স্বাস্থ্য

  • স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    সম্পাদকীয়

    আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শেষ পর্যন্ত ভাঙারির দোকানে কেজি দরে বিক্রয় হইতেছে—ইহার চাইতে হতাশাজনক খবর আর কী হইতে পারে? ইহা কেবল অদূরদর্শিতা নহে, বরং দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের এক জীবন্ত দলিল। সংসদে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাইয়াছেন যে, বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে আমদানিকৃত এই সকল যন্ত্রপাতির সুরক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না।

    আসলে তাহা অপরিকল্পিত উপায়ে কেবল কমিশনভোগীদের পকেট ভারী করিবার হীন উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়। খুলনা ও ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘকাল পড়িয়া থাকা ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি রেডিওথেরাপি মেশিনের করুণ পরিণতি তাহারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ইহা ছাড়া দেশের অসংখ্য হাসপাতালে এক্সরে মেশিন আছে অথচ তাহা চালাইবার মতো কোনো টেকনিশিয়ান নাই।

    কোটি টাকা মূল্যের ল্যাবরেটরি মেশিন ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়িয়া আছে অথচ তাহা পরিচালনার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। বৎসরের পর বৎসর এই মূল্যবান যন্ত্রপাতিসমূহ কাঠের বাক্সে বন্ধ অবস্থায় পড়িয়া থাকিয়া একসময় তাহা ব্যবহারের অনুপযোগী ও অকেজো হইয়া যায়।মূলত সরকারি হাসপাতালে টেকনিশিয়ানের কৃত্রিম সংকট ও অচল যন্ত্রের পরিস্থিতি এই জন্য তৈরি করা হয়, যাহাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাহা হইতে সুবিধা পাইতে পারে। কেননা সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণির ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান ঐসব বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করিয়া থাকেন। তাহারা যোগসাজশ করিয়া এইখানে জনগণকে উচ্চমূল্যে পরীক্ষানিরীক্ষা করাইতে বাধ্য করেন। এই অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ হইতে পারে, যদি সরকারি হাসপাতালেরডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানদের বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করা হয়। প্রয়োজনে তাহারা বিকালে সরকারি হাসপাতালেই যৌক্তিক হারে অর্থবিনিময়ের মাধ্যমে বাড়তি দায়িত্ব পালন করিবেন; কিন্তু তাহাদের প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করিতে দেওয়া যাইবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাহারা পারে না। কেননা সরকারি চাকুরিতে প্রবেশে বেসরকারি এমনকি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করিতে হয়। আর প্রাইভেট এই সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পার্টটাইম নহে, বরং নিজস্ব ফুলটাইম ও স্থায়ী জনবলনিয়োগ দিতে হইবে, নতুবা তাহাদের লাইসেন্স বাতিল করিতে হইবে। সরকারি হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেটর মেশিন ইত্যাদি আনা হয়; কিন্তু তাহা বৎসরের পর বৎসর ধরিয়া সিন্দুকবন্দি রাখা অতীব দুঃখজনক। ইহার পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনাহীন কেনাকাটা বন্ধ করিতে হইবে। যে হাসপাতালে বিদ্যুৎ-সংযোগের পর্যাপ্ত ভোল্টেজ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নাই, সেইখানে উচ্চ প্রযুক্তির আইসিইউ ও স্ক্যানার মেশিন পাঠাইয়া দেওয়া হয়, যাহা অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হইতে বাধ্য। কোনো কোনো গ্রামীণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের কোনো সার্জন নাই, অথচ সেইখানে বহু দিন ধরিয়া আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের দামি সরঞ্জামাদি বাক্সবন্দি পড়িয়া আছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত চাহিদার চাইতেও আমদানিকারক, আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক ফায়দা ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক কমিশনের লোভও ইহার জন্য দায়ী। তাহা ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা শাখা ও মাঠপর্যায়ের হাসপাতালগুলির মধ্যে কোনো বাস্তবসম্মত সমন্বয় নাই। জনবল না থাকিলেও কেবল বাজেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অপচয় করিবার জন্য যন্ত্র ক্রয় করা হয় বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে।এই দিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র অবহেলায় বিনষ্ট করিবার অপরাধে এযাবৎ কোনো আমলা, ঠিকাদার বা পরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় নাই। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়াছে। এই জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটি গঠন করিতে হইবে। হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সঠিক পরিসংখ্যান ব্যতিরেকে কোনো নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া যাইবে না। ইহা ছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ডেটাবেজ তৈরি করিতে হইবে, যাহাতে কোন যন্ত্র সচল আর কোনটি অচল—তাহা জনগণের সম্মুখে দৃশ্যমান থাকে। মোট কথা, জনগণের করের টাকায় ক্রয়কৃত সামগ্রী ভাঙারির দোকানে নিঃশেষ হইতে দেওয়া যায় না।

  • দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডে-শনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ‘আমারি’তে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এ মন্তব্য করেন

