ফুটবল

  • বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকায় একটি কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে মঞ্চ মাতাবেন সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান।

  • স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

    এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

    অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

    অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

  • ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা অনেকের কাছেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    লিওনেল মেসি পুরো আর্জেন্টিনা দলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘একটা পরিবার। গত কিছু বছরে কয়েকটা খেতাব জয়ই শুধু নয়, পুরো যাত্রা পথটাই ছিল অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিনের পথ চলা, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো সবকিছুই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমরা। আমার প্রত্যেক সতীর্থ, দলের সব টেকনিক্যাল স্টাফ এবং সেই সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাদের জাতীয় দলকে পরিবারের মতো ধরে রাখতে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন। রবিবার যাই হোক না কেন, এই দলটা এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে, যেটা আমরা কখনও ভুলব না। গল্পটা কেউ মুছে দিতেও পারবে না।’

    তিনি লিখেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমরা অনুভব করতে পারছিলাম। জানি, সমর্থকরা যে কোনও ম্যাচের থেকে বেশি ওই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। প্রথমত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। দ্বিতীয়ত, জিততে পারলে আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর তাৎপর্য অপরিসীম। আমি জানি আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা খুশি হয়েছেন। আমার মা, পরিবারের অন্যেরা আমাকে মানুষের উদ্‌যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনাবাসীকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত।’

    বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর অনুশীলন করেছি। নিজেকে শারীরিক ভাবে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখতে সর্বস্ব দিয়েছি। এই মুহূর্তে শুধু উপভোগ করতে চাই। গত বিশ্বকাপ জয় বা অন্য কোনও ট্রফির কথা বলছি না। এই দল সব সময় নিজেদের সেরাটাই দেয়। এই দল কারও কাছে ঋণী নয়। আমাদের এই দল কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয় না। আমরা আমাদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি।’

    এ নিয়ে তৃতীয়বার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেন মেসি। ২০১৪ সালে রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাকে। সেবার জার্মানির কাছে হেরে যায় তার আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপ মেসিকে হতাশ করেনি। হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এ বার সামনে স্পেন।

  • মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    মেসির জাদু থামাতে স্পেনের তিন বিশেষ পরিকল্পনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের সবচেয়ে বড় ভাবনার নাম লিওনেল মেসি। তাকে আটকাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেণ তারা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

    ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।

    দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।

    তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।

    এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

  • স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা: ফাইনালে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে ৫ ফ্যাক্টর

    মাঠের খেলায় শেষ পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাস টিকে না। কিন্তু তারপরও শক্তিমত্তার হিসাব-নিকাশ থেকে কৌশল ও পারফরম্যান্সের কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এমন পাঁচটি দিক তুলে ধরেছে, যেগুলো আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।

    পজিশনগুলোর দ্বৈরথ
    স্পেনের ডান প্রান্তে লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে অন্যতম প্রধান দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। চোটের কারণে আসরের শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বর্তমানে ইয়ামাল চেনা ছন্দে ফিরছেন। তাঁকে সামলাতে বেগ পেতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মাঠের অপর প্রান্তে লিওনেল মেসিকে সামলাবেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবার্সি। মার্কারদের (পাহারা দেওয়া ডিফেন্ডার) চোখ ফাঁকি দিতে মেসি প্রায়ই মাঠের একটু নিচে নেমে যান। চলতি আসরেও সে প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে লাপোর্তে ও কুবার্সির জন্য মেসিকে সামলোর কাজ বেশ কঠিন।

    এছাড়া, স্পেনের হয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার দুই মারকুটে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের।

    শৈলীর লড়াই
    এবারের ফাইনালে ফুটবলের দুটি বিপরীতমুখী দর্শনের মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে। পুরো আসরে মাত্র একটি গোল খাওয়া স্পেন, বলের ওপর তাদের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফাইনালে উঠেছে। তারা বল নিজেদের দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে যেমন কোণঠাসা করে ফেলে, তেমনি মাঠের ওপরের দিকে বল কেড়ে নেওয়ার জন্য ‘কাউন্টার প্রেস’ ব্যবহার করে।

    এই কৌশলের সফল প্রয়োগ দেখা গেছে সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের কিলিয়ান এম্বাপে গোল করার তেমন কোনো সুযোগই পাননি।

