রাজনীতি

  • দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে। তিনি দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছি। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্রময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

    ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

    সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।

    তারেক রহমান বলেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন।

    তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি।

    তিনি বলেন, তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।

    তারেক রহমান বলেন, তাই আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি।

    তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।

    একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি।

    এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

    ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ’ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।

    সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।

    তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    তারেক রহমান বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি।

    প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

    সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

    সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

  • পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    • অসুস্থতাকে পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে।
    • বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।
    • সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে সরকার ও দলে আলোচনা।
    • পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িক দায়িত্ব পালন করবেন।
    • ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

    সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।

    বঙ্গভবন

    মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রথম আলোকে জানান।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    এ পদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

    যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে

    সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

    এর মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

    গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

    পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।

    সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সময়েই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও প্রকাশ্যে আসে। দুদকের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তখন এই দুটি ব্যাংকের মালিক ছিল আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম। ব্যাংক দুটিতে তখন সবচেয়ে ব্যাপক লুটপাট হয়।

    তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    ইসলামী ব্যাংকের পদে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকার। ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা মিলে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা ছিল। তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়েন কি না, তা দেখতে ক্ষমতাসীন দল কিছুটা সময় নিয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের মনোভাব জানানো হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

  • ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    মোদি সরকারের কোনো প্রকার সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। যখনই কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ ওঠে, তা নিয়ে অভিনেত্রীর মুখের আগল খুলে যায়। আরও একবার তার প্রমাণ মিলল শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে।

    গত সোমবার লোকসভা অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাদের। এমনিতেই মাসখানেক ধরে ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে একই দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানে বসেছে। সেখানে অনশন ধর্মঘটে ছিলেন সোনম ওয়াং চুক। সব মিলিয়ে দিল্লি উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মুখ খুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। ককরোচ জনতা পার্টি তথা তরুণদের এই প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন একেবারে তাঁর নিজস্ব চেনা কায়দায়।

    এ তথ্যের পাশাপাশি আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বক্তব্য, কে পদে থাকবেন আর কে থাকবেন না, বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা ঠিক করা যায় না।

    সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, জনস্বার্থের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঠিক জায়গা হলো সংসদ। নিট প্রশ্ন-ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারি।’

    বিক্ষোভের জেরে সংসদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি কঙ্গনার। তাঁর বক্তব্য, ‘জনগণ ভোট দিয়ে যে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, সেই সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা ঠিক নয়। সরকার কীভাবে দেশ চালাবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদের রয়েছে। যদি এতই আপত্তি থাকে, তা হলে নিজেরাই নির্বাচনে দাঁড়ান। জানি সেই সাহস কারও নেই। তাই ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবেন। কারণ, এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি।

    বাকি সবই বাইরে থেকে ধার করা।’ এমন বক্তব্যের জেরে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েছেন কঙ্গনা। অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ নয় বলেই দাবি করছেন তারা।

  • ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এ দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক- তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন- বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।

    তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।

    কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

    ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

  • একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুরের সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন এবং দেশের মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ।

    বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো—সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (প্রথম সংশোধন), বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।

    এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধন) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন) অনুমোদন পেয়েছে।

    জ্বালানি খাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার নতুন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

    সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিভিন্ন মহাসড়ক উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড সম্প্রসারণ এবং বিটাকের নতুন কেন্দ্র স্থাপনের মতো উদ্যোগ রয়েছে।

  • যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে, দালালরা ফের সক্রিয় হয়: মঞ্জু

    যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে, দালালরা ফের সক্রিয় হয়: মঞ্জু

    আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ৫ মের নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে মরেছে। মা-বোনেরা ঘরে বসে কেঁদেছেন, দোয়া করেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের ঘটনা কেন্দ্র করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাস্তায় নেমেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এটাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা ও তাৎপর্য।

    বুধবার (২২ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এবি পার্টি আয়োজিত ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়ে আবার সংগঠিত হয়। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন।

    মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়। এরপর নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামলে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়।

    খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আলেম-ওলামারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন এসেছে।’

    তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে ছিল।

    ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।

    খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।

    আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ এবং মো. আলিফ।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে।সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের কর্মজীবনের সাফল্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    একই সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে বিদায়ী নৌ প্রধানকে নিয়ে মধ্যহ্নভোজ করেন।

    ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই নৌ বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এম নাজমুল হাসান।নাজমুল হাসান ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই কমিশন লাভ করেন। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন স্টাফ, ইস্ট্রাকশনাল এবং কমান্ড দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

    এছাড়া তিনি নৌ সদরে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স), সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (পার্সোনেল), পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও নৌ গোয়েন্দা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অসামরিক-সামরিক সংযোগ পরিদফতরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ওমর ফারুকসহ চারটি যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপিসহ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মার্কিন প্রতিনিধি দলে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক সেলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

    আলোচনার একপর্যায়ে এনসিপি নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদল এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

    এছাড়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
    এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

    গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
    বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্ট রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    দলটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

    সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের আগের একটি বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

    র‌্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের আ ফ ম নিজাম উদ্দিন এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।