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই একজন প্রকৃত স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।জুবাইদা রহমান বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও মানুষের সেবাপ্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবেস্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
    সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে নতুন স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপগুলো সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন জুবাইদা রহমান।তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অপুষ্টির মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
    ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ দেশের স্বাস্থ্য খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিদ্যমান সম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এরই মধ্যে একটি বেশ ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। কিন্তু শুধু বাজেট বরাদ্দ করা কখনোই যথেষ্ট নয়। এই বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা হবে, সেই প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভিত্তিপ্রস্তর বা গাঁথুনি আমরা স্বাস্থ্য খাতের জন্য তৈরি করতে যাচ্ছি।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার খাত আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। উভয়পক্ষ যদি যার যার নিজস্ব গতিতে চলে, তাহলে এ খাত সামগ্রিক ভাবে উপকৃত হবে না। তাই বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, একইসঙ্গে এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৩ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৬।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২১১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৮৫১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮০ হাজার ১৯৩ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮, ঢাকা বিভাগে ২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ ও রাজশাহী বিভাগে আটজন রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আটজন নারী।

  • হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬১৯ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১২।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু মারা গেছে। তবে এসময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর প্রাণ গেছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ শিশু। এসময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৪৪। সবমিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ জন।

    তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ২৬৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান;উপ-পরিচালক প্রত্যাহার

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান;উপ-পরিচালক প্রত্যাহার

    নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা, নোংরা পরিবেশ এবং চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের পুরুষ, নারী, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন।

    পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ভেতরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নোংরা টয়লেট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও তার নজরে আসে।

    এ সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনস্থল থেকেই তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করে এ নির্দেশ দেন।রে তিনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামানের সঙ্গেও কথা বলেন এবং হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা দূর করতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।

    সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কাউকে পদে রাখা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এ সময় নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

    মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

    রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে মন্ত্রীর পেছনে ঘোরার বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    সোমবার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কতৃপক্ষ আমার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে হাসপাতালে নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, এ কথা সত্য নয়, আমরা কেন টাকা নিয়ে ঘুরবো। আমাদের টাকা নিয়ে ঘুরার কোনো প্রশ্নই উঠে না। তার পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরেছি এটা তাকেই প্রমাণ করতে হবে।

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায় টাকার প্রতি কোনো লোভ হয় নাই আমার। আমাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, পূর্ণ সমর্থন দেবো। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।

    হাইকোর্টে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এক আইনজীবীর করা রিটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবে জড়িত নয় বলেও জানান তিনি।

    শিশু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঠিক কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও সুস্পষ্ট করা হয়নি কী কারণে মারা গেছে। যেসব শিশু মারা গেছে তাদের ময়নাতদন্তও হয়নি।

    শেখ মহিউদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কারণ না থাকলেও যেসব বিষয়ে বলা হয়েছে তা সংস্কার শুরু হয়েছে। হাসপাতালের জন্য অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনো অক্সাইড যন্ত্র কেনা হয়েছে। আমরা বের করার চেষ্টা করছি যে। শিশু ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে, সেটিও ঠিক করতে চাবি চাওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এক সপ্তাহেই সংস্কার করা যাবে।

  • এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবে, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবে, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মানুষের ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই নিয়োগ পাবেন নারী। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিন্তা থেকেই এই বৃহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠান থেকে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের মোট ১০টি জেলায় একযোগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন করা হয়।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে বেশ কিছু মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এখন থেকে ঘরে ঘরে আধুনিক মেশিন নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে শুধুমাত্র নারীদের চিকিৎসার জন্য ১৫০০ বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এই হাসপাতাল দুটিতে কিডনি ডায়ালাইসিস, ব্রেস্ট ক্যান্সার ও ইউরিনারি ক্যান্সার, পঙ্গুত্ব এবং উন্নত ডেলিভারি ইউনিট থাকবে।”তিনি আরও জানান, সারা দেশে ১০০০ বেডের আরও ২০টি নতুন হাসপাতাল তৈরি করা হবে। জরুরি রোগীদের দ্রুত সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য এসব হাসপাতালে ৫টি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স এবং ৪টি হেলিকপ্টার নিয়োজিত থাকবে।

    বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি বিপর্যস্ত রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করি। বিগত স্বৈরাচার এবং অদক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের টিকা কার্যক্রমের পর্যাপ্ত স্টক রেখে যায়নি। ভিটামিন ট্যাবলেট ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট ছিল। তবে আমাদের নেতা ও পথপ্রদর্শক তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে আমরা ভয়ের পরিবর্তে সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য ওষুধ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।”বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “এবারের বাজেটে আমাদের নেতা তারেক রহমান শুধু টাকার হিসাব না দিয়ে কীভাবে দেশটাকে উন্নত করা যাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া যায়—সেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯,৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এই র‍্যালির আয়োজন করে লাইফ সাইকেল বিডি।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও মধুবাগ এলাকা ঘুরে পুনরায় মানিক মিয়া এভিনিউতে এসে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

    র‍্যালির আগে স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এবারের বাজেটে জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই, বরং এটি পুরোনো ধারার বাজেট। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক নয়।

    সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচ যুক্ত রয়েছে। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির দেড় শতাংশেরও নিচে নেমে আসবে।

    তিনি তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান এবং একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

    রক্তদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। রক্তদান মানবসেবার পাশাপাশি একটি ইবাদতও।

    তিনি আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিকভাবে রক্ত সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ব্লাড ডোনার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লাইফ সাইকেল বিডির পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম রিয়াজ, উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, হেমায়েত হোসেন এবং সহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব।