বিশ্বকাপ ফুটবল- ২০২৬

  • আবারও বিয়ে করছেন পরী, ঠেকাতে পারলেন না হ্যারি কেইন!

    আবারও বিয়ে করছেন পরী, ঠেকাতে পারলেন না হ্যারি কেইন!

    ম্যাচ শুরুর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে আবারও বিয়ে করবেন। আর প্রিয় দলের জয় নিশ্চিত হতেই সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে উদ্দেশ্য করে নতুন পোস্ট দিলেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনি।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল চলাকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরীমনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করবো, ফাইনাল।’ ফুটবল উন্মাদনার আবহে দেওয়া তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়েই এতে হাজারো প্রতিক্রিয়া ও শেয়ার জমা হয়। তবে পোস্টটির মন্তব্যের সুযোগ বন্ধ রেখেছিলেন অভিনেত্রী।

    ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা জয় নিশ্চিত করার পর আবারও ফেসবুকে সরব হন পরীমনি। এবার তিনি লেখেন, ‘হ্যারি কেইন, পারলে না তুমি আমার বিয়েটা ঠেকাতে।’ ইংল্যান্ডের অধিনায়কের উদ্দেশে করা এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    পরীমনির দুই পোস্টই মূলত ফুটবলকে ঘিরে তাঁর উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা। অনেকেই মজার ছলে তাঁর ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও মন্তব্য করছেন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    ব্যক্তিজীবনে একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদের কারণে এর আগেও আলোচনায় ছিলেন পরীমনি। সর্বশেষ ২০২১ সালে অভিনেতা শরিফুল রাজকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহের পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়।

    বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে জীবনযাপনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কাজ করছেন পরীমনি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেওয়া তাঁর টানা দুই ফেসবুক পোস্ট এবারও ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

  • গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    গোল্ডেন বুট ও বলের লড়াইয়ে এগিয়ে মেসি

    বয়স তার ৩৯। কিন্তু মাঠে লিওনেল মেসি যা করছেন, তাতে বয়সটাকে মনে হচ্ছে শুধুই সংখ্যা! এই আসরে যেন আরও বেশি জয়ের ক্ষুধা নিয়ে নেমেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক সেমিফাইনালে মেসির জোড়া অ্যাসিস্টেই ফিরে আসার রূপকথার গল্প রচনা করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ শেষে গোল্ডেন বল ও বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন মেসিই।

    মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, এখন পর্যন্ত দুজনেরই গোল ৮টি করে। দুজনেই আরও একটি করে ম্যাচ খেলবেন এই আসরে।

    বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। মেসি সেখানে এমবাপ্পের চেয়ে এক অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন।

    এখন পর্যন্ত মেসির অ্যাসিস্ট ৪ টি, এমবাপ্পের ৩টি। গোল্ডেন বুটের মূল লড়াইটা হবে এই দুইজনের মধ্যেই। এছাড়াও এই দৌড়ে আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। দুজনের গোলসংখ্যা ৬টি, অ্যাসিস্ট একটি। উসমান দেম্বেলের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ২টি। স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবালের গোল ৫টি, অ্যাসিস্ট ১টি। তারা সবাই খেলবেন আরও একটি ম্যাচ।

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও সেরা ফুটবলার বা গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে মেসিই সবচেয়ে এগিয়ে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে তো বটেই, রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার উঠতে পারে তার হাতেই। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি।

  • ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    ১৯ গোলে ১৯৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

    পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক যুগের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে লিওনেল মেসির দল। এই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল ১৯টি। এতেই তারা স্পর্শ করল ১৯৭০ সালের বিখ্যাত সেই ব্রাজিল দলকে।

    এই আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচে করেছে ৮ গোল। আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি ও জর্ডানের বিপক্ষে তিনটি।

    নকআউটের চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাদের গোল ১১টি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে তারা জিতেছে ৩-২ গোলে। শেষ ১৬ এর ম্যাচে মিসরকে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসিদের জয় ৩-১ ব্যবধানে।

    সেমিতে ইংলিশদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতল ২-১ গোলে। আর এতেই গোলের রেকর্ডে ১৯৭০ সালের ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলল স্কালোনির দল। সেবার পুরো আসরে ১৯ গোল করেছিল পেলের দল। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোলও ১৯।

    আর্জেন্টিনা ও ১৯৭০ এর ব্রাজিল এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের দিক দিয়ে আছে ৫ম স্থানে। ১৯৫০ সালে ২২ গোল করে চতুর্থ স্থানে আছে ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ২৩ গোল করা ফ্রান্স আছে তৃতীয় স্থানে।

    ১৯৫৪ সালে ২৫ গোল করে পশ্চিম জার্মানি আছে দ্বিতীয় স্থানে। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হাঙ্গেরির। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ২৭ গোল করে এই তালিকার সবার ওপরে আছে তারা।

  • সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিকতার আরেকটি অনন্য নজির গড়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা, প্রতিবারই নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট। অর্থাৎ ৭টি সেমিফাইনাল খেলে ৭ বারই উঠেছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।

    চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই অনন্য রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনাল মানেই ফাইনালের নিশ্চয়তা। ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬—প্রতিবারই শেষ চারের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নকআউট রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও ওই টুর্নামেন্টে বর্তমান ফরম্যাটের মতো আলাদা সেমিফাইনাল ছিল না। সে সময় দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ পর্ব থেকে সরাসরি ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছিল।

    ২০২৬ এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোল না করলেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রেখেছে।

  • নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    ৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু যেন একটুও ম্লান হয়নি। মাঠে তার নেতৃত্ব, ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

    আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন মেসি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দুই অসাধারণ অ্যাসিস্ট বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

    ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হারের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’

    প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, শারীরিক দ্বৈরথ এবং ফাউলই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও শেষ দিকে মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

    জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। রক্ষণভাগের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। আর সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। বয়স ৩৯ হলেও তার প্রভাব, সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা আবারও প্রমাণ করেছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভয়ংকর।

  • এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে কাতার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে আবারও শিরোপা এনে দেন তিনি।

    ২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে যে ট্রফিতে চুম্বন করেছিলেন মেসি, চার বছর পর নিউইয়র্কে আবারও সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজরা। দুই গোলের পেছনেই ছিল মেসির অবদান, দুটি অ্যাসিস্টই এসেছে তার পা থেকে। আর এই স্মরণীয় জয়টি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সি। আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসি জানান, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও বিশেষ এক উপহার।

    মেসি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে এই ম্যাচ উপভোগ করছেন। আজ তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি। এটাও তার জন্য একটি উপহার।’

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই জয় অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। পরে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।

    চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে হারাল আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন শান্ত ও ধৈর্যশীল। মাঝমাঠে নেমে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তৈরি করেছেন দুই গোলের সুযোগ।

    প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস দিয়ে সমতাসূচক গোলের পথ খুলে দেন। পরে লাউতারো মার্তিনেজের উদ্দেশে ভাসানো ক্রস থেকে আসে জয়সূচক হেড। এখন শিরোপার পথে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন।

    আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।

    তবে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়কে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন মেসি। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় অর্জনের সঙ্গে ম্যারাডোনার স্মৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকবে।

  • ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরোটাই সাজানো? ফিফা কি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেবে? রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব থেকে শুরু করে ভিএআর এর সুবিধা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এমন অভিযোগের তালিকা ততই দীর্ঘ হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের সব ধোঁয়াশা দূর করে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মাঠের পারফরম্যান্সে সব অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাঠের লড়াইয়ে তারাই বিশ্বের সেরা দল, আর এটাই চূড়ান্ত প্রমাণিত সত্য।

    সমালোচকদের উদ্দেশে ক্ষোভ ঝেড়ে মেসি বলেন, ‘এই কথাগুলো খুব কষ্ট দেয়। গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। পরপর দুটো বিশ্বকাপে আমরা দেখালাম, আমরা কাকতালীয়ভাবে জিতিনি। কেউ আমাদের বাড়তি সুবিধা দেয়নি। পরপর দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা সহজ নয়। এই দলটা সেটা করে দেখিয়েছে।’

    চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে এনেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তারপরও সমালোচনা থেমে থাকেনি। মেসি মনে করেন, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে হয়তো এই নিন্দুকরা আরও অর্বাচীনের মতো কথা বলার সুযোগ পেত। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে অর্বাচীনের মতো কথা বলত। ওদের সেই সুযোগটাই দিইনি। আমরা জানি আমরা কতটা ভালো খেলি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু আমার মনে হয়, কিছু বলার আগে ভাবা উচিত। এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে পরে আফসোস করতে হয়।’

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব মেসির অজানা নয়। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দটা অন্যসব জয়ের চেয়ে কিছুটা বেশিই। মেসি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।’

    মেসি আরও জানান, এই ম্যাচে তাদের হারার কোনো উপায় ছিল না। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই হার হজম করা অসম্ভব ছিল। মেসির কথায়, ‘আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না, সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।’

  • যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    আর্জেন্টিনা গোল করেছে দুটি। একটি এনজো ফার্নান্দেজ, অন্যটি লাওতারো মার্তিনেজ। গোলদাতার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তবু সবাই জানেন, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক লিওনেল মেসিই।

    ম্যাচের ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে প্রায় আটকেই রেখেছিল ইংল্যান্ড। এরপর যা হলো, তা যেন এক খেলোয়াড়ের হাতে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যাওয়ার গল্প।

    টমাস টুখেলের দল হয়তো ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দেখেছে ২–১। কিন্তু মাঠের ভেতরে তারা আসলে হেরেছে একজন মেসির কাছেই।

    ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি মেসি। তাঁর অভিষেকের পর আর্জেন্টিনা যে একবার (২০০৫ সালে) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তিনি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় মাঠে ছিলেন না। অবশেষে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে প্রথম দেখায় ইংলিশদের যে অভিজ্ঞতা হলো, এমন কিছু নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে তারা।

    প্রথমার্ধে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রেখেছিল ইংল্যান্ড। বল পেলে কয়েকটি চমৎকার টাচ দেখিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচে তাঁর প্রভাব চোখে পড়ার মতো ছিল না। ইংল্যান্ডও খেলছিল পরিকল্পনামাফিকই। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় তারা। এরপরই আসলে দিক বদলাতে শুরু করে ম্যাচের স্রোতোধারা।

    দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের মেসির অবস্থান বদলে ফেলা হয় এএফপি

    গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা কোচের কৌশল না পাল্টে উপায় ছিল না। সেই কৌশলে ঝুঁকিও ছিল। লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠের ডান দিকে সরিয়ে দেন। স্কালোনির এই একটি সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের পুরো রক্ষণ-পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন, ‘মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

    ওদিকে ইংল্যান্ড কোচ টুখেল তখন রক্ষণ আরও শক্ত করতে ডিফেন্ডার নামাতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল এগিয়ে থাকা স্কোরলাইন ধরে রাখা। কিন্তু সেটিই বুমেরাং হয়। ইংল্যান্ড ক্রমেই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যায়, আর বলে দখল বাড়ে আর্জেন্টিনার।

    এতটাই যে ৫৫ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিট—এই ১৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের সঠিক পাস ছিল মাত্র ২টি। দুটিই গোলকিপার জর্ডান ও পিকফোর্ড সেন্টারব্যাক জন স্টোনসের একে অপরকে দেওয়া ফিরতি পাস।

    মূলত এ সময়টাতেই ম্যাচের নাটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। বল পেলেই একজন, দুজন, কখনো তিনজন ইংলিশ ফুটবলারকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। ডান প্রান্ত থেকে কখনো ভেতরে ঢুকেছেন, কখনো বক্সের সামনে এসে জায়গা তৈরি করেছেন, আবার কখনো এমন পাস দিয়েছেন, যা পুরো ইংলিশ রক্ষণকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

    ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের পর মেসিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এএফপি

    পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইংল্যান্ড আসলে কতটা অসহায় ছিল। ম্যাচে মেসির সফল ড্রিবল ছিল ৯টি। পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে করেছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, একাই পুরো ইংল্যান্ড দলের চেয়েও বেশি ডিফেন্ডার কাটিয়েছেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের বক্সে মেসির টাচ ছিল ৭টি, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সমান। গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৪টি, এটিও পুরো ইংলিশ দলের সমান। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্রসও এসেছে তাঁর পা থেকেই।

    আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আর্জেন্টিনার দুটি গোলের পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাঁর ক্রস থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।

    ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস তাই বলছিলেন, ‘সে মাঠের মধ্যে হেঁটে বেড়ায়, কিন্তু বল পায়ে আসামাত্রই জ্বলে ওঠে। এখানেই তার প্রতিভা। আর এটা প্রায়ই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।’

    মেসির এই ‘হেঁটে বেড়ানো’ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের অবস্থান পড়েন, শক্তি সঞ্চয় করেন, তারপর ঠিক মুহূর্তে আঘাত করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটিই আবার দেখা গেল।

    আরও একবার আর্জেন্টিনার জয়োৎসবের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসিরয়টার্স

    ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্টের বিশ্লেষণও একই রকম, ‘আমরা মেক্সিকো আর নরওয়ের বিপক্ষে যেভাবে রক্ষণ লক করে রেখেছিলাম, সে রকমই করতে চেয়েছি। কিন্তু তাতে করে মেসি পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায়। আর সেই তালা খোলার চাবি তো তাঁর কাছেই ছিল। শেষ ১৫ মিনিট সে একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

    ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, মেসির কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে তাঁর দল, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ওকে ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়, বল পেলেই তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। এমনি এমনি তো তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হননি।’

    সম্ভবত এটাই মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

  • আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    এক সময় এই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কণ্ঠে ছিল হতাশা। ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রায় এক দশক পর আবার ফিরছেন—তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালের জন্য। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটও মিস করেছিলেন মেসি।

    অবসরের কথাও বলেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সমর্থকদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন, জেতেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ক্যারিয়ারে। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ।

    ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে মাঠ একদিন ছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠই এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

    বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে মাঠে একদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, সেই মাঠেই কি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন?

  • বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    আগামী ১৯ জুলাই ফুটবল বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে এক রূপকথার ফাইনাল। একদিকে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে কোপা আমেরিকার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি।

    তবে এই ব্লকবাস্টার ফাইনালের মূল আকর্ষণ কেবল ট্রফি জয় নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য এক নিয়তি। ফুটবল ভক্তদের সব আলো এখন কেড়ে নিচ্ছেন দুই মহাতারকা: লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামাল।

    আর্জেন্টিনার এই জীবন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখতেন ইয়ামাল। অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন।

    সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে জনপ্রিয় স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ডেজন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘আমি একটু বড় হয়েছি, আর লিও-ও (অভিজ্ঞতায়) বেড়েছে। আশা করি আমি একটি ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে পারব, বিশেষ করে যেহেতু আমাদের মধ্যে ফিনালিসিমা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।’

    অবশেষে ইয়ামালের সেই স্বপ্নই সত্যি হতে যাচ্ছে। ফুটবল অমরত্বের লড়াইয়ে মেসিরই মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছেন এই স্প্যানিশ পোস্টারবয়।

    আগামী রোববার (১৯ জুলাই) ফাইনালের মহারণে এই দুজন মুখোমুখি হবেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। একদিকে মেসির সামনে তার সোনালী ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি, অন্যদিকে তরুণ ইয়ামালের সামনে বিশ্বজয়ের মঞ্চে নিজেকে নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ। ফুটবলের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।

  • মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা উঠে গেল ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিকস আর লিওনেল মেসির জাদুকরীয় ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিংয়ে স্কালোনি পেয়েছেন পূর্ণ ১০ এবং মেসি পেয়েছেন ৯। কিন্তু কেন?

    শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা আর্জেন্টিনা দলকে কেমন রেটিং দিয়েছেন:

    এমিলিয়ানো মার্তিনেস (৬/১০): খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে দায়িত্বশীল ছিলেন।

    নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।

    লিসান্দ্রো মার্তিনেস (৬/১০): বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০): রক্ষণভাগে ছিলেন বেশ সতর্ক।

    নাহুয়েল মলিনা (৩/১০): ইংল্যান্ডের গোলটির সময় তার ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

    এনজো ফার্নান্দেস (৮/১০): দলের প্রয়োজনে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।

    আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

    লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০): মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিতে ভূমিকা রেখেছেন।

    জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): প্রেস করার কাজটা ভালো করলেও প্রথমার্ধের পরেই বদলি হন।

    হুলিয়ান আলভারেস (৬/১০): দলের হয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে গোল পাননি।

    লিওনেল মেসি (৯/১০): ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি যেন অজেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার বাঁ পায়ের জাদুকরী ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি আসে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে পুরো দলকে এক সুঁতায় গেঁথেছেন, তা এক কথায় বিস্ময়কর। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনা ধুঁকছিল, তখন মেসি নিজেই নিচে নেমে আসেন। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লকের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার কাজটি তিনিই করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার সেই অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেসের জয়সূচক গোল। এটিই প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে মেসি কেন এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল না পেলেও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অ্যাসিস্ট ও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।

    লিওনেল স্কালোনি (১০/১০): আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে দশে দশ দিয়েছেন ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা। এর মূল কারণ তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন স্কালোনি ঘাবড়ে যাননি। তার সাবস্টিটিউশনগুলো ছিল নিখুঁত। ৭২ মিনিটে মলিনা ও পারেদেসকে তুলে নিয়ে রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মনতিয়েলকে নামানো ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এই পরিবর্তনের ফলেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধাঁরালো হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। তাছাড়া সঠিক সময়ে লাউতারোকে নামিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। কোচ হিসেবে স্কালোনি দেখিয়েছেন পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ছক পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

    প্রশ্ন আসতে পারে, স্কালোনিকে কেন মেসির চেয়েও বেশি রেটিং দেওয়া হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কালোনির ১০ পাওয়ার কারণ তার নির্ভুল গেম প্ল্যান ও প্লেয়ার পরিবর্তন। অন্যদিকে মেসির ৯ পাওয়ার কারণ তার একক ম্যাজিক। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ম্যাচ দেখা গেছে যেখানে দুর্দান্ত কৌশল থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় জয় আসে না। আবার অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও ভুল কৌশলের কারণে দল হারে। আটলান্টায় এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছে। স্কালোনি ছক এঁকেছেন, আর মেসি সেই ছক অনুযায়ী দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। নিজে গোল না পেলেও রেখেছেন গোল অবদান।

    ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ ও অধিনায়ক যে ফর্মে আছেন, তাতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন আরও একটি বিশ্ব জয়ের। মেসি কি পারবেন ফাইনালে নিজের রেটিং ১০-এ নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই।

  • ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ডালাসের মাঠে ফরাসিদের দাপটের সাথে বিদায় করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। গত রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

    আজ বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জয়ী দলই আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’র সুপারকম্পিউটার হিসাব কষে জানিয়েছে, ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে আসলে কারা এগিয়ে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ফেভারিট ঘোষণা করলেও সুপার কম্পিউটারের সেই পূর্বাভাস মাঠে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফরাসিদের বিদায় দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন।

    ফরাসি জুজু কাটার পর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস দিল অপটা’র সুপারকম্পিউটার। অপটার ২৫,০০০ প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশনের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে থমাস টুহেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫২.৫৩ শতাংশ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪৭.৪৭ শতাংশ।

    পরিসংখ্যান বলছে, থ্রি লায়ন্সদের লড়াকু ফুটবল আর ট্যাকটিক্যাল শক্তির কারণে লিওনেল মেসির দলের টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আজ রাতে বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।

    প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখার পর ট্রফি জয়ের দৌড়েও পরিবর্তন এসেছে। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, তিন সিংহের দল কিংবা আলবিসেলেস্তেরা যারাই ফাইনালে উঠুক না কেন, শিরোপা জয়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসাব মতে, স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখন ৫৬.১৫ শতাংশ।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    আজ কেন নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

    কিছু ম্যাচ থাকে, যার গল্প পরিসংখ্যানের খাতায় নয়, লেখা থাকে মানুষের স্মৃতিতে। পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা দেখায়, স্মৃতিতে বেঁচে থাকে ইতিহাস। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ সালের সেই আজতেকার বিকেল, ‘হ্যান্ড অব গড’, শতাব্দীর সেরা গোল আর বেকহাম-সিমিওনের দ্বন্দ্ব। সেই সুখস্মৃতি মনে রাখতেই যেন আর্জেন্টিনার আরজি, নীল জার্সি পরতে দিতে হবে তাদের।

    সেমিফাইনালে ওঠার পরই ফিফার কাছে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি নিয়েছে তারা। যে রঙের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ’৮৬–এর ম্যারাডোনার সেই দুই গোল। একটিতে ‘ঈশ্বরের হাত’, আরেকটি পায়ের অলৌকিক এক কারুকার্য। এক যুগ পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে একই জার্সিতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড।

    সেদিন ডেভিড বেকহাম লাথি মেরেছিলেন দিয়েগো সিমিওনেকে, দেখেছিলেন লাল কার্ড। মূল খেলা ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। নীল কেন আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, সেটি বোঝা যাবে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে তাকালেও। ২০০২ আসরের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের লালের বিপক্ষে সাদা-আকাশি জার্সিতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেদিন নীল ছিল না, আর্জেন্টিনাও বেকহামের একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছিল।

    নিয়ম অনুযায়ী, সেমিতে আগে ওঠায় ম্যাচে ইংল্যান্ডের পোশাকি নাম টিম ‘এ’। আর টিম ‘এ’ জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য সাদা জার্সি বেছে নিলে টিম ‘বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ‘অ্যাওয়ে’ মানে নীল জার্সিতে খেলতে হতো। আর ইংল্যান্ড যদি অ্যাওয়ে, অর্থাৎ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে সাদা-আকাশি জার্সি পরে খেলতে হতো।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনভাবে জার্সি বেছে নিতে হয়, যাতে সাদা-কালো পর্দায় দুই দলকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা যাতে দুই দলকে গুলিয়ে না ফেলেন, সেটাও খেয়াল রাখা হয়। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের একধরনের প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড যাতে কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরা থামাতে না পারে, তাই আগেভাগেই নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

    অবশ্য এত কিছু করার প্রয়োজনও তেমন ছিল না। কারণ, টিম ‘এ’ হিসেবে ইংল্যান্ড নিজেদের হোম জার্সি, অর্থাৎ সাদা জার্সিই বেছে নিয়েছে। সঙ্গে সাদা শর্টস আর সাদা মোজা। যে কারণে আর্জেন্টিনার জন্য নীল জার্সি, নীল শর্টস আর নীল মোজাই পড়েছে।

  • যে অভিশাপে বিশ্বকাপ জেতা হলো না দেম্বেলের!

    যে অভিশাপে বিশ্বকাপ জেতা হলো না দেম্বেলের!

    বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী ওসমান দেম্বেলেরও একটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ার স্বপ্ন। তিনি পারেননি বিশ্বকাপের তথাকথিত ‘ব্যালন ডি’অর অভিশাপ’ ভাঙতে।

    ইতিহাস বলছে, যে ফুটবলার বিশ্বকাপের আগের বছর ব্যালন ডি‘’অর জেতেন, তিনি পরের বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কখনোই শিরোপা জিততে পারেননি। দেম্বেলে ছিলেন সেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর অন্যতম বড় দাবিদার। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে তার সেই স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়।

    এর আগে ১৯৯৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তবে ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে শিরোপা জিততে পারেননি। দেম্বেলের পরও সেই অভিশাপ অটুটই রইল।

    এছাড়া দেম্বেলে এখন ইতিহাসের তৃতীয় বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী, যিনি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেই বিদায় নিলেন। এর আগে একই পরিণতি হয়েছিল ১৯৬৬ সালে ইউসেবিও এবং ১৯৮৬ সালে মিশেল প্লাতিনির।

  • চিত্রনাট্য লিখতে চেয়েছিলেন এমবাপ্পে, লিখলেন ইয়ামাল

    চিত্রনাট্য লিখতে চেয়েছিলেন এমবাপ্পে, লিখলেন ইয়ামাল

    কিলিয়ান এমবাপ্পে মাথা নোয়ালেন। ঘাসের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অন্তত এক মিনিট। শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে। সতীর্থ আরও কয়েকজন মাঠ ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। সান্ত্বনা দেয়ার মতো কেউ নেই। পুরো টিমই বিধ্বস্ত। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের চিত্র এটাই। খেলার খবর সবাই জানেন। ফরাসিদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। চারদিকে আলাপ ছিল- এই অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সকে কে থামাবে। কিন্তু স্পেন থামিয়েই দিলো। নাটকীয় ফলাফল। ভাষ্যকাররা বলছিলেন, বল ফ্রান্সের জাল চিনে ফেলেছে। একের পর এক গোল যেভাবে হচ্ছিল তাতে এটা মনে হওয়ারই কথা। মাঝ মাঠেই খেলা হয় প্রথমার্ধে। পেনাল্টি ছাড়া এমন কোনো অ্যাকশন ছিল না। ফরাসিদের ভয় ছিল ইয়ামালকে নিয়ে। সেই ইয়ামালই তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। ইয়ামাল কখন যে ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন তা টেরই পাননি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ইয়ামালের শরীরে টাচ লাগে। এরপর যা হওয়ার তাই হলো। নির্ভেজাল পেনাল্টি। এই নিখুঁত পেনাল্টি শট নিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এ নিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা হলো ৫। খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্পেনের হাতে। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল- ফ্রান্সকে ফুটবলের প্রথম পাঠ শেখাচ্ছে স্পেন। সেমিফাইনালের মতো খেলা নয়। যদিও এই খেলা ঘিরে অনেক হিসেব-নিকেশ ছিল। ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক প্যাট্রিক ভিয়েরা আইটিভিকে বলেছেন, পুরো টিমে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। জানি না তারা এই স্প্যানিশ দলটিকে নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পেয়েছিল কিনা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের অভাব ছিল তাদের মধ্যে। কিলিয়ান এমবাপ্পে বলের জন্য হা-হুতাশ করছিলেন। এক পর্যায়ে মনে হলো তিনি সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন না। তিনি ডানে-বামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। খেলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছেন। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। স্পেনের খেলাটা সত্যি অসাধারণ ছিল। তারা এমনভাবে বল ঘুরাচ্ছিল তখন ফরাসিদের চরম অসহায়ত্ব দেখে কে! কিন্তু পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অত্যন্ত উজ্জ্বল ছিল ফরাসিদের আক্রমণভাগ। তবে ওলিসে এবং দেম্বেলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। নির্মম সত্য হলো- ফরাসি শিবিরে আর কোনো আলোর ঝলকানি দেখা যায়নি। স্পেন আসলেই এক অসমান্য ম্যাচ খেলেছে। বিখ্যাত ফরাসি দৈনিক লেকিপ বলেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্রান্স সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। স্পেনের কাছে হারাটা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। ২০২৪ ইউরোর পর ফরাসিদের বিপক্ষে আরও একবার নিজেদের আধিপত্যের পুনরাবৃত্তি ঘটালো স্প্যানিশরা। ফরাসি বাস্তিল দিবসে এই পরাজয়ে সবকিছু ম্লান হয়ে গেল। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছা হলো না তাদের।
    ম্যাচের কিছু অংশে স্পেনের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের সামনে ফ্রান্সের কোনো প্রতিরোধ গড়ে না ওঠায় তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। পেনাল্টির আট মিনিট পর ফরাসি শিবিরে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে। পিঠের ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। এরপর ফ্রান্স কেমন যেন খেলার গতি হারিয়ে ফেলে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন। আর গোলের জন্য সব প্রশংসা পাচ্ছেন পেদ্রো পোরো। স্পেনের গোটা টিমের বিল্ডআপও ছিল চমৎকার। কুকুরেয়ার নাম উল্লেখ করতেই হয়। পোরোর পাস দেয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াটাও ছিল দারুণ। যদিও ফ্রান্স কয়েকবার চেষ্টা করেছিল স্পেনের জালে বল পাঠাতে। কিন্তু সবই ছিল এলোমেলো, নিয়ন্ত্রণহীন। এমবাপ্পেকে যেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি, পুরো টিমটার অবস্থাও ছিল নাজুক। ম্যাচটি শেষ হয় গ্যালারিতে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকদের বিপুল আনন্দধ্বনি আর ওলে ওলে স্লোগানের মধ্য দিয়ে। ফরাসি শিবিরে তখন কান্না।

  • আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ অনুরোধ রাখল ফিফা

    আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ অনুরোধ রাখল ফিফা

    সমস্যা মূলত জার্সি নিয়ে। আর্জেন্টিনা ফিফার কাছে অনুরোধ করেছিল—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তারা যেন গাঢ় নীল জার্সিটি পরতে পারে। বিশ্বকাপের ওই ম্যাচটিতে আকাশি-নীল জার্সি পরে খেলতে হতো লিওনেল মেসিদের।

    ফিফার কাছে অনুরোধ করা হলে তারা ফেরায়নি আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মুখোমুখি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। বিজয়ী দল রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

    এই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা লড়াই মানেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পর ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মারায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম।

    মজার বিষয় হলো- ওই দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনা গাঢ় নীল বা নেভি রঙের জার্সি পরেছিল। বিপরীতে ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি পরে খেলেছিল তারা। কাকতালীয় বিষয় হচ্ছে দুবারই হেরে যায় তারা।

    এই ইতিহাসকে শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরে সেমিফাইনালেও নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফিফা সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা নীল জার্সিতেই মাঠে নামবে।

    এ নিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল খানিকটা মজাই করেছেন, ‘ওয়ার্ম-আপের আগে পর্যন্ত আমি জানতামই না আমরা কোন জার্সি পরব। আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরবে, আর আমরা সাদা—এটা কি তাদের সৌভাগ্যের জার্সি বলে?’

