ফুটবল

  • ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    স্পেন–আর্জেন্টিনা ফাইনালের পর মাঠের অন্যতম আলোচিত চরিত্র কোনো খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের সদস্য নন, লামিনে ইয়ামালের ভাই কেইনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপজুড়ে প্রচারমাধ্যমের আলোয় থাকা কেইনেকে ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীর আগে মাঠজুড়ে ঘুরে নানা কাণ্ড–কীর্তিতে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ছবিতে দেখুন মজার সেসব দৃশ্য।

    ১ / ১৫

    কেইনে ইন মুড …রয়টার্স

    ২ / ১৫

    বল পায়ে নিয়ে একটু খেলা যাক রয়টার্স

    ৩ / ১৫

    দূরপাল্লার শট …রয়টার্স

    ৪ / ১৫

    উদ্‌যাপনে ভাই না হলে কি চলে! রয়টার্স

    ৫ / ১৫

    ভাইয়ের গলায় ওটা কী? দেখি তো! রয়টার্স

    ৬ / ১৫

    কেইনেও তারকা। ফটোগ্রাফারদের ভিড়েও খেলায় মনোযোগ রয়টার্স

    ৭ / ১৫

    গোলের জাল কেটে নিচ্ছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কেইনেরও একটু দরকার রয়টার্স

    ৮ / ১৫

    নেট এনে নিউইয়র্ক পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে খুনসুটি কেইনের রয়টার্স

    ৯ / ১৫

    পুলিশও কম যায় না, মাথার ক্যাপ পরিয়ে দিলেন কেইনের মাথায়র রয়টার্স

    ১০ / ১৫

    সবাই ব্যস্ত যাঁর যাঁর মতো। কেইনে ব্যস্ত ফাঁকা পোস্ট আর ছেঁড়া জালে গোল দেওয়ায় রয়টার্স

    ১১ / ১৫

    গোওওওওল …

    ১২ / ১৫

    ভাই এক পাশে, অন্য পাশে বল নিয়ে কেইনে রয়টার্স

    ১৩ / ১৫

    বিশ্বকাপের মাঠে সমবয়সী একজনকে পেয়ে গেছে কেইনে রয়টার্স

    ১৪ / ১৫

    শরীরের তুলনায় বলের আকার ছোটখাটো নয় রয়টার্স

    ১৫ / ১৫

    কার দিকে তাকিয়ে এত হাসি কেইনের? রয়টার্স

  • বিশ্বকাপ জয়ে উচ্ছ্বসিত সিয়াম আহমেদ

    বিশ্বকাপ জয়ে উচ্ছ্বসিত সিয়াম আহমেদ

    স্পেন দলের সমর্থক ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসর এলেই প্রিয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা তিনি প্রকাশ করেন নেটদুনিয়ায়। এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার।

    ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হার নিশ্চিত হওয়ার পর ফেসবুকে স্ত্রীর সঙ্গে একটি রিলস শেয়ার করেন সিয়াম। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ভালো খেলছ- এটা বলা যাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। এটা প্রত্যাশা করে স্পেন।

    পোস্টের ক্যাপশনে ছিল শুধু স্পেনের পতাকার ইমোজি, যা দিয়েই দলের প্রতি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

    বলে রাখা যায়, বাংলাদেশে যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যাই বেশি, সেখানে অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ব্যতিক্রম। ২০০৭ সাল থেকে তার প্রিয় দল স্পেন।

    মূলত ডেভিড ভিয়ার খেলা দেখেই দলটির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল। তার গতি, গোল করার অসাধারণ দক্ষতা এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে এই অভিনেতাকে। এরপর ধীরে ধীরে স্পেন দলের খেলা নিয়মিত অনুসরণ করতে শুরু করেন তিনি।

    সিয়ামের কথায়, ‘সেই সময় স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাদের নিখুঁত পাসিং ফুটবল, বল দখলে রাখার কৌশল এবং দলগত সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। ডেভিড ভিয়া, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজদের সেই প্রজন্মের খেলা আজও স্মৃতিতে ভাসে। তাই এত বছর পরও স্পেনই আমার প্রিয় দল আর তাদের সাফল্য আমাকে সবসময় আনন্দ দেয়।’

  • ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। অবিশ্বাস্য এই ফাইনাল শেষে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মনে হয়েছে, ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।

    রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

    ম্যাচ শেষে ফিফার সম্প্রচারমাধ্যমকে তোরেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই গোলটি শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়, স্পেনের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। এই শিরোপা আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আজ আমরা আমাদের দেশের মানুষ থেকে অনেক দূরে আছি, কিন্তু যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল সব সময়ই কঠিন হয়। প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন অবশ্যই কিছুটা দুশ্চিন্ত থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, সেটি আমরা আবারও করে দেখাতে পেরেছি।’

    গোলের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোল করতে পেরে বিশাল স্বস্তি পেয়েছি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি সব সময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন। আর শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মানুষদেরই প্রাপ্য জিনিসটি দেন, যারা সত্যিই তার যোগ্য।’

  • বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার ১–০ গোলে হারের সঙ্গে আপাতত শেষ হয়ে গেল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির ‘বিয়ের পরিকল্পনাও’। ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি মজাচ্ছলে বলেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

    পরীমনিছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    পরীমনির এমন মন্তব্যেও সাড়া পড়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে ৫২ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, মন্তব্যের ঘর বন্ধ থাকায় শেয়ার হয়েছে পোস্টটি। কথা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে যেন বিয়ের আগেই সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেল। আর্জেন্টিনার জন্য মনটা খুব খারাপ। কারণ, এই দলের সঙ্গে ইমোশন ও ভালোবাসা—দুটোই জড়িয়ে আছে। তবে আমি মনে করি, হার মানেই শেষ নয়, নতুনভাবে শুরু করাও। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, তোমাদের জন্য অপেক্ষা থাকবে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নিশ্চয়ই তোমরা আরও দারুণভাবে ফিরে আসবে। আর মেসি তো একটা মায়া, তার জন্য মন থেকে ভালোবাসা।’

    এদিকে বিশ্বকাপের পুরো সময়টায় আর্জেন্টিনার সমর্থনে সরব ছিলেন পরীমনি। দলের প্রতিটি জয় উদ্‌যাপন করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কখনো আকাশি-সাদা জার্সি পরে ভিডিও বানিয়েছেন, কখনো আবার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন পোস্টে।

    চিত্রনায়িকা পরীমনির বিয়ের ঘোষণা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট আলোচনায় আসে গত বুধবার দিবাগত রাতে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’ মজার ছলে দেওয়া সেই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েক লাখ প্রতিক্রিয়া ও হাজার হাজার শেয়ারে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

    পরীমনিফেসবুক থেকে

    ফাইনালের আগে সেই পোস্ট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেও পড়েছিলেন পরীমনি। গতকাল রোববার দুপুরে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব।’

    শুধু তা–ই নয়, বিয়ের পথে আরেকটি বড় বাধার কথাও তুলে ধরেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।’

    তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন যেমন পূরণ হয়নি, তেমনি আপাতত সত্য হচ্ছে না পরীমনির সেই বহুল আলোচিত বিয়ের ঘোষণাও। তাই ফাইনাল শেষে অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াতেই যেন ধরা পড়েছে আর্জেন্টিনা-ভক্তের আক্ষেপ—‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

  • ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে কোথায়

    ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে কোথায়

    ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল কোন স্টেডিয়ামে হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও ক্যাম্প ন্যুর পাশাপাশি এখন জোরালোভাবে উঠে এসেছে মরক্কোর নির্মাণাধীন গ্র্যান্ড হাসান স্টেডিয়ামের নাম। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, তবে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। ঐতিহ্য, অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে শুরু থেকেই ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। তবে মরক্কো নতুন করে সমীকরণ বদলে দিতে চাইছে নির্মাণাধীন ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হাসান স্টেডিয়ামকে সামনে রেখে।

    মরক্কোর এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হচ্ছে বেনসলিমানেতে। এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশটির সরকার জানায়, স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ট্যাঙ্গিয়ার, কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত, আগাদির, মারাকেশ ও ফেজের স্টেডিয়ামগুলোকে ফিফার মানে উন্নীত করতে ৬০০০ কোটি টাকার ওপরে খরচ হবে।

    বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। চলতি বছরের জুনে তিনি আবারও সভাপতি নির্বাচিত হন। ফিফার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপ নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আপত্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি, যা ফিফার জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

    তবে নেপথ্যে একটি সমঝোতার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে পারে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, আর একটি সেমিফাইনাল হতে পারে মরক্কোর হাসান স্টেডিয়ামে। এর বিনিময়ে ২০২৯ ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে মরক্কো। প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো।

    অন্যদিকে, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মরক্কোকে ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ করে দিতে জোরালো লবিং চলছে। একই সঙ্গে স্পেনের পক্ষ থেকে ফাইনালের আয়োজক হওয়ার দাবিতে এখন পর্যন্ত তেমন শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় ফিফাও বিস্মিত বলে আলোচনা রয়েছে।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে মরক্কো। স্টেডিয়াম উন্নয়নেই দেশটি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে তারা। ২০২৩ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করে মরক্কো, যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

    স্পেনও অবশ্য পিছিয়ে নেই। ২০২৩ সালে মোটা টাকা খরচ করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছে রিয়াল। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ৮৪ হাজার। অন্যদিকে সংস্কার শেষ হলে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে একসঙ্গে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক বসতে পারবেন।

    এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মার্কা দাবি করেছিল, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই হবে এবং এ বিষয়ে পর্তুগাল ও মরক্কোরও সম্মতি রয়েছে। তবে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেনি। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্পেনে হবে, নাকি মরক্কোর নতুন সুপারস্টেডিয়ামে—সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতেই হবে।

  • আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে স্পেনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে লিওনেল মেসিরা যেন পায়ে কোনো বলই পাননি! আর্জেন্টিনার এমন হারে মন ভেঙেছে লাখও সমর্থকের।

    এদিকে, প্রিয় দল হারতেই সব দোষ বিরোধীদল তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ বিশ্বাসের কাঁধে চাপালেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

    ফাইনালের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই টালিউড তারকা বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হতে পারি, মেসি ভক্ত হতে পারি, তবে আজকে ব্রিলিয়ান্টলি যারা খেলেছে, তারাই জিতল। দুঃখ হচ্ছে, অনেকে অনেক কথা বলছে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে সয়ে নিচ্ছি। আবার পরের ওয়ার্ল্ডকাপে দেখা হবে। তখন না হয় কথা হবে।’

    এরপর রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলছে যে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যদি মেসির না দেখা হত, তাহলে রেজাল্ট অন্যরকম হত। দুঃখ পেয়েছি, কী আর করা যাবে!’

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় পা রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। সেসময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া চরম অব্যবস্থা এবং ভিআইপি সংস্কৃতির তাণ্ডব এখনও স্থানীয়দের স্মৃতিতে দগদগে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও ভক্তরা প্রিয় তারকাকে ভালো করে দেখতে পাননি বলে বিক্ষোভ শুরু করেন। মেসিও নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন সেই অব্যবস্থার কারণে।

    এরপর অনুষ্ঠানস্থলে চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশ ও সামনের দিকে থাকা দর্শকদের দিকে বোতল ছোঁড়া হয়। গ্রেপ্তার হন ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। যদিও লিওনেল মেসির আবারও কলকাতা সফরের গুঞ্জন রয়েছে।

  • ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    দীর্ঘ লড়াই শেষে স্পেনের জয়ের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা আসরের। জমজমাট এই আয়োজন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে এর আয়োজক ফিফা। রেকর্ড ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট থেকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ আয় হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শনিবার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী ফিফার এই মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

    আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি:

    ফিফা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা। বিশেষ করে চড়া দামের ‘সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট’ থেকে আয়ের বড় অংশ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন আদায় করে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবারও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিট পোর্টালে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজ হিসেবে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ ডলারে (প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    সদস্য দেশগুলোর লাভ ও ইনফান্তিনোর অবস্থান:

    বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বাম্পার রেভিনিউ বা রেকর্ড রাজস্বের সুবিধা ফিফার সদস্যভুক্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে সেই সম্পর্কিত চূড়ান্ত বিবরণী এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে মাসব্যাপী আয়োজিত বিতর্কের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থানকে ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের বিষয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে ফিফা নতিস্বীকার করেছে এমন অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর (এফএ) মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুবাদে অসন্তুষ্ট দেশগুলোও হয়তো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাবে না।

    এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে। পরবর্তী খালি থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার দেশ আবারও এটি আয়োজন করতে ইচ্ছুক এবং এবার তারা কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়া এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    স্পেনের উল্লাসে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে। কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই উৎসবের মধ্যেও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলো লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আলিঙ্গন। মুহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়। একজন নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যজন সদ্য হারানো স্বপ্নের ভারে নুয়ে পড়া কিংবদন্তি; দুই প্রজন্মের এই সাক্ষাৎ ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।

    অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পর যখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত স্প্যানিশ ফুটবলাররা, তখন ইয়ামাল সবার কাছ থেকে সরে গিয়ে মাঠের এক পাশে বসে থাকা লিওনেল মেসির দিকে হাঁটতে শুরু করেন।

    ৩৯ বছর বয়সি মেসি তখন নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ের বেদনায় ডুবে ছিলেন। ইয়ামাল তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মেসি উঠে দাঁড়ান। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছুক্ষণ ব্যক্তিগত কথা বলেন। কী কথা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি কেউ। তবে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

  • মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজার আগে গ্যালারির প্রতিটি চোখ একবার হলেও খুঁজে নেবে একটা মুখ। সেটি আর কেউ নন। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ঊনচল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে দাঁড়ানো এই মানুষটার জন্য রাতটা যেন এক দীর্ঘ জীবনের বৃত্ত পূর্ণ হওয়ার মুহূর্ত।


    ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে উনিশ বছরের এক কিশোর হয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপে সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল হেরে চোখের জলে ভাসিয়েছিলেন গোটা আর্জেন্টিনাকে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও গল্পের পূর্ণতা দিতে পারেননি। ২০২২ কাতারে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন। হাতে তুলেছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফি। যা ছিল তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ আক্ষেপ। ২০২৬ সালে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে বসে গেছেন। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা হাতে গোনা কজনের একজন মেসি। তবে রোনালদো নিজের শেষ বিশ্বকাপের কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। মেসি মুখ ফুটে বলেননি এখনো। কিন্তু এই বয়স, এই শরীর নিয়ে চার বছর পর আবার একই মঞ্চে ফেরা কতটা সম্ভবÑউত্তরটা সবাই জানেন, শুধু স্বীকার করতে চান না কেউ।


    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সামান্য পেশির চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল আর্জেন্টিনা শিবির। কোচ লিওনেল স্কালোনি খোলাখুলি কিছু না বললেও, পুরো আসরে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে মেসিকে খেলাতে হয়েছে তাকে। তারপরও মাঠে যা দেখিয়েছেন তিনি, তা রূপকথার কাছাকাছি। এই বিশ্বকাপে করেছেন নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। শরীর হয়তো আর আগের মতো নেই, কিন্তু চোখ আর পায়ের জাদু এখনো অটুট। এই বৈপরীত্যই যেন মেসির শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক।


    আটবার ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। যা আজও কেউ ছুঁতে পারেননি। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে জিতেছেন প্রায় সবকিছু। তবু দীর্ঘদিন সমালোচকরা বলতেন, বিশ্বকাপ ছাড়া তার কীর্তি অসম্পূর্ণ। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেই অপবাদ ঘুচিয়েছিলেন তিনি। আজ যদি আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতে, তাহলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের টানা দুই শিরোপার পর ৬৪ বছরে এই কীর্তি গড়া প্রথম দল হবে আর্জেন্টিনা। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হবেন মেসি নিজেই। ২০১৪ সালে মারাকানায় ফাইনাল হেরে ট্রফির মঞ্চে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা মেসির সেই ছবি আজও ভাসে আর্জেন্টাইনদের চোখে। বছরের পর বছর সেই ব্যর্থতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হেরে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। সেই মানুষটাই আজ ঊনচল্লিশ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আছেন ফাইনালের মঞ্চে। হয়তো শেষবারের মতো। প্রতিটি ম্যাচ এখন তার কাছে যেন বাড়তি এক উপহার। বাড়তি সময়। যা পাবেন কিনা তা নিয়ে নিজেও কখনো নিশ্চিত ছিলেন না।


    মেসির এই দীর্ঘ পথচলায় বড় অনুপ্রেরণা স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। ছোটবেলার বন্ধু থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠা আন্তোনেলা মেসির ছায়া হয়ে ছিলেন সবসময়। ক্লাব ফুটবল হোক বা বিশ্বকাপ-গ্যালারিতে থেকেছেন তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে। ২০২২ সালে কাতারে ট্রফি হাতে মেসির উদযাপনের সেই আইকনিক দৃশ্যে পরিবারের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে আছে। আজ রাতেও, ফলাফল যাই হোক না কেন, গ্যালারির সেই চেনা মুখগুলোই হয়তো সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করবে সময়ের এই বাঁকবদল।
    আর্জেন্টিনার রাস্তায়, বুয়েন্সে আয়েন্সের ক্যাফেতে, রোজারিওর অলিগলিতেÑমেসির জন্মশহর জুড়ে আজ রাতের অপেক্ষা যেন নিঃশ্বাস আটকে রাখা এক উৎকণ্ঠা। আটলান্টার গ্যালারিতে থাকা এক আর্জেন্টাইন সমর্থক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি চান না মেসি অবসর নিন, কারণ তার খেলা দেখে মনে হয় তিনি এখনো পঁচিশ বছরের তরুণ। শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ঢাকার অলিগলি থেকে গ্রামের পাড়া পর্যন্ত নীল-সাদা জার্সির উন্মাদনা প্রমাণ করে মেসি কোনো একটা দেশের সম্পত্তি নন, তিনি গোটা বিশ্ব ফুটবলের।
    দিয়েগো মারাডোনার উত্তরসূরি হওয়ার যে বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন মেসি, সেই তুলনার ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। পেলে-মারাডোনা-মেসি-এই ত্রয়ীর মধ্যে তার নাম উচ্চারিত হয় নির্দ্বিধায়। আর্জেন্টিনা ফাইনাল জিতুক বা হারুক, মেসির কীর্তি ফুটবলের পাতায় খোদাই হয়ে থাকবে চিরকাল। তবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে বসিয়ে দেবে এমন এক মুকুটÑযা তাকে চিরতরে পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাবে। মেটলাইফের কয়েক ঘণ্টা স্রেফ একটা ফাইনাল নয়। এটা একটা বিদায়ের প্রস্তুতি, একটা কীর্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা, আর কোটি ভক্তের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা এক নামের অধ্যায়। যার হয়তো কোনো শেষ নেই।

  • ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ মাঠে বসে দেখতে মরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম টিকিট সংকট। পুনর্বিক্রির বাজারে একটি টিকিটের দাম উঠেছে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার। যার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেও কমেনি টিকিটের চাহিদা। টিওয়াসি স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, স্টাবহাব ও টিকিটমাস্টারের মতো পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে সর্বনিম্ন টিকিটের দামই শুরু হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাধারণ টিকিটের সুযোগ এরই মধ্যে প্রায় শেষ। এখন অবশিষ্ট আছে কেবল হসপিটালিটি বা ভিআইপি ক্যাটাগরির টিকিট, যার দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে-বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ। টিকিট সংকটের এই চিত্র শুধু স্টেডিয়াম চত্বরেই সীমাবদ্ধ নেই, দেখা গেছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও।

    সেখানে অনেক সমর্থককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ‘টিকিট চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে। এই ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য যেকোনো অঙ্কের অর্থ খরচ করতেও প্রস্তুত তারা। আবার অনেকে অপেক্ষায় আছেন শেষ মুহূর্তে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার আশায়। ফাইনালকে ঘিরে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা ও স্পেন-দুই দলেরই সমর্থকরা। তবে সংখ্যায় স্পষ্টতই এগিয়ে ছিলেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।

    লিওনেল মেসিদের সমর্থনে মুহূর্তেই যেন বুয়েনস আয়ার্সে রূপ নেয় নিউইয়র্কের এই বিখ্যাত চত্বর। মজা করে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডেও একে ‘আর্জেন্টাইনস স্কয়ার’ নামে দেখানো হয়। আর্জেন্টাইনদের এই দাপুটে উপস্থিতির মধ্যেও নিজেদের মতো করে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন স্পেনের সমর্থকরাও। বৃষ্টিও বাধা হতে পারেনি দুই দলের সমর্থকদের উদযাপনে।