জামায়াত

  • প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। কার্যকর ও দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ওয়াদার শফিকুল আলম, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান, মানবকণ্ঠের শহিদুল ইসলাম, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, এদিন নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, ভোরের ডাকের কে, এম, বেলায়েত হোসেন, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, দেশ রূপান্তরের সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, করতোয়ার মোজাম্মেল হক, জনতার ওবায়দুর রহমান শাহীন, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, খোলা কাগজের আহসান হাবীব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, গ্রিন ওয়াচের মোস্তফা কামাল মজুমদার, দ্যা ইভিনিং নিউজের এ বি এম সেলিম আহমেদ, ডেইলি সানের আল আমিন, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাজ্জাদুর রহমান, সংগ্রামের শামসুল আরেফীন, সোনার বাংলার ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

    মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আমন্ত্রণে সিনিয়র সম্পাদকরা এখানে এসেছিলেন। এ সময় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সংসদে ও বাইরে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে সে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আমরা ভালো কজে সরকারকে সহযোগিতা করব, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ করব—এই পলিসির ওপরই জামায়াত আছে। এই বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সম্পাদকদের অবহিত করেছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। এই বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক। বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক—এগুলো নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সম্পাদকদের প্রশ্নোত্তর এবং মতবিনিময় হয়েছে। জামায়াত আমির জানিয়েছেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের পলিসির বিষয়টি রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, সেটিই আমাদের পলিসি।

    তিনি জানান, সম্পাদকদের পক্ষ থেকে জামায়াতের পার্লমেন্টের পলিসি তারা এপ্রিশিয়েট করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এই প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, দলের নেতা ও পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে খোলামেলা মতবিনিময়ে মিলিত হয়েছেন বলে সম্পাদকরা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তারা বলেছেন যে, এরকম সুযোগ পেলে তারা মাঝে মাঝে তাদের মতামত জানাবেন । এছাড়া, সংসদে বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধীদলের এমপিদের মধ্যে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দে, বিলিবণ্টনে, এমনকি পার্লামেন্টের ফ্লোরে কথা বলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হওয়ার তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে । বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের রায় কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্য ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা এবং স্পিকার বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইনসাফপূর্ণ আচরণ না পেয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে ।

    জামায়াত আমির গণতন্ত্র উত্তরণে দায়িত্ব পালনে বিরোধীদলকে সহযোগিতা করার জন্য সম্পাদকদের সাহায্য কামনা করেছেন। একইসঙ্গে যাতে লেখনির মধ্য দিয়ে জাতির কাছে সম্পাদকরা সত্য তুলে ধরেন সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এসময় সম্পাদকরা অতীতের বিরোধীদলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ইতিহাস স্মরণ করে জামায়াতের ব্যতিক্রমী ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দেশকে স্থিতিশীল রেখে বিরোধিতার জায়গায় গঠনমূলক বিরোধিতা করা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করা—এটা তারা প্রথম দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

    জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত সংসদকে কার্যকর রাখতে একটি ‘কনস্ট্রাক্টিভ এবং রেসপন্সিবল’ অপজিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে; শুধু বিরোধীদল একা দায়িত্বশীল হতে পারে না, সরকারি দলের পক্ষ থেকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য।

    সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন, আপনারা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেন। জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথেও ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আগের বিরোধীদলের মত অসহিষ্ণু ও সহিংসতার পথে গিয়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। এ ব্যাপারে কয়েকজন সম্পাদক জামায়াত আমিরের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য তথা জামায়াতে ইসলামী তিল পরিমাণ ছাড় দেবে না। জনগণের রায়ের সঙ্গে আমরা আছি। পার্লামেন্টে যদি নিষ্পত্তি হয় আলহামদুলিল্লাহ, না হলে ৭০ ভাগ জনগণ যেখানে আছে আমরা সেখানেই চলে যাব। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ তারিখ সকাল ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লং মার্চের বিশাল গাড়িবহর যাত্রা করবে এবং সারাদেশে এই লং মার্চ সফল করতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রধান ইস্যু হচ্ছে এখন গণভোটের রায়, এর চেয়ে বড় পলিটিক্যাল ইস্যু আর হতে পারে না । যিনি এটার কোনো ভিত্তি নেই বলেন, তিনি হয়তো সরকারের চাটুকারকে খুশি করার জন্য তা বলেছেন। সম্পাদকরা জামায়াতের এই ধরনের আন্দোলনকে প্রশংসিত করেছেন যা রাজপথে এবং পার্লামেন্ট উভয় জায়গাতেই করা সম্ভব।