    পরে ইংলিশদের কোচকে জানানো হয়, ইংল্যান্ড স্বাগতিক দল হিসেবে সাদা জার্সি পরবে। তখন টুখেল বলেন, ‘যদি কোনো কুসংস্কার বা বিশ্বাস থেকে তারা এটা করে থাকে, তাহলে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমিও হলে হয়তো একই কাজ করতাম।’

    তবে পয়া জার্সি তো আর্জেন্টিনা পেল, এবার কি ম্যাচের রেজাল্টও তাদের পক্ষে আসবে? নীল জার্সি কতটা কাজে আসল, জানা যাবে আজ রাতের খেলা শেষে।

  • ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে ‘আর্জেন্টিনার মারা যাওয়া ভাইয়েদের কথা মনে পড়ে’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে ঘুরেফিরে আসছে অতীতের অনেক স্মৃতি। বিশেষ করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, ৪০ বছর আগের সেই কোয়ার্টার ফাইনাল—এগুলো নিয়েই চলছে চর্চা। প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র ইংল্যান্ড ম্যাচটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না।

    আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। এই ম্যাচটি ঘিরে রাজনৈতিক বৈরিতার বিষয়টিও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধে ৯০৭ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এবার সেমিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার ছেলে বলেন, ‘আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা ভক্তদের জন্য এটা একটা বিশেষ ম্যাচ। ফকল্যান্ড যুদ্ধে আমাদের যেসব ভাইয়েরা মারা গেছেন, তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়।’

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পরই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর আসতেকায় কোয়ার্টারে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে এই ম্যাচে। এবার আটলান্টায় সেমিফাইনালের আগে ম্যারাডোনার ছেলে মনে করিয়ে দিলেন ৪০ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ঘটনা। মার্কাকে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘১৯৮৬ সালে বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, সেটাও মনে পড়ে যায় এই ম্যাচ (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) দেখে। সেবার বাবা ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন।’

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচকে কেন ‘ম্যারাডোনা-ইংল্যান্ড’ ম্যাচ বলা হয়, সেটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। ম্যারাডোনা যখন খেলতে নামতেন, তখন সেটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র। পাশাপাশি রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে আলোচনা হলেও লিওনেল স্কালোনি এটাকে স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথারই প্রতিধ্বনি গতকাল শোনা গেছে রদ্রিগো দি পলের কণ্ঠে।

    স্কালোনি-রদ্রিগো দি পল যা-ই বলুন না কেন, ম্যারাডোনার ছেলে মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারবার টেনে এনেছেন ৪০ বছর আগের প্রসঙ্গ। ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘বাবা এটাকে (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। অনেক কিছুই বলা যায়। তবে কোনো সাধারণ ম্যাচ হচ্ছে না।’

    কীর্তিমানের মৃত্যু নেই—ম্যারাডোনা-পেলের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে কথা বলতে গেলে বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্য চলে আসবেই। ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে ম্যারাডোনা চলে যান না ফেরার দেশে। কিন্তু ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যেসব ভেন্যুতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ হয়েছে, সব জায়গার গ্যালারিতেই দেখা গেছে তাঁর ছবি।

    ছন্দে থাকা মেসি চলতি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ৮ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ২ গোলে। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলা মেসি ১০ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন। ভেঙে দিয়েছেন ম্যারাডোনার সর্বোচ্চ ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

    আটলান্টায় আজ হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমির টিকিটের দামও অনেক বেড়েছে। এই স্টেডিয়ামের সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত।

    আটলান্টা স্টেডিয়ামের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর এই সেমির জয়ী দল নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। গতকাল ডালাসে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন।

  • বাংলাদেশকে আরও আনন্দ দিতে চান স্কালোনি

    বাংলাদেশকে আরও আনন্দ দিতে চান স্কালোনি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই দল হিসেবে, কিন্তু আলোচনায় ঠিকই আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে ঝরল বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    স্কালোনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষদের ধন্যবাদ জানাই। তারা সবসময় আমাদের অবাক করে। এত দূরে থেকেও আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জার্সি গায়ে এত দূরের মানুষদের দেখতে সবসময়ই ভালো লাগে। তাদের আরওএকটা আনন্দ দিতে পারলে আমরা খুশি হব।’

    বিশ্বকাপ জুড়েই বাংলাদেশিদের উন্মাদনা বিশ্বমিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়ের পর ঢাকার রাস্তায় মিছিল, আতশবাজি আর আলবিসেলেস্তের জার্সিতে ভরে গেছে পুরো শহর।

    এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে। সেসব স্কালোনিরও চোখে পড়েছে বেশ করে। আর সেসব দৃশ্য হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে নাড়িয়ে দিয়েছে স্কালোনিকে।

    এদিকে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে আগামীকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছে দলটি।

    এবার সেই ফাইনালে আর্জেন্টিনার জায়গা করে নিতে চায়। হারাতে চায় ইংল্যান্ডকে।

  • ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে দেখা গেল সেটাই। মাঠে ফ্রান্স ছিল। তবে বেশিরভাগ সময় তারা শুধু বলের পেছনে দৌড়েছে। আর ফুটবলটা শুধু খেলেছে যেন স্পেন।

    মাঠে ছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু আলো কেড়েছে ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল, রদ্রি, ফ্যাবিয়ানরা। মাঠে ছিল গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ। কিন্তু ফুটবল খেলেছে যেন আগামী দিনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।২-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। আর কাগজে-কলমে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স ধরল বাড়ি ফেরার বিমান।

    ম্যাচ শুরুর আগে সব হিসাব ছিল ফরাসিদের পক্ষে। এমবাপ্পের বিস্ফোরণ, দেম্বেলের গতি, ওলিসের সৃজনশীলতা, বারকোলার ড্রিবল—এই চার অস্ত্রই ছিল ফ্রান্স কোচ দেশমের সবচেয়ে বড় ভরসা। এই আক্রমণভাগই তাদের সেমিফাইনালে এনে দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু ফুটবল কেবল তারকার খেলা নয়; ফুটবল কৌশলেরও খেলা। আর সেই কৌশলের দাবার বোর্ডে শুরু থেকেই ফ্রান্সকে কিস্তিমাত করে দেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    প্রথম বাঁশি থেকেই স্পেন যেন ঘোষণা করে দেয়—আজ বল আমাদের, ছন্দও আমাদের। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা বল পেলেই চারদিক থেকে লাল জার্সির ঢেউ। মাঝমাঠে এক সেকেন্ড সময় নেই। ডান দিকে পথ বন্ধ। বাঁ দিকে ফাঁদ। সামনে প্রেস। পেছনে কভার। আধুনিক ফুটবলের

    ‘পজিশনাল প্রেস’ আর ফাইভ সেকেন্ড ‘কাউন্টার প্রেস’-এর এমন নিখুঁত প্রয়োগ এই বিশ্বকাপে খুব কমই দেখা গেছে। ফলও মিলেছে হাতেনাতে।

    এমবাপ্পে কখনো একা বল পেলেনই না তেমন। দেম্বেলের সামনে তৈরি হয়নি একটিও স্বাভাবিক ওয়ান টু ওয়ান। ওলিসে বল পেলেই পাশে হাজির দুজন স্প্যানিশ। বারকোলার গতি শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেছে। ফ্রান্সের আক্রমণ যেন কর্ক লাগানো বোতলের ভেতর বন্দি। শক্তি আছে, বিস্ফোরণ নেই।

    ১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে স্পেন প্রথম ধাক্কাটা দিল। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। পেছন থেকে তার পায়ে আঘাত করেন লুকাস ডিগনে

    রেফারি ইভান বার্টনের বাঁশি বাজতে সময় লাগেনি।

    পেনাল্টি। স্পটে দাঁড়ালেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফরাসি গোলকিপার মাইক মেইনিয়ান ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু শট গোলরক্ষকের জন্য নয়। ইতিহাসের জন্য। ওয়ারজাবালের ডান পায়ের শট তীরের মতো ছুটে জড়িয়ে গেল জালের উপরের কোণে। ম্যাচে স্পেনের লিড ১-০।

    গোলের পর রক্ষণে নামেনি স্পেন। বরং আরো সাহসী হয়েছে। আরো উঁচুতে উঠেছে। আরো দ্রুত বল ঘুরিয়েছে। পুরো মাঠকে করেছে বিশাল। আর ফ্রান্সকে আটকে দিল সেই প্রশস্ত সবুজ চত্বরে।

    মাঝমাঠে রদ্রি যেন অর্কেস্ট্রার পরিচালক। তার একেকটি পাসে বদলে গেছে আক্রমণের দিক। ফ্যাবিয়ান রুইজ ছন্দ বুনেছেন। দানি ওলমো দুই লাইনের মাঝখানে ঘুরে ঘুরে ফরাসি মিডফিল্ডকে টেনে বের করেছেন। আর ইয়ামাল? মাত্র কয়েক সেকেন্ডে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়স ক্যালেন্ডারে লেখা থাকে, ফুটবলে নয়। উনিশ নম্বর জন্মদিনটা দারুণ জয়ে উপভোগ করলেন স্পেনের প্লেমেকার।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পে একবার রাবিওর থ্রু বলে ছুটে উঠেছিলেন। কিন্তু বক্সের অনেক বাইরে উঠে এসে উনাই সিমন মুহূর্তেই নিভিয়ে দেন সেই আশার প্রদীপ। বিরতিতে মনে হচ্ছিল, এক গোলের নয়; দুই ফুটবল দর্শনের লড়াই চলছে।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে ফ্রান্স। কিন্তু যতই সামনে উঠেছে, ততই স্পেনের জন্য খুলেছে নতুন নতুন পথ।

    আর সেখানেই আসে শেষ আঘাত। ৬৭ মিনিটে মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে চোখের পলকে আক্রমণে যায় স্পেন। রদ্রির নিখুঁত পাস থেকে ওলমো বাম দিকে ছেড়ে দেন পেদ্রো পারোর জন্য। পারো এক স্পর্শে সামনে এগিয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু ক্রসে বল পাঠান ফ্রান্সের জালে। বেচারা ফ্রান্সের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

    স্কোর তাতেই ২-০। ফ্রান্সের জন্য ম্যাচও কার্যত ওখানেই শেষ।

    শেষ বিশ মিনিটে ফ্রান্সের শরীর ছিল

    মাঠে, মন যেন বিমানে। এমবাপ্পে ক্রমশ হতাশ। দেম্বেলের পাসে ধার নেই। ওলিসে হারিয়ে গেছেন স্প্যানিশ প্রেসের ভেতর। বারকোলার পা থেকে উধাও গতি। যে আক্রমণভাগকে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলা হচ্ছিল, তারা যেন একসঙ্গে ফর্ম হারিয়ে ফেলেছে।

    আসলে তারা ফর্ম হারায়নি। স্পেন তাদের খেলতেই দেয়নি। এই জয়ের নায়ক শুধু গোলদাতারা নন। এই জয়ের নায়ক ছিল একটি পরিকল্পনা। একটি দর্শন। একটি সংগঠিত দল।

    স্পেন এ রাতে শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি। জিতেছে মাঝমাঠ। জিতেছে কৌশলের যুদ্ধ। জিতেছে মানসিক লড়াই। সবচেয়ে বড় কথা, জিতেছে ফুটবলের সৌন্দর্য। ফাইনালে উঠে এখন তাদের সামনে আর মাত্র একটি ধাপ।

    আর ফ্রান্স? তারা ডালাস ছাড়ছে একটি কঠিন শিক্ষা নিয়ে। বিশ্বকাপে শুধু বড় নাম যথেষ্ট নয়। এই সেমিফাইনাল আরেকবার চিরসত্য সেই কথাটাই জানিয়ে গেল, তারকারা ম্যাচ জেতাতে পারে। কিন্তু ইতিহাস লেখে পুরো একটা সম্মিলিত দল।

    আর সেই ইতিহাসের পাতায়, বিশ্বকাপে ডালাসের এই রাতটি একটি নামেই—স্পেন।

    সেই স্পেন এখন ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে অপেক্ষা করছে হয় আর্জেন্টিনা না হয় ইংল্যান্ডের জন্য।

  • ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজেদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা যা করেছি, তা কোনোভাবেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মানের ছিল না। আমরা প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছি।’

    এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘বল পুনরুদ্ধার করার পরও আমাদের আক্রমণ, পাস এবং প্রথম স্পর্শ; এসব কিছুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উপযুক্ত ছিল না। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো যা দরকার, তা আমাদের মধ্যে ছিল না।’

    স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে মার্ক কুকুরেয়া, আয়মেরিক লাপোর্তে ও উনাই সিমনের দৃঢ় প্রতিরোধে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন ফ্রান্সের এই তারকা।

  • বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোন দলের টিকিটের দাম কত

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোন দলের টিকিটের দাম কত

    ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর চলছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের ১০০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসর শেষ হতে আর মাত্র ৪টি ম্যাচ বাকি। আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেমিফাইনালে উন্নীত সাবেক চার চ্যাম্পিয়ন-আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন।

    বিশ্বকাপের শুরু থেকেই টিকিটের চড়া দাম। সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা আকাশ চুম্বি। সেমিফাইনালের এক ম্যাচের টিকিটের দাম অন্যটির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

    আজ মঙ্গলবার রাত ১টায় ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। টিকিট ট্র্যাকিং সেবা ‘টিকিটডেটা ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১০টায় (ইস্টার্ন টাইম দুপুর ১২টা) এই ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৩২৫ ডলার।

    বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। শুরুতে এই ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল ২ হাজার ৮৪১ ডলার। ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের কারণে গত তিনদিনে তা ৩৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।

    শনিবার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৬৬ ডলারে উঠেছিল। তবে পরদিন সকালে কিছুটা কমে ২ হাজার ৫৩৭ ডলারে দাঁড়ায়।

    দ্বিতীয় সেমির টিকিটের দাম তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। মায়ামিতে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের টিকিটের দাম ১ হাজার ৫৪৩ ডলার।

    আগামী রোববার নিউইয়র্কে হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম বর্তমানে ৬ হাজার ৭৬০ ডলার। গত ৭২ ঘণ্টায় তা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। গত বছরের অক্টোবরে ফাইনালের আগাম টিকিটের দাম ছিল সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৬৫০ ডলার।

  • ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট

    ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে কেবল দুই জয় দূরে। যার প্রথম ধাপ আগামীকাল আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা দলের কথা বললে যাঁর নাম আগে খোঁজা হয়, সেই লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় লেগে থাকে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে টিকিটের দামও বহুগুণ বেড়েছে।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড স্রেফ তো একটি ম্যাচ নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। যার প্রভাব পড়েছে টিকিটের দামের ওপরও। আটলান্টার সবচেয়ে দামি হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভিআইপি কেবিনও অন্তর্ভুক্ত। মাঠের কাছাকাছি অবস্থিত গ্যালারির টিকিটের দাম ১৯৩০০ রিয়াল (৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)। সবচেয়ে কম যে টিকিটের দাম, সেটা মাঠ থেকে একটু দূরেই। এই টিকিট পুনরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০০০ ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

    ডালাসে আজ ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেমিফাইনাল পর্ব। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে এই ম্যাচ। এই ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিট হলো ৫৫০০ রিয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ক্যাটাগরি ১-এর টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১১ হাজার রিয়াল থেকে (২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা)। এমনকি ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও কিছু টিকিট পাওয়া গিয়েছিল।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিটের চাহিদা সম্পর্কে কদিন আগে জানতে চেয়েছিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী ফিফার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনরায় বিক্রি করা টিকিটগুলো এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

    রাজনৈতিক বৈরিতা থাকায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আটলান্টা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আর্জেন্টিনার ফেডারেল সরকারের বরাতে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিশেষ করে যেসব সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টুডো নোটিসিয়াসের (ক্লারিন গ্রুপের অংশ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচকে কেন্দ্র করে ফ্যালকন অ্যালার্ট নামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। আগে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ সমর্থক আর্জেন্টিনা ছাড়লে শুধু গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হতো। এখন থেকে সেই তথ্য ফ্রাঙ্কো বেরলিনকেও জানানো হবে।

    ফ্রাঙ্কো বেরলিন আর্জেন্টিনার জাতীয় ক্রীড়া ইভেন্ট নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা দিতে পারবেন—এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটল এক ইতিহাস। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারে থাকা দলগুলো এবারই প্রথমবারের মতো খেলছে সেমিফাইনালে। আজ ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও স্পেন অবস্থান করছে ১ ও ৩ নম্বরে। আর আটলান্টায় আগামীকাল হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের অবস্থান ২ ও ৪ নম্বরে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর যখন বিশ্বকাপের সূচি ঠিক করা হয়েছিল, তখনো র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।

  • আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    সোমবার ১৯ বছরে পা দিয়েছেন স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। জন্মদিনের আবহে ডলাসে বসে তিনি যেভাবে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন, তাতে বয়সের চেয়ে তার মানসিক পরিপক্কতাই বেশি ফুটে উঠল। ফ্রান্স কি স্পেনকে ভয় পাচ্ছে? এমন প্রশ্নে ইয়ামাল যেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ফরাসিদের। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন, আমরা কাউকে ভয় পাই না।’

    এর আগে ইয়ামাল বলেছিলেন, ফ্রান্সের স্পেনকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবারও তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো দ্বিধা না করে বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই কি না, আমি বলেছি না। আমরা ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন। ফুটবল মাঠে আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমার সেই মন্তব্যকে তারা কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, তা তাদের ব্যাপার।’

    ফ্রান্সের জুলস কুন্দে অবশ্য ইয়ামালের মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি কিছুটা উপেক্ষা করেই বলেছেন, ‘ইয়ামাল কেমন তা আমার জানা আছে।’ কিন্তু মাঠে নামার আগে ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাস যে ফরাসি রক্ষণভাগের জন্য বড় চাপের কারণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে ইয়ামালের গোল মাত্র একটি, সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। কোনো অ্যাসিস্ট নেই।

    সমালোচকরা অনেকেই বলছেন, বড় মঞ্চে ইয়ামাল তার সেরা ছন্দে নেই। কিন্তু এই সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘তারা যদি মনে করে আমি আমার সেরা ছন্দে নেই, তবে মঙ্গলবারের ম্যাচের জন্য আমার কাছ থেকে কোনো প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। এটিই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা সবাই ২০১০ সালের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। কেন আমরা পারব না?’

