রাজনীতি

  • ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    “জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

    আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

    তিনি বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয়, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।

    তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

    এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি।

    তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণেই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিল।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে।

    তার মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। আর জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা।

    তার অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার,সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল,গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা,সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন: বিএনপি মহাসচিব

    ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন: বিএনপি মহাসচিব

    ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াত আমিরের কাছে জানতে চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছেন, বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তো আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? এটা তো আপনাকে উল্লেখ করতে হবে। বলতে হবে, ফ্যাসিস্টদের পথ মানে কোন পথে এগোচ্ছে? একটা দৃষ্টান্ত দেখান। পথটা কি মেঠোপথ, না পাকা রাস্তা, নাকি ইটের রাস্তা?

    রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অ্যাডভোকেট আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবির রিজভী জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনারা ৫ আগস্টের পর বললেন যে আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেবেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করবেন। বিএনপির কোনো নেতা বলেননি এবং প্রধান নেতা তারেক রহমানও বলেননি, বলেছেন আপনারাই। এখন বলছেন যে ফ্যাসিস্টদের পথেই হাঁটছে বিএনপি। আসলে আপনারা কোন পথে হাঁটছেন, এটা জনগণ বেশি প্রত্যক্ষ করছে। বিএনপিকে জনগণ চেনে। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ আপনারা করেছেন। আপনারা অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলোই করেছেন। শেখ হাসিনার যে পথ, সে পথ ধরেই করেছেন।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বেগম জিয়া বলেছেন, এরশাদ একটা অবৈধ সরকার, তার অধীনে নির্বাচন করব না। সে গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছে। তার অধীনে নির্বাচন করব না। এ কথা হাসিনাও বলেছেন। এ কথা জামায়াতও বলেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসিনা এরশাদের অধীনে গেছেন। জামায়াতও গেছে। সুতরাং আপনারা তো ইতিহাসে প্রমাণ রেখেছেন। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচেয়ে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন, বলেন—কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে আপনারা একই পথে হেঁটেছেন। আওয়ামী লীগের পথেই হেঁটেছেন। সুতরাং ইতিহাসের প্রমাণ বা উদাহরণগুলোকে অগ্রাহ্য করে আপনারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলছেন।

    রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তিই বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অসংখ্য নেতাকর্মীর গুম, গুপ্তহত্যার আত্মদান এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শিক চেতনা। কিন্তু আপনাদের সেই চেতনা আছে কি না, এটা আমাদের জানা নেই। আপনারা কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপনাদের আদর্শিক কোনো জায়গা নির্মাণ করেননি। এই কারণেই জনগণ আপনাদের এখনো সন্দেহের চোখে দেখে। একাত্তর, এরশাদ আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং তারপরও গণতন্ত্রের আন্দোলনে আপনাদের কখনোই একটি আদর্শিক পথ ধরে হেঁটে যেতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেনি।

    আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী-বিষয়ক সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন নসু প্রমুখ।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণভোটকে অস্বীকার করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় জনগণ হতাশ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনআস্থা অর্জনে জামায়াত নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় জামায়াতের গাজীপুর মহানগরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

    সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও শেখ হাসিনার সরকারের মতো হবে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে।

    এ সময় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জানমাল দিয়ে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোক বসানো হচ্ছে। এর ফলে দেশে কার্যত দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি বিএনপির পছন্দের। স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে।’

    বরগুনার আহত নেতার পাশে
    সন্ত্রাসী হামলায় আহত বরগুনার জামায়াত নেতা শামীম আহসানকে দেখতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যান বিরোধীদলীয় নেতা। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করছেন। বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ঘটনার পরপরই চিফ হুইপকে ফোন করেছি। সুষ্ঠু তদন্তে দায়ীদের বিচারের আহ্বান জানিয়েছি। দেশে সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই।

    হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
    এর আগে ৫ মাসব্যাপী আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেন জামায়াত আমির। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, সাইকেল ও অর্ধকোটি নগদ অর্থসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব কাঠামো বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির শর্ত ও কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসবে।

    শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং বৈশ্বিক সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তির মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো মতদ্বৈততা নেই; আলোচনার মাধ্যমে যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

    এর আগে দিনের শুরুতে ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে তিনি ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং বৈশ্বিক রেটিং সংস্থা মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

  • হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে।

    তিনি বলেছেন, ‘বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। এ সরকার গণভোটকে অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না।’

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরের শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত নির্বাচনের পূর্বে একটি দল বলে বেড়াতো নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ বর্তমানে সমস্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। আপামর জনতার দাবি ছিল ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আপনাদের গন্তব্য হবে হাসিনার মতোই।’

    ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ পাবে। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এ সরকারে সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে গত সরকারের মতো দলীয়করণ, লুটতরাজ, উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসাচ্ছেন।’

    মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝে ঐক্য না থাকায় সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে রাসুল (সা.)- এর আদর্শ উপেক্ষা করার কারণে মুসলিম বিশ্ব আজ ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে জনগণ মনে করে জামায়াতে ইসলাম একমাত্র নিরাপত্তার স্থল।’

    রুকনদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সুরা কালাম বুকে ধারণ করে ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নিজের ও পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সমাজের অধিকাংশ মানুষই রিকোয়েস্ট করে, তাই মানুষকে সম্মান করতে হবে, সমাজের মানুষের ভালো ব্যবহার, ভাল আচরণ করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শুধু তলওয়ার দিয়ে ইসলাম কায়েম হয়নি। রাসুলের আচরণে আকৃষ্ট হয়ে বিদায়ী হজে ১ লাখ ২০ হাজার অমুসলিম মুসলিম হয়েছেন। মৃত্যুর স্বাদ যখন তখন ভোগ করতে হবে, তাই উত্তম আমলের মধ্যে শেষটা হোক। কোন লোক সুদের সাথে জড়িত থাকবে না, সর্বাবস্থায় সুদ হারাম। রাসুল সঃ আমলের তলোয়ার দিয়ে মদিনাসহ সারাদুনিয়া জয় করেছেন।’

    জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত আল্লাহর দাসত্ব করার জন্যই মানব সৃষ্টি হয়েছে।’

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।

  • বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেছেন, ‘দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। প্রশাসনে যারা আছেন তাদের হয়তো বিষয়টি জানার কথা।

    বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল তারা। জনগণ তা হতে দেয়নি।

    তিনি বলেন, গ্যাসের যে সঙ্কট তা নিরসন হতে এক বছর সময় লাগবে। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমদানি করে সরকার গ্যাস দিয়ে যাচ্ছে।’

    শুক্রবার (১৬অক্টোবর) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সামাজিক সুরক্ষা প্রদান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা ক্ষমতা নেওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ লেগে গেল। ইরান,ইউক্রেন,এখন সৌদি আরবে চলছে। নানান কারণে অর্থনেতিক সঙ্কটে পড়েছি। এই অর্থনৈতিক সঙ্কট বিশ্বব্যাপী।

    মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের যে ক্ষতি করছে তা তো করেছেই। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। ইউরোপে ডিজেলের লিটার বাংলাদেশের টাকায় সাড়ে তিন শ টাকা। অথচ আমাদের দেশের কিছু অসভ্য লোক সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে অকারণে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বলে। বট বাহিনী মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বট বাহিনী লেগেই আছে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য এ সরকার বদ্ধপরিকর। মাদকের সাথে কোন আপস নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। দলের যারা খারাপ কাজ করবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে আমরা প্রস্তুত। এছাড়া সরকার চেষ্টা করছে সবকিছু স্বাভাবিক করার।

    পরে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে অর্জুন গাছের চারা রোপণ, পূজা মন্ডপে সরকারি সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ, গরীব-অসহায়দের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    উপজেলা অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) জোনাঈদ আফ্রাদ, ওসি মকবুল হোসেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স,পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুজ্জামান গামা,সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব,কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাজহাজান শাওন,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তুলন ও মহিলা দলের সভাপতি শান্তি আক্তার শিউলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • বিএনপির নেতা রমিজের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    বিএনপির নেতা রমিজের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে (৭৫) লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপির একাংশ ও সর্বস্তরের জনগণ।

