জাতীয়

  • ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে: সাদিক কায়েম

    ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে: সাদিক কায়েম

    আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং বর্তমান বিএনপি সরকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে বলে কড়া অভিযোগ তুলেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে কথা বলত এবং দেশ চালাত, ঠিক একই সুরে ও ধরনে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণ করে আবারও ক্রসফায়ারের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    সোমবার ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতে ২৮ অক্টোবরের শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ শিপন, মাসুম, মুজাহিদসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক দিন। সেদিন লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশে মাফিয়াতন্ত্রের বীজ বপন করা হয়েছিল। সেই বিচারের পথ রুদ্ধ থাকায় পরবর্তী ১৬ বছর ধরে দেশে একের পর এক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে—পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের আলেম নিধন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবিচারের মাধ্যমে শীর্ষ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে শহীদ করা হয়েছে।’

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ, আলী রায়হান, ওয়াসিম ও শান্তরা যে আজাদির স্বপ্ন দেখেছিলেন, ২০০৬ সালের শহীদেরাও সেই একই আজাদির স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছর পার হতে চললেও ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার নিশ্চিত হয়নি।’

    বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর প্রত্যাশা ছিল সব গণহত্যার বিচার হবে। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার এসব বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাদের কার্যকলাপে মনে হচ্ছে তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত করেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সুর আর বিএনপি সরকারের সুর আজ এক হয়ে গেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও পুলিশ প্রশাসনকে আগের মতোই দলীয়করণ করা হচ্ছে।’

    আইজিপির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের আইজিপি আবার ক্রসফায়ারের অনুমতি চাইছেন। এর অর্থ হলো, আপনি সরকারের অনিয়ম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা অবৈধ নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বললেই আপনাকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে—সেই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চলছে।’

    তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের খুনিদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

  • মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির এলিজা জামান

    মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির এলিজা জামান

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী হয়েছেন এলিজা জামান।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এছাড়া সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ অক্টোবর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

    এরপর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১২ অক্টোবর ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সেরে আগামী ১২ নভেম্বর ভোটের তারিখ রাখা হয়েছে তফসিলে।তবে বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

    সংরক্ষিত নারী আসনের এই উপ-নির্বাচনকে ঘিরে গত ১৬ অক্টোবর দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে বিএনপি। ৭০ জন নারী দলটির ফরম সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন আবেদন জমা দেন।

    এলিজা জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি) আসনে ধানের শীর্ষ প্রতীকে ভোট করতে চেয়েছিলেন। তবে ১২ জানুয়ারির ভোটে শেষ পর্যন্ত তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।

    তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার পিতা সরদার সুলতান মাহমুদ সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।

  • ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মেশিনটা হয়নি: নাহিদ ইসলাম

    ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মেশিনটা হয়নি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সংসদকে একটা সাধারণ সংসদে পরিণত করেছে। তারা সংসদকে দলীয় সংসদে পরিণত করেছে। তারা যদি রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংশোধন না করেন তাহলে আমরা যাকেই বসাবো তারা আরেক হাসিনা হবে।

    সোমবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারীতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনা যে স্বৈরাচারীভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছেন এখন পর্যন্ত সে কাঠামোর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে একই মেশিন আরেকজন চালাচ্ছেন এখন। ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মেশিন পরিবর্তন হয়নি। সেই মেশিন যদি পরিবর্তন না করেন তাহলে সবচেয়ে ভালো ড্রাইভার বসিয়ে সঠিক দিকে গাড়িটি নিয়ে যেতে পারবেন না। যদি সংবিধান পরিবর্তন না করেন তাহলে এটা হবে আগের সরকারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শেখ হাসিনার অবৈধ সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।

    এই নেতা বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। স্বরাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলার অবস্থার উন্নতির কথা চিন্তা না করে তিনি সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। যার কারণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব থাকতে পারেন না আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। এছাড়াও জ্বালানি ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় এসেছে তার জন্য কাজ না করে তিনিও সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত। আমরা তারও পদত্যাগ দাবি করছি।

