮, যা এই আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন এসেছে খেলার সময়ের হিসাবে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট মাঠে থেকে ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২,২১৭ মিনিটের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন মেসি।

    এক ম্যাচেই চারটি নতুন গিনেস রেকর্ড নিজের করে নিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার নামটি বিশেষ এক উচ্চতায় অবস্থান করছে।

  • বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের চলতি আসরে ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিটের বিরতি! ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রপাতের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার ঘটনা প্রথম ঘটল।

    খেলোয়াড়, সমর্থকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য খেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারলে ম্যাচ শেষ হতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম ম্যাচ।

    স্থানীয় সময় ৫টা ৪৯ মিনিটে বিরতি হয়। কিন্তু ১৫ মিনিটের হাফ টাইম ২ ঘণ্টা দীর্ঘায়িত হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু হয়নি। বজ্রপাতের পাশাপাশি বৃষ্টিও শুরু হয়। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে খেলা শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পরে শেষ হয়। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পায় ফ্রান্স। জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। একটি গোল করেন উসমানে ডেম্বেলে।

    ফ্রান্স এক গোলে এগিয়ে থাকাকালীন বিরতিতে সাপোর্টারদের গ্যালারি ছেড়ে কভার জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়, ঝড় ধেয়ে আসছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ম্যাচ শুরুর ক্লিয়ারেন্স দেয় সংগঠকরা। প্রথমে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত খেলা শুরু হতে ৮টা বেজে যায়।

  • বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে উঠার জন্য ফুটবলারদের পরামর্শ দিচ্ছেন কুরাসাওয়ের নারী ডাক্তার সুজান হুরমান। ইকুয়েডর ম্যাচের আগে তার এমন পরামর্শে সাফল্য পেয়েছে আফ্রিকার দলটি।

    বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোলে হেরে যায় কুরাসাও। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কামব্যাক করে তারা। এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করেছে কুরাসাও। গোলকিপার এলয় ভিক্টর রুম ১৫টি গোল সেভ করে নজির গড়েছেন। তার নেপথ্যে কি বান্ধবীর সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত?

    দলের নারী ডাক্তার হুরমানের পরামর্শ অনুয়াযী কোচ ডিক অ্যাডভোকেট প্লেয়ারদের সঙ্গে তার বান্ধবী বা স্ত্রীদের থাকার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ইটালির কোচ ফাবিও কাপেলো প্লেয়ারদের উপর রীতিমতো কারফিউ জারি করেছিলেন। আবার অনেক দল ভারসাম্য রাখায় বিশ্বাসী।

    কিন্তু কুরাসাওয়ের দর্শন আলাদা। হুরমানও চান, ম্যাচের আগে ফুটবলাররা সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটান। তাতে দলের পরিবেশ অনেক ফুরফুরে থাকবে।

    হুরমান বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের স্ত্রী, বান্ধবী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারেন। যাদের পরিবার আছে, সেই ফুটবলারদের বাড়তি রুম দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বকাপে কোনও দল এরকম পদক্ষেপ নেয় না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, যৌনতা সাহায্য করেছে। শারীরিক প্রভাবের থেকেও এর মানসিক প্রভাব বেশি। এত বড় টুর্নামেন্টে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া খুব দরকার। তাতে মনখারাপের জায়গা থাকে না। কুরাসাও ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু তারা খুব প্রাণোচ্ছ্বল। আনন্দ-ফুর্তি করতে ভালোবাসে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। ওদের দেখে আমার নিজের দেশ ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে।’

    তবে আরেকটা কারণও আছে। কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ। সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। অনেক প্লেয়ারই বড় ক্লাবে খেলেন না। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাই নিজেদের টাকায় পরিবারকে আমেরিকায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কুরাসাওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। পরিবারকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পুরো টাকা দিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

    হুরমান বলেন, ‘আমাদের প্লেয়ারদের খুব বেশি টাকা নেই। আমেরিকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারকে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশন সেই খরচ বহন করছে। যেখানে প্লেয়ারদের সঙ্গী-সন্তানরা থাকতে পারবে। তাদের কোনও দুশিন্তা থাকবে না।’

    হুরমানের জন্ম ব্রাজিলে। এই বিশ্বকাপের একমাত্র মহিলা মেডিক্যাল স্টাফ তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দোভেন, নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।

    বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে আছে কুরাসাও। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচে এক পয়েন্ট সংগ্রহ তাদের। শেষ ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে পারবে আফ্রিকার দেশটি। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে গোলপার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর দিকে।

  • এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপারের ভাবনা ইরাক কোচের!

    কিলিয়ান এমবাপ্পেকে থামানো যেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার ও কোচরাও ফরাসি এই তারকাকে আটকানোর নানা কৌশল খুঁজে থাকেন। কিন্তু তাকে রুখতে ব্যতিক্রমী এক ‘সমাধান’ দিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড— একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে!

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত তিনটায় গ্রুপ ‘আই’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইরাক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরসের ছলে আর্নল্ড বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমরা কি একসঙ্গে তিনজন গোলকিপার খেলাতে পারি? কিন্তু তারা সেটি অনুমোদন করেনি।

    ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় তিনি কিংবদন্তি পেলেকেও ছাড়িয়ে গেছেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।

    ইরাকের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জালাল হাসান সর্বশেষ নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে চারটি গোল হজম করেছিলেন। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কে গোলপোস্ট সামলাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি আর্নল্ড।

    ইরাকি কোচ বলেন, ফ্রান্স কীভাবে খেলবে, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে নিজেদের পারফরম্যান্স আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে নিজেদের সামর্থ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরুক।

    অন্যদিকে ফ্রান্স শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন।

    এই অর্জন নিয়ে এমবাপে বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় কিছু নেই। ফ্রান্সের হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর সেটি যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে তা আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

  • নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা আর্জেন্টিনার পুরো নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে। একইভাবে ‘এইচ’ গ্রুপের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে লিওনেল মেসিদের। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না হলে এই গ্রুপের যেকোনো এক দলের বিপক্ষেই সেরা ৩২-এ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

    ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেন ছাড়াও আছে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। গতকাল রাতে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশরা। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে অবস্থান করছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। সমান দুই পয়েন্ট করে নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে। এক পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে সৌদি আরব।

    ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠলে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে নকআউটে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে উরুগুয়ে যদি স্পেনকে হারায় এবং কেপ ভার্দে জয় না পায়, তাহলে স্পেন রানার্সআপ হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনাকে পাবে। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দল জিতলে গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা কিংবা প্রয়োজন হলে ফেয়ার প্লে সূচক দিয়ে নির্ধারিত হবে গ্রুপের অবস্থান।

    অন্যদিকে কেপ ভার্দে জয় পেলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে আফ্রিকার দলটিই রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামবে। সৌদি আরবও এখনো পুরোপুরি সমীকরণের বাইরে নয়। উরুগুয়ে জয় না পেলে এবং সৌদি আরব নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে তারাও রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে দলগুলোর পয়েন্ট সমান হলে অলিম্পিক পদ্ধতির টাইব্রেকার প্রয়োগ করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসবে মুখোমুখি ম্যাচের ফল, এরপর গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, সামগ্রিক গোল ব্যবধান, মোট গোল, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সবশেষে ফিফা র‌্যাংকিং।

  • ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যেন বুঝিয়েছেন, ৩৯ ছুঁইছুই বয়সেও দলের জন্য কতটা কার্যকর তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর চারদিক থেকে এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে প্রশংসা বাক্য শোনা যাচ্ছে। সবশেষ মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    প্রথম ম্যাচেই দারুণ হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি। গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে আলোচনায় সবার আগে দশ নম্বর জার্সিধারী। মেসির সঙ্গে এই আলোচনায় আছে এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ডের নাম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনজনই জোড়া গোল করেছেন। এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের আলোচনায় আছেন এই চারজন।

    এই চারজনের মধ্যে দ্বিধাহীনভাবে মেসিকে এগিয়ে রাখলেন এমবাপ্পে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি তারকা বলেন, ‘মেসি এই চারজনের মধ্যে সেরা। এটা পরিষ্কার। সে সেরাদেরও সেরা, ঠিক যেমন ক্রিস্টিয়ান রোনালদো।’

    মেসির প্রশংসা করে এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘সে (মেসি) গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অসাধারণ মান দেখিয়ে আসছে। বাকিদের নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সাংবাদিক ও ভক্তদের বিষয়। এটা আমার মাথায় নেই। আমি শুধু নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর চেষ্টা করি।’

    কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। দল শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রঙিন ছিলেন এমবাপ্পে। সে আসরের গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতে। তবে এই ফরোয়ার্ড জানালেন, ব্যক্তিগত নয়, তাঁর কাছে দলগত সাফল্যই সবার আগে, ‘আমি জানতাম মেসি গোল করবে, সে সব সময়ই এটা করে। সে আমার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আমি দলের জন্য গোল করে যেতে চাই। গোল করলে রেকর্ড ভাঙা যায়, কিন্তু আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়।’

    বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে আজ রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। যেটা হবে এমবাপ্পের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি ম্যাচের আগেও তাঁর ভাবনায় দল, ‘জাতীয় দলে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ১০০তম ম্যাচ বিশ্বকাপে খেলাটা ঐতিহাসিক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয় তুলে নেওয়া।’

  • এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    ফুটবল বিশ্বের নয়া পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামাল। নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে তার বিশাল ছবি। ভাবা যায়! মাত্র ১৮ বছর বয়সে টাইম স্কয়ারের মতো স্থানে ইয়ামালের এই উপস্থিতি। বলুনতো এতে কী প্রমাণ হয়। স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া বিস্ময়বালক হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের এক নম্বর মুকুটহীন সম্রাট। অনেকে তার মধ্যে আরেক মেসির ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান। লামিনে ইয়ামালের গায়ে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। স্পেনের হয়েই ইউরো ২০২৪ জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেছেন ৫৩টি। তার ক্যারিয়ার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় হন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। লামিনে’র দাদি এসেছিলেন মরক্কো থেকে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে এখানে-ওখানে থাকতেন। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় স্পেনের মাতারো শহরে। মা আসেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। যাযাবরের মতো থাকতেন। দারিদ্র্যতা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন বিবেচনা করলে মনে হবে, এটা এক রোমাঞ্চকর বাস্তব জীবন। যা কিনা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আর্থিক কষ্টের মধ্যে মাতারো শহরের দুইজন সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ান। এই মুহূর্তে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন লামিনে। তবুও কোচ তাকে মাঠে নামাবেনই। কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন ড্র করে। বিশ মিনিট মাঠে নামেন অবশ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেছেন একটু বেশি সময়। গোলও পেয়ে গেছেন। গোলের পর দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৩০৪ চিহ্নটি দেখান। এর পেছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। এটা আসলে রোকো ফন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পরিচয়কে তুলে ধরতে চান। খ্যাতির চূড়ায় এখন অনেকটা শীর্ষে। এর মধ্যে লামিনের জীবনে যুক্ত হয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ইয়ামালের মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু ব্যালন ডি’অর বা কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নয়। তিনি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। ইয়ামালের মা কাজ করতেন ম্যাকডোনাল্ডসে। হাড়ভাঙা খাটুনি। তারকা হয়ে ওঠার পর লামিনে তার মা’র জীবনটা বদলে দিয়েছেন। কিনে দিয়েছেন এক বিলাসবহুল বাড়ি।

    মার সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল

    চাচা কাজ করতেন এক বেকারিতে। তার জীবনও পাল্টে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এখনও তিনি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে স্মরণ করেন। তার বুটে আঁকা থাকে ওই দুটি দেশের পতাকা। এতে তিনি প্রমাণ করতে চান-অতীত যত কুয়াশাছন্নই হোক না কেন- সেটা তিনি ভুলতে চান না। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অবিশ্বাস্য চাপ। অন্যদিকে জীবনের নানামুখী আইনি বিতর্ক। মিডিয়ার নজর তো আছেই। বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, লামিনের জীবন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এসব ধরে রাখতে। অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো ইয়ামালের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমাদের সামনে এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে। জনপ্রিয় খেলার কাগজ মার্কা বলেছে, এই তরুণ তারকা তার ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করার পর বলা হচ্ছে, স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছানো এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। একটি বাস্তব সম্ভাবনা। বিশ্বকাপের আসরে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে অনেকেই অংক মেলাচ্ছেন। বলছেন, এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ!

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রতি চার বছর পর পর, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এই খেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

    কিন্তু ২০২৬ সালে, এই প্রতিযোগিতা শুধু গোল, অ্যাসিস্ট এবং ট্রফি নিয়েই নয়। আজকের সেরা ফুটবলাররা হলেন বিশ্বব্যাপী তারকা, যাদের বিশাল অনুসারী রয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করে, গেমের সেরা মুহূর্ত ও প্রশিক্ষণ সেশনের ক্লিপ থেকে শুরু করে পারিবারিক পোস্ট এবং নেপথ্যের ছোট ছোট দৃশ্য পর্যন্ত। তাদের প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান।

    সোশ্যাল মিডিয়া মূলত খেলোয়াড় ও ভক্তদের মধ্যকার সম্পর্ক বদলে দিয়েছে। একটিমাত্র পোস্ট অনেক টেলিভিশন সম্প্রচার বা সংবাদ মাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের অনুরাগ ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোকে পৃষ্ঠপোষক এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে। আসলে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনুসারী রয়েছে যা পুরো দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন এখানে এমন ১০ জন খেলোয়াড়কে তুলে ধরা হলো, যারা মাঠের প্রতিপক্ষের মতোই সোশ্যাল মিডিয়ার জগতেও আধিপত্য বিস্তার করেন।

    ১০. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে)

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ১৮ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    হ্যারি কেইন এখন ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। যদিও কিছু তরুণ তারকার তুলনায় তার সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা কম, ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে কাজ করার মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা দেখতে পায়। ইংল্যান্ড অধিনায়কের স্কেচার্স এবং ক্যাডবেরির মতো কোম্পানির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে।

    ৯. লামিন ইয়ামাল (স্পেন)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৫০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৩৫ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি

    লামিন ইয়ামালের উত্থান এক কথায় অবিশ্বাস্য। কিশোর বয়সেই তার বিশাল ভক্তকুল তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা এবং স্পেনের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ভক্তরা তার যাত্রাপথ অনুসরণ করতে আগ্রহী, এবং যদি সে তার খেলার উন্নতি অব্যাহত রাখে, তবে নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী বিশ্বকাপের মধ্যে সে এই খেলার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক নাম হয়ে উঠতে পারে।

    ৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৭০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৪০ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার

    নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড শুধু গোল করার জন্যই নয়, তার মজাদার ব্যক্তিত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতির জন্যও পরিচিত।

    তার জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বিটস বাই ড্রে-এর মতো বড় বড় ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি যেমন রেকর্ড ভাঙছেন এবং ট্রফি জয় করছেন, তেমনি বিশ্বজুড়ে তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে।

    ৭. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৬০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৪০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $১০ মিলিয়ন – $১৫ মিলিয়নেরও বেশি

    ইংল্যান্ড এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্স তাকে ভক্তদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। তিনি অ্যাডিডাসের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি করেছেন, যারা তাদের ফুটবল প্রচারাভিযানে তাকে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করে।

    মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ডের অ্যাডিডাস, পেপসি এবং ভোডাফোনের মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে। সবাই তার বিনয়ী স্বভাবের প্রশংসা করে, যা তাকে বিশ্বজুড়ে একনিষ্ঠ ভক্তকুল তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

    ৫. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। তার গতি, দক্ষতা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাফল্য তাকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এনে দিয়েছে। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডসহ বড় স্পনসরদের আকৃষ্ট করেছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সাথে সাথে তার ভক্তকুলও ক্রমাগত বাড়ছে।

    ৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ২০০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ১২৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ২৫ মিলিয়ন – ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    কিলিয়ান এমবাপে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশাল ভক্তকুল তৈরি করেছেন।

    নাইকি, হাবলো এবং ওকলির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে অংশীদারত্ব করেছে এবং তিনি খেলাধুলার জগতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ক্রীড়াবিদ। তার সেরা সময়গুলো এখনও সামনে, এমবাপে যেমন উন্নতি করছেন, তেমনি তার ভক্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

    ৩. নেইমার (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৪৫০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ২৩০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    খুব কম ফুটবলারই নেইমারের তারকাখ্যাতির সমকক্ষ হতে পারেন। মাঝেমধ্যে চোট তার গতি কমিয়ে দিলেও, তা তার জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অনলাইনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছেন এবং পুমা ও রেড বুলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেন।

    ২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ কোটির বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫০.৫ কোটি – ৫১.০ কোটি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৫ কোটি ডলারের বেশি

    লিওনেল মেসি বিশ্বের অন্যতম প্রিয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির অ্যাডিডাস, পেপসি, অ্যাপল এবং হার্ড রকের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে, যা ফুটবলের বাইরে তার আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। যেহেতু অনেকেই আশা করছেন ২০২৬ সালই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ, তাই বিশ্বজুড়ে ভক্তরা তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে।

    ১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ১.১ বিলিয়ন+

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৬৬৫+ মিলিয়ন

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $৬০ মিলিয়ন+

    সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বাচ্ছন্দ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। কোনো ক্রীড়াবিদই এর চেয়ে বড় অনলাইন ফলোয়ার তৈরি করতে পারেননি।

    ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে রোনালদোর ফলোয়ার সংখ্যা ১.১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। শুধুমাত্র তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যাই অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    নাইকি, বাইন্যান্স, ক্লিয়ার এবং তার নিজস্ব সিআরসেভেন ব্যবসার সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকে তিনি ক্রমাগত বিপুল আয় করছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তার ক্যারিয়ারে, এবার তিনি বিশ্বকাপে কোনো ঝলক দেখাতে পারবেন কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবু জনপ্রিয়তায় তিনিই সবার ওপরে রয়েছেন, কে অস্বীকার করবে?

  • একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    একাদশ সাজানো নিয়ে দোটানায় আর্জেন্টিনার কোচ

    ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে আর্জেন্টিনা। তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো দুটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি—এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও আক্রমণভাগে কিছু রদবদল দেখা যেতে পারে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে নামানোর কথা ভাবছেন স্কালোনি। গতি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত গনসালেস প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসিং কৌশলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারেন বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে চায় কোচিং স্টাফ।

    আরেকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে। প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা লাউতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেস। দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চোট থেকে প্রায় সেরে উঠেছেন গনসালো মন্তিয়েল। রোববার সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজন হলে ম্যাচেও নামতে পারেন এই ডিফেন্ডার, এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    রক্ষণ ও মাঝমাঠে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। গোলবারের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ফাকুন্দো মেদিনার জায়গা প্রায় নিশ্চিত। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস এবং আলেক্সিস মাক অ্যালিস্তারকে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন স্কালোনি।

    অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে না খেলা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোও ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠছেন। অনুশীলনে ধারাবাহিক উন্নতি হতে থাকলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁদেরও মাঠে নামাতে পারেন স্কালোনি।

    সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ জিতলে নকআউট পর্বের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

  • এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    ২০ বছর আগে ঠিক এই দিনটিতেই সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল লিওনেল মেসির। দুই দশক পর সেই একই দিনে, কানসাস সিটিতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাকাব্য লিখলেন ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে কেবল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানই দুর্দান্তভাবে শুরু করেননি, একই সাথে ছুঁয়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডও।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই এক ম্যাচেই লিওনেল মেসি যেসব বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন এবং গড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়োবৃদ্ধ হ্যাটট্রিকম্যান: আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি যখন তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আট বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন। ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো।

    ২. আর্জেন্টিনার ইতিহাসের কনিষ্ঠ ও বয়োবৃদ্ধ গোলদাতা: এই হ্যাটট্রিকের পর মেসি এখন একই সাথে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা! ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি, আর আজ ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে করলেন হ্যাটট্রিক।

    ৩. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (ক্লোসাকে ছোঁয়া): আলজেরিয়ার জালে ৩ বার বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আর ১টি গোল করলেই তিনি এককভাবে চূড়ায় উঠবেন।

    ৪. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: মাঠে নামার সাথে সাথেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬) খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন এলএমটেন।