    পরিসংখ্যান বলছে, বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইয়ামাল বরাবরই বিধ্বংসী। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের জালে গোল করেছিলেন তিনি। আবার নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও জোড়া গোল করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে তার এই ধারাবাহিকতা কি এবারও অব্যাহত থাকবে? সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসই বলে দিচ্ছে, নিজের জন্মদিনে নিজেকে নিশ্চয়ই আরেকটি গোল উপহার দিতে চাইবেন।

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অদম্য ক্ষুধা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের জাদুকরী ফুটবল। ডালাসের এআইটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।

    এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলমেশিন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। নিজে গোল করার পাশাপাশি মোট ১১টি গোলে অবদান রেখেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী।

    পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা, এমবাপ্পে এখন শুধু গোলই করছেন না, দলের প্রয়োজনে ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছেন সমানতালে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনসের মতে, ‘জিনেদিন জিদান বা মিশেল প্লাতিনির চেয়েও বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টের পর তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’

    অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছরের ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে। বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে খোদ জাভি হার্নান্দেজ তুলনা করেছেন মেসি, ম্যারাডোনা ও পেলের সাথে। এবারের বিশ্বকাপে যদিও গোলের দেখা খুব একটা পাননি, কিন্তু তার ট্যাকটিক্যাল প্রভাব স্পেনের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে বল পেলেই ইয়ামাল হয়ে ওঠেন ত্রাস। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার লড়াকু মানসিকতা কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে মুগ্ধ করেছে।

    এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন মোট ১০ বার। ইয়ামাল জয়ী হয়েছেন ৮টি ম্যাচে, এমবাপ্পের জয় মাত্র ২ ম্যাচে। জয়ের হিসেবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও, গোল করার ক্ষেত্রে আধিপত্য এমবাপ্পের। এই ১০ ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি, আর ইয়ামাল গোল পেয়েছেন ৬টি। গত ইউরো এবং নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে ইয়ামালের হাত ধরেই। এবার কি পারবে ফ্রান্স সেই হিসাব চুকিয়ে ফাইনালে যেতে? নাকি ইয়ামাল আবারও দেখাবেন তার জাদু?

  • ইতিহাস ফাইনালে পৌঁছে দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে!

    ইতিহাস ফাইনালে পৌঁছে দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে!

    সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ইতিহাস। সেই ইতিহাস বলছে, এখান থেকে কখনো তাদের পা হড়কায় না। এর আগে পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে পাচঁবারই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।

    এ নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলবে তিনবারের বিশ্বজয়ীরা। রবিবার সকালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পৌঁছে যায় সেমিফাইনালের মঞ্চে। সেখানে তারা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বুধবার রাতে। তবে ইংলিশদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানে মেসিরা খানিকটা পিছিয়ে আছেন। বিশ্বকাপে ৫বার মুখোমুখিতে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার আর আর্জেন্টিনা দুই বার।

    ১৯৬২ সালে গ্রুপে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। চার বছর বাদে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে আবার ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।

    তারা জিতেছে ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোয়ার্টার ফাইনালে, ২-১ গোলে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও টাইব্রেকারে জেতে আর্জেন্টিনা।

    এবার কেইন-বেলিংহামের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হওয়ার আগেই ইতিহাস প্রেরণা জোগাচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছানো মানেই ফাইনাল খেলা!

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল মুখোমুখি; ফাইনালের টিকিট কার হাতে

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল মুখোমুখি; ফাইনালের টিকিট কার হাতে

    বাইরে তীব্র দাবদাহ। ভেতরে ফুটবলীয় উত্তেজনায় রীতিমতো কাঁপছে ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম। যেখানে ফরাসি বিপ্লব বনাম স্প্যানিশ আর্মাডা লড়াই। বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন এক ব্লকবাস্টার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল। মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ফ্রান্স এবং স্পেন। এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। প্রতিশোধ, পুনরুত্থান আর ট্যাকটিক্যাল মাস্টারমাইন্ডের বুদ্ধি এবং কৌশলের লড়াই। একদিকে, দিদিয়ের দেশমের ক্ষুরধার মস্তিষ্কশানিত এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি আক্রমণভাগ। অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের তারুণ্যদীপ্ত ও আক্রমণাত্মক স্প্যানিশ আর্মাডা। ফুটবল বিশ্ব এক শ্বাসরুদ্ধকর মহারণের জন্য প্রস্তুত। অনেকটা নাটকীয় ভাবে সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছে দল দুটো। ফ্রান্স এবারের গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিপক্ষে শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন ছিল।

    কিন্তু বিরতির পর দেশমের জাদুকরী কৌশল পরিবর্তন খেলায় ফিরিয়ে আনে ফ্রান্সকে। মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল তরুণ উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলার দুর্দান্ত চিপ শটে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা। এরপর থেকে ফরাসিরা অপ্রতিরোধ্য। ছয় ম্যাচে সর্বমোট গোল করেছে ১৬টি। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে ক্লিনশিট জয় নিয়েছে। গড়েছে এক অনন্য ডিফেন্সিভ রেকর্ড। স্পেন টুর্নামেন্টে পা রেখেছিল কাপ বিজয়ের প্রবল দাবিদার হিসেবে। যদিও গ্রুপ পর্বের শুরুতে নবাগত কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে ফুটবল ভক্তদের হতাশায় ডুবিয়েছিল। এরপর দলটি ঘুরে দাঁড়ায় সবচেয়ে কম গোল হজম করে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো গোল না খেয়ে অন্য এক বার্তা দেয় ফুটবল বিশ্বকে।

    কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে তাদের দুর্ভেদ্য প্রাচীরে প্রথম ফাটল ধরে। ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে স্পেন এগিয়ে যায়। ৪১ মিনিটে বেলজিয়ামের চার্লস ডি ক্যাটেলারের গোলে সমতা আসে। ১-১ গোলে সমতায় থাকা সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৮৮ মিনিটে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। বেলজিয়াম হেরে যায় ২-১ গোলে। নিশ্চিত হয় সেমিফাইনাল। বিশ্ব কী দেখবে। ট্যাকটিক্সের চরম বৈপরীত্য! আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সফল ও বাস্তববাদী ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি ইতিমধ্যেই দলের ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচার ঠিক রেখে মাঝখানে মাইকেল ওলিসেকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় এনেছেন। এতে যোগ হয়েছে নতুন এক মাত্রা। দেশম ৪-২-৩-১ ফরমেশনেও এনেছেন পরিবর্তন। তিনি আসলে ওলিসে, উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার গতিকে কাজে লাগিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকই বেশি পছন্দ করেন। এতসবের মধ্যেও ফরাসি শিবিরে দুশ্চিন্তা রয়েছে মানু কোনকে নিয়ে। মানু কোন একজন গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্সিভ স্তম্ভ। তার কার্ড সমস্যা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ও রয়েছে। বলা হচ্ছে, এতে করে মিডফিল্ডের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

    তবে অরিলিয়ে চুয়ামিনির দলে ফেরার সম্ভাবনা ফরাসিদের বাড়তি শক্তি। স্প্যানিশরা কী করবেন। লামিন ইয়ামালের ওপরই কি নির্ভর করবেন। যদিও তাদের দলটি এখন টোটাল ফুটবল খেলার জন্য প্রস্তুত। কোচ ফুয়েন্তে অলস পাসিং ফুটবল থেকে দলকে বের করে এনে গতিময় করেছেন। পাশাপাশি দুই উইং-এ দ্রুত আক্রমণ শানানোর দিকেই তার নজর বেশি। ফরাসিদের বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক মাঝমাঠেই নস্যাৎ করতে নতুন এক কৌশল এঁটেছেন। তাই মাঝমাঠের মূল দায়িত্ব দেবেন রদ্রি এবং পেদ্রির ওপর। আসলে ফ্রান্স-স্পেন লড়াইটা হচ্ছে দুই নক্ষত্রের লড়াই। কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি।

    রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান সুপারস্টার ও অধিনায়ক। এই বিশ্বকাপে ৮ গোল করে তিনি শীর্ষ গোলদাতার তালিকায়। তার অতিমানবীয় গতি এবং উইং থেকে ভেতরে কেটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি ওস্তাদ। এজন্য স্পেনের রক্ষণভাগের মাথাব্যথার কারণ এমবাপ্পে। স্প্যানিশ রাইট ব্যাক পেদ্রো কিংবা সেন্ট্রাল ডিফেন্সের কুবার্সি এবং আইমেরিক লাপোর্তেকে নতুন অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছেন কোচ। আর সেটা হচ্ছে এমবাপ্পেকে বোতলবন্দি করা। ওদিকে, বার্সেলোনার তারকা লামিন ইয়ামাল স্পেনের গোলশক্তির এক বিস্ময়বালক। টুর্নামেন্ট জুড়েই তিনি আলোচনায়।

    প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে তছনছ করার অভাবনীয় শক্তি তার। ইয়ামালই ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখেন। এই দুই দলের লড়াইয়ের একটি রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রয়েছে। একদিকে প্রতিশোধের আগুন, অন্যদিকে ৯ গোলের সেই মহাকাব্য। ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়- ফ্রান্স ও স্পেনের শত্রুতা বেশ পুরনো। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে স্পেনের দিকেই পাল্লা ভারী। এই ম্যাচ ঘিরে তীব্র প্রতিশোধের আলামত দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের উয়েফার সেই সেমিফাইনালে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছিল। মিউনিখ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে বিদায় করে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। সবচেয়ে বড় চমকটি ছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফানালে হয়েছিল এক মহাকাব্যিক লড়াই। ৯ গোলের সেই অবিশ্বাস্য এবং শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৫-৪ ব্যবধানে হারায় স্পেন। নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনো, পেদ্রি এবং লামিন ইয়ামালের জোড়া গোলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় মাঠে। তাদের বিধ্বংসী আক্রমণের জবাবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, রায়ান শেরকি এবং রান্ডাল কোলো মুয়ানিরা তীব্র লড়াই করেও পরাজয় মানতে হয় তাদের।

    তাই ডালাসের মাঠে নামার আগে এমবাপ্পেদের মনে প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। একসময় দুই দেশের সম্পর্কে অনেক টানাপড়েন ছিল। দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে চলা এই যুদ্ধ-বিগ্রহের অবসান ঘটে ১৬৫৯ সালে পিরেনিস চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে। এই চুক্তিতেই দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সীমান্ত নির্ধারিত হয়। ১৮ এবং ১৯ শতকে তাদের সম্পর্ক এক জটিল রূপ নেয়। একদিকে, সাধারণ বুরবোঁ রাজবংশের মৈত্রী।

    অন্যদিকে, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের পেনিনসুলার যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ধ্বংসযজ্ঞ। এখন এই বৈরী ইতিহাস সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর ছত্রছায়ায় এক শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক জোটে পরিণত হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- ফ্রান্স এখন স্পেনের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকারীও বটে। এখানে প্রতি বছর প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য ও সেবা আদান-প্রদান হয়ে থাকে। এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের চুক্তির মাধ্যমে। এই ঐতিহাসিক ম্যাচের চাপ এবং উন্মাদনা প্যারিস থেকে মাদ্রিদ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সমর্থকরা আশা করছেন- এমবাপ্পের হাত ধরেই টানা তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাবে ফ্রান্স। মাদ্রিদের রাস্তায় রাস্তায় এখন ২০১০ সালের মতো আরেকটি বিশ্বজয়ের স্বপ্নে উন্মাদনায় মেতেছেন স্প্যানিশরা। ডালাসের এই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের দিকেই সবার নজর। কারা জিতবে? কারা হাসবে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেগা ফাইনালে। অপেক্ষা ইংল্যান্ড বনাম মেসির আর্জেন্টিনার মধ্যে কে বিজয়ী হবেন তার। কঠিন লড়াই। কেউ কেউ বলছেন অগ্নিপরীক্ষা। ফরাসিদের ১৬ গোলের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। নাকি স্প্যানিশ পাথুরে রক্ষণ? এর ফয়সালা হবে ডালাসের সবুজ গালিচায়। অপেক্ষায় থাকুন।

  • ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আলোচিত যত ঘটনা

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্মরণীয় ঘটনা। এমন এক মহারণের আগে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে তাদের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে। কয়েক দিন আগেই ৮৯ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আর তার বিদায়ের পরই বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

    সবশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দুই দলের শেষ লড়াই হয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। প্রায় ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। সেই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক এই দ্বৈরথের পাঁচটি বহুল আলোচিত অধ্যায়।

    রাত্তিনকে মাঠ ছাড়াতে নেমেছিল পুলিশ

    ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রিটলিনের সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিন। ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে দোভাষী চাইলেও তা মেলেনি। মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে তাকে বাইরে নিয়ে যায়।

    তখনও ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে ফুটবলে কার্ড ব্যবস্থার সূচনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বার্তোনির ঘুষিতে ভেঙেছিল চেরির দাঁত

    ১৯৭৭ সালে লা বোম্বোনেরায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচেও দুই দলের লড়াই উত্তপ্ত রূপ নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির কঠিন ট্যাকলের জবাবে আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি সরাসরি তার মুখে ঘুষি মারেন। এতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

    পরে দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখেছিলেন ট্রেভর চেরি।

    পচেত্তিনোর ফাউল, বেকহ্যামের গোল

    ২০০২ বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়েও বিতর্কের জন্ম হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে আর্জেন্টিনার মরিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

    বহু বছর পর টটেনহ্যামের কোচ থাকাকালে পচেত্তিনো দাবি করেছিলেন, ওভেন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে স্পর্শই করেননি।

    বেকহ্যামের লাল কার্ড

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দলের আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহ্যাম।

    ১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই হার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।

    ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। গোলশূন্য অবস্থায় পিটার শিলটনের সঙ্গে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান দিয়েগো ম্যারাডোনা। রেফারি গোলের স্বীকৃতি দিলে জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ মুহূর্ত।

    এর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোলটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে স্বীকৃতি পায়।

    শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে সেই আসরেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

  • ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    ‘মেসি আবারও পেনাল্টি নেবে’, বললেন ইংলিশ গোলরক্ষক

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই ফুটবল মাঠের বাইরেও বাড়তি উত্তেজনা। ইতিহাস, রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের বৈরিতা ঘিরে এই লড়াইকে ঘিরে থাকে আলাদা আবহ। তবে বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে সেই উত্তাপ কমানোরই চেষ্টা করলেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো তিনিও বললেন, এটি তাদের কাছে ‘স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ’।

    ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা জানি মেসি কতটা অসাধারণ ফুটবলার। একই সঙ্গে জানি আর্জেন্টিনা দল হিসেবেও কতটা শক্তিশালী। তবে এটি শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপের সেরা চার দলের একটি সেমিফাইনাল। দুই দলেরই আবেগপ্রবণ সমর্থক রয়েছে।’

    আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের প্রশংসাও করেন ইংলিশ এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘ডিবুর বিপক্ষে আমি খেলেছি, যখন সে ওলভারহ্যাম্পটনে লোনে ছিল আর আমি প্রেস্টন নর্থ এন্ডে খেলতাম। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে সে নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করেছে। সে একজন টপ-ক্লাস গোলরক্ষক।’

    বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা লিওনেল মেসি আবার পেনাল্টি নিতে ভয় পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমার মনে হয় না মেসি আবার পেনাল্টি নিতে বিন্দুমাত্র ভয় পাবে। সবাই মেসিকে নিয়েই কথা বলে, কারণ সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তবে আমাদের নিজেদের দল ও খেলোয়াড়দের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।’

    দুই দলের অতীত বৈরিতা, ২০০৫ সালের প্রীতি ম্যাচ কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যাম-দিয়েগো সিমিওনের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। তবে এসব বিতর্কে না গিয়ে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমরা শেষ কবে খেলেছিলাম? ২০০৫ সালে? অনেক আগের কথা। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেটাই সবাই দেখেছে। আমরা শুধু জিততে চাই এবং কোনো ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চাই। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রেখেই খেলাই আমাদের লক্ষ্য।’

  • এবারের বিশ্বকাপে ১০০ ম্যাচে যত রেকর্ড

    এবারের বিশ্বকাপে ১০০ ম্যাচে যত রেকর্ড

    বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে আয়োজিত হচ্ছে ২৩তম টুর্নামেন্ট। চলতি আসরে রেকর্ড ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি আছে- দুই সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালসহ ৪টি ম্যাচ।

    আগামী ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এখনও টিকে আছে- ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, সাবেক তিন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন।

    ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোসহ মোট ৪৪টি দল। হেভিওয়েট ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোরও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে।

    টুর্নামেন্টের ১০০ ম্যাচে যেসব রেকর্ড হয়েছে-

    ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছে ২৯২টি। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা বাড়বে এমন প্রত্যাশা ছিলই। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি। সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ১০০ ম্যাচেই গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ২৯২ তে।

    দলগতভাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭টি গোলের মালিক আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের গোল ১৬টি। ইংল্যান্ড করেছে ১৩টি এবং স্পেনের গোলসংখ্যা ১১টি। অন্যদিকে, এ টুর্নামেন্টে একমাত্র গোলশূন্য দল পানামা। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলেও তারা কোনো গোলের দেখা পায়নি।

    অ্যাসিস্টে এগিয়ে ফ্রান্স

    দলগত অ্যাসিস্টের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ফ্রান্স। তারা করেছে ১৪টি অ্যাসিস্ট। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সমান ১০টি করে অ্যাসিস্ট করেছে। স্পেনের অ্যাসিস্ট ৮টি।

    আক্রমণে সবচেয়ে ভয়ংকর বেলজিয়াম

    প্রতিপক্ষের গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া দলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বেলজিয়াম। তারা মোট ১১২টি নিশ্চিত শট নিয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্স নিয়েছে ১১০টি করে শট। আর্জেন্টিনার শটের সংখ্যা ৯৮টি।

    পাসিংয়ে আধিপত্য আর্জেন্টিনার

    বল দখল ও ছোট ছোট পাসের খেলায় এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে এ আসরে শততম ম্যাচ শেষে তারা দিয়েছে ৪ হাজার ১৬২টি পাস, যার সফলতার হার ৯১ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন, তাদের সফল পাসের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৫টি।

    রক্ষণে সবচেয়ে দৃঢ় স্পেন

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে স্পেন। মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। ফ্রান্স গোল হজম করেছে ২টি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকেই হজম করেছে ৬টি করে গোল। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১২টি করে গোল হজম করেছে ইরাক ও তিউনিশিয়া।

    আত্মঘাতী গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১০০ ম্যাচ শেষে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখেছে উত্তর আমেরিকার এবারের আসরটি। সবচেয়ে বেশি দুটি করে আত্মঘাতী গোল করেছে কাতার ও মিশরের ফুটবলাররা।

    ফাউলে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড

    টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৮৯টি ফাউল করেছে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মরক্কোর ফাউল ৮৮টি। ইংল্যান্ড করেছে ৮৭টি ফাউল, আর আর্জেন্টিনা করেছে ৬৮টি।

    লাল কার্ডেও রেকর্ড

    ২০২২ সালের পুরো বিশ্বকাপে মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৪টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, যা ২০১৮ ও ২০২২ এই দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রদর্শিত মোট ৮টি লাল কার্ডেরও বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতারের ফুটবলাররা সবচেয়ে বেশি দুটি করে লাল কার্ড দেখেছেন।

    হলুদ কার্ড ও অফসাইড

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৫৭ জন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেছেন। দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি ১২টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন মিশরের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ বার অফসাইডে ধরা পড়েছে কলম্বিয়া। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, যারা অফসাইড হয়েছেন ১৮ বার।

    গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা সেভ

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সেভ করেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তিনি করেছেন ২৮টি সেভ, যা চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।

  • আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরে রূপকথার মতো এক অভিযান উপহার দিয়েছিল নরওয়ে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি ভাইকিংরা। শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

    হতাশাজনক এই পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে হৃদয়স্পর্শী বার্তা দেন দলের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘এটি ছিল সত্যিই অসাধারণ একটি যাত্রা। আমাদের এই পথচলাকে এতটা স্মরণীয় করে তোলার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

    হালান্ডের এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    যদিও নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালেই, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা স্ট্রাইকার। পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।বিশেষ করে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে করা তার জোড়া গোল ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। হালান্ডের অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্রাজিল ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। অন্যদিকে, নরওয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।

  • প্রথমবার যে ইতিহাসের সাক্ষী হলো ফিফা বিশ্বকাপ

    প্রথমবার যে ইতিহাসের সাক্ষী হলো ফিফা বিশ্বকাপ

    এবারের বিশ্বকাপ একের পর এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে দেখা গেছে দল ও খেলোয়াড়দের নানা অনন্য অর্জন।

    সেমিফাইনালের চার দল নিশ্চিত হওয়ার পর সামনে এসেছে আরেকটি বিরল রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ চারটি দল একই আসরের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৯২ সালে র‌্যাংকিং চালু হওয়ার পর এর আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি।

    ইতিহাসের এই নতুন অধ্যায়ের অংশ হওয়া চার দল হলো আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। মজার বিষয় হলো, সেমিফাইনালে ওঠা এই চার দলের প্রত্যেকেরই রয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা।

    এর আগে মাত্র দুইবার বিশ্বকাপে এমন দেখা গিয়েছিল, যখন সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়া চারটি দলই ছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের আসরে এই নজির তৈরি হয়েছিল।

    ১৯৭০ বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠেছিল চার সাবেক চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইতালি, উরুগুয়ে ও পশ্চিম জার্মানি। আর ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট চার দল ছিল পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ইতালি ও ইংল্যান্ড।

  • কষ্ট আর্জেন্টিনার ডিএনএতে মিশে আছে: স্কালোনি

    কষ্ট আর্জেন্টিনার ডিএনএতে মিশে আছে: স্কালোনি

    গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে দাপুটে জয় নিয়েই নকআউটে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু নকআউট পেরিয়ে সেমিফাইনালের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দে, শেষ ষোলোতে মিসর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রীতিমতো ঘাম ঝরিয়ে জিততে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষা দিয়েই জিততে হবে- এমনটাই যেন মেনে নিয়েছেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। দেশটির বিশ্বকাপজয়ী কোচ বলেন, তীব্র চাপ উপেক্ষা করে লড়াই করে জয় পাওয়াটাই তাদের পরিচয়।

    কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের কষ্ট করে জিততে হবে। এটা আমাদের রক্তে মিশে গেছে, আমাদের ডিএনএতেই আছে। এটাই আমাদের মানসিক শান্তি দেয়।’

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার প্রত্যেকটি ম্যাচই ছিল নাটকীয়তায় ভরা। কেপ ভার্দের মতো নবাগত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয়। এরপর মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডও আর্জেন্টাইনদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিয়ে সেমিফাইনের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    স্কালোনির বিশ্বাস, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাই কঠিন মুহূর্তগুলো সামলে তার দলকে জয় পেতে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, ‘কাতারে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, আমিও ছিলাম না। তখন এমন পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি প্রতিপক্ষের চাপে পড়া কেমন, সমতা ফিরিয়ে আনার চাপ কেমন। তাই আজ আমরা শান্ত থাকতে পেরেছি। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।’

    সুইজারল্যান্ডের প্রশংসাও করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘ওরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। একের বিপক্ষে এক লড়াইয়ে ওরা দারুণ শক্তিশালী ছিল। টানা পাঁচ-ছয়টি পাস খেলাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সত্যিই অনেক ভুগতে হয়েছে।’

    খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেছেন, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা একটি দল, আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর এটাই প্রমাণ করে ফুটবল কতটা কঠিন খেলা।’

  • ২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ শুরু হবে?

    ২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ শুরু হবে?

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। তার মতে, বিশ্বকাপ শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত একটি স্বপ্নের মঞ্চ হওয়া উচিত।

    সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিষয় বিবেচনা করলে হবে না। এই প্রতিযোগিতা পুরো বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রতিটি দেশেরই এখানে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

    তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর দল বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবলের মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে তাদের ফুটবল উন্নয়নের প্রেরণাও বাড়বে।

    ইনফান্তিনো মনে করেন, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপ সফল হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি আফ্রিকার দলগুলোর পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এবারের আসরে আফ্রিকার ১০ দলের মধ্যে ৯টি দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে আগের বিশ্বকাপে মহাদেশটি থেকে মাত্র পাঁচটি দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

    ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল ২০৩০ সাল থেকে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হিসেবে থাকছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল উরুগুয়ে।

    তবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণার বিরোধিতাও রয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘খারাপ ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার আশঙ্কা, দল বাড়ালে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একইভাবে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি মনে করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আগ্রহী হতে পারে এবং ৬৪ দলের আসর হলেও সেটি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।

    ফিফার বর্তমান অবস্থান হলো, সদস্যদের কাছ থেকে আসা যেকোনো প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে। তবে আপাতত ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা কাউন্সিল।

  • আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    আর্জেন্টিনার প্রতি এখনও ক্ষোভ কমেনি মিশরের

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের কয়েক দিন পরও ক্ষোভ কমেনি মিশর শিবিরে। দলের কোচিং স্টাফ আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তোপ দেগে দাবি করেছে, বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণেই তাদের ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

    মিশরের অভিযোগ, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তাদের একটি বৈধ গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত। সেই মুহূর্ত থেকেই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

    বিতর্কের মধ্যেও এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।

    কিন্তু শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে নিলে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    মিশরের কিংবদন্তি যমজ হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান দেশটির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

    হোসাম হাসান বলেন, ‘ওরা ভীষণ উসকানিমূলক আচরণ করেছে। শুরু থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করেছে। খেলোয়াড়দের মুখোমুখি গিয়ে বারবার উসকানি দিয়েছে। এমনকি একজন লাল কার্ডও দেখেছে। তার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করা।’

    মিশরের কোচের মতে, এই পরাজয়ের জন্য শুধু নিজেদের দায়ী করা যায় না; ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বড় কারণ।

    তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। রেফারি পুরো ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছেন। প্রতি দুই মিনিট পরপর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তর্ক, একের পর এক হলুদ কার্ড এবং প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই আমাদের বিপক্ষে গেছে। এতে পুরো ম্যাচ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল।’

    মিশরের জন্য এই বিদায় তাই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ইতিহাস গড়ার সুযোগ তাদের হাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতা তাদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে দেয়। সেই নাটকীয় ম্যাচ এবং রেফারিং বিতর্ক দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলেই মনে করছে ফুটবল অঙ্গন।

  • কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    কারা জিতবে বিশ্বকাপ, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালসহ আর মাত্র চারটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা নামবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা আসরের। ৪৮ দলের মহারণ পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ৪টি দলেরই সেমিফাইনালে খেলার কথা বলেছিল ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার। সেই সুপারকম্পিউটার এবার নেমেছে চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ে। নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর তারা জানিয়েছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নামও।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেমিফাইনালের ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিক থেকে তারা ২৩.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    সুপারকম্পিউটারের ধারণা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের হাতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা স্পেনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালের মঞ্চে খেলার সম্ভাবনা ৫০.৯ শতাংশ।

    এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২০.৬ শতাংশ, যা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জয়ের পূর্বাভাস প্রায় সমানে সমান। ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৪৯.১ শতাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে। অর্থাৎ, এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

    প্রসঙ্গত, অপ্টার সুপারকম্পিউটার কোনো ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য প্রায় ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালায়। এছাড়াও দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, শক্তিমত্তা, অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বেছে নেওয়া চারটি দলই কোয়ার্টারের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

    এর আগে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ৬টির ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচের বিজয়ীও তারা সিমুলেশনের মাধ্যমে আগেভাবেই নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

  • আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল

    আর্জেন্টিনা কি রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।

    শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসরের কোচ ও কয়েকজন ফুটবলার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, শিরোপাধারীদের সুবিধা দিতেই এবারের বিশ্বকাপ সাজানো হয়েছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। অনেকের মতে, ওই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল না।

    নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ ভিএআরের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকার দুই নম্বরে আছে আর্জেন্টিনা। শীর্ষে রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মেক্সিকো।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেষ ষোলো পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তও যায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও।

    প্রতি ১০০টি ফাউলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত পাঁচ দল হলো—মেক্সিকো (দলের পক্ষে ৭.৮, বিপক্ষে ০.০), আর্জেন্টিনা (৬.৭, ০.০), পর্তুগাল (৪.৬, ০.০), নিউজিল্যান্ড (৪.২, ০.০) এবং সৌদি আরব (৩.৬, ০.০)।

    অন্যদিকে, ভিএআরের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার ওপর। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের পক্ষে একটি ভিএআর সিদ্ধান্তও পায়নি। তাদের বিপক্ষে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার প্রতি ১০০ ফাউলে ৬.৫।

    এই তালিকায় এরপর রয়েছে ইরান (দলের পক্ষে ০.০, বিপক্ষে ৫.৪), কাতার (০.০, ৫.১), জার্মানি (০.০, ৪.০) এবং ইংল্যান্ড (০.০, ৩.৫)।

  • যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    বিশাল আকৃতির একটি বটগাছ। গাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে ডালপালা—সবখানেই আকাশি ও সাদা রঙের ছোঁয়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, প্রকৃতি যেন আর্জেন্টিনার চিরচেনা পতাকার সাজে সেজেছে। যেন আর্জেন্টিনার পতাকাই আকাশ ছুঁয়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।

    সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজগড়া-জামতৈল খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে যমুনার চরে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয়দের চাঁদায় প্রায় ১০ হাজার টাকার রঙ কিনে যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি ১৯ জন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বটগাছটি রাঙিয়েছেন।

    বটগাছটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আড়াই যুগেরও বেশি পুরোনো এই বটগাছটি এতদিন যমুনার চরের ক্লান্ত পথিকদের ছায়া দিত। এখন এটি ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নীল-সাদা রঙে সজ্জিত গাছটি চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যেন সমর্থকদের স্বাগত জানাচ্ছে। গাছের ওপরে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে। নিচে চায়ের দোকানে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন সমর্থকেরা।

    স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রান্না করা খাবারের আয়োজন, সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জাও থাকে। এসব আয়োজনের জন্য স্থানীয়রাই চাঁদা তোলেন।

    স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থক আসাদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই বটগাছটি নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

    তিনি আরও বলেন, ফুটবলের উন্মাদনা এখন যমুনার চরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনের কাজ শেষে বিকাল বা সন্ধ্যায় এখানে বসে সবাই আলোচনা করেন—২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে।

  • ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইকে ঘিরে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। সেই বিতর্কে এবার জড়িয়ে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়।

    ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবাতে-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, তবে তার দাবি, দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’, তারপরও তারা দুর্দান্ত খেলছে।

