ফুটবল

  • রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে রোদ্রিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইয়ান দিওমান্দের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মার্কা’–এর দাবি, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস ৩০ বছর বয়সী রোদ্রিকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনায় এরই মধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালের প্রধান কোচ হোসে মরিনহো প্রথমে মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে এনসো ফের্নান্দেস এবং মাতেউস ফের্নান্দেস সহ আরও কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রোদ্রিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে রোদ্রির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গোল্ডেন বল জেতা এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।

    রোদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ৬ কোটি ইউরোর বিনিময়ে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করছে রিয়াল মাদ্রিদ।

  • নাম বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন বিশ্বকাপ কাঁপানো ‘ভোজিনহা’

    নাম বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন বিশ্বকাপ কাঁপানো ‘ভোজিনহা’

    ২০২৬ বিশ্বকাপে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স করে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ‘ভোজিনহা’। বিশ্বকাপের সেই পারফরম্যান্সে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কলো-কলোতে। তবে নতুন ক্লাবে নিজের পরিচিত ডাকনামটি জার্সিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তিনি।। চিলির প্রিমেরা ডিভিশনের কঠোর নিয়মের কারণে চিলিয়ান ক্লাবে খেলার জন্য এখন নাম বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

    চিলিয়ান প্রিমেরা ডিভিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফুটবলার নিজের জার্সির পেছনে কোনো ধরনের ‘ডাকনাম’ ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নিয়ম অমান্য করে কোনো খেলোয়াড় মাঠে নামলে সরাসরি হলুদ কার্ড দেখবেন এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। তাই কলো-কলোর হয়ে খেলতে হলে ভোজিনহাকে নিজের আসল নাম বা পারিবারিক পদবি ব্যবহার করতে হবে।

    ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ভোজিনহা নামেই পরিচিত এই গোলরক্ষকের পুরো নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। চিলিয়ান লিগের নিয়মে পরিবর্তন না এলে আগামী মৌসুমে তার জার্সিতে ‘এভোরা’, ‘দিয়াস’ অথবা ‘এভোরা দিয়াস’ লেখা থাকবে। একমাত্র চিলিয়ান লিগের সব ক্লাবের মালিকদের সম্মতিক্রমে নিয়ম পরিবর্তন হলেই কেবল তিনি নিজের ভালোবাসার ‘ভোজিনহা’ নামটি পোশাকে ধরে রাখতে পারবেন, যা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    শুধু নামই নয়, জার্সি নম্বরেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে ভোজিনহাকে। কলো-কলোর ১ নম্বর জার্সিটি বর্তমানে গোলরক্ষক ফার্নান্দো দে পলের দখলে রয়েছে। ফলে নতুন মৌসুমে ভোজিনহাকে সম্ভবত ১৬ নম্বর জার্সি পরতে হতে পারে।

  • ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    দিদিয়ে দেশমের দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফরাসি ফুটবলের মহানায়ক জিনেদিন জিদানকেই কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর বহু চড়াই-উতরাই ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের আজন্ম লালিত স্বপ্নের চেয়ারে বসলেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। এফএফএফ অফিশিয়ালি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    জিদানের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। এর ফলে ইউরো ২০২৮ এবং ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে লে ব্লুদের ডাগআউটে দেখা যাবে সাবেক এই বিশ্বজয়ীকে।

    জিদানকে কোচ হিসেবে ঘোষণা করার পর এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি এক অসাধারণ ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেডারেশন নতুন কোনো প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পেল। আমি দেশমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই। দীর্ঘ ১৪টি বছর তিনি ফরাসি ফুটবলকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চূড়ায় ধরে রেখেছিলেন। মাঠের ফুটবলে লে ব্লুদের ভাবমূর্তি তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার অবদানকে যথাযথ সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি।’

    প্যারিসের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বাস আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জিদানও। দায়িত্ব পেয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য এক অসীম আনন্দের মুহূর্ত। আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত ও শিহরিত। এই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এটি আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’

