রাজনীতি

  • মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি মনে করেন, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য ভালো ‘পারফর্ম’ করতে পারছেন না, তাহলে তাঁর জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেবেন। তবে এটি সরকারের ১৮০ দিনের পর, নাকি আরও সময় লাগবে, সেটা নিশ্চিত নয়। এসব কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হওয়ার আলোচনা আছে কি না? এ প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন। একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। যেটুকু ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, ওনার (প্রধানমন্ত্রী) যদি কখনো মনে হয়, কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না, তাঁর জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দেওয়া, এগুলো যদি প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি করবেন। কারণ, দিন শেষে জনগণের কল্যাণ সাধন করা…প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কোনো চয়েস বা সিদ্ধান্ত আরও বেটার করার সুযোগ যদি থাকে, তিনি সেটা করবেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এটা মনে হয়েছে। এটা এখন ১৮০ দিনের (সরকারের ১৮০ দিন) পরপর হবে, নাকি তার চেয়ে একটু সময় লাগবে, এটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।’

    সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রোধে আইনগত বিষয় দেখভালের জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন উপদেষ্টা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ।

  • দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন তিনি।

    সাক্ষাতে জুলাই আন্দোলনে হাবিবুর রহমানের ভূমিকা, তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই আন্দোলনে আহত হাবিবুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান তিনি।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলের জন্য তোমার যে অবদান, তা দল কখনো ভুলবে না। তুমি যেভাবে দলের জন্য সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছ, ইনশাআল্লাহ দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।’

    আন্দোলনের সময়কার শারীরিক যন্ত্রণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি যে যন্ত্রণা নিয়ে আজও বেঁচে আছ, সেই যন্ত্রণা আমিও এখনো বহন করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।’

    হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের অগ্রসারির একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

    হাবিবুর রহমান জানান, আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এখনো তাঁকে শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কীভাবে যে এখন বেঁচে আছি, সেই কষ্ট আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না।’

    তিনি বলেন, ‘দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, রাস্তায় থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাকে দোয়া করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং বলেছেন—আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে।’

    হাবিবুর রহমান এর আগে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

    দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

    যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ; এটি সমাজে মমত্ববোধ ও একাত্মতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুবাইদা রহমান বলেন, জাতীয় যেকোনো দুর্যোগের সময়ে সবার আগে মানুষের কথা ভাবতে হবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক সহযোগিতাই সমাজে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

    জুবাইদা রহমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে সাহস তাঁরা দেখিয়েছেন, তা সবার জন্য অনুপ্রেরণার।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা দেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা। তিনি আগুনে দগ্ধ শিশুদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারানো শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকেরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা মানবিক সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকেরাও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের স্কিন ব্যাংক ও চিকিৎসাসেবার মানের প্রশংসা করেছে।

    নিহত ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. জুবাইদা রহমান তাঁদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন।

    সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এককভাবে এই ব্যয় বহন করা কঠিন। তাই বার্ন প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, উন্নত দেশগুলো সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে।

    তিনি ২১ জুলাইকে সরকারিভাবে ‘বার্ন সচেতনতা দিবস’ ঘোষণা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের সব দগ্ধ রোগীর জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ ও সম্পূর্ণ অটোমেটেড হাসপাতাল ব্যবস্থার কাজ চলছে জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট দেশের প্রথম সম্পূর্ণ অটোমেটেড হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করতে পারবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এবং ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুনুর রশীদসহ অনেকে।

    স্মরণসভায় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনায় উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অবদান রাখা কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

  • সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। তিনি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

    শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। অপর আসামিদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কান্নায় আদালতকক্ষেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত অনেক আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

    সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষ সাক্ষীকে জেরা শুরু করে। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জেরার পরবর্তী তারিখ আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেন। একই শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।

    উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

  • জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান

    জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান

    সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার সকাল থেকে দুদকের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা শুরু করে।

    দুদকের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মুখপাত্র তানজীর আহমেদ সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সোমবার সকালে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ির ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িতে থাকা মালামালের জব্দ তালিকা করা হচ্ছে।

