জামায়াত

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

    আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ের বাবরি চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না। এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলে সবাইকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একটির পর একটি কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তখন সবাইকে ঢাকায় গিয়ে আন্দোলনে শামিল হতে হবে।’

    সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকার জুলুমবাজি করছে। তবে এই জুলুমবাজির পতন হবে, জনগণের বিজয় হবে।’

    পথসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    পথসভা শেষে লংমার্চটি যশোরের মুড়ালীর মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটারের এ লংমার্চে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, খুলনার এই পথসভা শুধু লংমার্চের কর্মসূচি নয়; গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করার রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে এক দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান কর্মসূচিটিকে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।

    অনুরূপ খুলনার ফুলতলা উপজেলার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশের মানুষের সাথে জুলুমবাজি করছে। তাদের থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে ১১ দলের ৭ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সকলকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • পদ্মা সেতু দিয়ে ৭৭৮টি গাড়ি গেছে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চে

    পদ্মা সেতু দিয়ে ৭৭৮টি গাড়ি গেছে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চে

    একসঙ্গে পদ্মা সেতু পার হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের খুলনা–কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চে অংশ নেওয়া ৭৭৮টি যানবাহন ।

    ১০টার দিকে পদ্মা সেতু পার হয়। এসব যানবাহন থেকে সেতুর টোল বাবদ প্রায় ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

    পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চের বহরে মাইক্রোবাস, কার, জিপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ছিল। সব মিলিয়ে ৭৭৮টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।

    ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, ঢাকা থেকে ৬০০–৭০০ গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ যাত্রা করবে। পথে পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হবে বহরে। কুষ্টিয়া পৌঁছানোর পর গাড়ির সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। দেশের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    আজ সকাল সাতটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাড়ির বহর যাত্রা শুরু করে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

    ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, এটি তাদের তৃতীয় দফার লংমার্চ। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চ হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। আজকের কর্মসূচিটি আগের দুটির তুলনায় দীর্ঘ। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার কথা লংমার্চের বহরের।

    ১১–দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–বরিশাল পথেও লংমার্চ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ১১–দলীয়ে ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন।

  • ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ইউএনও প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ১১ দলীয় জোট

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।

    একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

    আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় জোটের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব শুধু একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর রাজনৈতিক পরিণতির দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়কেই নিতে হবে।’

    ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের পতনের মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, নির্বাচনে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে নির্বাচনের আগেই প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থত, ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার ওপর জনগণের আস্থার সংকট রয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।’

    নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা এবং হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাঁদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু আশ্বাস বা বক্তব্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে হবে। অন্যথায় কমিশন নিজেদের স্বাধীন ও শক্তিশালী দাবি করলেও তা প্রমাণিত হবে না।’

    বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, ‘বৈঠকের পরিবেশ ও আশ্বাস ইতিবাচক হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল না থাকলে এসব উদ্যোগকে ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের আগের পরিস্থিতি এবং অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে আগামীকালের ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফল দেখেই জোট তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নেবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়েও কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে, কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।’

  • স্বাধীনতার পর প্রথমবার: সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াত

    স্বাধীনতার পর প্রথমবার: সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াত

    ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। স্বাধীনতার পর দলটির সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

    তবে বিরোধী দলের নেতৃত্ব পাওয়া আর কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালন করা এক বিষয় নয়। আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয়ের তদারকি, সাংবিধানিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংসদীয় বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।

    এক নজরে
    • ত্রয়োদশ সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
    • ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে।
    • জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসন শূন্য।
    • পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    ঐতিহাসিক পটভূমি

    আপনি Role of Opposition in Bangladesh Politics (UPL, 1998) বইটি লিখেছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা এই সংসদে নতুন কী দেখা যাচ্ছে, আর পুরোনো কোন প্রবণতাগুলো ফিরে আসছে?

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দলটি সংসদীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বে এসেছে। একে প্রচলিত রাজনৈতিক বিন্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রবণতার ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যায়। ২০১৩–১৪ সালের পর বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ২০২৬ সালে বিরোধী দলের নেতৃত্বে আসা তাই দলটির রাজনৈতিক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক জোটের অংশীদার থেকে প্রধান সংসদীয় বিরোধী শক্তিতে রূপান্তরও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসন পায়। ২০০১ সালে দলটি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ হয় এবং দুই নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালে বিএনপি ও জামায়াত সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের পৃথক অবস্থানে রয়েছে। তরুণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বা গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেখা গেলেও এই পরিবর্তনের স্থায়িত্ব বুঝতে আরও নির্বাচন ও নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ প্রয়োজন।

