বিশ্বকাপ ফুটবল- ২০২৬

  • সুইজারল্যান্ড ম্যাচে স্কালোনির ভরসা পুরোনো একাদশ

    সুইজারল্যান্ড ম্যাচে স্কালোনির ভরসা পুরোনো একাদশ

    শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনের পর এখন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা। শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি। বরং আগের ম্যাচের মূল কাঠামোই ধরে রাখার পরিকল্পনা তার।

    মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১২ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। যদিও নাটকীয় জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে কিছু ঘাটতি খুঁজে পেয়েছে কোচিং স্টাফ। বিশেষ করে সুযোগ নষ্ট করা এবং রক্ষণভাগের কয়েকটি ভুল নিয়ে কাজ করছেন স্কালোনি।

    তবে এসব কারণে পুরো একাদশে বড় রদবদলের পথে হাঁটতে চান না তিনি। বরং দুটি পজিশন নিয়েই চলছে শেষ মুহূর্তের ভাবনা। ডান প্রান্তের রক্ষণে নাহুয়েল মোলিনা নাকি গনসালো মন্টিয়েল—কে শুরু করবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। একইভাবে আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেসের পরিবর্তে লাউতারো মার্তিনেজকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

    মিসরের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মন্টিয়েল ও লাউতারো দুজনই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেন। বিশেষ করে লাউতারো আক্রমণে গতি এনে দেওয়ার পাশাপাশি জয়ের তৃতীয় গোলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করেন। ফলে তাদের একজন বা দুজনই একাদশে জায়গা পেতে পারেন।

    ম্যাচের আগে শেষ দুটি অনুশীলনে বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে দেখবেন স্কালোনি। এরপরই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা হবে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে এক বা দুটি পরিবর্তনের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:

    এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; নাহুয়েল মোলিনা/গনসালো মন্টিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেস/লাউতারো মার্টিনেজ।

  • মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

    মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

    এই ফ্রান্সকে থামাবে কে? কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কীভাবে থামাবেন? যদি তাঁকে কোনোভাবে আটকালেও, সামনে অপেক্ষা করছেন দেজিরে দুয়ে, মাইকেল অলিসে কিংবা ওসমান দেম্বেলে। একজনকে থামানো যায়, দুজনকেও হয়তো। কিন্তু চার দিক থেকে একসঙ্গে ছুটে আসা এই নীল ঝড়কে?

    বোস্টনের রাত আবারও সেই প্রশ্নই তুলে দিল।

    প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মনে হচ্ছিল, হয়তো আজ ভাগ্য তাঁর পাশে নেই। কিন্তু বড় খেলোয়াড়দের গল্প তো এখানেই আলাদা। বিরতির পর ওপেন প্লে থেকে এমন এক অনবদ্য গোল করলেন, যা মুহূর্তেই মুছে দিল পেনাল্টি মিসের সব হতাশা। ছয় মিনিটেরও কম সময় পরে বক্সের বাইরে থেকে ওসমান দেম্বেলের আরেকটি দুর্দান্ত শট মরক্কোর শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দিল।

    ম্যাচের ফল-ফ্রান্স ২, মরক্কো ০।

    ফ্রান্স উঠে গেল সেমিফাইনালে। আর মরক্কোর বিশ্বকাপ-স্বপ্ন থামল ঠিক চার বছর আগের সেই পরিচিত প্রতিপক্ষের সামনেই। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছেই ২-০ গোলে হেরেছিল আটলাস লায়ন্সরা। এবার বিদায়টা এল আরও এক ধাপ আগে—কোয়ার্টার ফাইনালে।

    প্রথমার্ধে স্কোরলাইন গোলশূন্য হলেও মাঠের চিত্র ছিল একমুখী। বল দখল, গতি আর আক্রমণের ধার—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। শুরু থেকেই মরক্কোর রক্ষণকে চাপে রেখেছিল দিদিয়ে দেশমের দল। উপামেকানোর কাছ থেকে হেড, এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট—একটির পর একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু প্রতিবারই সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইয়াসিন বুনো।

    ২৬ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। দুরন্ত গতিতে বক্সে ঢুকে নুসাইর মাজরাউইকে কাটিয়ে যাওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন এমবাপ্পে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

    এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। পেনাল্টি হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে ভিএআর লম্বা সময় নেয়। প্রায় তিন মিনিট ১২ সেকেন্ড বল নিয়ে পেনাল্টি স্পটে দাঁড়িয়েছিলেন এমবাপ্পে। সম্ভবত তাতেই তার মনোযোগটা নষ্ট হয়। স্পট-কিক নিতে এসে যেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দটাই হারিয়ে ফেলেন ফরাসি অধিনায়ক। তাঁর দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন বুনো। এই অর্ধে লুকাস দিঞ্জের দুর্দান্ত শট আবারও হতাশ করে ফ্রান্সকে। বল আঘাত হানে ক্রসবারে। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য, কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও পুরোপুরি ফ্রান্সের হাতেই।

    দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সাহস নিয়ে খেলতে শুরু করেছিল মরক্কো। মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা হয়তো সমানে সমান লড়াইয়েই এগোবে। কিন্তু ৬০ মিনিটে সব হিসাব পাল্টে দেন এমবাপ্পে।

    বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে এক মুহূর্তে দিওপকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ওপরের কোণায়। বুনো ঝাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু সেই শট ছিল গোলরক্ষকের নাগালের অনেক বাইরে।

    এটাই খেলার মাঠে সুপারস্টারদের আসল পরিচয়। পেনাল্টি মিসের হতাশা তাঁরা বেশিক্ষণ বহন করেন না। পরের সুযোগেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২০। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আবারও লিওনেল মেসির পাশে নিজের নাম তুলে আনেন তিনি। দুজনের গোল এই বিশ্বকাপে এখন আটটি করে।

    আর কি অবাক করা কাণ্ড! আগের ম্যাচে মেসি পেনাল্টি মিস করে ওপেন ফিল্ড থেকে গোল করে তার দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। ঠিক একই ঘটনা ঘটালেন এমবাপ্পে এই ম্যাচেও।

    মরক্কো সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আসে দ্বিতীয় আঘাত। ৬৬ মিনিটে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে এসে বক্সের বাইরে থেকেই জোরালো শট নেন ওসমান দেম্বেলে। নিখুঁত সেই শট বুনোর প্রসারিত হাত ছুঁয়েও জালে জড়িয়ে যায়।

    ছয় মিনিটে দুই গোল। ম্যাচের ভাগ্যও সেখানেই নির্ধারিত হয়ে যায়।

    এই গোলের মাধ্যমে আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়ে ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথমবারের মতো একই বিশ্বকাপে একটি দলের দুই ফুটবলার পাঁচ বা তার বেশি গোলের দেখা পেলেন। এমবাপ্পের ২০ গোলের পাশে দেম্বেলের নামেও এখন পাঁচ গোল।

    ৭৮ মিনিটে সামান্য চোটের ইঙ্গিত নিয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। তাঁর জায়গায় নামেন জঁ-ফিলিপ মাতেতা। এরপর আরও সরাসরি ফুটবলে চলে যায় ফ্রান্স। মরক্কো শেষদিকে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ফরাসি রক্ষণ তাদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। ম্যাচ যত শেষের দিকে এগিয়েছে, ততই পরিষ্কার হয়েছে—আজকের রাতটি ফ্রান্সের।

    শেষ বাঁশি বাজতেই আবারও একই স্কোরলাইন। ফ্রান্স ২, মরক্কো ০।

    ইতিহাস যেন নিজেরই প্রতিচ্ছবি আঁকল। চার বছর আগে সেমিফাইনালে যে প্রতিপক্ষ মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙেছিল, এবার সেই ফ্রান্সই বিদায় লিখে দিল কোয়ার্টার ফাইনালে।

    আর বিশ্বকাপ পেল নতুন এক প্রশ্ন— এই ফ্রান্সকে থামাবে কে?

  • মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    এ বিশ্বকাপেই মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙেছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা ছিল ক্লোসার দখলে। এ বিশ্বকাপে ক্লোসার ১৬ গোল ছাড়িয়ে গেছেন মেসি, এখন তাঁর গোল ২১টি।

    সর্বোচ্চ গোলের এ রেকর্ড ভিনদেশি কারও কাছে হাতছাড়া হলে একটু খারাপ লাগা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই আফসোস ক্লোসার নেই। এমনকি রেকর্ড ভাঙার পর নাকি আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লোসা বলেছেন, ‘মেসি এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়কর প্রতিভা!’ এরপর মেসির সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দেন জার্মানির সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
    ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে একই দলে খেলেছিলেন ক্লোসা। ওই বন্ধুত্বটা তাঁদের রয়ে গেছে এখনো। স্কালোনি এখন আর্জেন্টিনার কোচ। তাঁর সূত্রেই ক্লোসার কথা হয়েছে মেসির সঙ্গে।

    পুরো গল্পটা ক্লোসার মুখেই শুনুন, ‘স্কালোনি আমার সতীর্থ ছিল। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মেসি আমার বিশ্বকাপের গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করার পর স্কালোনিই আমাদের মধ্যে এই ফোনালাপের ব্যবস্থা করে দেয়। খুবই আবেগঘন মুহূর্ত ছিল এটা।’

    এখানেই শেষ নয়, কথোপকথনের সময় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তাঁকে একটি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। হাসিমুখে ক্লোসা জানান, ‘সে (মেসি) আমাকে বলেছে যে সে আমাকে নিজের সই করা একটি জার্সি পাঠাবে।’

    ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ক্লোসা। ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া একাধিকবার তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন।

    বর্তমানে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি নুরেমবার্গের কোচের দায়িত্বে থাকা ক্লোসা জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে নাকি কখনো এত লম্বা আলাপ হয়নি তাঁর, ‘মেসির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হয়েছে, যা সব সময়ই খুব আনন্দদায়ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ফুটবলের বাইরে এবারই প্রথম আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কথা বললাম।’

    মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পর প্রকাশ্যেই আর্জেন্টিনার এই অধিনায়কের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন ক্লোসা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ১৮তম গোল করে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তখন জার্মানির সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন!’

    এবার তো কথা হয়ে গেল খোদ মেসির সঙ্গেই।

  • সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞার মুখে ১৮ ফুটবলার

    সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞার মুখে ১৮ ফুটবলার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ৪৮ দলের লড়াই পর্ব শেষে বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে ৮ দলের লড়াইয়ে। এক দিনের বিরতির পর বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মাঠে গড়াচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল।

    তবে শেষ আটের মহারণে নামার আগে বড় ধরনের দুর্ভাবনায় রয়েছেন অংশ নেয়া দলগুলোর অন্তত ১৮ জন ফুটবলার। এই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলেই দল সেমিফাইনালে উঠলেও দর্শক হয়ে থাকতে হবে তাদের।

    ফলে শেষ আটের প্রতিটি ম্যাচে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের পাশাপাশি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শৃঙ্খলা। একটি ভুল ট্যাকল, অপ্রয়োজনীয় ফাউল কিংবা রেফারির সাথেই তর্কই কেড়ে নিতে পারে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ।

    সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুই দলেরই চারজন করে ফুটবলার ইতোমধ্যে নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রত্যেককেই বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

    ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের তিনজন করে, আর আর্জেন্টিনা, স্পেন, বেলজিয়াম ও নরওয়ের একজন করে ফুটবলারও একই ঝুঁকিতে আছেন। অর্থাৎ আট দলের মধ্যে কেবল কোনো ঝুঁকি নেই কলম্বিয়ার খেলোয়াড়দের।

    প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ানো ৪৮ দলের বিশ্বকাপে যোগ হয়েছে একটি অতিরিক্ত নকআউট পর্ব। তাই হলুদ কার্ডের নিয়মেও পরিবর্তন আসে। আগের নিয়ম বহাল থাকলে নকআউটে অনেক তারকা ফুটবলারকে হারানোর আশঙ্কা ছিল।

    তাই গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) করা হয়। তবে শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন, তারা আছেন ঝুঁকিতে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি কার্ড দেখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডের নিয়মানুসারে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। সে ক্ষেত্রে দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা মাঠে নামতে পারবেন না।

    অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারো হলুদ কার্ডের হিসাব রিসেট হবে। ফলে হলুদ কার্ডের কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনাল মিস করবেন না। তবে সেমিফাইনালে লাল কার্ড দেখলে ফাইনালে নিষিদ্ধ থাকতে হবে।

    আর গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা থাকবে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির। সেটা অবশ্য অন্য বিষয়।

    নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার

    ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি

    মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস

    ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা

    সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম

    আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল

    স্পেন : ফেররান তোরেস

    বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে

    নরওয়ে : অ্যান্তোনিও নুসা

  • মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেই খ্যাপাটে উদ্‌যাপন করেছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির দিকে ছুটে আনন্দে লাফিয়েও উঠতে দেখা যায় তাঁকে। আর্জেন্টাইন তারকাকে সাধারণত গোল করে এতটা উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় না।

    তাহলে সেদিন কী হলো? দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাস তো ছিলই। ম্যাচের পর মেসি জানিয়েছেন, গোলটা করে একটু স্বস্তিও পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর মেসি নাকি ভেবেছিলেন, দলকে বোধ হয় একাই ডুবিয়ে দিলেন!

    পেনাল্টিতে তাঁর শটটা ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাঁর জন্য এমন ঘটনা বিশ্বকাপে অবশ্য প্রথম নয়। এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এখন তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে অনেক খারাপ?

    এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। তবে পরিসংখ্যানে তাকালে কিছুটা আঁচ করা যায়। পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করা কিন্তু মেসির জন্য এবারই প্রথম নয়। দুই দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

    মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলকিপার রয়টার্স

    তবে এবারের ঘটনা বেশি চোখে লেগেছে সময়ের কারণে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন এবার। পরপর দুটি পেনাল্টি মিসের আগের ঘটনাগুলোর কোনোটিই এত দ্রুত সময়ে হয়নি।

    মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পেনাল্টি–খরায় পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সে বছর টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করেন। ওই বছরের ৫ এপ্রিল লা লিগায় বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের ম্যাচে আন্তোনিও আদান তাঁর শট রুখে দেন।

    কয়েক মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে আবারও পেনাল্টি মিস করেন। এরপর ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার ম্যাচে ব্রাজিলের গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট ঠেকিয়ে দিলে টানা তিন পেনাল্টি মিস হয় মেসির।

    এর মধ্যেও অবশ্য ‘পেনাল্টি’ থেকে গোল করেছিলেন মেসি। তবে সেটি ছিল টাইব্রেকারে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকই বল জালে জড়ান তিনি। পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেলেও হেরে যায় জার্মানির কাছে।

    ২০২১ সালে এসে আবার পেনাল্টি–খরায় পড়েন মেসি। ওই বছরের ১০ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। এর ৫৩ দিন পর লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার জ্যাসপার সিলেসেন আরেকটি পেনাল্টি আটকে দেন, যদিও সেবার ফিরতি শটে মেসি গোল করতে সক্ষম হন।

    তৃতীয় ঘটনাটি তো এবারের বিশ্বকাপেই। ১৫ দিনের ব্যবধানে এবার অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করলেও দুর্দান্ত ফর্মেই আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে তিনি এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলও তাঁর।

    পেনাল্টি মিসের পর হতাশ মেসি রয়টার্স

    বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড এমনিতে খুব একটা সুখকর নয় আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপে পাওয়া ৮ পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও মেসির। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও তাঁর।

    বিশ্বকাপে ব্যর্থতা থাকলেও সব মিলিয়ে কিন্তু মেসির পেনাল্টি রেকর্ডটা মন্দ নয়। মেসি ক্যারিয়ারে মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন, এর মধ্যে ১২৫টিতে গোল করেছেন, ২৭টি সেভ হয়েছে আর ৯টি মেরেছেন গোলপোস্টের বাইরে। সব মিলিয়ে ৭৭.৬৪% পেনাল্টি থেকেই গোল করেছেন মেসি।

    বার্সেলোনায় থাকার সময় ১০৭টি পেনাল্টি থেকে ৮২টি গোল করেছেন মেসি। পিএসজিতে ৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতে গোল করেন, ইন্টার মায়ামিতে ৯ পেনাল্টির মধ্যে ৮টিতেই গোল করেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নির্ধারিত সময়ে ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টি গোল এসেছে তাঁর পা থেকে। এই বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই আর পেনাল্টি মিস করতে চাইবেন না মেসি!

  • বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৯৬টি খেলা হয়েছে। ৪৮ দল লড়াই করেছে। এখন রয়েছে ৮ দল। আজ বৃহস্পদতবার রাতে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ। দলগুলো চিন্তায় আছে হলুদ কার্ড নিয়ে। এ জায়গায় অন্যদের চেয়ে বেশি স্বস্তিতে আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার আগে দলটি শুধু গনসালো মন্তিয়েলের নামের পাশেই হলুদ কার্ড আছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখলে তিনি সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না।

    কোয়ার্টার ফাইনাল টিকে থাকা দলগুলোর ফাউল ও হলুদ কার্ডের পরিসংখ্যান হলো—

    আর্জেন্টিনা মোট ফাউল করেছে ৫৯টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৯.৭ শতাংশ। বেলজিয়াম মোট ফাউল করেছে ৬০টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৫.০ শতাংশ। ইংল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৫৪টি, এজন্য ৭টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ৭.৭ শতাংশ। ফ্রান্স মোট ফাউল করেছে ৪৯টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে।ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১২.৩ শতাংশ।

    মরক্কো মোট ফাউল করেছে ৬১টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১০.২ শতাংশ। নরওয়ে মোট ফাউল করেছে ৪৮টি, এজন্য ২টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ২৪.০ শতাংশ। স্পেন মোট ফাউল করেছে ৫৫টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৮.৩ শতাংশ। সুইজারল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৬৯টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১১.৫ শতাংশ।

  • বিশ্বকাপের রেফারি ঠিক করা হয় যেভাবে

    বিশ্বকাপের রেফারি ঠিক করা হয় যেভাবে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রেফারিং। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের রেফারি ও ভিএআর দলের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তুলেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের ম্যাচ পরিচালনার তদন্ত চাওয়ার পাশাপাশি তাকে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব না দেওয়ারও আবেদন করেছে তারা। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স–মরক্কো ম্যাচে রেফারিং দলের সবাই আর্জেন্টিনার হওয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে কোন রেফারিকে কীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়? সিদ্ধান্তটা কে নেয়? আর কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়?

    তিন বছরের বাছাইপ্রক্রিয়া

    বিশ্বকাপের জন্য রেফারি নির্বাচন শুরু হয় টুর্নামেন্টের অনেক আগে থেকেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি ও ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়াল (ভিএমও) নির্বাচন করেছে। ৬টি কনফেডারেশন ও ৫০টি সদস্যদেশের এসব কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠন করা দলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিফা টিম ওয়ান’।

    গত ৯ এপ্রিল তালিকা প্রকাশের সময় ফিফা জানায়, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিস্তৃত মূল্যায়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে।

    ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত রেফারিরা এই সময়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলেন। বিভিন্ন সেমিনার, ফিফা টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    ফিফার রেফারিং পরিচালক মাসিমো বুসাক্কা জানান, ২০২২ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই পরবর্তী আসরের রেফারি বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। শুধু রেফারিং প্রশিক্ষক নন, ফিটনেস কোচ, চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টরাও এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শুধু রেফারিং দক্ষতা নয়, শারীরিক সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেও।

    কোন ম্যাচে কে, সিদ্ধান্ত হয় কীভাবে

    বিশ্বকাপের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেই যে একজন রেফারি সব ম্যাচ পরিচালনা করবেন, এমন নয়। প্রতিটি ম্যাচের আগে আলাদাভাবে রেফারিং দল নির্ধারণ করে ফিফার রেফারিং কমিটি। সিদ্ধান্তের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়।

    একই দেশের রেফারি না রাখা

    সবচেয়ে পরিচিত নিয়মটি হলো কোনো দেশের রেফারিকে সাধারণত সেই দেশের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয় না। উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত এড়ানো। যেমন ফ্রান্স যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের আর সেই ম্যাচে দায়িত্ব পাবেন না।

    রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা

    শুধু নিজ দেশের ম্যাচই নয়, রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কারণে সংবেদনশীল সম্পর্ক রয়েছে, এমন দেশগুলোর ম্যাচেও সংশ্লিষ্ট দেশের রেফারিদের সাধারণত রাখা হয় না। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০২২ বিশ্বকাপ। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংলিশ রেফারি এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগ এড়িয়ে চলে ফিফা।

    সেবার ইংলিশ রেফারি অ্যান্টনি টেইলরকে আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স ফাইনালের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের সিমোন মার্সিনিয়াক। এবারও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন অ্যান্টনি টেইলর ও মাইকেল অলিভার। তাই ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার ম্যাচে তাদের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় বিবেচনা

    নকআউট পর্ব যত এগোয়, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব তত বেশি দেওয়া হয় ধারাবাহিকভাবে ভালো করা ও অভিজ্ঞ রেফারিদের। প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিদের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশদ মূল্যায়ন করা হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভিএআরের সঙ্গে সমন্বয়, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ, এমনকি শারীরিক সক্ষমতাও সেই মূল্যায়নের অংশ। পরবর্তী ম্যাচের নিয়োগে এসব প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ফিফা তাই শুধু আগের সুনাম নয়, চলতি টুর্নামেন্টে একজন রেফারি কেমন পারফর্ম করছেন, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। এ কারণেই গ্রুপ পর্বে দায়িত্ব পাওয়া কোনো রেফারি পরে আর ম্যাচ না–ও পেতে পারেন, আবার কেউ ধারাবাহিক ভালো করলে সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো বড় ম্যাচও পরিচালনার সুযোগ পেয়ে যান।

  • কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জিতলেও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে ঘিরে অস্বস্তি ভর করেছিল আর্জেন্টিনা দলে। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে সেই অস্বস্তি দূর হতেও বেশি সময় লাগল না। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩ গোল করে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৩ গোলের প্রথমটা করেন রোমেরো। চরম বিপদে থাকা দলকে জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের কাফে অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো।

    প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা যায়, এটা কোনো চোট নয়; কেবল পেশিতে টান লাগায় অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো। আর্জেন্টিনা দলের একটি সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াসি স্পোর্টস। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে দলীয় অনুশীলনে দেখে গেছে রক্ষণভাগের এই ফুটবলারকে। এমনকি অনুশীলনে কোনো ধরনের অস্বস্তি অনুভব করতে দেখা যায়নি তাঁকে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া সে ম্যাচে শুরুর একাদশেই রোমেরোর মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। এমনকি মিসর ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান না লিওনেল স্কালোনি।

    গতকালের অনুশীলনে রিকভারি করতেই লম্বা সময় পার করেছে ফুটবলাররা। যেসব ফুটবলার মিসরের বিপক্ষে বেশি সময় মাঠে ছিলেন, তাঁরা জিমে ব্যায়ামসহ অন্যান্য রিকভারি সেশনে অংশ নেন। অন্যদিকে যাঁরা শুরুর একাদশে ছিলেন না বা অল্প সময় খেলেছেন, তাঁরা মাঠে স্বাভাবিক অনুশীলন করেন। অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। টিওয়াসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আগামীকালের অনুশীলনের পর শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করবে কোচিং স্টাফ। শেষ অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলবেন স্কালোনি।

  • ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    কাতারের আল-বায়ত স্টেডিয়ামের রাতটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে আজও এক গভীর স্মৃতি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে রূপকথার যাত্রা থেমে গিয়েছিল আটলাস লায়নদের। তবে সেই হার শুধু স্বপ্নভঙ্গই নয়, শিখিয়েছিল বড় মঞ্চে ছোট ছোট ভুলের মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

    চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো এবার নামছে প্রতিশোধের আবেগ সঙ্গী করে অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।

    মরক্কোর এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে মিডফিল্ডার আজদিন উনাহির কথায়। ফিফা প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি আমরা কী কী ভুল করেছিলাম। সেই ম্যাচে আমাদের আরও ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল।’

    উনাহির এই উপলব্ধি যেন বর্তমান মরক্কোর মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। চার বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোনোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে দলের ভেতরে। সেই সঙ্গে বদলেছে স্কোয়াডও। কাতার বিশ্বকাপের অনেক ফুটবলার এখনো দলে আছেন, আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংযোজনে বেড়েছে গভীরতা। কোচিং স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন।

    উনাহির বিশ্বাস, এই নতুনত্বই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের দলে নতুন কোচিং স্টাফ এবং নতুন একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। এই দলটার ভেতর একধরনের সতেজতা আছে, যা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

    তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের শক্তির কথা মরক্কো ভালো করেই জানে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা ফ্রান্স এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেটিও স্বীকার করেছেন উনাহি, ‘যখন আপনি ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, তখন লড়াইটা কতটা কঠিন হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’

    এই বিশ্বাসই মরক্কোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা দেখিয়েছিল, সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। এবারও সেই কৌশলই তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। তবে আগেরবারের মতো নয়, এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতার পরিপক্বতা এবং ভুল থেকে শেখার শিক্ষা।

    ফ্রান্সও অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছে না। এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, মরক্কোকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। কিন্তু মরক্কোর এখন অন্য সুর। চার বছর আগের আক্ষেপকে আর বয়ে বেড়াতে চায় না তারা। বরং সেই স্মৃতিকেই শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

    আল-বায়তের সেই রাত মরক্কোকে কাঁদিয়েছিল। এবার বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল কি তাদের হাসাবে? উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই মরক্কো শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে খেলতে নামছে না, বরং সেই স্মৃতিকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রেরণায় রূপ দিতে চাইছে।

  • মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও এবারের বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছে মিশর। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনা পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। বর্তমান পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফএ) প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এবারের আসরে একাধিক কীর্তি গড়েছে ‘ফারাও’রা। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় তারা। একই সঙ্গে একটি বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়ে মিশর।

    গোল করার দিক থেকেও নিজেদের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দলটি। পুরো টুর্নামেন্টে মোট আটবার প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে তারা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা মিশর শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র এবং একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে।

    ফিফার পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য মিশর পেয়েছে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য যোগ হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলো নিশ্চিত করায় ফেডারেশনের তহবিলে এসেছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ আর্থিক প্রাপ্তি, যা ভবিষ্যতে মিশরের ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত ফুটবল মহাকাব্যের পর আজ একটি মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স এবং দুনিয়াকে চমকে দেয়া দল মরক্কো। তাই ফুটবলপণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের মহারণ। যেখানে মরক্কোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আর এটা করেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে এবার কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

    একদিকে ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর অদম্য জেদ, অন্যদিকে মরক্কোর বুকে জ্বলছে বদলার আগুন। আমরা সাধারণত কী দেখি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দুই দলের লড়াই কেবল ট্যাকটিক্স বা গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সুপারস্টার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা। এবার যখন দল দুটো মুখোমুখি হচ্ছে তখন সামনে আসছে ২০২২-এর এক অসম্পূর্ণ রূপকথার গল্প। বরাবরই ফ্রান্সে বসবাসকারী বিশাল মরক্কান ডায়াসপোরা এই ম্যাচটিকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যায়। ২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর।

    কাতারে আল বাইত স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। তখন প্যারিসের রাস্তায় উৎসব আর কান্নার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখা গিয়েছিল। মরক্কো প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল। চমক সৃষ্টি হয়েছিল ফুটবল দুনিয়ায়। তাদের সেই ঐতিহাসিক দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ফরাসিরা। এ কারণেই বলা হচ্ছে, এই ম্যাচটি কেবল মরক্কোর জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, এটি অসম্পূর্ণ গল্পের নতুন এক অধ্যায়। যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে মরক্কো। সেই রাতে মরক্কান খেলোয়াড়দের চোখে ছিল পানি। বোস্টনের মাঠে সেই পানি রূপান্তরিত হতে চলেছে শক্তিতে। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য। মরক্কোর পুনরুত্থান থামাতে চান। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই এই খেলাটিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফরাসিদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে প্যারাগুয়ের সঙ্গে। অনেকটা কষ্টে এমবাপ্পের দল ১-০ গোলে জয় পায়।

    কড়া মার্কিংয়ের মধ্যে ছিলেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, ২০২২ সালের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তাদের রক্ষণভাগ আগের মতোই ইস্পাত কঠিন। আক্রমণভাগ এখন আরও বেশি গতিসম্পন্ন। হাকিম জিয়েশ, ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন তারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আর্জেন্টিনা মিশরের ম্যাচের পর মাঠের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক জারি রয়েছে। এই খেলায় রেফারি ল্যাতেজিয়ারের ভূমিকা ছিল অনেকটাই রহস্যজনক। বিতর্কিত রেফারি খেলাটির গতি বারবার থামিয়ে দেন। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলার আগেই নতুন এক বিতর্ক। এই বিতর্ক খেলা ছেড়ে রেফারিদের নিয়েই। ফিফা এই হাইভোল্টেজের কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টিয়ান রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে। মূল রেফারি ফাকুন্দো তেলো, সঙ্গে দুই আর্জেন্টাইন সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি এবং গ্যাব্রিয়েল এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

    এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা মনে করছেন- এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারণ ফ্রান্স যদি এই ম্যাচ জেতে তবে সেমিফাইনাল পেরিয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যাওয়ার স্মৃতি ফরাসিরা এখনো ভুলতে পারেনি। মিশর-আর্জেন্টিনার মধ্যকার সামপ্রতিক ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি স্টপেজ টাইম গোল এবং মিশরের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফা এবং রেফারিকে অভিযুক্ত করছেন ফুটবলভক্তরা। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলায় আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগকে অনেকে ফিফা’র পাল্টা চাল হিসেবে দেখছেন। এসবের মধ্যেও দুই তারকার লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    একদিকে এমবাপ্পে অন্যদিকে হাকিমি। পিএসজি’র প্রাক্তন সতীর্থ বাস্তবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মজার ব্যাপার হচ্ছে- দেশের জার্সিতে একে অপরের বিপক্ষে যখন মাঠে নামেন তখন বন্ধুত্বের কোনো জায়গা থাকে না। বলতেই হয়, এমবাপ্পে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের একজন অবিসংবাদিত সম্রাট। পেলে বা ম্যারাডোনার মতো সর্বকালের সেরাদের তালিকায় পাকাপাকিভাবে নিজের নাম লেখানোর ব্যাপারে তিনি মরিয়া। তার অন্যতম লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা। যা ফুটবলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ছিলেন মার্কিংয়ে। মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি জ্বলে উঠতে চান- এমনটাই বলছেন সংবাদমাধ্যমকে। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমি মরক্কোর রক্ষণভাগে আক্রমণের মূল উৎস।

    হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন তবেই তা হবে মরক্কোর জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এই ম্যাচে নতুন কোনো সুপারস্টারের জন্ম হতে পারে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরক্কোর তরুণ প্রতিভাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ইয়াসিন বুনু যদি গোলপোস্টের নিচে আরও একবার দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাহলে এমবাপ্পেকে থামানো সম্ভব।

    অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটা নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে, খেলাটি হবে অভিবাসন ও ইতিহাসের এক জটিল ক্যানভাস। আমরা সবাই জানি, ফরাসি দলের অনেক খেলোয়াড়ের শেকড় আফ্রিকায়। যা এই ম্যাচটিকে একটি অদ্ভুত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বা তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রূপ দেবে। মরক্কোর কাছে এটি শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব নয়। এটা প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

    ফ্রান্স শিবিরে তাই টানটান উত্তেজনা। যদি কোনো কারণে ফ্রান্স হেরে যায়- তা হবে এক সোনালি প্রজন্মের আধিপত্যের আকস্মিক পতন। মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত ইউরোপ, ল্যাতিন আমেরিকার মেরূকরণ ভেঙে নতুন এক বিশ্ব শক্তির চূড়ান্ত উত্থান। বোস্টনের মাঠে যখন রেফারির বাঁশি বাজবে তখন দুই দলের সামনেই থাকবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বলুন তো ফরাসি নীল না মরক্কান লাল? কার রঙে বিশ্বকাপের আকাশ রঙিন হবে।

  • মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে বড় এক ধাক্কা খেল ফ্রান্স। রাউন্ড অব সিক্সটিনে পাওয়া মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

    প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার মাতিয়াস গ্যালারজার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ঘটনাটির রিপ্লেতে দেখা যায়, ওলিস মূলত গ্যালারজার জার্সি টেনে ধরলেও তিনি মুখে আঘাত পাওয়ার ভঙ্গিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই ঘটনার জেরেই উজবেকিস্তানের রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ ওলিসকে সতর্ক করেন।

    ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-এর তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি ফিফা।
    ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আজ (বুধবার) সকালে আমরা ফিফার সিদ্ধান্ত পেয়েছি। ওলিসের ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে।”

    ফিফার এই সিদ্ধান্তে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে ওলিসকে। কারণ, কোয়ার্টার-ফাইনালে তিনি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। সেক্ষেত্রে ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠতে পারলেও সম্ভাব্য স্পেন বা বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।

    এ কারণে মরক্কোর বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে শুধু জয় নয়, ওলিসকে অপ্রয়োজনীয় কার্ড থেকে দূরে রাখাও এখন ফ্রান্সের কোচিং স্টাফের অন্যতম বড় ভাবনার বিষয়।

  • ৩৪ ম্যাচের ‘অবিনাশী’ মরক্কো

    ৩৪ ম্যাচের ‘অবিনাশী’ মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ এলেই নতুন কোনো রূপকথা হাজির হয়। অপরিচিত কোনো দেশ হঠাৎ উদয় হয় হ্যালির ধূমকেতুর মতো, কেউ আবার আলোর রেখা ধরে এগিয়ে আসে আরো উজ্জ্বল হয়ে, আর আমরা বলি—‘সিন্ডারেলার গল্প’। মরক্কোর নামও সেই তালিকায় জুড়ে দিতে চান অনেকে। কিন্তু সত্যি বলতে, মরক্কোর এই যাত্রা রূপকথা নয়। আটলাস পর্বতের পাদদেশে সৃষ্ট লড়াই এখন ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’-এ বিস্ময়কর বাস্তব। বহু বছর ধরে মাটির নিচে শিকড় ছড়িয়ে বেড়ে ওঠা এক বটগাছের গল্প।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়টি দেখলে অনেকেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। মনে হতে পারে, সহজ এক বিকেলের গল্প। অথচ ম্যাচের প্রথম পনেরো মিনিটে বল যেন শুধু কানাডারই ছিল। মরক্কোর রক্ষণ বারবার পরীক্ষায় পড়েছে, ইয়াসিন বোনুকে দু-দুবার জীবন বাঁচানো সেভ করতে হয়েছে। তবে এটা খুব স্বাভাবিক, অন্তত মরক্কোর কাছে। বড় দলের পরিচয়, তারা ঝড়ের দিকে তাকিয়ে ভয় পায় না, ঝড় কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করতে জানে। এই মরক্কো সুন্দর ফুটবলের পূজারি নয়। তারা জানে, বিশ্বকাপে সৌন্দর্যের জন্য ট্রফি দেওয়া হয় না; দেওয়া হয় জয়ীদের। তাই কখনো শিল্পী, কখনো সৈনিক—দুই চরিত্রেই সমান স্বাচ্ছন্দ্য আটলাসের সিংহরা।

    কানাডাকে হারিয়ে মরক্কো টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত রইল। সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ধারাবাহিকতার আরেক নাম। ২০২৫ সালের আগস্টে কেনিয়ার কাছে হারের পর থেকে আর কোনো দল তাদের হাঁটু গেড়ে বসাতে পারেনি। বিশ্বকাপ, আফ্রিকান বাছাই, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ; সব জায়গাতেই তারা এক অদ্ভুত স্থিরতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    একসময় আফ্রিকার দলগুলো বিশ্বকাপে ‘অতিথি’ ছিল। তারা আসত, কিছু স্মৃতি রেখে চলে যেত। মরক্কো সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে তারা ইতিহাস লিখেছিল। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে আবার কোয়ার্টার ফাইনালে। এখন আর তাদের সাফল্যকে বিস্ময় বলা যায় না; বরং ব্যর্থ হলে সেটাই হবে বিস্ময়।

    মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওহাবি ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আমাদের পরিচয় বদলাইনি। কঠিন মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি আমরা কার জন্য খেলছি।’ কথাটি শুধু একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য নয়, পুরো মরক্কোর ফুটবল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। কারণ এই দল শুধু এগারো জন ফুটবলারের সমষ্টি নয়। তারা একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

    এই আত্মবিশ্বাস কিন্তু রাতারাতি জন্ম নেয়নি। ২০০৯ সালে যে ফুটবল একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, ২০১৯ সালে যে আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছিল, আজকের এই মরক্কো তারই ফল। কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ইউরোপে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা—সবকিছু মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে নতুন শক্তি। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজদের অনেকে স্পেনে জন্মেছেন, ইউরোপীয় ফুটবলে বড় হয়েছেন। কিন্তু হৃদয়ের টান শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে এনেছে লাল-সবুজ জার্সিতে। তারা শুধু প্রতিভা নয়, দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধও।

    কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে হাকিমি ছিলেন অধিনায়কের মতোই নেতৃত্বের প্রতীক। ব্রাহিম দিয়াজ করলেন দুই অ্যাসিস্ট। আর আজেদিন উনায়ি দেখালেন, বড় ম্যাচে একজন মিডফিল্ডার কীভাবে পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। সুফিয়ান রাহিমি আবার বদলি নেমে গোল করলেন, যেন বেঞ্চও এই দলের আরেকটি অস্ত্র। মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নন। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা জানে কখন আক্রমণ করতে হয়, কখন অপেক্ষা করতে হয় আর কখন প্রতিপক্ষের ধৈর্য ভেঙে দিতে হয়।

    সামনে ফ্রান্স। আরো কঠিন পরীক্ষা। আরো বড় মঞ্চ। কানাডার বিপক্ষে প্রথমার্ধের খেলাটা খেললে ফ্রান্স ছেড়ে কথা বলবে না। কথাটা সত্যি। কিন্তু এটাও সত্যি, এই মরক্কো প্রতিটি ম্যাচে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। চার বছর আগে কাতারে তাদের সাফল্যের দিকে পৃথিবী বিস্ময়ের চোখে তাকিয়েছিল। এবার আর বিস্ময় নেই। আছে প্রত্যাশা। এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

    মরক্কো আর কোনো রূপকথার চরিত্র নয়। তারা এখন এমন এক দল, যাদের সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাও হিসাব কষে। আফ্রিকার ফুটবল বহুদিন ধরে সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় ছিল। সেই সূর্য হয়তো এখনো পুরোপুরি আকাশে ওঠেনি। কিন্তু দিগন্ত লাল হয়ে গেছে অনেক আগেই। আর সেই লাল আভাটির নাম মরক্কো, ‘দ্য আটলাস লায়ন্স’।

  • আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ফিফার ব্যাখ্যা

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ফিফার ব্যাখ্যা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর এবার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্বাধীন এবং কোনোভাবেই বাইরের প্রভাবের শিকার নয়। তার ভাষায়, “ফাউল মানেই ফাউল”; ঘটনাটি গোলের যত আগেই ঘটুক না কেন, ভিএআর সেটি শনাক্ত করলে রেফারিকে জানাবেই।

    ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির দাবি নাকচ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কোচ হোসাম হাসান ও মিসরের খেলোয়াড়রা। তারা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ভিএআরের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কোলিনা বলেন, “বিশ্বকাপের আর মাত্র আটটি ম্যাচ বাকি। সামগ্রিকভাবে আমরা রেফারিংয়ের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। এত অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো নাও হতে পারে। তবে সেসব থেকে শিক্ষা নিয়েই ম্যাচ কর্মকর্তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করেন।”

    রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এমন অভিযোগ অনেক সময় তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

    কোলিনা আরও স্পষ্ট করে জানান, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেন না। তার ভাষায়, “রেফারিং কার্যক্রম কারও দ্বারা পরিচালিত হয় এমন দাবি ঠিক নয়। এমনকি ফিফা সভাপতির পক্ষ থেকেও নয়। ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।”

    মিসরের বাতিল হওয়া গোলের প্রসঙ্গে কোলিনা বলেন, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণভাগের বল দখলের পুরো ধাপ (Attacking Possession Phase) ভিএআর পরীক্ষা করে। যদি গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখানে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কত সময় আগে ঘটেছে, সেটি বিবেচ্য নয়।

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের নির্দিষ্ট ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “মিসরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি ফাউল। রেফারি মাঠে না দেখলেও ভিএআর সেটি শনাক্ত করে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

    শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের সংস্পর্শে মিশরের পেনাল্টির দাবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তিনি বলেন, “যদি কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। ওই ঘটনাতেও রেফারি ও ভিএআর দুজনই সেটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।”

    তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকেই। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট বলেও জানান বিশ্বখ্যাত এই সাবেক ইতালিয়ান রেফারি।

  • ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর

    ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিার বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

    একই সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার অফিশিয়ালদের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল দলটি। এবার সেই অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

    মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে পাঠানো চিঠিতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

    মিশরের আপত্তির মূল কেন্দ্র দুটি ঘটনা। প্রথমটি ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল। ভিএআর পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগ তুলে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

    দ্বিতীয় অভিযোগটি আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলকে ঘিরে। মিশরের দাবি, গোল হওয়ার আগে হামদি ফাথিকে ফাউল করা হলেও সেটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তাদের মতে, ওই সিদ্ধান্তও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচের ফল যেন আগেই নির্ধারিত ছিল এবং রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

    মিশরের অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা।

  • আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    মিসরের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছে শেষ মুহূর্তে। এই জয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের।

    গতকাল রাতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে সুইসরা। ওই ম্যাচের পরই শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনের কাছে। তাঁর কথায় প্রতিপক্ষের জন্য সমীহ থাকলেও আর্জেন্টিনাকে হারানো যে অসম্ভব কিছু নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা ভালো করেই জানি।’

    ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছর পর আবার তারা শেষ আটে জায়গা পেল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

    নকআউটে আলজেরিয়ার পর কলম্বিয়াকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে আসা রিকার্দো রদ্রিগেজ। তাঁর কণ্ঠে সমীহই ছিল আর্জেন্টিনার জন্য।

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা আর্জেন্টিনা অসাধারণ একটা দল। ওদের দলে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছে। ওরা কীভাবে খেলে, তা আমাদের জানা। ওদের দলে আছে বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি।’

  • বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    কিছু দল আছে, যারা প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে নয়, বরং সুযোগের অপেক্ষা করে ঠিক সময়ে আঘাত হানার। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনও এমনই ছিল। ১৬ বছর পর সেই পুরোনো চেহারার আরেকটি ঝলক দেখা গেল ডালাসে। পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিশ্বাসে ভর করে শেষ হাসিটা হাসল স্পেন। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়ল নতুন রেকর্ড।

    ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোচ্ছিল, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাও তত বাড়ছিল। ঠিক তখনই নিজের বেঞ্চের শক্তির পরিচয় দিল স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস যোগ করা সময়ে দারুণ একটি পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন আরেক বদলি মিকেল মেরিনো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নায়ক হওয়ার পর বিশ্বকাপেও স্পেনকে বাঁচালেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে মেরিনোকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘মিকেল মেরিনো কখনোই আমাদের হতাশ করে না। সে নিশ্চিত ভরসা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় সে হাজির থাকে। নিজের পজিশনে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাদের বেঞ্চে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা অন্য যেকোনো জাতীয় দলে শুরুর একাদশে খেলত।’

    কয়েক মাস আগেও বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন মেরিনো। তাই জয়সূচক গোলের পর তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বস্তির সুর, ‘কয়েক মাস আগেও এখানে থাকা কল্পনাতীত ছিল। আর এখন আমি বিশ্বের শীর্ষে আছি, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলোর একটি উপভোগ করছি। প্রতিটি পরিশ্রম আর প্রতিটি সন্দেহের মুহূর্ত আজ সার্থক।’

    ডালাসের রাতটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প নয়, রেকর্ডের রাতও। পর্তুগালকে গোল করতে না দিয়ে স্পেন টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি গড়েছে। এর আগে ইতালি (১৯৯০) ও সুইজারল্যান্ড (২০০৬-১০) টানা পাঁচ ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ড এখন স্পেনের একার।

    এই কীর্তির কেন্দ্রে আছেন গোলরক্ষক উনাই সিমোনও। পর্তুগালের বিপক্ষে আরেকটি ক্লিন শিট রেখে তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬০৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই অর্জয়ের কৃতিত্ব শুধু গোলরক্ষকের নয় বলেই মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘এই রেকর্ড শুধু উনাইয়ের নয়, তার সতীর্থদেরও। তাদের সংহতি, উদারতা, পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের ফল এটি। সবাই একে অপরের জন্য দৌড়ায়।’

    এটি ছিল রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। পরাজয়ের হতাশা ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি তিনি, ‘আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি, যাদের আমি মনে করি ফাইনালে উঠবে, কিংবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে। আমি খুবই দুঃখ নিয়ে যাচ্ছি। আমরা ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি, দুই দলই জিততে পারত। ফুটবল এমনই। এভাবে বিদায় নেওয়া হতাশাজনক, কিন্তু আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই যাচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’

    রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তির রাতে স্পেন পেল নতুন এক নায়ক। আর টানা ছয় ক্লিন শিটের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দে লা ফুয়েন্তের দল জানিয়ে দিল, এই বিশ্বকাপে শিরোপার দৌড়ে তাদের নামটি এখন আর শুধু সম্ভাবনার নয়, প্রধান দাবিদারেরও। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।

  • আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তার ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনার। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’

    মঙ্গলবার রাতে আটালান্টায় ম্যাচের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। তবে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের।

    বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি। এর মধ্যে চারটিতে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। একই সঙ্গে (টাইব্রেকার বাদে) বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    এদিন ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। সেমিফাইনালের মিশনে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

    মেসি বলেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’

    সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আমি ওদের চিনি, জানি তারা কীভাবে কাজ করে। এই দল লড়াই করতে জানে, বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটা আমার জন্য সম্মানের। আমরা যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত।’

  • উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে আগামী ১৮ জুলাই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নওগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. সায়েম বিন সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো আইন বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নতুন এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষাসচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহম্মেদ, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।এ ছাড়া নওগাঁ-১ থেকে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্যরা এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী।