    রিয়াল মাদ্রিদে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর বিভিন্ন নামি ক্লাবের প্রস্তাব ফেরালেও জিদানের পাখির চোখ ছিল কেবলই ফ্রান্স দলের ওপর। নিজের পুরোনো স্মৃতি ও ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জিদান আরও বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদে কোচিং পর্ব শেষ করার পর ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল আমার একমাত্র ইচ্ছা। আমি অন্য সব ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি শুধু ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য। শৈশব থেকেই এই লালিত স্বপ্নের কথা আমি জানি; ফরাসি যুব দল থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে একসময় মূল জাতীয় দলে খেলেছি, যা একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়া। এই দলের জন্য কাজ করা এবং তাদের একের পর এক জয় সুনিশ্চিত করা-এটিই এখন আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা।’

    খেলোয়াড় হিসেবে দেশের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরোজয়ী জিদান কোচিং ক্যারিয়ারেও রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। দেশমের বিদায়ের পর ডাগআউটে জিদানের মতো ব্যক্তিত্বের আগমন ফরাসি ফুটবলে এক নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, খেলোয়াড় ও ক্লাব কোচের সাফল্য তিনি ফরাসি ডাগআউটে কতটা ধরে রাখতে পারেন।

  • বার্সেলোনায় যেতে মরিয়া আলভারেজ, আতলেতিকোর ওপর ক্ষুব্ধ

    বার্সেলোনায় যেতে মরিয়া আলভারেজ, আতলেতিকোর ওপর ক্ষুব্ধ

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা আরও স্পষ্ট করেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে ক্লাব ছাড়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট জানিয়েছে, আগস্টের শুরুতেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলভারেজের দাবি, আতলেতিকো কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে কোনো বড় ক্লাব থেকে উপযুক্ত প্রস্তাব এলে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। তবে বার্সেলোনা ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়ার পরও সেটি নিয়ে আলোচনায় বসেনি মাদ্রিদের ক্লাবটি। এতে ক্লাবের অবস্থানে অসন্তুষ্ট আলভারেজ।

    ২০৩১ সাল পর্যন্ত আতলেতিকোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ফরোয়ার্ডের বাই-আউট ক্লজ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। ক্লাবটি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় দলবদল প্রক্রিয়া আপাতত অচলাবস্থায় রয়েছে। স্পোর্ট-এর দাবি, পরিস্থিতি বদলাতে এবার নিজেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার কথা ভাবছেন আলভারেজ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীনই ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আলভারেজ। তিনি বলেছিলেন, ‘ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে দলবদল সবার জন্যই ভালো হবে এবং আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত অন্য কোনো ক্লাবে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন তিনি। আর্সেনালের আগ্রহের গুঞ্জন থাকলেও সেটি আর এগোয়নি। অন্যদিকে বার্সেলোনার কোচিং স্টাফ আলভারেজকে আক্রমণভাগের জন্য আদর্শ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বার্সা কেবল তখনই নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবে, যখন আলভারেজ নিজেই আতলেতিকোর বরফ গলাতে সক্ষম হবেন।

    আগামী ১০ আগস্ট দিয়েগো সিমিওনের অধীনে আতলেতিকোর প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন আলভারেজ।

  • ফুলহামের মূল দলে অভিষেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানের

    ফুলহামের মূল দলে অভিষেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানের

    প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশের একমাত্র ফুটবলার কে? উত্তরটা সবারই কমবেশি জানা—হামজা চৌধুরী। হামজার পথ ধরে সামনের মৌসুমে আরও একজন বাংলাদেশি নাম লেখাতে পারেন। ফারহান আলী ওয়াহিদের বাংলাদেশের হয়ে এখনো অভিষেক হয়নি, তবে ক্লাব ক্যারিয়ারে আজ তাঁর দিনটি ছিল স্মরণীয়। নরউইচের বিপক্ষে আজ প্রাক্‌–মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে ফুলহামের মূল দলের অভিষেক হয়েছে এই উইঙ্গারের।