    মতবিনিময় শেষে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিরোধীদলীয় নেতা মিডিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। সেই সঙ্গে তারা কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের মনোকষ্টের কথা জানিয়েছেন। যেমন তারা জ্বালানি সংকট নিয়ে একটা বিশেষ অধিবেশন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সাড়া পাননি। তারপরেও তারা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং পার্লামেন্টের সকল কর্মকাণ্ডের মূল জায়গা করতে চান। এজন্য সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, তাদের ভুল হলে যেন আমরা ধরিয়ে দিই এবং পরামর্শ দিই। তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়মতি বসতে চান। আজকে তো সবাই মিলে বসা হয়েছে, এরপরে হয়তো আরো সিনিয়র সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন।

    তিনি বলেন, আমরা সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলেছি যে, জুলাই বিপ্লবের পরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে, মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরে এসছে। আমরা বলেছি যে, আমাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না, আমরা প্রথমসারির মিডিয়াগুলো প্রফেশনালি দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।

    মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, বিরোধীদলের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা হলো—সবাই সব বিষয়ে কথা না বলে একটা জায়গা থাকলে ভাল হয়। এজন্য আমি ছায়া ক্যাবিনেট করার কথা বলেছিলাম। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছেন, তারা এটা করেছেন, সেটার প্রশিক্ষণ চলছে।

    তিনি বলেন, আমি বলেছি, আগে দেখা গেছে, সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে। আশাকরি বর্তমান সরকার তা হবে না। কিন্তু সরকার যদি আগের মতো কোন মিডিয়ার প্রতি ফ্যাসিবাদী আচরণ করে, তাহলে বিরোধীদল যেন তার প্রতিবাদ করে।

    প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমরা ভারতের কাছ থেকে প্রতিবেশিসূলভ আচরণ প্রত্যাশা করি। আমরা সবকিছু উজাড় করে দিতে চাই না, নিতেও চাই না। এসময় বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেছেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মতবিনিময়ের জন্য সম্পাদকদের দাওয়াত দেওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাকে আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বার আমার আসার সুযোগ হলো। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদল গুরুত্বপূর্ণ । ১৯৯৬ সালের পর এবার বৃহত্তম বিরোধীদল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম সবসময় প্রফেশনাল ও বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করে। জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ এসেছে। তবে সব সরকারই বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    মিডিয়ার ওপর ফ্যাসিবাদের সর্বপ্রথম আক্রমণ হিসেবে আমার দেশ বন্ধ ও আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিরোধীদলকে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালনের আহবান জানান।

    এ সময় প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করেছি যে, ফ্যাসিবাদ এবং বিরোধীদলের নামে নৈরাজ্য অতিক্রম করে এসেছি। তাই গণতন্ত্রকে টেকসই করতে ফ্যাসিবাদ ও বিরোধীদলের নৈরাজ্য যেন আর ফিরে না আসতে পারে।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    কালবেলার পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হোল-

    আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

    আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই।

    আমি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • কলকাতা ও লন্ডনে ১০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

    কলকাতা ও লন্ডনে ১০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

    ভারতের কলকাতা ও যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে পৃথক দুটি ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বুধবার (১৯ আ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই শোক প্রকাশ করেন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিকভাবে নিহত এবং আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। ’

    গোলাম পরওয়ার বলেন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রিয় দেশবাসীর এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও কষ্টদায়ক।

    অপরদিকে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাছুম মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান রবের নিকট দোয়া করি, তিনি যেন নিহতদের আত্মীয়স্বজনকে তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক কাটিয়ে ওঠার তাওফিক দান করেন। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনায় যারা দগ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন, আমি তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, যেন নিহতদের লাশ দ্রুত ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার যথাযথ ব্যবস্থা করা হয় এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। ’

  • আইনশৃঙ্খলা জ্বালানি ব্যাংকিংসহ ৮ খাতে সরকার ব্যর্থ: ৬ মাসের মূল্যায়নে জামায়াত

    আইনশৃঙ্খলা জ্বালানি ব্যাংকিংসহ ৮ খাতে সরকার ব্যর্থ: ৬ মাসের মূল্যায়নে জামায়াত

    বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
    দলটির অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে না পারা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৮ ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুম প্রতিরোধ আইনে উদ্বেগজনক ফাঁক রাখা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের দূরে রাখা, পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দূর্বলতা এবং সংস্কারসহ মানুষের জন্য কাল্যাণকর খাতে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

    সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আজাদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যবধান আড়াই কোটিরও বেশি।

    তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল এবং পরিষদকে প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি। সরকার পরবর্তী সময়ে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প পদ্ধতির দিকে এগিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো থাকলেও গত ছয় মাসে এগুলোর কোনো একটিরও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

    জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে।

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে বলেও দাবি করে তিনি বলেন, প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে। পদোন্নতি, পদায়ন, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

    তার দাবি, একই সময়ে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্য উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।

    পুলিশ সদর দপ্তরের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ থেকে মে এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, শুধু মার্চ-মে ২০২৬ সময়ে ৯১৫টি হত্যা মামলা নিবন্ধিত হয়েছে, যেখানে পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে ৭৯৪টি।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ে দলটির মূল্যায়নে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুন ২০২৬-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের বছরের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

    ব্যাংকিং খাত নিয়েও সরকারকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

    তাঁর অভিযোগ, সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বের হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা আগের বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।

    পররাষ্ট্রনীতিতেও কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
    গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম মৌলিক প্রত্যাশা। সরকার ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেমেডি অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও খসড়ার কয়েকটি বিধান নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো শক্তিশালী অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখাতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জে ৪ প্রস্তাব জামায়াতের

    প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জে ৪ প্রস্তাব জামায়াতের

    প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে অংশীজনদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনের ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার প্রস্তাব করেছে দলটি।

    রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    জামায়াতের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রূপপুর বেজ লোড প্ল্যান্ট (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) কবে উৎপাদনে যাবে এবং এর ট্যারিফ কত হবে, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা; জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা। পাশাপাশি কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন মাস আগেই সরকারকে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল বিরোধী দল। এসব প্রস্তাব সরকারের টেবিলেই রয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন না করে সরকার বিরোধীদের নিয়ে নানা মন্তব্য করছে, যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

    ‘বিরোধীরা ১৭ বছর মাঠে ছিল না’—সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে দেখেননি। এতগুলো জীবন গেছে, ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে—পুরো বিশ্ব তা দেখেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দেখেনি।

    তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত স্বচ্ছভাবে।

  • ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

    ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

    বিভিন্ন দাবিতে চার মহানগর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত লংমার্চ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে সোমবার বৈঠক করেছে ‘লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি’।

    সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    বৈঠকে লংমার্চগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

    এর আগে গত ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ সহ ১১ দফা দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে দেশব্যাপী চারটি লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার লংমার্চ সড়কপথে এবং সিলেটের লংমার্চ রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আতিক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।

  • বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলেন, যে রক্তের ওপর দিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রক্তের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার আল- ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। চাঁদাবাজি ও লুটপাটের কারণে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।

    জামায়াতের হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অঞ্চল পরিচালক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, মেধা যাচাই, গ্রুপ ডিসকাশন, দারসুল কুরআন ও দারসুল হাদিসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

  • মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: মতিউর রহমান আকন্দ

    মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: মতিউর রহমান আকন্দ

    ‘মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নয়, বরং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে’ জামায়াতের অবস্থান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে আয়োজিত এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “যুদ্ধ জয়ের পর স্বাধীন দেশের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছিল ষড়যন্ত্রের নীলনকশার বাস্তবায়ন। এ কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে যুদ্ধ করতে জামায়াত প্রস্তুত ছিল না।”

    তিনি বলেন, “দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে জামায়াত প্রস্তুত রয়েছে।”

    দেশের স্বার্থে দলটির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে বিএনপির সমালোচনা করে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ড. কামাল হোসেনের জোটে গিয়ে নির্বাচন করতে চাওয়া বিএনপি এখন জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলে।”

    তিনি বলেন, “যারা জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলছে, তারাই হারিয়ে যাবে।”

    ইসলামি আন্দোলনকে বিদায় করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় তিনি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রভিত্তিক মজবুত সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আসন্ন নির্বাচনে যাতে কেউ ভোট ডাকাতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

  • সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চরমে: জামায়াত

    সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চরমে: জামায়াত

    সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সতর্ক ক‌রে বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত রোববার থেকে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। তথ্যমতে, ৯ আগস্ট দেশে ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এতে গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা গেছে।

    গ্যাসের সংকটও তীব্র হয়েছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে উঠেছে। এতে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।

    জ্বালানিসংকটের কারণে জনরোষ বাড়ছে দা‌বি ক‌রে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে।

  • মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    রংপুরের মানুষের ভোটের পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা।

    আজ বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরের উদ্যোগে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় ঘুরে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ অন্য নেতারা।

    এটিএম আজম খান বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় এ অঞ্চল উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে। তিনি বলেন, কোন দলকে ভোট দেওয়া হবে, তা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। দল-মত নির্বিশেষে সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

    রংপুরের বৈষম্য দূর করতে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান এটিএম আজম খান।

    সমাবেশ থেকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের ১১ এমপি।

    উল্লেখ্য, রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৯ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে রংপুরের মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি, যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’