    বিপরীতে, আর্জেন্টিনা এই আসরে টিকে আছে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সরাসরি আক্রমণের (ডিরেক্ট ফুটবল) ওপর ভর করে। আসরে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে তারা যেমন বেশি গোল করেছে, তেমনি হজমও করেছে সাতটি।

    ফাইনালে ওঠার পথে আলবিসেলেস্তেরা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো দুটি মহাকাব্যিক ম্যাচ খেলেছে। দুইবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। যা দেখায়, প্রচণ্ড চাপের মুখে যেকোনো উপায়ে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটি বেশ আত্মবিশ্বাসী।

    মেসির জাদু
    সবশেষ কয়েকটি ম্যাচে লিওনেল মেসির ভূমিকায় একটু পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি নিজে গোল না করে আক্রমণ তৈরি করার দিকে মনোযোগী ছিলেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করা দুটি গোলেই তিনি অবদান রেখেছেন। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি আক্রমণ শুরু করায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো- কীভাবে মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখা এবং খেলার মতো জায়গা (স্পেস) দেওয়া থেকে বিরত রাখা যায়?

    একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ ও দ্রুত প্রেসিংয়ের কৌশলটি মেসিকে আটকানোর জন্য বেশ উপযোগী। এই কৌশলের মাধ্যমে যেসব পকেটে (মাঠের ফাঁকা জায়গা) মেসি চেনা ছন্দে খেলেন, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া যায়। ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেন যেভাবে খেলেছে, সেটির পুনরাবৃত্তি করতে পারলে, কোনো ক্ষতি করার আগেই মেসিকে বলের জোগান থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা হয়তো স্পেনের এই প্রেসিংকে মাঠের আরও ওপরের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করবে। এর লক্ষ্য থাকবে স্পেনের ডিফেন্সের পেছনে ফরোয়ার্ড ও উইঙ্গারদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করা।

    মাঝমাঠের লড়াই
    আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে এনজো ফার্নান্দেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয়ে। সেই ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব বর্তাবে স্পেনের ব্যালন ডি’অর (২০২৪) জয়ী রদ্রির ওপর। পুরো টুর্নামেন্টে স্প্যানিশদের মাত্র একটি গোল খাওয়ার পেছনে মূল চাবিকাঠি ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা। এক্ষেত্রে বল দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষেত্রে রদ্রি সাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।

    আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের শেষ প্রান্তে (ফাইনাল থার্ড) বল ছাড়া মুভমেন্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এনজো ফার্নান্দেস। বিশেষ করে মেসি যে ফাঁকা জায়গাগুলো (পকেট) তৈরি করে যান, তিনি সেগুলোতে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টার গোল শট নেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করেন। তাদের এই তৎপরতা ডি পল ও লেয়ান্দ্রো পারেদেসের রক্ষণাত্মক শক্তির সঙ্গে দারুণ এক ভারসাম্য তৈরি করে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের এই শারীরিক শক্তি ও আগ্রাসী রূপের বিপরীতে দেখা যাবে স্পেনের রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের নিখুঁত টেকনিক্যাল নিয়ন্ত্রণ।

    নেতৃত্ব পরিবর্তনের মুহূর্ত
    এবারের ফাইনাল ম্যাচটি স্কোরলাইনের চেয়েও গভীর এক প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ভাইরাল হওয়া শৈশবের একটি ছবি দুই খেলোয়াড়কে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।

    স্পেন যদি এই ম্যাচে জয় পায়, তবে সেটি ফুটবলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হবে। যেখানে মেসির পর ফুটবল বিশ্বের পরবর্তী প্রধান তারকা হিসেবে ইয়ামালের অভিষেক ঘটবে।

    তাই, দ্বিতীয়বারের মতো স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলে, ফাইনাল ম্যাচটি কেবল ফলাফলের জন্য নয় বরং প্রজন্মের ব্যাটন হস্তান্তরের ইতিহাস হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    খেলাধুলার জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর বলা যায় ফুটবলকে। আর এই খেলাটির সবচেয়ে বড় আসর ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চস্থ হতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। শিরোপার লড়াইয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠা স্পেন।