    ফুলহামের মূল দলের হয়ে নরউইচের বিপক্ষে ম্যাচে ৪৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফারহান। যদিও গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি, ম্যাচটাও ২-০ গোলে হেরে গেছে তাঁর দল। তবে স্প্যানিশ কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে মূল দলে অভিষেকটা তাঁর জন্য স্বপ্নপূরণের মতোই। রুদ্ধদ্বার বলে ম্যাচটি কোথাও দেখানো হয়নি, ফারহান কেমন খেলেছেন তা বলার উপায় নেই। তবে ফুলহামের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ফারহানের একটি বাঁকানো শট গোলকিপারের পরীক্ষা নিয়েছে।

    ২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডে জন্ম ফারহানের। বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, সিলেটি শিকড়ের—যদিও তাঁরা নিজেরাও জন্মেছেন যুক্তরাজ্যে। লন্ডনের রাস্তায় বেড়ে ওঠা একটা ছেলে, ফুটবলের প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন চেলসির একাডেমিতে। কিন্তু ২০১৯ সালে তিনি পাড়ি জমান পশ্চিম লন্ডনের আরেক ক্লাব ফুলহামে।


    এরপরের বছরগুলো ছিল ধাপে ধাপে ওঠার গল্প। অনূর্ধ্ব-১৮ দলে তাঁর অভিষেক হয় এফএ ইয়ুথ কাপে রচডেলের বিপক্ষে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বদলি নেমে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফুলহামের সঙ্গে স্কলারশিপ চুক্তি সই করেন, আর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-২১ দলে অভিষেক হয়। বাঁ প্রান্তের এই উইঙ্গার তত দিনে চিনিয়ে ফেলেছেন নিজের খেলার ধরন—‘ওয়ান টু ওয়ান’ লড়াইয়ে ভয়ডরহীন, কাট করে শটে দক্ষ, গতির সঙ্গে টেকনিক্যাল দক্ষতার মিশেল।

    প্রিমিয়ার লিগ-২ মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে ফারহান প্রিমিয়ার লিগ ওয়েবসাইট

    ২০২৫ সালে আসে বড় স্বীকৃতি—ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ টু-তে তাঁর ফর্ম রীতিমতো নজরকাড়া। নভেম্বরে জেতেন মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, মৌসুম শেষে জায়গা পান বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায়।


    এর মধ্যে এই বছরের মে মাসে বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম এক ভিডিও বার্তায় জানান, ফারহানকে জাতীয় দলে টানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর এজেন্টের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করা হয়েছিল ফেডারেশনের সঙ্গে, আর এরপর শুরু হয় বাংলাদেশি পাসপোর্টের কাগজপত্র তৈরির কাজ। সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তাঁকে চায় বাংলাদেশ। তাঁকে এমনকি নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলেও তাঁকে বিবেচনা করার কথা ভাবছে ফেডারেশন, এমনই জানিয়েছিলেন ফাহাদ করিম সেই ভিডিও বার্তায়।

  • ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    বিশ্বকাপজয়ী দলের কথা উঠলে সাধারণত আলোচনায় আসে কৌশল, ফরমেশন কিংবা তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স। কিন্তু স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের আরেকটি বড় সূত্র আছে। তাঁর ভাষায়, দলে শুধু ভালো ফুটবলার থাকলেই হয় না, ভালো মানুষও থাকতে হয়।

    বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্পেনের সাফল্যের নেপথ্যের দর্শন তুলে ধরেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে একই ফুটবল-দর্শনে অবিচল থাকা, সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ধরে রাখা স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।

    ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি ভালো মানুষ কেন দরকার, সেই ব্যাখ্যায় ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে একসঙ্গে ৫২ দিন কাটিয়েছি, অলিম্পিকে ৪৫ দিন এবং অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে ৪৩ দিন থেকেছি। ভালো মানসিকতার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এতে দল পরিচালনা করাটা অনেক সহজ হয়।’

