স্বাস্থ্য

  • কেমিকেল মিশ্রিত খাবার; হুমকির মুখে মানবজাতি

    কেমিকেল মিশ্রিত খাবার; হুমকির মুখে মানবজাতি

    বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক দূষণ এখন মানবজাতি ও প্রকৃতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপদের ব্যাপারে এখনো যথেষ্ট জনসচেতনতা কিংবা কার্যকর পদক্ষেপ গড়ে ওঠেনি।

    বিশ্বব্যাপী ১০ কোটির বেশি ‘নতুন রাসায়নিক পদার্থ’ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ রাসায়নিক বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এসব রাসায়নিক পদার্থ আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সচেতনতা খুবই কম।

    ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চার্স (ডিএসভি) নামক একটি গবেষণা সংস্থা জানায়, আমরা প্রতিদিন যে পানি পান করি, বাতাসে শ্বাস নিই, খাবার খাই, এমনকি যে সাবান, শ্যাম্পু বা ঘরের জিনিসপত্র ব্যবহার করি—তাতে থাকা অনেক রাসায়নিকের নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়নি বা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

    গবেষণা বলছে, খাদ্য প্যাকেট ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের সংস্পর্শে থাকা ৩ হাজার ৬০০-র বেশি রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরে পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। বিশেষ করে পিএফএএস বা ‘ফরএভার কেমিক্যালস’, যা একবার শরীরে ঢুকলে সহজে বের হয় না, তা প্রায় সব মানুষের শরীরে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতেও এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ এমন শ্বাস নিচ্ছে, তা দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এসব রাসায়নিক পদার্থ মানুষের প্রজননক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ, স্নায়ুবিক কার্যক্রম, হৃদযন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, যকৃত ও কিডনি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

    বিশেষ করে কীটনাশকের ব্যবহার ও বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত ও গর্ভধারণে জটিলতার মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানান, হরমোনে প্রভাব ফেলা রাসায়নিকগুলো অনেক সময় অতি সামান্য মাত্রাতেই মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা প্রচলিত টেস্ট পদ্ধতিতে ধরা পড়ে না।

    এই গবেষণাটি প্লাস্টিক দূষণ এবং রাসায়নিক দূষণের বিষয়েও সতর্ক করেছে। ডিএসভি বলছে, রাসায়নিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থায় এখনই বিপুল পরিবর্তন দরকার। আর এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও উদ্যোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে।

  • খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। শুধু পুষ্টি নয়, এর রয়েছে নানা রকম ওষুধি গুণও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, খেজুর খেলে শরীরে নানা উপকার হয়। তবে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই নয়, হাদিসেও খেজুরের উপকারিতার কথা বহুবার উঠে এসেছে।

    বিশেষ করে মদিনার ‘আজওয়া খেজুর’ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক বর্ণনায় এসেছে আশ্চর্যজনক সব উপকারের কথা।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘মদিনার উচ্চভূমিতে উৎপন্ন আজওয়া খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। আর প্রথম ভোরে তা খাওয়া হলে এটি বিষের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে (মুসলিম : ৫১৬৮)।’

    অন্য এক হাদিসে হজরত সাদ (রা.) বলেন, আমি নবীজি (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না (বুখারি : ৫৪৪৫)।’

    একবার হজরত সাদ (রা.) অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তার বুক স্পর্শ করে বলেছিলেন, ‘তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও, সে অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তাকে বলো আজওয়া খেজুর চূর্ণ করে সাতটি বড়ি তৈরি করতে (আবু দাউদ : ৩৮৩৫)।

    হজরত আলি (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সাতটি আজওয়া খেজুর খায়, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ দূর হয়ে যায় (কানজুল উম্মাল : ২৮৪৭২)।’

    মহানবী (সা.)-এর ইফতারেও খেজুর ছিল প্রধান। হজরত আনাস (রা.) বলেন,‘নবীজি (সা.) কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। না পেলে শুকনো খেজুর, সেটাও না পেলে পানি (তিরমিজি)।’

    এ ছাড়া তিরমিজির এক হাদিসে তো আজওয়া খেজুরকে জান্নাতের ফল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লিখিত উপকারিতাগুলো স্মরণে রেখে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন খেজুরও। বিশেষ করে ভোরবেলা নিয়ম করে সাতটি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস আপনার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

  • চৌগাছায় পিকআপের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

    চৌগাছায় পিকআপের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি:

