স্বাস্থ্য

  • কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

    কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

    কার্যালয়ে ঢুকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।

    আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

    অধ্যাপক কাজী আহমেদ ছবি: সংগৃহীত

    অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধর করার ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয়জন লোক তাঁর কক্ষে ঢোকেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

    আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

    আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

    বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।

    ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’

    কী দোষ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?’

    জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।

    কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তাঁর কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, যাঁরা মারধর করেছেন, তাঁদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।

  • স্বাস্থ্য খাতে ১১–২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চায় মন্ত্রণালয়

    স্বাস্থ্য খাতে ১১–২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চায় মন্ত্রণালয়

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    গত ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও সিভিল সার্জনদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পূর্বতন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির, অর্থাৎ ১১-২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    এ জন্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোর কাছে ছাড়পত্র পাওয়ার তারিখ, ছাড়কৃত পদের সংখ্যা, নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের সংখ্যা এবং নিয়োগের তারিখ সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোনো পদে নিয়োগ না হয়ে থাকলে তার কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব তথ্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • এবার সিনা ফার্মায় আগুন,  ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

    এবার সিনা ফার্মায় আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট। আজ শনিবার বিকেলে কারখানাটিতে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? তালিকায় রাখুন ৬ খাবার 

    খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? তালিকায় রাখুন ৬ খাবার 

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অতিরিক্ত ওজন কমানো বা আদর্শ ওজন বজায় রাখা—যেটাই আপনার লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়; কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যার অব্যবহৃত অংশ ত্বকের নিচে চর্বি বা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে।

    বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা অনেক সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ পাওয়া গেলেও, সেগুলো সেবন খাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। কারণ, এগুলোর অনেকটিতেই এমন সব উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন কমাতে না পারার মূল কারণ যদি আপনার প্রবল ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে এমন সব খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা দ্রুত এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যখনই আপনার এমন কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন-

    ওটমিল
    এক বাটি গরম ওটমিল খেলে চোখের পলকেই খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর হতে পারে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায়, এটি খাওয়ার পরপরই পেট ভরা বা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। এর সাথে আপনার পছন্দের কোনো ফলের কয়েক টুকরো মিশিয়ে নিলে ওটমিলের ক্ষুধা-দমনকারী গুণ আরও বেড়ে যায়।

    কাঠবাদাম
    এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়া ক্ষুধা কমানোর একটি ভালো উপায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটের কারণে, এটি খাওয়ার পরপরই শরীর তৃপ্তিবোধ করে। কাঠবাদামের আখরোট, পেস্তা এবং কাজু বাদামের মতো অন্যান্য বাদামও খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সমানভাবে কার্যকর।

    টক দই
    ঘন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায়, সামান্য পরিমাণ টক দই-ই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ মুহূর্তেই দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রিক দই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অন্যান্য দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি কম থাকে। তবে ফ্লেভারযুক্ত বা বিভিন্ন স্বাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

    তিসির বীজ
    খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করতে চাইলে টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে নিতে পারেন। এর কারণ হলো, তিসির বীজ শরীরকে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি সরবরাহ করে—যার প্রতিটিই ক্ষুধা কমানোর জন্য পরিচিত। অন্যান্য বীজও এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে!

    আপেল
    ‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’—কথাটি সবারই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকায় আপেল কার্যকরভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্ষুধা মেটানো বা ক্ষুধা ভাব দূর করার ক্ষেত্রে নাশপাতিও আপেলের মতোই চমৎকার কাজ করে।

    পুদিনা পাতার চাবারবার খেতে ইচ্ছে করলৈ এক কাপ পুদিনা পাতার চা তৈরি করে পান করতে পারেন। গরম পানিতে পুদিনা পাতার টি-ব্যাগ বা তাজা পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এই ভেষজ পানীয়টি ক্ষুধা কমাতে দারুণ কাজ করে, কারণ এর সুগন্ধ ও স্বাদ—দুটিই তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
    সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড

  • মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করা হবে। একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।

    এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

    এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।

    তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাসস’কে বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

  • স্বাস্থ্য কি সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত?

    স্বাস্থ্য কি সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত?

    স্বাস্থ্যকে আমরা কী হিসেবে দেখব—সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত? সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশ্নটি কেবল অর্থনীতির আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি চিকিৎসার মানবিকতা, রোগীর অধিকার, স্বাস্থ্য কর্মীর মর্যাদা, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ন্যায্য সীমারেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
    সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো— স্বাস্থ্য সেবা মূলত সেবা খাত; তবে স্বাস্থ্য সেবাকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য শিল্পের অংশ। স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিল্প পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক। কিন্তু শিল্পের মুনাফা যদি সেবার মানবিক লক্ষ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তার নৈতিক ভিত্তি হারায়।

    একজন রোগী হাসপাতালে আসেন ক্রেতা হিসেবে নয়। তিনি আসেন বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, প্রসবজনিত জটিলতা, ক্যানসার, কিডনি বিকল বা অন্য কোনো জীবন সংকট নিয়ে। তাঁর হাতে সময় থাকে না, তথ্য থাকে না, অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও থাকে না। এই অসহায় অবস্থায় চিকিৎসা কোনো সাধারণ পণ্য বা বাজারের লেনদেন হতে পারে না। চিকিৎসার কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগীর জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সর্বোত্তম স্বার্থ।স্বাস্থ্য সেবার উদ্দেশ্য হলো রোগ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং মানুষের কর্মক্ষম ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে—
    * নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা;
    * মাতৃ ও নবজাতক সেবা;
    * টিকাদান ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ;
    * উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ;
    * জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পরিচর্যা;
    * ওষুধ, পরীক্ষা, পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা;
    * প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সহায়তা।
    এসবের প্রতিটিই জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। একজন ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হলে শুধু তার পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, জাতীয় উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে জমি বিক্রি করলে বা ঋণগ্রস্ত হলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়; সেটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতারও প্রতিফলন।স্বাস্থ্য সেবা তাই সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়ের অংশ। একটি কার্যকর রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হয়—কেউ যেন অর্থের অভাবে জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন; প্রাথমিক পর্যায়ে যেন রোগ শনাক্ত হয়; জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও পরীক্ষা যেন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে; এবং বিপদে পড়লে রোগী যেন দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন।স্বাস্থ্য শিল্প কোথায় এবং কেন প্রয়োজনস্বাস্থ্য সেবা মানবিক সেবা হলেও আধুনিক চিকিৎসা চালাতে শক্তিশালী শিল্পভিত্তিক সহায়তা অপরিহার্য। ওষুধ, স্যালাইন, অক্সিজেন, ইনসুলিন, রিএজেন্ট, রক্তের ব্যাগ, ক্যাথেটার, স্টেন্ট, পেসমেকার, ভেন্টিলেটর, ডায়ালাইসিস মেশিন, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ল্যাবরেটরি প্রযুক্তি, হাসপাতাল সফটওয়্যার, টেলিমেডিসিন ও অ্যাম্বুলেন্স—সবকিছুর পেছনে রয়েছে গবেষণা, উৎপাদন, আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিতরণ এবং দক্ষ জনবল।

    এই অংশটিই স্বাস্থ্য শিল্প। একটি মানসম্মত ওষুধশিল্প দেশের জন্য সম্পদ। স্থানীয়ভাবে নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ উৎপাদন হলে রোগীর ব্যয় কমে, বিদেশ-নির্ভরতা কমে এবং জরুরি সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। চিকিৎসা-সরঞ্জাম, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি ও গবেষণায় দেশীয় সক্ষমতা গড়ে উঠলে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।

    তবে স্বাস্থ্য শিল্পের একটি মৌলিক শর্ত আছে—পণ্য ও প্রযুক্তি রোগীর স্বার্থে ব্যবহৃত হবে, রোগীকে পণ্যের বাজারে পরিণত করার জন্য নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, কোন ওষুধ উপযুক্ত, কোন ডিভাইস ব্যবহার হবে বা কোনো অপারেশন দরকার কি না—এসব সিদ্ধান্তে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ, নৈতিকতা এবং রোগীর স্বার্থই প্রধান হওয়া উচিত।