    ৫. ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে গোল করার গৌরব অর্জন করলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপ বাদে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের আসরে গোল করার নজির গড়লেন তিনি।

    ৬. আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’: আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তার সামনে আছেন কেবল কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ) এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ)।

  • এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    মঙ্গলবার রাতটা (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের অন্য রাতের মতো ছিল না। এ রাতে পৃথক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নতুন প্রজন্মের দুই তারকা- কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ড। নিউইয়র্ক, বোস্টন থেকে তারা যখন ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রান্তে কানসাস সিটিতে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসির দিকে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে নতুনদের উদ্দেশে মেসি যেন সেই চিরাচরিত বার্তাটিই দিলেন- ‘সেরা হতে চাইলে আগে সেরাকে হারাতে হবে।’

    কয়েক ঘণ্টা আগেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এম্বাপে। অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে দুই গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন হলান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার আসনটি দখল করতে নতুন প্রজন্মের এই দুই নক্ষত্র প্রায় প্রস্তুত।

    গোলের পর এম্বাপের উদযাপন। ছবি: এএফপি

    কয়েকদিনের মধ্যে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি কিংবা ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনেকেই অতীতের অধ্যায় হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। এমন সময়ে বিশ্বমঞ্চে হ্যাটট্রিক করে মেসি যেন নিজের দাপটের কথা আরেকবার জানান দিলেন।

    প্রথমে তিনি বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার তালিকায় এম্বাপেকে ছাড়িয়ে যান। এরপর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ১৬ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে ওঠেন। সেখানে তাঁর সঙ্গী জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে। আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন মেসি। তিনিই এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা।

    ম্যাচে লিওনেলের প্রথম গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সেই গোলটি ছিল অসাধারণ এক শট, যা নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেবে। মাঠের মাঝখান দিয়ে বাড়ানো একটি থ্রু বল পেয়ে মেসি বক্সের দিকে এগিয়ে যান। তাঁকে ঘিরে ধরতে এগিয়ে আসেন পাঁচজন আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার। ঠিক তখনই তিনি বাম দিকে এক পা সরিয়ে জোরালো শট নেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই শট গোলরক্ষক লুকা জিদানের আঙুল ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

    গোলটির পর অনেক দর্শকের মনেই দোলা দেয়- ‘এটাই যেন সেই চিরচেনা মেসি। সেই জাদুকর মেসি’।

    দ্বিতীয় গোলের শট নিচ্ছেন মেসি। ছবি: এএফপি

    মেসি দ্বিতীয় গোলের দেখা পান দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১৫ মিনিট পর। তখন তাঁকে দেখা যায় বার্সেলোনার সেই ‘সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার’ রূপে। বক্সের প্রায় ৩০ গজ বাইরে থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জোরালো শট নেন। বলটি সোজা আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের দিকে গেলেও শটের গতি সামলাতে পারেননি। বল ছিটকে বেরিয়ে আসতেই তা লুফে নেন মেসি। আলজেরিয়ার এক ডিফেন্ডারের অসতর্কতার কারণে অনসাইডে থাকা মেসি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল এমন এক কিংবদন্তির গোল, যিনি এখনো পায়ের মতোই মস্তিষ্ক দিয়ে খেলেন।

    তৃতীয় গোলটি যেন প্রথম দুই গোলেরই আরেক রূপ। ততক্ষণে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চাপে বিধ্বস্ত। ফলে ওই সময় বক্সের কিনারায় কেউই আর মেসিকে মার্ক করতে যাননি। উইং থেকে নিকো গনজালেসের বাড়ানো পাসটি মেসির পেছনের দিকে ছিল। কিন্তু ক্লান্ত আলজেরিয়ান ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করার কোনো তাড়াহুড়োই দেখাননি। সে সুযোগে মেসি পা বাড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, অর্ধেক ঘুরে নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণে। সেখানেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

    আগের ম্যাচগুলোতে কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মহাতারকা লিওনেল মেসির কাছে থেকেও একই মানের কিছু দেখার প্রত্যাশা ছিল সবার। ফ্রান্সের হয়ে এম্বাপের জোড়া গোল সামর্থ্যের পুরো ঝলক দেখিয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় গোলটিতে ফুটে ওঠে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয়। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

    প্রথম ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ছবি: এএফপি

    অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন হলান্ড। প্রথমে নিখুঁত এক ক্রসে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়ের হয়ে গোলের সূচনা করেন। এরপর ইরাকের এক ডিফেন্ডারের ঢিলেঢালা ব্যাকপাসে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলরক্ষকের আগে বল দখলে নিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জেতে।

    বিশ্বকাপের এমন এক রাতে যখন একের পর এক তারকা আলো ছড়াচ্ছিলেন, তখন অনেকেরই মনে হচ্ছিল বিশ্ব ফুটবলে নেতৃত্ব বদলের সময় বোধহয় এসে গেছে। মেসি ও রোনালদো এত দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছেন যে, নিজেরাই তাদের উত্তরসূরির উত্থান-পতন দেখেছেন। এবার তারা দুজনই ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন।

    তবে এম্বাপেকে অনেকেই মেসি-রোনালদোর প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে দেখেন। অপরদিকে হলান্ড নিজেকে বিশ্বের সেরা ও নিখুঁত স্ট্রাইকারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

    কিন্তু কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে যখন মেসি মাঠ ছাড়েন এবং দর্শকদের বজ্রধ্বনির মতো করতালিতে বিদায় নেন, তখন তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন- এম্বাপে, হলান্ড কিংবা অন্যরা হয়তো তারকা, কিন্তু ফুটবল নামের এই মহাবিশ্ব এখনো সেই সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়। যে সূর্যের নাম লিওনেল মেসি।

  • জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    জন্মদিনে নিজেকে ‘উপহার’ দিতে পারবেন সালাহ?

    মোহাম্মদ সালাহ আজ জন্মদিনটা কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন?

    ৩৩ বছর কেটে গেল, কেউ কি কথা রাখল?

    নিজের কাছে দেওয়া একটা কথা হয়তো সালাহ নিজেই রাখতে পারেননি। ক্লাব ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই; কিন্তু আজ যখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবেন, একটা বড় অতৃপ্তি ঘোচাতে চাইবেন। বিশ্বকাপে তিনবার খেলেও এখন পর্যন্ত জয় পায়নি মিসর। সালাহর জন্য আজকের ম্যাচটা তাই বড় একটা চ্যালেঞ্জও।

    সালাহর জন্য হয়তো বিশ্বকাপে এটাই বড় কিছু করার শেষ সুযোগ। চার বছর পর বয়স হবে ৩৭। এমনিতেই ক্লাব ক্যারিয়ারে একটা পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। লিভারপুলের হয়ে সবকিছু জেতার পর এই মৌসুমেই বিদায় বলেছেন অ্যানফিল্ডকে। এক অর্থে বেলজিয়ামের ম্যাচটা সালাহর জন্য নতুন একটা শুরুও।

    পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আজ মিসরের প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামও। এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের সোনালি প্রজন্ম অনেক আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি কিছু। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকলেও সেবার বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব পেরোতেই পারেনি।

    মিশরের জার্সিতে সালাহ

    ডি ব্রুইন সেরা সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন আগেই, চোটের সংগ্রাম করতে থাকা লুকাকু এই মৌসুমে মাঠেই নেমেছেন মাত্র সাত ম্যাচে। থিবো কোর্তোয়া ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে এখনো দাপটে খেলছেন, তবে এই আসরের পর বেলজিয়ামের হয়ে বড় কিছুর সুযোগ পাবেন কি না আর বলা কঠিন। তাঁদের জন্যও এই বিশ্বকাপটা কিছু করার শেষ একটা সুযোগ।

    এক অর্থে বেলজিয়ামের ওপর কোনো চাপও নেই এবার। ফেবারিটদের তালিকায় কেউ তাদের ধরছে না, এই বিশ্বকাপে এক অর্থে নতুন একটা শুরু হচ্ছে তাদের।

    সালাহর ওপর খানিকটা চাপ তো আছেই। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে পেলেন চোট। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারলেন না, চোট কাটিয়ে ফিরলেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে সেনেগালের কাছে হেরে তো প্লে–অফ থেকেই বাদ পড়ল মিসর। এবারের বাছাইপর্বে অবশ্য মিসর সহজেই উতরে এসেছে।

    সালাহর জন্য একটু আশা হতে পারে দলের বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের উপস্থিতি। ওমর মারমুশ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এর মধ্যেই নিজেকে চিনিয়েছেন। আছেন ডেনমার্কের দল নরশেলানে খেলা ইব্রাহিম আদেল; আর তাঁদের কোচ হোসেম হাসান, মিসরের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড যাঁর। সালাহর গোল এখন ৬৭, হোসেমের চেয়ে দুই গোল কম। এই বিশ্বকাপে প্রাপ্তির খাতায় এখানেও কিছু যোগ করার আছে সালাহর। যে শুরুটা করতে চাইবেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

  • কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    এ মুহূর্তে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল উন্মাদনায় সারা বিশ্ব। থেমে নেই বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। নিজেদের প্রিয় দল নিয়ে মেতে উঠেছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। প্রিয় দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।

    ফুটবল নিয়ে সেই চিরচেনা ভালোবাসার কথা এবার অকপটে স্বীকার করলেন জেন-জির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি। ছোটবেলা থেকেই লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক তিনি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের ফুটবল প্রেমের কথা শোনালেন এ সংগীতশিল্পী।

    আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল মাঠ এবং মাঠের বাইরের এই চিরচেনা ফুটবল বৈরিতা বা দ্বৈরথ বেশ আনন্দ দেয় বলে জানান এ সংগীতশিল্পী। পারশার মাহজাবীন পূণি বলেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের ম্যাচ মানেই মাঠের বাইরে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে কথার লড়াই, আবার কখনো তা হাতাহাতিতেও রূপ নেয়।

    তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোলাগা প্রসঙ্গে পারশা মাহজাবীন পূর্ণি বলেন, আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি ছোটবেলা থেকে। আমার বড় ভাই দেখতাম যে পতাকা নিয়ে আসত অনেক বড় বড়। তো বাসায় যে রকম পতাকা লাগাত, ওই জায়গা থেকে আর্জেন্টিনার প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা।

  • বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা কে? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন লামিনে ইয়ামাল। তাঁকে ঘিরেই তো ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। বড় তারকা, বড় ফুটবলার, আবার খেলেন আক্রমণভাগে—এমন ফুটবলাদের ১০ নম্বর জার্সিই পরতে দেখা যায় সাধারণত।

    তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা হলেও এবারের বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে উঠছে না ইয়ামালের। বার্সেলোনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরলেও, জাতীয় দলে তাঁর এই বিখ্যাত নম্বরটি না পাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে আছে স্পেন ফুটবলের বহু বছরের এক ঐতিহ্য।

    দলটির নিয়ম অনুযায়ী, যে খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা যত বেশি, জার্সি নম্বর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তত বেশি অগ্রাধিকার পাবেন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতেই মূলত এই নিয়ম মেনে চলা।

    আর সে কারাণেই এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের ১০ নম্বর জার্সিটি থাকছে দানি ওলমোর কাছে। স্পেনের হয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলা ওলমো ইয়ামালের অভিষেকের আগে থেকেই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালে অভিষেক হওয়া ইয়ামালের ঝুলিতে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।
    ওলমো অবশ্য বার্সেলোনাতে ইয়ামালের সতীর্থ, সেখানে ইয়ামালাই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেন। ২০২১ সালে মেসির বিদায়ের পর জার্সিটি প্রথমে আনসু ফাতিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনজুরি আর প্রত্যাশার চাপ মিলিয়ে তিনি বার্সাতে থিতু হতে পারেননি।

    পরে ১০ নম্বর জার্সিটি ইয়ামালকে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে জড়ানোর পর থেকে ইয়ামাল দুর্দান্ত পারফর্মও করছেন। ৪৫ ম্যাচে ২৪টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম পার করেছেন এবার। তবে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকে ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না ইয়ামাল।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দলের ভেতরে জার্সি নম্বর নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই। তরুণ ইয়ামাল দলের নিয়মকানুন খুব ভালোভাবেই বোঝেন, বার্সেলোনায় তাঁর সতীর্থ ওলমোর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো।

    এই ছবিটি পোস্ট করেন ইয়ামালইনস্টাগ্রাম

    দলের সবচেয়ে বড় তারকার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে দলের অভিজ্ঞদের সম্মান জানানো এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    এবারের বিশ্বকাপে নতুন জার্সি নম্বর হিসেবে ইয়মাল বেছে নিয়েছেন ১৯। সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল তাঁর বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করে সবাইকে চমকে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামাল একটি কোলাজ ছবি শেয়ার করেন, যেটিতে আছে মেসির জার্সিও।

    ছবিটির এক পাশে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিশ্বকাপ অভিষেক জার্সির ছবি, অন্য পাশে এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালের জার্সির ছবি। যেহেতু ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না, ইয়ামাল তাই খেলবেন তাঁর ছোটবেলার নায়কের অভিষেক বিশ্বকাপের জার্সি নম্বর পরে।

  • আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আকাশি–সাদার সমর্থকদের মাথায় হয়তো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হবেন লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন।

    খেলাধুলাবিষয়ক আর্জেন্টাইন টিভি চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এত দিন লাওতারো মার্তিনেজই ছিলেন কোচের প্রথম পছন্দ।

    কারণ, হুলিয়ান আলভারেজ পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। সে জন্য হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই কাজে লাগিয়েছেন স্কালোনি। হন্ডুরাস ম্যাচে বল পায়ে দ্যুতিও ছড়ান লাওতারো। এক গোলের সঙ্গে সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকে দিয়েও গোল করান তিনি।

    কিন্তু হুলিয়ান চোট কাটিয়ে ফেরায় আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

    আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন

    তবে এখনি বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত কে হবেন স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন। টিওয়াইসি স্পোর্টস অবশ্য জানিয়েছে, যদি আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যান, তাহলে কোচের পছন্দে এগিয়ে থাকবেন তিনিই।

    যদিও দুজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ ফর্মে। লা লিগার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা আলভারেজ ৪৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

    বিশ্বকাপেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ খেলে করেন চার গোল, সঙ্গে এক গোলে সহায়তাও। যেখানে লাওতারোর নামের পাশে নেই কোনো গোল। একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনিও, সেটি ২০২২ কাতারে। সেই আসরে ৬ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কার ওপর স্কালোনি ভরসা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।

  • স্পেন এবার কতটা ভালো

    স্পেন এবার কতটা ভালো

    সেলিব্রিটিদের অবকাশযাপনের জন্য বিখ্যাত ইবিজা স্পেনে। চোখজুড়ানো আরও অনেক সমুদ্রতট আছে এই দেশে। কিন্তু সেখানে কি হাঙর আছে?

    আচ্ছা, স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে হাঙরের কথা আসছে কেন? আপনার জানা না–ও থাকতে পারে, কেপ ভার্দে নামের পুঁচকে দ্বীপদেশটির ফুটবলের ডাকনাম ‘নীল হাঙর’। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে কি তারা কামড়ে দিতে পারবে স্পেনকে? কেপ ভার্দে হাঙর হলে স্পেন তো নীল তিমিই, তাই না?

    প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের চেয়ে স্পেনের চিন্তাটা বোধ হয় নিজেদের নিয়েই বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, কে জানে! গত তিনটি বিশ্বকাপের কথা মনে করে দেখুন।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে উড়ে যাওয়া। পরের বিশ্বকাপে পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র। ২০২২ বিশ্বকাপে আবার কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। শুরুর ম্যাচে অননুমেয় হলেও একটা ব্যাপার অনুমান করা যায়, স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই অনেক গোল। আবার এই তিন বিশ্বকাপে একবারও স্পেন পার হতে পারেনি শেষ ষোলোর বাধা।

    সেই বাধা টপকানো তো বটেই, এবার স্পেন অনেকের চোখেই অন্যতম ফেবারিট। লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ ইউরো থেকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে স্পেন। জোহানেসবার্গ ফুটবল সিটি স্টেডিয়ামে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যে সোনালি ট্রফিটা এনে দিয়েছিলেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপে, সেই ছবিটা এবার কে আঁকবেন?

    স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল

    যাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি বাজি, সেই লামিনে ইয়ামালকে নিয়েই এবার অনিশ্চয়তা। এপ্রিলে লা লিগার ম্যাচে চোট পাওয়ার পর ইয়ামাল শুরুতে ভেবেছিলেন, তাঁর বিশ্বকাপটাই বোধ হয় শেষ!

    বিশ্বকাপ খেলার তীব্র জেদ থেকেই হয়তো সেরে উঠছেন নির্ধারিত সময়ের আগে। শুরুতে গ্রুপ পর্বে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও দে লা ফুয়েন্তে দুই দিন আগে জানিয়েছেন, ইয়ামাল ফিরতে পারেন প্রথম ম্যাচেই। এর মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন। আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে না হলেও কিছু সময়ের জন্য তাঁকে হয়তো দেখা যাবে।

    চোটের সমস্যা আরও আছে। ডান প্রান্তে ইয়ামাল আর বাঁ প্রান্তে নিকো উইলিয়ামসের রসায়ন ছিল ইউরোতে স্পেনের গোপন ফর্মুলা। উইলিয়ামসও সেরে উঠছেন, সেই সঙ্গে চোট কাটিয়ে ওঠার পথে আরেক ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজ। এই তিনজনকে না পেলে দুই প্রান্তের জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে ফুয়েন্তেকে।

    কেপ ভার্দে এবার প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবে

    অবশ্য স্পেনের যে দলীয় গভীরতা, তাতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মিডফিল্ডেই দেখুন না—রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। যে কারণে মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো বা মার্তিন জুবিমেন্দির মতো খেলোয়াড়দেরও বসে থাকতে হতে পারে বেঞ্চে। বিলবাওয়ের উনাই সিমন, আর্সেনালের দাভিদ রায়া আর বার্সার হোয়ান গার্সিয়া—গোলকিপার নিয়েও ফুয়েন্তের মধুর সমস্যা। রক্ষণে পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ারা জোগাচ্ছেন নির্ভরতা।

    এই স্পেন দলের সামনে তো ‘পুঁচকে’ কেপ ভার্দের উড়ে যাওয়ার কথা। পাঁচ লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে এসেছে ক্যামেরুনের মতো মহাদেশীয় পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে। প্রবাসী ফুটবলারদের আশীর্বাদে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের।

    পর্তুগিজ লিগে খেলা দাইলান লিভ্রামেন্তো সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু স্পেনের তারায় তারায় খচিত আকাশের সঙ্গে তুলনায় কেপ ভার্দে অনেক দূরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা কোনো তারাপুঞ্জ। র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় দলের সঙ্গে ৬৭তম দলের কোনো তুলনা হয়, আপনিই বলুন!

  • আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিরোপা ছুঁয়ে দেখেনি ২৪ বছর হলো দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ব্রাজিলকে আবারও শিরোপার দেখতে চান দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার কাকা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই আস্থা রাখছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার।

    ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাকা বলেন, বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের জন্য আনচেলত্তিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও ফুটবল সংস্কৃতি সবসময়ই দলটিকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে রাখে বলে মনে করেন তিনি।

    কাকা বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হয়তো ব্রাজিল শীর্ষ তিন ফেভারিটের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এটি এখনও একটি শক্তিশালী দল। আর কার্লো তো কার্লোই।’

    কাকার বিশ্বাস, অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের নেতৃত্বে সেলেসাওরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই সাবেক তারকা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আবেগ, চাপ এবং প্রত্যাশা আনচেলত্তি খুব ভালোভাবেই বোঝেন। তাই ব্রাজিল যদি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দিতে পারে, সেটি পুরো দেশের জন্যই হবে বিশেষ আনন্দের বিষয়।’

    ২০০২ সালের পর আর শিরোপার দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই সময়ের মধ্যে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে দলটি। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয়ের গ্লানি এখনও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি। সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচের হাত ধরে ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জয়ের পথে ফিরবে বলে আশা সমর্থকদের।

    তবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি ব্রাজিলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও স্বীকার করেছেন, দলকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং সামনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবু দলের ওপর আশা হারাচ্ছেন না কাকা। তার মতে, আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর দক্ষতা এবং বড় মঞ্চে সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাস ব্রাজিলকে নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিংবদন্তি এই ফুটবলারের বিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনায় সেলেসাওরা আবারও বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

  • আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে দলের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর—চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

    কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে কানসাসের কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে সোমবার অনুশীলন করে আর্জেন্টিনা। সেখানে পারেদেস নিজের ফিটনেস যাচাই করতে একটি অনুশীলন ম্যাচেও অংশ নেন, যা তার সম্পূর্ণ ফেরা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

    গত মাসে তিনি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন এবং তখন থেকেই পুনর্বাসনে ছিলেন।

    অন্যদিকে নিকোলাস তালিয়াফিকো হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে আলাদা অনুশীলন করছিলেন। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, তিনি এখন জিম ও ফিজিও সেশনের মাধ্যমে উন্নতি করছেন এবং তার অগ্রগতি সন্তোষজনক।

    তবে তালিয়াফিকোর ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষার পর। এরপরই কোচ স্কালোনি তাকে দলে রাখবেন কি না তা নির্ধারণ করবেন।

    এদিকে ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ইনজুরি আপডেটও আজ প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যেই গোড়ালির চোট কাটিয়ে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরেছেন।

    বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চোট পাওয়া খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।

  • আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী বুধবার ভোরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। সে ম্যাচকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কানসাস সিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। আলজেরিয়া ম্যাচকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক—যাদের উপস্থিতিতে নীল-সাদা রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের রেস্তোরাঁপল্লীতে একটি জনপ্রিয় বিয়ার ব্র্যান্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বড় ধরনের সমর্থক সমাবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আর্জেন্টাইনদের পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে আসা সমর্থকরাও এতে অংশ নেন। শুধু আর্জেন্টিনার ভক্তরাই নন, লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি ভালোবাসা থেকে অন্যান্য দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও যোগ দেন এই উৎসবে।

    সমাবেশস্থলের কাছাকাছি থাকা সল মন্টেসরি স্কুলের বেড়া সাজানো হয় আকাশি-সাদা পতাকা, তিনটি বিশ্বকাপজয়ী তারকার প্রতীক, বিভিন্ন স্লোগান, আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলোর চিহ্ন, দেশের বিভিন্ন শহরের নাম এবং মেসি-ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি দিয়ে। এতে পুরো এলাকাজুড়েই তৈরি হয় এক উৎসবমুখর আবহ।

    বিশেষ আকর্ষণ ছিল আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি সমর্থক তুলার বিখ্যাত ঢোল। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারে বিশ্বের সেরা সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তুলা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তাঁর পরিবারের অনুরোধে সেই ঐতিহাসিক ঢোলটি কানসাসে নিয়ে আসেন গিয়ের্মো। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালের পর থেকে এই ঢোল প্রতিটি বিশ্বকাপে গেছে। আমরা এটি বাজাচ্ছি। সব সমর্থককে একত্র করছি।’

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উপস্থিতি। ম্যাচের আগে আরও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন কানসাসে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসই জানিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে প্রত্যাশা ও আবেগের কমতি কতখানি।

  • যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    ফ্যাশন দুনিয়া সব সময়ই ফুটবলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ধার করেছে। তবে ২০২৬ সালের চিত্রটা একটু ভিন্ন—এবার নিয়ন্ত্রণটা চলে গেছে ফুটবলের হাতেই। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাচ্,ছে এই মেগা ইভেন্টটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করছে না, বরং ফ্যাশন দুনিয়ার গতিপথই বদলে দিচ্ছে।

    অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্ট্রিটওয়্যার এবং বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট—সবার ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা এখন ফুটবল। পোশাকের ডিজাইন, স্টাইলিং ও বিপণন—সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।

    এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক ‘জার্সি’। এক সময় যা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন শো, ইনফ্লুয়েন্সারদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং বড় বড় ফ্যাশন কোলাবোরেশনে।

    ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে।

    পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘লোয়েভে’ (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘বোগি মিলানো’ (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া।

    ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র‍্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে।

    একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাপ’ (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে ‘আর্বান আউটফিটার্স’-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে।

    স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে।

    স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

    জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

    এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ।

    একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা।

    এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।

  • যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    নারী ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল স্পেনের জন্য স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দেশটি। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়কে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে একটি চুম্বন—যে চুম্বন শুধু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করেনি, বরং স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে এক অভূতপূর্ব সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

    সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্র ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’। কী আছে এই তথ্যচিত্রে

    বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ থেকে বিতর্কের ঝড়
    ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দিচ্ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। সেই সময় তিনি স্পেনের তারকা ফুটবলার হেনি হেরমোসোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনাটি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তেই সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইনস্টাগ্রাম লাইভে হেনি হেরমোসো জানান, ওই চুম্বন তাঁর অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তিনি সেটি পছন্দ করেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহির দাবি।

    ‘সে আকাবো’—এক আন্দোলনের জন্ম
    স্প্যানিশ ভাষায় ‘সে আকাবো’ অর্থ—‘এবার শেষ’ বা ‘আর নয়’। স্পেন দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস প্রথম এই স্লোগান ব্যবহার করেন। তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা ঘোষণা দেন, ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে তাঁরা জাতীয় দলে ফিরবেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ‘সে আকাবো’ হ্যাশট্যাগ। কেবল ফুটবলার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ, জাতিসংঘ, স্পেন সরকার এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

    একটি চুম্বনের ঘটনা ধীরে ধীরে নারীদের প্রতি বৈষম্য, হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

    ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

    কী দেখায় তথ্যচিত্রটি?
    তথ্যচিত্রটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেনি হেরমোসো, অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস, আইতানা বোনমাতি, ওলগা কারমোনা, ইভানা আন্দ্রেস প্রমুখ। তথ্যচিত্রে শুধু বিতর্ক নয়, বিশ্বকাপ জয়ের আগের অস্থির সময়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব, বিশ্বকাপ অভিযানের সংগ্রাম এবং পরবর্তী আন্দোলনের নেপথ্যের গল্পও উঠে এসেছে। তথ্যচিত্রে ফুটবলারদের অনেকেই বলেছেন, তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের আনন্দ শেষ পর্যন্ত অন্যরা ছিনিয়ে নিয়েছিল।
    দলের অধিনায়ক ইভানা আন্দ্রেস বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করেছি, এত ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্যের গল্পটা অন্য কেউ দখল করে নিল।’

    পরিচালকের ভাষ্য
    তথ্যচিত্রটির পরিচালক হোন্না পারডোস বলেছেন, খেলোয়াড়েরা এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে বলেননি। তাঁর মতে, এটি শুধু ফুটবলের গল্প নয় বরং এমন এক সময়ের দলিল, যা স্পেনের ক্রীড়া ও সামাজিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

    রুবিয়ালেসের পতন
    চুম্বন-কাণ্ডের পর রুবিয়ালেস প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।
    ঘটনাকে ঘিরে আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন তাঁর মা স্থানীয় একটি গির্জায় অবস্থান নিয়ে অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক চাপের মুখে রুবিয়ালেস তাঁর পদ হারান এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও নিষিদ্ধ হন।

    শুধু ফুটবল নয়, সমাজের গল্প
    তথ্যচিত্রটি মূলত একটি ফুটবল নিয়ে হলেও এর পরিধি ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
    এটি এমন এক ঘটনার গল্প, যেখানে বিশ্বকাপজয়ী নারীরা নিজেদের সাফল্যের জন্য নয়, বরং নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যও লড়াই করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন কীভাবে গোটা দেশের ক্ষমতার কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, সেই ইতিহাসই তুলে ধরবে নেটফ্লিক্সের এই তথ্যচিত্র।

  • ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ফুটবলে যা কিছু জেতার আছে তার প্রায় সবই জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শুধু এক বিশ্বকাপই জেতা হয়নি। পর্তুগালের অধিনায়ক এখন ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পা রাখছেন।

    তবে এর আগে প্রশ্ন উঠছে তার ফিটনেস নিয়ে। সবশেষ ২ ম্যাচে কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তবে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা সেই সংশয়কে পাত্তাই দেননি। চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের কথা বলে নিজেই জবাব দিয়েছেন। রোনালদো বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে? আমি ভালো আছি। আপনি কি ম্যাচগুলো দেখেননি?’

    ৪০ পেরিয়েও রোনালদোর গোল করার ধার কমেনি। ২০২৫-২৬ সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ১৬১টি শট নিয়ে ২৮ গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

    এই সাফল্য ও গতিকে সঙ্গে নিয়ে এখন বিশ্বকাপে পর্তুগালকে এগিয়ে নিতে চান রোনালদো। দলের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন।

    রোনালদো বলেছেন, ‘প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, তবে ক্লান্তিকরও ছিল। কারণ আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আসল বিষয় হলো ১৭ তারিখে, প্রথম ম্যাচে যখন বল মাঠে গড়াতে শুরু করবে এবং চাপ সত্যিকার অর্থে বাড়তে থাকবে, তখনই আসল চ্যাম্পিয়নরা বেরিয়ে আসবে।’

  • বর আর্জেন্টিনার ভক্ত, কনে ব্রাজিল— বিয়ে পন্ড!

    বর আর্জেন্টিনার ভক্ত, কনে ব্রাজিল— বিয়ে পন্ড!

    বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এই হাওয়া এসে লেগেছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের গায়েও। ফুটবলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে মজার খুনসুঁটি। হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও দুদলের সমর্থকদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের।

    আর এসব কিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘পাড়ার বিশ্বকাপ’। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পাড়ার মানুষের সম্পর্ক, প্রেম, দ্বন্দ্ব ও সামাজিক বাস্তবতাকে হাস্যরস ও আবেগের মিশেলে এতে তুলে ধরা হয়েছে।

    নাটকটি রচনা করেছেন আহসান আলমগীর এবং পরিচালনা করেছেন আল হাজেন।

    নাটকটিতে দেখা যাবে, মহল্লার তরুণ আজিজ ও মানজিলের বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। তবে তাদের সম্পর্ক ও বিয়ে ভেঙে যায় ফুটবল নিয়ে মতবিরোধে। আজিজ আর্জেন্টিনার সমর্থক, আর মানজিল ব্রাজিলের ভক্ত। এই দ্বন্দ্বই ধীরে ধীরে পুরো পাড়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে।

    এরপর শুরু হয় পাড়াভিত্তিক ‘বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট’। সেখানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও পর্তুগাল টিম গঠন করে মহল্লার যুবকরা। খেলা ছাড়িয়ে এতে জড়িয়ে পড়ে প্রেম, প্রতিশোধ, কুসংস্কার এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন।

    নাটকের গল্পে আরও দেখা যাবে পতাকা বানানো, সেলুনে জার্সি নিয়ে মারামারি, রেফারির দুর্নীতি, এমনকি ফুটবল উন্মাদনায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও। তবে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভুলে সবাই একত্রিত হয় এবং ফুটবলকে আনন্দের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার বার্তা দেয়।

    ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে প্রতিদিন রাত ৯টায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে।

    এতে অভিনয় করেছেন অহনা রহমান, রাশেদ সীমান্ত, সাব্বির অর্ণব, শারমিন শর্মী, আব্দুল্লাহ রানা, সাদ্দাম মাল, আশরাফুল আলম সোহাগ, মুসকান শিকদার, জাভেদ গাজী, শায়লা, তানভীর মাসুদ, ফাতেমা হীরা প্রমুখ।

  • বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হলো বিতর্ক। আর এ বিতর্কের জন্ম দিলেন ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়ো। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকোর মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।

    ৪৪ বছর বয়সী উইল্টন সাম্পাইয়ো আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত নাম। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফিফা রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাকে। ২০০৯ সালে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন। আর ২০১৩ সালে পান ফিফা ব্যাজ।

    এবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ পরিচালনার জন্য সাম্পাইয়োকে দায়িত্ব দিয়েছিল ফিফা। গত দুটি বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া কোপা আমেরিকাসহ বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কাতারে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালও পরিচালনা করেছেন তিনি। সেই ম্যাচে তাঁর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বেশি কার্ড দেখানোর অভিযোগ রয়েছে সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে। বিতর্ক প্রায় নিত্যসঙ্গী তার।

    গত রাতের ম্যাচে সাম্পাইয়ো প্রথম লাল কার্ড দেখান ৬৫ মিনিটে। সেটি নিয়ে যদিও প্রশ্ন ওঠেনি। মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিথোলে। পরে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

    এরপর ৮৫ মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বু জোয়ানে মেক্সিকোর আরভারাল্দোকে ধাক্কা মারেন। রেফারি প্রথমে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এর পর ভিএআর-এর ডাকে মাঠের ধারে রিপ্লে দেখতে যান। রিপ্লে দেখার পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। থেম্বু জোয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার দলের সদস্য আরও একজন কমে নয়জনে দাঁড়ায়।

    ম্যাচের শেষ লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্টেস। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাউকে ফেলে দেন।

    ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে এতজন লাল কার্ড দেখলেন।

    লাল কার্ড দেখানো ছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে সাম্পাইয়োর কড়া চাহনি এবং কঠিন অভিব্যক্তি। ম্যাচ কিছুটা গড়াতেই তার কিছু ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাকে নিয়ে অনেকেই মিম বানিয়েছেন, করছেন ট্রোল।

  • বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপজয়ী নায়ক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আবারও আলোচনায়। এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং আগেভাগেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার করা এক সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে তৈরি হয়েছে রোমাঞ্চ। অ্যাস্টন ভিলার এই ৩৩ বছর বয়সি গোলরক্ষকের দাবি, এই বিশ্বকাপেও শিরোপা যাবে আর্জেন্টিনার ঘরেই, আর ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে।

    সম্প্রতি ক্লাবের এক স্পন্সর ইভেন্টে অংশ নিয়ে মার্টিনেজ পুরো টুর্নামেন্টের একটি সম্ভাব্য নকআউট চিত্রও দাঁড় করান। তার অনুমান অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আলাদা থাকলেও ধাপে ধাপে এগিয়ে দুই লাতিন জায়ান্ট ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা পৌঁছে যাবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে। সেই ম্যাচটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের, যা শেষ পর্যন্ত গড়াবে টাইব্রেকারে—আর সেখানেই নাকি জয় ছিনিয়ে নেবে লিওনেল মেসির দল।

    কাতার বিশ্বকাপের আগেও এমনই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মার্টিনেজ, যা পরে বাস্তব রূপ নেয়। আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে তার অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবার তার নতুন পূর্বাভাসও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ৪৮ দলের আসন্ন বিশ্বকাপে এখনো খুব অল্প কিছু ম্যাচই শেষ হয়েছে। তবে মার্টিনেজ আগেভাগেই নিজের ‘কাল্পনিক কোয়ার্টার ফাইনাল’ লাইনআপ সাজিয়ে ফেলেছেন। তার তালিকায় শেষ আটে জায়গা পেয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো।

    তবে তার পূর্বাভাসে সবচেয়ে চমক জাগানো দিক হলো স্পেনের অনুপস্থিতি। অনেকের মতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হলেও মার্টিনেজ মনে করেন, স্পেন শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে বিদায় নেবে।

    তার করা ম্যাচ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফ্রান্স জয় পাবে নরওয়ের বিপক্ষে, জার্মানি হারাবে তুরস্ককে, নেদারল্যান্ডস জিতবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ব্রাজিল এগিয়ে যাবে জাপানকে হারিয়ে এবং মেক্সিকো পরাজিত করবে দক্ষিণ কোরিয়াকে। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড হারাবে কলম্বিয়াকে। এরপর আর্জেন্টিনা হারাবে ফ্রান্সকে, জার্মানি জিতবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ব্রাজিল বিদায় করবে মেক্সিকোকে।

    সেমিফাইনালে গিয়ে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখছেন মার্টিনেজ। তার ধারণা, ১৯৮৬ সালের স্মৃতির মতো এবারও আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারাবে, তবে ম্যাচটি নিষ্পত্তি হবে টাইব্রেকারে। অন্য সেমিফাইনালে ব্রাজিল হারাবে জার্মানিকে।

    সবশেষে তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা—যেমনটা হয়েছিল কোপা আমেরিকার সেই স্মরণীয় ফাইনালে।

  • বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে খেলোয়াড়দের বোনাস ও পরিবারের সদস্যদের জন্য টিকিট বরাদ্দ নিয়ে ফ্রান্স এবং ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) মধ্যে চলমান বিরোধের অবসান হয়েছে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

    উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শুরু থেকেই পারফরম্যান্স বোনাস এবং খেলোয়াড়প্রতি টিকিট বরাদ্দ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সমাধান না হওয়ায় এমবাপ্পে ও আরও তিনজন খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিত্বে ফ্রান্স দলের পক্ষ থেকে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালোর কাছে একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    ফরাসি দৈনিক লে’কিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের বোনাস সংক্রান্ত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন দিয়ালো। যদিও বোনাসের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে তা গত বিশ্বকাপের তুলনায় কম হবে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ায় ফ্রান্সের প্রতিটি খেলোয়াড় ৫ লাখ ইউরো করে বোনাস পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৪ লাখ ইউরো করে পুরস্কার দেয় এফএফএফ।

    লে’কিপ আরও জানিয়েছে, ২৬ সদস্যের দলে থাকা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনেকেই তাঁদের প্রাপ্ত বোনাসের পুরোটা বা একটি অংশ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কিংবা কোচিং স্টাফের সদস্যদের মধ্যে দান করে থাকেন।

    টিকিট বরাদ্দের বিষয়েও সমাধান এসেছে। শুরুতে ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে ফেডারেশন ঘোষণা দিয়েছিল, প্রতিটি খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে পরিবারের সদস্যদের জন্য দুটি করে বিনামূল্যের টিকিট পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে আরও ছয়টি টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে। গ্রুপ পর্বে এসব টিকিটের মূল্য ৫০০ ইউরো থেকে শুরু হয়ে ফাইনালের ক্ষেত্রে ৭ হাজার ইউরোরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    ফেডারেশনের এই প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন খেলোয়াড়রা। পরে আলোচনার পর সভাপতি দিয়ালো প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য চারটি করে বিনামূল্যের টিকিট বরাদ্দে সম্মত হন। অতিরিক্ত টিকিট কেনার সুযোগও বহাল থাকছে। তবে এই সুবিধা ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় কিছুটা কম। আগামী ১৭ জুন নিউজার্সি স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ফ্রান্স। ‘আই’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ নরওয়ে ও ইরাক।

  • দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    পর্দা উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপে মুখোমুখি হয় সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে ম্যাচে দাপট দেখিয়ে ৯ জনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে মেক্সিকো।

    মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩৯ দিনের এই মহাযজ্ঞ।

    ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান শিল্পী শাকিরা ও বার্না বয়। এছাড়া জে বালভিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা টাইলাও অংশ নেন।

    এদিন টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি আসে মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিয়োনেসের পা থেকে। এই ফরোয়ার্ড ৯ মিনিটে গোলটি করেছেন। এই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

    বিরতির পর ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মাথায় মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে আটকাতে গিয়ে ফাউল করার শাস্তি পেলেন সিথোলে।

    খেলার ৬৬ মিনিটে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন গিলবার্তো মোরা। পরের মিনিটেই মেক্সিকোকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিলেন রাউল হিমিনেজ।

    ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আরেকটি লাল কার্ড দেখে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার আক্রমণ করতে গিয়ে মেক্সিকোর খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে।

    ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে পর মেক্সিকোর সেসার মন্তেস লাল কার্ড দেখেন। তবে জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি স্বাগতিকদের।

  • চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

    চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ফেরার দুর্দান্ত গল্প লিখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে এশিয়ার দলটি।

    ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দর্শকদের সামনে রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দেয় দুই দল।

    ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। লম্বা থ্রো থেকে আসা বলকে দারুণ এক হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন লাডিস্লাভ ক্রেইচি। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।

    তবে বেশিক্ষণ সেই আনন্দ ধরে রাখতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। মাত্র আট মিনিট পর সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। অসাধারণ স্থিরতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেদ করে বল জালে পাঠান কোরিয়ার মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বিওম। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তার নেওয়া শট গোললাইন অতিক্রম করলে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ কোরিয়া।