  • রেফারিকে ‘জালিম’ বললেন মিশরের ফুটবলার

    রেফারিকে ‘জালিম’ বললেন মিশরের ফুটবলার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এতেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচ শেষে অস্রুসিক্ত চোখে রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন মিশরের ফুটবলার মোস্তফা জিকো।

    আর্জেন্টিনা ও মিশরের হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রধান রেফারি হিসেবে ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় জিকো বলেন, “রেফারি অন্যায় করেছেন, অন্যায় করেছেন। রেফারি একদমই ফেয়ার ছিলেন না।”

    তিনি আরও বলেন, “তিনি (রেফারি) একজন জালিম। এটি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার তিনি অবিচার করেছেন। তিনি একটি দেশের পুরো পরিশ্রমকে এক নিমিষে নষ্ট করে দিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।”

    ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিশর। বিরতির পর আবারও গোলের দেখা পায় মোহাম্মদ সালহর দল। তবে ফাউলের কারণে ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

  • অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির মুখে হাসি ছিল না। দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবুও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

    আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করেন মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় তিনি খুবই রাগান্বিত ও হতাশ ছিলেন। মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি নিজের ওপর খুবই রাগান্বিত ছিলাম, খুব হতাশ ছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত।’

    তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় মেসির নেতৃত্বেই। ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে নিজেই সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

    এ বিষয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যেভাবে জিতেছি এবং পরের পর্বে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম, সব দলই খুব কাছাকাছি মানের। আমি খুবই খুশি।’ ম্যাচ শেষে মেসি জানান, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টির বাইরে আরও পরিষ্কার কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়ে আমি গোল করতে পেরেছি। যা ঘটেছিল, তার পরও এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ অনুভূতি।’

    মিশরের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসি শুধু গোলই করেননি, একাধিক সুযোগ তৈরি করে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও পেনাল্টি মিসের কারণে বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম উঠেছে তার। টাইব্রেকার বাদে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

    এ ছাড়া মিশরের বিপক্ষে তার নেওয়া একটি ফ্রি-কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষক শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় মেসির।

    তবে সবকিছুর পরও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা, পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল করা এবং ওপেন প্লে থেকে পাঁচটির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

    মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১টি করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯-এ, ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল এবারের আসরে তার অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

    দলের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এটাই এই দলের চরিত্র। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করি। আজকের জয় আমাদের গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।’ এই

    নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

    বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

  • ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের গুন্ডামি পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিচ্ছবি।

    বুধবার (০৮ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এক প্রকার নিয়ম লঙ্ঘন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বাধা তৈরি এবং প্রতারণাও করছে দেশটি। মূলত এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা সব জায়গায় এমন আচরণই করে থাকে।

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের তথাকথিত মেগা প্লেবুক-এরই প্রতিফলন। তবে ইরান এই ধরনের খেলা প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং তেলের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ল্যাতেজিয়ার ছিলেন দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট। এটা স্বীকার করতেই হবে- আর্জেন্টিনা ঝড়ের কবলে পড়েছিল। লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল প্রায় সবকিছু। মেসি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন। এই আসরেই অষ্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করেন। খেলায় গোল হয়েছে পাঁচটি। প্রথম গোল করেন মিশরের ইয়াসের ইব্রাহিম। দ্বিতীয় গোলটি করেন মোস্তফা জিকো। এর আগে নাটকীয় ঘটনাও ঘটে বেশ কিছু। মিশরের একটি গোল বাতিল হয়। যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ফুটবলভক্তরা তাজ্জব হয়েছেন। মাঠের মধ্যে উসকানি দেখে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে শুধু হাসলেন। সংবাদমাধ্যম এই খবরটাই দিয়েছে। কিন্তু কেন? বোধ করি আপনারাও বুঝতে পেরেছেন। কারণ গোল হওয়ার ২০ সেকেন্ডে একটা ফাউলের অভিযোগে গোল বাতিল হয়। যা ছিল হাস্যকর, কলঙ্কিত। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাইরের দুনিয়াও একই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলেছেন, এটা আর্জেন্টিনা নয় ভার্জেন্টিনা। যাই হোক, পাঁচ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা দুটো গোল করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মেসি সরাসরি গোল করেন। আর তার বলে অন্যটি করেন রোমেরো। বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন মেসি। খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইনজুরি টাইমে। এই গোলটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ মিশরের তারকা সালাহকে স্পষ্ট ফাউল করলেও তা রেফারি এড়িয়ে যান। এমনকি রিভিউতেও পাঠাননি। যেটা অবিশ্বাস্য। অভিযোগ, মিশর হেরে গেল রেফারির ছল-চাতুরিতে। নাহলে হয়তো খেলাটি ঘিরে তেমন একটা বিতর্ক হতো না। মোস্তফা জিকোর গোলটা বাতিলের পর বোঝা গিয়েছিল অন্য কিছু হতে পারে। এর আগের ইতিহাস- রোনালদো নেই, ব্রাজিল নেই বিশ্বকাপে তাহলে থাকলো কী। এবার যদি আর্জেন্টিনাও চলে যায় তাহলে তো বিশ্বকাপের উন্মাদনাই থাকবে না। মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবেইর আসলেই এক পিরামিড হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই পিরামিড ভাঙলো অদৃশ্য শক্তির খেলায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ও লিপিবদ্ধ হলো। বিশ্বকাপে শুধু খেলা নয়, ব্যবসার দিকটাও দেখতে হবে। এবার ফিফা কি সেই ঝুঁকি নেবে। মিশর এর আগে চারবার বিশ্বকাপে এসেছিল। আর এবারই প্রথম নকআউটে আসে। অঙ্কের হিসেবে মিশর হারলেও বিবেকের বিচারে আসল জয়ী তারাই। খেলা শেষে মেসি আবারও আলোচনায়। বলা চলে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ফুটবলকে শাসন করছেন। তিনি এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। গত সপ্তাহে দুটি জয়ের মাঝখানে তিনি তার ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন। তার অগণিত ভক্তরা কীভাবে তাদের প্রিয় তারকার শেষ বিশ্বকাপকে উপভোগ করছেন- এই প্রশ্নের মধ্যেই মিশরের উত্থান দেখে মেসি নিজেই চিন্তায় পড়ে যান। মিশরের প্রথম গোলের পর তিনি উপুড় হয়ে ঘাস দেখছিলেন। এই ঘাস, এই মাঠ ও এই গ্যালারি তার শক্তি, সাহস। বিতর্ক হচ্ছে- এই বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হবেন কে। লামিন ইয়ামাল- এক স্প্যনিশ কিশোর? কিলিয়ান এমবাপ্পে- ফুটবলের অতি গতিসম্পন্ন বোগাত্তি গাড়ি! নাকি আর্লিং হালান্দ- নরওয়ের সেই গোলদানব! বৃটেনের হ্যারি কেইন? ১৯শে জুলাই এর উত্তর মিলবে। খেলা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে কুৎসিত কিছু ঘটনাও ঘটে। রেফারি আবোল-তাবোল অনেক সিদ্ধান্ত দেন। লাল কার্ড, হলুদ কার্ড মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও দেখান। যা খেলার সৌন্দর্যে দাগ লাগিয়ে দেয়। জমজমাট প্রশ্নের সৃষ্টি করে।

  • অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শেষ বাঁশি বাজালো রেফারি! বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক অঘটন ঘটিয়েই ফেলেছিল মিশর। কিন্তু তার বদলে ফুটবল বিশ্ব দেখলো আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক এক প্রত্যাবর্তন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতলো আলবিসেলেস্তেরাম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন লিওনেল মেসি। তবে এ কান্না বিষাদের নয়, আনন্দের। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে যে চাপ তিনি তৈরি করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে এক অ্যাসিস্ট আর এক গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে নিজেই তার প্রায়শ্চিত্ত করলেন। আর্জেন্টিনা শিবির এখন স্বস্তি আর উল্লাসে ভাসছে। টানা দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো টিকে রইল তাদের।অন্যদিকে রেফারির শেষ বাঁশির পর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন মোহাম্মদ সালাহ ও তার দল। পুরো ম্যাচে বীরের মতো লড়াই করেও এমন হার মেনে নেয়া কঠিন। তবে মিশর আজ ম্যাচ হারলেও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে, কারণ তারা কোনো ভুল করেনি। তারা স্রেফ হেরে গেছে এক অতিমানবীয় ফুটবল জাদুকরের পায়ের কাছে।এর আগে যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় মেজাজ হারায় মিশরীয় শিবির। আর্জেন্টিনার কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল হওয়ার ঠিক আগে নিজেদের বক্সে ম্যাক অ্যালিস্টার মিশরের ফাতিকে টেনে ফেলে দিয়েছিলেন বলে দাবি করে তারা। এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করায় গোলকিপার শোবের হলুদ কার্ড দেখেন এবং মিশরের একজন স্টাফ মাঠের ভেতর ঢুকে লাল কার্ড পান। পরে প্রতিবাদ করায় ফাতি এবং ম্যাক অ্যালিস্টারকে ফাউল করায় আতিয়াও হলুদ কার্ড দেখেন। ক্ষোভে ফেটে পড়া মিশরের কোচ হোসাম হাসানও রেফারিকে কিছু বলায় হলুদ কার্ডের তালিকায় নাম লেখান। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে ওতামেন্দি ও মেদিনা মাঠে নামেন এবং লাউতারো মার্টিনেজ কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে বল ধরে রেখে সময় নষ্ট করতে গিয়ে আতিয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।গোল! অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তায় লিড নিলো আর্জেন্টিনা! ডান প্রান্ত থেকে আরও একটি চমৎকার ক্রস ভেসে আসে মিশরের বক্সে। সেখানে লাফিয়ে উঠে এনজো ফার্নান্দেজ নিখুঁত এক হেডে বল পাঠিয়ে দেন পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণায়। গোলকিপার শোবেরের সাধ্য ছিল না এটি আটকানোর। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এই গোল করে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করল আলবিসেলেস্তেরা।

    ৮৩ মিনিট: আর্জেন্টিনা ২-২ মিশর

    গোল! সমতায় ফিরলো আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি ম্যাজিক! ডান প্রান্ত থেকে মেসির বাড়ানো ক্রসটি মিশরের রক্ষণভাগ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি। বাঁ প্রান্ত থেকে বলটি আবার বক্সের ভেতর ফেরত পাঠান লাউতারো মার্টিনেজ। হুলিয়ান আলভারেজ বুক দিয়ে আলতো ছোঁয়ায় বলের গতি কমিয়ে মেসির সামনে বাড়িয়ে দেন। ড্রপ খাওয়া বলটিতে কোনো সময় নষ্ট না করে নিখুঁত এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন মেসি। মিশরীয় গোলকিপারের এবার আর কিছুই করার ছিল না। ৪ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফিরে এলো আলবিসেলেস্তেরা।

    ৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ১-২ মিশর

    গোল! রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমালো আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রসে বল বক্সে বাড়ান লিওনেল মেসি। সেখানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে চমৎকার হেডে বল জালের ডান দিকে পাঠান। মিশরীয় গোলকিপার শোবের ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রুখতে পারেননি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ফেরার দারুণ ইঙ্গিত দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ৬৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-২ মিশর

    গোল! এবার আর কোনো ভুল নেই। জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করলো মিশর! আর্জেন্টিনার একটি কর্নার থেকে বল পেয়েই কাউন্টার অ্যাটাকে গতি বাড়ান মোহাম্মদ সালাহ। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে কাটিয়ে তিনি ডান প্রান্তে থাকা হাসানকে পাস দেন। হাসান গতিতে নাহুয়েল মলিনাকে পরাস্ত করে একদম বাইলাইনের কাছ থেকে বক্সে চমৎকার কাট-ব্যাক করেন। সেখানে ওত পেতে থাকা জিকো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। বিশ্বমঞ্চে এবার সত্যিই বড় এক অঘটনের সুবাস দিচ্ছে মিশর।

    ৫৮ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল বাতিল! ভিএআরের হস্তক্ষেপে বেঁচে গেল আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণ থেকে অসাধারণ এক গোল করে উল্লাসে মেতে উঠেছিল মিশর। তবে গোলটির ঠিক আগের মুহূর্তে, মিশরের নিজেদের অর্ধে আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর দেখে রেফারি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তটি সঠিক হলেও মিশরের জন্য এটি ছিল চরম এক হৃদয়ভঙ্গ।

    হাফটাইম: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আটলান্টা স্টেডিয়ামে বড়সড় এক অঘটনের আভাস দিয়ে বিরতিতে গেল দুই দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো ম্যাচ না জেতা মিশরের জন্য এটি স্বপ্নের এক প্রথমার্ধ। অন্যদিকে, তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এক গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়লো। আলবিসেলেস্তেরা এখনো প্যানিক না করলেও, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে নিজেদের বক্সের সামনে মিশরীয় ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা কেবল অফসাইডই হতে পেরেছেন। অন্যদিকে, গোলকিপার মোস্তফা শোবেরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে মাথায় হাত পড়ে লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজের। গ্যালারিতে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনেও আলভারেজের শটটি নিশ্চিত গোল ভেবে বসেছিলেন। কিন্তু শোবেরের বিশ্বমানের সেভ সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও নিজেদের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ধরে রাখে মিশর।

    ৪০ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    বাঁ প্রান্ত দিয়ে তাগলিয়াফিকোকে লক্ষ্য করে একটি লম্বা পাস বাড়ানো হয়। তিনি কোনোমতে পা বাড়িয়ে বলটি বক্সের মাঝখানে দেন হুলিয়ান আলভারেজের উদ্দেশ্যে। আলভারেজ শরীরটা ঘুরিয়ে ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে জোরালো সাইডফুট শট নেন। একদম ছবির মতো সুন্দর এক গোল হতে পারত এটি। কিন্তু পুরো শরীর বাতাসে ভাসিয়ে এক হাতের দারুণ ছোঁয়ায় বল পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন মিশরীয় গোলকিপার শোবের। আরও একবার অসাধারণ এক সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করলেন তিনি।

    ২৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি বাড়ল। ডান প্রান্ত থেকে রদ্রিগো ডি পল চমৎকার একটি ক্রস বাড়ান বক্সে। গোলপোস্টের মাত্র ছয় গজ দূর থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেড করলেও তা মিশরীয় ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর বক্সের প্রান্ত থেকে এনজো ফার্নান্দেজ ফিরতি বলে জোরালো শট নিলেও সেটিও ব্লক করে দেয় মিশরের রক্ষণভাগ।

    ২১ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    মেসির পেনাল্টি মিস! পেনাল্টি নেয়ার চিরচেনা আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেসি শট নিলেও, তা আটকে দেন মিশরের গোলকিপার শোবের। মেসি পোস্টের ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে মারলেও শটটিতে পর্যাপ্ত গতি ছিল না। গোলকিপারদের জন্য একদম সুবিধাজনক উচ্চতায় থাকা বলটির দিক আগেই অনুমান করে চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন শোবের। ফলে পেনাল্টি থেকেও সমতায় ফেরা হলো না আর্জেন্টিনার।

    ১৫ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল! ইব্রাহিমের চোখধাঁধানো হেডে এগিয়ে গেল মিশর। ডান প্রান্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে চাপে ফেলে ম্যাচের প্রথম কর্নার আদায় করে নেন হ্যানি। কর্নার থেকে বল ফেরত পেয়ে উইং দিয়ে ভেতরে ক্রস বাড়ান আতিয়া। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাঁকি দিয়ে অনেকটা নিঃশব্দে বক্সে ঢুকে চমৎকার এক হেডে বল জালে জড়ান ইব্রাহিম। পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে জড়ানোর সময় গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের স্রেফ দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

    ৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-০ মিশর

    ডান প্রান্তে দারুণ খেলে একটি ফ্রি-কিক আদায় করে নিলেন মিশরের হাসান। আতিয়া সেই ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল বাড়ালেও আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের সামনে দিয়ে তা পার হয়ে যায়। সেখানে কোনো মিশরীয় ফুটবলার না থাকায় বেঁচে গেল আলবিসেলেস্তেরা।

    কিক অফ

    শুরু মাঠের লড়াই

    ৩ পরিবর্তন আর্জেন্টিনার

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। একদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া রূপকথার মিশর, অন্যদিকে শিরোপাপ্রত্যাশী আলবিসেলেস্তেরা। দুই ভিন্ন মেজাজের দলের এই দ্বৈরথকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে

    মিশরের রক্ষণ ভাঙতে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশে তিনটি বড় পরিবর্তন এনেছেন। পেশির টানের কারণে ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় ইনজুরি কাটিয়ে ফিরছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে ধার বাড়াতে থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে শুরু থেকেই খেলবেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফলে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার কিছুটা ওপরে উঠে খেলার স্বাধীনতা পাবেন। আক্রমণভাগেও এসেছে বড় বদল। অফফর্মে থাকা লাওতারো মার্তিনেজের জায়গায় গোড়ালির চোট কাটিয়ে ফিরেই মূল একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ হুলিয়ান আলভারেজ।

    লিভারপুলের কিংবদন্তি মোহামেদ সালাহ জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো সাফল্য পাচ্ছিলেন না। তবে এবার সালাহর জাদুকরী নেতৃত্বেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে ‘ফারাও’রা। বিশ্বকাপে এর আগে কখনো কোনো ম্যাচ না জেতা মিসর এবার শেষ ১৬তে জায়গা করে নিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হলেও, জিতলে সালাহর দল পৌঁছে যাবে অনন্য এক উচ্চতায়।আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

    মিশর একাদশ: মোস্তফা শোবেইব, মোহামেদ হানি, রামি রাবিয়া, ইয়াসির ইব্রাহিম, করিম হাফেজ, ইমাম আশুর, মারোয়ান আতিয়া, মোহামেদ লাশিন, হাসান, মোহামেদ সালাহ, জিকো।

  • আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ম্যাচটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সমর্থকদের পাশাপাশি এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বর্ষাও।

    দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত বর্ষা। তবে এবারের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি প্রতিপক্ষ মিশরের জয় কামনা করেছেন।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আজ আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারলেও কষ্ট পাব না। কারণ, মন থেকে চাই দুনিয়ার বুকে মুসলিমদের জয় হোক। আমিন।’

    বর্ষার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সম্মান জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, খেলাধুলাকে ধর্মের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত। তবে এসব ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করতে দেখা যায়নি অভিনেত্রী বর্ষাকে।

  • মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    লিওনেল স্কালোনি আজ কী করবেন? মিসরের বিপক্ষে কারা থাকবেন শুরুর একাদশে? এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিশ্চিত। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের একাদশে ফেরার কথাও জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। বাকি দুজন কারা?

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল গ্রাফিকো জানিয়েছে, চোট কাটিয়ে বাঁ দিকের রক্ষণভাগে ফিরছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। গত ম্যাচে ক্র্যাম্প হওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফাকুন্দো মেদিনাকে। আজকের ম্যাচে মেদিনার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন তাগলিয়াফিকো। মিডফিল্ডে জায়গা হারাচ্ছেন থিয়াগো আলমাদা। পারেদেসকে একাদশে জায়গা করে দিতে বেঞ্চে বসতে হচ্ছে তাঁকে।

    সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগেও পরিবর্তন আসবে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে শুরুর একাদশে খেলবেন হুলিয়ান আলভারেজ। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে শুরুর একাদশে ছিলেন মার্তিনেজ।

    আজ আক্রমণভাগে শুরু থেকে খেলবেন আলভারেজ রয়টার্স

    এ ছাড়া অনুশীলনে রদ্রিগো দি পলের জায়গায় নিকো গঞ্জালেজকে দিয়েও পরখ করে দেখেছেন কোচ স্কালোনি। তবে ম্যাচের শুরু থেকে এই পরিবর্তন দেখার সম্ভাবনা কম। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে গঞ্জালেজকে মাঠে নামানো হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার আরেকটি সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে আজ দেখা যাবে আলভারেজ, তাগলিয়াফিকো ও পারদেস।

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

    মার্তিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

  • ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গতকাল কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেই ব্রাজিল।

    ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর দেশটির তারকা ফুটবলার নেইমারের কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস।

    স্কাই জার্মানিতে প্রকাশিত নিজের কলামে ম্যাথাউস লিখেছেন, ব্রাজিলের বিদায়ে তিনি খুশি। তার ভাষায়, ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে, এতে আমি আনন্দিত। তাদের এই অবিরাম অভিযোগ আর অঙ্গভঙ্গি আমি আর সহ্য করতে পারি না।

    নেইমারের আচরণকে লক্ষ্য করে জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস বলেন, শেষ দিকে পাওয়া পেনাল্টির সময় ব্রাজিল তারকার আচরণ দলের বড় একটি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

    ম্যাথাউস লিখেছেন, পেনাল্টিটি দ্রুত নেওয়ার পরিবর্তে নেইমার শট নেওয়ার আগে ও পরে গোলরক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল। এই আচরণ থেকেই বোঝা যায়, সে দলের সাফল্যের চেয়ে নিজের অহংকারকেই বড় মনে করে।

    ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করছেন নেইমার। দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে খেলেও ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দিতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।

  • ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে লিওনেল মেসিদেরই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিশর।

    রাউন্ড অফ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে মিশর। তাদের হয়ে শেষ শট নিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ্‌। তিনি জানেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সালাহ্‌ বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই প্রতিটা ম্যাচ ফাইনাল ধরে খেলছি। এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। সেটা ভেবেই খেলতে নামব।’

    সালাহর উপর ভরসা রয়েছে দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগে ২৫৭ গোল করা, চার বার সোনার বুট জেতা সালাহ্‌কে হালকা ভাবে নিলে প্রতিপক্ষ ভুগবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে নিয়ে ভাবছি না। দলের ছেলেদের বলেছি, মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলো। দেখিয়ে দাও ওরা কাদের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে।’

    তবে শুধু সালাহ্ নন, পুরো দলের উপরেই ভরসা দেখিয়েছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘ওদের দলে মেসি থাকতে পারে। আমাদের দলে সালাহ্‌ আছে। যে কোনও প্রতিপক্ষকে ও একাই শেষ করে দিতে পারে। আমাদের দলে ২৬ জন মেসি আছে।’

    মিশরকে সমীহ করছেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তিনি কোনও দিনই প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নেন না। এই ম্যাচেও নেবেন না। খেলার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি বলেন, ‘মিশর বেশ কঠিন দল। ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই এত দূর এসেছে। আরও একটা কঠিন লড়াই আমাদের সামনে। একটা কথা মাথায় রেখেই নামব। জিততে হবে।’

    মিশরের বিপক্ষে খেলার ধরন না বদলালেও দলে বদল করতে পারেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কাদের দলে রাখব সেটা আমি জানি। এখন তা বলব না। তবে যারা আগে বেশি খেলার সুযোগ পায়নি, তেমন কয়েক জনকে খেলাতে পারি। ওরা তরতাজা আছে। তাতে আমাদের সুবিধা হবে।’

    স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চারটে ম্যাচই জিতেছি। তাতে আমি খুশি। কিন্তু আগের দিন রক্ষণের সময় গতির অভাব হচ্ছিল। তাই কেপ ভার্দে বল পাচ্ছিল। আমরা রক্ষণের সময়েও গতিশীল ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। সেটা মিশরেরর বিরুদ্ধে খেলতে হবে।’

  • ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়ে গতকাল ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মেতে ওঠে নরওয়ে ফুটবল দল।

    ‘ভাইকিং রো’ এমন একটি উদযাপন, যেখানে একদল মানুষ মাটিতে বা আসনে বসে শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সমর্থকরা এই উদযাপনে অংশ নেন।

    একজন ড্রামার তালে তালে গতি ঠিক করে দেন। প্রতি দুই বিট পরপর দর্শকরা একসঙ্গে ‘রো’ বলে স্লোগান দেন এবং সমবেত উদযাপন চলতে থাকে।

    এই উদযাপন মূলত নরওয়ের ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চালু হয়েছে। ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি ছিল নরওয়ে। ইতিহাসের সেই ‘ভাইকিং যুগ’ আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ‘ভাইকিং রো’-এর প্রবর্তক কে?

    নরওয়ের সুপরিচিত সমর্থক ওলে ফ্রয়স্তাদকে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের প্রবর্তক। ২০২৬ সালের মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রথম এই উদযাপনের সূচনা করেন তিনি। শুরু থেকেই এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরই ‘ভাইকিং রো’ বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে। যা তাকে খ্যাতিও এনে দেয়। যে কারণে তাকে ডাকা হয় ‘মিস্টার রো রো’।

    এখন শুধু সমর্থকরাই নন, নরওয়ের ফুটবলাররাও এই উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর দলের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের নিয়ে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে নেতৃত্ব দেন।

    সম্প্রতি ইনসাইড ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলে ফ্রয়স্তাদ জানান, ‘মানুষকে একসঙ্গে একই তালে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করতে দেখাটা দারুণ আনন্দের। এটা ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাইকিং রো। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

  • আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এবং মিশর জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন দুই তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ।

    ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে অনুশীলনে যোগ দেন মেসি। এর আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি-র সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেন তিনি। পরে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে প্রাণবন্তভাবেই অংশ নিতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

    স্কালোনি বলেন, টানা ম্যাচ, দীর্ঘ বিমানযাত্রা, গরম আবহাওয়া এবং একেক ভেন্যুর ভিন্ন পরিবেশ এবারের বিশ্বকাপকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তার মতে, এ টুর্নামেন্টে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেবারিট বলা যাচ্ছে না এবং সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হতে পারে।

    অন্যদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তার দল দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। আর্জেন্টিনাকে যথেষ্ট সম্মান করলেও ভয় পান না বলে জানান তিনি। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চান এবং সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। চোট কাটিয়ে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেজের বদলে শুরু থেকেই খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    অতীত পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বে কোনো হিসাবই শেষ কথা নয়। একটি মুহূর্ত বা একজন খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই নামছে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

  • বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থেকে শেষ মুহূর্তে রেহাই পেলেও আর্থিক শাস্তি এড়াতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিতর্কিত লাল কার্ডের ঘটনায় তাকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড) জরিমানা করেছে ফিফা। সেই জরিমানার অর্ধেক বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনও।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামেন। তবে আর্থিক শাস্তির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।

    ফিফার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ডিসিপ্লিনারি কোডের দুটি পৃথক ধারা ভঙ্গের দায়ে মোট ৪০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর অর্ধেকের দায় বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন।

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে বড় বিতর্কের জন্ম হয়েছে। বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছে। এমনকি অভিযোগ ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পরই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।এই বিতর্কের জেরে মুখ খুলেছেন ইনফান্তিনোও। তিনি দাবি করেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তে সভাপতির কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

    ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পেয়েছিলাম, যেমন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি কর্মকর্তা ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে ফোন পাই। আমি শুধু জানিয়েছি যে বিষয়টি স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কখনো আমি ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে একমত হই, কখনো হই না। কিন্তু সবসময় তাদের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। ব্যক্তিগত মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’বালোগুনের শাস্তি স্থগিত হওয়ার ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে আলোচনা এখনো থামেনি। তবে নিষেধাজ্ঞা এড়ালেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে বিতর্কিত এই অধ্যায়ের মূল্য চুকাতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ডকে।

  • বর্ণবাদী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে

    বর্ণবাদী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ম্যাচের পর মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য এবং তার জবাবে এমবাপ্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া।

    স্পেনের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের বিদায়ের পর দেশটির সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমবাপ্পেকে নিয়ে একাধিক বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

    তিনি এমবাপ্পেকে ‘ক্যামেরুনীয় বংশোদ্ভূত, নিজেকে মরিয়া হয়ে ফরাসি হিসেবে পরিচয় দিতে চাওয়া ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি তাকে ‘বর্বর’ বলেও কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল তাকে চড় মারা।

    এমন মন্তব্যের জবাবে এমবাপ্পে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ভাষায় সিনেটরের সমালোচনা করেন।

    তিনি লেখেন, ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদে থাকার যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই বিশ্বকাপে যে দেশ আবেগ, সম্মান ও লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আপনি সেই দেশের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেছেন।

    এমবাপ্পে আরও বলেন, আপনার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রকাশ্য বর্ণবাদ পুরো বিশ্বের নজর ঘুরিয়ে দিয়েছে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক অর্জন থেকে। পরিবর্তে এখন আলোচনায় একজন অযোগ্য রাজনীতিক, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে খারাপ চিত্রটি তুলে ধরেছেন।

    সবশেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আপনার মতো মানুষদের ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাধীনতা আমি কখনোই মেনে নেব না।

    এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এক বিবৃতিতে এফএফএফ জানায়, এ ধরনের মন্তব্য জঘন্য, অগ্রহণযোগ্য এবং আইনত দণ্ডনীয়। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য আসলে পুরো ফ্রান্সকেই অপমান করার শামিল। তাই বিষয়টি আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১০ জুলাই মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।

  • অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে সুইজারল্যান্ড। একই পথে আছে লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়াও। দুদল এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শেষ ষোলোর ম্যাচে। নকআউটের এই ম্যাচে হারলেই বিদায়। দুদলই দারুণ ছন্দে থাকায় জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এ সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া।

    বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য সুইজারল্যান্ডের জন্য খুব সুখকর ছিল না। উদ্বোধনী ম্যাচে কাতারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছিল মুরাত ইয়াকিনের দল। এরপর যেন পুরোপুরি বদলে যায় তাদের চেহারা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে সুইসরা।

    সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় কারণ বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা। জোহান মানজাম্বি ও রুবেন ভার্গাস দারুণ ছন্দে রয়েছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মানজাম্বির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ব্রিল এমবোলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সুইজারল্যান্ড।

    অন্যদিকে কলম্বিয়া বিশ্বকাপে এসেছে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা নিয়ে। শেষ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্র তাদের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে ওঠে নেস্তর লরেঞ্জোর দল।

    রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে লস ক্যাফেতেরোসরা। যদিও ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ছিটকে যান দলের প্রধান স্ট্রাইকার জন কর্দোবা। তবে তার বদলি হিসেবে নেমে লুইস সুয়ারেজ ম্যাচের একমাত্র গোলের অ্যাসিস্ট করে কোচের আস্থা অর্জন করেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একাদশে তাকেই দেখা যেতে পারে।

    কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছাড়া টানা তিন ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে তারা। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগও ধারালো। ফলে ম্যাচটি হতে পারে শক্তিশালী রক্ষণ বনাম গতিময় আক্রমণের লড়াই।

    তবে সুইজারল্যান্ডের জন্য কিছু দুশ্চিন্তাও রয়েছে। পেশির চোটের কারণে মিডফিল্ডার মিশেল এবিশার ও ডিফেন্ডার লুকা জাকেজের খেলা অনিশ্চিত। তারা না খেলতে পারলে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লার মাঝমাঠের দায়িত্ব সামলাবেন, আর রক্ষণে থাকবেন মানুয়েল আকাঞ্জি ও নিকো এলভেদি।

    দুদলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কোনো পক্ষই পরিষ্কার ফেভারিট নয়। সুইজারল্যান্ড টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, আর কলম্বিয়া ভরসা করবে নিজেদের সংগঠিত রক্ষণ ও ধারাবাহিক ফর্মের ওপর। ফলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে ভ্যাংকুভারে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এক দ্বৈরথ।

  • রোনালদোর স্বপ্ন ভেঙ্গ শেষ আটে স্পেন

    রোনালদোর স্বপ্ন ভেঙ্গ শেষ আটে স্পেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    গ্যালারিতে একটা পোস্টার হাতে একজনকে দেখা গেল। রঙিন সেই পোস্টারে এক পাশে রোনালদোর ছবি, আর অন্য পাশে লামিন ইয়ামালের। রোনালদোর ছবির পাশে লেখা ‘দ্য লিজেন্ড’। ইয়ামালের পাশে লেখা লাল হরফে ‘দ্য ফিউচার’।

    ম্যাচের ফলাফল তাই জানাল, ভবিষ্যৎ থাকল আর লিজেন্ড বিদায় নিল। বিশ্বকাপের মাঠ আগের দিন দেখেছিল নেইমারের কান্না। এদিন সাক্ষী হলো রোনালদোর চোখের জলের। আর চোখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে হাসতে হাসতে ইয়ামালের স্পেন নাম লেখাল বিশ্বকাপের শেষ আটে। রোনালদোর পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশন রাউন্ড অব সিক্সটিনেই সমাপ্ত।

    ডালাসে ম্যাচের ৯১ মিনিটে গোল করে মিকেল মেরিনো স্পেনকে জয় এনে দিলেন। ফ্রি কিক থেকে ফার্নান্দো তোরেসের পাসে পাওয়া বলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খালি জায়গা করে নিয়ে গোল করেন মেরিনো।

    ম্যাচ শেষ হতে তখন বাকি কেবল ৬ মিনিট। শেষের এই সময়ে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। গোল প্রায় পেয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেজের হেড স্পেনের গোলপোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। আর তাতেই ভেসে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

    আবেগ চেপে রেখে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। কিন্তু চোখের জল লুকাতে পারেননি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেন। যার প্রত্যেকটিতেই আছে তার গোল। কিন্তু স্বর্ণালী ট্রফির বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে উল্লাস করার স্বপ্নটা তার অপূর্ণই রয়ে গেল।

    বাড়ি ফেরার প্লেন ধরছে পর্তুগাল। আর স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে মোকাবিলা করবে বেলজিয়ামকে।

  • ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    শেষ ষোলোতে তারকা এক ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে হতে যাওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। কিন্তু নকআউট পর্বের ম্যাচের আগমুহূর্তে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। তাতে তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।

    সানফ্রান্সিসকোতে গত ২ জুলাই বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর খেলার কথা না। অথচ সেই শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরপর ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

    গতকাল বালোগানের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তবে বালোগান ফের অপরাধ করলে ফিফা শাস্তির ব্যাপারটি ভেবে দেখবে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

    বালোগান শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।

  • আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    ফুটবল বিশ্বে এর আগে এসেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলে। কেউ বল নিয়ন্ত্রণে, কেউ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কেউ গতিতে, আবার কেউ শারীরিক সামর্থ্যে ছিলেন অনন্য। তবে প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা।

    কিন্তু আর্লিং হালান্ড যেন সেই প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিচ্ছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—হালান্ড কি সত্যিই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ অ্যাথলেট?

    ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের বিস্ফোরক গতি, শক্তিশালী শারীরিক গঠন এবং গোল করার প্রায় যান্ত্রিক দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। তবে কেবল জন্মগত প্রতিভা নয়, বরং নিজের শরীর ও জীবনযাপনকে বৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে তোলার কারণেই তিনি আজ অন্যদের থেকে আলাদা।

    ৬ হাজার ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস

    বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ফুটবলারের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রোটিন শেক ও নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু হালান্ডের খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব থাকে গরুর হৃদপিণ্ড, কলিজাসহ বিভিন্ন অঙ্গের মাংসে।

    নিজের প্রামাণ্যচিত্র Haaland: The Big Decision-এ তিনি বলেন, অনেকেই এসব খাবার খায় না। কিন্তু আমি আমার শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন।

    পানির ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সাধারণ পানি না খেয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিশোধিত পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের মিশ্রণে তৈরি একটি পানীয় পান করেন, যাকে তিনি মজার ছলে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বলে উল্লেখ করেন।

    ঘুমই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    হালান্ডের বিশ্বাস, একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ঘুম। তাই প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত দুপুরেও কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

    মেন্স হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তিনি কমলা রঙের বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যা কৃত্রিম আলোর প্রভাব কমিয়ে শরীরে স্বাভাবিকভাবে মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

    এছাড়া ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ ব্যবহার করেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। এতে অক্সিজেন গ্রহণ আরও কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে। ঘুমানোর আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বন্ধ করে দেন তিনি।

    হালান্ডের অনুশীলনের মূল ভিত্তি শক্তি, গতি ও নমনীয়তা। তার সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের সাবেক কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের প্রতিদিনের রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ ও এক হাজার সিট-আপ। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়ামও করেন তিনি।

    শুধু অনুশীলন নয়, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই স্ট্রাইকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ক্রায়োথেরাপি চেম্বার স্থাপন করেছেন তিনি। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরকে রাখার মাধ্যমে ল্যাকটিক অ্যাসিড কমানো, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন হালান্ড, যাতে টানা উচ্চগতির খেলায়ও শরীর সতেজ থাকে।

    মাঠের বাইরেও ভিন্ন এক ব্যক্তিত্ব

    শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দিক থেকেও নিজেকে আলাদা করেছেন হালান্ড। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সবসময় সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। তাই ভাবলাম, অতিরিক্ত সময় খেলতে পারব না। আমাদের এখনই গোল করতে হবে।

    জ্লাতানের পরামর্শেই লম্বা চুল

    মাঠে হালান্ডের আরেকটি পরিচিত দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ দিকে চুলের বাঁধন খুলে দেওয়া। তার লম্বা চুল নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প।

    টেলিভিশন অনুষ্ঠান জেমস কর্ডেনের স্পেশাল শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাকে বলেছিলেন, ‘কখনো চুল কাটবে না। শক্তি লুকিয়ে আছে চুলেই।’

    হালান্ড হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, জ্লাতান আমাকে এ কথা বলেছেন। এখন আমি আর কী করতে পারি? তার কথা তো শুনতেই হবে।

    মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ড আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কঠোর অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম, উন্নত ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। এসব কিছুর সমন্বয়েই তিনি আজকের ফুটবলে একজন আদর্শ অ্যাথলেটের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    লতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডেরা।

    আজ রোববার ভোরে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়েছেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। চার ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি।

    সমান সংখ্যক গোল রয়েছে আরও দুই ফুটবলারের। পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এমবাপ্পে। মেসি চার ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। অর্থাৎ, তিন ফুটবলারই সাতটি করে গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন।

    এই প্রথমবার বিশ্বকাপে তিন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেছেন। চার বছর আগে সংখ্যাটা ছিল দুই। কাতার বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপ্পে সাত বা তার বেশি করেছিলেন। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন। আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপে তিন জন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেননি।

    একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাঁ ফঁতের। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাচে ছয় ম্যাচ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছিলেন হাঙ্গেরির সাভর কোসিস।

    মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে তারা ফাইনাল পর্যন্ত গেলে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে।

  • পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্বে।

    একদিকে স্পেনের দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে পর্তুগালের গতিময় আক্রমণ ও তারকাখচিত স্কোয়াড- সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ এক মহারণ। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই মানেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, যেখানে হার মানেই বিদায়। তাই এই ম্যাচে কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে ফল।

    শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং রক্ষণে দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে লা রোহা। অন্যদিকে, পর্তুগাল কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

    স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মিডফিল্ড। ছোট ছোট পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতায় তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তরুণ তারকাদের গতির সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় ভরসা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের আক্রমণভাগের। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের মধ্যে স্ট্রাইকার লামিনে ইয়ামাল অন্যতম। আরও আছে- পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ওলমো, নিকো আর ওয়ারাবাজালের মতো খেলোয়াড়। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন। ৫১৯ মিনিট গোলবার আগলে রেখে।

    অন্যদিকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে ফেবারিট দল হিসেবে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তিন গোল করলেও খেলার ধরন ছিল গড়পড়তা। এখনও দল হিসেবে খেলতে পারছে না কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রজন্মের লড়াইও। একদিকে অভিজ্ঞ তারকাদের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। নকআউট ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকে দুদলই সতর্ক থাকবে। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।

    ইতিহাসও বলছে, স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথে খুব কম ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হয়। দুদলের আগের বেশির ভাগ লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১০ সালের একমাত্র দেখায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।

    সবমিলিয়ে এটি শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার অপেক্ষায়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল নাকি পর্তুগালের কার্যকর পাল্টা আক্রমণ— কোন কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছোট একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করবে, আইবেরিয়ান ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

    স্পেন ও পর্তুগাল এ পর্যন্ত মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের জয় ১৭টি। পর্তুগালের ৭টি। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ মোকাবিলায় ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল, পরে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় পর্তুগিজদের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দুদল।

  • সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    ফিফার বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬ নম্বরে। এ হিসাবে কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়ামই। কিন্তু বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ বেলজিয়াম দলের উইঙ্গার দোদি লুকেবাকিও। উল্টো তিনি এই ম্যাচে দুই দলেরই ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখেন।

    র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা দেখছেন লুকেবাকিও—কারণ, যুক্তরাষ্ট্র খেলবে ঘরের মাঠে, সমর্থকভরা গ্যালারির সমর্থন নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে সবকিছুই আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের মাঠে খেলছে, দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই ম্যাচটা হবে ৫০-৫০।’

    অবশ্য পরিসংখ্যানও প্রায় একই কথা বলছে। অপ্টর সুপারকম্পিউটার ৯০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৩৭.২ শতাংশ, আর বেলজিয়ামের ৩৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভবনার ব্যবধান খুবই সামান্য।

    ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। টানা চার ম্যাচে অন্তত দুই গোল করে তারা গড়েছে নতুন কীর্তি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি পচেত্তিনোর দলের।

    অন্যদিকে বেলজিয়াম খুব একটা স্বস্তি নিয়ে শেষ ষোলোয় আসেনি। গ্রুপে মাত্র একটি জয় পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়ানরা।

    তবে নকআউটের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি শেষ ষোলোর পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০২ সালে, যখন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

    মার্চে আটলান্টায় প্রীতি ম্যাচে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেদিন ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম, যেখানে শেষ দুটি গোল করেছিলেন লুকেবাকিও। তবে এবার তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। তাই সিয়াটলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই অপেক্ষা।

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে খেলবে মিসরের বিপক্ষে। পরশু আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-মিসর; যা ডালাস থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দূরে। নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশ ডেপুটি চিফের সঙ্গে দেখা করেছেন।

    মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে ডালাস পুলিশ সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ছবিও পোস্ট করেছে পুলিশ। ডালাস পুলিশ বিভাগ নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল রাতে ছবি পোস্টের পর ক্যাপশনে লিখেছে, ‘ডালাস পুলিশ বিভাগ আমাদের কমিউনিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কথোপকথনও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সম্মান শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। আজ (গতকাল) মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং উপহার বিনিময় করেন।’

    ডালাস পুলিশ বিভাগের ডেপুটি চিফ ইসমাইলের সঙ্গে মিসর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ, কোচ হোসাম হাসানসহ অনেকে ছিলেন। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হিউস্টনে মিসরের কনসাল জেনারেল শেরিফ মোখতার , মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা এবং মিসর ফুটবল দলের পরিচালক ইবরাহিম হাসান। যাঁদের মধ্যে হানি আবু রিদা ফিফা কাউন্সিলের একজন বিশিষ্ট সদস্য।

    পরশু রাতে ডালাসে টাইব্রেকারে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় মিসর। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে গতকাল সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করে ডালাস পুলিশ। মিসরকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে ডালাস পুলিশ লিখেছে, ‘গতকাল (গত পরশু) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মিসর দলকে অভিনন্দন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং এর পরেও তাদের সঙ্গে এই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করছি।’

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিসর দলের সঙ্গে ঘটেছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হোটেলে নিরাপত্তাকর্মী ও দলটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, মিসর দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে তা হাতাহাতিতে পৌঁছেছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর মিসর দলের সঙ্গে তো সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করল ডালাস পুলিশ।

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    বলতে গেলে শেষ ভাগে এসে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শেষ হতে বাকি শুধু ১৪ দিন। যে টুর্নামেন্টের জন্য বিশ্ববাসী চার বছর অপেক্ষা করে, যার জন্য এত উন্মাদনা। তবে নকআউট পর্বে এখন যে রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে, তাতে কোন দল জিতবে শিরোপা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।

    বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলে ভাগ হয়ে পড়ে। তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, লাতিন আমেরিকার দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপারকম্পিউটারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচ। আর আর্জেন্টিনার শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ। পরশু আটলান্টায় হবে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণের জন্য প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে, যাতে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর ব্যাপারেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। শেষ বত্রিশের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচের বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পেরেছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। এর আগে একই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৫৬ শতাংশ।

    কানাডা-মরক্কো, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে—গত রাতে এই দুই ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো শুরু হয়েছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা-ই হয়েছে। মরক্কো ও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৬৫.৭০ এবং ৩৪.৩০ শতাংশ। মরক্কো জিতেছে ৩-০ গোলে। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৬.৬৮ শতাংশ দেখিয়েছিল সুপারকম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি অন্যরাও করছে ভবিষ্যদ্বাণী। গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের (এফজিভি) স্কুল অব অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিকস স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বলছে ১৫.৫৭ শতাংশ। ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৬৮ শতাংশ। এদিকে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’ নামে পরিচিত একজন ব্রাজিলীয় পরিসংখ্যানবিদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে পর্তুগাল হবে চ্যাম্পিয়ন। যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’-এর মতে স্পেন হবে রানার্সআপ। ব্রাজিল বিদায় নেবে সেমিফাইনালের আগেই।

    ৭ জুলাই কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলো। ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা মিসর ম্যাচও রয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ১৯ জুলাই।

  • আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠটি মোটেও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। সবশেষ স্মৃতি ছিল বড় ক্ষতের। সেই ক্ষত এখনও ভুলতে পারছে না লায়নরা।

    ভোরে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের করা সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ।

    সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) নামে পরিচিত।

    হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’

    আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’

    টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি।’

  • বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের নজিরও রয়েছে দিদিয়ের দেশমের। ১৯৯৮ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচেই কোনও না কোনও নজির গড়ছেন। রোববার কোচ হিসেবে জোড়া নজির গড়েছেন ফ্র্যান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। যা বিশ্বে আর কারও নেই।

    প্যারাগুয়কে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ফ্রান্স। কঠিন লড়াই করে জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। তাদের এই জয়েই নজির গড়েছেন কোচ দেশম। বলা যায়, ছাত্রদের সাফল্যে কোচের নজির। বিশ্বের প্রথম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ১০টি ম্যাচ জিতলেন দেশম।

    পাশাপাশি আরও একটি নজির গড়েছেন দেশম। ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শনের রেকর্ড। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচ জিতেছেন ফ্র্যান্সের কোচ দেশম। শনের কোচিংয়ে জার্মানি বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ জিতেছিল। অর্থাৎ রোববার থেকে ম্যাচ জয়ের নিরিখে দেশম হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম কোচ। একসঙ্গে জোড়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।

  • নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেই ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়; ভেন্যু নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে পরবর্তী ম্যাচে বাইরে থাকবেন পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসাকে হারানো ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় ধাক্কা।

    পাকেতা ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে। তবে সিবিএফের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ফাইনালে না উঠলে এবারের বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই পাকেতার।

    সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশেই ছিলেন পাকেতা। চোট পাওয়ায় বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে চোট থেকে সের উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

    পাকেতার অনুপস্থিতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক পজিশনে দানিলো সান্তোসকে নামাতে পারেন ব্রাজিলিয়ান কোচ। আবার কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক একাদশ সাজাতে এন্দ্রিক বা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো খেলোয়াড়কেও সুযোগ দিতে পারেন।

    এদিকে ঊরুর চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। বর্তমানে মূল দলের বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে বদলি বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

  • অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    গুরুতর চোটের কারণে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত বদলে দেয় তাঁর সব ভাবনা। কন্যাসন্তান জন্মের পর নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি খুঁজে পান আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে রাউন্ড অব সিক্সটিনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্তিনেস। অথচ মাত্র এক বছর আগেও হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ায় তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অকপটে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। এমনকি অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম।’

    কন্যাসন্তানের জন্ম যেন মার্তিনেসের অন্ধকার সময়ে আলোর দিশা হয়ে আসে। এই প্রসঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘তারপর আমার মেয়ের জন্ম হলো, আর সবকিছুই ভারসাম্যে ফিরে এল।’

    স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা মার্তিনেসের মানসিকতাই বদলে দেয়, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দিতে দেখেছি এবং এর জন্য তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা দেখেছি। তখনই আমি নিজেকে বলেছিলাম, ‘আমি কীভাবে লড়াই চালিয়ে না যেতে পারি?’