    গত ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

    জিয়াউল আহসান সবশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে আলোচিত ও প্রভাবশালী ছিলেন এই কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

  • আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে স্পেনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে লিওনেল মেসিরা যেন পায়ে কোনো বলই পাননি! আর্জেন্টিনার এমন হারে মন ভেঙেছে লাখও সমর্থকের।

    এদিকে, প্রিয় দল হারতেই সব দোষ বিরোধীদল তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ বিশ্বাসের কাঁধে চাপালেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

    ফাইনালের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই টালিউড তারকা বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হতে পারি, মেসি ভক্ত হতে পারি, তবে আজকে ব্রিলিয়ান্টলি যারা খেলেছে, তারাই জিতল। দুঃখ হচ্ছে, অনেকে অনেক কথা বলছে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে সয়ে নিচ্ছি। আবার পরের ওয়ার্ল্ডকাপে দেখা হবে। তখন না হয় কথা হবে।’

    এরপর রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলছে যে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যদি মেসির না দেখা হত, তাহলে রেজাল্ট অন্যরকম হত। দুঃখ পেয়েছি, কী আর করা যাবে!’

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় পা রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। সেসময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া চরম অব্যবস্থা এবং ভিআইপি সংস্কৃতির তাণ্ডব এখনও স্থানীয়দের স্মৃতিতে দগদগে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও ভক্তরা প্রিয় তারকাকে ভালো করে দেখতে পাননি বলে বিক্ষোভ শুরু করেন। মেসিও নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন সেই অব্যবস্থার কারণে।

    এরপর অনুষ্ঠানস্থলে চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশ ও সামনের দিকে থাকা দর্শকদের দিকে বোতল ছোঁড়া হয়। গ্রেপ্তার হন ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। যদিও লিওনেল মেসির আবারও কলকাতা সফরের গুঞ্জন রয়েছে।

  • ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের কার্যক্রম কতটুকু এগোচ্ছে তা জানতে বৈঠকে করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সরকার গঠনের পর তারেক রহমান তার নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেন।

    বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রী সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

    প্রধানমন্ত্রী সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. রাশেদ খাঁন। গতকাল রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজ সোমবার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রজ্ঞাপন যোগ করে এক পোস্টে রাশেদ খাঁন নিজেই জানিয়েছেন।

    নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাশেদ খাঁন। দায়িত্ব সঠিকভাবে যাতে পালন করতে পারেন সে জন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।

    ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

    গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। এরপর ঝিনাইদহ–৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি।

  • মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দরবার শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একই অপরাধে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই। তাই তাকে বেসামরিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সেনা আইনের আওতায় বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর অবসরপ্রাপ্ত মোজাফফর ও তার অন্য সহযোগীদের যে বিচার, সেটা তখনকার সময়ে সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু ফাইন্ডিংস আছে। তিনি পলাতক ছিলেন, দীর্ঘ দিন ভিন্ন নাম ধারণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘দেশে আসার পরে আমরা যখন জানতে পেরেছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে। আগে একই মামলায় যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, না দিলে হুমকি দেওয়া হয় প্রাণে মেরে ফেলার। ওই ব্যবসায়ী ছিলেন দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার। টাকা না দেওয়ায় চার দিনের মাথায় তাঁর কার্যালয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা ওরফে বাপ্পির নাম।

    পুলিশের দাবি, মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতে আলোচিত নাম তানিম রেজা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও পরিচয় বদলালেও বদলায়নি অপরাধের ধরন। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন, ফুটপাত, ময়লা, ইন্টারনেট ও কেব্‌ল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    পরিচয় বদল, অভিযোগ একই

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব ‘শুটার বাহিনী’ দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিজেও অস্ত্র রাখতেন।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তানিম রেজা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের হয়ে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাজ ছিল ঠিকাদারদের অস্ত্রের ভয় দেখানো, চাঁদা আদায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের দরপত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব শুটার বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন।