    যশোরের চৌগাছায় বিচালি বোঝাই একটি ট্রলিতে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় হাসান আলী (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত হাসান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর গ্রামের শান্তি মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতের চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসান একটি বিচালি বোঝাই ট্রলিতে ড্রাইভারের পাশে বসে মহেশপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা টেঙ্গুরপুর মোড়ে পৌঁছালে অন্য একটি পিকআপ ( কুষ্টিয়া ড-১১-০২৮৮) ট্রলিটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ড্রাইভারের পাশ থেকে পড়ে গিয়ে হাসান মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই হাসানের মৃত্যু হয়।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক নওয়াপাড়া প্রেমবাগ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২৬) কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    চিকিৎসাসেবায় ১৬ বার দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া যশোরের চৌগাছা মডেল হাসপাতালে জনবল সংকটে ধুকছে সেবা কার্যক্রম। বর্তমানে ২’শ ১০ টি পদের বিপরীতে শূণ্য রয়েছে প্রায় ১’শ টি পদ। চৌগাছা হাসপাতালে নারী, পুরুষ ও শিশু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫’শ থেকে ৬’শ রোগী উপস্থিত হয়। জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে রোগীদের সেবা কার্যক্রম। যার ফলে মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
    হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদের সংখ্যা রয়েছে ২’শ ১০ টি। এর মধ্যে শূণ্য রয়েছে ১’শ টি পদ।

    এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩২টি। খাতা কলমে কর্মরত দেখানো হচ্ছে ১২ জন চিকিৎসককে। কিন্তু এই ১২ জনের ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। সংযুক্তিতে রয়েছেন আরও ২ জন চিকিৎসক। প্রশিক্ষণে রয়েছে ১ জন। বাকি ৬ জনের ২ জন প্রশাসনিক পদে কর্মরত। বাকি ৪ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ১ জন নাইট ডিউটি করতে হয়। নাইট ডিউটি করলে পরের দিন সেই চিকিৎসকের ডে অফ থাকে। বর্হিঃ বিভাগে রোগী দেখেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। বর্তমানে মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে দেশসেরা এই মডেল হাসপাতালের বর্হিঃ বিভাগের চিকিৎসা সেবা।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন, মেডিকেল অফিসার মৃদুল কান্তি ২০১৪ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে মেডিকেল অফিসার সায়মা নাহিদ শান্তা এবং (অর্থপেডিক) গোলাম রসুল কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বলেন, তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাদেরকে বছরের পর বছর চৌগাছায় পদায়ন দেখানো হচ্ছে। তাদের নাম কর্তন না পর্যন্ত এই পদে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা সম্ভব না। স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে বার বার চিঠি দিয়েও অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
    মেডিকেল অফিসার ফারিয়া ইয়াসমিন ও শিশু কনসাল্টটেন্ট আব্দুস সামাদ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.আব্দুস সামাদ, মেডিকেল অফিসার রবিউল ইসলাম, ফারিয়া ইয়াসমিন আগে থেকেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।
    পক্ষান্তরে হাসপাতালে খাতা-কলমে অত্যন্ত জরুরি অ্যানেসথেসিয়া শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে তারা নেই। এছাড়া ২০ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
    এদিকে হাসপাতালটিতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ১’শ শয্যার কার্যক্রমের জন্য বিল্ডিং নির্মান কাজ শেষ হলেও সেবার জন্য হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
    প্রধান সহকারী, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী, এমএলএসএস, ওয়ার্ড বয় এবং আয়াসহ এসব তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোর মধ্যে ৬৩টি রয়েছে শূন্য। যেকারনে বর্তমানে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম।

    হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিগত দিনে চৌগাছা মডেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক চিকিৎসক ইমদাদুল হকের চেষ্টায় অন্তঃসত্তাদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। মা ও প্রসূতিসেবায় অবদান রাখার ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এটি উপজেলা পর্যায়ে একটানা দেশসেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৮ সালেও হাসপাতালটি অর্জন করে জাতীয় পুরস্কার। ২০২০ সালে স্বাস্থ্যসেবায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে পায় ‘হেল্থ মিনিস্টার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। সর্বশেষ চৌগাছা মডেল হাসপাতাল ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দেশ সেরার প্রথম পুরস্কার পায়।
    চৌগাছা উপজেলার কয়ারপাড়া আবু কালাম বুড়িন্দিয়া এলাকার সখি খাতুন সহ অনেকেই জানান, এখানে জরুরি মুহূর্তে সেবা পাওয়া কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুর আড়াইটার পর অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য সমস্যায় রোগীদের ছুটতে হচ্ছে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ বেসরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। দেশসেরা হাসপাতালে আগের মতো চিকিৎসাসেবা নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
    হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন ‘লোকবলের শূণ্যতা পুরনের জন্য অনলাইনে সফট কপি এবং হার্ডকপি উভয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মোট লোকবল ২১০ জন। এরমধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১২০ জন, ফাঁকা রয়েছে ৯০ জন।’

    জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন বলেন, চৌগাছার বিষয়টি আমার নজরে আছে। চেষ্টা চলছে লোকবল বাড়ানোর জন্য।