    বাজারের যুক্তি যেখানে সীমিত

    সাধারণ বাজারে মানুষ পণ্য পছন্দ করেন, মূল্য তুলনা করেন, কিনবেন কি না সে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জরুরি চিকিৎসায় এই স্বাধীনতা প্রায়ই সীমিত থাকে। হার্ট অ্যাটাকের রোগী, গুরুতর আহত ব্যক্তি বা জটিল প্রসবের রোগী পণ্য তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। রোগী ও তার পরিবার চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখেন।

    এই আস্থার কারণেই চিকিৎসা ব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অন্য সব খাতের চেয়ে বেশি। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, অযৌক্তিক ওষুধ, প্রয়োজন ছাড়া ভর্তি, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্যাকেজ বা কমিশনভিত্তিক রেফারেল—এসব শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এগুলো রোগীর আস্থা এবং চিকিৎসার মানবিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    একইভাবে, কেবল লাভজনক সেবা দিয়ে কোনো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, পুনর্বাসন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও গ্রামীণ চিকিৎসা অনেক সময় লাভজনক নয়, কিন্তু জীবন রক্ষায় অপরিহার্য। এগুলোকে উপেক্ষা করলে হাসপাতাল হয়তো ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভবান হবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে ব্যর্থ হবে।

    স্বাস্থ্য কর্মী শুধু কর্মচারী নন

    চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স কর্মী এবং প্রশাসনিক সহায়ক কর্মীরা মিলে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করেন। একটি হাসপাতালের ভবন, যন্ত্রপাতি ও বিজ্ঞাপন যতই আধুনিক হোক, প্রশিক্ষিত ও নিরাপদ জনবল ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক স্বাস্থ্য কর্মী সীমিত জনবল, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অনিয়মিত বেতন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট এবং সামাজিক অসম্মানের মধ্যেও কাজ করেন। চিকিৎসকের ভুলের জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে; কিন্তু চিকিৎসার প্রতিটি জটিলতাকে অপরাধ হিসেবে দেখলে কেউ নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবেন না। তখন রোগীও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    স্বাস্থ্য কর্মীর নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, আবাসন, বিশ্রাম, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত মর্যাদা—এসব বিলাসিতা নয়; এগুলো রোগীর নিরাপত্তারও শর্ত। ক্লান্ত, ভীত বা অবমূল্যায়িত স্বাস্থ্য কর্মীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের সেবা আশা করা যায় না।

    সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্পর্ক

    বাংলাদেশের মতো দেশে সরকারি ও বেসরকারি—দুই খাতকেই বাস্তবসম্মতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি খাতের দায়িত্ব হলো জনস্বাস্থ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা, মাতৃ ও শিশুসেবা, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা এবং দূরবর্তী জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া।

    বেসরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা হাসপাতাল, পরীক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, বিশেষায়িত সেবা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু এই বিনিয়োগের সঙ্গে স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য, মান নিয়ন্ত্রণ, রোগীর তথ্য জানার অধিকার, অভিযোগের নিরপেক্ষ প্রতিকার এবং চিকিৎসা-নৈতিকতার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।

    বেসরকারি হাসপাতাল লাভ করতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাকে লুটপাটের ক্ষেত্র বানাতে পারে না। সরকারি হাসপাতাল বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে পারে, কিন্তু জবাবদিহিতাহীনতা, অব্যবস্থাপনা কিংবা অবহেলার আশ্রয় নিতে পারে না। দুই ক্ষেত্রেই মান, নৈতিকতা ও রোগীর অধিকার এক হওয়া উচিত।

    রোগীর অধিকার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন

    রোগীর অধিকার নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য সেবাকে মানবিক বলা যায় না। রোগী ও স্বজনদের জানার অধিকার আছে—
    * রোগের সম্ভাব্য ধরন কী;
    * কোন পরীক্ষা কেন প্রয়োজন;
    * চিকিৎসার বিকল্প কী কী;
    * সম্ভাব্য ঝুঁকি, উপকার ও সীমাবদ্ধতা কতটুকু;
    * চিকিৎসা ও পরীক্ষার আনুমানিক ব্যয় কত;
    * জরুরি অবস্থায় কোথায় এবং কীভাবে রেফার করা হবে;