    ফুয়েন্তে জানান, স্পেনের দীর্ঘ সময়ের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে একটি সমস্যাও হয়নি। এমনকি যাঁরা এক মিনিটও খেলেননি, তাঁরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, ‘বয়সভিত্তিক ফুটবলে বহু বছর কাজ করার কারণে তাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই আমরা খুব ভালোভাবে চিনি। তারা আমাদের কাঁচামাল। আমরা জানি কারা মানসিকভাবে শক্ত, বা ক্যাম্পের ৫২ দিন এক মিনিটও খেলার সুযোগ না পেলেও কারা মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে না।’

    ফুয়েন্তেকে জিজ্ঞাসা করা হয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সঙ্গে এই দলের কী কী মিল তিনি দেখতে পান? এই স্পেনও কি সেই ‘টিকিটাকা’র ধারকবাহক কি না। জবাবে মূল মডেল একই আছে জানিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘টিকিটাকার মতো বহুল প্রচলিত শব্দের আমার পছন্দ নয়। এটাকে আমার ‘কম্বিনেশন ফুটবল’ বলতে ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে ‘টিকিটাকা’ শব্দটিকে কিছুটা নেতিবাচকভাবেও ব্যবহার করা হতো। তা সত্ত্বেও এই ফুটবল দর্শন স্প্যানিশ ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে, যার সূচনা হয় ক্লাব পর্যায়ে। জাতীয় দল কেবল এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে।’

    ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেনএএফপি

    ফুয়েন্তের মতে এখনকার ফুটবলে শুধু বল দখলে রাখলেই সাফল্য সম্ভব নয়। একটি দল ৩০ শতাংশ বলের দখল রেখেও ৩-১ ব্যবধানে জিততে পারে। স্পেন বর্তমানে যে মডেল ব্যবহার করে, সেটি বোঝার জন্য ইউরোপের অন্য পরাশক্তিরা জানতে আসে বলেও জানান ফুয়েন্তে, ‘ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি—সবাই এসেছে। একটা সময় ইতালি খুব ঘনঘন আসত। জার্মানিরও একটা সময় আমাদের মতো খুব শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। তবে এটি খুব সহজ নয়, বেশ জটিল। প্রথমত, এর জন্য বছরের পর বছর কাজ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, এটি ক্লাবগুলোর ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করে। কারণ, ক্লাবের কোচেরাই তরুণদের গড়ে তোলেন। একদম ছোটবেলা থেকে পাওয়া এই শিক্ষার কারণেই ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা।’

  • সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে নীরবতা ভাঙলেন ইয়ামালের প্রেমিকা

    সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে নীরবতা ভাঙলেন ইয়ামালের প্রেমিকা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জেতে স্পেন। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের সেই আনন্দঘন মুহূর্তে স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালের পাশে মাঠে উপস্থিত ছিলেন তার প্রেমিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইনেস গার্সিয়া। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই কিছু ভিডিও ও ছবিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে তাকে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ও ছবির ভিত্তিতে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন, উদযাপনের সময় ইয়ামাল ও ইনেস গার্সিয়ার মধ্যে স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়নি। সেখান থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলতে শুরু করেন, তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটতে চলেছে। এরপর থেকে ইনেসের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শুরু হয়, যেখানে তাকে অপমান ও মানসিক হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়।

    এসবের জবাবে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইনেস গার্সিয়া নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে আমাকে নিয়ে করা মন্তব্যগুলো পড়ছি। শক্ত থাকার চেষ্টা করি, কিন্তু দিনশেষে আমিও একজন মানুষ। আমারও অনুভূতি আছে, আমিও মানুষ, আমিও কাঁদি।’ তিনি বলেন, কোনো পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে থাকলেই একজন মানুষ তার অনুভূতি হারিয়ে ফেলেন না।

