স্বাস্থ্য

  • রাত জাগালে কমতে পারে স্মরণশক্তি

    রাত জাগালে কমতে পারে স্মরণশক্তি

    বর্তমান সময়ে অনেকেই কাজের চাপ, অভ্যাস কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে রাত জেগে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস যে ধীরে ধীরে শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।

    বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রাত জাগা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব স্মৃতিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে এটি ডিমেনশিয়া বা পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।


    বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাত জেগে কাজ করেন, বিশেষ করে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত কাজের অভ্যাস রয়েছে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যায়। চিন্তা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে।

    অনেক ক্ষেত্রে আচরণগত পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। এক গবেষণায় প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, অনিয়মিত ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


    মানবদেহের প্রতিটি কোষ একটি নির্দিষ্ট জৈব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। এই জৈব ঘড়ি আমাদের ঘুম, হজম, শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু যখন কেউ নিয়মিত রাত জেগে থাকে, তখন এই স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যায়। ফলে শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।


    দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে তা শুধু স্মৃতিশক্তির ওপরই নয়; বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তি সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মনোযোগ কমে যায় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। মধ্যবয়সেই স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা পরে গুরুতর স্নায়বিক রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।


    তাই সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। রাত জাগার প্রবণতা কমিয়ে এনে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ বজায় রাখা গেলে স্মৃতিশক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।


    বি/ এ

  • মাংসপেশিতে ব্যথা: কারণ ও করণীয়

    মাংসপেশিতে ব্যথা: কারণ ও করণীয়

    মাংসপেশির ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। যেকোনো বয়সের মানুষ এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন। অনেক সময় ব্যথা সাময়িক হলেও কখনও কখনও তা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করার মতো তীব্র হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হাত-পা, ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের পেশিতে ব্যথা হলে স্বাভাবিক চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।
    সাধারণত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ভারী জিনিস বহন, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা কিংবা কোনো ধরনের আঘাতের কারণে মাংসপেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াও এ সমস্যা হতে পারে। মাংসপেশির ব্যথার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

    মানসিক চাপ
    অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের ওপর যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনি পেশির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরে বিভিন্ন স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পেশিকে টানটান ও ক্লান্ত করে তোলে। ফলে ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা অন্যান্য স্থানে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের মধ্যে পেশি ব্যথার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

    পানিশূন্যতা
    শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে মাংসপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর ফলে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, অবসাদ এবং মনোযোগের ঘাটতিও হতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা শরীর ও পেশির সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    পুষ্টির ঘাটতি
    শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে ভিটামিন ডি পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস। এছাড়া তৈলাক্ত মাছ, দুধ, ডিমের কুসুম, মাশরুম ও কিছু দুগ্ধজাত খাদ্য থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

    ঘুমের অভাব
    পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ক্ষয়পূরণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম সাধারণত প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরে ক্লান্তি বাড়ে, মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং পেশিতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
    যদি মাংসপেশির ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তীব্র আকার ধারণ করে, কোনো কারণ ছাড়াই বারবার ফিরে আসে অথবা এর সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা বা পেশি ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
    মাংসপেশির ব্যথা প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন জীবনযাপনই এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করে।
    লেখক: মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞ

  • জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবে দলটি।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    গত শুক্রবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এনসিপির পক্ষ থেকেও একটি ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের অর্থনীতিকে ১২ খাতে ভাগ করে ৭১টি প্রস্তাব দেয় দলটি।

  • আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ বেআইনি : এ্যাড. শিশির মনির

    আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ বেআইনি : এ্যাড. শিশির মনির

    রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো লাইসেন্স বাতিলের নোটিশকে ‘বেআইনি’ ও আইনবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।

    আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নোটিশটি প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পেশাগত অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় দুই নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, কোনো পক্ষই হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাক বা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হোক—এমনটি চায় না। তবে ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন নিহত নবজাতকদের স্বজনরা।