    চোট কাটিয়ে যে দারুণভাবেই ফিরেছেন, চলমান বিশ্বকাপের সেটার প্রমাণ দিচ্ছেন মার্তিনেস। রক্ষণভাগে নিজের স্বাভাবিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনা দলের অবিচ্ছেদ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে যোগ করা সময়ে তাঁর গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়।

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয় প্রত্যাশিত ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় ফ্র্যান্স। জোড়া গোল করে ফরাসি অধিনায়ক দলকে শেষ ষোলোতে তুলেছেন।

    বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডে গড়েন ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।

    সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল করায় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। এর আগে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি লিওনিদাস। তাদের ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের একক মালিক এমবাপ্পে।

    শুধু এই রেকর্ডই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও বাড়িয়ে ৬-এ নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ফলে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬।

    সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শেষ ষোলোতেই সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলতে পারেন ফরাসি মহাতারকা।

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ওয়েব সিরিজ

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ওয়েব সিরিজ

    বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে সবখানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তুমুল উন্মাদনা দেখা যায়। চলে প্রিয় দলের জয়-পরাজয় নিয়ে তুমুল তর্ক-বির্তক, পতাকা টানানো। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপ পরিণত ভিন্ন এক উৎসবে। সেই চেনা বাস্তবতাকেই পর্দায় তুলে আনছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’। খেলা হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাঠে, কিন্তু সমর্থকদের উন্মাদনায় যেন আরেকটি বিশ্বকাপ বসে বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লায়। সেই গল্পই হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরা হবে ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’-এ।

    সিরিজটি পরিচালনা করেছেন তারিক মুহাম্মাদ হাসান। এতে অভিনয় করেছেন ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া, তাসনুভা তিশা, লামিমা লাম, শরাফ আহমেদ জীবন, সহীদ উন নবী ও ইশতিয়াক আহমেদ রোমেল।

    নির্মাতা তারিক মুহাম্মাদ হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের মহল্লাগুলোতে বিশ্বকাপ এলেই যে মজার মজার ঘটনা ঘটে, সেগুলোই সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে।’

    ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’র মাধ্যমে প্রথমবার অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। অভিনয়ের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, এর আগে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও নাটক বা সিরিজে অভিনয় এবারই প্রথম।

    জামাল বলেন, ‘এর আগে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নাটকে বা সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।’

    অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে ‘ম্যাজিক্যাল’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘পুরো বিষয়টি বেশ ম্যাজিক্যাল লাগছে। ক্যামেরার সামনের অভিনয়ের ব্যাপারটা সহজ নয়।’

    নিজের অভিনয় নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও বেশ খোলামেলা জামাল। তিনি বলেন, ‘আমার অভিনয় দেখে দর্শকরা মজা করুক, মিমস বানাক, ট্রল করুক- তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

    জানা গেছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে আগামী ৭ জুলাই থেকে সিরিজটি স্ট্রিমিং শুরু হবে। আট পর্বের এই সিরিজের প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ মিনিট।

  • মেসির জন্মদিনে চিঠি লিখে স্বপ্ন পূরণ ৮ বছরের খুদে মানুর

    মেসির জন্মদিনে চিঠি লিখে স্বপ্ন পূরণ ৮ বছরের খুদে মানুর

    লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিনে ৮ বছর বয়সি খুদে ভক্ত মানু লিটভির লেখা একটি চিঠি আবেগাপ্লুত করেছিল পুরো আর্জেন্টিনাকে। আবেগঘন এক চিঠির সুবাদে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মাঠে বসে দেখার আমন্ত্রণ পেয়েছেন ৮ বছর বয়সী মানু লিতভি।

    বিখ্যাত স্ট্রিমিং অনুষ্ঠান ‘সেরিয়া ইনক্রিবল’-এ পড়ে শোনানো সেই চিঠিটি মেসির প্রতি মানুর নিখাদ ভালোবাসা ও মুগ্ধতার কারণে রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

    আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় তারকা জুটি পাউলা চাভেস এবং পেদ্রো আলফনসো খুদে মানুকে এমন এক সারপ্রাইজ উপহার দিলেন যা সে কখনো কল্পনাও করেনি। মানু এবং তার পুরো পরিবার আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্যালারিতে বসে সরাসরি আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন জোগানোর টিকিট ও আমন্ত্রণ পেয়েছে!

    স্ট্রিমিং স্টুডিওতে এই অবিশ্বাস্য খবরটি পাওয়ার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেনি খুদে মানু। চোখের পানি মুছতে মুছতে সে জড়িয়ে ধরে তার বাবা-মাকে, আর পুরো স্টুডিও তখন ফেটে পড়ে করতালিতে।

    মানু তার চিঠিতে লিখেছিল, ‘তোমার খেলার শৈলী তো বটেই, তবে একজন মানুষ হিসেবে তুমি যেমন—সেটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।’

    চিঠির সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়কে ঘিরে। মানু লিখেছিল, ‘তুমি যখন বিশ্বকাপ জিতলে, তখন আমাদের মতোই কেঁদেছিলে। তোমার সেই কান্না আমাকে শিখিয়েছে যে বড় বড় মানুষেরাও আবেগী হন এবং কঠোর পরিশ্রম করলে তার ফল একদিন পাওয়াই যায়।’

  • স্পেনের পুরোনো হিসাব চুকানোর ম্যাচ

    স্পেনের পুরোনো হিসাব চুকানোর ম্যাচ

    ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগ যখন চেনা ছন্দে ডানা মেলে, তখন প্রতিপক্ষের ডাগআউটে স্বস্তি থাকার কথা নয়। লামিনে ইয়ামালের পায়ের জাদু আর রদ্রি-পেদ্রিদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে থাকা স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে যেকোনো দলেরই একটু কেঁপে ওঠার কথা। উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে যেভাবে ‘লা রোহা’রা শাসন করেছে, তাতে আজ রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে অনেকেই হয়তো অস্ট্রিয়ার কোনো সুযোগই দেখছেন না।

    খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো দলগুলোই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাগজে-কলমে হয়তো স্পেনই যোজন যোজন এগিয়ে, কিন্তু নকআউটের এই মঞ্চে ফেবারিটের তকমা যে কত দ্রুত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে, তা দেখা গেছে অনেকবার। স্পেন সেটা ভালোভাবেই বোঝে।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা স্প্যানিশরা অবশ্য চেনা রূপে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি। ইয়ামালের জাদুকরি পায়ের ছোঁয়ায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরই মূলত তাদের আক্রমণভাগ আসল ধার ফিরে পায়। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি তাদের এনে দেয় গ্রুপ ‘এইচের’ শীর্ষ স্থান।

    মাঠের সেই তুমুল লড়াই প্রসঙ্গে পাউ কুবারসি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাসী। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একটি যুদ্ধ ছিল, তবে এটি আমাদের এই আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে যে আমরা লড়াই করতে জানি। আমাদের ভেতরে সেই লড়াকু মানসিকতা আছে, আর আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

    অস্ট্রিয়ার এই পর্যন্ত আসার গল্পটা যেন কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা। জর্ডানকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলের হারে এক ধাক্কায় মাটিতে আছড়ে পড়েছিল তারা। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য নাটকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সাশা কালাইদজিচের সেই সমতাসূচক গোল অস্ট্রিয়াকে এনে দিয়েছে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ।

    তবে নকআউটের কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের শক্তি খুব একটা ভাবছেন না অস্ট্রিয়ান অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই ধরনের ম্যাচের জন্যই তো স্বপ্ন বুনেছেন তিনি। নিজের রোমাঞ্চ লুকিয়ে না রেখে আলাবা বলেন, ‘টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট তো আর আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। তা ছাড়া বিশ্বকাপে আপনি আসেনই এই ধরনের ম্যাচ খেলার জন্য। এই প্রতিযোগিতায় আপনাকে কেবল সেরা দলগুলোরই মুখোমুখি হতে হবে এবং আপনি যত সামনে এগোবেন, প্রতিপক্ষ তত কঠিন হবে। আমরা এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি; আমরা শতভাগ অনুপ্রাণিত এবং জয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে নামব। আমরা জানি আমাদের সেরা ফর্মে থাকতে হবে এবং এটি একটি অত্যন্ত কঠিন লড়াই, তবে ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

    দুই দলের দ্বৈরথে স্পেনের আধিপত্যই চোখে পড়বে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বারের মুখোমুখি দেখায় স্প্যানিশরা জিতেছে ৯ ম্যাচে। বিপরীতে অস্ট্রিয়ার জয় চারটিতে, আর বাকি ৩ ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। তবে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় অস্ট্রিয়া ২-১ ব্যবধানে জিতে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্পেনকে।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের এই ম্যাচ তাই স্পেনের জন্য যেমন পুরোনো হিসাব চুকানোর মঞ্চ, অস্ট্রিয়ার জন্য তেমনি চার দশক আগের সেই গৌরবের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর হাতছানি।

  • সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সবকিছু ঠিক থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচেই তাঁকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে।

    আগামী ৪ জুলাই ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তার আগে দলীয় অনুশীলনে অংশ নেন রোমেরো। সব ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় পাস করেছেন তিনি। তবে এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে শেষ অনুশীলনের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি লিওনেল স্কালোনি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে নিকোলাস ওতামেন্দির পরিবর্তে রোমেরোকে শুরুর একাদশে ফেরাতে চান স্কালোনি।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ডান হাঁটুতে চোট পান রোমেরো। সতর্কতার অংশ হিসেবে জর্ডানের বিপক্ষে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম হটস্পারের হয়ে খেলার সময় একই হাঁটুর ল্যাটারাল লিগামেন্টে মচকানোর চোটেও ভুগেছিলেন তিনি।

    রোমেরোর ফেরা নিশ্চিত হলেও আক্রমণভাগ নিয়ে এখনো ভাবতে হচ্ছে স্কালোনিকে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে কে খেলবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর্জেন্টিনার কোচের জন্য। লাউতারো মার্তিনেস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও হুলিয়ান আলভারেসও সমানভাবে কোচের বিবেচনায় আছেন। কোচিং স্টাফ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    বাম প্রান্তের রক্ষণেও থাকতে পারে চমক। নিকোলাস তালিয়াফিকো কাফের চোট কাটিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে খেলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন ফাকুন্দো মেদিনা, দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    অন্যদিকে মাঝমাঠ নিয়ে স্কালোনির ভাবনা অনেকটাই পরিষ্কার। রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস ও থিয়াগো আলমাদাকে নিয়েই মাঝমাঠ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে এই কোচের।

  • বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে একটি খেলাকে ঘিরে এতো আলোচনা আর কখনও হয়েছে—এমনটা জানা নেই। এটা এমনই এক লড়াই যা ডেভিড বনাম গোলিয়াথ বা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। একদিকে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলের অবিসংবাদিত পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। যারা এই প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রেখে ইতিহাস গড়েছে। ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি হলো অভিজ্ঞতা আর এক নতুন স্বপ্নের রোমাঞ্চকর লড়াই। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এটি আকাশ-পাতাল তফাৎ। দুই দলের অভিজ্ঞতা যোগ করলে মনে হবে—একপাশে রয়েছে হিমালয় পর্বত, আর অন্যপাশে ছোট মাটির ঢিবি। আর্জেন্টিনার এটা ১৮তম বিশ্বকাপ। মোট তিনবার তারা বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে একশটিরও বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের। অনেকেই কেপ ভার্দেকে পুঁচকে বলে বর্ণনা করছেন। তারাই এখন বলছেন, এই লড়াই হতে যাচ্ছে মহাশক্তি বনাম এক রূপকথার। মায়ামি স্টেডিয়ামে কী হবে তা নিয়েই যত হিসেব-নিকেশ। পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তারা কয়েকবার চমক দেখিয়েছে বটে। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের একেবারেই নেই। পরিসংখ্যানের এই বিশাল ব্যবধান আর্জেন্টিনাকে অনেক এগিয়ে রেখেছে। তাই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মানসিক দিক থেকে তারা বেশ চাঙ্গা। আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের এই লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ভৌগোলিক ও ফুটবলীয় ইতিহাস।

    আর্জেন্টিনা ফুটবলকে ধর্ম মনে করে। ম্যারাডোনা ও মেসির মতো কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের ফুটবল মূলত পর্তুগালের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। একসময় কেপ ভার্দের সেরা ফুটবলাররা পর্তুগালের হয়ে খেলতেন। পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার নানির (Nani) জন্ম এই কেপ ভার্দেতেই। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একজন সেরা ফরওয়ার্ড ছিলেন। গত এক দশকে নিজেদের ফুটবলকে নতুন করে সাজিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। প্রবাসে থাকা প্রতিভাদের একত্র করেছে। কেটেছে বিশ্বকাপের টিকিট। আর্জেন্টিনার আভিজাত্যের বিপরীতে কেপ ভার্দের এই উঠে আসার গল্প ফুটবল ভক্তদের চোখে পানি এনে দেয়। কেপ ভার্দে- আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোনো হিসেবেই মিল নেই। আর্জেন্টাইন শিবিরের মোট বাজার মূল্য বিলিয়ন ডলারের ওপরে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের পুরো দলের মূল্য যে কোনো একজন বেঞ্চের খেলোয়াড়ের মূল্যের চেয়েও কম। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে রয়েছেন বিশ্বসেরা তারকারা। যারা ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। সেখানে কেপ ভার্দের ভরসা তাদের অধিনায়ক রেকর্ড গোলদাতা রায়ান মেন্দেসের মতো সৈনিক। এছাড়া ইউরোপের মাঝারি সারির ক্লাবে খেলা কিছু লড়াকু ফুটবলার।

    গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বাড়তি শক্তি কেপ ভার্দের। ভোজিনিয়াকে চীনের গ্রেটওয়ালের সঙ্গে তুলনা করা হয়। চল্লিশ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক মেসিদের গোলার মতো শটগুলো কীভাবে রুখে দেন, তাই দেখার বিষয়। তাদের অবশ্য হারাবার কিছু নেই। জয়ের আকাঙ্ক্ষা আছে। রয়েছে লড়াইয়ের প্রস্তুতি। আমরা সবাই জানি, ফুটবলের নিষ্ঠুর সত্য হচ্ছে—আবেগ দিয়ে জয় পাওয়া যায় না। আর্জেন্টিনার মতো দলের রক্ষণভাগ তছনছ করা প্রায় অসম্ভব। আর সেখানে যদি মেসির পায়ে বল থাকে—তাহলে তো কথাই নেই। আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে পরিষ্কার হট ফেভারিট। কেপ ভার্দেকে নিয়ে আবার অনেকেই আত্মবিশ্বাসী। মঙ্গলবার ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ভিয়েতনামী সাংবাদিক ত্রুং-এর সঙ্গে কথা হয়। যিনি ছয়টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন। তার মতে, কেপ ভার্দে যদি প্রথম ২০ মিনিট গোল না খেয়ে টিকে থাকতে পারে, তাতেই একটি মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হবে বিশ্ব ফুটবল। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

  • নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

    নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

    সহজ ছিল না পথটা, তবে বেশ লড়াই করেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরের এনআরজি স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা।

    দলের জয়ে গোল করে ত্রাণকর্তা হন ক্যাসেমিরো ও মার্তিনেল্লি। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে ‘ডার্ক হর্স’ নরওয়ের।অন্যদিকে, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

    বুধবার (১ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশরা। দলের জয়ে জোড়া গোল করে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

    এই জয়ের মাধ্যমে শুধু পরের রাউন্ডেই পা রাখেনি ইংল্যান্ড, বরং ঘুচেছে দীর্ঘদিনের এক অস্বস্তিকর রেকর্ডও। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। ১৯৯০ সালের সেই আসরে ক্যামেরুনকে অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচে হারিয়েছিল তারা।

    আর মঙ্গলবার (৩০ জুন) মেক্সিকো ২-০ ব্যবধানে ইকুয়েডরকে বিদায় করে নিজেদের রাউন্ড অব ১৬ নিশ্চিত করেছে।

    আগামী রোববার (৫ জুলাই) রাউন্ড অব ১৬-র খেলায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচে নরওয়েকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো ম্যাচের জয়ী দলের।

  • রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি  কার

    রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি কার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ব্লকবাস্টার ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। বিশ্বমঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচের জন্য শেষ ম্যাচ এটি। শুধু দুই কিংবদন্তির একজনের ‘শেষ নৃত্য’ বলে নয়, পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার জন্য বিশ্বকাপে টিকে থাকারও মহারণ। সব দিক বিবেচনায় নকআউট পর্বের এ ম্যাচটি উত্তাপ-উত্তেজনায় বারুদ ছড়াবে বলেই আশা। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া দুদলের জন্যই ম্যাচটি হবে বাড়তি স্নায়ুচাপের, আর প্রত্যাশা থাকবে আকাশচুম্বী। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। শেষ মিনিট পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবে দুদল। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোনালদোর পর্তুগাল, নাকি মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া জয়ের হাসি হাসবেÑসেটি দেখার অপেক্ষা।
    শেষ ষোলোতে ওঠার ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বেশি প্রত্যাশার চাপ থাকবে পর্তুগালের। বিশ্বকাপে শিরোপা লক্ষ্য নিয়ে খেলছে তারা। যদিও গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল পর্তুগালের মতো খেলেনি। কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু তাদের। অবশ্য পরের ম্যাচে নবীন দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তবে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অনুজ্জ্বল ছিল পর্তুগাল। দলের মতোই শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ছিলেন ‘সুপার ফ্লপ’। বলা হচ্ছে, গত দুই দশকের মধ্যে সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে পর্তুগাল। রোনালদোকে ঘিরে আক্রমণভাগ এবং মিডফিল্ডই তাদের শক্তির জায়গা। কিন্তু পর্তুগালের সেরা পারফরম্যান্সটা এখনো দেখা যায়নি। ফিনিশিং দুর্বলতায় গোল না পাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে ম্যাচে। অধারাবাহিক আর ছন্দহীন দলটিকে ক্রোয়েশিয়ার সামনে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হতে পারে। তবে মিডফিল্ড ও উইংয়ের গতি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত আক্রমণ করতে পারে পর্তুগাল, তাহলে ক্রোয়েশিয়ার জন্য তাদের আটকানো সহজ হবে না। বিশেষ করে রোনালদো সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। স্বরূপে ফিরলে মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন রোনালদো। তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে পর্তুগাল।অপরদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে আগের সোনালি প্রজন্মের দল নেই তাদের। ইংল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হয় ক্রোয়েশিয়ার। তবে পানামা ও ঘানার বিপক্ষে দুটি জয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। পর্তুগালের বিপক্ষে এই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে দলটি। টুর্নামেন্টে থাকার জন্য সর্বশক্তি দিয়েই লড়াইয়ে নামবে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ পর্বে পরপর দুই ম্যাচ জিতে নকআউটে ওঠার পর ক্রোয়েশিয়ার কোচ দালিচ বলেছেন, ‘কৌশলগত দিক দিয়ে ক্রোয়েশিয়া দুর্দান্ত খেলেছে এবং মাঠে নিজেদের সংগঠিত রাখতে পেরেছে। আমার মনে হয়, আমরা ঠিক আট বছর আগের সেই জায়গায় ফিরে এসেছি। তবে এটা কেবল প্রথম লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি পদক্ষেপ, আর তা হলো নকআউট পর্বে ওঠা।’ দালিচের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে কতটা আত্মবিশ্বাসী ক্রোয়েশিয়া। এবার পর্তুগালের বিপক্ষে নকআউটেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর প্রত্যাশায় তারা। এ পর্যন্ত পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া পরস্পরের বিপক্ষে মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে সাতটি জিতেছে পর্তুগাল। আর একটিতে জয় ক্রোয়েশিয়ার; বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

  • আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পেলেন ফিশার

    আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পেলেন ফিশার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনা আর কেপ ভার্দের ম্যাচ পরিচালনা করবেন কানাডার রেফারি ড্রু ফিশার। ফিফা এই খবর নিশ্চিত করেছে। আগামী শুক্রবার রাত ৭টায় মায়ামিতে এই ম্যাচ হবে।

    ৪৫ বছর বয়সী এই রেফারি এর আগেও আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তবে ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে মেক্সিকোকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, একটি কনকাকাফ নেশনস লিগ ম্যাচে।

    ক্যালগেরিতে জন্ম নেওয়া ফিশারের উত্তর আমেরিকার ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। তিনি নিয়মিত এমএলএসের ম্যাচ পরিচালনা করেন। যে লিগে প্রতি সপ্তাহান্তে খেলেন লিওনেল মেসি, সেই লিগে তিনি ইতিমধ্যে ২২৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

    ২০১৫ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচেও তিনি রেফারি ছিলেন। এই জয়ে মেসির দল তাদের প্রথম লিগ শিরোপা জিতেছিল।

    তবে ২০২৩ সালের একটি ঘটনা তার ক্যারিয়ারে দাগ ফেলেছে। মেক্সিকো আর হন্ডুরাসের মধ্যে কনকাকাফ নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ভিএআর বুথে ছিলেন ফিশার। তিনি এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনকে জানিয়েছিলেন, ইনজুরি টাইমে এগারো মিনিট যোগ করতে হবে।

    ম্যাচ শেষে বার্টন বলেছিলেন, ‘ভিএআর বুথের কানাডিয়ান রেফারি আমাকে ডেকে বলেছিলেন, তোমাকে ৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড যোগ করতে হবে। কিন্তু আমি ঠিক করেছিলাম নয় মিনিট যোগ করব। নয় মিনিট শেষ হওয়ার পর ভিএআর আমাকে আবার ডেকে বলেছিল, বার্টন, তোমাকে আরও দুই মিনিট যোগ করতে হবে।’

    কী হয়েছিল তখন? ইনজুরি টাইমের দশম মিনিটে গোল করে সমতা ফেরায় মেক্সিকো। এরপর টাইব্রেকারে জিতে যায় দলটি।

    কয়েকদিন পরই এই বিতর্ক অনেকটা চাপা পড়ে যায়। কারণ মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রের ফাইনাল ম্যাচেও রেফারি ছিলেন ফিশার। সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে জিতেছিল।

    আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ম্যাচ ফিশার পরিচালনা করেছেন মাত্র একবার। ২০২৪ কোপা আমেরিকার আগে ফিলাডেলফিয়ায় একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি রেফারি ছিলেন। সেই ম্যাচে আনহেল দি মারিয়ার গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। সেই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা পরে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল।

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ফিশার। ফ্রান্স ৩-০ গোলে ইরাককে হারানো ম্যাচ আর ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে ঘানাকে হারানো ম্যাচ। এই জয়ে ক্রোয়েশিয়া শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় দুঃসংবাদের মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাঝপথেই তিনি জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই।

    বুধবার (১ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ফরাসি কোচ দেসাব্রে। দলীয় পারফরম্যান্স, ম্যাচের বিশ্লেষণ ও বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। দলের এক মিডিয়া অফিসার ফরাসি ভাষায় উপস্থিত সবাইকে জানান, কোচের বাবা মারা গেছেন। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে যান দেসাব্রে। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি নীরব হয়ে থাকেন, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যা শুনেছেন। এরপর ধীরস্বরে ‘মার্সি’ বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান তিনি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন। ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা কোচের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার বার্তা দেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কঙ্গো শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে। মাত্র সাত মিনিটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দীর্ঘ সময় তারা সেই লিড ধরে রাখলেও শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭৫ মিনিটের পরপরই সমতা ফেরান তিনি এবং ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ফলে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ডিআর কঙ্গোর।

    তবে ফলের হতাশার মধ্যেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন দেসাব্রে। তিনি বলেন, তার দল বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সাহসী ফুটবল খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কঙ্গোর ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিশ্বকাপে এই প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কঙ্গো ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত আবেগঘন এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শেষ হলো। একই সঙ্গে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত মুহূর্তও বয়ে আনল কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের জন্য।

  • বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখল যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে ফোলারিন বালোগানের গোল, অন্যদিকে তার লাল কার্ড, নাটকীয়তায় ভরা লড়াইয়ে ১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়েছে মার্কিনরা।

    সানফ্রানসিসকোর বে অ্যারিয়া স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী সোমবার সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম।

    ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষ বসনিয়া পুরো ম্যাচেই ছিল অনেকটাই রক্ষণাত্মক, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল মার্কিনরা।

    গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝেই ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়ার গোলকিক মাঝমাঠে পাস দেন অধিনায়ক টিম রিম। সেখান থেকে মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে পৌঁছে যায় ফোলারিন বালোগানের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

    এর আগে অবশ্য কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বালোগানের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, আর পেনাল্টির দাবিও নাকচ করে দেন রেফারি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বসনিয়া আক্রমণের গতি বাড়ালেও ৬৪তম মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর স্টাড লাগানোর ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় বালোগানকে। ফলে শেষ প্রায় আধা ঘণ্টা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।

    একজন কম নিয়ে খেললেও দমে যায়নি স্বাগতিকরা। বরং ৮২তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নেয় তারা। বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন মালিক টিলম্যান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল বল ছুঁয়েও রুখতে পারেননি।শেষ দিকে বসনিয়া মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। যোগ করা সময়েও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনোটি কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

  • পেলেকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলকে কেইন

    পেলেকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলকে কেইন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জোড়া গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের ১২ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের কাতারে উঠে গেলেন তিনি।

    ম্যাচের আগে কেইনের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ১১। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথমে ৭৫ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে তিনি পেলের ১২ গোল স্পর্শ করেন। এরপর ৮৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে জয়সূচক গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড় করান ১৩-তে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেন পেলে (১২) এবং স্পর্শ করেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফঁতেনের ১৩ গোলের কীর্তি।বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন কেইনের অবস্থান আরও উঁচুতে। শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি (১৯), এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৮), মিরোস্লাভ ক্লোসে (১৬), রোনালদো নাজারিও (১৫), গার্ড মুলার (১৪)। ১৩ গোল নিয়ে এখন জাস্ট ফঁতেনের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

    ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এই জোড়া গোল শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই এনে দেয়নি, বরং ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা থ্রি লায়ন্স দ্বিতীয়ার্ধে কেইনের নেতৃত্বে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে।চলতি বিশ্বকাপেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন। ইংল্যান্ডের যাত্রা যত দীর্ঘ হবে, বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে ওঠার সুযোগও তত বাড়বে কেইনের সামনে।

  • দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড পেলেন ইকুয়েডরের হিনকেপি

    দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড পেলেন ইকুয়েডরের হিনকেপি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথম রাউন্ডে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে তর্কের সময় মুখ ঢাকার কারণে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরোনও লাল কার্ড দেখেছিলেন।

    প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে মুখ ঢেকে কথা বলা নিষিদ্ধ করে ফিফা এবারের বিশ্বকাপে নতুন এক আইন চালু করেছে। এটি ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ বলে পরিচিত। সেই আইনের আওতায় দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গতকাল লাল কার্ড দেখেছেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকেপি।

    মঙ্গলবার আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ৪৭তম মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে। কারণ, স্ট্রাইকার সান্তি হিমেনেজের সঙ্গে তর্কের সময় তিনি কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন।

    আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেক্সিকো ২-০ গোলে জয় পেয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে। সেখানে তারা ইংল্যান্ড ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। অতিরিক্ত সময়ের ৪৭তম মিনিটে হিনকাপিয়ে ও হিমেনেজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ইকুয়েডরের এই ডিফেন্ডার প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মুখ ঢেকে ফেলেন।

    মেক্সিকোর খেলোয়াড়টি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর ভিএআর স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করতে বলে। ভিডিও দেখে তিনি হিনকাপিয়েকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তথাকথিত ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ অনুযায়ী দ্বিতীয় বহিষ্কার।

    এর আগে প্রথম রাউন্ডে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে তর্কের সময় মুখ ঢাকার কারণে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরোনও লাল কার্ড দেখেছিলেন।প্রসঙ্গত, সম্ভাব্য আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক মন্তব্য মুখ ঢেকে বলার প্রবণতা রোধে ফিফা এ নতুন নিয়ম চালু করেছে। এ নিয়মের অনুপ্রেরণা আসে এমন এক ঘটনার পর, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অভিযোগ করেন যে বেনফিকার খেলোয়াড় পেরেস্তিয়ানি তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন। সেই ঘটনায় আর্জেন্টাইন ফুটবলার পেরেস্তিয়ানি নিজের মুখ ঢেকে কথা বলেছিলেন এবং বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে পরে উয়েফা তাকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিয়মটি অনুমোদনের সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে এমন কিছু বলে যার বর্ণবাদী প্রভাব রয়েছে, তাহলে তাকে অবশ্যই মাঠ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। অবশ্যই। আমাদের ধরে নিতে হবে যে সে এমন কিছু বলেছে যা বলা উচিত ছিল না। নইলে তার মুখ ঢাকার প্রয়োজন হতো না।’

  • এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

    এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আরও একটি একতরফা ম্যাচ উপহার দিলো ফ্রান্স। নকআউটের খেলায় যেমন লড়াই করার কথা ছিল না, পারলো না সুইডেন। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ভর করে সুইডিশদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।

    এতে চলতি বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় হয়ে গেছে সুইডেনের। ফ্রান্স নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলো।