ট্যাগ স্বাস্থ্য

  • স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

    স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

    নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ঘোষিত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮৪ জন চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর যোগদান করবেন। চিকিৎসকদের মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৯ জন এবং সহকারী সার্জন পদে ১৬৫ জন রয়েছেন।

    স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-৩ (মনিটরিং ও সমন্বয়) শাখা থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়ে, নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শূন্য পদের পদভিত্তিক তালিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ করতে হবে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৫ টি পদ খালি আছে। যা মোট পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।

    গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। আগের আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। এছাড়াও নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে এবং সারা দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদে অন্তত ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

    নির্বাচনি ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।

    এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের মানবসম্পদ তথ্যব্যবস্থা (এইচআরআইএস) অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭১৪।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। ধাপে ধাপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। আশা করছি খুব দ্রুতই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।

    এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড

    এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, জেপিগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৫৮ জন।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৪৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২৬ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।

    আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

  • স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    সম্পাদকীয়

    আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শেষ পর্যন্ত ভাঙারির দোকানে কেজি দরে বিক্রয় হইতেছে—ইহার চাইতে হতাশাজনক খবর আর কী হইতে পারে? ইহা কেবল অদূরদর্শিতা নহে, বরং দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের এক জীবন্ত দলিল। সংসদে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাইয়াছেন যে, বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে আমদানিকৃত এই সকল যন্ত্রপাতির সুরক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না।

    আসলে তাহা অপরিকল্পিত উপায়ে কেবল কমিশনভোগীদের পকেট ভারী করিবার হীন উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়। খুলনা ও ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘকাল পড়িয়া থাকা ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি রেডিওথেরাপি মেশিনের করুণ পরিণতি তাহারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ইহা ছাড়া দেশের অসংখ্য হাসপাতালে এক্সরে মেশিন আছে অথচ তাহা চালাইবার মতো কোনো টেকনিশিয়ান নাই।

    কোটি টাকা মূল্যের ল্যাবরেটরি মেশিন ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়িয়া আছে অথচ তাহা পরিচালনার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। বৎসরের পর বৎসর এই মূল্যবান যন্ত্রপাতিসমূহ কাঠের বাক্সে বন্ধ অবস্থায় পড়িয়া থাকিয়া একসময় তাহা ব্যবহারের অনুপযোগী ও অকেজো হইয়া যায়।মূলত সরকারি হাসপাতালে টেকনিশিয়ানের কৃত্রিম সংকট ও অচল যন্ত্রের পরিস্থিতি এই জন্য তৈরি করা হয়, যাহাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাহা হইতে সুবিধা পাইতে পারে। কেননা সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণির ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান ঐসব বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করিয়া থাকেন। তাহারা যোগসাজশ করিয়া এইখানে জনগণকে উচ্চমূল্যে পরীক্ষানিরীক্ষা করাইতে বাধ্য করেন। এই অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ হইতে পারে, যদি সরকারি হাসপাতালেরডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানদের বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করা হয়। প্রয়োজনে তাহারা বিকালে সরকারি হাসপাতালেই যৌক্তিক হারে অর্থবিনিময়ের মাধ্যমে বাড়তি দায়িত্ব পালন করিবেন; কিন্তু তাহাদের প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করিতে দেওয়া যাইবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাহারা পারে না। কেননা সরকারি চাকুরিতে প্রবেশে বেসরকারি এমনকি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করিতে হয়। আর প্রাইভেট এই সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পার্টটাইম নহে, বরং নিজস্ব ফুলটাইম ও স্থায়ী জনবলনিয়োগ দিতে হইবে, নতুবা তাহাদের লাইসেন্স বাতিল করিতে হইবে। সরকারি হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেটর মেশিন ইত্যাদি আনা হয়; কিন্তু তাহা বৎসরের পর বৎসর ধরিয়া সিন্দুকবন্দি রাখা অতীব দুঃখজনক। ইহার পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনাহীন কেনাকাটা বন্ধ করিতে হইবে। যে হাসপাতালে বিদ্যুৎ-সংযোগের পর্যাপ্ত ভোল্টেজ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নাই, সেইখানে উচ্চ প্রযুক্তির আইসিইউ ও স্ক্যানার মেশিন পাঠাইয়া দেওয়া হয়, যাহা অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হইতে বাধ্য। কোনো কোনো গ্রামীণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের কোনো সার্জন নাই, অথচ সেইখানে বহু দিন ধরিয়া আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের দামি সরঞ্জামাদি বাক্সবন্দি পড়িয়া আছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত চাহিদার চাইতেও আমদানিকারক, আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক ফায়দা ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক কমিশনের লোভও ইহার জন্য দায়ী। তাহা ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা শাখা ও মাঠপর্যায়ের হাসপাতালগুলির মধ্যে কোনো বাস্তবসম্মত সমন্বয় নাই। জনবল না থাকিলেও কেবল বাজেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অপচয় করিবার জন্য যন্ত্র ক্রয় করা হয় বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে।এই দিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র অবহেলায় বিনষ্ট করিবার অপরাধে এযাবৎ কোনো আমলা, ঠিকাদার বা পরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় নাই। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়াছে। এই জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটি গঠন করিতে হইবে। হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সঠিক পরিসংখ্যান ব্যতিরেকে কোনো নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া যাইবে না। ইহা ছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ডেটাবেজ তৈরি করিতে হইবে, যাহাতে কোন যন্ত্র সচল আর কোনটি অচল—তাহা জনগণের সম্মুখে দৃশ্যমান থাকে। মোট কথা, জনগণের করের টাকায় ক্রয়কৃত সামগ্রী ভাঙারির দোকানে নিঃশেষ হইতে দেওয়া যায় না।

  • দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডে-শনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ‘আমারি’তে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এ মন্তব্য করেন

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই একজন প্রকৃত স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।জুবাইদা রহমান বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও মানুষের সেবাপ্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবেস্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
    সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে নতুন স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপগুলো সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন জুবাইদা রহমান।তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অপুষ্টির মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
    ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ দেশের স্বাস্থ্য খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিদ্যমান সম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এরই মধ্যে একটি বেশ ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। কিন্তু শুধু বাজেট বরাদ্দ করা কখনোই যথেষ্ট নয়। এই বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা হবে, সেই প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভিত্তিপ্রস্তর বা গাঁথুনি আমরা স্বাস্থ্য খাতের জন্য তৈরি করতে যাচ্ছি।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার খাত আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। উভয়পক্ষ যদি যার যার নিজস্ব গতিতে চলে, তাহলে এ খাত সামগ্রিক ভাবে উপকৃত হবে না। তাই বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, একইসঙ্গে এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৩ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৬।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২১১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৮৫১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮০ হাজার ১৯৩ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮, ঢাকা বিভাগে ২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ ও রাজশাহী বিভাগে আটজন রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আটজন নারী।

  • হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬১৯ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১২।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু মারা গেছে। তবে এসময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর প্রাণ গেছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ শিশু। এসময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৪৪। সবমিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ জন।

    তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ২৬৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।