    মানুষকে আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনেস লেখেন, ‘কোনো মন্তব্য করার আগে মনে রাখবেন, পর্দার ওপাশেও একজন মানুষ আছে। তার পরিবার আছে, বন্ধু আছে, ভয় আছে, অনুভূতি আছে। আপনার একটি মন্তব্য তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা আপনি জানেন না।’

    বার্তার শেষ অংশে আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমিও অনুভূতিসম্পন্ন একজন নারী। আমার পরিবারও এসব মন্তব্য পড়ে। অন্য সবার মতো আমারও ভালো ও খারাপ দিন আসে। আমি কাউকে বলছি না যে আমাকে ভালোবাসতেই হবে। শুধু সামান্য সহমর্মিতা আর মানবিকতা চাই। কারণ হাজার হাজার ঘৃণামূলক বার্তা পাওয়ার যোগ্য কেউ নয়।’

    নিজের বক্তব্যে ইনেস বলেন, তিনি কখনো কারও ক্ষতি করার চেষ্টা করেননি। তার ভাষ্যে, ‘আমি লামিন ইয়ামাল বা অন্য কারও কোনো ক্ষতি করিনি। আমি কারও কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিইনি। আমি শুধু নিজের মতো করে জীবনযাপন করছি।’

    শেষে ইনেস আশা প্রকাশ করেন, একদিন ইন্টারনেট এমন একটি জায়গায় পরিণত হবে, যেখানে নিষ্ঠুরতাকে আর উৎসাহ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তার একমাত্র উদ্দেশ্য নিজের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া, কাউকে আঘাত করা নয়। বার্তার শেষ লাইনে তিনি লেখেন, ‘আমরা সবাই নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। আশা করি, আমরা সবসময় ঘৃণার বদলে সহমর্মিতাকেই বেছে নেব।’

  • ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে পারলেন না ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ এনজো মারেস্কা। রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখাতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বল’জয়ী রদ্রি। এরই মধ্যে ৩০ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তাবলি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রিয়াল। এখন শুধু দুই ক্লাবের মধ্যে ট্রান্সফার ফি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো বাকি।

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো মিডফিল্ডার রদ্রিকে কিনতে চেয়েছিল পিএসজি-বার্সেলোনাও। দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি নাকি ম্যানসিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলো। তবে ম্যানসিটি তাঁকে ছাড়তে চায়নি। পেপ গার্দিওলার কাছ থেকে সিটির দায়িত্ব নেওয়া এনজো মারেস্কা রদ্রিকে কেন্দ্র করেই মাঝমাঠ সাজাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারকা এ মিডফিল্ডারের অনীহায় তা সম্ভব হচ্ছে না। স্প্যানিশ এ ফুটবলারের সঙ্গে মাত্র এক বছরের চুক্তি বাকি সিটির। সে কারণে গত এপ্রিলে তাঁকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল সিটি। কিন্তু রদ্রি সাড়া দেননি। তারকা এ মিডফিল্ডার মাদ্রিদে ফিরে যেতে চান। ২০১৯ সালে ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মাদ্রিদের অন্য ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে এক বছর ছিলেন। মূলত পরিবারের জন্যই তিনি নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। এ সপ্তাহের শুরুতেই রদ্রির এজেন্ট রিয়াল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে ইংলিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল।

    এখন ট্রান্সফার ফি নিয়ে দুই ক্লাবের সমঝোতার অপেক্ষায় রদ্রি। ধারণা করা হচ্ছে, মোটা ট্রান্সফার ফি হাঁকতে পারে সিটি। তাতেও অবশ্য কাজ হবে না। একে তো মাত্র এক বছর চুক্তি বাকি, তার ওপর রদ্রিও থাকতে চাইছেন না। আর সিটি এরই মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মিডফিল্ডার এলিয়ট এন্ডারসনকে দলে নিয়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে সাড়া জাগানো তরুণ মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও দলে নেওয়ার ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে গেছে তারা। তাই রদ্রিকে বিক্রি করে অর্থ জোগাড়ই তাদের লক্ষ্য।

    দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়া হোসে মরিনহোর আগ্রহেই রদ্রিকে দলে নিচ্ছে রিয়াল। পর্তুগিজ এ কোচ মাঝমাঠে রদ্রির মতো সিনিয়র একজনকে নেতা হিসেবে চান। মরিনহোর কৌশলে রদ্রি খুবভাবে ফিট হয়ে যাবেন বলেও ধারণা। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর জন্য এখানে আরও একটি হিসাব আছে। রদ্রিকে দলে নেওয়া মানে ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ছেড়ে দেবে রিয়াল। আরেক ফরাসি মিডফিল্ডার আরেলিও চুয়েমেনিও নিয়মিত খেলার সুযোগ হারাবেন। তাই তিনিও রিয়াল ছাড়তে পারেন। তাদের কেনার জন্য ওত পেতে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো।

  • কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক খবর। ভারতের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই ম্যাচটির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে আসছে কলকাতার নাম। ‘ইএসপিএন ব্রাজিল’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) এবং ভারতীয় আয়োজকদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও!

    বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখে মুগ্ধ হয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই সমর্থনের ছবিগুলোই মূলত ব্রাজিল দলকে ভারতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। আসন্ন সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে সেলেসাওদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯শে সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে এই ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে বেছে নিতে আলোচনা চালাচ্ছে সিবিএফ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা ছিল। তবে এই মুহূর্তে শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে।
    সবকিছু চূড়ান্ত হলে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা আরও একবার চাক্ষুষ করবেন বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের। এর আগে ১৯৭৭ সালে মোহনবাগানের বিপক্ষে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে ইডেন গার্ডেনসে খেলেন কিংবদন্তি পেলে। সেই ঐতিহ্যবাহী শহরেই এবার পা রাখতে পারে সেলেসাওরা।

    চলতি বিশ্বকাপটা অবশ্য ভালো কাটেনি ব্রাজিলের। শেষ ১৬তে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় কার্লো আনচেলোত্তির দলকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও দলকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিশ্বকাপ বিদায়।

    তবে বিশ্বকাপের ক্ষত ভুলে নতুন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। নতুন ‘সুপার ফিফা উইন্ডো’-র অধীনে এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি ১৬ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ফলে দলগুলো কয়েকটি প্রীতি বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন কলকাতার উত্তরপাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি সেজে ওঠে নেইমার ও ভিনি জুনিয়রের ম্যুরালে। কলকাতার মানুষের এই ফুটবল উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে কলকাতার সবুজ ঘাসে খুব শীঘ্রই দেখা মিলবে হলুদ জার্সির সাম্বা তারকাদের।

  • মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    মেসির খুব কাছের মানুষদের একজন পারেদেস। এলএমটেনের জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। পিএসজিতেও দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। তাই পারেদেসের মুখ থেকে মেসির অবসর ভাবনার কথা উঠে আসায় তা বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্ট দেয়, কারণ বিশ্বকাপজুড়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাইনি মেসি শেষ ম্যাচটি আসুক। আমার মনে হয়, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতীয় দলের হয়ে সেটিই (বিশ্বকাপ ফাইনাল) ছিল তার শেষ ম্যাচ।’

    তবে পারেদেসের আশা, আপাতত অবসরের বিষয়টি একপাশে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি, ‘আশা করি, এমনটা হবে না। আশা করি, সে আরও খেলতে পারবে। সিদ্ধান্তটা তারই হবে। সে যা করলে খুশি থাকবে, সেটাই আমাদের জন্যও আনন্দের হবে।’

    মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন পারেদেস। আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি, ‘আমি জানি না, এটা একটা প্রক্রিয়া। আমাদের বিষয়টি হজম করতে হবে, ভাবতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

    পারেদেস আরও যোগ করেন, ‘অনেকের জন্যই চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। এটা ছিল সুন্দর, অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছি। এই পর্যায় ধরে রাখা এবং দলকে এভাবে কার্যকর রাখা কঠিন হবে। আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’