    তিনি আরও বলেন, গণভোটকে জণগণ রায় দিয়েছে কিন্তু তারা জনগণের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তারা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায়, কিন্তু তারা গণপরিষদ গঠন করছে না। কিন্তু তারা নিজেদের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্বে বসাতে চাচ্ছেন। যারাই বার বার ক্ষমতায় এসেছে তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছে। আওয়ামী লীগ এতে সফল হলেও বিএনপি কখনো সফল হবে না। একই চক্করে মানুষ ঘুরপাক খাচ্ছে যার, কারণে সংবিধান পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, বিএনপি কোনোভাবে আগামীতে নির্বাচব সুষ্ঠুভাবে হতে দেবে না, তারা নির্বাচনে অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আগামীতে তারা পরিকল্পনা করে নির্বাচন কমিশনকে কুক্ষিগত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কীভাবে কুক্ষিগত করা যায় তারা সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে এজন্য মানুষের কণ্ঠরোধ করতে তারা মামলা, সাইবার আইনেকও সংশোধন করছে। তারা বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদেরও নির্যাতন করছে। বিএনপি কিছু নতুন স্বৈরাচার তৈরি করেছে, আমরা যদি প্রথমেই নতুন স্বৈরাচারদের প্রতিহত করতে না পারি তারা আবার ফ্যাসিবাদ তৈরি করে। আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদ তৈরি করে ছিলে বিএনপি এখন একই স্টাইলে আগাচ্ছে। বিএনপি একটি শিশু সরকার এখন তাদের শাসন করার সময় এসেছে। সেক্ষেত্রে সারা দেশে আমাদের নানা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে না, নির্বাচন কমিশনে তাদের লোক ঢুকিয়েছে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নিজেই প্রার্থী ঘোষণা দিচ্ছেন। যার করণে এই নির্বাচন নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে নদীতে বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও দখলদারি চলছে। এখানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন জরিত আছে। তারা ক্ষমতাসীনদের সেল্টারেই রয়েছে।

    এই নেতা আরও বলেন, এ সরকার পুলিশকে স্বাভাবিক করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণকে শান্তি দিতে আন্দোলনে নেমেছি। নানাভাবে তারা সব জায়গাতে দলীয়করণ করছে। বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত এমপিদের গোপনে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যা অসাংবিধানিক। এ নির্বাচিত দায়িত্ব হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে নতুন সংবিধান তৈরি করা। বাংলাদেশকে একটা আমূল পরিবর্তনে নিয়ে আসা।

    এছাড়াও হাসিনা ইস্যুতে তিনি বলেন, হাসিনা আর ফিরে আসবে না। যারা বলতেছে হাসিনা আসবে এটা ভারতীয়দের অপপ্রচার।

    এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও সদস্য রাজনৈতিক পর্ষদ সারজিস আলম, যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, জেলা এনসিপি আহবায়ক মাজেদুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ হাসান মন্টিসহ জেলার এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে র‌্যালি করবে বিএনপি। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে দলটি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কর্মসূচির কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র‌্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    তিনি জানান, ওই দিন বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতারা। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ছাত্রদল আয়োজন করবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনী। আলোচনা সভার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ নভেম্বর।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনের চেতনা হলো স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনা। ১৯৭৫ সালের আগে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    রিজভীর ভাষ্য, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। এ দিনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

    ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

    রিজভী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। পরে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়।

    জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা জুলাই আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

    ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

    দেশের ৮৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশে সই করেছেন উপসচিব (রেজিস্ট্রেশন) মো. মাসুদ আলী।

    আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক চেইন সমন্বয়ের স্বার্থে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ২৬ অক্টোবরের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা হয়েছে।

    বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার কাছে বর্তমান পদের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে।

    পাশাপাশি, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য মহাপরিদর্শক, নিবন্ধনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ‘ক্রসফায়ার পুলিশকে কলঙ্কিত করবে:হাসনাত

    ‘ক্রসফায়ার পুলিশকে কলঙ্কিত করবে:হাসনাত

    আইজিপির ‘অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সরকারের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ বাহিনীকে সাবেক বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মতো আবারো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের পথে ঠেলে দিয়ে পুরো বাহিনীকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে সিন্ডিকেট, গ্যাস সংকট এবং মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

    রাজধানীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আইজিপি বলছেন—সরকার অনুমতি দিলে নাকি ক্রসফায়ার দিয়ে মানুষ মারতে তাঁরা প্রস্তুত। যারা ক্রসফায়ার আর গুলি করে মানুষ মারার হুমকি দেয়, তারা হচ্ছে ডিবির হারুন আর বেনজীরের বংশধর। এমন বক্তব্যের পর কোনো সভ্য দেশে ওই আইজিপি স্বপদে বহাল থাকতে পারতেন না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া মনোবল কাটিয়ে যখন সাধারণ পুলিশ সদস্যরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখন কতিপয় কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীকে আবারো কলঙ্কিত হতে হচ্ছে। সরকার যদি এই বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে আমরা ধরে নেব তারা আবারও গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার পথকেই বেছে নিচ্ছে।’