    বাংলাদেশে ফুটবলের কোটি কোটি ভক্ত। বিশেষ করে ফাইনালে দর্শকদের বড় একটি অংশ পাশে থাকবে আকাশী-নীলদের। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রিকেটের তারকারাও খেলার ব্যস্ততার ফাঁকে ফাইনালে চোখ রাখছেন। পাশাপাশি বিসিবির পরিচালকরাও সমর্থন দিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের দলকে।

    বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গ্রুপ পর্বে করা নিজের সবকটি প্রেডিকশনই ঠিকঠাক দিয়ে রীতিমতো সফল ‘জ্যোতিষী’ বনে গেছেন শান্ত। তবে ফাইনাল নিয়ে নিজের প্রেডিকশন দিতে নারাজ তিনি।

    নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই কষ্টার্জিতভাবে জিতেছে আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে শান্ত বলেন, বিশেষ করে প্রথমার্ধটা আইসিইউতে ছিলাম, অপেক্ষায় ছিলাম ম্যাজিক হবে কি না। আলহামদুলিল্লাহ হয়েছে। খেলা দেখে যেরকম টেনশন কাজ করে, চাই না এই টেনশন ফাইনালেও তারা দিক।

    ফাইনালের ফলাফল নিয়ে কৌশলী শান্ত বলেন, আমরা প্রায় প্রতি ম্যাচে খেলছি ৭০ মিনিটের পর গিয়ে! এ কারণে একটু ডিফেন্সিভ উত্তর দেওয়াই ভালো! তবে তার আশা আর্জেন্টিনাই জিতবে। তিনি বলেন, ফাইনালের প্রেডিকশন করব না। দুই দলই খুব ভালো দল। আর্জেন্টিনার ফ্যান হিসেবে এগিয়ে রাখলাম আর্জেন্টিনাকে। আর প্রেডিকশন করায়েন না! ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় আর্জেন্টিনা জিতবে।

    গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের প্রেডিকশন স্কোরসহ হুবহু মিলে যাওয়া নিয়ে শান্ত জানালেন, ক্যাজুয়েলি বলে দিয়েছিলাম। সেভাবে চিন্তা করিনি। তবে আর্জেন্টিনা যেমন দল ছিল, যাদের সঙ্গে খেলা ছিল, জেতা উচিৎ ছিল। ঐ ধারণা করেই করা। ওরকম সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করে করেছি তা নয়। এরপর অনেক ফোন এসেছে, ম্যাসেজ এসেছে। বিশেষ করে যারা ব্রাজিলের সমর্থক তারা অনেক জানার চেষ্টা করেছে। এটা শুধু ফান ছিল, ক্যাজুয়েলি বলে দেওয়া।

    আর্জেন্টিনার মহাতারকা মেসিকে নিয়ে শান্ত বলেন, যতদিন ধরে ওর খেলা দেখছি সবসময় উপভোগ করেছি। কাপ পেলে আরও ভালো লাগবে। জানি না ও আরও খেলবে কি না। তবে যতদিন খেলা দেখেছি খুবই উপভোগ করেছি। ও যথেষ্ট অর্জন করেছে।

  • ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    নিউইয়র্কের ফাইনাল সামনে রেখে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন নিজের মতো করে। টনি ক্রুসও করলেন। ভাইয়ের পডকাস্টে জার্মানির এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তার বাজি স্পেনের পক্ষে।

    নিজের ভাবনার পেছনের কারণও খোলাসা করেছেন ক্রুস। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে তিনি জার্মানির চেয়ে ভালো মনে করেন না। যদিও জার্মানি এবারের আসরের নকআউট পর্বের শুরুতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে।

    শঙ্কার নানা বাঁক পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনালে উঠে আসার নেপথ্যে লিওনেল মেসির ভূমিকা দেখছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তিনি ভেবেছিলেন কাতার বিশ্বকাপই শেষ মেসির।

    অনেকের মতো ক্রুসের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে ছুটছেন তিনি দুর্বার গতিতে। তবে, মেসির প্রশংসার পঞ্চমুখ হলেও ক্রুস ফাইনালে আর্জেন্টিনার তেমন কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না।

    ক্রুস বলেন, যদি স্পেন ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, ভুলে যাও, আরও তিন-চার গোল করবে। আর্জেন্টিনা সমাধানের পথ খুঁজে পাবে না। আর্জেন্টিনা জার্মানির চেয়ে ভালো দল নয়, কিন্তু তাদের মানসিকতা অবিশ্বাস্য।