    * চিকিৎসার নথি ও রিপোর্ট কীভাবে পাওয়া যাবে।

    চিকিৎসকেরও অধিকার আছে যুক্তিসংগত সময় নিয়ে রোগী দেখার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার, রোগীর সম্মতি নেওয়ার এবং অযৌক্তিক চাপ বা হুমকি ছাড়া পেশাগত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। রোগী ও চিকিৎসককে মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনো সমস্যার সমাধান নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ নীতি, শক্তিশালী রেগুলেটরি কাঠামো, অভিযোগ তদন্তের নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং রোগী-চিকিৎসক উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার।

    বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের নীতি প্রয়োজন

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা স্বাস্থ্যকে কতটা জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে পারি তার ওপর। এ জন্য কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি।

    প্রথমত, একটি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রয়োজন, যেখানে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সেবা, জনস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্যবিমার সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে শক্তিশালী করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ উপজেলা ও কমিউনিটি পর্যায়েই সহজলভ্য হওয়া দরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে জটিলতা ও চিকিৎসা ব্যয় দুটোই কমে।
    তৃতীয়ত, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা-নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, মা ও নবজাতকের জরুরি অবস্থা—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স, টেলিমেডিসিন, ইসিজি, উপযুক্ত রেফারেল এবং দক্ষ চিকিৎসা সমন্বয় জীবন বাঁচাতে পারে।

    চতুর্থত, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল, রোগীর-নিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, জরুরি সাড়া, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।

    পঞ্চমত, স্বাস্থ্য শিল্পে গবেষণা ও স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে হবে, কিন্তু ওষুধ ও যন্ত্রপাতির মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা-সরঞ্জাম নিশ্চিত করাই হবে নীতির মূল কথা।

    ষষ্ঠত, রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমাতে হবে। অসুস্থতা যেন পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে না ঠেলে দেয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরি পরীক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

    উপসংহার

    স্বাস্থ্যকে শিল্প বললে কেবল অর্থনীতি দেখা হয়; স্বাস্থ্যকে শুধু সেবা বললে আধুনিক চিকিৎসার প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা আড়াল হয়ে যায়। সঠিক অবস্থান হলো— স্বাস্থ্য সেবা মানুষের অধিকার ও মানবিক সেবা; স্বাস্থ্য শিল্প সেই সেবার প্রয়োজনীয় সহায়ক কাঠামো।

    তাই স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য মাপতে হবে শুধু কতটি হাসপাতাল, কতটি ভবন বা কত টাকার বিনিয়োগ হলো তা দিয়ে নয়। মাপতে হবে—একজন দরিদ্র রোগী সময়মতো চিকিৎসা পেলেন কি না, একজন মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিলেন কি না, একজন হার্ট অ্যাটাকের রোগী দ্রুত জীবনরক্ষাকারী সেবা পেলেন কি না, একটি শিশুর টিকা হলো কি না, একজন স্বাস্থ্য কর্মী নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারলেন কি না।

    মানুষের জীবনকে মুনাফার ঊর্ধ্বে রেখে, আবার বিজ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সুশাসনকে সঙ্গে নিয়েই একটি মানবিক, জবাবদিহিতামূলক এবং সবার জন্য কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

  • স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

    স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

    নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ঘোষিত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮৪ জন চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর যোগদান করবেন। চিকিৎসকদের মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৯ জন এবং সহকারী সার্জন পদে ১৬৫ জন রয়েছেন।

    স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-৩ (মনিটরিং ও সমন্বয়) শাখা থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়ে, নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শূন্য পদের পদভিত্তিক তালিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ করতে হবে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৫ টি পদ খালি আছে। যা মোট পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।

    গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। আগের আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। এছাড়াও নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে এবং সারা দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদে অন্তত ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

    নির্বাচনি ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।

    এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের মানবসম্পদ তথ্যব্যবস্থা (এইচআরআইএস) অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭১৪।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। ধাপে ধাপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। আশা করছি খুব দ্রুতই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।

    এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড

    এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, জেপিগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৫৮ জন।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৪৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২৬ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।

    আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।