    নিহত নবজাতকদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে আজীবন থাকবে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিবারগুলোর যোগ্য সদস্যদের চাকরির সুযোগ এবং সম্মানজনক আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

  • শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘আগামীকাল রোববার বিকালের মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে হবে, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোববার বিকালের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে আইন অনুযায়ী শান্তির বিধান নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, তার ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’

    তিনি বলেন, মূলত তিন পর্যায়ে এই সেবা দেওয়ার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে থাকবে- গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত রোগী পরিবহণের জন্য তিন ধরনের আলাদা ডিজাইনের অ্যাম্বুলেন্স। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অত্যন্ত কম খরচে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্থানীয়ভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ডিজাইন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সব আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো তৈরিতে কারিগরি ও ডিজাইন সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে সচেতনতামূলক র‌্যালি করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্র সরণি থেকে শুরু করে ঢাকা শহরসহ সারা দেশের জেলা শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে সচেতনতামূলক র‌্যালি করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন সদর হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা; তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন সদর হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা; তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের এমন চিত্র চোখে পড়ে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির পর চুয়াডাঙ্গা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আলমডাঙ্গার নান্দাবারে বজ্রপাত ও ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।

    হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত। পুরোনো ভবনে জেনারেটর চালু থাকলেও নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে নতুন ভবনে জেনারেটর চালু করা হলেও জরুরি বিভাগের কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি।

    এ অবস্থায় কাটা-ছেঁড়া ও আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্তত চারজন রোগীকে টর্চের আলোয় সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, একটি জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো স্বাভাবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রস্তুতি ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে হাসপাতালের এমন অব্যবস্থাপনা ও জরুরি বিভাগের বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন হাসপাতালে মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করা হোক।

  • বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনগণের জন্য দ্রুত ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে প্রকল্পটি শুরু করা হবে।

    তিনি আরও জানান, পরিকল্পনার আওতায় গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী—এই তিন স্তরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সুবিধা সংযোজন করা হবে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব যানবাহনের নকশা করা হবে।

    সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ-দ্বীনের হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৬০১ জনে।

    তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১০ জন। বুধবার (৩ জুন) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২১০ শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০ হাজার ১৫৮ জন।

    একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৫ হাজার ১৪২ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১১ জনের। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯০ জন।

  • নড়াইলে ‘তরফদার বাড়ি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা-ঔষধ প্রদান

    নড়াইলে ‘তরফদার বাড়ি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা-ঔষধ প্রদান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘তরফদার বাড়ি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ঔষধ প্রদান করা হয়েছে।

    ‘আমরা তরফদার এক পরিবার’ স্লোগানে শনিবার (৩০ মে) দিনব্যাপী সদর উপজেলার তুলারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ চিকিৎসাসেবা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরকে ওষুধসহ চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

    গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. তরফদার শামসুন্নাহার লাকী ও তরফদার মারিয়া হোসাইন, মেডিসিন, হরমোন ও ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. দীপ বিশ্বাস সুদীপ, মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাইন মহসিনুল হক এবং নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম আযম রাসেল চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে চিকিৎসাগ্রহণকারীরা সবাই খুবই খুশি হয়েছেন।

    তুলারামপুর গ্রামের চম্পা আরা (৩০) বলেন, বাড়ির কাছে চিকিৎসা পেয়ে খুশি হয়েছি। ঈদের ছুটিতে এলাকার সন্তানরা বাড়িতে এসে আমাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। এমন আয়োজন করলে গ্রামের মানুষের উপকার হয়।

    ডায়াবেটিক রোগী আফজাল হোসেন বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ পেয়েছি। খুব ভালো লেগেছে।

    মেডিকেল ক্যাম্পের পৃষ্ঠপোষক প্রকৌশলী হাবিব তরফদার শাহীন বলেন, তরফদার বাড়ির আয়োজনে এবং স্থানীয়নের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে। এ ধরণের চিকিৎসাসেবা পরবর্তীতেও করা হবে।