রাজনীতি

  • জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার

    জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার

    বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    আজ শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একজন প্রবীণ নাগরিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে অপদার্থ, ব্যর্থ, অদক্ষ কর্মকর্তাদের শাসাতেও পারেন। কিন্তু সরকার বিমানবন্দরের ওই ঘটনাকে ইস্যু করে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।’

    গোলাম পরওয়ার বলেন, খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেত না। অনেকে মোবাইল পর্যন্ত বন্ধ রাখত।

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, যাদের সঙ্গে আপনার মা জোট করেছিলেন, যাদের সমর্থনে আপনার মা সরকার গঠন করেছিলেন, তাদেরকে গুপ্ত আর স্বাধীনতাবিরোধী বলে নিজেই মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

    আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের নয় বরং সরকারের তলে-তলে যোগাযোগ ও সখ্যতা রয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে—বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি।

    সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতকে নিয়ে অপরাজনীতি করতে গিয়ে এরশাদের সলিল সমাধি হয়েছে, আওয়ামী লীগকে দিল্লি গিয়ে পালাতে হয়েছে। নতুন করে আবার কেউ অপরাজনীতির চেষ্টা করলে তাদের পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ। তিনি আরও বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে সরকার মূলত বার্তা দিতে চাচ্ছে সরকারের দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশে শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়-প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • পুলিশকে এখন কেউ ভয় পায় না…

    পুলিশকে এখন কেউ ভয় পায় না…

    গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশে এক ধরনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু ছিল। বলা হতো, বাংলাদেশ একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে উলটো পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ পুলিশকে কেউ ভয় পায় না এমন আলোচনা এখন জনমনে চালু হয়েছে। ফলে শত শত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলেও কেন জানি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অনেকের মতে, ভয়ের সংস্কৃতির বদলে তোয়াক্কা না করার (ড্যাম কেয়ার) সংস্কৃতি চালু হয়েছে। ফলে পুলিশ দেখলে পালানোর পরিবর্তে অনেক জায়গায় পুলিশই হামলার শিকার হচ্ছে।

    সর্বশেষ বুধবারও মিরপুরে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনায় মিরপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুন দেওয়া হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে। ভাঙচুর করা হয় উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর (ভেকু) এবং পুলিশের গাড়ি। অনেকের মতে, অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়তই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন চিত্রকে চরম উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মিরপুরের ঘটনার আগে বৃহস্পতিবার রাতে ‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুধু তাই নয়; ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান রয়েছে। এর একদিন পরে শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রপার্টিজে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরসহ সেখানে তাণ্ডব চলে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ৭ জনকে। এছাড়া মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, আদাবরে আটতলা বাড়ি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষসহ বেশকিছু ঘটনা গত কয়েকদিনে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়। এসব ঘটনা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে ব্যাপক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। বুধবার একদিনেই বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে চার শতাধিক অপরাধীকে।

    সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে বলেন, এসব হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী চরম অস্থিতিশীল বা নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি থেকে দেশ এখন অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে অত্যন্ত কঠিন এক অবস্থার মধ্য দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কিছু অপরাধ বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে কমেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে যাদের অপরাধ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে চরম বিপর্যয় তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলে। কিন্তু সেই অর্থে আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন, দেশে আর মব সন্ত্রাস থাকবে না। পরিস্থিতি দ্রুতই উন্নতি হবে। সে লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। পুলিশ বাহিনীকে পেশাদার ও জনবান্ধব হিসাবে গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। চলমান রয়েছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং দমনে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতিনিয়ত গ্রেফতার করা হচ্ছে শত শত অপরাধীকে। পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে মনিটরিং টিম। কিন্তু বাস্তবে এসবের সুফল মিলছে না। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। একের পর এক নৃশংস ও বিশৃঙ্খল ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সার্বিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিচার করা ঠিক হবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়া মাত্রই পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল যাচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করছে। সুতরাং, সরকারের কোনো দায়ভার বা ব্যর্থতা নেই। তিনি বলেন, সরকার বা পুলিশের ব্যর্থতা তখনই বলা যেত যদি আমরা ব্যবস্থা না নিতাম। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়মিত গ্রেফতার করা হচ্ছে। সামনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।’

    পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী পুলিশি তৎপরতা চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে তার নৃশংস ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

    অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীরা নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারা বলেন, প্রভাবশালী মহল কিংবা ক্ষমতাসীনদের মদদ ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব নয়। তাই অপরাধীদের দমনে শুধু গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়, সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। যা দেখে বাকি অপরাধীরা ভীত হয়। তারা মনে করেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

    সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, জনমনে স্বস্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়বে। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধী বা সন্ত্রাসীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা যাবে না। তাদের পেছনে যেসব মদদদাতা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও প্রশাসনিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগ করতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে অপরাধীরা আইন এবং পুলিশের প্রতি যে ভয় পেত, বর্তমানে সেই ভয়ের সংস্কৃতি পুরোপুরি অনুপস্থিত। যে কারণে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, অপরাধী গ্রেফতারের খবর স্বস্তিদায়ক হলেও অপরাধের মূল শিকড়ে টান দিতে না পারলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধীরা যখন দেখে যে, তাদের পেছনে কোনো না কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক চক্রের অদৃশ্য হাত রয়েছে, তখন আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এক সময় সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৪-১০ অক্টোবর জামায়াতের জনসচেতনতা কর্মসূচি

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৪-১০ অক্টোবর জামায়াতের জনসচেতনতা কর্মসূচি

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত জনসচেতনতা কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামী। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনগণকে এগিয়ে আসার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানিয়ে বলেন, সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতায় কেবল জীবনবিনাশী মশাবাহিত রোগটি থেকে সর্বস্তরের মানুষকে রক্ষা সম্ভব হবে। এজন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসী, সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জনগণের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নেতাকর্মীদের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা এ কর্মসূচি সফল করে ডেঙ্গুর ভয়াবহ গ্রাস থেকে নাগরিকদের নিরাপদ করতে পারবো। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি সফল করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, কোনো নাগরিক কিংবা যে কোনো বয়সী শিশুর মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অবহেলা নয়, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ডেঙ্গু মশার লার্ভা সৃষ্টি কিংবা লার্ভার উৎসসমূহ ধ্বংসে নাগরিকদের সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করতে উদ্যোগী হওয়া সময়ের দাবি। এজন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করা, বাসা বাড়িতে বিদ্যমান ফুলের টব ও টবের নিচে জমে থাকা পানি অপসারণ করা, পুরনো টায়ার, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত বালতিসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে তা পরিষ্কার ও অপসারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, চলতি বছর দেশে ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গেল সেপ্টেম্বরে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের। কিন্তু বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরিবর্তে শুধু বাগাড়ম্বর করায় নাগরিকদের প্রাণহানি বেড়েছে। আমরা সরকারকে বড় বড় কথা বলার পরিবর্তে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন করে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।

    তিনি আরো বলেন, জনগণের সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ ও সমাজ নিশ্চিত করতে পারে। এজন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সাথে নিয়ে এ কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশবাসীর পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে হয়রানি, লিখিত অভিযোগ জামায়াতের চার এমপির

    শাহজালাল বিমানবন্দরে হয়রানি, লিখিত অভিযোগ জামায়াতের চার এমপির

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চারজন সংসদ সদস্য।

    তারা হলেন- শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন আইউবী ও খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।

    এই চার সংসদ সদস্যের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে বিমানের বিজি৩৩৮ ফ্লাইটটি। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রী তিন ঘণ্টা পরও ট্যাগযুক্ত লাগেজ বুঝে পাননি।

    এ ঘটনায় যাত্রী হয়রানি, লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর করা ওই অভিযোগে বলা হয়, বিজি৩৩৮ (মদিনা-ঢাকা) ফ্লাইটে ঢাকায় আসা যাত্রীদের বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ পাননি। যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। লাগেজ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও যৌক্তিক কারণ জানানো কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি ও হয়রানির সৃষ্টি হয়।

    অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, লাগেজ বুঝে না পেয়ে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিযোগকারীরা।

    ওই অভিযোগের কপির ছবি নিজ ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এর সঙ্গে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? আজ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অবতরণ করা বিজি৩৩৮ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীদের পক্ষ হতে যাত্রী হয়রানি, মালামাল যথাযথভাবে বুঝিয়ে না পাওয়া ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে আমরা ৪ জন জাতীয় সংসদ সদস্য বিমান কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দাখিল করলাম।

    ওই অভিযোগের কপি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ পেয়েছে বলে বিমান সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

  • আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ সেইফ এক্সিটের প্রচেষ্টা: সাদিক কায়েম

    আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ সেইফ এক্সিটের প্রচেষ্টা: সাদিক কায়েম

    রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়াকে সেইফ এক্সিটের প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতীতে বারবার বিএনপির তথাকথিত বহিষ্কার নাটক দেখেছে জনগণ। কোনো গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দিতে এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল আর মেনে নেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সরকারকে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় পুরো ঘটনাটিকে কেবল জনরোষের মুখে রাজনৈতিক স্যাক্রিফাইস ও পিআর স্টান্ট হিসেবেই বিবেচনা করবে জনগণ।

    সাদিক কায়েম অভিযোগ করে বলেন, হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা নানা ধরনের অসংলগ্ন ও স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা ক্লিনিকটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু করার দাবি জানান তিনি। সারা দেশে সরকারি দলের নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দখলদারি এবং চাঁদাবাজির রাজনীতির লাগাম অবিলম্বে টেনে ধরারও আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি।

  • জানুয়ারি-জুনে ইউপি ভোট, বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

    জানুয়ারি-জুনে ইউপি ভোট, বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

    আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউএনডিপির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

    আখতার আহমেদ বলেন, ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষা, পবিত্র রমজান, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় দিবসসহ স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক বাস্তবতাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। সব দিক পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

    তিনি বলেন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘ব্যালট’ প্রকল্পের অধীনে ইসি সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের একটি প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়; বরং ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উদ্যোগ। প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী আলোচনায় প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

    ইসি সচিব জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নির্বাচনের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।

    তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশার একটি উচ্চ মানদণ্ড তৈরি করেছে। সেই মান বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা আরো উন্নত করার লক্ষ্যেই কমিশন কাজ করছে।

    আখতার আহমেদ আরো বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম প্রস্তুতের পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতি ও পরিবেশও মূল্যায়ন করা হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যাতে শহরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবরবাজার সড়কের পাশে মুহুরী নদীর তীরে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা নয়, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতে কলকারখানা বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করবে। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং নদী-খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার উপকৃত হবে। একইভাবে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না।

    ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় এ এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এমনকি সেতুর ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচনের আগে বিএনপি নদী-খাল খননের কথা বলেছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক।

    প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে পরশুরামে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেও নির্ধারিত প্যান্ডেলের বাইরে মুহুরী নদীর তীর, মডেল স্কুল-সংলগ্ন এলাকা এবং ওমরী ব্রিজের ওপর মানুষের উপস্থিতি ছিল।

    পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলগাজীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তাঁর পরবর্তী কর্মসূচিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতাধীন কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসংক্রান্ত কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার বিষয়েও কর্মসূচি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    পরশুরামের পর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • যোগ্য শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার হরণ করে দলীয়করণের পথে হাঁটছে সরকার: শিবির

    যোগ্য শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার হরণ করে দলীয়করণের পথে হাঁটছে সরকার: শিবির

    কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তাদের চাকরির অধিকার হরণ এবং প্রশাসনকে নির্লজ্জ দলীয়করণের দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি বৈধ নাগরিকের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান প্রশাসন কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দিয়েছে।

    এমনকি মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া প্রার্থীদেরও গেজেট থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, জামায়াত, এনসিপি সঙ্গে পারিবারিক বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পাশাপাশি কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা যোগ্য প্রার্থীদেরও গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত। ’

    নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ করা কিংবা পছন্দের রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করা একজন নাগরিকের অধিকার।

    এসব কারণে কোনো নাগরিককে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা মূলত ফ্যাসিবাদী শাসনের পথকেই উন্মুক্ত করে। জুলাই গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের কোনো দোসর ব্যতিত সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা জুলাইয়ের পক্ষের ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ’

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘ছাত্রজনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যের অবসান ও মেধার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেই রক্তের দাগ শুকানোর আগেই বিএনপি সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করে আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে।

    ভাইভায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর বৃদ্ধির সুপারিশ, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির অনুকূলে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ’

    নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একদিকে শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার কেড়ে নেওয়া, অন্যদিকে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারকে দলীয়করণের অবাধ সুযোগ তৈরি করে রাখা দেশের মেধাবী তরুণদের স্বপ্ন নিয়ে খেলতামাশার শামিল। ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ রাখা এবং মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠন করতে হবে। ’

  • পদত্যাগ করলেন এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি

    পদত্যাগ করলেন এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি

    রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

    স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেবো।’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেরদৌসীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

    গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।

    ওই দিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

    এছাড়া মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে।

    রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আলোচনায় আসা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর কার্যক্রমেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন যুক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে ।

    ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী মিষ্টি।

  • সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত‍্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লিখিতভাবে তাকে এই নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

    পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন।

    বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    এ ঘটনার মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।