রাজনীতি

  • বাড়ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি

    বাড়ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি

    সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করতে এসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাংবিধানিক পদধারীর সম্মানি ও ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের পরপরই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারও সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ, সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নিজেদের সম্মানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী নন। কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি মনে করছেন, জনগণের অর্থনৈতিক চাপের সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

    অন্যদিকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং মন্ত্রী-এমপিদের সম্মানি বৃদ্ধির বিষয়টি এক নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরির বিনিময়ে নির্ধারিত বেতন পান এবং তাদের বেতন কাঠামো পরিবর্তন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। বিপরীতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন আমার দেশকে বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা যে বেতন-ভাতা পান, সেটা খুব অপ্রতুল। কিন্তু বর্তমানে দেশের ক্রাইসিস মুহূর্তে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কোনো আপত্তি বা চাহিদা কোনোটাই নেই। সরকারপ্রধান এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা তা মেনে নেব।

    এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগ) শামীম সোহেল আমার দেশকে বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এলে আমরা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করব। রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে তাদের বেতন বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে শর্তে বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বেতনও বাড়বে। কারণ স্বাভাবিকভাবেই সচিবদের বেতনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বেতনের একটি ফারাক আছে। তাই নিয়মানুযায়ী এটাও বাড়বে। এটা নিয়ে কাজ শুরু হবে।

    রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি ছাড়িয়ে গেছে সচিবের বেতন

    নবম জাতীয় পে স্কেলের নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ফলে একজন সচিবের মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী একজন সচিবের মূল বেতন রাষ্ট্রপতির বেতনের চেয়ে ৩৬ হাজার টাকা বেশি। একই ভাবে প্রধানমন্ত্রীর মাসিক সম্মানির (এক লাখ ১৫ হাজার টাকা) চেয়ে সচিবের মূল বেতন ৪১ হাজার টাকা বেশি। একই ভাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মাসিক সম্মানিও এখন সচিবদের চেয়ে কমে গেছে। অবশ্য শুধু মূল বেতন দিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের আর্থিক সুবিধার হিসাব করা যায় না। এসব পদে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, স্টাফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত রয়েছে।

    আইন সংশোধন ছাড়া এমপি-মন্ত্রীদের সম্মানি বৃদ্ধির সুযোগ নেই

    এদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সরকারি আদেশ জারি করে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের সম্মানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাদের সম্মানি প্রতিবছর স্বয়ংক্রিয় ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বাড়ে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট আইন বা আদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হয়।

    সংসদ সদস্যদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত হয় ‘সংসদ সদস্য (পারিতোষিক ও ভাতাদি) আদেশ, ১৯৭৩’-এর আওতায়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সম্মানি ও বিশেষাধিকার নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী।

    ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর পরের বছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মানি-ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তখন রাষ্ট্রপতির মাসিক সম্মানি এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ ১৫ হাজার টাকা করা হয়। একই সময়ে মন্ত্রীদের সম্মানি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রীদের ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীদের ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এছাড়া সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    মূল বেতনের বাইরে রয়েছে বিভিন্ন ভাতা

    বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা হলেও বিভিন্ন মাসিক ভাতা মিলিয়ে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা দাঁড়ায় দুই লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য দৈনিক ৮০০ টাকা ও যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে বিমান, রেল বা স্টিমারে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ট্রাভেল ভাউচার রয়েছে। এছাড়া এলাকার কল্যাণে বছরে পাঁচ লাখ টাকা ঐচ্ছিক তহবিল এবং আকস্মিক মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে।

    মন্ত্রীদের জন্য আবাসন, গাড়িসহ নানা সুবিধা

    মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিনামূল্যে সম্পূর্ণ সুসজ্জিত সরকারি বাসভবন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সুবিধা পান তারা। সরকারি বাসভবনে না থাকলে মন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৭০ হাজার টাকা আবাসন ভাতা পান।

