চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিকে যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন অনেক শিক্ষার্থীই। অনেকে আবার পরীক্ষা স্থগিত করে অটোপাস দেওয়ার বিপক্ষেও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা এমন কথা জানিয়েছেন।
রাজধানীর ফার্মগেটে এক ছাত্র বলেন, ‘আন্দোলনের দাবির মধ্যে ফিজিক্স পরীক্ষা পেছানো উচিত ছিল এক দিন বা দুই দিন। এই দাবিই শুধু ঠিক, এর বাইরে আর কোনো দাবি যৌক্তিক না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে হবে, এগুলো যৌক্তিক দাবির পর্যায়ে পড়ে না। শিক্ষামন্ত্রী নতুন এসেছেন, তাকে তো সময় দিতে হবে কাজ করার জন্য। তখন না হয় উনাকে বলা যাবে, এখন তো নতুন করে উনাকে নামানো (পদত্যাগ করানো) ঠিক হবে না আর কি, এটা যৌক্তিক দাবি না।’
চট্টগ্রামে এক সাধারণ শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ওদের এক বছর আগে পরীক্ষা দিছি। সাতটা সৃজনশীল প্রশ্নে আমাদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাই আমি বলব, তোমরা পরীক্ষা স্থগিত করেছ চট্টগ্রামে। অন্য জেলায় কি হচ্ছে, অন্য জেলায় কি হচ্ছে সেটা অন্য জেলায়। তোমরা এই জিনিসটাকে মোড় দিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাইও না। আমরা ২৪-এ কী হয়েছে দেখছি, এর আগে ১৮ সালে কী হয়েছে দেখছি। আল্লাহর ওয়াস্তে দেশটাকে দাঁড়াইতে দাও। দেশের অবস্থা ভালো না। তোমরা এখন ইয়াং, রক্ত গরম, তোমরা বোঝ না রাজনীতি কী, অর্থনীতি কী, গোপনীয়তা কী, তোমরা শুধু উনিশ-বিশ হলেই আন্দোলন কর।’
ঢাকা সিটি কলেজের এক ছাত্রী বলেন, ‘বাস ভাঙা কোনো সলিউশন (সমাধান) না। আমি এটা সমর্থন করব না অবশ্যই। এখানে সাধারণ মানুষ ছিল, যাত্রী ছিল, এই বাস ভাঙা কোনো সলিউশন না। হয়তো উত্তেজনা থাকে কিছু স্টুডেন্টের যারা হলো এই বাস ভাঙার সঙ্গে উত্তেজনা ছিল। তো এর মানে এই নয় যে সব স্টুডেন্ট এর সঙ্গে আছে যে আমরা গিয়ে বাস ভাঙব। যেখানে সেখানে বাস দেখলে ভাঙব, এমন কিছু না।’
চাঁদপুরের এক ছাত্রী বলেন, ‘অটোপাস হলে অবশ্যই খারাপ হবে। আমরা অটোপাস চাই না, আমরা চাই যেভাবে পরীক্ষা হচ্ছে, পরীক্ষাগুলো এভাবেই কন্টিনিউ হোক।’
এ সময় তার পাশের এক ছাত্রী বলেন, ‘আলহামদুল্লিলাহ পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম পার্টের তুলনায় সেকেন্ড পার্ট অনেক ভালো হয়েছে। এমন পরীক্ষা হলে আলহামদুল্লিলাহ ভালো একটা রেজাল্ট আশা করা যায়। পরীক্ষা যদি স্থগিত করে দেয়, তাহলে তো আমাদের জন্যই ক্ষতি। বর্তমানে আমাদের পড়ালেখার গতি, সেটা স্থগিত হলে আমাদের নতুন করে পড়ালেখায় মন বসাতে কষ্ট হবে।’
ডেস্ক নিউজ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে আগামী ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বুধবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব রশিদ মিয়ার সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠি থেকে জানা যায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকার ওপর দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ আগস্ট। এরপর প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ করতে হবে ২৩ আগস্টের মধ্যে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ২৭ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রণীত ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্থায়ী ভবনের ভেতরে ভোটকক্ষ স্থাপনের সুযোগ থাকলে অস্থায়ী ভোটকক্ষ নির্মাণের প্রস্তাব এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তপশিল ঘোষণার সাতদিনের মধ্যে তালিকার হার্ড কপি ও সফট কপিও জমা দিতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন (মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬) অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবেলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরো জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন–পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
এ সময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।
মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে; অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরো শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে, যেন ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
অংশগ্রহণকারীরা এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিটি করপোরেশনগুলোক সিটি গভর্নমেন্ট বা নগর সরকারে রূপান্তর করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও কার্যকর করতে এগুলোকে নগর সরকার বা সিটি গভর্নমেন্টে রূপান্তর করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।’
আজ বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে গুলশান নগর ভবনে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি গভর্নমেন্ট করার বিষয়ে সরকারপ্রধানেরও এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের সদিচ্ছা রয়েছে। এর ফলে নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
রাজনৈতিক মতবিরোধের ঊর্ধ্বে গিয়ে নাগরিক হিসেবে ঢাকাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখলমুক্ত করে ঠিক করার বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। এই নদীগুলোকে না বাঁচাতে পারলে ঢাকা শহরকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেন তিনি।
ঢাকাকে বাসযোগ্য করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর জন্য নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত “গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।’
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে।’
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।’
জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের। স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী ‘৭১ ও ‘২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
প্রতারণার মামলায় আত্মসমর্পণের পর জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। এ সময় ববিকে দেখা যায় বোরকা ও সানগ্লাস পরে হাজির হতে, সঙ্গে অনেকেই ছিলেন।
শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ববির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার।
এর আগে, ১২ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় ইটুই সলিউশনস লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মেহেদি আলম প্রিন্স ববিসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আবুল বাশার, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আহাদ মিয়া এবং অ্যাডমিন সোহেল রানা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১২ নভেম্বর আবুল বাশার তার প্রতিষ্ঠানের জন্য লিথিয়াম আয়রন ব্যাটারি সরবরাহের অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর গুলশানে বিটিএলের কার্যালয়ে পাঁচটি ৬৪ ভোল্টের ১৭০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সরবরাহ করা হয়, যার মোট মূল্য ছিল ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্যাটারির মূল্য পরিশোধ না করে আসামিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে মেহেদি আলম প্রিন্সকে অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারির ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁকবদলের দিন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয়েরই বিচার করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ফ্যাসিবাদী সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। প্রশাসনিক আদেশে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করাকে আমরা সঠিক মনে করি না।’
সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব অবৈধভাবে সরকার পরিচালনা করেছে এবং দলটির নেতা-কর্মীদের মাধ্যমেই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ কারণে সংগঠন হিসেবেও আওয়ামী লীগকে দায় নিতে হবে।
নুরেমবার্গ ট্রায়ালের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে হিটলারের সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমন একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, যা বিশ্বে বিরল ঘটনা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, এই গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যা, রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা ও একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের নয়; এটি ছিল দেশের আপামর জনগণের আন্দোলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য ধরে রেখে শহীদদের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে না পারে, সে জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১-এর শহীদ এবং জুলাইয়ের শহীদেরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমরা তরুণ প্রজন্মের হাতে রেখে যাচ্ছি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান জিন্দাবাদ, জুলাই স্মৃতি আমাদের শক্তির উৎস হোক।’
সরকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীনের পর যাদের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব ছিলো তারা সেই সময়ে তৈরি করেনি। বরং তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তারা রাজনীতি টেনে এনেছে। বর্তমান সরকার পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের (পিরোজপুর-৩) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বুধবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু দু:খের বিষয়ে দেশ স্বাধীনের পর যাদের দায়িত্ব ছিলো মুক্তিযুদ্ধে করা শহীদ হয়েছেন তাদের একটি নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করার। একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তারা সেই সময়ে তৈরি করেনি বরং এর তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তারা রাজনীতি টেনে নিয়ে আসছিল। পরবর্তীতেও তালিকা তৈরিতে নানা সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। অথচ এই মানুষগুলোর আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সকল শহীদদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।
রুহুল আমীন দুলাল সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুর্নবাসন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করে ছাটাই করা হবে কী না? এবং যাচাই বাছাই করার জন্য কোন কমিটি করা হলে তাতে উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করা হয়।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রায় একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে বলেন, দেশ স্বাধীনের পর যাদের দায়িত্ব ছিলো মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা তৈরি করা কিন্তু তারা সেটাকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এটা করেনি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটির মত করেছে। আমরা সেখানে চেষ্টা করবো সঠিক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের চিহ্নিত করা।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, আমরা দেখেছি সরকার যখন পরিবর্তন হয় দেখা যায় তারা তাদের দলীয় কিছু লোকজনকে এই মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি করে। আবার পরবর্তী আরেক সরকার এসে কিছু ছাটাই-বাছাইও করে। আসলে সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযোদ্ধা- তাদেরটা কেন হচ্ছে না? এই ৫৫ বছর পর জাতি এটা জানতে পারছে না। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয় তাদের ছাটাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করবেন কী না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন। শুধু তাই নয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সেই কারণেই বর্তমান সরকার পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রাথমিক স্কুলে হবে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল
ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ৫৪৫টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রাইমারি স্কুল লেবেলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের একটি ফুটবল ম্যাচ কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে। ইনশায়াল্লাহ আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের জন্য প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ (ফুটবল) শুরু করতে যাচ্ছি। প্রাথমিক স্কুলে শুরু করে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা মাধ্যমিক স্কুলেও নিয়ে যাবো। এ বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল হাসনাত মুলপ্রশ্নের বাইরে সম্পূরক প্রশ্ন করতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তা নাকচ করে দেন। পরে অপর একজন সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ২০১০ সালে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ছিলো যথাক্রমে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৬৩ মেট্রিক টন এবং ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউএস। ২০২৫ সালে সেখানে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে যথাক্রমে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৮১২ মেট্রিক টন এবং ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস।
সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বে টার্মিনাল বাস্তবায়নের পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। এটি চালু হলে মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় কমবে। আমদানি রপ্তানির গতি বৃদ্ধি পাবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কোন দুর্নীতি হলে এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার অবশ্যই হবে। একই সাথে আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে পর্যায়ক্রমিকভাবে দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ গড়ে তোলা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সদরের জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী।
নিহতরা হলেন জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার প্রভু (৫৫) ও তার ছেলে নিমাই(২৩)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশের জমিতে রোপনকৃত পাট কাটতে যান আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই। পাট কাটার এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। ওই বৃষ্টিতে ভিজে তারা পাট কাটছিল। এসময় হঠাৎ সেখানে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে বজ্রপাতের আঘাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলে আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাত একই সাথে বাবা-ছেলের প্রাণ কেড়ে নিলো। এটি হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ‘অসাবধানতার কারণে আজ বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি। বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।’