    প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে এখন সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও সংসদীয় নজরদারি নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নও দলটির প্রধান দাবিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোনো সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার প্রবণতাও রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে সহযোগিতা করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের স্বার্থ ও কৌশলে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বর্তমান সংসদীয় বিন্যাস সেই সম্পর্কের নতুন পর্যায় নির্দেশ করে।

    সংসদে জামায়াতে ইসলামী

    • ১৯৯১ ১৮টি আসন।
    • ২০০১ ১৭টি আসন; বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ, মন্ত্রিসভায় দুই নেতা।
    • ২০১৪ ও ২০১৮ সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
    • ২০২৬ প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী।

    “স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এ দল সংসদীয় বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে, যা দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    সংসদে ও রাজপথে বিরোধী রাজনীতি

    বিরোধী দল ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং ৬ সেপ্টেম্বর দুটি বিল নিয়ে ওয়াকআউট করেছে। জুলাই থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচটি আসনও শূন্য রয়েছে। কখন বর্জন বৈধ রাজনৈতিক চাপ, আর কখন তা সংসদকে দুর্বল করে?

    সংসদীয় ওয়াকআউট প্রক্রিয়াগত অন্যায়ের প্রতিবাদে সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহৃত হলে কার্যকর রাজনৈতিক চাপ হতে পারে। কিন্তু এটি নিয়মিত বিরোধিতার প্রধান কৌশল হয়ে উঠলে সংসদীয় বিতর্ক ও প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা দুর্বল হয়। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী সদস্যদের ওয়াকআউট ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি উদাহরণ। জুন মাসে বিল উত্থাপন ও পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের সুযোগ নিয়ে আপত্তির পরও বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তাদের দাবি ছিল, সংশোধিত সংস্করণে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। বিরোধী সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করার পরও বিল দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ১৩ জুলাই গঠিত বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন রাখা হলেও কমিটির কাঠামো ও কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তির কারণে জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা সদস্য মনোনয়ন দেয়নি। এসব ঘটনা দেখায়, ওয়াকআউট জনমনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে; কিন্তু সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা সীমিত করে।

    “বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতি এখনও সংসদীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজপথের রাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    ক্ষমতাসীন দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদে রয়েছে এবং ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৪৮টির সভাপতিত্ব করছে। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত সরকারের বিরোধী দলকে প্রকৃত ভূমিকা দেওয়ার জন্য কী করা উচিত?

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের অর্থ এই নয় যে সংসদীয় কাঠামোতে বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত থাকবে। ১০ সেপ্টেম্বর ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের পর মাত্র একটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের হাতে ছিল।

    সরকার সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করে বিরোধী দলকে কার্যকর তদারকির সুযোগ দিতে পারে। এর মাধ্যমে বিরোধী সদস্যরা সরকারি নীতি পর্যালোচনা, নির্বাহী কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি এবং নীতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারবেন। বিরোধী দলের সঙ্গে মতৈক্য থাকা জরুরি নয়; বরং তাদের প্রশ্ন তোলা ও সরকারি কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ থাকা জরুরি। ক্ষমতা ভাগাভাগির এই ব্যবস্থা নীতিগত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত না করেও সংসদীয় জবাবদিহি জোরদার করতে পারে।

    আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও সাংবিধানিক বিরোধ

    ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত-জোটের সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, কিন্তু বিএনপি বলেছে পরিষদটি সংবিধানে নেই এবং তারা শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এটি কি নীতিগত বিরোধ, নাকি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব? এর সমাধান কীভাবে হতে পারে?

    ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদীয় শপথ নিলেও প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের যুক্তি ছিল, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের স্বীকৃতি নেই। অন্যদিকে, জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা উভয় শপথ গ্রহণ করেন।

    এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত সংস্কারের ম্যান্ডেটকে কীভাবে বৈধ সাংবিধানিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়া হবে। এর সমাধানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও সাংবিধানিক বৈধতা পরস্পরের পরিপূরক হয়।

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি বিরোধী দলের ধারণা কীভাবে বদলে দেয়? এখন বিরোধী দল কাদের প্রতিনিধিত্ব করে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাটিকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। ফলে দলটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিএনপি–আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিন্যাসে পরিবর্তন এনেছে। তবে নির্বাচনে অনুপস্থিতি দলটির সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তি বিলুপ্ত হওয়ার অর্থ নয়। জামায়াত এখন সংসদীয় বিরোধিতার প্রধান সাংগঠনিক শক্তি হলেও সরকারের বিরোধিতাকারী সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে, বিএনপির নির্বাচনী বিজয়ও আওয়ামী লীগের সব সমর্থকের রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক বিরোধিতা সংসদীয় বিরোধী দলের চেয়ে বিস্তৃত।

    “নির্বাচনের ব্যালটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি তার সামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তির বিলুপ্তি বোঝায় না।”

    — অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান

    সংসদ থেকে রাজপথে: সংঘাত এড়ানোর উপায়

    ১৯ সেপ্টেম্বর বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করেছিলেন যে আট দফা দাবি এক দফা দাবিতে পরিণত হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে উভয় পক্ষের কী শিক্ষা নেওয়া উচিত?

    জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের ১৯ সেপ্টেম্বরের সতর্কবার্তা সংসদীয় বিরোধ রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেয়। আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের ১৯৯৬, ২০০৬–০৮ এবং ২০১৩–১৪ সালের রাজনৈতিক সংকট দেখায়, সংসদীয় আলোচনা ব্যাহত হলে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সরকার ও বিরোধী দলের উচিত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা। রাজপথের আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধ অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের উচিত বিরোধের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা; বিরোধী দলেরও সংসদীয় প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।

    সংসদীয় নজরদারি ও জবাবদিহি

    জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এখন সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (Public Accounts Committee—PAC) সভাপতিত্ব করছেন। এই কমিটি কতটা কার্যকর নজরদারি করতে পারে?

    জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলের একজন সদস্যের সভাপতিত্বই কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করে না। কমিটিটি সরকারি ব্যয়ের অপচয়, অননুমোদিত ব্যয়, ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু কার্যকারিতা নির্ভর করে নিরীক্ষা আপত্তির ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার ওপর। তথ্যে প্রবেশাধিকার, নিয়মিত বৈঠক, বিশেষজ্ঞ সহায়তা, স্বচ্ছ প্রতিবেদন এবং কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সদিচ্ছা নিশ্চিত করা জরুরি। দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নিরীক্ষা-প্রমাণকে অগ্রাধিকার দিলেই নজরদারি অর্থবহ হতে পারে।

    সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, এবং কোন সংস্কার সংসদকে শক্তিশালী করতে পারে?

    সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব, তদন্ত এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক রাজনীতি, সংসদ বর্জন, নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত প্রভাব এবং দুর্বল সংসদীয় তদারকি সরকার–বিরোধী সম্পর্ককে জটিল করেছে। বিরোধী দলকে সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে কার্যকর ভূমিকা দিলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সংসদীয় বিতর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বিরোধী দলের সভাপতিত্ব, দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের তলব, নথিপত্র চাওয়া, প্রকাশ্য শুনানি ও প্রতিবেদন প্রকাশের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির সংস্কার ও আন্তদলীয় সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সাংবিধানিক পরিবর্তন নতুন বিরোধ তৈরি করতে পারে। তাই বিরোধী দলের আইনগতভাবে সুরক্ষিত নজরদারি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ সংসদকে কার্যকর করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

    আরও পড়ার জন্য

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে আরও এগিয়ে নিতে তারা আগ্রহী। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    হাইকমিশনার এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাকে নোলেজ করিডোর প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করে দেশটির উন্নত শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

    বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    একই সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

    এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মাদ ওয়াসিফ এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল।

  • ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    “জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

    আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

    তিনি বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয়, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।

    তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

    এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি।

    তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণেই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিল।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে।

    তার মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। আর জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা।

    তার অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার,সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল,গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা,সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • এই সরকার হাসিনার দেখানো স্বৈরাচারী পথেই হাটছে; জামায়াত আমির

    এই সরকার হাসিনার দেখানো স্বৈরাচারী পথেই হাটছে; জামায়াত আমির

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এ আয়োজন করে।

    শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি রাজনৈতিক দল ছিল। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল না। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি তা চায়নি। বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তার অভিযোগ, ওই দিন থেকেই বিএনপি উগ্র আচরণ শুরু করেছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে, জনগণ ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায়ও মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। বিএনপিই বিরোধী দলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে।

    সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যও বরাদ্দ পাননি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান ও নতুন রাজনীতির সূচনা হবে বলে জনগণ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত ইঞ্জিনিয়ারিং, চুরি-চামাড়ির পরও আমাদের বিরোধী দলে বসিয়েছে জনগণ। এসব আসনের ৮৯ জন এমপি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হয়ে কাজ করবেন ইনশা আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাবো না। জুলাই সনদ আর গণভোটের গণরায় আমরা আদায় করেই ছাড়বো।’

    নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নানা লোভ-লালসা দেখানো হলেও জামায়াত সেসব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দল হিমালয়ের মতো অটল থেকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে। চব্বিশের অভ্যুত্থান তাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। তবে সরকারের পতন চাওয়ার চেয়ে তারা সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন, কারণ সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন সরকারকে সহযোগিতা করবো বলেছিলাম। আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবো। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার তাদের কোনো যোগ্যতা নেই।’

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণভোটকে অস্বীকার করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় জনগণ হতাশ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনআস্থা অর্জনে জামায়াত নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় জামায়াতের গাজীপুর মহানগরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

    সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও শেখ হাসিনার সরকারের মতো হবে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে।

    এ সময় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জানমাল দিয়ে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোক বসানো হচ্ছে। এর ফলে দেশে কার্যত দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি বিএনপির পছন্দের। স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে।’

    বরগুনার আহত নেতার পাশে
    সন্ত্রাসী হামলায় আহত বরগুনার জামায়াত নেতা শামীম আহসানকে দেখতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যান বিরোধীদলীয় নেতা। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করছেন। বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ঘটনার পরপরই চিফ হুইপকে ফোন করেছি। সুষ্ঠু তদন্তে দায়ীদের বিচারের আহ্বান জানিয়েছি। দেশে সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই।

    হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
    এর আগে ৫ মাসব্যাপী আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেন জামায়াত আমির। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, সাইকেল ও অর্ধকোটি নগদ অর্থসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে।

    তিনি বলেছেন, ‘বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। এ সরকার গণভোটকে অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না।’

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরের শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত নির্বাচনের পূর্বে একটি দল বলে বেড়াতো নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ বর্তমানে সমস্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। আপামর জনতার দাবি ছিল ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আপনাদের গন্তব্য হবে হাসিনার মতোই।’

    ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ পাবে। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এ সরকারে সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে গত সরকারের মতো দলীয়করণ, লুটতরাজ, উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসাচ্ছেন।’

    মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝে ঐক্য না থাকায় সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে রাসুল (সা.)- এর আদর্শ উপেক্ষা করার কারণে মুসলিম বিশ্ব আজ ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে জনগণ মনে করে জামায়াতে ইসলাম একমাত্র নিরাপত্তার স্থল।’

    রুকনদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সুরা কালাম বুকে ধারণ করে ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নিজের ও পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সমাজের অধিকাংশ মানুষই রিকোয়েস্ট করে, তাই মানুষকে সম্মান করতে হবে, সমাজের মানুষের ভালো ব্যবহার, ভাল আচরণ করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শুধু তলওয়ার দিয়ে ইসলাম কায়েম হয়নি। রাসুলের আচরণে আকৃষ্ট হয়ে বিদায়ী হজে ১ লাখ ২০ হাজার অমুসলিম মুসলিম হয়েছেন। মৃত্যুর স্বাদ যখন তখন ভোগ করতে হবে, তাই উত্তম আমলের মধ্যে শেষটা হোক। কোন লোক সুদের সাথে জড়িত থাকবে না, সর্বাবস্থায় সুদ হারাম। রাসুল সঃ আমলের তলোয়ার দিয়ে মদিনাসহ সারাদুনিয়া জয় করেছেন।’

    জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত আল্লাহর দাসত্ব করার জন্যই মানব সৃষ্টি হয়েছে।’

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।

  • জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার

    জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার

    বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    আজ শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একজন প্রবীণ নাগরিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে অপদার্থ, ব্যর্থ, অদক্ষ কর্মকর্তাদের শাসাতেও পারেন। কিন্তু সরকার বিমানবন্দরের ওই ঘটনাকে ইস্যু করে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।’

    গোলাম পরওয়ার বলেন, খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেত না। অনেকে মোবাইল পর্যন্ত বন্ধ রাখত।

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, যাদের সঙ্গে আপনার মা জোট করেছিলেন, যাদের সমর্থনে আপনার মা সরকার গঠন করেছিলেন, তাদেরকে গুপ্ত আর স্বাধীনতাবিরোধী বলে নিজেই মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

    আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের নয় বরং সরকারের তলে-তলে যোগাযোগ ও সখ্যতা রয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে—বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি।

    সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতকে নিয়ে অপরাজনীতি করতে গিয়ে এরশাদের সলিল সমাধি হয়েছে, আওয়ামী লীগকে দিল্লি গিয়ে পালাতে হয়েছে। নতুন করে আবার কেউ অপরাজনীতির চেষ্টা করলে তাদের পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ। তিনি আরও বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে সরকার মূলত বার্তা দিতে চাচ্ছে সরকারের দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশে শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়-প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।