    ৫৩ বছরে এমপিদের বেতন বেড়েছে ১৩৭ গুণের বেশি

    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালে একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। একই সময়ে একজন মন্ত্রীর বেতন ছিল ১,০০০ টাকা। পরে কয়েক দফা আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বেতন বাড়ানো হয়। ১৯৮৮ সালে তা ১,৫০০ টাকা, ১৯৯২ সালে ৩,০০০ টাকা, ১৯৯৮ সালে ৭,৫০০ টাকা, ২০০৫ সালে ১১ হাজার টাকা, ২০১০ সালে ১৫ হাজার টাকা এবং সবশেষ ২০১৬ সালে ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এর সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় একজন সংসদ সদস্যের মোট আর্থিক সুবিধার পরিমাণ শুধু মূল বেতন দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

    এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন পদাধিকারীদের সম্মানি এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতনের তুলনা করা ঠিক নয়। কারণ জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি মূলত জনসেবা, যা টাকা বা অর্থ দিয়ে বিচার বা মূল্যায়ন করা যায় না। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের পদটি হলো নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরি।

    আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে এ ধরনের পদগুলোয় আলাদা সম্মানি ছিল না। পরে সময়ের সঙ্গে জীবন-জীবিকার তাগিদে সম্মানি ও ভাতার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। যেহেতু সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই রাষ্ট্রপতি বা অন্য জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণ বা বৃদ্ধির একটি যৌক্তিক ভিত্তি ও যুক্তি তৈরি হয়েছে।

  • জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবি শিবিরের

    জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবি শিবিরের

    জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাসে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা এবং জুনে পেট্রোল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়।

    সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

    শিবির নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয় আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়বে।

    বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কথা বলে বারবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।

    আরও পড়ুন: হারানো অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

    শিবির নেতারা বলেন, নিজেদের নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তারা অবিলম্বে বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, সরকার দ্রুত বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার না করলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

  • লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী

    লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চ করতে গিয়ে বিরোধী দলের কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব তুলে না ধরে তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে।

    তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন করবে, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ কারণে তাদের কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি সরকার। অথচ বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব তুলে না ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বিরোধী দল।

    রাজশাহী রেলস্টেশনে হামলার বিষয়ে রিজভী বলেন, গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করায় জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে গ্রহণ করেনি। এখনও তারা প্রতিনিয়ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রিজার্ভ বেড়েছে। ফলে সংকট কিছুটা হলেও মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে। বৈশ্বিক সংকট কাটলে জনভোগান্তিও কমে আসবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে জনগণের ওপর বোঝা চাপানো হয়েছে: এবি পার্টি

    জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে জনগণের ওপর বোঝা চাপানো হয়েছে: এবি পার্টি

    ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটি অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জ্বালানি খাতে টেকসই ও জনবান্ধব নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এর ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ এর আগে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। গত মার্চেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছিলেন।

    এবি পার্টির দুই নেতা বলেন, জনগণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপবে। শেষ পর্যন্ত এই বোঝা জনগণকেই বহন করতে হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।

    তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারের উচিত ছিল এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অভিঘাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পুরো দায় জনগণের ওপর না চাপিয়ে জ্বালানি খাতে অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত কমাতে সরকারকে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    তারা বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জনগণের ওপর একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে কোনো টেকসই অর্থনৈতিক সমাধান তৈরি করা সম্ভব নয়।

  • এক দফার হুঁশিয়ারিতে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না

    এক দফার হুঁশিয়ারিতে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে। এক দফা কর্মসূচি দিলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগের মতো করে প্রতিহত করবে না বিএনপি। গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সন্ত্রাস প্রতিহত করা কঠিন কিছু নয়।

    সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশবাসী ও বিএনপির সমর্থকেরা ওয়াকিবহাল। সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প প্রস্তাব না দিয়ে লংমার্চ করছে বিরোধী দল। যে ভাষায় তারা কথা বলছে, তা সমীচীন নয়। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সরকার জোর চেষ্টা করছে। বিরোধীরা জনগণের কান ভারী করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে জ্বালানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছে। জনগণের স্বার্থে নেওয়া উদ্যোগকে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

  • জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

    জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

    জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আহবান জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করবে এবং তাদের দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। এর ধারাবাহিকতায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।”

    জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।

    তিনি আরো বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা, ব্যয় সংকোচন, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থার আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকারকে জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। হঠাৎ করে কোন ঘোষণা ছাড়াই সরকার কর্তৃক জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।

    সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। এছাড়া বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয়-মহানগরী নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে গণবিরোধী কাজ করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে গণবিরোধী কাজ করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে। এজন্য সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

    জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্বক বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসের মধ্যে ৩ বার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হয়ে জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু সাহেবের ব্যর্থতায় সরকার বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখনও আবার সেই টুকু সাহেবকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে; জনগণ বলে টুকু যায় আর আসে। এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুবা জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরবর্তীতে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন কিন্তু গতি রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকার রাতের অন্ধকারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে। ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি চলছে। পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ উদ্বিগ্ন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা সংসদের টু-থার্ড আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রতি সেক্টর জড়িত হওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধি হলে এর প্রভাব সব সেক্টরে পড়ে থাকে। কিন্তু সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে দুর্নীতিবাজদের স্বার্থে দফায় দফায় তেলের দাম বৃদ্ধি করছে।

    ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ করে; রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না। ক্ষমতা হতে হবে জনতার জন্য। নতুবা জনতা যথাসময়ে যথাযথ জবাব দেবে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানে জনগণের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ভোগান্তি দলীয় প্রশাসক দিয়ে নিরসন সম্ভব নয়। এসব ভোগান্তি নিরসনের জন্য অবিলম্বে স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য আরও ঊর্ধ্বগতির দিকে যাবে। জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা। সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে।

    পে-স্কেলে ২৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে সামান্য সুবিধা দেওয়ার নামে সরকার ১৮ কোটি জনগণের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলসহ সর্বক্ষেত্রে লুটপাট চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি নয়, বরং এই সিদ্ধান্ত সরকারকেও বিপাকে ফেলবে। গণবিরোধী এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে। সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।’

    রোববার সংসদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের বাইরেও ইশতেহারে কিছু বিষয় ছিল, সেগুলোও ধারণ করা হবে। একপাক্ষিকভাবে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। আজকের আলোচনায় ১৭টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে।’

    বাজেট বরাদ্দের সময় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক বছরের সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত আর্থিক বছর করার প্রস্তাব দেয়া হবে।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। অর্থাৎ সংবিধানে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করা হবে।’

    কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সংখ্যাধিক্যের কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। যারা এখনো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি, তারাও আলোচনায় থাকতে চাইলে অংশ নিতে পারবে। ডিসেম্বরর মধ্যে আলোচনাসমূহ শেষ করা পরিকল্পনা আছে। এরপরই রিপোর্ট তৈরি করা হবে।’

  • ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

    আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    তিনি জানান, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।’

    অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।

    নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

  • সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ১১ দলের প্রত্যাখ্যান

    গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে সম্মান জানিয়ে সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসন করাই গণতান্ত্রিক পথ।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দলের এমপিরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার দাবি, এখানেই বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের প্রধান বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান হলেও সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাই চূড়ান্ত। গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে বিষয়টি সাধারণ সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নেওয়া জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ সংসদকে সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও তা সীমাহীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সাধারণ সংশোধনী দিয়ে পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের নজিরও তুলে ধরেন তিনি।

    ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো—গণভোটের রায় যথাযথভাবে কার্যকর করা, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য করে পরিষদ কার্যকর করা।

    এ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের কোনো একতরফা উদ্যোগ থেকে বিরত থেকে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, বিশেষ সংসদীয় কমিটি গত শুক্রবার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আজ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদকদের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    গত ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় সরকার। জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সদস্যদের নাম না দেওয়ায় পরে ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।