    ৭৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র। ফ্রি-কিক থেকে টমাস সউচেক বল জালে জড়ান এবং সতীর্থরা উদযাপনও শুরু করেন। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দিলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুনঃপ্রদর্শনীতে দেখা যায় সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

    এই স্বস্তির সুযোগ কাজে লাগায় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত আক্রমণ গড়ে তোলেন হোয়াং। তার নিখুঁত ক্রস থেকে হিউন-গিউ ওহ কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান। গোলরক্ষকের হাতে লেগেও বল দূরের কোণে ঢুকে পড়ে এবং ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।

    শেষ মুহূর্তে ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হলেও সমতাসূচক গোল আদায় করতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে।

    এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক মেক্সিকোর সঙ্গে সমানতালে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দক্ষিণ কোরিয়া।

  • দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক বলা জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারের বিশ্বকাপ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

    ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির সব ম্যাচের ফলাফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল পল দ্য অক্টোপাস।বিশ্বজুড়ে তখন তিনি ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।

    এরপর জোয়াকিম ক্লেমেন্ট একটি জটিল পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে পলকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যা ২০১৪ সাল থেকে শতভাগ ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের বিজয়ী সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছে।

    এই মডেল অনুসারে, এবারের বিশ্বকাপে ট্রফি জিততে পারলে নেদারল্যান্ডস হবে ক্লেমেন্টের পরিসংখ্যানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর চতুর্থ সাফল্য।

    শুধু বিজয়ী দল নয়, ৪৮ দলের পুরো বিশ্বকাপের গতিপথও তার মডেল বর্ণনা করছে।

    এতে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জাপানের একটি চমকপ্রদ জয় এবং একই পর্যায়ে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিদায়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাবে এবং ২০০৬ সালের দুই দশক পর পর্তুগাল আবারও ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেবে।

    ক্লেমেন্ট, যিনি নিজেকে একজন নিরাশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তার কাজের উদ্দেশ্য কখনোই হতাশা এড়ানো বা জুয়া খেলে অর্থ উপার্জন করা ছিল না।

    বরং, তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন যে, ফলাফল ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা করাটা কতটা অযৌক্তিক হতে পারে।

    তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার পর, যখন তার নিজ দেশ জার্মানি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল, ক্লেমেন্ট ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে হিসাবটি পুনরাবৃত্তি করলে প্রমাণিত হবে যে পুরোটাই ছিল নিছক কাকতালীয়।

    কিন্তু ২০১৮ সালে ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও তিনি আবারও সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছিলেন।

  • গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী

    গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী

    সেই অর্থনীতিবিদ জানালেন এবারে বিজয়ী নেদারল্যান্ডস!

    গত তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক চ্যাম্পিয়ন ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় আসা এক জার্মান অর্থনীতিবিদ এবারও তার নতুন পূর্বাভাস জানিয়েছেন। তার দাবি, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারে নেদারল্যান্ডস।

    তিন বিশ্বকাপে টানা সঠিক পূর্বাভাস

    প্যানমিউর লিবারিয়াম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট ২০১৪ সালে একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল তৈরি করেন, মূলত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী করার প্রবণতা নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য।

    কিন্তু সেই মডেলই পরে বিস্ময়করভাবে সঠিক প্রমাণিত হয়—

    ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুরুটা ছিল মজা করে, কিন্তু টানা তিনবার সঠিক হওয়া সত্যিই অপ্রত্যাশিত।

    কীভাবে কাজ করে তার মডেল

    তার বিশ্লেষণ মডেলে কয়েকটি মূল ফ্যাক্টর ধরা হয়—

    জনসংখ্যা ও খেলোয়াড় তৈরির সম্ভাবনা

    ফুটবলের জনপ্রিয়তা

    গড় আবহাওয়া (প্রায় ১৪° সেলসিয়াস আদর্শ)

    মাথাপিছু জিডিপি

    ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও সাম্প্রতিক ফর্ম

    তার মতে, এগুলোই দলগুলোর পারফরম্যান্সকে বড়ভাবে প্রভাবিত করে।

    কেন এবার এগিয়ে নেদারল্যান্ডস

    তার বিশ্লেষণে নেদারল্যান্ডস বেশ কয়েকটি কারণে এগিয়ে আছে—

    জনসংখ্যা: প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ

    ফুটবল: অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা

    গড় তাপমাত্রা: ১০.৫° সেলসিয়াস

    মাথাপিছু জিডিপি: প্রায় ৭৭ হাজার ডলার

    ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৭

    সাম্প্রতিক ফর্ম: ২০২৫ সালের মার্চ থেকে অপরাজিত

    এই ভিত্তিতেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হতে পারে পর্তুগাল।

    ভাগ্যই নির্ধারক

    ক্লেমেন্টের মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ভাগ্যের ভূমিকা অনেক বড়। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ শতাংশ ফলই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।

    তিনি বলেন, শক্তির পার্থক্য খুব কম হলে সামান্য ভাগ্যই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।

    বাজির বাজারে ভিন্ন চিত্র

    যদিও তার মডেলে নেদারল্যান্ডস শীর্ষে, বাজিকরদের তালিকায় তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। সম্ভাব্য ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রয়েছে—

    স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল।

    পলিমার্কেটের পূর্বাভাসেও নেদারল্যান্ডসের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশের মতো।

    নেদারল্যান্ডসের গ্রুপ সূচি

    গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস খেলবে জাপান, সুইডেন ও তিউনিশিয়ার বিপক্ষে।

    ম্যাচ সূচি—

    ১৪ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান

    ২০ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন

    ২৫ জুন: তিউনিসিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস

  • দেশি তারকাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়

    দেশি তারকাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়

    চার বছর পরপর যখন বিশ্বের সেরা দলগুলো মাঠে নামে, তখন শুধু অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নয়, ফুটবলপ্রেমী পুরো পৃথিবীই যেন এক উৎসবে মেতে ওঠে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বরং অনেক সময় মনে হয়, বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্বের বড় বড় দেশের সঙ্গে পাল্লা দেয় বাংলাদেশ। খেলার এ সময়টায় দেশের শহর থেকে গ্রাম– সবখানেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ছাদে ছাদে উড়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন কিংবা ফ্রান্সের পতাকা। চায়ের দোকানের আড্ডা জমে ওঠে প্রিয় দল ও প্রিয় খেলোয়াড়কে ঘিরে।

    সামাজিক মাধ্যমে চলে তর্ক-বিতর্ক, হাসি-ঠাট্টা আর ভবিষ্যদ্বাণী। এই উন্মাদনা থেকে দূরে থাকেন না দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। অভিনয়, গান কিংবা চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিশ্বকাপের সময় তাদের মনও পড়ে থাকে ফুটবল মাঠে।

    দেশের শোবিজ জগতের এই সময়ের শীর্ষ তারকা শাকিব খান। সবচেয়ে বেশি ফ্যানবেজ তাঁরই। তাই বিশ্বকাপের মাঠে শাকিব খান কোন দলের তা জানতে উদগ্রীব ভক্তরা। কিন্তু নায়ক তো কাউকে কষ্ট দিতে চান না। তাই নিজের সমর্থন নিয়ে কিছুটা রহস্যই রেখেছেন তিনি। অতীতে তাকালে দেখা যায় শাকিব খানের ২০১৪ সালের বক্তব্যে ব্রাজিল, ২০১৮ সালের বক্তব্যে আর্জেন্টিনা, ২০২১ সালের বক্তব্য ছিল আর্জেন্টিনার দিকে। ২০২২ সালের বক্তব্যে কিছুটা রহস্য ছিল। সে রহস্য রয়েছে এখনও। তাই ২০২৬-এর বিশ্বকাপে শাকিব খান কোন দলের সমর্থন দেন– তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে অবশ্য বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা ও চলচ্চিত্র তারকা সিয়াম আহমেদ বেশ খোলামেলা। তাঁর পছন্দের দল স্পেন। বাংলাদেশে যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যাই বেশি, সেখানে সিয়াম ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ ফুটবলের নিখুঁত পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ছন্দময় আক্রমণভাগ তাঁকে টানে। সিয়ামের মতে, স্পেনের খেলার মধ্যে এক ধরনের নান্দনিকতা রয়েছে, যা অন্য অনেক দলের চেয়ে আলাদা।

    তরুণ তারকার বাইরে শোবিজের বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয় দল সম্পর্কে জানতে। তিনি একবাক্যে বলেন– তাঁর পছন্দের দল ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের খেলা দেখে বড় হওয়া এ অভিনেতার কাছে ফুটবলশিল্পের এক অনন্য প্রতীক হচ্ছে ব্রাজিল। তিনি মনে করেন, ব্রাজিলের খেলার মধ্যে এমন এক সৌন্দর্য রয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের সহজেই মুগ্ধ করে। বিশ্বকাপ এলেই তাঁর প্রত্যাশা থাকে প্রিয় দলকে ঘিরে। আর্জেন্টিনার খেলাও ভালো লাগে তাঁর, কিন্তু হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের দল ব্রাজিলই।

    অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর কাছে ব্রাজিল মানেই ছন্দ, সৌন্দর্য আর সৃজনশীলতা। তিনি মনে করেন, ব্রাজিলের খেলার ধরন অন্য অনেক দলের চেয়ে আলাদা। সাম্বা ফুটবলের সেই ঐতিহ্য এখনও তাঁকে মুগ্ধ করে। তাই বিশ্বকাপ এলেই তাঁর সমর্থন থাকে ব্রাজিলের জন্য।

    বিশ্বকাপে বরাবরই আর্জেন্টিনার সমর্থন করেন মেহজাবীন চৌধুরী। অন্য দলের সমর্থকের প্রতিও রয়েছে তাঁর সম্মান। মেহজাবীন বলেন, ‘খেলা সবসময় সুন্দর কিছু বয়ে আনে। খেলা উপভোগ করতে হয়। আমিও তাই করেছি। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। মেসির জন্যই আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। গত বিশ্বকাপেও এই দলই সমর্থন করেছি। আমার একটাই কথা, একেকজন একেক দল সমর্থন করতেই পারেন। খেলা নিয়ে একজন অপরজনকে আঘাত করে কিছু বলা ঠিক নয়।’

    দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর হৃদয়েও জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ছোটবেলা থেকেই দলটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা। সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা কমেনি, বরং আরও গভীর হয়েছে। মজার বিষয় হলো, তাঁর ছেলেও বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক। ফলে বিশ্বকাপের সময় তাদের পরিবারে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আলাদা এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