    সমাবেশে তিনি মোংলার মিরাজের সন্ধান দাবি করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কোস্টগার্ডের দ্বারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে হয়রানিমূলকভাবে আটক নারীর দ্রুত মুক্তির দাবি জানান তিনি।

    দ্রব্যমূল্য ও সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মুগদাবাসী গ্যাস সংকটে রান্না পর্যন্ত করতে পারছেন না। ১৮০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এসব সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি জিয়ে রাখা হয়েছে।”

    সরকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “সরকার ১৮ মাসে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। আমাদের তথ্য অনুযায়ী তারা ইতিমধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ফেলেছে—আর তা হলো মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি! বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজির মাধ্যমে এমন কর্মসংস্থান চায়নি।’

    তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার আদায় করে নেবে।

  • মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (জামুপ) ঢাকা মহানগর শাখা। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোনো ভিত্তি নেই এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

    জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতাদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিন বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সেদিন বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। সেটাই কি তাঁর অপরাধ? সরকার তার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এই হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে সাব্বির জামান বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিচারপতি মানিক যখন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন, তখনো তিনি এর প্রতিবাদ করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি আরো বলেন, ৭৬ বছর বয়সী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ২৬ দিন ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, অথচ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পক্ষে সরকার এখনো কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। বিমানবন্দরের লাগেজ এলাকায় অব্যবস্থাপনা ও প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হয়রানিমূলক মামলায় আটক রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকারী ও চাঁদাবাজরা ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয় না, অথচ জাতির সূর্যসন্তানকে কারাগারে রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে।

    ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে মানুষ বৈষম্যহীন ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় মেজর আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলার মতো ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বাড়াবাড়ি। এটি নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের (জামুপ) সভাপতি প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জামুপের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফজলুল হক, মহাসচিব তাজিরুল ইসলাম, মুখপাত্র শহিদুল ইসলাম, রিভাইভার স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ডা. মইন উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মো. আব্দুল করিম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল হাকিম খান, ডি এম শাহজাহান ও মো. ইকরামুল হক প্রমুখ।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো ।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি, অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ–জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব (Bangladesh–Japan Skills Partnership), একটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী (Technological Village and Innovation City) প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

    এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি চাহিদা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।

    জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি উভয় দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

    আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপ এবং এ ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই উদ্বেগের কথা জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের কার্যালয় ও সংবাদপত্রের ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের সহিংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও সামনের পানের দোকানি রিনা খানম আহত হওয়ার ঘটনায় আমি তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

    তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসসহ দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

    উল্লেখ্য, রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। লালটেপ মোড়ানো আরেকটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। ককটেলের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়।

    খবর পেয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে আশপাশের এলাকায় রেকি করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

  • রাজপথে কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না: ঢাকা দক্ষিণ প্রশাসক

    রাজপথে কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না: ঢাকা দক্ষিণ প্রশাসক

    রাজধানীর রাজপথ দখল করে কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম। তবে নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ফুটপাত পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন প্রশাসক। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কলাবাগানের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাগরিক সমাজের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

    আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। অন্যদিকে, নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ সেখানে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ কারণে অনেকেই ওই এলাকায় যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। পরিস্থিতি পরিবর্তনে দ্রুত বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রাজপথে কোথাও হকার বসতে পারবেন না। নির্ধারিত নিয়ম সবাইকে মেনে চলতে হবে। তবে নিয়ম-নীতির আওতায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হলে সংশ্লিষ্টদের সুবিধা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেটের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

    নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা সমস্যা থাকলে তা জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

    একই অনুষ্ঠানে রাজধানীর সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক স্বস্তি ও নগরজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের সীমিত জনবল ও সক্ষমতা দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও তহবিলের অপব্যবহারের কারণে সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, কোন এলাকার সড়ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বা কোথায় উন্নয়ন প্রয়োজন, তা বিবেচনায় নিয়ে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা এলাকার পরিচয় নয়, বরং প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    বিভিন্ন ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, সিটি করপোরেশন সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, তবে তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। কাজের গতি ও পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।

    রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।