    রাহয়ের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার বক্তব্যকে বর্ণবাদী ও বিভাজনমূলক বলে আখ্যা দেন।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার বিএফএম টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাহয়ের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে বৈচিত্র্যই শক্তি, আর বিভিন্ন পটভূমির মানুষ সমানভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পায়।

    শুধু ফ্রান্সেই নয়, রাহয়ের বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি তিনি রাহয়ের নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

    স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এখনও এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোনো দেশের নাগরিকত্বকে পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে বিচার করেন। অথচ প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা এবং অবদানের ভিত্তিতে। তিনি রাহয়ের মন্তব্যকে বিদেশিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।

  • আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    আবেগঘন বার্তায় যা বললেন হালান্ড

    ২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরে রূপকথার মতো এক অভিযান উপহার দিয়েছিল নরওয়ে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি ভাইকিংরা। শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

    হতাশাজনক এই পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে হৃদয়স্পর্শী বার্তা দেন দলের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘এটি ছিল সত্যিই অসাধারণ একটি যাত্রা। আমাদের এই পথচলাকে এতটা স্মরণীয় করে তোলার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

    হালান্ডের এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    যদিও নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালেই, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা স্ট্রাইকার। পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

    বিশেষ করে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে করা তার জোড়া গোল ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। হালান্ডের অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্রাজিল ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। অন্যদিকে, নরওয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।

  • মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রাখবে ইংল্যান্ড

    মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রাখবে ইংল্যান্ড

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মহারণ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর সাবেক ইংলিশ ফুটবলাররাও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জো কোল, যিনি লিওনেল মেসিকে ঘিরে বেশ সাহসী মন্তব্য করেছেন।

    নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের এক আলোচনায় গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মাইকাহ রিচার্ডসের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিয়ে কথা বলছিলেন কোল। সেখানেই তিনি বলেন, ‘মেসিকে আমাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হবে। আমরা ওকে নিষ্ক্রিয় করে রাখব। আমি শতভাগ নিশ্চিত।’

    কোলের এমন মন্তব্য শুনে উপস্থিত অন্যরা সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে দেন। তারা বলেন, ‘এখনই এমন কথা বলো না। এসব পরে বলা যাবে।’ কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি সাবেক চেলসি ও লিভারপুল তারকা. তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে।’

    তবে আলোচনায় কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন সাবেক ডিফেন্ডার মাইকাহ রিচার্ডস। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনাকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। রিচার্ডস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা খুবই চতুর এবং মানসিকভাবে ভীষণ লড়াকু। তাদের হারাতে হলে ইংল্যান্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে আরও ভালো খেলতে হবে। তবে আমাদের গতি তাদের চেয়ে বেশি। আমার বিশ্বাস, আমরা জিতব।’

    মজার বিষয় হলো, জো কোল অতীতে একাধিকবার প্রকাশ্যে লিওনেল মেসির প্রশংসা করেছেন। এমনকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে এগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক আলোচনায় কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় রোনালদো রাতে হয়তো ভাবেন, যদি তিনি মেসির মতো নিখুঁত হতে পারতেন! মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি ফুটবলে অর্জনের সবকিছু অর্জন করেছেন।’

    এদিকে আরেক সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি নেভিলও আর্জেন্টিনার দুই সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন। নেভিলের ভাষায়, ‘ওদের আমি বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে অস্থির সেন্টার-ব্যাক জুটি বলি। কখনো তারা অসাধারণ খেলবে, সব বল জিতবে, আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করবে, যা বিশ্বাস করা কঠিন। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই তারা যেন অন্য এক রূপ ধারণ করে।’

    আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াইয়ের আগে কথার উত্তাপও সমানতালে বাড়ছে।

  • বিশ্বকাপে এমবাপেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপে এমবাপেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করেন আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করার একমাত্র কৃতিত্ব মেসির।আজ রোববার কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল‍্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

    ম‍্যাচে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়নদের উল্লেখযোগ‍্য অর্জনগুলো তুলে ধরা হলো- ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর এবারই প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা চার দল বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলছে। এছাড়া এ নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করল অতীতে শিরোপা জেতা চার দল। ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপেরও সেমি-ফাইনালেও ছিল একই চিত্র।

    আসরে লিওনেল মেসি এমন ২০ টি পাস দিয়েছেন যেগুলো থেকে লক্ষ‍্যে শট নিয়েছেন সতীর্থরা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন তিন আসরে গোল পোস্টে ২০ বা এর বেশি এমন পাস দিয়েছেন (২০২২ সালে ২১ টি ও ২০১৪ সালে ২৪ টি)।

    চলতি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে যা সর্বোচ্চ। এর আগে ফ্রান্স চলতি আসরে টানা চার ম্যাচে তিন বা ততোধিক গোল করেছিল। তাদের ওই যাত্রা থামে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে।

    বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সমান গোল করেছে কর্ণার থেকে। অথচ গড় উচ্চতার দিক থেকে এবারের আসরে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উচ্চতা তৃতীয় সর্বনিম্ন। কর্ণারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে সেট পিসে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছে আর্জেন্টিনা।

    চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি কোয়ার্টার-ফাইনালে শুরুর একাদশে খেললেন লিওনেল মেসি। এর আগে খেলেছেন- জার্মানির লোথার ম্যাথিউস, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং উয়ে সিলার। বিশ্বকাপে হুলিয়ান আলভারেসের পাঁচ গোলের চারটিই এসেছে নকআউট পর্বে। দিয়েগো মারাদোনাও নকআউট পর্বে চার গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে তাদের উপরে আছেন লিওনেল মেসি (৭)।

    ডাইভ দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাগাইল এমবোলো। শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে এই কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন মেক্সিকোর লুইস পেরেস (বিপক্ষ পর্তুগাল, ২০০৬), ঘানার আসামোয়া জিয়ান (বিপক্ষ ব্রাজিল, ২০০৬) এবং ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি (বিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, ২০০২)। এ নিয়ে চলমান আসরে নকআউট পর্বের ৮টি ম্যাচ (২৮তম ম্যাচে) অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। এর আগে সমান সংখ্যক ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে। এই দুই আসরে নকআউট পর্বে ছিল ১৫ ম্যাচ, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১-এ।

    বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ পর গোল করতে পারলেন না মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচের পর, এবারের আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন। কর্ণার থেকে আলিক্সেস মাক আলিস্তের গোলে অবদান রেখে বিশ্বকাপে মোট ১০ অ্যাসিস্ট করলেন মেসি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট তার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মারাদোনা করেছেন ৮ অ্যাসিস্ট। মেসির এই ১০ অ্যাসিস্টে ভিন্ন ভিন্ন ১০ জন ফুটবলার গোল করেছেন।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কখনও বিশ্বকাপে এতো আগে (দশম মিনিট) অ্যাসিস্ট করেননি মেসি। এটি কর্ণার থেকে করা মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট। কিলিয়ান এমবাপের পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপেও ১০ গোলে অবদান রাখেন তিনি। এমবাপেও ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রেখেছেন।

    মাক আলিস্তেরের গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও মূল আসর মিলিয়ে প্রথমবার প্রতিপক্ষের গোলে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড। এই চক্রে ১১ ম্যাচে (বাছাইপর্বে ৬ ম্যাচ ও বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচ) কখনই পিছিয়ে পড়েনি দলটি। বিশ্বকাপে নিজের সবশেষ ৮ নকআউট ম্যাচে ১৩ গোলে (৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট) অবদান রেখেছেন মেসি।

    বিশ্বকাপে এ নিয়ে ১৩ বার আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। পেছনে পড়ে গেল জার্মানি। টাইব্রেকারসহ হিসেব করলে এই ১৩ ম্যাচের ১১ টিই জিতেছে আর্জেন্টিনা। পঞ্চম বারের মতো অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি। ছয় জয় নিয়ে সবার উপরে আছে ইতালি।

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১৫ গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি। শেষ ৬০ বছরে এটাই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপে অবদান রেখেছে ১৪ ম্যাচে। কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়সী একাদশ নিয়ে মাঠে নামেছিল আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়নদের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১৭৭ দিন। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ২০৯ দিন।

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে দেরিতে গোল করার রেকর্ড এখন লাউতারো মার্তিনেসের দখলে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১তম মিনিটে গোল করেন তিনি।

  • কোন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার

    কোন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার

    সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড বিশ্বকাপে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুইসদের সমতাসূচক গোলের পরপরই পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরোর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, এটি ছিল বিশ্বকাপে চালু হওয়া ভিএআরের নতুন একটি নিয়মের প্রয়োগ।

    কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭২ মিনিটের ঘটনা। এমবোলোকে ফাউলের অভিযোগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ম্যাচ পরিচালকের কাছে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন পারেদেস। এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ড রেফারি (ভিএআর) দেখতে যান পিনেইরো। ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, এমবোলোকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার কোনো ফাউলই করেননি। বরং এম্বোলো ফাউলের ভান করেছিলেন।

    এই অবস্থায় ভিএআরের মিস্টেকেন আইডেন্টিটি বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার প্রোটোকল কার্যকর হয়। যেহেতু রেফারি প্রথমে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, তাই ভিডিও রিপ্লে দেখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ফাউলের ভান করে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার কারণে এমবোলোকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। সেটা ছিল ম্যাচে তাঁর দেখা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস এই ফরোয়ার্ডকে।

    এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এবারের বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচেও একই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেবার রেফারি প্রথমে আলমিরনের ওপর ফাউলের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর পর্যালোচনায় পর দেখা যায়, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়ই ফাউলের ভান করেছিলেন। এরপর রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্যারাগুয়ের ওই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান।

    বিশ্বকাপে ভিএআরের নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হলে ভিডিও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যাবে। একই সঙ্গে ফাউলের ভান বা প্রতারণার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ও শাস্তি পাবেন। এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ড সেই নিয়মেরই সর্বশেষ উদাহরণ।

  • সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, কিছু যায় আসে না: আর্জেন্টিনার কোচ

    সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, কিছু যায় আসে না: আর্জেন্টিনার কোচ

    কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে এখন সেমিফাইনালের দিকে তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। শেষ চারে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। বরং দলকে সেরা ফুটবল খেলার তাগিদ দিলেন তিনি।

    কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা। তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের আগেই শেষ চারের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে টমাস টুখেলের দলের জয় ২-১ ব্যবধানে।

    ফাইনালে ওঠার মিশনে আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় আটালান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ সম্পর্কে স্কালোনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হোক বা নরওয়ে, তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা এমন একটি দলের (ইংল্যান্ড) মুখোমুখি হব যারা খুব ভালো ফুটবল খেলে এবং তাদের একজন দারুণ কোচ আছেন। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শক্তি ফিরে পাওয়া। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

    কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। মাক আলিস্তারের গোলে ৬৬ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ডান এনদয়ে সুইজারল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরানোর পর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। এরপর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বাজিমাত করে আর্জেন্টিনা। একটি করে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের ভুগেতে হয়েছে। জানতাম তারা (সুইজারল্যান্ড) খুবই শারীরিক শক্তিনির্ভর দল। আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল এবং কিছু মুহূর্তে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল, কারণ তাদের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিল। তখনই আমরা আক্রমণে যেতে পেরেছি। বাস্তববাদী হতে হবে, আমাদের উন্নতির জায়গা আছে। তবে জিততে পারা সব সময়ই ভালো।’

    কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে না পারলেও শেষ চারে ওঠার আনন্দ লুকাননি স্কালোনি, ‘হয়তো আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম। কিন্তু এই দল যা অর্জন করেছে, তা ইতিহাস। আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা সত্যিই ঐতিহাসিক।’

  • প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না,  উন্নতির তাগিদ স্কালোনির

    প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না, উন্নতির তাগিদ স্কালোনির

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে জয়ের আনন্দের মধ্যেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালের আগে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

    কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের উন্নতি করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। তবে জয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনটি অবশ্যই ঐতিহাসিক।’

    সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের প্রশংসাও করেন আর্জেন্টাইন কোচ। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা এমন একটি দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যারা দারুণ ফুটবল খেলে এবং তাদের একজন অসাধারণ কোচ রয়েছে।’

    তবে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হওয়ায় প্রস্তুতির ধরনে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলেও জানান স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হোক বা নরওয়ে, আমাদের সামনে ভালো একটি দলই থাকত। এই পর্যায়ে উঠে আসা প্রতিটি দলই শক্তিশালী।’

    কোয়ার্টার ফাইনালে ১২০ মিনিট লড়াই করতে হওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তিকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। তাই সেমিফাইনালের আগে ঝরঝরে হওয়াকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি বলেন, ‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলোয়াড়দের দ্রুত রিকভার করা।’

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় আটকে ছিল আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর শেষ মুহূর্তে লাউতারো মার্তিনেজ আরেকটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

    এই জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়েছে আর্জেন্টিনার। আগামী ১৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

  • ‘লাল কার্ডেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে’

    ‘লাল কার্ডেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে’

    ফিফার নতুন নিয়মের বলি হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সুইসরা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড এবং ফিফার নতুন ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ আইন। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ম্যাচ শেষে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড শিবির।

    কানসাসে ম্যাচটিতে দুই দলই সমানে সমানে লড়াই করছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে ৭১ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সামনে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

    ম্যাচের ৭১ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর। তবে এই লাল কার্ডটি সাধারণ কোনো কার্ড ছিল না। ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনার অনুরোধে এই বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ (ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সংশোধনের আইন) নিয়মের অধীনে লাল কার্ড দেখা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হলেন এম্বোলো। এই সিদ্ধান্তের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সুইস তারকা।

    রেফারির এই সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য নয়। আমি জানি তারা (ফিফা) রেফারিদের প্রতিবারই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই নিয়মের কারণেই আজকের ম্যাচটা শেষ হয়ে গেছে।’

    ইয়াকিনের দাবি, এম্বোলোর ফাউলটি মোটেও বিপজ্জনক ছিল না এবং সেখানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো যৌক্তিকতাই ছিল না। ম্যাচ শেষে এম্বোলোর মানসিক অবস্থা নিয়ে কোচ জানান, ‘সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। দলকে সে সহযোগিতা করতে পারেনি আজ। তার মতো আমরা সবাই ব্যথিত। এটা পুরোপুরি রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত।’

    কোচের সুরেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লার। ম্যাচের রেফারিং এবং ভিএআর-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না রেফারি কী করছিলেন। প্রথমার্ধে এরকম ফাউল আরও অনেকগুলো হয়েছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে তো এই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। তাহলে তো সবাইকেই হলুদ কার্ড দেখাতে হয়।’

    ভিএআরের যত্রতত্র হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না এরকম পরিস্থিতিতে ভিএআর কীভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। মাঠের রেফারিদের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে দেওয়া উচিত।’

    একটি নতুন নিয়ম এবং রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি দলের বিশ্বকাপের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে পারে, কানসাসের এই ম্যাচটি তারই এক নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল।

  • ‘কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি’

    ‘কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি’

    সহজ ছিল না লড়াইটা। নির্ধারিত সময়ে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কঠিন এই জয়ের পর সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করার পর ইনস্টাগ্রামে মেসি লেখেন, “আবারও আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে! চল এগিয়ে যাই!”

    কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সুইজারল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এবার অবশ্য সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে লিওনেল স্কালোনির দলের। আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপে দেশকে তৃতীয় শিরোপা এনে দিয়েছিলেন মেসি। এবার তার সামনে রয়েছে আরও একটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।

    এদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও দৌড়ে আছেন মেসি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি। সেমিফাইনাল ও সম্ভাব্য ফাইনালে আরও গোল করে নিজের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করার লক্ষ্য থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।

  • থিবো কোর্তোয়ার শেষ প্রহরের কান্না

    থিবো কোর্তোয়ার শেষ প্রহরের কান্না

    স্পেন-বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের তখন ৮৮ মিনিট, ১-১ গোলে সমতা। নির্ধারিত সময়ের বাকি আর দুই মিনিট। এরপর যোগ করা সময় শেষেই অতিরিক্ত সময়ের লড়াই। দুদলের সমর্থকরাই দুলছেন হৃদকম্পনের তালে-তালে। হঠাৎ পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট, বদলি গোলরক্ষক ল্যামেন্স বল আটকে দিলেও হাতে রাখতে পারলেন না। ফিরতি বল পেয়েই চিতার গতিতে গিয়ে জাল কাঁপিয়ে দেন সুযোগসন্ধানী মিকেল মেরিনো। আর সেই গোলেই শেষ হয়ে যায় বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।


    ইয়ামাল-মেরিনোরা যখন উল্লাসে ব্যস্ত, ক্যামেরার লেন্স ঘুরে গেল ডাগআউটের দিকে। দীর্ঘদিন বেলজিয়ামের তিন কাঠি আগলে রাখা কোর্তোয়া বসে আছেন নীরবে। মুখে হতাশা, চোখে অবিশ্বাস। দীর্ঘশ্বাসের দীঘল বাতাস উড়ে বেড়ালো লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের বিবর্ণ গালিচায়। কোর্তোয়ার জীবনে এই বাতাসের আঁচটাই বোধহয় সবচেয়ে শীতল, বেদনাবিধুর ও বিষাদগ্রস্ত!

    স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম সমানে সমান লড়েছে। কোর্তোয়া একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে একটি লম্বা গোলকিক নিতে গিয়েই অনুভব করেন বাম ঊরুর কোয়াড্রিসেপসে তীব্র ব্যথা। চিকিৎসা নিয়ে আবার খেলতে শুরু করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব, শুধু লম্বা কিক নেওয়াটাই কঠিন হয়ে পড়ছিল।

    এরপর কোচ রুডি গার্সিয়া যে সিদ্ধান্ত নিলেন তাতে হীতে বিপরীতই হলো। শতভাগ ফিট নন—এমন একজন গোলরক্ষককে রেখে ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। ৩৪ বছর বয়সি কোর্তোয়াকে তুলে মাঠে নামানো হয় তরুণ সেনে ল্যামেন্সকে। বেঞ্চে বসেই চোখ ভিজে যায় কোর্তোয়ার। তখনো তিনি জানতেন না, সামনে অপেক্ষা করছে আরো বড় যন্ত্রণা। যে যন্ত্রণা পুষতে হবে পরবর্তী চার বছর। ততদিনে কি কোর্তোয়া বেলজিয়াম দলে থাকবেন, নাকি বয়সের চোখরাঙানিতে ঠাঁই হবে ইতিহাসের পাতায়? প্রশ্ন থেকেই গেল।

    তবু ম্যাচ শেষে নিজের চরিত্রের আরেকটি সুন্দর দিক দেখিয়েছেন কোর্তোয়া। শেষ বাঁশি বাজার পর সবার আগে এগিয়ে গেছেন ল্যামেন্সের কাছে। ভেঙে পড়া তরুণ গোলরক্ষককে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছেন। কারণ তিনি জানেন, গোলরক্ষকের ভুলের বোঝা কতটা ভারী। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোর্তোয়ার ভাষ্য, ‘কোয়াড্রিসেপসে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম। তবু আমি গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। শুধু লম্বা কিক নেওয়াটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। কোচ আমাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। দলের স্বার্থই সবার আগে।’

    এরপর যা বললেন সেটা দীর্ঘশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়াম সমর্থকদের হৃদয়ে, ‘হয়তো এটাই বেলজিয়ামের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ ছিল।’ এরপরই জানিয়েছেন, তিনি জাতীয় দল থেকে এক বছরের বিরতি নিতে চান। তার ইচ্ছা, নেশন্স লিগ না খেলে ইউরো বাছাইপর্বের আগে ফিরে আসা। তবে সেটি বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন মেনে নেবে কি না, তা তাদের সিদ্ধান্ত। যদি তারা রাজি না হয়, তাহলে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়তো তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকবে।

    এই কথাগুলো যেন এক যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত। বিশ্বকাপের আগে থেকেই কোর্তোয়া ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটি সম্ভবত তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। গত কয়েক বছরে চোট-আঘাত বেড়ে যাওয়া, ক্লাব ও জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি—সব মিলিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলেন। এমনকি বিশ্বকাপ শুরুর আগেও বলেছিলেন, এই টুর্নামেন্টের পর জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। শেষ প্রহরের গল্পে সেদিকেই বোধহয় পা বাড়ালেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক।

    সংখ্যার হিসাবে কোর্তোয়ার ক্যারিয়ার অসাধারণ। ২০১১ সালে অভিষেকের পর ১১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে তৃতীয় স্থান এনে দেওয়া, সেই আসরে গোল্ডেন গ্লাভস জয়—সবই তার ঝুলিতে। কিন্তু বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোর ট্রফি কখনো স্পর্শ করা হয়নি। তবু ফুটবলের সেরা গোলকিপারদের একজন হয়েই থাকছেন কোর্তোয়া।

    ফুটবল খুব অদ্ভুত। একজন গোলরক্ষক পুরো ম্যাচে ১০টি অবিশ্বাস্য সেভ করলেও মানুষ মনে রাখে শেষের একটি গোল। কোর্তোয়ার গল্পটি তেমন হলেও ভিন্ন। গল্পটি একজন কিংবদন্তির, যিনি ইনজুরি নিয়েও মাঠে থাকতে চেয়েছেন শেষ পর্যন্ত, বেঞ্চে বসে ভাঙতে দেখেছেন স্বপ্ন, ম্যাচ শেষে সান্ত্বনা দিয়েছেন সেই সতীর্থকে, যার ভুলে বিষাদ নেমে এসেছে বেলজিয়ামের আকাশজুড়ে। ফুটবলে ‘সত্যিকারের কিংবদন্তি’ টার্মটা বোধ হয় কোর্তোয়ার জন্যই। সব কিংবদন্তির হাতে ট্রফি থাকে না। এক জোড়া গ্লাভস হাতেও কেউ কেউ হয়ে ওঠেন ইতিহাস, কোর্তোয়া যেমন।

  • শেষের ঝড়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

    শেষের ঝড়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই বলে কথা। রোমাঞ্চ আর স্নায়ুচাপ সবই থাকল। শেষের নাটকীয়তা শেষে হাসি হাসল লিওনেল মেসিরাই। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ৯ মিনিটের আক্রমণের ঝড়ে দুই গোল যোগ করে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে নেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতায় থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষের নাটকীয়তা শেষে সুইস রক্ষণভাগ ভেঙে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ চারের ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা লড়বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

    ম্যাচের শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সুইস রক্ষণভাগের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে। এর ফলও তারা হাতেনাতে পায় ম্যাচের ১০ম মিনিটেই। মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দুর্দান্ত এক আক্রমণে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আর্জেন্টিনা আধিপত্য বজায় রাখলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড বেশ কয়েকটি প্রতিআক্রমণ চালালেও গোল করতে ব্যর্থ হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ড্যান এনদোয়ে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে সমতায় ফেরান। সমতায় ফেরার পর ম্যাচ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জমে ওঠে। তবে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সুইস শিবির। দলের তারকা ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। একজন কম নিয়ে খেলার পরও নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত তারা আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে রুখে দিয়েছিল।

    ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে অল-আউট আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। সুইস গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা বীরত্বের সঙ্গে বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১১২তম মিনিটে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ নিখুঁত এক শটে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (১২০+১ মিনিট) লাউতারো মার্টিনেজ সুইজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। তাতে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নেয়।

    এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের শেষ টিকিটটি লুফে নিয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই, বুধবার তারা ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার ফ্রান্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে স্পেনের বিপক্ষে।জশেষের ঝড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দশ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার লিড এনে দিলে জয়ের স্বপ্ন বুঁনতে থাকে । কিন্তু লড়াইয়ের ৬৭ মিনিটে স্কোর লেভেল করেন সুইজারল্যান্ডের দান এনদোয়ে। পাঁচ মিনিট বাদেই ব্রিল এম্বোলো লাল কার্ড দেখলে দশ জনে পরিণত হয়ে যায় সুইসরা। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এক্সট্রা টাইমের ১১১ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের গোলও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ইনজুরি টাইমে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ চারের ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা লড়বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

  • সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন?

    লিওনেল মেসিকে নিয়ে সংশয়! এ তো রীতিমতো দুঃসাহস! তবু ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নটা করতে হচ্ছে। আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেলে মেসিই কি নেবেন? প্রশ্নটা করতে হচ্ছে মেসির কারণেই। কারণটা হয়তো জানেনই—এবারের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি নিয়ে দুটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি।

    একবার ভাবুন তো, ওই দুটি পেনাল্টি থেকে মেসি গোল পেলে কী হতো? মিসর ম্যাচে হয়তো আর্জেন্টিনা খাদের কিনারায় পড়ত না। কিছু সময়ের জন্য দল চাপে পড়ত না অস্ট্রিয়া ম্যাচেও। সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন একাই রাজত্ব করতেন। ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সিংহাসন ভাগাভাগি করতে হতো না।

    ধরুন, আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আবার পেনাল্টি পেল, তখন কি সেটা মেসিই নেবেন? নাকি অন্য কেউ? অন্য কাউকে আলোচনায় আনাটা সহজ নয়। কারণ, এই দলে সবকিছুই তো মেসিনির্ভর! একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক।

    মিসরের বিপক্ষে গোলের পর মেসির উদ্‌যাপন রয়টার্স

    সর্বশেষ যে ম্যাচটিতে মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন, সেই ম্যাচেই মেসি গোল করেছেন, আবার করিয়েছেনও। বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছেন, যেখানে ১৯৬৬ সালের পর থেকে অন্য কোনো খেলোয়াড় তিনবারের বেশি এটি করতে পারেননি। সেই ম্যাচেই মেসি গড়েন বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ আর নকআউট ম্যাচে টানা ৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ড।

    তো এত সব করা মেসিকে পেনাল্টি নিতে বারণ করাও তো বিপদ! আর্জেন্টিনা দলে অন্যরা কেমন পেনাল্টি নেন, সেটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেসি ছাড়া আর কে আছেন পেনাল্টি নেওয়ার মতো? মেসি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে পেনাল্টি নিয়েছেন ১৪৮টি। এর মধ্যে ১১৪টি শটে গোল করেছেন, সাফল্যের হার ৭৭ শতাংশ। মেসির চেয়ে কেউ কি ভালো আছেন এই দলে?

    শতাংশের বিচারে বললে বলতে হবে, আছেন। তা–ও একজন নয়। এই হিসাবে পেনাল্টিতে মেসির চেয়ে ভালো আছেন পাঁচজন। আর্জেন্টিনা দলে পেনাল্টি সফলতায় সবচেয়ে এগিয়ে লিয়ান্দ্রো পারদেস, তাঁর সফলতার হার ৯২.৯ শতাংশ।

    তালিকায় এর পরে আছেন ম্যাক অ্যালিস্টার, তিনি ৯১.৭ শতাংশ পেনাল্টিকে গোলে পরিণত করেছেন। সমান শতাংশ সফলতা আছে এনজো ফার্নান্দেজেরও। হুলিয়ান আলভারেজের সফলতার হার ৮৯.৪ শতাংশ। এমনকি নিকো গঞ্জালেজের পেনাল্টি সফলতার হারও মেসির চেয়ে ভালো—৮২.০৪ শতাংশ।

    তাহলে এরা সবাই কি মেসির চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেন? এর আসলে সরাসরি কোনো উত্তর নেই। কারণ, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১০টি পেনাল্টি গোল করা কোনো আর্জেন্টাইন মেসির ৫ শতাংশের ভাগের এক শতাংশ পেনাল্টিও নেননি। এ তালিকায় মেসির পর সর্বোচ্চ পেনাল্টি নিয়েছেন মার্তিনেজ, তা–ও মাত্র ২৭টি। পেনাল্টি যিনি বেশি নেন, মিস তো তিনিই বেশি করবেন!

  • কেইন না হলান্ড—গোল করায় কে বেশি দক্ষ

    কেইন না হলান্ড—গোল করায় কে বেশি দক্ষ

    ম্যাচে আপনার দল পিছিয়ে, গোল দরকার যেকোনো মূল্যে, আপনি কার দিকে আশাভরে তাকিয়ে থাকবেন?

    এই মুহূর্তে আপনাকে প্রশ্ন করা হলে মেসি-এমবাপ্পের সঙ্গে আপনার মাথায় আসতে পারে আরও দুটি নাম। হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ড। আর আজ রাতে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচটা এই সময়ের দুই সেরা স্ট্রাইকারকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষ হিসেবে।

    এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যা পারফরম্যান্স, তাতে তাঁদের খুব বেশি আলাদা করা কঠিন। হলান্ড এর মধ্যে করে ফেলেছেন ৭ গোল, কেইনের গোল ৬টি। হলান্ড অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছেন, পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। যে কারণে কেইনের প্রতি ৯০ মিনিটে ১.২ গোল গড়ের চেয়ে হলান্ডের রেকর্ডটা বেশ ভালো, ১.৮।

    দুজনের পার্থক্য আছে আরও একটা জায়গায়। কেইন দুটি গোল পেয়েছেন পেনাল্টি থেকে, হলান্ডের কোনোটিই পেনাল্টি থেকে নয়। হলান্ডের ৭ গোলের মধ্যে ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি ছিল বক্সের বাইরে থেকে, কেইনের আবার বক্সের বাইরে থেকে একটি গোলও নেই।

    ক্লাব ফুটবলেও দুজন গোলের পর গোল করে গেছেন গত বেশ কিছু মৌসুম ধরেই। ৩২ বছর বয়সী কেইন সবচেয়ে সোনালি সময় কাটাচ্ছেন, এই মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে করে ফেলেছেন ৭৩ গোল। এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোলের কীর্তি আছে শুধু ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির (৮২)। হলান্ড একটু পিছিয়ে, ম্যান সিটি ও নরওয়ের হয়ে এই মৌসুমে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৫৮।

    হ্যারি কেইন আছে দারুণ ছন্দেএএফপি

    দুজনের তুলনায় কেউ বলতেই পারেন, কেইন হয়তো হলান্ডের চেয়ে আরেকটু বেশি পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার। দুজনই নাম্বার নাইন হলেও হলান্ড যেখানে বক্সের আশপাশে গোলের জন্য ওত পেতে থাকেন পাকা শিকারির মতো, সেখানে কেইনকে অনেক সময় নিজেদের ডি বক্সে এসেও রক্ষণ করতে দেখা যায়।

    এই বিশ্বকাপে কেইন একটি অ্যাসিস্ট করেছেন, হলান্ডের একটিও না। আবার হলান্ড বিশ্বকাপে সতীর্থদের জন্য ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন—কেইনের চেয়ে যা দুটি বেশি। গত তিন মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে কেইনের অ্যাসিস্ট ২৬টি, ২৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে হলান্ডও খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

    ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন ইংলান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। তিন বিশ্বকাপে তাঁর গোল এখন ১৪টি। ওদিকে হলান্ডের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ।

    আর্লিং হলান্ড খেলছেন প্রথম বিশ্বকাপএএফপি

    তবে দেশের হয়ে তাঁর ফর্মটা প্রায় অবিশ্বাস্য, ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল। যার মানে প্রতি ৭১ মিনিটে নরওয়ের হয়ে একটি গোল করেছেন, যেখানে তিনি কেইন-মেসি-এমবাপ্পেদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে।

    জাতীয় দলে দুজন দুজনের বিপরীতে এখনো না খেললেও ক্লাব ফুটবলে সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। টটেনহামে থাকার সময় দুবার কেইন হলান্ডের সিটির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে প্রথম দেখায় ইতিহাদে টটেনহামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন হলান্ড। কেইন অবশ্য পরের দেখায় টটেনহামের হয়ে জয়সূচক গোল করে শেষ হাসিটা হেসেছেন।

    সেই হাসিটা আজ কার মুখে থাকবে?

  • মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এগিয়ে চলেছেন! ফুটবলের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এই বয়সে একজন খেলোয়াড়ের গতি ও কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আর্জেন্টাইন মহাতারকা যেন এখনও একইভাবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। আর সেই কারণেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বাস, মেসি যত দিন মাঠে নামবেন, তত দিনই তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হয়ে থাকবেন।

    বাংলাদেশ সময় রোববার (১১ জুলাই) সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি তার অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

    চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অগ্রযাত্রায় মেসির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়টি ছিল তার নেতৃত্ব ও প্রভাবের বড় উদাহরণ। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দল শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেছিলেন মেসি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পেশির চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে মাঠে নামার পর সেই সংশয়ের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের সেরাটাই তুলে ধরছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।

    মেসির ফিটনেস প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, তিনি প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় একই মাত্রার পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও নিজের শরীরের প্রতি বিশেষ যত্ন। কোচের মতে, মেসি যখন অনুভব করেন যে তিনি দলের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারছেন, তখন তার মধ্যে এক ধরনের অতিরিক্ত শক্তি কাজ করে এবং তিনি আরও কার্যকর হয়ে ওঠেন।

    বয়সের কারণে মেসির পারফরম্যান্স কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন স্কালোনি। তার ভাষায়, যারা মেসিকে কাছ থেকে চেনে না, তারাই হয়তো এমনটা ভাবতে পারে। তবে তিনি বরাবরই বিশ্বাস করেন, মেসি যত দিন খেলার সিদ্ধান্ত নেবেন, তত দিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রাখবেন।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্যও বিশেষ একটি উপলক্ষ। কারণ, অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল।

    বর্তমানে টুর্নামেন্টে ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

    স্কালোনি জানান, প্রতিদিনের অনুশীলনে মেসির নিবেদন এখনো তাকে মুগ্ধ করে। তার মতে, আজকের মেসিকে যারা দেখছে, তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারবে না তরুণ বয়সে বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার অধীনে খেলার সময় তিনি কতটা বিস্ময়কর ছিলেন।

  • ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখলেন নরওয়ে কোচ

    ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখলেন নরওয়ে কোচ

    কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের আগে নিজেদের নয়, বরং ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাক্কেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, এই লড়াইয়ে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে শেষ আটের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে দুই দল।

    সেই ম্যাচের আগে বিবিসিকে সোলবাক্কেন বলেন, ‘ইংল্যান্ডই ফেবারিট, কিন্তু তারা খুব বড় ব্যবধানে ফেবারিট নয়।’

    পরে সংবাদ সম্মেলনেও তিনি একই সুরে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ বেশি। তবে আমরাও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে চাপ অনুভব করি। খেলা শুরু হয়ে গেলে খেলোয়াড়রা আর চাপ নিয়ে ভাবে না।’

    শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। দলটিতে মার্টিন ওডেগার্ড ও আরলিং হালান্ডেরমতো প্রিমিয়ার লিগে খেলা তারকারা রয়েছেন।

    নরওয়ে কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাস বিবেচনায় ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড সম্ভবত সবচেয়ে বড় দুই দল, যাদের মুখোমুখি আমরা হতে পারতাম।’

    এই ম্যাচের বিজয়ী আগামী বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।

  • একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    খুদে বিস্ময় লামিন ইয়ামালের কপাল মন্দ। শত চেষ্টা করেও গোল পেলেন না। তবে তার স্পেন জয়ের মালা পরেছে। বেলজিয়াম হেরে গেছে। অথচ ফুটবল ইতিহাস বলছে, ম্যাচটা ছিল বদলা নেয়ার। ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে স্পেন হেরেছিল শেষ আটের লড়াইয়ে। সে কারণে এই ম্যাচ ঘিরে জল্পনা-কল্পনা ছিল বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে। একদিকে ইয়ামাল। অন্যদিকে জেরেমি ডকু। এক অনবদ্য ফুটবল লড়াই। মাঠ জুড়েই ইয়ামাল। ম্যানচেস্টার সিটির লেফট উইঙ্গার, বেলজিয়ামের গোলশক্তি ডকুও গোল পাননি। অথচ তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। খেলার শেষ মুহূর্তে স্পেন একটা চমকই দেখায় বটে। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে বদলি নামা মিকেল মেরিনো গোল করে বসেন। ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেলজিয়ামের বিদায় নিশ্চিত করেন। এই মেরিনোই বদলি নেমে রোনালদোকে গুডবাই জানান । তিনিই হলেন এই ম্যাচের স্প্যানিশ তারকা। বিজয়ের নায়ক। পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে দক্ষ। একইসঙ্গে রক্ষণ ও আক্রমণেও বেশ পারদর্শী। জানিয়ে রাখা ভালো- তার বাবা আনহেল মেরিনোও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন এই ম্যাচের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। এর আগে বেলজিয়ামের কপাল পুড়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে। পরিবর্তে নামেন সেনে লামেন্স। কিন্তু তিনি আর কোনো দেয়াল তৈরি করতে পারেননি। কোর্তোয়া অনেকগুলো বল রুখে দিলেও লামেন্স তেমন সুযোগ আর পেলেন না। তার হাতছাড়া হয়ে ফিরে আসা বলেই স্পেনের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেন আর্সেনালের মেরিনো। এর মধ্য দিয়েই বেলজিয়ামের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায় নিশ্চিত হয়। বলা হয়ে থাকে, এই প্রজন্মের ফুটবলাররাই বেলজিয়ামকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলে বেলজিয়াম যে একটি শক্তি তা প্রমাণের। কিন্তু সে স্বপ্নের মৃত্যু হয় লামেন্সের হাতেই। ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটে। তবে রূপকথার মতো বিদায় সাধারণতো হয় না। যেটা হয়েছে সোফি স্টেডিয়ামে। যাইহোক, দুই খেলায় দুই গোল করেই স্পেনের ভাগ্য নির্ধারণ করেন মেরিনো। লামিন ইয়ামাল শুরু থেকেই বেলজিয়ামের দুর্গে আঘাত হানতে থাকেন। কিন্তু চমৎকারভাবে বেলজিয়াম তার সাজানো ছক ভেঙে দেয়। অনেকগুলো শট নিলেও বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে পরাভূত করতে পারেননি। শুধু শটই নয়, ফ্রি কিক থেকেও ইয়ামাল গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর সুযোগ আসে আরেকটি। কিন্তু সেটাও তিনি কাজে লাগাতে পারলেননা। ইয়ামালের কপাল এমনই খারাপ গোল্ডেন বুটের কাফেলায় তিনি নাম লেখাতে পারেননি। তবে স্পেন যেভাবে খেলছে এবং ভাগ্য যেভাবে তাদেরকে সাহায্য করছে- তাতে মনে হয়, তারা অনেকদূর যাবে। এর প্রমাণ পূর্বেই দেখিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে গোল হজম করার পর টানা ৬৪৯ মিনিট তাদের জালে কেউ বল পাঠাতে পারেননি। যদিও এই ম্যাচে ৪১ মিনিটে তাদের দীর্ঘসময় গোল না খাওয়ার অবস্থান ভেঙে দেয় বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার দর্শক এই জমজমাট ফুটবল লড়াই উপভোগ করেন। এখন কী হবে? এমবাপ্পের মুখোমুখি হতে হবে স্পেনকে। এমবাপ্পে আর ইয়ামালের লড়াইটা কেমন হবে- তা দেখার জন্য মুখিয়ে রইলো ফুটবল দুনিয়া।

  • মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। এর মধ্যেই ফ্রান্স ও স্পেন সেমিফাইনালে চলে গেছে। এ লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরেছে আশরাফ হাকিমির দল মরক্কো। আর সেই পরাজয়ে ভীষণ মন খারাপ করেছেন বলিউড মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি।

    এমনকি মাঠেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর বিদায়ের পর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কান্না শুরু করে দেন নোরা ফাতেহি।

    এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দেখা গেছে, ‘চোখের পানি মুছছেন অভিনেত্রী। পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।’

    ফুটবল মাঠে আফ্রিকান দেশটির প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন নোরা ফাতেহি। স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেও তাকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বোস্টনের পথে তীব্র যানজটে আটকে গেলে শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা পথ হেঁটেই স্টেডিয়ামে পৌঁছান। তবু খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে নিজের আসনে বসতে সক্ষম হন। মরক্কোর প্রতিটি ম্যাচ জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর পরাজয়ে ভীষণ কষ্ট পান অভিনেত্রী।

    শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের বিপক্ষে আর চমক দেখাতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা।

    এ পরাজয়ের পরও মরক্কো দলের প্রতি নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন নোরা ফাতেহি। বিশেষ করে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিসহ পুরো দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের এ দলটির পরাজয়ে ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি কেন কাঁদলেন? কারণ একটাই— নোরা ফাতেহির কথিত প্রেমিক মরক্কো দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। আর গত এক বছর ধরে আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে গুঞ্জন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ-ই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

  • ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়ামকে। ফুটবলপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত এই লড়াইকে ফাইনালের আগেই ‘ফাইনাল’ বলে মনে করছেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। তার বিশ্বাস, এই ম্যাচের বিজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠে আসে স্পেন। আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা) ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

    বেলজিয়ামের বিদায়ের ম্যাচে শেষদিকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় কর্তোয়াকে। তার পরিবর্তে নামা সেনে ল্যামেন্সের উপস্থিতিতেই স্পেন জয়সূচক গোলটি করে। ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক।

    কর্তোয়া বলেন, “আমার বিশ্বাস, ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালের বিজয়ী দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পেনই ফেভারিট। তারা ফ্রান্স কিংবা অন্য যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে, সেটি তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পেনের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি। অনেকে যেমনটা ভেবেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছি।”

    পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুতগতির পাসিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

  • ফ্রান্সের বিপক্ষে পরিসংখ্যানের ‘সুখস্মৃতিই’ স্পেনের অনুপ্রেরণা

    ফ্রান্সের বিপক্ষে পরিসংখ্যানের ‘সুখস্মৃতিই’ স্পেনের অনুপ্রেরণা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া স্পেনের জন্য এই ম্যাচের আগে আশার বার্তা হয়ে এসেছে সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান। কারণ, সবশেষ দুই দেখাতেই জয় পেয়েছে লা রোহা।

    দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে। সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৫-৪ গোলের জয় তুলে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। তারও আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। পরে শিরোপাও জেতে তারা।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও সামান্য এগিয়ে স্পেন। প্রীতি ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮ দেখায় স্প্যানিশদের জয় ১৮টি, ফ্রান্সের ১৩টি। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে শুধু অফিসিয়াল প্রতিযোগিতার হিসাব করলে চিত্রটা ভিন্ন। সেখানে ১০ ম্যাচে ফ্রান্সের জয় ছয়টি, স্পেনের চারটি।

    বিশ্বকাপে অবশ্য একবারই মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেনকে। সেবার ফাইনালেও উঠেছিল লে ব্লুরা।

    তবে বিশ্বকাপে এবার নতুন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে স্পেন। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে খেলছে তারা। সেই সুখস্মৃতি আবারও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে স্প্যানিশ শিবিরকে।

    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় মঞ্চে স্পেনের কাছে টানা দুই পরাজয় ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ফ্রান্স। তাই সেমিফাইনালের এই লড়াই শুধু ফাইনালের টিকিট নয়, সাম্প্রতিক হিসাব-নিকাশ মেটানোরও মঞ্চ হতে যাচ্ছে।

    আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। ইউরোপের দুই জায়ান্টের লড়াইয়ে কে পাবে ফাইনালের টিকিট, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

  • লড়াইয়ের আগেই ফ্রান্সকে ইয়ামালের বার্তা

    লড়াইয়ের আগেই ফ্রান্সকে ইয়ামালের বার্তা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। গোল না পেলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে সামনে রেখে এখন থেকেই রোমাঞ্চিত স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড। তার লক্ষ্য, ইউরোর মতো এবারও ফরাসিদের বিপক্ষে গোল করা।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়ামাল বলেন, ‘আমিও সেটাই আশা করছি। আবারও ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করতে আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি।’

    ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করেছিলেন ইয়ামাল। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। তবে গোলের চেয়ে দলগত সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। তার ভাষায়, ‘আমি খুবই আনন্দিত। এখন পুরো মনোযোগ পরের ম্যাচে। সেমিফাইনালে উঠতে পেরে আমরা খুশি। মাঠে নিজেকে দারুণ অনুভব করেছি।’

    ফ্রান্সের শক্তিমত্তার কথাও স্বীকার করেছেন ইয়ামাল। তবে বলের দখল ধরে রেখে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস তার, ‘ওরা এমন একটি দল, যারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করবে। যদিও পুরো ৯০ মিনিট সেটা করতে পারবে না। তারা শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখা। আমি বিশ্বাস করি সবকিছু ঠিকঠাক হবে। আমি পুরোপুরি প্রস্তুত, ম্যাচের জন্য আর তর সইছে না।’

    বেলজিয়ামের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি ইয়ামাল। তবে সেটি নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার। তিনি বলেন, ‘না, এতে আমি মোটেও হতাশ নই। যতক্ষণ দল টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ আমি খুশি। দিনশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের সাফল্য।’

    নিজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথাও জানিয়েছেন স্পেনের এই উদীয়মান তারকা।, ‘আমি খুব ভালো অনুভব করছি। প্রতি সপ্তাহে আমার পারফরম্যান্স আরও উন্নত হচ্ছে। আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছি।’

    আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টা) ডালাসে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। ইউরোর পর এবারও ফরাসিদের বিপক্ষে নিজের ছাপ রাখার অপেক্ষায় রয়েছেন ইয়ামাল।

  • মোরিনোর জাদুতে সেমিফাইনালে স্পেন

    মোরিনোর জাদুতে সেমিফাইনালে স্পেন

    বিশ্বকাপে স্পেনের স্বপ্নযাত্রা থামছেই না। কঠিন লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। শেষ চারের লড়াইয়ে আগামী মঙ্গলবার তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা ৩০ মিনিটে। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর কাটব্যাক থেকে দানি ওলমোর শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোয়র্তোয়া। তবে ফিরতি বলে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন ফাবিয়ান রুইজ। তাতেই এগিয়ে যায় স্পেন। বিশ্বকাপ মঞ্চে এটি ছিল রুইজের প্রথম গোল। রুইজ এখন পযন্ত স্পেনের হয়ে যে কয়টি ম্যাচে খেলেছে সেই ম্যাচে কখনোই হারেনি তার দল। এই ম্যাচেও সেই রেকর্ড অক্ষুন্ন রইল।

    গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের দারুণ ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান। এই গোলের আগে টানা ৬৪৯ মিনিট বিশ্বকাপে কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। সেই রেকর্ডও ভেঙে যায় ডি কেটেলারের হেডে।

    বিরতির পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে। স্পেন আক্রমণের পর আক্রমণ চালালেও সামনে বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কোয়র্তোয়া। কিন্তু ৭২ মিনিটে ইনজুরিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বেলজিয়ামের এই তারকা গোলরক্ষক। তার জায়গায় নামেন সেনে ল্যামেন্স। আর সেখানেই যেন বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য।

    নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে দূরপাল্লার শটে ল্যামেন্স বল ঠিকমতো তালুবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বল চলে আসে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মোরিনোর সামনে। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

    শেষ দিকে মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে বেলজিয়াম। যোগ করা সময়ে একটি ভালো সুযোগও পেয়েছিল তারা। তবে স্পেনের রক্ষণ আর গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন। ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আরেকবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল তারা। আর এবার তাদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা—ফ্রান্স। দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াইয়ে কে যাবে ফাইনালে, সেটাই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।