    মেঘনা উপজেলা নাগরিক সমাজ ব্যানারে রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ওয়াদুদ মুন্সি, সাবেক সদস্য সচিব আজাহারুল হক শাহিন, শাহাবুদ্দিন, ফাতেমা আক্তার হেনা, জাকির হোসেন, সেলিম সরকার ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ওসির উপস্থিতিতে মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আলী হোসেনকে লাঞ্ছিত করেছেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    তারা আরও জানান, রমিজ উদ্দিন দলের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলেন, ‘আমি মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সদস্য সচিব। সে সুবাদে আমি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টায় মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে যাই। গিয়ে দেখি ওসি শহিদুল ইসলাম, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীসহ তার সঙ্গে আরও কয়েকজন অফিসে বসে আছেন। আমি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ইউএনওর হাতে দিয়ে বলি স্যার ছয় হাজার টাকা বিল আসে, দোকান তো ৮টা। এমন সময় রমিজ উদ্দিন লন্ডনী আমাকে বলে তুই এখানে কেন? তুই হোমনা যা। তুই তো মোশাররফ স্যারকে ভোট দেসনি। এই কথা বলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রমিজ আমার গলা চেপে ধরে এবং সঙ্গে থাকা একজন আমাকে পেছন থেকে ঘুসি মারে। তখন ওসি শহিদুল ইসলাম আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে অফিস থেকে বের করে দেন।’

    এ বিষয়ে বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আলী হোসেনের কিছুই হয়নি। ইউএনও এবং ওসির কাছ থেকে জেনে নিন।’

    ওসি শহিদুল ইসলাম বলেছেন তর্কাতর্কি হয়েছে— এমন প্রশ্নের পর রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলে আমাদের এমপি মোশাররফ হোসেন স্যার মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বাইরে ছিল, উনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ওনার গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

    মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে। তখন আমি দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছি।’

    নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমি আক্তার বলেন, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তখন ওসি সাহেব দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছেন। কী নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে জানতে চাইলে, ইউএনও বলেন, ‘দাউদকান্দি-মেঘনা আসন নিয়ে এমন একটা কিছু। আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম পুরো বিষয়টি খেয়াল করতে পারিনি।’

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গাঁজাখোর বললেন রাশেদ খাঁন

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গাঁজাখোর বললেন রাশেদ খাঁন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে শহীদ ওসমান হাদীর রাজনৈতিক আদর্শ, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন এবং তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ থাকলেও তার মৃত্যুর পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    রাশেদ খাঁন লেখেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার জন্য বলেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন।

    রাশেদ খাঁনের দাবি, তখন শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খাঁন।

    জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা প্লান থেকেই গাঁজাখোর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এমন মন্তব্য করেছে।’

    রাশেদ খাঁন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে সংগ্রাম করেছেন। এ কারণে তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়েও পোস্টে নিজের মতামত তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরদের কিছু বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির কবর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক করা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।

    পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিলো, তিনিও বললেন, ‘যেসময় কেউ কথা বলতো না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত না।’ আমিও শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে এক মত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদীকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করবো, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।’

  • সোমবার ঘোষণা হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ

    সোমবার ঘোষণা হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন শুরু হবে এবং কত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে আগামী ১২ অক্টোবর রোডম্যাপ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবার কমিশনের সভাতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে তা জানানো হবে।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

    এদিকে প্যাকেজ পোস্টাল ভোটিং চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কারিগরি সহায়তা চেয়েছে নেপাল নির্বাচন কমিশন।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, বাংলাদেশের মতো প্রবাসী ভোটিং ব্যবস্থা চালু করতে চায় নেপাল। এ জন্য বাংলাদেশের আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম সম্পর্কে কারিগরি সহযোগিতা নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি, ধাপ ও কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে আগামী সোমবার কমিশনের সভার পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ।

  • তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    আজ বুধবার (৭অক্টোবর) একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রকল্পগুলোর আওতায় এসব সিটি করপোরেশনে মূলত সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করা হবে।

    একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

    রংপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।