    পুলিশের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন তানিম। এরপর নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং ওই পরিচয়ে মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময় থেকে বাস কাউন্টার, ফুটপাত এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন তানিম। কমলাপুরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ঢাকা–কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচ পরিবহনের শেয়ারের একটি অংশ দখলে নিয়ে ব্যবসায় নামেন তিনি।

    শুধু ব্যবসায়ী নন, মতিঝিল থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তানিমের বিরুদ্ধে।

    ময়লা থেকে ইন্টারনেট, নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মতিঝিল এলাকায় ময়লা–বাণিজ্য, ফুটপাত, ফ্ল্যাট, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত ছিলেন তানিম রেজা। সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পলাতক ব্যক্তির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও তিনি নেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

    মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

    —মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, উপকমিশনার, মতিঝিল বিভাগ ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য, মতিঝিল, সবুজবাগ ও কমলাপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্রের ব্যবসাও তাঁর নির্দেশে পরিচালিত হতো। এসব কর্মকাণ্ডে মতিঝিলের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। একইভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম আসা বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাতেও কোনো না কোনোভাবে তানিম রেজার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।

    শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হাত ধরে অপরাধজগতে

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। জিসান দেশ ছেড়ে এখন আছেন দুবাইয়ে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। বর্তমানে জিসান দুবাইয়ে পলাতক।

    জিসানের সহযোগী হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে তানিম সহযোগী ছিলেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের তাঁরা অস্ত্রের ভয় দেখাতেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তানিম রেজাদের এই সশস্ত্র তৎপরতার কারণেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া দীর্ঘ সময় দরপত্র নিয়ন্ত্রণে নিজেদের রাখতে পেরেছিলেন।

    ডিএমপির কর্মকর্তাদের দাবি, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়েছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত জিসান এবং আরেক পলাতক সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের সঙ্গে এখনো তানিম রেজার যোগাযোগ থাকার তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    ভয় দেখানোর অস্ত্র ছিল ‘শুটার বাহিনী’

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সাত থেকে নয়জনের একটি ‘শুটার বাহিনী’ গড়ে তুলেছিলেন তানিম রেজা। বাহিনীর সদস্যদের কাছে অন্তত সাতটি ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ী বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে প্রয়োজন হলে তাঁদের দিয়ে গুলি চালানো হতো।

    তানিমকে গ্রেপ্তারের পর ইস্টার্ন কমলাপুর হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি কুড়াল উদ্ধারের কথা এরই মধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার তানিমের পাশাপাশি রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    —হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী, সহকারী কমিশনার, মতিঝিল অঞ্চল, ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তানিমের হয়ে মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন রাকিবুল ইসলাম। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন লিখন ও জাহিদ হাসান নামের দুজন। আদর ও জিতু নামের দুজন শুটার ভয় দেখাতে গুলি চালানোর কাজে অংশ নিতেন।

    লিখন, জাহিদ, আদর ও জিতুকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার তানিম রেজা ও তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা দেশি–বিদেশি অস্ত্র ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

    ১০ লাখ টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলি

    পুলিশের তথ্য বলছে, গত ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ১৯ মে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘এআই কার্গো সার্ভিস’–এ একদল সন্ত্রাসী গুলি চালায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

    এরপর ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ঘটনার পর তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর ১৭ জুলাই সকালে রাজধানীর পূর্বাণী হোটেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাকিবুলসহ তাঁর চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) ও মানিক কাজী (৫০)। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    তানিম রেজাকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    তানিম রেজা ওরফে বাপ্পী। শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

    দুই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ সাত মামলা

    ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আগে থেকে আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়।

    এ ছাড়া ২০০৩ সালের ১৫ মে মালিবাগের সানরাইজ আবাসিক হোটেলে অভিযানের সময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নুরুল আলম শিকদার ও উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ার ও জিসানের পাশাপাশি তানিম রেজার নামও এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের করা মামলায় তানিম ও রাকিবুলকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, পলাতক সহযোগী, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং চাঁদাবাজ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

    এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের পর তানিম ও রাকিবুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মতিঝিল থানায় আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।