    টনি ক্রুস আরও বলেন, তাদেরকে ফাইনালে নিয়ে এসেছে মেসি। আমার উপলব্ধি, মেসির বুদ্ধিমত্তা বেড়েই চলেছে। আমি ভেবেছিলাম, ২০২২ বিশ্বকাপই তার শেষ।

    নিউইয়র্কে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় (এএম) উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

  • গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে গাংনী মিনি স্টেডিয়াম (সাহারবাটি) মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম সোনা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

    এছাড়াও কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

  • আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দেবেন গায়ক

    আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দেবেন গায়ক

    জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কিশোর পলাশ। বিশেষ করে ফোক গানের জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি ভালোই জনপ্রিয়। গানের পাশাপাশি তিনি খেলাধুলাতেও মনোযোগ রাখেন। ফুটবলে পলাশ আর্জেন্টিনার কট্টোর সমর্থক। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মেতে আছেন। নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন।

    তবে এই গায়ক এবার এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দেবেন। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে বুড়িগঙ্গায় নৌকার ওপর বসে থাকার একটি ছবি পোস্ট করেছেন কিশোর পলাশ।

    ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে দিয়েছেন সেই ঘোষণা। লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে সোজা বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ।’

    আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনাল খেলা শুরু হবে ২০ জুলাই রাত একটায়। খেলা শেষ হবে তিনটা বা তার কিছু পরে। যদি আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েই যায় তাহলে কিশোর পলাশ বুড়িগঙ্গায় কখন ঝাঁপ দেবেন, তখনই? সেই মাঝরাতেই? এই প্রশ্ন ভক্তরা করছেন।

    কিশোর পলাশ লোকজ ও জীবনমুখী গানের জন্য বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’ গানের মাধ্যমে শ্রোতদের হৃদয়ে স্থান করে নেন এই গায়ক। এছাড়াও ‘ভবের বাড়ি’, ‘যৌবন গেলে প্রেম হবে না’, ‘কলঙ্কী’, ‘দিল দিয়া যারে ভালোবাসিলাম’, ‘দয়াল’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান সংগীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন।

  • ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ফাইনালের মঞ্চে মেসি বনাম বার্সেলোনা

    ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের স্মৃতি কি তবে আবারও ফিরছে স্পেনের ফুটবলে? তৎকালীন স্প্যানিশ দলের মেরুদণ্ড ছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে স্পেন, আর এবারের দলের মূল শক্তিও সেই বার্সেলোনাই। বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা আট ফুটবলারই বার্সেলোনার। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি স্বয়ং বার্সা কিংবদন্তি। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন কাতালান ক্লাবটিতে।

    স্পেনের এই দলটিতে লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা আট খেলোয়াড় হলেন— লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং পাউ কুবারসি। ম্যাচের শুরুতেই লামিন ইয়ামাল ডি বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন, যা থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল।

    দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে পেদ্রো পোরো গোল করলে ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ষণভাগে পাউ কুবারসির দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ফরাসি আক্রমণভাগকে কোনো সুযোগই দেয়নি। বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস এবং পেদ্রি মাঝমাঠ ও আক্রমণে প্রাণসঞ্চার করেছেন। এছাড়া স্কোয়াডে থাকা জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া ও গাভি—পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। বার্সেলোনার এই আট খেলোয়াড়ই এখন স্পেনের শিরোপা জয়ের মূল সারথি।

    বার্সেলোনা বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলাররা এখন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০১০ সালে যখন স্পেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখনও দলটির স্কোয়াডে বার্সেলোনার নয় জন খেলোয়াড় ছিলেন—ভিক্টর ভালদেজ, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনা। সেই ইতিহাসের যেন আবারও পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় ঢুকেছিলেন লিওনেল মেসি। এখন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের একজন। বার্সেলোনার হয়ে এমন কিছু নেই যা তিনি জেতেননি। বার্সেলোনায় যাকে মেসির পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সেই লামিনে ইয়ামালও লা মাসিয়ার প্রোডাক্ট। ফাইনালের আগে ইয়ামালকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মেসি। মাঠের খেলায় তাকে আটকে রাখার কথাও বলেছেন। ফাইনাল ম্যাচটি তাই হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার দুই প্রজন্মের লড়াই।