রাজনীতি

  • তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

    চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়ে এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- তৎকালীন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০-১৫ জন শীর্ষ নেতা।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বহু মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’

    এই মামলায় আসামী কারা হচ্ছেন- সে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।’

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ইটভাটাজনিত দূষণ রোধ, রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন অপসারণ এবং অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে দেশের বায়ু ও শব্দদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার আদলে হর্ন নিয়ন্ত্রণেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

    নগরীর যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশদূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    একইসঙ্গে রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সঙ্গে যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

    আজ শনিবার বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    প্রেস সচিব বললেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় উন্নয়নের গালগল্প হয়েছে অনেক। কিন্তু কোথায় সেই উন্নয়ন? অনেক স্থানে অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে।’

    ‘যতক্ষণ মানসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন না হবে, ততক্ষণ কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

    তিনি বললেন, ‘কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলেরই হোক, যে মতের হোক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে হতে হবে।’

    আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানালেন, প্রধানমন্ত্রী অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসেছেন। কোথাও কারো বন্দনা করেন না। আগে যা অহরহ দেখা যেত। প্রধানমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। প্রতি মাসেই জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকার বাইরে কোনো না কোনো জেলায় যাচ্ছেন।’

    ‘এবারের বাজেট সরকারের একটা অর্জন। এবার বাজেট পাস হওয়ার পর কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, জনজীবনে অস্থিরতা বাড়েনি। এটা একটা জীবনবান্ধব বাজেট’, যোগ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা ছিলেন।

    চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

  • কওমিপন্থি সাত দলের নতুন জোট গঠন নিয়ে নানা আলোচনা

    কওমিপন্থি সাত দলের নতুন জোট গঠন নিয়ে নানা আলোচনা

    কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে এ বিষয়ে প্রথম বৈঠকেই ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে দলগুলোর। এখন নতুন জোট গঠনের বিষয়ে রূপরেখা প্রস্তাব করবে সংশ্লিষ্টরা। সে অনুযায়ী শিগগির পরবর্তী প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    এদিকে কওমিপন্থিদের হঠাৎ নতুন জোট গঠনের এ উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াত জোটে বিভক্ত হওয়া দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বকীয় অবস্থান গড়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা নিয়ে শরিক ইসলামি দলগুলোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে একসঙ্গে নির্বাচন করলেও আনুষ্ঠানিক জোট না হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা বা না করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইসলামি দলগুলোর তেমন কোনো বাধা দেখছেন না কেউ কেউ।

    সূত্রমতে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি নিবন্ধিত ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হন। সেখানে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসব দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নেয়।অন্যদিকে ইসলামী ঐক্যজোট ছাড়া বাকি পাঁচটি দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক ছিল। তবে নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন ওই ঐক্য থেকে বেরিয়ে যায়। আর অঘোষিতভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় খেলাফত আন্দোলন (নির্বাচনের পর ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দেয়)।

    ওই বৈঠক শেষে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উপস্থিত সাত দলের নেতারা আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী গতকাল শুক্রবার আমার দেশকে বলেন, জোট গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তবে এটি বাস্তবে রূপ নিতে সময় লাগবে। হঠাৎ এ উদ্যোগ কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই এ ধরনের উদ্যোগ ছিল। তবে দুটি জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। এখন ইসলামি দলগুলোর স্বকীয়তা রক্ষা করে আলাদা শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে অন্য কোনো জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

    বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা বলেন, নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের রূপরেখা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ৩ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানসহ সাত সদস্যের একটি কমিটি এসব প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠক ডাকবে। দ্রুত এ কাজ করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, এ জোটের মূল লক্ষ্য কওমি ঘরানার নিবন্ধিত সাতটি দলকে স্বতন্ত্র ধারায় ঐক্যবদ্ধ করা। তবে এ জোট হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য কোনো জোটে থাকার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    নতুন এ উদ্যোগের কারণে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকের উদ্দেশ্য কওমি ধারার দলগুলোর দূরত্ব ঘুচিয়ে কাছাকাছি হওয়া। ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলার বিষয়েও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এই চলার পথ কী হবে, তা সামনে ঠিক হবে। বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃস্পতিবার এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই। গতকাল জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা সেটিরই ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে তাদের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এভাবে খুন-জখমের মাধ্যমে আওয়ামী লুটপাটের রাজত্ব আবারও ফিরে আসবে না।

    তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি মিঠামইন উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ছিল তার অবিচল আস্থা। তাদের নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুম জাহাঙ্গীর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন জাহাঙ্গীরকে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।


    বিএনপি মহাসচিব জাহাঙ্গীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে জাহাঙ্গীরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

  • জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক, শ্রমিক জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবির মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪-এর ফসল। অথচ কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কখনো বলিনি আগের অংশ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সময়েই তো আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি। শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি। অসংখ্য মানুষ কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। আমরা সেই ত্যাগ অস্বীকার করি না। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদ যেন আর বাংলাদেশে ফিরে না আসে। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন ছিল। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজন ছিল। অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, গণভোট সংবিধানে নেই। আবার কেউ বলেছেন, চারটি প্রশ্ন এত জটিল ছিল যে বুঝতেই চার ঘণ্টা লাগে। তাহলে জনগণ কীভাবে ভোট দিল? আমি বলি, এই চারটি প্রশ্ন তো আগেই প্রচার করা হয়েছিল, সব গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান, বুদ্ধি শুধু আপনাদের আছে, দেশের ১৮ কোটি মানুষের নেই? এটা জাতিকে অপমান করার শামিল। আমি মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার জাতি মূর্খ নয়।

    তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্ন যদি মানুষ বুঝতে না পারে, তাহলে ৩১টি প্রশ্ন কীভাবে বুঝবে? এগুলো সব গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি। ইতোমধ্যে একজন বলেছেন, ভোটটা হয়ে যাক, তাই সবকিছু আগে মেনে নিয়েছিলাম। আরেকজন বলেছেন, টোল মওকুফের কথা বলা হয়েছিল ভোট পাওয়ার জন্য। রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাহলে দেশের মানুষ যাবে কোথায়? যারা দেশ চালাবেন, আইন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত।

    বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন। জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ বলেছেন। এখন বলা হচ্ছে, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ গণরায় মানা হবে না। আমি জানতে চাই, ৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়? ভোট কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা জানে। সময়মতো ইতিহাস সবকিছুর বিচার করবে।

    সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও বলা হচ্ছে, আপনারাও আসুন, এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শরিক হোন। সংসদে আমাদের সংবিধান শেখানো হয়। আমি জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনো কমিটি সংবিধানের কোথাও আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এটি কেন? এটি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

    তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছি। জনগণের রায়কে অপমান করতে চাইলে করুন, জনগণই তার বিচার করবে। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণের রায়ের পক্ষে আছি। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বৃথা যাবে না, তা বাস্তবায়িত হবেই।

    তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়। সামনে রাস্তা খুঁজে পায় না। জাতি যদি সবসময় পেছনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? আমরা সবসময় বলেছি, আসুন সামনে তাকাই। ২০২৪ এর যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন করি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য লাল কার্ড। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। এই দেশই আমাদের দেশ। আমাদের আশ্রয়ের জায়গা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

    চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

    চেক ডিজঅনারের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের এ আদেশ দেন।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।

    এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার অপর আসামিরা হলেন, আহমেদ সইয়ন ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও এ এস এফ রহমান।

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের বারবার তাগিদের পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে একই দিন ব্যাংক সেটি ‘Insufficient Fund’ (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা অর্থ পরিশোধ করেননি।

  • কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্নের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল। তাই এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। সরকারকে বিব্রত করতে চায় কিছু মহল। তারা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছে, সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছিল, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত পরিচালনা করবে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে ওই দুটি প্রশ্নের নম্বর যুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যারা পরীক্ষার্থী তারা সন্তুষ্ট। এর পরেও যদি কেউ তার পরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে থাকে বা না করতে পারে, তাদের পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা চলার সময় সুযোগ দেওয়া হবে। এখানে তো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।

    এসময় তিনি বলেন, একটা মন্তব্যের কারণে অনেকে দুঃখ পেয়েছেন, আর সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী সংসদে তার বক্তৃতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    যারা সরকারকে বিব্রত করতে চাচ্ছে তাদের জন্য কী বার্তা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। আমরা দু-একটি জেলায় ও ঢাকার দু-একটি স্পটে দেখেছি, তাদের সংখ্যা বেশি না যারা এগুলো নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। হয়তো মিডিয়াতে এসেছে, এ জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।