    অভিনেতা আজিজুল হাকিমের গল্পটা একটু ভিন্ন। কারণ তিনি শুধু দর্শক নন, একসময় মাঠের খেলোয়াড়ও ছিলেন। ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জার্মান ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। জার্মানির শৃঙ্খলা, কৌশল ও দলগত সমন্বয় তাঁকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানিকে দেখার জন্য এখনও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন এ অভিনেতা।

    সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের সমর্থন ব্রাজিলের প্রতি। অন্যদিকে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপের সময় প্রিয় দলের জয় দেখতে চান তিনি। ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনার সাফল্য তাঁকে আনন্দ দেয় বলেই জানান।

    আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশীদ মিথিলা। আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর ভালোবাসার পেছনে রয়েছে ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রভাব। মিথিলা মনে করেন, আর্জেন্টিনা শুধু ফলাফলের জন্য নয়, তাদের খেলাধুলার সৌন্দর্যের কারণেও সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

    অভিনেত্রী তানজিকা আমিনের কাছেও আর্জেন্টিনা মানে আবেগের নাম। ফুটবল নিয়ে আলোচনা বা তর্ক-বিতর্কে অংশ নিতে ভালোবাসেন তিনি। তবে দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কখনও দ্বিধায় ভোগেননি। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক তিনি। বিশ্বকাপ এলেই তাঁর প্রত্যাশা থাকে, প্রিয় দল যেন নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে পারে।

    অভিনেতা সজলও ফুটবলের বড় ভক্ত। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলও নিয়মিত অনুসরণ করেন তিনি। তাঁর প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। ছোটবেলায় ম্যারাডোনার খেলা দেখে যে ভালোবাসার শুরু, তা এখনও অটুট রয়েছে। বিশ্বকাপের সময় পুরোনো স্মৃতিগুলো আরও বেশি মনে পড়ে বলে জানান তিনি।

    অভিনেত্রী নাজনীন নীহাও আর্জেন্টিনার ভক্ত। ফুটবল বিশ্লেষণ না করলেও মেসির খেলা তাঁকে মুগ্ধ করে। সেই ভালো লাগা থেকেই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর সমর্থন। বিশ্বকাপের আবহ শুরু হলেই প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করেন তিনি।

    চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম সমর্থন করেন ব্রাজিলকে। ফুটবলের কিংবদন্তি পেলের দেশ হিসেবে ব্রাজিলের প্রতি তাঁর আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করেন। বিশ্বকাপে দলটি ভালো করলে তাঁর আনন্দও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

    এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরি নিজেকে লিওনেল মেসির একজন বড় ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। তার ভাষায়, তিনি মেসির ‘ক্রাশ’। তাই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর সমর্থনও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। বিশ্বকাপের সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা দেখার পরিকল্পনা থাকে তাঁর। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আরও একটি স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করবে– এমন প্রত্যাশাই তাঁর।

    শুধু এ কয়েকজন নন, দেশের শোবিজ অঙ্গনের আরও অনেক তারকা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে থাকেন। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের তালিকায় রয়েছেন– মাহিয়া মাহি, দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, নাদিয়া আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, সালমা খানম নাদিয়া, নিরব, ইমন, কচি খন্দকার, কিশোর, কর্ণিয়া এবং ঝিলিক।

    অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে আছেন– অপু বিশ্বাস, বাপ্পি চৌধুরী, মিশা সওদাগর, আনিসুর রহমান মিলন, বাপ্পা মজুমদার, কোনাল, পড়শী এবং সামিরা খান মাহির মতো জনপ্রিয় তারকারা।

  • বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    ইরানের জাতীয় ফুটবল দল আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে মেক্সিকো পৌঁছেছে। বর্তমানে ইরানি দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলনরত। ইরানের তিনটি ম্যাচের সবগুলোই যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা এখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। বরং, প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন ইরানি দল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহর উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছিল, ইরান দলকে কেবল ম্যাচের দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হবে এবং একই দিনে আবার দেশটি ত্যাগ করতে হবে। এতে দলটির লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত পরিকল্পনা এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

    তবে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র সেই দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইরানকে ম্যাচের দিনই এসে আবার একই দিনে চলে যেতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, ‘এই বক্তব্যগুলো সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) উদারতার কারণে ইরানের দল তাদের ম্যাচের আগের দিনই পৌঁছাতে পারবে।’

    অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ গত সোমবার তিজুয়ানায় রয়টার্সকে দোভাষীর মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কিছু স্টাফের ভিসা দেওয়া হয়নি। তবে যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো রাতভর অবস্থানে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। তিনি বলেন, ‘তাদের ভিসায় নির্দিষ্ট করে কোনো সময় উল্লেখ নেই যে তাদের কখন বেরিয়ে যেতে হবে।’

    দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলের সব খেলোয়াড়কে ভিসা প্রদান করে। প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভিসা পাননি। এর মধ্যে আছেন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সদস্যরা।’ ইরানের মেক্সিকো দূতাবাস জানিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি।

    ইরান বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন আবার লস অ্যাঞ্জেলেসেই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুন সিয়াটলে, যেখানে প্রতিপক্ষ মিসর।

    প্রাথমিকভাবে ইরান দলের অনুশীলন ক্যাম্প অ্যারিজোনায় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত জানাই। তবে তিনি একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান তাদের ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।’

  • বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সেরে ঐক্যের ডাক দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সেরে ঐক্যের ডাক দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিটা দারুণ হলো আর্জেন্টিনা। হন্ডুরাসের পর এবার আইসল্যান্ডকে হারিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। প্রস্তুতি ম্যাচে শতভাগ জয় তুলে নেওয়ার পর বিশ্বকাপের মূল পর্বেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান লিওনেল মেসি। এ জন্য সতীর্থদের দল হিসেবে খেলার আহ্বান জানালেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। চোটজনিত ঝুঁকি এড়াতে সে ম্যাচে মাঠে নামেননি মেসি। তবে আজ ভোরে আইসল্যান্ড ম্যাচে ৬৯ তম মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। মাঠে নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ড পরই গোলের দেখা পান তিনি। আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালের দেখা পান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতে নেয় ৩-০ গোলে। দলের জয়ে অবদান রাখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব দেখা গেল মেসিকে।

    ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৭ জুন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়টা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামার আগে দলের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন মেসি।

    ম্যাচ শেষে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে খেলার বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন মেসি। সেই পোস্টের শেষেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের প্রতি ঐক্যের বার্তা দেন তিনি। মেসি লিখেছেন, ‘চলো এগিয়ে যাই, আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’

    আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ১১৭ তম। একই সঙ্গে তিনি গড়েছেন নতুন এক রেকর্ডও। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতা ফুটবলার হয়ে গেছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আঙ্গেল লাবরুনার দখলে। ‘এল ফেও’ নামে পরিচিত কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড ১৯৫৭ সালে রোকা কাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি।

  • গুছিয়ে উঠতে আরও দু-এক দিন সময় লাগবে আর্জেন্টিনার

    গুছিয়ে উঠতে আরও দু-এক দিন সময় লাগবে আর্জেন্টিনার

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে চলল বলে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামার আগে প্রস্তুতিও সেরেছে দারুণভাবে। টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রত্যাশার চাপ যে কেমন হয়, সেটা তো তারা বুঝতেই পারছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে যে ঝামেলায় তারা পড়েছে, তা ঠিক করতে এখনো দু-এক দিন সময় লাগবে।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনা দল ছোটখাটো এক হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে আছেন গনসালো মন্তিয়েল, নাউয়েল মলিনা ও লেয়ান্দ্রো পারেদেস। যাঁদের মধ্যে মন্তিয়েল ও মলিনা দুজনই ভুগছেন পেশির সমস্যায়। আর লিওনার্দো বালের্দি বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। তাঁর বিকল্প এখনো ঠিক করা হয়নি।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে যখন কোচ লিওনেল স্কালোনি সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তখন তাঁর কাছে বালের্দির বিকল্প খেলোয়াড়ের নাম জিজ্ঞেস করা হয়। উত্তরে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘আমি কি বলেছিলাম আগামীকাল? আরও এক দিন সময় লাগতে পারে। যেমনটা গতকাল বলেছিলাম, আমাদের একটা ধারণা আছে। কিন্তু আলোচনা করেছি। তাতে হয়তো আরও এক বা দুই দিন সময় লাগতে পারে।’

    আগামীকাল মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বালের্দির বিকল্প কে হতে পারেন, তা নিয়ে আরও কয়েক দিন আলাপ-আলোচনা চলবে। বিস্তারিত কিছু না বলে স্কালোনি শুধুই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বালের্দির বিকল্প হিসেবে তাঁর (স্কালোনি) কাছে দুই ফুটবলার রয়েছেন। টিওয়াইসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিকল্পদের মধ্যে গুইদো রদ্রিগেস এগিয়ে আছেন।

    আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার গোল পেয়েছেন। ৮, ৭১ ও ৮৬ মিনিটে গোল করেছেন ভ্যালেন্তিন বারকো, লিওনেল মেসি ও থিয়াগো আলমাদা। যার মধ্যে মেসি ৭০ মিনিটে মাঠে নামার ২ মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। তবে নিকো পাজের খেলা স্কালোনির নজর কেড়েছে। শুরুর একাদশে থাকা পাজ খেলেছেন ৫৭ মিনিট। ৩-০ গোলে জয়ের পর আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘নিকোকে বেশ স্বচ্ছন্দে দেখেছি। আগেই দেখেছিলাম যে সে দলে ফিরে আসতে উদ্‌গ্রীব ছিল। আজ স্পষ্ট হয়েছে যে, সে খুব ভালো অবস্থায় আছে এবং কোমোর হয়ে যেভাবে প্রতিটি ম্যাচে খেলে, ঠিক সেভাবেই খেলেছে। আমরা খুব খুশি। কারণ, সে দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছে। আজকের পরীক্ষাটা আমাকে সন্তুষ্ট করেছে এবং দলটির কী অভাব থাকতে পারে, সে সম্পর্কে সন্দেহ দূর হয়েছে।’

    ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। ২২ ও ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আকাশী-নীলরা।